লোড করা হচ্ছে ...

খুতবার বিষয়: শিরকের ভয়াবহতা

শিরকের ভয়াবহতা



উপস্থিত ঐতিহ্যবাহী বাইতুল মামুর জাত আদাবর শ্যামলী ঢাকার সম্মানিত মুসল্লিবৃন্দ জবানিকার অন্তরালে শ্রদ্ধাস্পতি এসহা শীল মা ও ভগ্নিগণ আলোচনার শুরুতে সে মহান আল্লাহ তাআালার দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি যে মহান আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা আপনাকে আমাকে সুন্দর একটি পরিবেশে জুম্মার এই দিনে যথাসময়ের পূর্বে কবুল করেছেন সে আল্লাহ তাআালার দরবারে শুকরিয়া সকলে বলি আলহামদুলিল্লাহ দরুদ ও সালাম রাসূলের প্রতি সকলে বলি আল্লাহুম্মা সাল্লি আলাইহি। আল্লাহুম্মা বারিক আলাইহি।



সম্মানিত উপস্থিতি আমি আপনাদের সম্মুখে সূরাতুল মায়েদার ৭২ নম্বর আয়াত এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবানী হতে মুসলিম মিশকাতের ৩৮ নম্বর হাদিসটি বর্ণনা করে শুনিয়েছি। তেলাওয়াতকৃত আয়াত ও বর্ণিত হাদিসকে কেন্দ্র করে আমি আমার আজকের জুম্মার আলোচনার বিষয় নির্ধারণ করেছি শিরকের ভয়াবহতা বর্ণিত বিষয়ের প্রতি পবিত্র কোরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে আমার অতিও ক্ষুদ্র বিদ্যায় এক জনকল্যাণকর সংক্ষিপ্ত আলোচনা রাখার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ সম্মানিত উপস্থিতি আপনারা আলোচনার বিষয়ে অবগত হয়েছেন। বিষয়টি হচ্ছে শিরক। মূল যে বিষয়টি সেটা হচ্ছে শিরক। অতএব তাওহীদের বিপরীত যেটা রয়েছে সেটা হলো শিরক।



একজন মুসলিমের জন্য দুটি বিষয়ে জ্ঞান থাকা অতিব জরুরি। তার প্রথম নম্বর জ্ঞানটি রাখতে হবে শিরক বিষয়ে। তাওহীদ বিষয়ে। অতএব তাওহীদ এবং শিরক এই একটি বিষয়। তাওহীদের বিপরীত যেটা শিরিক আবার শিরকের বিপরীত তাওহীদ। মানে যেখানে শিরক আছে সেখানে তাওহীদ নাই। যেখানে তাওহীদ আছে সেখানে শিরক নাই। অতএব এই তাওহীদ এবং শিরক বিষয়ে আমাদের জ্ঞান প্রত্যেককে রাখতে হবে। সাথে সাথে আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে সেটা হল সুন্নাহ ও বেদাত। কারণ সুন্নাহ বেদাত এ বিষয়ে যদি জ্ঞান না থাকে তাহলে আপনার সামনে যত আমল হবে সব আমল নষ্ট হয়ে যাবে সব আমল সামনে যত আমল করবেন সুন্নাহ এবং বেদাত বিষয়ে জ্ঞান নেই মানে আপনার আমল সব নষ্ট বাতিল আর যদি শিরিক তাওহীদ এ বিষয়ে জ্ঞান না থাকে তাহলে আপনার সামনে যা আমল হবে সেটাও গিয়েছে পিছে যা করে এসেছেন ভালো কর্ম সেটা সব গিয়েছে মানে একেবারে সম্পূর্ণটাই মুছে যাবে আপনার আমার জীবন থেকে আপনার আমার আমলনামা থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ বিষয়টা আমাদেরকে জানিয়েছেন সূরা আনআমের ৮৮ নম্বর আয়াতেমা আল্লাহ বলছেন যদি তারা শিরিক করে তাহলে তাদের সকল আমল আমল সমূহ সব নষ্ট হয়ে যাবে মানে তার জীবনে যত আমল হয়েছে আপনি যাই করেন না কেন সবই কি বাতিল এবং নষ্ট। এজন্য আপনাকে আমাকে এই শিরক এবং তাওহীদ বিষয়ে অবশ্যই জ্ঞান রাখতে হবে। আকিদার বিষয়ে বিশ্বাসের বিষয়ে শিরিকের সাথে কখনো আপোষ করা যাবে না। একজন মুসলিম তার জীবন দিতে প্রস্তুত থাকবে। কিন্তু শিরিককে বরণ করে নিবে না। এটাই একজন মুসলিমের জীবন হবে। এটাই বাস্তবতা। এটাই সত্য কথা। তো এ বিষয়ে আমরা ধাপে ধাপে কথা বলব ইনশাআল্লাহ।



শিরিককে কেন এত হাইলাইট করে কথা বলছি? কারণ শিরিক হলো পৃথিবীতে যত পাপ রয়েছে একজন মানুষ আদম সন্তান পৃথিবীতে যত পাপ করতে পারে। এই পাপ সমূহের সবচাইতে বড় পাপ হল শির। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম বলেন আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু বর্ণিত তিনি বলেন কাবা পৃথিবীতে যে পাপ রয়েছে এই পাপের ভিতরে সবচাইতে বড় পাপ যেগুলো তার ভিতরে এক হল আল বিল্লাহ আল্লাহর সাথে শিরিক করা আল্লাহর সাথে অংশীদারী স্থাপন করা এক নম্বর উকুক ওদাইন এরপরে রয়েছে পিতামাতার অবাধ্য হওয়া নাফ অন্যায়ভাবে মানুষকে হত্যা করা মিথ্যা শপথ বাক্য পাঠ করা অফ শাহাদাতুর মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করা হাদিসটি বুখারী মুসলিম মিশকাত মিশকাত হাদিস নাম্বার ৫০ বর্ণিত হাদিস দিয়ে আমরা পৃথিবীর সবচাইতে বড় পাপ জানতে পারলাম পাঁচটি পৃথিবীর সবচাইতে যে বড় পাপ রয়েছে সে পাপ আমরা জানতে পারলাম যার এক নাম্বার বড় পাপ হল আল্লাহর সাথে শিরিক বা অংশীদার স্থাপন করা এখন দেখেন এই পৃথিবীর বড় পাপ থেকে আমরা কতজন বেঁচে রয়েছি এখানে আমরা যত নারী পুরুষ রয়েছি এই পৃথিবীর বড় পাপ থেকে আমার বিশ্বাস আমার আকিদা আমার কথা আমার চালচলন আমার ইবাদাত বন্দেগী আমার তাসবি তাহলিল সবকিছু দিয়ে আমি কি এই শিরিক থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পেরেছি এটা আপনাকে আমাকে ভাবতে হবে।



দ্বিতীয় নাম্বার বড় পাপ পিতামাতার অবাধ্য হওয়া কারণ আল্লাহর পরে আল্লাহ তাআলা যাদেরকে স্থান দিয়েছেন সেটা হল পিতামাতা এই পিতামাতার অবাধ্য হওয়া যাবে না কোন মূল্যেই যাবে না পিতামাতার আলোচনা একদিন করেছিলাম সেখানে বলেছিলাম কোনভাবেই পিতামাতার অবদ্ধ হওয়া যাবে না। যদিও পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া এটা আমাদের এখন একটা নিজস্ব ধর্ম বা স্টাইল হয়ে গিয়েছে। প্রত্যেকটি মানুষ পিতা-মাতার অবাধ্য হয়ে চলি এটাই স্বাভাবিক। কালকে না পরশুদিন একটা ভিডিও দেখছিলাম। একজন মানুষ মারা গিয়েছে। মনে হয় গত মাসের ৩০ তারিখে এই সাত তারিখ পর্যন্ত থেকেছয় তারিখ পর্যন্ত ময় ছিল। এই ছয় তারিখ পর্যন্ত তার সন্তানরা তার পিতার লাশ গ্রহণ করেনি। তার স্ত্রী গ্রহণ করেনি। অথচ সন্তানরা প্রবাস জীবনে বসবাস করছে। তাদের অর্থবিত্ত রয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। শেষে করে অন্য কারা তারা তাদের দাফন কাফন কাজ সম্পন্ন করেছে। এটা হল আমাদের সন্তানদের বর্তমান ভূমিকা।



আর তৃতীয় নাম্বার কতুন নাফসি অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা। আমাদের বাংলাদেশ তো মানুষ হত্যা হয়ই না। তাহলে অন্যায় আর কিভাবে করবে? বাংলাদেশের পত্রপত্রিকা নিউজ খবর শুনলে দেখবেন এখানে হত্যার খবরই নাই। অতএব আমাদের বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত প্রতিটা সময় অন্যায়ভাবে একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে হত্যা করে চলেছে। এটা নির্বিচারে হত্যা হচ্ছে। অথচ পৃথিবীর বড় পাপের একটি পাপ হল মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা।



আরেকটি হচ্ছে গম। মিথ্যা শপথ বাক্য করা। মিথ্যা শপথ বাক্য। এটাতো আপনার আমার মগজে ঢুকে রয়েছে যে কোন কথায় কথা কাজ বলার আগে একটা মিথ্যা কসম করে দিচ্ছেন মিথ্যা বলছেন আল্লাহ যে আল্লাহর কসম করে বলছি আমার এই এই করা ব্যবসায়ীরা তো এভাবেই করে মনে করেন আপনি একটা ব্যবসায়ী গিয়েছেন ব্যবসায়ীর কাছে একটা কিছু বলেছেন আপনি ও বলেছে ৮০ টাকা আপনি বলেছেন ৫০ টাকা ও বলছে আল্লাহর কসম এটা আমার ৬০ টাকা কিনা তারপরে শেষে দেখাচ্ছে শেষ ৫০ টাকা দিয়েই যাচ্ছে তবে দায় মুক্ত হয়ে যাচ্ছে যে ১০ টাকা লসে দিয়ে গেলাম আপনাকে। যাই হোক এই হল আমাদের মিথ্যা শপথের অবস্থা। যেকোন কাজেই আমরা অনলাইনে যারা ব্যবসা করি দেখবেন মধুর সাথে তার জীবনে সম্পর্ক নেই। অন্যান্য যে প্রোডাক্টগুলো রয়েছে তার সাথে সম্পর্ক নেই। অথচ বলবে একেবারে নির্ভেজাল নিজ হাতে পাড়া ইত্যাদি ইত্যাদি সুন্দরবনের মত। আপনাকে আমাকে অনলাইনে সাপ্লাই দিবে। কসম দিয়ে গ্যারান্টি দিয়ে আপনাকে সাপ্লাই দিয়ে দিবে আমি দিব অথচ সুন্দরবনের মধুর ইতিহাস আপনি জানেন সুন্দরবনের মধু আপনি আমি সংগ্রহ করতে পারব সুন্দরবন নিয়ন্ত্রণ করে জলদস্যরা ডাকাতেরা আপনি আমি কেউ সুন্দরবনে প্রবেশ করার অধিকার রাখি না একমাত্র ডাকাত দলের সাথে যাদের চুক্তি রয়েছে তারা ওই ডাকাত দলকে টাকা দেয় মাসে মাসে অথবা বছরে কন্টাক্ট হয়েছে ৫ লক্ষ ইত্যাদি তারা ব্যতীত কেউ সুন্দরবনের ভিতরে প্রবেশ করার অধিকার নাই। প্রবেশ করলেই আপনি ঘুম হবেন। আপনি বন্দি হবেন। আপনি তাদের কাছে জিম্মিদারিত্ব হবেন। আপনাকে জিম্মিদারিত্ব করে আপনার বাড়ি ফোন করে টাকা পয়সা আদায় করবে। এটাই স্বাভাবিক। আপনি একদিন সুন্দরবনে প্রবেশ করে আমাকে দেখেন তো দেখি। আপনি যেতে পারবেন ওই তাদের সাথে। যারা সুন্দরবনে লিস্টি করে সুন্দরবনে প্রবেশ করে। তাদের সাথে আপনি হয়তো যেতে পারবেন। কারণ ওরা তো ওই ওদের সঙ্গে কন্টাক্ট রয়েছে। আপনি কখনো সুন্দরবন দেখিনি উনি, জানেন উনি একদিন হয়তো সুন্দরবনে ওদের সাথে লেজ করে গিয়েছেন। কয়েকটা ভিডিও করেছেন ছাড়ছেন আর একেবারে গ্যারান্টি দিয়ে কসম দিয়ে আপনি এই মধু ইত্যাদি বিক্রয় করছেন জাস্ট আমি জাস্ট একটা উদাহরণ দিলাম। আমি তো সাতখার মানুষ। আমি যেটুকু খবর রাখি সেটুকু বললাম না। আপনি যদি কিছু জেনে থাকেন আপনি বলতে পারেন।



দ্বিতীয়ত শাহাদাতের জুর মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করা। মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করা। মিথ্যাবাদে আপনার আমার জীবন চলে কিনা এটাই আমি এখন আশ্চর্য হয়ে যাই। মিথ্যা কথা ছাড়া মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া ছাড়া কোর্ট কাচারি যেখানেই যাবেন না কেন সর্ব জায়গাতেই মিথ্যা কেস মিথ্যা সাক্ষ্য মিথ্যা সবকিছু আপনি একটা কেস করতে গিয়েছেন আপনার উকিল বলবে আমার একটা বন্ধু বলছে যে কেস করতে গেলাম ওখানে একজন এসে বলছে আমার বাড়ি থেকে ৩৫০০০ টাকা চুরি হয়েছে আর ইত্যাদি কিছু অল্প কিছু মালামাল নিয়ে গিয়েছে তখন উনি যিনি উকিল উনি লিখছেন বাড়ি থেকে ২ লক্ষ টাকা একটা নগদ ক্যাশ কত ভরি স্বর্ণ তখন মুরুব্বি বলছে বাবা আমার স্বর্ণটন নেয় নাই ৩৫ হ টাকা নিয়েছে তখন মহি বলছে এটা দিয়ে কেস হবে তাহলে বাড়ি চলে যান এটাই বাস্তবতা তখন বেচারা কি করবে ওটাই কেস করে এসেছে এই হল মিথ্যা সাক্ষ্য মিথ্যা সবকিছু যাক আমি অনেক কথা হয়তো লং করে ফেললাম কথাটা নিয়ে কিন্তু পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় পাপ যেটা আমি বলতে চাচ্ছিলাম সেটা হল শির আর পাশাপাশি আরো যে চারটা পাপের কথা বললাম এই চারটা পাপ সহ এই বড় পাপ থেকে আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে হেফাজত করুন। সকলে বলি আল্লাহুম্মা আমিন।



লোকমান হাকিম তার ছেলেকে বলেছিলেন বিল্লাহ। হে আমার ছেলে তুমি শিরিক করো না। নিশ্চয় শির হচ্ছে পৃথিবীতে সবচাইতে বড় জুলুম। একজন মানুষ নিজের প্রতি যে জুলুম করতে পারে। আল্লাহর বিধান অমান্য করে আল্লাহর আদেশ অমান্য করে সে যত বড় জালিম জুলুমবাজ হতে পারে যদি ও শিরিককারী হয় তাহলে ও সবচাইতে পৃথিবীর বড় জালেম এবং জুলুমকারী অতএব পৃথিবীতে সবচাইতে বড় জুলুম বলে যে শব্দ রয়েছে সেটা হল শির এটা আল্লাহতালা সূরা রুকমানের ১৩ নম্বর আয়াতে বলেছেন অতএব আল্লাহ বলেছেন পৃথিবীর সবচাইতে বড় জুলুম হচ্ছে শির করা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন পৃথিবীর সবচাইতে বড় পাপের প্রথম পাপ হচ্ছে আল্লাহর সঙ্গে শিরিক স্থাপন করা। অতএব এই বড় পাপ বড় জুলুম থেকে আপনাকে আমাকে বেঁচে থাকতে হবে। পৃথিবীতে যদি আপনি আমি এই শিরিক না করে মৃত্যুবরণ করতে পারি শিরিক না করে যদি আপনি আমি জীবন অতিবাহিত করতে পারি শিরিক না করার পরিণাম হচ্ছে জান্নাত। আর শিরিক করার পরিণাম হচ্ছে জাহান্নাম। শিরিক করার পরিণাম হচ্ছে জাহান্নাম। জাবির রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাবির রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু বর্ণিত তিনি বলেন রাসূ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ব্যক্তি মারা গেল সামান্যতম শিরিক করে যে ব্যক্তি মারা গেল অথচ তার জীবনে রয়েছে বিল্লাহ সামান্যতম শির ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ আর যে ব্যক্তি মারা গেল অথচ তার জীবনে কোন শির নেই জান্না ওই ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে। সুবহানাল্লাহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন মুসলিম মিশকাতের ৩৮ নম্বর হাদিস দিয়ে। অতএব শিরিককারীর একমাত্র পরিণাম হচ্ছে জাহান্নাম। সে জান্নাতে যেতে পারবে না। এ কথা আল্লাহ বলেছেন। এ কথা আমাদের নবী বলেছেন। আল্লাহতালা সূরা মায়েদার ৭২ নম্বর আয়াতে বলছেন আল্লাহতালা এখানে বলছেন নিশ্চয় যারা শিরিক করেছে আমার সাথে অংশীদার স্থাপন করেছে তাদের প্রতিদান তাদের পরিণাম তাদের স্থান হচ্ছে জাহান্নাম তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে আর অত্যাচারী যারা এই জালেম এদের কোন সাহায্যকারী কিয়ামতের মাঠে থাকবে না অতএব আল্লাহ শিরকারীর জন্য হারাম করেছেন জান্নাত তার বাসস্থান জাহান্নাম এই অত্যাচারীর জন্য কেয়ামতের মাঠে কোন সুপারিশকারী কোন সাহায্যকারী পাবে না আল্লাহ তাআলা রাখবেন না। অতএব এ হাদিস এবং আয়াত দিয়ে সুস্পষ্টভাবে এ বার্তা মানুষের সামনে মুসলিম উম্মার সামনে আদম সন্তানের নিকটে পৌঁছে দিতে চাই যে আদম সন্তান তোমার জীবনে যদি সামান্যতম শিরিক থাকে এই সামান্যতম শিরিক তোমাকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। আর তোমার জীবনে হাজার পাপ রয়েছে। তবে শিরিক থেকে মুক্ত রয়েছো। এই শিরিক বিহীন জীবন ইনশাআল্লাহ আল্লাহর দয়ায় তোমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে।



এজন্য মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন আহমদ মিশকাতের ৬১ নম্বর হাদিস দিয়ে যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ১০টি বিষয় নির্দেশ দিয়েছিলেন রাসূ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ১০টি বিষয় নির্দেশ দিয়েছিলেন আমাকে এইদটি নির্দেশের প্রথম নম্বর নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন তুমি আল্লাহর সাথে কখনোই শিরিক করো না। শিরিক করো না এ পর্যন্ত বলে যদি রাসূল থামতেন তাহলে একটা কথা ছিল। এবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মজকে বললেন কোন অবস্থা পর্যন্ত তুমি শিরিক করবে না। তোমাকে যদি তরবারির আঘাতে দিয়ে টুকরা করে হত্যা করা হয় এ পর্যন্ত তুমি আল্লাহর সাথে বিন্দুমাত্র শিরিক কর না। তোমাকে যদি জন্ত আগুনের মাঝে ফেলে তোমাকে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয় এমত অবস্থাতেও তুমি আল্লাহর সাথে বিন্দুমাত্র শিরিক করো না। আপনি আমি কোথায় রয়েছি? আপনার আমার চিন্তা চেতনা ইবাদত বন্দেগী কোন লেভেলে রয়েছে অথচ মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুকে ১০টি নির্দেশের প্রথম নির্দেশ ছিল মুয়াজ ইবনে জাবাল জীবনের কোন মুহূর্তে কোন সময়ে আল্লাহর সাথে বিন্দুমাত্র শিরিক করো না মুহূর্ত যদি এমন হয় তোমাকে কেটে কেটে টুকরা করে হত্যা করা হচ্ছে তোমাকে জ্বলন্ত আগুনের মাঝে ফেলে দিয়ে তোমাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হচ্ছে হচ্ছে মুহূর্ত যদি এমনও হয় তবুও তুমি এই মুহূর্ত এ পর্যন্ত তুমি আল্লাহর সাথে শিরিক করো না।



এর দৃষ্টান্ত তো আমরা পাই। আমরা চেতনায় বিশ্বাসী। অথচ ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেতনা আমাদের মাঝ থেকে উঠে গিয়েছে। আমাদের পিতার চেতনা আমাদের মাঝ থেকে উঠে গিয়েছে। আমরা চেতনা লনকরণ করি। অথচ মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে চেতনা আমাদের মাঝে দিয়ে গিয়েছেন সেই চেতনা আপনার আমার মাঝে নেই। সেই ঈমান, সেই আকিদা, সেই বিশ্বাস নেই। নমরুদ যখন ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শিরিক করার জন্য চাপাচাপি করেছিল, ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য জ্বলন্ত অগ্নিকাণ্ড করেছিল। সে অগ্নিকাণ্ডর পাশে মানুষ যেতে পারতো না। এটা দেখেও ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শিরকে নিমজ্জিত করতে পারি নাই। শিরিক করাতে পারি নাই। লিপ্ত করতে করাতে পারি নাই। ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসি মুখে ওই জ্বলন্ত অগ্নিকন্ড আগুনকে বরণ করে নিয়েছিলেন। সর্বশেষ নমরুদ ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আগুনে নিক্ষেপ করলেন। আর আল্লাহতালা পুরস্কার দিয়েছিলেন আল্লাহ তালা ওই জ্বলন্ত আগুনকে ইব্রাহিম। আল্লাহ তাআলা ওই জ্বলন্ত আগুনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হে আগুন তুমি ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য শান্তিদায়ক হয়ে যাও আর আগুন ইব্রাহিম আলাইহি সালামের জন্য শান্তিদায়ক হয়ে গিয়েছিল কত বড় ঈমানী পরীক্ষা দিয়ে গিয়েছেন ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত আল্লাহর তাওহীদের সাথে আল্লাহর বিশ্বাসের সাথে কোন অংশীদার এবং শিরিক করেননি আপনি আমি আপনার আমার এই পিতার তার চেতনা ভুলে গিয়েছি সামান্য বিপদে সামান্য দুঃখতে সামান্য আঘাতে আপনার আমার আকিদা আপনার আমার ঈমান নষ্ট হয়ে যায় এজন্য আমি উর্ধ একটা কথা বলে থাকি আগার হফাম ইব্রাহিম কায়েমা পয়দা আগমে ফের আন্দাজে গলিসতা পয়দা একজন উর্ধ কবি তিনি বলেছেন যদি আমাদের মাঝে নতুন করে ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঈমান আকিদা বিশ্বাস পয়দা হয় তাহলে এ ধরনের বুকে নতুন করে অগ্নির মাঝে আগুনের মাঝে আবার নতুন ফুল বাগানের সৃষ্টি হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলা ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই আকিদা সেই চেতনা সেই বিশ্বাসকে লালন পালন করার তৌফিক দান করুক। আমরা যেন শিরকের বিরুদ্ধে আমাদের স্থান এবং অবস্থান বলিষ্ঠভাবে রাখতে পারি। আল্লাহ আমাদেরকে কবুল করে নিন। সকলে বলি আল্লাহুম্মা আমিন।



সম্মানিত উপস্থিতি শিরিক না করলেই জান্নাত। শিরিক না করলেই জান্নাত। একথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে জানিয়েছেন। আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু কল রাসূুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু বলেন রাসূ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আল্লাহতালা তালা আল্লাহ তালা বলেন আল্লাহতালা কিয়ামতের মাঠে সবচাইতে নিম্নমানের যাকে শাস্তি দিবেন আপনাকে আমি আবারো বলছি আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের মাঠে সবচাইতে নিম্নমানের যাকে সাথ দিবেন ইন্না তখন ওই নিম্নমানের শাস্তির ব্যক্তিকে বলা হবে ও ব্যক্তি তোমার কাছে যদি এই পৃথিবী সমপরিমাণ সম্পদ থাকে তুমি যদি মালিক হয়ে যাও গোটা পৃথিবীর আপনি এবার খুব ভালোভাবে নিয়েন আপনাকে কিন্তু বলা হয়নি যে আপনি বাংলাদেশের মালিক হয়ে গিয়েছেন আপনাকে কিন্তু বলা হয়নি আপনি এশিয়া মহাদেশের মালিক হয়ে গিয়েছেন আপনার কথা বলা হচ্ছে ওই সর্বনিম্নহ জাহান্নামী ব্যক্তির কথা বলা হচ্ছে যে তোমাকে এই পৃথিবীর মালিক করে দেওয়া হবে। তুমি পৃথিবীর সকল সম্পদের মালিক। আর এখন তোমাকে বলা হবে এই জাহান্নামের যে সর্বনিম্ন শাস্তি তোমাকে প্রদান করা হচ্ছে এই পৃথিবীর সমপরিমাণ সম্পদ দিয়ে তুমি এই জাহান্নামের এই শাস্তি হতে মুক্তি পেতে চাও। তাহলে কি তুমি এটা গ্রহণ করবে? তখন সে বলবে ফায়াকুল নাম। আল্লাহ আমাকে যদি এখন এই পৃথিবীর সমপরিমাণ সম্পদের মালিকানা দেওয়া হয় আর এর বিনিময়ে যদি বলা হয় যে আমি এই জাহান্নামের সর্বনিম্ন যে শাস্তি আমাকে হচ্ছে এই শাস্তি থেকে পরিত্রাণ পাব আমি পৃথিবীর সমপরিমাণ সম্পদ দিয়ে দিতে প্রস্তুত তবে জাহান্নামের এই সামান্য যে শাস্তি ওতো আর জানবে না যে সামান্য শাস্তি হচ্ছে কিন্তু আল্লাহ তো বলছেন যে আমি তাকে সবচাইতে পৃথিবীর নিম্নতম শাস্তি দিচ্ছি কেননা নিম্ন অন্যতম শাস্তির ব্যক্তিটাও মনে করবে যে পৃথিবীর সবচাইতে বড় শাস্তি আমাকে দেওয়া হচ্ছে। তা না হলে কি পৃথিবীর সম্পদ দিয়ে আপনি আমি এই জান্না আগুন থেকে বাঁচার চেষ্টা করব? এখন সারাদিন যদি দানের ওয়াজ করি ১০০০ টাকা বের করা কষ্ট হয়ে যাবে আপনার কাছ থেকে। সারাদিন ওয়াজ করে আপনার কাছ থেকে ১০০০ টাকা বের করতে পারবো না দানের ওয়াজ করে অথচ আল্লাহতালা এক মুহূর্তে জাহান্নামে ঢুকিয়ে বের করে বলবেন তোমাকে পৃথিবীর সমপরিমাণ সম্পদের মালিক করে দেওয়া হল আর তুমি এই সম্পদ দিয়ে জাহান্নাম থেকে বাঁচতে চাও কিনা আমি চাই তখন আল্লাহ বলবেন সন্তান তোমাকে এর চাইতে ছোট একটা আদেশ করেছিলাম যখন তুমি আদমের অরশে ছিলে। ও আদমের সন্তান আদমের ছেলেমেয়ে এর চাইতে ছোট্ট একটা আদেশ আমি তোমাকে করেছিলাম। তুমি যখন আদমের ওর এসে ছিলে আমি তোমাকে বলেছিলাম আমার সাথে বিন্দুমাত্র শিরিক করো না। অথচ তুমি আমার সাথে শিরিক করেছ। তুমি আমার সাথে শিরিক করেছত্র হাদিস দিয়ে প্রমাণ হয় হাদিসটি বুখারী মুসলিম মিশকাতের ৫৬৭ নম্বর হাদিস এই অত্র হাদিস দিয়ে আপনাকে বলতে চাচ্ছিলাম আল্লাহ আপনাকে আমাকে ছোট্ট একটি শর্ত দিয়েছেন। আল্লাহ বলেছেন আদমের ছেলেমেয়ে তুমি আমার সাথে বিন্দুমাত্র শিরিক করো না। তুমি যদি আমার সাথে বিন্দুমাত্র শিরিক না করো আমি তোমাকে জান্নাত দিয়ে দেব। এই সামান্যতম সত্য তুমি মেনে নাও। শিরিকহীন জীবন উপহার দাও। শিরিকহীন জীবন যদি তোমার হয় এই সামান্য সত্যটুকু মেনে তুমি তোমার দুনিয়াবী জীবনটা অতিবাহিত করে আসো। তোমার জীবনের এই সামান্যতম শিরিক আমি তোমাকে জান্নাত দেব।



সম্মানিত উপস্থিতি মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বুখারী মুসলিম মিশকাতের ২৪ নম্বর হাদিস মজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু তিনি বলছেন আমি একদা রাসূ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সফরে বের হলাম আমি রাসূলের গাধার পিছনে বসে রয়েছি আমার এবং রাসূলের মাঝে যে পার্থক্যটা রয়েছে সেটা হল ওই গাধার পিঠে যে হাওদা রয়েছে ওর যে একটা কাঠ রয়েছে ওই কাঠটা শুধু পার্থক্য আমাকে রাসূল বলছেন মজ আমি বললাম তো বলছে তুমি কি জানো বান্দার উপরে আল্লাহর কি হক রয়েছে মজ তুমি কি জানো আল্লাহর উপরে বান্দার কি হক রয়েছে মহ বলছে আল্লাহু রাস আলাম আল্লাহ এবং তার রাসূ ভালো জানেন ব্যাপারে তখন আল্লাহ রাসূ বলছেন শোন বান্দার উপরে আল্লাহর হক হল বান্দা আল্লাহর ইবাদত করবে বান্দার উপরে আল্লাহর হক হল বান্দা আল্লাহর সাথে শিরিক করবে না। এ দুটি কথা বলেছেন। এই দুটি কথা আপনি বাড়িতে নিয়ে যাবেন। এই দুটি কথা আজকের এই আলোচনা থেকে আপনি বাড়িতে নিয়ে যাবেন। আপনার উপরে আল্লাহর যে হকটা রয়েছে সেটা কি? আপনি আল্লাহর ইবাদত করবেন। দ্বিতীয় আরেকটি হক রয়েছে কি? আপনি আল্লাহর সাথে বিন্দুমাত্র শিরিক করবেন না। এ দুটি কথা আপনি আজকে বাড়িতে নিয়ে যাবেন। আর কিছু না নিয়ে যেতে পারেন যে আমার উপরে আল্লাহর হকটা কি রয়েছে। এটা হল বান্দার উপরে আল্লাহর হক। অতঃপর রাসূ বলছেন মজ আল্লাহর উপরে বান্দার হকটি কি জানো? সেটা হলো যদি আদম সন্তান যদি মানুষ আল্লাহর সাথে শিরিক না করে আল্লাহ ওই ব্যক্তিকে কোন প্রকার শাস্তি প্রদান করবেন না। সুবহানাল্লাহ। তখন ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আমি কিন্তু বুখারী মুসলিমের ২৪ নম্বর হাদিস বলছি। আপনি দেখে নিতে পারেন। তখন মজবনে জাল রাদিয়াল্লাহু বলছেন এই সুসংবাদ আমি জাতিকে প্রদান করি। মানুষকে জানিয়ে দেই খবরটি। রাসূল বলছেন তুমি এটা জানিয়ে দিও না। তুমি যদি এটা জানিয়ে দাও তাহলে মানুষ এটার উপরেই ডিফেন্ড করে আমল করা ছেড়ে দিবে। এটার উপরে নির্ভর করে থেকে যাবে। আমল করা মানুষ ছেড়ে দিবে। এজন্য তুমি এটা বলো না। এজন্য মজবনে জাবা রাদিয়াল্লাহু রাসের জীবন দশা এটা বলেননি। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে জ্ঞান লুকিয়ে রাখার অপরাধে যেন আল্লাহ অপরাধী না করে এজন্য মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে এই হাদিসটি বলে গিয়েছেন।



সম্মানিত উপস্থিতি তাহলে অত্র হাদিস দ্বারা প্রমাণ হয় যদি আপনি আমি আল্লাহর ইবাদত করি আল্লাহর সাথে শিরিক না করি তাহলে আল্লাহ তাআলা আপনাকে আমাকে শাস্তি দিবেন না। তাহলে একটা কথা হয়ে যায় যে ঠিক আছে হুজুর একটা ভালো অপশন পেয়ে গেলাম শুধু সালাত সিয়াম হজ্ যাকাত দানের কথাবার্তা শুনি আজকে থেকে আল্লাহর সাথে কোন শিরিক করবো না আর সালাত সিয়াম ইত্যাদি সবকিছু ছেড়ে দিলাম যেহেতু শিরিক না করলেই জান্নাত আপনাকে একটু বুঝতে হয়তো ভুল হল আল্লাহর ইবাদত করার পাশাপাশি শিরিক করা আল্লাহর ইবাদত বলতে আপনি কি বুঝেছেন আল্লাহর ইবাদত বলতে যেগুলো আপনার আমার উপরে আবশ্যিক রয়েছে ফরজ ইবাদত অতএব পাচ ওয়াক্ত সালাত যে ফরজ সালাত রয়েছেন এটা আপনাকে আদায় করতে হবে। আপনার উপরে যে ফরজ সিয়াম রয়েছে এটা আপনাকে আদায় করতে হবে। আপনার উপরে যে ফরজ যাকাত রয়েছে এটা আপনাকে আদায় করতে হবে। আপনার উপরে যে ফরজ হজ রয়েছে এটা আপনাকে আদায় করতে হবে। অতএব ফরজ যে বিধান আপনার আমার উপরে রয়েছে উপস্থিত নারী ও পুরুষের উপরে রয়েছে এই ফরজটুকু আদায় করার পরেও যদি সে আল্লাহর সাথে শিরিক না করে আল্লাহর সাথে শিরিক করলো না আর ফরজটুকু আদায় করলো তাহলে আল্লাহ ও ব্যক্তিকে শাস্তি দিবেন না মানে জাহান্নামে দিবেন না কোন প্রকার শাস্তি দিবেন না তাকে জান্নাত দিবেন তাহলে আলহামদুলিল্লাহ হুজুর আজকে থেকে আর যোহরের সুন্নত পড়তাম না মাগরিবের সুন্নত পড়তাম না ইত্যাদি ইত্যাদি নফল ইবাদত রয়েছে সুন্নাত ইবাদত রয়েছে এগুলো সব ছেড়ে দিলাম দিতে পারেন যেহেতু হাদিস বলে ফেলেছি আপনি দিতে পারেন তবে এ কথাও মনে রাখবেন কেন রাস এটা বলতে নিষেধ করলেন কেননা আপনার আমার মত পাবলিকগুলো এই হাদিস শোনার পরে নফল ইবাদত করা ছেড়ে দিবে সুন্নত ইবাদত করা ছেড়ে দিবে শুধু ফরজটুকু করে বসে থাকবে কিন্তু একথা সত্য যে আপনি আমি জান্নাত পাব ঠিকই কিন্তু নফল ইবাদাত আপনার আমার মর্যাদা নির্ধারণ করবে। নফল ইবাদাত আপনার আমার মর্যাদা নির্ধারণ করবে। আপনি আমি জান্নাতের কোন স্তরের বাসিন্দা হব আপনার আমার সম্মান ইজ্জত কতটুকু হবে এটা নির্ধারণ করবে। আপনার আমার নফল ইবাদত নফল দান নফল সাদকা নফল যা কিছু রয়েছে সুন্নাহ যা কিছু রয়েছে সুন্নাহ এবং নফল ইবাদত বন্দেগী জিকির আজকার এটা নির্ধারণ করবে।



সংক্ষিপ্ত আমরা যেটা বুঝি আমরা যখন পরীক্ষা দিয়েছি তখন কিছু সাবজেক্ট রয়েছে এই সাবজেক্ট যদি ফেল করি তাহলে আমি ফেল আর যদি পাস করে যাই তাহলে আমি পাস কিন্তু একটা সাবজেক্ট থাকে সেটাকে আমরা ফোর সাবজেক্ট বলি অতিরিক্ত সাবজেক্ট বলি যেটা আমাদের সময় আমি নিয়েছিলাম আমি যখন দাখিল পরীক্ষা দি এই অতিরিক্ত সাবজেক্ট যদি আপনি ফেল করেন আপনার রেজাল্টের উপরে প্রভাব পড়বে না আপনাকে ফেল দেখাবে না আপনার রেজাল্ট আসবে আপনি অতিরিক্ত সাবজে ফেল করেছেন আপনার বা পরীক্ষা দেননি হয়তো আপনার পরীক্ষার রেজাল্ট চলে আসবে আপনি ফেল দেখাবে না কিন্তু এই অতিরিক্ত সাবজেক্ট যদি আপনি ভালো করে করেন এখানে যদি আপনি প্লাস পেয়ে যান তাহলে আপনার মূল সাবজেক্ট যদি কানি কোনা একটু ঘসে থাকে কোথাও এ মাইনাস পেয়েছেন বা এ পেয়েছেন একটু যে কমতি রয়েছে এ প্লাস পাওয়া থেকে এইটা সাবজেক্ট হিসেবে আপনার ওই যে মূল সাবজেক্ট যোগ হয়ে আপনাকে এ প্লাস নাম্বার দিয়ে দেবে। কথা বুঝতে পারছেন? তাহলে নফল ইবাদত, নফল বন্দেগী, নফল সবকিছু এটা আপনার আমার জান্নাতি মর্যাদা নির্ধারণ করবে। এজন্য আপনাকে আমাকে বেশি বেশি করে আপনার আমার মর্যাদা সম্মান বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য, জান্নাতের সুউচ্চ মর্যাদা মাকাম নির্ধারণ করার জন্য এই নফল এবং সুন্নাহর উপরে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ রাসূলের সাথে একজন সাহাবী থাকতে চেয়েছিল। ওই যে ওজুর পানি দিয়েছিল রাসূল বলেছেন তুমি এটা বাদে অন্য কিছু চাও তো ওই ব্যক্তি বলেছিল আমি এটাই চাই তখন রাসূল কি বলেছিলেন তুমি আমাকে বেশি বেশি নফল ইবাদত করে আমাকে সাহায্য করো বেশি বেশি নফল সালাত করো নফল ইবাদত বন্দেগী করো নফল সালাত করো যাক নফল করে অতিরিক্ত কিছু করে আমাকে সাহায্য করো কারণ নফল ব্যতীত অতিরিক্ত সুন্নাহ ব্যতীত আমার সঙ্গে থাকার সৌভাগ্য কারো হবে না সম্মানিত উপস্থিতি অতএব বলতে চাচ্ছিলাম যদি কারোর জীবনে শিরিক না থাকে তাহলে সে জান্নাতি হবে। শিরিকহীন জীবন তাকে জান্নাত দান করবেন।



একটা হাদিস অনুবাদ করে আমি অন্যদিকে কথা ঘুরাব ইনশাল্লাহ।য যে আপনার আমার জীবনে যদি শিরিক না থাকে তাহলে আল্লাহ তাআলা আপনাকে আমাকে জান্নাত দিবেন কিভাবে দিবেন এ কথা এ হাদিস দিয়ে সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আল্লাহু তালা আল্লাহ তালা বলেন ইয়া ইবনে আদম হে আদমের সন্তানেরা হে আদমের ছেলেমেয়ে আদম সন্তান ইন্নাকতলা আলা আদমের সন্তান যতদিন তুমি আমাকে ডাকবেলা আমার নিকটে ক্ষমার আশা রাখবে ততদিন আমি তোমাকে ক্ষমা করব তোমার অবস্থা যাই হোক না কেন ক্ষমার ব্যাপারে আমি কারোর পরোয়া করি না। ক্ষমা করার ব্যাপারে আমি কারোর পরোয়া করি না। কফাত দায়িত্ব করি না। আবারো বলি আল্লাহ আপনাকে আমাকে ডেকে বলছেন আদমের ছেলেমেয়ে যতদিন তোমরা আমাকে ডাকবে আমার নিকটে ক্ষমার আশা রাখবে ততদিন আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করব। তোমার অবস্থা যাই হোক না কেন সেটা আমি দেখি না। আর ক্ষমার ব্যাপারে আমি কারোর পরোয়া করি না। এ পর্যন্ত বলে আমি আপনাকে বুঝাতে পারছি না। আপনার অবস্থা যা হয় মানে আপনার অবস্থা যা হয় মানে এটা দিয়ে রাসূ কি বুঝিয়েছেন? রাস বলছেন এরপরে আল্লাহতালা দ্বিতীয় বলছেন আদমের সন্তানেরা আদমের সন্তান যদি তোমার পাপ পৌছে যায় আকাশ পর্যন্ত তোমার পাপ পৌছে গিয়েছে আকাশ পর্যন্ত এমত অবস্থায় তুমি আমার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করেছ আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব ক্ষমার ব্যাপারে আমি কারো পরোয়া করি না সুবহানাল্লাহ আদমের সন্তান তোমার অবস্থা যাই হোক মানে তোমার অবস্থা যদি হয়ে যায় তোমার পাপ পৌঁছে গিয়েছে আকাশ পর্যন্ত এ অবস্থায় তুমি বলে আল্লাহ তুমি আমাকে ক্ষমা করো আমি তোমাকে ক্ষমা করব ক্ষমার ব্যাপারে আমি কারোর পর করি না এরপরে আল্লাহ তৃতীয় বাক্য বলছেন আদমের সন্তান আদমের ছেলেমেয়ে আদমের সন্তান তোমার পাপ যদি হয়ে যায় এই দুনিয়া পৃথিবী পরিপূর্ণ দুনিয়া যত দুনিয়ার আয়তন রয়েছে এই পৃথিবীর সমপরিমাণ পাপ যদি তোমার হয়ে যায়মলাত আর এই পাপ নিয়ে আমার সাথে সাক্ষাত কর আমার দরবারে উপস্থিত হও তোমার পাপ হয়ে গিয়েছে পৃথিবী সমপরিমাণ অতঃপর পৃথিবী সমপরিমাণ পাপ নিয়ে সমলাকিত তুমি আমার সাথে সাক্ষাত করেছ আমার দরবারে উপস্থিত হয়েছ এবার আল্লাহ বলছেনবিল্লাহ এই পৃথিবী সমপরিমাণ পাপের ভিতরে লাশবিল্লাহ বিন্দুমাত্র শিরিকের পাপ নেই লাইক আমি আল্লাহ এই পৃথিবীর সমপরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে উপস্থিত হব। সুবহানাল্লাহ। এবার বুঝেন। এবার আপনি বুঝে নেন শিরিক কত বড় ভয়াবহ অপরাধ হতে পারে। রাসূ বলছেন আল্লাহতালা বলবেন তোমার পাপ হয়ে গিয়েছে আকাশ সমপরিমাণ সমস্যা নয়। তোমার পাপ হয়ে গিয়েছে দুনিয়ার সমপরিমাণ সমস্যা নাই কিন্তু পাপের ভিতরে নেই শিরকি পাপ তোমার জীবনে শিরিক নেই তুমি এমত অবস্থায় আমার কাছে উপস্থিত হয়েছ আমি এই পৃথিবীর সমপরিমাণ ক্ষমা নিয়ে আদম সন্তান তোমার কাছে আমি আল্লাহ উপস্থিত হব এটা আমার দয়া এটা আমার মায়া এটা আমার রহমত এটা আমার রহমান রহিম গফ এর অনুপ্রকাশ আল্লাহ তালা এটা আল্লাহর রাসূল এটা আমদেরকে জানিয়েছেন তিরমিজি হাদিস নম্বর ৩৫৪০ মিশকাত হাদিস নম্বর ২৩৩৬ বর্ণিত এ হাদিসগুলো দিয়ে পরিচয় আলোচনা করলে আমরা সুস্পষ্টভাবে যেটা জানতে পারলাম পৃথিবীর বুকে শিরিক এক ভয়াবহ পাপ শিরিক এক ভয়াবহ অপরাধ যে পাপটি পৃথিবীর বড় পাপ যে পাপটি পৃথিবীতে বড় জুলুম যার জীবনে যদি বিন্দুমাত্র শিরিক থাকে আর মৃত্যুবরণ করে ও জাহান্নামে যাবে যার জীবনে বিন্দুমাত্র শিরিক নেই অথচ মৃত্যুবরণ করেছে ও জান্নাতে যাবে আদম সন্তান যদি আকাশ সমপরিমাণ পাপ অর্জন করে আদম সন্তান যদি পৃথিবী সমপরিমাণ পাপ অর্জন করে এবং তার ভিতরে শিরকি পাপ না থাকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করে আল্লাহ তার পাপকে ক্ষমা করবেন।



এখন আপনার একটা প্রশ্ন থাকতে পারে হুজুর আজকের ওয়াজ শুনলাম আলোচনা শুনলাম কিন্তু পূর্বেতো অনেক করেছি। তাহলে আমার আমলনামায় তো অনেক শিরিক রয়েছে। তাহলে তো আমি তো শিরিক বিহীন আল্লাহর কাছে উপস্থিত হতে পারবো না। জ আপনি এটা ভুল বুঝেছেন। মানে আপনার উপস্থিতির সময় যদি আপনার আমলনামায় শিরিক না থাকে। মানে আপনি উপস্থিত হওয়ার পূর্বে আল্লাহকে বলেছেন আল্লাহ আমি শিরিক করেছি। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন। আজকেই বলেন আল্লাহ আমার জীবনে অনেক শিরিক করেছি। কত যে শিরিক করেছে আল্লাহ আমার জানা নেই আমি বর্ণনা করতে পারবো না আল্লাহ তোমার দয়ার কথা শুনেছি তুমি দয়াবান তুমি রহমান তুমি ক্ষমাশীল আমি আমার অপরাধ স্বীকার করে আজকে বলছি আল্লাহ এই শিরিকের পাপ হতে তোমার দরবারে ক্ষমা ভিক্ষা করি যতদিন এই জীবনে নিঃশ্বাস রয়েছে যতদিন দম চলে যতদিন এই জীবনে প্রাণ রয়েছে ততদিন পর্যন্ত জীবন দিতে প্রস্তুত থাকবো তবে শিরিকের সাথে আপোষ করবো না এই বলে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে ক্ষমা ভিক্ষা করেন ইনশাল্লাহ আপনার পূর্বে যত শির রয়েছে আল্লাহ সব ক্ষমা করবেন তা না হলে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ক্ষমা পেলেন কিভাবে তা না হলে খাদ বিন রাদিয়াল্লাহু ক্ষমা পেলেন কিভাবে তা না হলে আবু সুফিয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু ক্ষমা পেলেন কিভাবে তাহলে ক্ষমা পেলেন কিভাবে তাদের জীবন শির ভর ছিল আজ ক্ষমা চান আল্লাহ ক্ষমা করবেন জানিয়েছেন যখন তার বান্দা অপরাধ স্বীকার করে অপরাধ স্বীকার করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করে আল্লাহ ওই বান্দার সকল অপরাধ ক্ষমা করে দেন সুবহানাল্লাহ অতএব এটুকু বলে দিচ্ছি পৃথিবীর মধ্যে এমন কোন পাপ নেই আসমানের নিচে জমিনের উপরে এমন কোন পাপ নেই যে আল্লাহ ক্ষমা করবে না এমন কোন পাপ জানা নেই যে আল্লাহ ক্ষমা করবে না যদি আপনি ক্ষমা চাইতে পারেন আপনার ক্ষমা চাওয়ার ধরণই বলে দিবে যে আপনি ক্ষমা প্রাপ্ত হয়েছেন কিনা আপনি যত বড় পাপী তত বড় ত্যাগ দিয়ে আপনাকে ক্ষমা চাইতে হবে আপনি ক্ষমা চাইতে পারলে পশ্চিম দিগন্তে সূর্য উদিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যদি কোন মানুষ ক্ষমা চাওয়ার এখতিয়ার পেয়ে থাকে তার আল্লাহ সুযোগ দিয়ে থাকে আরো ক্ষমা চেয়ে যেতে পারে ইনশাআল্লাহ ও ব্যক্তি ক্ষমা প্রাপ্ত হবে ক্ষমার আলোচনায় এগুলো এসে যাবে ইনশাআল্লাহ তো যা হোক আল্লাহ তাালার নিকটে আমাদের এ দাবি এবং দোয়া রইল আল্লাহ আল্লাহতালা জেনে অথবা না জেনে বুঝে অথবা না বুঝে আলোতে অথবা দিনের অন্ধকারে আল্লাহ আমাদের এবাদত বন্দেগী বিশ্বাস আদব আখলাক চলাফেরা ইত্যাদি যে শিরিক আমরা করে ফেলেছি আল্লাহ এই শিরিক থেকে তুমি আমাদেরকে হেফাজত করো আমাদের গুনাহ খাতা মাফ করো সকলে বলি আল্লাহুম্মা আমিন।



সম্মানিত উপস্থিতি শিরিক কি দিয়ে হয় শিরিক তো অনেক কিছু দিয়ে হয় কয়টা বলি আপনার সাথে শিরিক তো অনেক কিছু দিয়ে হয় শিরিক হয় ওই প্রধানত আমরা যেটা দেখি তাবিজ দিয়ে শিরিক হয়। যেমন আপনি আমি হাদিস তো জানি ১০ জন ব্যক্তি রাসূলের নিকটে আসলেন বায়াত করার জন্য। আল্লাহ নয়জনকে বায়াত করালেন একজনকে করালেন না। রাসূ সাল্লাল্লাহু সাল্লামকে বলা হলো কেন একজনকে করালেন না? রাসূল বললেন তার হাতে একটা তাবিজ রয়েছে একটা সুতা রয়েছে তখন ব্যক্তিটি ওই সুতার মধ্যে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিলেন এবং ফিরে ফেললেন রাস তাকে বায়াত করালেন এবং শুনিয়ে দিলেন যে ব্যক্তি তাবিজ ও ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরিক করল অতএব আপনার ঈমান দেখতে চাই আমাদের ভিতরে আহলে হাদিসের ভিতরে সহ আকিদা বলেন সালাফ বলেন তাদের ভিতরে যারা পবিত্র কোরন এবং সহী সুন্নাহ অনুসারীদেরকে বলেন এদের ভিতরে এবং এদের ভিতরে যারা আলেম বিদ্বাান রয়েছেন তাদের পরিবারে তাদের সন্তানদেরকে দেখেছি বড় বড় তাবিজ বড় বড় মাদ বড় বড় সুতা তাদের কোমরে মাজা ইত্যাদি জায়গায় রয়ে গিয়েছে সম্মানিত উপস্থিতি অতএব আজকে ঈমানের পরিচয় দিতে হবে আপনার কাছে আপনার সন্তানের কাছে যে মাদু রয়েছে অষ্টধাতুর আংটি রয়েছে তারপর মামা ভাগনার কি বায়লা সবার হাতে হাতে দেখাইলে ভাই সবার হাতে পড়াইলা মামা ভাগনার বায়লা মাজার ব্যাথা থাকে না ইত্যাদি কি শুনেন নাই এই মামা ভাগনার বায়লা যার হাতে রয়েছে পায়ে রয়েছে এগুলো আজকে এখুনি আঙ্গুল দিয়ে ছিড়ে ফেলতে হবে নিজের সন্তানের কোমরে হাতে গলাতে যে তাবিজ মাদুলি রয়েছে সুতা টাঙ্গিয়ে রেখেছেন এখুনি আঙ্গুল দিয়ে চেনে ছুয়ে ফেলতে হবে আপনার আমার যত প্রকার তাবিজ রয়েছে এক আংটির ভিতরে সব একেবারে অষ্টনাত আংটি পড়বেন মনে আপনার আর অসুখ বিশুখ হবে না ও খুললেই আপনি অসুস্থ হয়ে যাবেন এমন বিশ্বাস এই আংটির মধ্যে ঢুকে গিয়েছে এই তাবিজ কবজের মধ্যে ঢুকে গিয়েছে এই রাবারের মধ্যে ঢুকে গিয়েছে অতএব এই তাবিজ কবজ থেকে আপনাকে আমাকে দূরে থাকতে হবে।



সম্মানিত উপস্থিতি এরপরে আরেকটি বিশ্বাস রয়েছে আরেকটি শিরক হওয়ার মূল কারিগর হলো অশুভ লক্ষণ গ্রহণ কুলক্ষণ গ্রহণ করা আমরা অশুভ কুলক্ষণ গ্রহণ করে থাকি অথচ আব্দুল্লাহ মাসদ রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু বলছেন রাসূ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন অশুভ কলক্ষণ ফল গ্রহণ করা হচ্ছে শিরকি অশুভ কুলক্ষণ ফল গ্রহণ করা শির অথচ আপনি আমি অশুভ কুলক্ষণ ফল গ্রহণ করি দেখেন না আপনার পরিবারে আপনার ছেলে মেয়ের বিবাহ হবে। ওটা যদি শনিবার হয় আর মঙ্গলবার হয় ওদিনে অনুষ্ঠান চলবে না। শনিবারে মঙ্গলবারে বিবাহ হলে বিবাহ বরকত হবে না। এমনকি এমন ধ্যান ধারণা রয়েছে। শনিবারে মঙ্গলবারে কল কারখানা ইত্যাদি ভালো কিছু ভালো কাজ শুভ কাজ যেটা মনে করি এগুলো উদ্বোধন করা যায় না। শনিবারে মঙ্গলবারে বাঁশ কাটা যায় না। এরকম কত রকম শুভ অশুভ লক্ষণ রয়েছে। আপনি বাড়ি থেকে বের হয়েছেন। বের হয়ে এক মহিলার মুখ দেখেছেন ওটা নাকি অশুভ হয়েছে ও যাত্রা শুভ হবে না আজকে আর যাওয়া যাবে না বাড়ি ফিরে চলে আসতে হবে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন বা বাড়িতে কিছু হয়েছে হাত থেকে কি পড়ে গিয়েছে থালাবাসন ইত্যাদি পড়ে গিয়েছে অমঙ্গল হবে অথবা ওই কাক ডাকছে মাথার উপরে আপনার কেউ আত্মীয়স্বজন ইত্যাদি মারা গিয়েছে এরকম কত ধরনের যে অশুভ কলক্ষণ আপনার আমার মাঝে ভ্রান্ত বিশ্বাস রয়ে গিয়েছে জমজ কলা খেলে জমজ সন্তান হয়। দূরের কথা কি বলব? আমার ওয়াইফকে একদিন জমজ কলা খাওয়াতে গিয়েছি। আমার বলছে এই কলাটা আমি খাইতাম না। আপনি খাতা আমি বললাম কেন এলা খাইতেন না কেন? এটা খাইলে নাকি সমস্যা হয়। কলাই তোমাকে খাওয়া লাগবে। আমার একসাথে দুটো সন্তান প্রয়োজন। আলহামদুলিল্লাহ। এটা দূরের কথা বলব না। যম সন্তান খেলে যম সন্তান হয়। ডিম খেলে ডিম পাই। ইত্যাদি ইত্যাদি। কলা পেলে কলা পাই এইভাবে অনেক কিছু রয়েছে আমাদের বিশ্বাস ধারণা অতএব এই যত প্রকার ভ্রান্ত বিশ্বাস রয়েছে এ থেকে এই অশুভ লক্ষণ থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে স্বামীর নাম ধরে ডাকা যায় না যারা বিশ্বাস রাখে তাদের হাজার বার বলেন আপনার স্বামীর নাম কি মুখ দিয়ে বলতো না একবার কুরবানির গোস্ত ভাগ করার সময়ে আমার এক দাদ সম্পর্কের হবে তাকে বলছি আপনার দাদার নামটা যেন কি আমি বলতাম না। তুমি তো বলে দাও। মানে কি? স্বামীর নাম নেওয়া যাবে না। কার আমার ভালো মনে নেই। কারো একজনের কাছে আমি দোয়া জিজ্ঞেস করছি। তো দোয়ায় ওই রহমতুল্লাহ শব্দটা হয়তো রয়েছে বা কি শব্দ রয়েছে জানি না। উনি ওই পর্যন্ত আমার ভালো মনে নেই। শুধু স্মৃতিশক্তিটাতে রয়েছে যে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন আমি হয়েছি। তো উনি ওই পর্যন্ত বলে আর বলছে না। আমি বললাম কি আর পারেন না। বলছে পারি। কিন্তু ওই যে ওর আব্বুর নাম তো এই জায়গায়। এজন্য বলছি এই বিশ্বাস ইত্যাদি এরকম যতান্ত বিশ্বাস রয়েছে এইগুলো ফল গ্রহণ করা হচ্ছে শির এজন্য রাসূ সাল্লাল্লাহু আলা বলেছেন যদি কোন ব্যক্তির তার অশুভ কুলক্ষণ তার নিজস্ব দায়িত্ব কর্তব্য পালন থেকে বিরত রাখে ওই ব্যক্তি শিরিক করল এথা আমাদের নবী বলেছেন সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন আমাদের করণীয় কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তোমরা বল আল্লাহুম্মা আল্লাহর কল্যাণ ছাড়া কোন কল্যাণ নেই আল্লাহর অশুভ ছাড়া কোন অশুভ শক্তি নেই আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মাবুদ নেই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১০৬৫ নম্বর হাদিস দিয়ে জাতিকে জানিয়েছেন অতএব আপনার আমার নিজ দায়িত্ব কর্তব্য পালন করতে গিয়ে যদি এই অশুভ লক্ষণ এই কুলক্ষণ ইত্যাদি কথাবার্তা দিয়ে যদি এই সমাজ আটকে যায় আমার কর্ম আটকে যায় আমার দায়িত্ব আটকে যায় আমার ইত্যাদি জনজীবন আটকে যায় আর এই বিশ্বাস নিয়ে আপনি আমি এই জনজীবনে চলাচল করি তাহলে আপনি আমি শিরিককারী এটা মনে রাখবেন অতএব শিরিক থেকে বেঁচে থাকা অতটা সহজ মনে করয়েন না যোগান খোলা রাখতে হবে শিরিক বিষয়ে জ্ঞান আপনাকে আমাকে রাখতে হবে।



আমরা জ্যোতিষ বিদ্যা গ্রহণ করি আমরা জ্যোতিষীর নিকটে যাই চালকের নিকটে যাই আমরা ভাগ্য বিশ্বাস করি গণক বিশ্বাস করি অথচ গণকের কাছে যাওয়াটা হচ্ছে শিরলাহান তিনি বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিলাম মুসলিম ৪৫৯৫ নম্বর হাদিস দিয়ে বলেছেন যে ব্যক্তি কোন গণকের নিকটে গেল এবং তার কাছে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করলা ওই ব্যক্তির দিনের সালাত আল্লাহ কবুল করবেন মুসলিম মিশকাত হাদিস বলেছি কিন্তু যে ব্যক্তি কোন গণকের নিকটে গেল জ্যোতিষীর নিকটে গেল শুধু জিজ্ঞাসা করল যে কি হতে পারে এই জিজ্ঞাসা করলে তার ৪০ দিনের সালাত কবুল হবে না আর বিশ্বাস করলে কি হবে না যদি গণকের কথা বিশ্বাস করেন তাহলে কি হবে না আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু কলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুদের বর্ণিত তিনি বলেন রাসূ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম বলেছেন মহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ব্যক্তি কোন গণকের নিকটে গেল এবং তার বলা কথাকে বিশ্বাস করল সে অস্বীকার করল বিমা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে যা নাজিল হয়েছে তথা কোরআন নাজিল হয়েছে এই কোরআনকে ব্যক্তি অস্বীকার করল নাউজুবিল্লাহ কোন ব্যক্তি যদি গণকের নিকটে গিয়ে তার বলা কথা বিশ্বাস করে তাহলে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলালাম উপরে নাযিলকৃত কোরআন আপনি অস্বীকার করেছেন হাদিস দিয়ে বললে বিশ্বাস করবেন না কোরআন দিয়ে বলি আল্লাহতালা সূরা নামলের ৬৫ নম্বর আয়াতে বলছেন মহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাতিকে আপনি বলে দিন আসমান এবং জমিনে আসমান সমূহে যারা আছে এবং পৃথিবীর বুকে যারা আছে তারা কেউ জানে না অদৃশ্য সম্পর্কে আল্লাহ ব্যতীত আল্লাহ ব্যতীত অদৃশ্য সম্পর্কে কেউ জানে না আপনার গণক কিভাবে অদৃশ্য সম্পর্কে জানলো এজন্য আমার এক শিক্ষকের কথা বলতে হয় এক শিক্ষক নেই কোথায় টিয়া ফাকি দিয়ে হাত দেখাচ্ছিল উনার এক বন্ধু গিয়ে তারে দিছে একচ দিলে উনি তো অবাক তো দেখে বলছে কি ব্যাপার তুমি আমাকে পিটালে কেন বলছে রিক্সা থেকে যখন দেখেছি তুই এখানে টিয়া পাকি দিয়ে ঘনকি করছিস মানুষের হাত দেখছিস তখনই নিয়ত করছি গিয়ে একটা চড় দেব তো ওখান থেকে যে এত পথ হেটে আমি আসলাম আর আজকের দিনে যে একটা ফাটিয়ে চড় তোর মুখে দেব এই হাতটা দেখে তুই আসলি না বাড়ি থেকে সম্মানিত সমানিত উপস্থিতি অতএব আমরা গণকের নিকটে চাই আমার জীবনের অভিজ্ঞতা কি করে বলি সময় নাই আমার জীবনের অভিজ্ঞতায় এই গণক কি করেছে আল্লাহু আলাম বলি একটু যদি কিছু উপকার হয় আমার এলাকায় খুব ছোটবেলায় যখন সিডি ক্যাসেটের সময় ভিসিআর ক্যাসেটের সময় ছিল ভিসিআর ক্যাসেট গুলো রয়েছে বড় বড় ক্যাসেট পাওয়া যেত ২০০০ সালের আগে হতে পারে তো আমার এলাকায় এক ভাটা যেখানে পড়ানো হয় ওই ভাটাতে ভাটা শেষ শেষ হয়ে যাবার পরে ওখানের কিছু মানুষ ওই রাতে ভিসি আর সেট ভাড়া করে নিয়ে এসে সারারাত ধরে দেখছে। তো যাক সকাল না হতেই সেই ভিসি আর সেট আর টিভি চুরি হয়ে গিয়েছে। যাই হোক এখন তো ফিরিয়ে দেওয়া লাগবে। গণকের কাছে গিয়েছে। গণক দেখে বলেছে এটা চুরি করেছে দুইজন ছেলে। একজন হল পরিষ্কার তার চুলগুলো স্বাভাবিক। আর একজন হলো কালো তার চুলগুলো কুকড়ানো। এরা একসঙ্গে উঠাবসা করে। আর এই চাউল পোড়া দিছে ওদের দুইজনকেই খাওয়াইয়ে দাও দেখব ধরা পড়ে যাবে। যাই হোক উনারা এসে দুইজন মানুষ একসঙ্গে যারা ঘোরে কে পরিষ্কার আর কে কালো নির্ণয় করেছে নির্ণয় করে আমার একজন চাচা শফিকুল ইসলাম নাম আরেকজন ভাই ইসাক ভাই এদেরকে নির্ণয় করেছে যে এরাই চোর। আর এদেরকে নিয়ে বিচার বসানো হলো। বিচার বসানোর পরে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হলো। পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরে ওখানকার বড় বাবু উনি এসে ওদেরকে আলাদা করলেন। আলাদা করার পরে অনেক পিটুনি দেওয়া হলো। কিন্তু ওনারা ওই কথা স্বীকার করলেন না। শেষমেষ পুলিশ অফিসার উনি গণককে ডাকলেন। গণক আসলো। গণককে আসার পরে গণককে জিজ্ঞাসা করলেন গণক ঠাকুর আপনি বলেন এই টিভি এবং ভিসিআর এরা দুইজন কোথায় রেখেছে। গণক বলছে স্যার আমি তো ওটা বলতে পারি না। আমি তো শুধু হাত দেখে এটা বলতে পারি যে এরা চুরি করেছে। তখন পুলিশ বলছে তাহলে পিটিয়ে লাভ নেই। যখন ও নিজে বলতে পারছে না যে জিনিসটা কোথায়। তখন ওদেরকে ছেড়ে দিল। তার কিছুদিন পরে ওই ভিসিআর এবং টিভি আরেকজনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হলো। তখন গণকের কথা কি হলো? মিথ্যা প্রমাণিত হলো। অতএব গণক আপনার আমার অগোচরে আপনার আমার বাড়ির চুরি হয়েছে কার সাথে কি হয়েছে আপনার হাত দেখে আপনার ভাগ্য পরিবর্তন ইত্যাদি বলে দিবে এটা কখনো সম্ভব নয়। অতএব এই শিরিক থেকে বেঁচে থাকতে হবে।



মানত করা। আপনার আমার সমাজে মানত করার একটা স্বভাব রয়েছে। অমুক পীরের নামে মানত করি। অমুক বাবার নামে মানত করি। অমুক কবরে টাকা পয়সা দান করি। কেন? আমার যেন এই বিপদটা মুক্তি পায়। আমার ছেলে যেন সুস্থ হয়। এই বলে আপনি কবরে গিয়ে ৫ টাকা ১০ টাকা ৫০ টাকা ১০০ টাকা ৫০০ টাকা বা একটা গরু ছাগল ইত্যাদি দান করে আসছেন। আপনি জেনে রাখুন আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে মানত করা এবং জবাই করা হচ্ছে শিরিক। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে জবাই করা শিরিক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন লাআনাল্লাহু মান জাবাহা লিগাইরিল্লাহ আল্লাহ ওই ব্যক্তির উপরে অভিশাপ করেছেন লানত করেছেন যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে পশু জবাই করে। আপনি আমি পীরের নামে কবরের নামে মানত করে পশু জবাই করছি। আপনার আমার উপরে কি আল্লাহর রহমত থাকবে না লানত থাকবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস দিয়ে এটা সুস্পষ্ট যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে মানত করা শিরিক এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে পশু জবাই করা শিরিক।



এরপরে রয়েছে রিয়া বা লোকদেখানো ইবাদত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন পৃথিবীর বুকে দাজ্জালের ফেতনার চাইতেও ভয়ঙ্কর ফেতনা হচ্ছে রিয়া বা লোকদেখানো ইবাদত। মাহমুদ ইবনে লাবিদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন নিশ্চয় আমি তোমাদের উপরে সবচাইতে বেশি যে পাপের আশঙ্কা করি সেটা হল শিরকে আসগর ছোট শিরিক। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন ইয়া রাসুলুল্লাহ ছোট শিরিক আবার কি? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ছোট শিরিক হলো রিয়া বা লোকদেখানো ইবাদত। কিয়ামতের দিন যখন মানুষ তার আমলের প্রতিদান পাবে তখন আল্লাহ বলবেন যাও সেইসব মানুষের নিকটে যাও যাদেরকে দেখানোর জন্য তোমরা দুনিয়াতে আমল করতে। দেখো তো তাদের কাছে তোমাদের কোনো প্রতিদান আছে কিনা। আহমদ মিশকাত হাদিস নম্বর ৫৩৩৪। লোকদেখানো ইবাদত রিয়া আমার সালাত আদায় করা আমার কোরবানী আমার যাকাত আমার দাম আমার সিয়াম আমার হজ আমার ভালো কর্মগুলো কোন একজন দেখছে ওর কাছে ভালো হওয়ার জন্য আপনি কি সুন্দর করে সালাত আদায় করছেন যে কেউ মনে হয় দেখছে এটাই হল পৃথিবীতে সবচাইতে বড় শির যা দাজ্জালের ফেতনার চাইতেও ভয়ঙ্কর আল্লাহতালা এই গোপন শির থেকে আপনাকে আমাকে রক্ষা করুন সকলে বলি আল্লাহুম্মা আমিন।



সম্মানিত উপস্থিতি এছাড়াও কাউকে সেজদা করা যাবে না। নবীগণের কবরকে যদি সেজদা করা না যায় তাহলে সাধারণ কবরকে সেজদা করা যাবে। আল্লাহ ব্যতীত কাউকে সেজদা করা যাবে না। বলছেন বুখারী মুসলিম ৭২ নম্বর হাদিস তার জীবনের শেষ বলেছিলেন আল্লাহতালা ইহু খ্রিস্টানদের উপরে অভিশাপ লানত করেছেন কেননা তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদ সেজদার স্থান বানিয়েছিল। নবীদের কবরকে সেজদার স্থান মাসজিদ বানিয়ে যদি আল্লাহ তাআলার অভিশাপ নিতে হয় লানত নিতে হয় আমি বুজুর্গ দ্বীনের স্থানকে সেজদার স্থান বানিয়েছি। আমি আমার পীরের স্থানকে কবরকে সেজদার স্থান বানিয়েছি। আপনার আমার উপরে আল্লাহর লানত থাকবে না। আল্লাহর রহমত থাকবে। এটা আপনি আমি বিচার বিবেচনা করব। অতএব আল্লাহ ব্যতীত কাউকে সেজদা করা যাবে না। শিরিকহীন জীবন আমাদের উপহার দিতে হবে। পরিশেষে আল্লাহর কাছে দোয়া করি আল্লাহ আমাদের সকলকে শিরিক মুক্ত আমল করার তৌফিক দান করুন এবং কিয়ামতের দিন শিরিক মুক্ত হয়ে তাঁর সামনে উপস্থিত হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।