লোড করা হচ্ছে ...

খুতবার বিষয়: ঐক্যবদ্ধভাবে জীবনযাপনের গুরুত্ব

ঐক্যবদ্ধভাবে জীবনযাপনের গুরুত্ব



আলহামদুলিল্লাহ। সব রকমের প্রশংসা শুধু আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য। যিনি আমাদের জীবনে অসংখ্য নেয়ামত দান করেছেন। এত নেয়ামত দান করেছেন যে যা আমরা কখনোই গণনা করে শেষ করতে পারবো না। এবং হক আদায় করে শুকরিয়া আদায় করারও সামর্থ্য আমাদের নেই। কিন্তু তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কিভাবে তাকে খুশি করতে হয়। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন তার শুকরিয়া আদায়ের ভাষা কি হবে। আমরা রাব্বুল আলামীনের ভাষা দিয়েই শুকরিয়া আদায় করি। আলহামদুলিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ।



এর মানে হলো সব প্রশংসা শুধু আল্লাহর জন্যে। কিন্তু বাস্তব জীবনে আমরা কিন্তু অনেক প্রশংসা করি। কারো সুন্দর একটা গাড়ি দেখলে আমরা বলি গাড়িটা কি সুন্দর। জামাটা দেখলে বলি কি সুন্দর। বাড়িটা দেখতে বলে কি সুন্দর বাড়ি বানিয়েছেন। তো আমরা যে আবার বলি আলহামদুলিল্লাহ প্রশংসা শুধু আল্লাহর করব। কিন্তু বাস্তব জীবনে আমরা অন্য কিছুরও প্রশংসা করি। এ থেকে বাঁচার উপায় আছে। যদি আমরা শুরুতে একটু বলে নেই মাশাআল্লাহ। মাশআাল্লাহ আপনার গাড়িটা খুব সুন্দর। মাশাআল্লাহ। আপনার বাড়িটা খুব সুন্দর। তাহলে বাস্তব জীবনে আমাদের প্রশংসাগুলো সব আল্লাহর জন্যই হয়ে যাবে। এজন্য এখন থেকে কারো প্রশংসা করবার সময় আমরা যেন মাশাআল্লাহ বলিনি। দরুদ এবং সালাম পেশ করছি।



সর্বকালের সেরা মানুষ যাকে সবার চাইতে বেশি ভালো না বাসলে মা, বাবা, ভাই, বোন, স্ত্রী, সন্তান সন্ততি এমনকি নিজের জীবনের চাইতেও যদি বেশি ভালো না বাসি তাহলে মুমিন হওয়া যাবে না। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি আল্লাহুম্মা সাল্লি আলাই আল্লাহুম্মা বারিক আলাই। তার ফ্যামিলি মেম্বার পরিবার পরিজন তার যারা ছাত্র ছিল ছাত্রী ছিল যাদেরকে আমরা সাহাবী বলি তাদের সবার প্রতি আল্লাহর অশেষ রহমত বর্ষিত। সেই সাথে তাদের জন্য দোয়া করি বাবা আদমের যুগ থেকে শুরু করে অনেকেই যারা যারা কবরবাসী হয়েছেন তাদের মধ্যে আমার আমাদের আত্মার আত্মীয়রাও আছে। আবার আমরা যারা এখন আল্লাহর দ্বীন মেনে চলার চেষ্টা করছি আবার ভবিষ্যতেও যারা এই দ্বীন মেনে চলবেন আল্লাহ যেন আমাদেরকে তার প্রিয় মানুষ হিসেবে কবুল করে নেন। সবাই বলি আমিন। মুক্তারপুরের এই সুন্দর জামে মসজিদ যারা তৈরি করেছেন, জমি দিয়েছেন, চাকা দিয়েছেন পরিশ্রম করেছেন, প্রচার করেছেন, মুসল্লি হয়ে এটাকে আবাদ করেছেন। এখন করছেন, ভবিষ্যতেও করবেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে জান্নাতি মানুষদের মধ্যে শামিল করে নিন।



সম্মানিত ভাইয়েরা, আমি মোহাম্মদ আসাদুল ইসলাম। আজ থেকে ১৪ বছর আগে হয়তো আমি এলাকায় আসা যাওয়া করেছি। এর মাঝে বোধহয় আর আসা হয়নি। আমি বাংলাদেশ জমিয়ত আহলে হাদিসের এইযে গত অক্টোবরে যে কাউন্সিল হলো সেইখানে আমাকে সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। সেই দায়িত্বের কারণে আমি আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। একটু দেরি হলো কারণ দেশের প্রায় জেলায় যেতে হয়। টাইম মিলানো কষ্টকর হয়ে যায়। এটা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি আসতাম আগেও আসতাম। ১৪ বছর আগেও আসতাম। সে সময় এলাকায় যখন আপনাদের এত পরিচিতি ছিল না। মানুষ কম ছিল। শক্তি সামর্থ্য এত ছিল না। সেই সময় আমি এলাকায় এসেছি। বিভিন্ন মিটিংে প্রোগ্রামে এসেছি তখন। তবে ওই সময় যারা দেখেছেন তাদের মনে রাখার কথা না। কারো কারো মনে থাকবে আমাদের আলহাজ্ আওলাদ হোসেন সাহেব তিনি মনে রাখবেন কিন্তু অনেকেরই ভুলে যাওয়ার কথা এর মধ্যে সময় তো আর কম পার হয় নাই। আমি বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় যখন শিক্ষকতা করি ঢাকায় তখন সৌদি আরব থেকে ওখানকার কিং খালিদী ইউনিভার্সিটির একটা টিম এসেছিল ইন্টারভিউ নিতে। সে ইন্টারভিউ দেওয়ার পরে তারা আমাকে ওই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়ে গিয়েছে। আমি ওখানে ১০ বছর শিক্ষকতা করলাম। এরপরে দেশে ফিরেছি ২২ সালের শেষ দিকে। এখন মানারাত ইউনিভার্সিটিতে কিছু সাবজেক্ট পড়াশোনা করাই। আর আপনাদের জমিয়তের খাদেম হিসেবে বিভিন্ন জেলায় একটু যাতায়াত করি। এই হলো মোটামুটি পরিচয়। তবে আমি আপনাদের থেকে দূরের মানুষ না। আমি ঢাকা বিভাগেরই মানুষ। ঢাকার ধামরাইতেই বাড়ি কিন্তু বসবাস আবার। আপনাদের কাছে আজকে আসার সুযোগ যে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন করে দিয়েছেন তাকে আবারো শুকরিয়া জানাই। আলহামদুলিল্লাহ।



আমরা সবাই জানি এই সময়টা আমরা যেটা পার করছি। আমরা যখন ২১০০ সাল আসছিল আসছিল ভাব ধরেন ১৯৯৯ সালে তখন বাংলাদেশ জমিয়তে আহলে হাদিসের একটা কনফারেন্স হয়েছিল পল্টন ময়দানে উন্মুক্ত অধিবেশনও হয়েছিল ওই সময় ডক্টর আব্দুল বারী স্যার রাহিমাহুল্লাহ তিনি আমাকে একটা আর্টিকেল লেখার দায়িত্ব দিয়েছিলেন একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা কি করব। মনে হয়েছিল যে ২১০০ সাল ঘরে আসার সাথে সাথে আমরা অনেক সমস্যায় পড়ে যাব। এইজন্য সবাই টেনশনে ছিল কম্পিউটারগুলো চলবে কিনা, ব্যবসা বাণিজ্য চলবে কিনা টেনশনে ছিল। কিন্তু আমার কাছে যেটা মনে হয়েছিল তখনও এখন মুসলমানদের চ্যালেঞ্জ তো শুরু হয়েছে জন্মলগ্ন থেকেই। যেদিন বাবা আদমকে সৃষ্টি করা হলো আর সবাইকে বলা হলো আদমকে সম্মান জানাও সেজদা করো তখন চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করল শয়তান সে বলল আমি করব না। এর পুরস্কার হিসেবে আল্লাহ তাকে দিলেন অভিশাপ যে সে জাহান্নামী হবে সে মুরতাদ সে অভিশপ্ত বিতাড়িত। সে জীন হয়েও জান্নাত বসবাসের সুযোগ পেয়েছিল কিন্তু বিতাড়িত এবং বিতাড়িত হওয়ার পরে তার চ্যালেঞ্জটা আপনারা জানেন সেও বলেছিল যে তাহলে আমাকে কিয়ামত পর্যন্ত হায়াত বাড়িয়ে দাও আর আমিও দেখে নেব এই যাদের জন্য আমি বিতাড়িত হলাম তাদের চতুষ্পার্শ থেকে আমি হামলা করে একদম এদের পথের মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকব ওদের জাহান্নামে আমি নিয়েই যাব আল্লাহও তাকে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে আমার যারা শোকর গুজার বান্দা তাদের সাথে পেরে উঠবে না। তার মানে কি? আমাদের চ্যালেঞ্জ শুরু হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হয়েছে শয়তানের সাথে একেবারে শুরুতে।



দুনিয়ায় যখন আসলাম আল্লাহ যখন নামিয়ে দিলেন বলে দিলেন বাবা আদমের মা হওয়ার তো মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। আপনি যদি একটা ভালো বাড়িতে থাকেন এরপরে যদি আপনাকে বের করে দেয় আপনার মন খারাপ হবে না টেনশন লাগবে না যে কি সুখে ছিলাম আর কোথায় যে যাচ্ছি এলিয়েন নতুন জায়গা ঘর আছে না বাড়ি আছে খাবার আছে না দাবার আছে পানি আছে না হাওয়া আছে কিছুই তো জানি। কিন্তু আল্লাহ সুন্দর করে বলেছেন সূরা বাকারাতেই পাবেন। আল্লাহ বলে দিয়েছিলেন যে তোমরা যাও কিছুদিন সেখানে থাকতে হবে। ওই সময় আমার পক্ষ থেকে ইতি তোমাদের কাছে যাবে হেদায়াত দন ইসলাম যাবে যে তাবে হবে অনুসরণ করবে হেদায়েতের লাইয়া তার জন্য কোন খফ ভয় থাকবে না তার ইয়াহজান তার কোন টেনশনও থাকবে না সে আবার এ কথার অর্থ কি আমরা আবার জান্নাতের সুখের বাড়িতে ফিরে যেতে পারব কিছু সময়ের জন্য পৃথিবীতে আসা। কিন্তু দেখেন আমরা কত বোকা আল্লাহ যদি আমাদের নামিয়ে ছেড়ে দিতেন কোন কিতাব নাযিল না করতেন কোন নবী রাসূল না পাঠাতেন তহলে এই ঘটনা আমাদের কারো মনে থাকার তো কথা না। আল্লাহ যে রুহের জগতে বলেন আলাব আমি কি তোমাদের প্রভু নই সবাই কি বলল বালাইস আপনি আমাদের প্রভু কিন্তু এই কথা আমাদের কার মনে আছে কারোরই মনে নাই মায়ের গর্ভে নয় মাসের একটা ঘুম দিয়েছে। পৃথিবীতে চলে এসছি। আসার পরে কারোরই মনে নাই কোত থেকে যে আসলাম। কেন যে আসলাম যতক্ষণ না এই কিতাব আল কোরআন পড়ে পড়ে আমাদের আলেমরা আমাদের না বুঝাইলে ততক্ষণ আমরা জানতামও না যে আমরা কে কোথা থেকে এসছি। কিভাবে এসছি? কেন এসছি।



কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো যে নিজে পড়া আর শুনে হেদায়েত হওয়া দুইটা একরকম হয় না। যে ছাত্র পরীক্ষায় পড়ে গরজ নিয়েই পড়ে সে পড়ার মজাও বুঝে ফেল আর পাশের মর্মও বুঝে। আর যাকে খালি বুকে বুকে পড়ানো হয় সে পড়ার মর্মও বুঝে না ফেল পাসও বুঝে না আমাদের দশাটা হইছে এরকম। আমরা কোরআন এবং সুন্নাহ নিজেরা পড়তে চাই না ইংরেজি পড়াবার জন্য আপনারা তো টিচার রাখেন প্রাইভেট টিউশনে তো দেন বেচেও পড়ে অনেক টাকা খরচ করি তাই না আমি কিন্তু নিজেও ইংরেজি পড়েছি আমার পেশাটা ইংরেজি শেখানো ইউনিভার্সিটি যে পড়াই ইংরেজি শিখায়। তো ইংরেজির জন্য যে মানুষ কত টাকা খরচ করে কিন্তু বলেন তো আরবির জন্য কত টাকা খরচ করি। ইংরেজি স্যারের জন্য ৫০০০ টাকা দিয়ে বাসায় টিউশনি টিউটর নেন কিন্তু আরবি মসজিদের ইমাম বা ময়াজকে যে নেন তাকে কত দেন? তার মানে আরবির গুরুত্বটা হয়ে গেছে নফল আর নফল হবার কারণে আমরা নিজেরা পড়ি না বলে আমরা যে কারা কেন যে আসলাম কিভাবে আসলাম এরপরে কোথায় যাব সেই মর্মটা হৃদয়ে কিন্তু ঢুকে না অন্তরে প্রবেশ করে না।



সূরা আলা পড়ি আমরা প্রত্যেক জুমার দিনে না বাফুনিয়া ও তোমাদের এই দুরবস্থার কারণ হল তোমরা প্রেফার করো তোমরা অগ্রাধিকার দাও তোমরা বেশি পছন্দ করো দুনিয়াকে। যদিও আখেরাত হল ভালো এবং উত্তম বেটার এবং এটা হল চিরস্থায়ী আর দুনিয়া হল ক্ষণস্থায়ী। এটা আল্লাহ কোরআনে বলছেন এটা যদি আমি আপনি নিজে পড়ি মনের মধ্যে কিন্তু একটা ঝড় উঠে যাবে। একটা ঝড় উঠে যাবে যে আল্লাহর আল্লাহ তার নিজের বাণী আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন সেখানে বলছেন দুনিয়াকে তোমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছ অথচ আখেরাতের জিন্দেগী সেটাই হল স্থায়ী সেটাই হল সেরা সেটাই হল উত্তম তো আমরা এই যে কোরআন এবং সুন্নাহ আরবি ভাষা হওয়ার কারণে আমরা ধারে কাছেও না। আমাদের মুরুব্বরা যখন কথা বলে তখন দেখা যায় গল্প করে না বিয়ের বাড়ির বা বন্ধুর বাড়ির গল্পটল্প করে তখন অনেক কথা বলে। কিন্তু কথার মধ্যে কোন জিকির থাকে না বেশি একটা। আমি ওখানে শিক্ষকতা করবার সুবাদে দাওয়াত তো কিছু পাইতাম। গ্রামে গ্রামে সৌদিদের গ্রামে তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সেখানে দেখতাম তারাও কিন্তু গল্প করে কিন্তু গল্প করার সময় বলে কিছু শব্দ বলে সুবহানাল্লাহ আবদুল্লাহর বাবা আমি যা দেখলাম না এরকম আল্লাহু আকবার সুবহানাল্লাহ মানে করতেছে গল্প কিন্তু কথার মাঝখানে কি হচ্ছে জিকির আর আমাদের বাংলাদেশে কি বলি আমরা? ওরে বাপরে বাপ এত উঁচা পাহাড় জীবনে দেখি নাই। আর ওরা কি বলতো? আল্লাহু আকবার। এত বড় পাহাড়, এত সুন্দর। এভাবে তার মানে কোরআন এবং সুন্নাহর ভাষাগত যে কালচার সেটা আমাদের মধ্যে কম। থাকার কারণে আমরা পড়েছি একটা বিপদে।



দেখেন আমি নিজের জীবনে দেখেছি বাবাকে সালাম দিতে একটু শরম পড়তো বাবারে আবার সালাম দেওয়া লাগে নাকি আম্মুকে আবার সালাম দেওয়া লাগে নাকি বাড়ির গেটে এসে আবার সালাম দেওয়া লাগে নাকি একটু শরম শরম লাগে কারণ কি কালচার নাই তবে আমার ছেলে মেয়েদের আবার শরম লাগে না কারণ ওদেরকে ছোটবেলা থেকেই আমি কালচারটা প্র্যাকটিস করাচ্ছি বাইরে গিয়ে সালাম দিয়ে তারপরে প্রবেশ করবে ওরা ঠিক মত দেয়। কিন্তু আমি কিন্তু অত ঠিকমত দিতে পারি না। আমি বলতে চাচ্ছি যে কোরআন এবং সুন্নাহর যে পরিভাষা যে আরবি সেগুলো যতক্ষণ না বাস্তব জীবনে আমরা নিয়ে আসবো ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আল্লাহর কথাটা মনে আসবে না। শুক্রবারে আমি একটা কথা বলি প্রায়ই সৌদি প্রবাসী তো অনেকে আছেন বা মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী আছেন। আমি প্রবাস জীবনে গিয়ে বেশ কিছু জিনিস খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতাম। সৌদি আরবে মুসল্লিরা আসতো। আয়েশায় দুই রাকাত সালাত পড়তো। পইড়া কি করত? কোরআন শেল থেকে টান দিত। আর কোরআন পড়তো। আমি অনেক জায়গায় জিজ্ঞেস করেছি। আচ্ছা এইযে ধরেন মনে করেন এটা কোরআন। আমি এটা উদ্দেশ্য ছাড়া যদি এমনে খুলি। কোরআনটা ধরে আমি এমনে খুললাম। তাহলে সৌদি আরবের কোরআনে কোন সূরা আগে উঠে? সবাই বলতো ফাতেহা কেউ বলত বাকারা। কিন্তু যখন আমি বলতাম যে না সৌদি আরবের মসজিদের যে কোরআন গুলা থাকে এবার ধরবেন ধরে এমন করবেন। করলেই প্রথমে যে সূরাটা বের হবে সেই সূরার নাম সূরাতুল কাহফ। কেন? প্রত্যেক জুমায় এত বড় একটা সূরা। মুসল্লিরা মসজিদে এসেই দুই রাকাত সালাত পড়ে বসেই সোজা এটা পড়া শুরু করে দেয়। আর আমাদের দেশে মসজিদের মাঝখানে কোন শেল নাই বা সাইডে শেল কোরআন থাকলেও কেউ খুলে না। ওখানে আছে আলহামদুলিল্লাহ হাত দেয় না। কি করি? কোরআনের সাথে আমাদের সম্পর্কটা যতটা দুর্বল হয়েছে। আমাদের দুনিয়ার জীবনেও অশান্তি ভর করেছে। আখেরাতের জীবনে যে কি হবে আল্লাহই ভালো জানে। তবে বোঝা যায় এইভাবে পথ চললে খুব ভালো হওয়ার কথা না।



সম্মানিত ভাইয়েরা এজন্য আমরা এই সময় যে পার করছি আমি শুরু করেছিলাম যেটফস্ট সেঞ্চুরির চ্যালেঞ্জ নিয়ে ও সময় আলাপ হয়েছে। কিন্তু দেখা যায় কিয়ামতের সামনে যতই হচ্ছি আমরা কাছাকাছি হচ্ছি চ্যালেঞ্জ খালি বেড়েই যাচ্ছে। ইন্ডিয়া বলা হয় পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ডেমোক্রেটিক কান্ট্রি গণতান্ত্রিক দেশ কি দেখছি পশ্চিম বাংলায় যেভাবে অত্যাচার চলছে তা মানুষের পর্যায়ে পড়ে না রাব্বুল আলামন তুমি মজলুম মানুষদের হেফাজত করো। আর জালিমদের থামিয়ে দাও। একদম পাশের বাড়িতে বারমায় দেখেছি এর আগে মুসলমানদের উপরে কিভাবে অত্যাচার হয়েছে টিকতে না পারে আমাদের দেশে এসে তারা আশ্রয় নিয়েছে ১০ লাখের উপরে মানুষ আল্লাহ তুমি এই মজলুমদেরকে সাহায্য করো। ফেতনা একটার পর একটা বেড়ে যাচ্ছে আর ইসরাইল আর ইরানের যুদ্ধ সেখানেও যুদ্ধটা আমি ইসরানরে বলি না এগুলা কোন ধর্মযুদ্ধও না এগ পলিটিক্যাল ওয়ার পরাশক্তিগুলোর যুদ্ধ একদিকে মার্কিন আরেকদিকে রাশিয়া এবং চীন এরা একেক সময় এক জায়গায় খেলে আফগানিস্তানে একবার খেলছে রাশিয়া দখল করছে মুসলমানদের আমেরিকায় এসে সাহায্য করেছে আবার মধ্যপ্রাচ্যে কি করে আমেরিকায় এসে গন্ডগোল পাঠায়। আবার রাশিয়ার চীনে এসে সাহায্য করে এগুলা হল মুসলিম বিরোধী এই পরাশক্তিগুলোর গেম। গেম অফ ওয়ার যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা ওরাই যুদ্ধবাদেয় ওরাই আমাদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে। আর আমাদের একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে লাগাইয়া দেয়। যে তুমি ওরে মারো আর তুমি ওরে মারো। ফেতনার শেষ নাই। তো এই যে বড় বড় কথাগুলো বললাম এগুলো পর্যন্ত আমাদের ক্ষমতা নাই। ঠিক আছে। কিন্তু তারপরে একবারেই যে নাই তা তো না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেও তো আমার আপনার মতই মানুষ নাকি? নাকি তার হাত ছয়টা আছে? আমাদের মতই মানুষ না। তো আমাদের দেশেও কি এরকম নেতা তৈরি হওয়া সম্ভব নাকি? যদি কেউ চায় যে আমি মুসলিম উম্মার জন্য বাংলাদেশের জন্য আমি নিজেকে গড়ে তুলবো। এই জাতিকে জাগাবো, শিক্ষিত করব, উন্নত করব, সুবিবেচক বানাবো। তার জন্য দাওয়াতি কাজ করব। একদিন সেও কিছু অনেক কিছু হতে পারে।



মালয়েশিয়ার মাহাফির মোহাম্মদ তিনিও নিজেকে গড়েছিলেন। ইন্ডিয়ার ডক্টর জাকির নায়েক তিনিও নিজেকে গড়েছেন। বাদশা ফয়সাল ফ্রম সৌদি আরাবিয়া তিনিও নিজেকে গড়েছিলেন। ইউসুফ বিন তাসমিন আফ্রিকা তিনিও নিজেকে গড়েছিলেন। সালাউদ্দিন আইয়ুব মিশরের তিনিও নিজেকে মুসলিম উম্মার খেদমতে উৎসর্গ করেছিলেন। আর আমরা বাঙালিরা কি করব? আমরা শুধু ফেসবুকে যুদ্ধ করব। আমরা শুধু ফেসবুকে লড়াই করব। একজন একজনের কাফের ফাসেক ফতোয়া দিয়ে খালি ঝগড়াই লাগাব। এইসব বন্ধ করে আসেন নিজেদেরকে একটু গড়ার চেষ্টা। আমি যতটুক বুঝি তাতে আমার মনে হয়েছে যে আমাদের তো অপ্রক্কাশ দুশমন শয়তান আছে। তাকে থামানো যায় না। তাকে থামানোর জন্য খালি দোয়া কালাম। আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। আউজুবি কালিমাতুল্লাহ। এরপরে এটা একদিক যে নিজে নিজে দোয়া কালাম পড়ে শয়তানকে দূরে রাখতে হয়। কিন্তু যদি আপনি একা থাকেন তাহলে শয়তানের সাথে দোয়া কালাম পড়েও পরাজিত হওয়ার সম্ভাবনা আসতেও পারে। রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সলাম কি বলেছেন? যে মেশপাল ভেড়ার পাল যখন একত্রে থাকে চারপাশে নেকরে ঘোড়াঘুরি করে তারপরেও একটা মেশকে ছুইতে পারে না যখনই একটা ভেড়ার পাল এদিক ওদিক ছিটকে যায় সামনে অথবা পেছনে চলে যায় তখন এসে দেখে বাগটা সহজে ওটাকে স্বীকার করে যারা জিওগ্রাফি চ্যানেল দেখেন তারা এগুলা জানেন যে মহিষের পালে সিংহ হামলা করতে সাহস পায় না যে একটা পানি খেতে আলাদা হয় তখনই আক্রমণটা করে বসে আমরা মানুষরা কিন্তু তাই এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সলামের দেওয়া এক্সাম্পল উদাহরণ মুমিন যতক্ষণ পর্যন্ত একত্রে থাকে ততক্ষণ শয়তান কিন্তু এটাক করে আরাম পায় না। আর যখন তারা আলাদা আলাদা থাকে বিচ্ছিন্ন বিচ্ছিন্ন তখনই তাদের উপরে মুসিবত নেমে আসে। শয়তান খুব সহজেই একজনের সাথে আরেকজনের লাগায়।



আমাদের দেশে কি হচ্ছে এসব? যারা রাজনীতি করে তারাও দেখি একজন আরেকজনরে এমনভাবে ঘায়েল করতে চায় মনে হয় যেন কাফের আর মুসলমানের যুদ্ধ লাগছে। দুই ভাই দুই রাজনৈতিক দল করে। তাতে হইছে তাই একজনের ডুবাইতে হবে নাকি? জেলে পৌছাইতে হবে। ঠ্যাং মানতে হবে। মামলার পর মামলা দিতে হবে। তাহলে আপনি মুসলমান কেমনে হইছেন? মুসলমান তো আগে। রাজনীতি হল পরে। রাজনীতি হবে জনগণের সেবার জন্য। জনগণের খেদমতের জন্য। কিন্তু আপনার প্রতিপক্ষ আপনার একটা ভুল ধরেছে বলেছে। তাই আপনি কি করলেন? তাকে একেবারে জেলে পচায়ে মারবেন। এটা মুসলমানের কাজ না। ধর্মীয় ক্ষেত্রেও তাই আমরা খালি একজনের দোষ ধরে আলাদা আলাদা থাকতে চাই। কিন্তু না এটা তো ঠিক না। দোষ থাকবেই। তারপরে সবাইকে একত্রে রাখতে হবে। এবং আমরা মনে করি আমি তো ভালো দন পেয়েছি। সহি আকিদা পেয়েছি আমি আমার মত চলি না তাও চলবে না সৌদি আরব তো একসময় কবিলাগুলো আলাদা ছিল গোষ্ঠীগুলো বছরের পর যুদ্ধ হয়েছে কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা রাষ্ট্রের মাধ্যমে সবাইকে যখন একত্র করলেন কবিলা ভিত্তিক যুদ্ধ থেমে গেল আউসার খাজরাজ তাদের এই এক শহরে যুদ্ধ ছিল বছরের পর বছর থেমে গেল তারা ভাই ভাই হয়ে গেল সূরা আল ইমরানে আপনারা কিন্তু এগুলা পড়েন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সেখানে বলছেন আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিমল্লাহ এর আগে বলেছেন মুমিনরা আল্লাহকে ভয় করার মত ভয় করো। আর তোমরা মুসলমান না হয়ে কেউ মৃত্যুবরণ করো না। তো মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করবো না। আমি তো জানি না আমার কবে মৃত্যু হবে। যদি জানতাম কালকে ১১ টায় মারা যাব। তাহলে ১০টার মধ্যে মুসলমান হয়ে যেতে পারতাম। এই সুযোগই তো নাই। এক সেকেন্ড পরে আমি বাঁচবো কিনা আমি এটাই তো জানি না। তার মানে সবসময় আমাকে মুসলমান থাকতে হবে। কিন্তু মুসলমান থাকারও তো একটা সামাজিক সিস্টেম আছে। সেটা কি আলাদা আলাদা থাকার কোন সুযোগ নাই?



এবং শুধু নবী সাল্লাল্লাহু সলামকে মানা ছাড়া অন্য কাউকে মানারও সুযোগ নাই। একটা উদাহরণ দেখাইতে পারবেন যে ধর্মীয় ক্ষেত্রে সাহাবীরা নবী কাছে গেছে। আর ব্যবসা শিখার জন্য আবু জেহেলের কাছে গেছে। এরকম একটা উদাহরণ পাওয়া যায়। এমনকি নর খেজুর গাছ আর নারী খেজুর গাছ এই দুইটা একত্রে বাধবে কিনা পাতা বাধলে ফলন বেশি আসে কিনা এইটার পরামর্শ জন্য তারা রাসমের কাছে গিয়েছে তাহলে রাস তারা সবদিক থেকেই তাদের মুরুব্বি বা দায়িত্বশীল বা লিডার সবকিছু মেনেছে আমরা কি করি আমরা অর্থনীতির জন্য সুদের অর্থনীতি যে চালু করেছে তার কাছে যাই ব্যাংক কিভাবে চালাতে হবে সেটা যাই সুদম মুক্ত অর্থনীতির জন্য কোরআনের কাছে আসি না হাদিসের কাছেও আসি না মসজিদ মাদ্রাসা ব্যাপক দান খরাত করি কিন্তু নিজেই সুধী ব্যাংকের মালিক এটা কি করে সম্ভব হয়। আমি কত নামাজ পড়ি মসজিদ মসজিদ মাদ্রাসার কমিটির আমি সভাপতি কিন্তু আমি রাজনৈতিক জীবনে দেখা যায় এমন এমন কাজ করি যে এক মুসলমানের ক্ষতি করি অথচ মুসলমান আল্লাহ রাব্বুল আলামন বলছেন কিনা মমিন ভাই ভাই ভাই ভাই কাকে বলে? ভাই মারামারি লাগলে বোঝা যায় এক ভাই যখন মার খায় আরেক ভাই কেমন করে কেমন ছটফট করে। তো এই ভাই ভাই সম্পর্ক সব ভাইও বলা হয় নাই। খালাতো ভাই বলা হয় নাই। ভাই তাহলে একজন একজনের ক্ষতি আমরা কিভাবে করি? এগুলো বাদ দিয়ে মুসলিম সমাজকে একত্র করতে হবে। সবাইকে একত্রে রাখতে হবে। সমাজে লিডারশিপ থাকবে। মুরুব্বিরা থাকবেন সে মুরুব্বিদের নির্দেশ অনুসারে সবাই যে সবাই শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে চলবে মসজিদ কমিটি থাকবে মাদ্রাসা কমিটি থাকবে কিন্তু আমরা অনেকেই যেটা করি এমন ঝগড়া বিবাদ লাগিয়ে দেই যে আমাকে সভাপতি না বানাইলে আমি আরেকটা মসজিদ বানা ফেলি আরেকটা মাদ্রাসা বানায় ফেলি আরেকটা কবরস্থান বানা ফেলি এটা কি রাসূুল্লাহ সাল্লাম কি বলেছেন যখন আপনাদের আমাদের কোন নেতা নির্বাচিত হবে তাকে যেমন পছন্দ নাও হয় তার চেহারা সুন্দর না হাবসী ওইযে কৃষ্ণাঙ্গ ওই চেহারা দেখতে ভালো লাগে না মাথাটা কেমন ছোট চোখটাও সুন্দর না ঠোটটাও সুন্দর না তবু কি বলছেন তার আনুগত্য করতে হবে যদি আমরা এই একটা সিস্টেম মানতাম সমাজে এত ঝগড়া বিবাদ লাগতো না সম্মানিত ভাইয়েরা আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করতে চাই যেটা যে সূরা আল ইমরানের ১০২ থেকে ১১০ নাম্বার আয়াতগুলো একবার ভালো করে পড়েন। সেটা পড়লেই বুঝবেন মুসলমানদের আলাদা আলাদা থাকার কোন সুযোগ তাদেরকে একক নেতৃত্বের মধ্যে থাকতে হবে।



ঝগড়া করতো সুযোগই নাই। করা যাবে না। আমরা এইযে বাংলাদেশ জমিয়ত এলেন্স আপনাদের কাছে আসি। কেন? আমরা মেম্বার হব না, চেয়ারম্যান হব না, এমপি আমরা আসি যে মুসলিম সমাজে যেন সবাই একত্রে থাকি। এবং আমরা বলি আমরা যে সঠিক আকিদা বা সালাফি মানহাজ পেয়েছি এইটা হল আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য কেন বড় সাফল্য আপনি মনে করেন তাল গাছ বেউ উপরে উঠলেন অনেক কষ্ট করে গিয়ে দেখলেন যে তালটা পাড়ার জন্য গেছেন তালটাই পচা তখন মনে হবে যে আল্লাহ এত কষ্ট করে উঠলাম রেজাল্ট তো জিরো তো আমরা মনে করেন মানুষ হয়েছি সম্মানিত আমরা মুসলিম হয়েছি আরো সম্মানিত আমরা উম্মতে মোহাম্মদী হছি তাও সম্মানিত। উম্মতে মোহাম্মদী হওয়ার পরে যদি মাজার পূজারী হইতাম তাহলে এতক্ষণ যা করেছি সবার রেজাল্ট এসে যেত জিরো। এখন যে সালাফি মানাজ পেয়েছেন, সঠিক আকিদা পেয়েছেন, আহলুল হাদিস হয়েছেন, এখন আপনি কিন্তু ফাইনাল স্টেজে আছেন যে একবার কমপ্লিট একটা স্টেজে পৌঁছে গেছে। কিন্তু এইটাকে আরেকটু উদারভাবে মানুষের কাছে প্রচার করতে হবে। আহলে হাদিস হওয়া মানে অন্যের সাথে ঝগড়া করা নয়। অন্যকে ফতোয়া দেওয়া নয়। বরং তাদেরকে ভাইয়ের মত করে বুঝাইয়া কাছে টানতে হবে। সবাই তাও না কিন্তু আমার চেষ্টা আপনার চেষ্টা করতে হবে আল্লাহ রাব্বুল আলামন কি বলেছেন আউজুবিল্লাহ ডাকো তোমার রবের পথের দিকে মানে দন ইসলামের দিকে ডাকতে সহকারে ডাক সুন্দর করে কথা বলে ডাক তর্কবিতর্ক হয়ে যায় সেটা সুন্দর করো যাতে ঝগড়া বিবাদ বা অশান্তি সৃষ্টি না হয়। আমাদেরকে এই পদ্ধতিতে মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে হবে দ্বীনের দাওয়াত। না হলে তারা ভুল বসত যদি জাহান্নামে চলে যায় তাহলে আমাদেরও তো কিছু দায় দায়িত্ব থাকে আর তারা যদি দ্বীনের পথে এসে যায় তারা এবং তাদের দাওয়াতে যারাই আসবে তাদের সকল সওয়াব কিন্তু আমাদের আমলনামায়ও বোনাস হিসেবে আমরা পাবো ইনশাআল্লাহ।



আমি বাংলাদেশ জমিয়েত আহলে হাদিসের সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে আপনাদের খাদেম সাথে অনুরোধ করে যাই যে আমরা দেশব্যাপী মসজিদ ভিত্তিক দাওয়াতি কাজ তালিম ও তারবিয়া মাতাবুদ দাওয়া এরা সৌদি আরবে হয় তারই মত করে আমরা কিছু প্রোগ্রাম নিয়েছি সেটা এ মাসেই বিভিন্ন জেলায় শুরু হচ্ছে ইনশাআল্লাহ আপনারা সহযোগিতা করবেন আপনাদের আশেপাশে অনেক মসজিদ আছে ইনকমপ্লিট এই মসজিদগুলোতে আপনারা দান খয়রাত করবেন যেন কমপ্লিট হয়। আর যেখানেই মসজিদ সেখানে ছোট আকারে হলে একটা মাদ্রাসা করবেন। কারণ আরবি জ্ঞান যদি না থাকে তাহলে কিন্তু দন ভেতরে প্রবেশ করাটা কঠিন। শুনে শুনে শেখা আর নিজে নিজে পড়ে শেখা দুইটার অনেক তফাত আছে। এই কাজগুলো আমাদের করতে হবে। আমরা যদি ঢাকায় বা সাবারে কোন মিটিং করি দাওয়াত যখনই শুনবেন যাবেন ইনশাআল্লাহ। আর আমাদের কোন দোষ ত্রুটি দেখলে সেটা আপনারা বলবেন। আমরাও দোয়া করি আপনারা যেরকম সুন্দর আবাদ করেছেন সৌদি আরব থেকে এসে এই প্রথম এসে এখন দেখছি অনেক মসজিদ হয়ে গেছে। কিন্তু আগে এমনটি ছিল না। আল্লাহ আপনাদেরকে বারাকা দান করেছেন। আপনার এই বারাকাটাকে আরো ছড়িয়ে দিবেন ইনশল্লাহ। প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায়, প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে এবং উদার দিল নিয়ে মহব্বতের সাথে মানুষকে ডাকবেন। ঝগড়াবায়ে নয়, ঝগড়া করতে এসলেও বলবেন যে আমি ঝগড়া করতে চাই না। আল্লাহ আপনাকে ভালো রাখুন। আল্লাহ আপনাকে হেদায়েত করুন। সুন্দর কথা বলে সমাধান করে আমাদের যে সালাফী, মানহাজের দাওয়াত, কোরআন সুন্নাহের দাওয়াত এরা সব জায়গায় ছড়িয়ে দিবেন। আপনাদের কাছে এটাই আমাদের আহবান। আমাদের বই পুস্তকগুলো আনবেন। সাপ্তাহিক আরাফাত, মাসিক তরজমানুল হাদিস এগুলা মসজিদে মসজিদে রাখবেন। বাড়িতে বাড়িতে রাখবেন। নিজে পড়বেন। অন্যকে পড়তে দেবেন। ছেলেমেয়েদের পড়াবেন। ছেলেমেয়েদের বলবেন তোমরা পড় আমরা শুনি। এইভাবে তাদেরকে অভ্যাস করাইবেন। রিডিং হ্যাবিটটা খুব দরকার। বই পড়ানো অভ্যাস না করলে মোবাইলে আসক্তি হয়ে যাচ্ছে। মোবাইলে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। মদে আসক্ত হচ্ছে একদল আর একদল হয়ে যাচ্ছে মোবাইলে আসক্ত এখান থেকে টানতে হলে বের করতে হলে তাদেরকে পাঠক বানাইতে হবে আল্লাহ আমাদেরকে তার দ্বীনের পথে চলার তৌফিক দান করুন। সবসময় হকের পথে চলার তৌফিক দান করুন। আমাদের হৃদয়গুলোকে ভালোবাসায় ভরে দিন যাতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দীনের পথে থাকতে পারি বারাকাল্লাহ।



আলহামদুলিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহি নাহমাদুহুসনহতাফা আলাইউজুবিল্লাহিনা সনা মাইয়াদিল্লাহু ফালা মুদিল্লালাল ফালা হাদিয়ালা আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহ ও আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ। আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়ালা আলি মুহাম্মাদ কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহিম ওয়ালা আলি ইব্রাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদ ওয়ালা আলি মুহাম্মদ কামা বারকতা আলা ইব্রাহিম ওয়ালা আলি ইব্রাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ রব্বানা লামনা আনফুসানা ও ইল্লা তাফিরলানা ওতারহামনা রব্বানাদুনিয়া হাসানা হাসানা বাতানামিললাহ ইন্নাকাত পরদি আলম আমরা অনেকেই অসুস্থ আছি। ঠান্ডা জ্বর, সর্দি সহ নানান রকম অসুবিধা। বার্ধক্যজনিত অনেক অসুখ। রাব্বুল আলামীন তুমি আমাদেরকে সুস্থতা দান করো। আমরা যেন সুস্থ থেকে তোমার ইবাদত ঠিকমত আদায় করতে পারি সেই তৌফিক দান করো। রাব্বুল আলামীন। অনেকের মা বাবা, দাদা-দাদী, আত্মীয়স্বজন কবরে শুয়ে আছে। অনেকের কলেজে কলিজার টুকরারাও শুয়ে আছে। আল্লাহ তাদেরকে তুমি ভালো রেখো। কবরে আজাব থেকে তাদেরকে মুক্ত রাখো। আর হাশরের দিনে তুমি আমাদেরকে হিসাবা ইয়াসিরা সহজ হিসাব নিয়ে তার মানে ক্ষমা করে দিয়ে আমাদেরকে তাদেরকে সহ জান্নাতুল ফেরদাউসে যাওয়ার তৌফিক দান কর। রাব্বুল আলামন কঠিন হাশরের দিনে তুমি আমাদেরককে হাউজে কাউসারের পানি পান করার। আর রাসূ সলা শাফায়াত লাভের জন্য তৌফিক দান করো। আলান অনেকেই অসচ্ছলতায় ভুগছে। দ্রব্যমূল্যের এই সময়ে কষ্ট পাচ্ছে। রাব্বুল আলামীন তুমি তাদের সচ্ছলতা দান করো। রাব্বুল আলামন অনেকেই প্রবাসে আছে এবং প্রবাস থেকে দেশের জন্য তারা ফ্যামিলির জন্য যেমন টাকা পাঠায় আবার মসজিদ মাদ্রাসার জন্যও টাকা পাঠায়। তুমি তাদের হালাল রুজিতে বারাকা দান করো। তাদের ঈমানে জজবা আরো বৃদ্ধি করে দাও। আমিন।



রাব্বুল আলামিন আমাদের পাশে মুসলিমরা নির্যাতিত হচ্ছে। আল্লাহ তুমি তাদের হেফাজত করো। আমিন। আল্লাহ মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিনের ভাইয়েরা বহু নবীর আবাসস্থল ওই জায়গায় তারা আজকে উচ্ছেদ হয়েছে বিপদে আছে। তুমি তাদের হেফাজত করো। আল্লাহ মুসলিম দেশগুলোর উপরে পরাশক্তিগুলো যেভাবে তাদের হাবা বিস্তার করেছে সেখান থেকে তুমি আমাদের হেফাজত করো। আমিন। রাব্বুল আলামিন আমাদের যারা পড়ালেখা করছে তাদের এলেমে বারাকা দান করো। আমিন। আমরা যে বয়সেই থাকি না কেন তোমার তোমার দ্বীনি এলেম অর্জন করার জন্য আমাদের তৌফিক দান করো। আমাদের নিজেদের সময় থেকে সময় বের করে তোমার দ্বীনের জন্য প্রতিদিন কিছু কিছু সময় তোমার পথে ব্যয় করার তৌফিক দান করো। রব্বুল আলামীন আমাদের দেশটাকে তুমি স্থির রাখো। সুস্থির রাখো। দেশটাকে সমৃদ্ধ করো। দেশটায় যাতে কোরআন সুন্নাহর বিধি বিধান কায়েম করা যায় সেই ব্যবস্থা করে দাও। যারা ক্ষমতায় আছে বিভিন্ন দায়িত্বে আছে তাদেরকে যোগ্যতার সাথে সততার সাথে তোমাদের তোমার খোলাফায়ে রাশেদীনরা যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছে সেরকম ইখলাস নিয়ে দায়িত্ব পালন করার তৌফিক দান কর। আল্লাহ দেশীয় শত্রু বহিশত্রুর হাত থেকে তুমি আমাদের হেফাজত কর। মুসলিমিন।