লোড করা হচ্ছে ...

খুতবার বিষয়: হজ্জ ও কুরবানীর শিক্ষা আমরা পরবর্তী জীবনে কীভাবে ধরে রাখতে পারি?

হজ্জ ও কুরবানীর শিক্ষা আমরা পরবর্তী জীবনে কীভাবে ধরে রাখতে পারি?



আমরা আল্লাহর অশেষ রহমত মিন্নাহ এবং তৌফিককে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ দিনগুলো অতিক্রম করে আসলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষ্য অনুযায়ী দুনিয়ার সবচেয়ে উত্তম দিন হচ্ছে জিলহজ্ মাসের প্রথম ১০ দিন এবং সবচেয়ে উত্তম দিনটি হলো ইয়ামুন্ নাহার কুরবানির দিন। অন্যতম আরেকটি শ্রেষ্ঠ দিন হচ্ছে ইয়ামু আরাফা। যেদিন আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন। আরাফাত দিন ছাড়া এত বেশি মানুষকে তিনি জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন না। অতএব সেই বিশেষ দিনগুলো আমরা পার হয়ে এসেছি। প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের বাকি দিনগুলো কিভাবে চলবে? আমাদের এই দিনগুলো কোন সন্দেহ নেই। আমরা প্রত্যেকেই চেষ্টা করেছিলাম সবচেয়ে ভালো কাজের মাধ্যমে যাতে এগুলো আমরা কাটাতে পারি।

                                                           

যেহেতু আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ইবাদতের একটা অন্যতম মৌসুম হিসাবে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনকে নির্ধারণ করে দিয়েছেন এবং এর মধ্যে যারা হজে গিয়েছেন হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে এই দিনগুলোতে এবং আইয়ামু তাশরিকের মধ্যেও আল্লাহ সুবহানাতায়ালা অনেকগুলো আমল তিনি রেখে দিয়েছেন যার মধ্যে আল্লাহর জিকির আল্লাহকে স্মরণ করা এবং আল্লাহর ইবাদত করা অন্যতম হজের বেশ কিছু কাজ তাশরিকের মধ্যেও সম্পাদন করতে হয়। তাহলে এই যে এবাদতের একটা ভরা মৌসম আল্লাহ সুবহানাতালা আমাদেরকে দিলেন আমরা স্বাভাবিকভাবেই আশা করি যে প্রত্যেকে কাজে লাগিয়েছেন। কিন্তু প্রত্যেকে নিজেকে প্রশ্ন করুন।

                                                           

আপনি কি আসলে সত্যিই কাজে লাগাতে পেরেছেন? এই যে বিশাল মানে বিশাল বড় বোনাস নেওয়ার আল্লাহ সুবহানাতালার পক্ষ থেকে বা তার কাছ থেকে ইবাদতের মাধ্যমে নিজের পাপগুলোকে ক্ষমা করিয়ে নেওয়ার যে বিশাল সুযোগটা ছিল সেই সুযোগটা আমরা গ্রহণ করেছি কিনা এখানে প্রত্যেকটা কাজের মধ্য দিয়েই কিন্তু পাপমুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম সে সুসংবাদ তো আমাদেরকে আসলে দিয়েছেন দুঃখ হচ্ছে অনেকে হয়তো এগুলো জানেই না করেইনি না ফলে এই সুযোগটা অনেকের মিস হয়ে গেছে কোন সন্দেহ নাই যেটা অতীতে মিস হয়েছে সেটা সামনে যেন মিস না হয় তাহলে সেজন্য আমাদের প্রস্তুতি নেয়া দরকার আমাদের পাঁচ ওয়াক্ত সালাত মাঝখানের পাপগুলোকে ক্ষমা করে দেয় ক্ষমার কারণ হয়ে দাঁড়ায় আমাদের এই যে আজকের জুমা জুমার সালাত আমরা পড়ছি এক জুমা থেকে আরেক জুমা মাঝখানের পাপগুলো ক্ষমার কারণ হয়ে দাঁড়ায় ক্ষমা ক্ষমা করে দেয় মুকাফেরাত হয়ে যায় পাপগুলো আর কাফফারা হয়ে যায় এক রামাদান থেকে আরেক রামাদান এক ওমরা থেকে আরেক ওমরা এবং এই যে ১০ দিনের অন্যতম একটা বড় কাজ হচ্ছে হজ হজ সম্পর্কেও নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন যে ব্যক্তি হজ করল এবং হজের পরে হজের মধ্যে সে কোন ধরনের পাপাচার কিংবা অশ্লীলতায় লিপ্ত হলো না।

                                                           

তাহলে সে একজন নবজাতক যাকে তার মা এইমাত্র প্রসব করেছে সেরকম নিষ্পাপ হয়ে সে ফিরে আসলো। সুবহানাল্লাহ। তাহলে ইবাদতের ভরা মৌসমে প্রত্যেক ইবাদতের মধ্য দিয়েই আমাদের কলুষ মুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে। পাপ মুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু আপনাকে অবশ্যই সেই পাপ মুক্তির নিয়ত করতে হবে। আপনার একটা চিন্তা ভাবনা থাকবে। আপনার একটা নেক নিয়ত থাকবে যে আল্লাহ আমার ইবাদতগুলোর মধ্য দিয়ে আমি পাপমুক্ত হতে চাই। অতএব আমাকে তুমি আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও অতীতে যত ভুল করেছি সে ভুলগুলো তুমি নাই করে দাও এবং সেই সিস্টেম তো আল্লাহই তৈরি করে দিয়েছেন ফলে এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে একজন মানুষ সে আবার নতুন করে নিষ্পাপ মানুষ হিসেবে আল্লাহর কাছে সমাদৃত হতে পারে একটা সুন্দর মৌসুম গেল যেখানে ছিল হজের মত ইসলামের পঞ্চম একটি রোকন একটা গুরুত্বপূর্ণ রকম যেটি মুসলিম জীবনে মাত্র একবার মানুষ আদায় করে।

                                                           

ফরজ হজ কয়বার আদায় করে? একবার। হজ মানুষ অনেকবারই আদায় করতে পারে। কিন্তু ফরজ হজ একবার। ফলে সে ফরজ হজের মধ্য দিয়ে কাঙ্খিত ফলাফল অর্জন করা। এটা বুদ্ধিমানের কাজ। প্রত্যেক হজের মধ্য দিয়েই নিষ্পাপ হওয়া যায়। কিন্তু ফরজ হজের মর্যাদা অনেক বেশি। ফলে এই যে একটা মৌসুম আমরা পার করলাম হজের মৌসুম এবং তার সাথে ছিল ইয়ামুন নাহাব। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দিন। শ্রেষ্ঠ দিন কারণে এদিন কুরবানী করা হয়। কোরবানি আল্লাহর খুবই পছন্দের একটা আমল। এবং এজন্যই কুরবানি সালাত ইবাদত এগুলো আল্লাহর জন্যই নিবেদন করতে হয়। সালাতিমাত লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। ফলে এই যে দুটো মৌসুম আমরা পার করলাম এর মধ্যে অনেক লেসন ছিল আমাদের জন্য।

                                                           

অনেক শিক্ষা ছিল, অনেক প্রোগ্রাম ছিল এবং ভালো মানুষ হয়ে যাওয়ার একটা মহা সুযোগ ছিল। সে সুযোগটা এখনো নষ্ট হয় নাই। কারণ এই যে কোরবানি পরবর্তী জীবন, হজ পরবর্তী জীবন। এই জীবনটা আমি কিভাবে কাটাচ্ছি? এই জীবনে আমার রোলটা কি? এবং আগে যে আমি পবিত্র মানুষে পরিণত হলাম পাপমুক্ত মানুষে পরিণত হলাম তাহলে নতুন করে এই জীবনের শুরুটা আমি কিভাবে করলাম এটা খুব ইম্পর্টেন্ট এটা দেখেই বোঝা যাবে যে আপনি কোরবানির শিক্ষা আপনার জীবনে বাস্তবায়ন করছেন কিনা আপনি হজের শিক্ষা আপনার জীবনে বাস্তবায়ন করছেন কিনা আপনার পরবর্তী জীবনের সকল কার্যক্রম চিন্তাভাবনা আপনার অক্টিভিটিজ আপনার দৈনন্দিন জীবনযাপন পদ্ধতি এগুলো দ্বারা প্রমাণিত হবে শিক্ষা থেকে আমরা কতটা ফলাফল অর্জন করলাম এবং কতটা অর্জন করতে পারিনি।

                                                           

সম্মানিত উপস্থিতি আমরা হজের মধ্যে নানা ধরনের শিক্ষা অর্জন করেছিলাম। খুব সংক্ষেপে আমি বলে যাই হজ পরবর্তী এই জীবনে আমাদের সেগুলোকে ধরে রাখতে হবে। হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা কি? শিক্ষাটা হচ্ছে একামতু তাওহীদ আল্লাহর যে একত্ববাদ তার রুবুবিয়াতের ক্ষেত্রে তার উলুহিয়াতের ক্ষেত্রে তার সুন্দর সুন্দর নাম এবং মহান গুণাবলীর ক্ষেত্রে যে একত্ববাদের ঘোষণা আমরা সকলে দিয়েছি এবং গোটা মানবজাতি দিয়েছে সে তৌহিদটাকে ধারণ করা এবং সেটাকে আমাদের চিন্তা চেতনায় আমলে সর্বত্র এস্টাবলিশ করা কোথাও যেন এমন কোন কথা আমরা না বলি কোথাও যেন এমন কোন কাজ আমরা না করি, এমন কোন আচরণ আমরা না করি যেটা তাওহীদের সাথে সাংঘর্ষিক হয়।

                                                           

তাহলেই বোঝা গেল আপনি তাওহীদকে মেনে নিয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠিত করছেন। যখনই আপনার কথা কাজে অথবা যে কোন ক্টিভিটিজ এর মধ্যে তৌহীদ বিরোধী কোন কিছু প্রকাশ পাবে তার মানে হচ্ছে তৌহীদকে আপনি গ্রহণ করেননি। আপনি তৌহীদ বিরোধী অবস্থানে আছেন একজন মুসলিমের পক্ষে এটা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয় যে তিনি তৌহীদকে গ্রহণ করলেন না এবং তিনি তৌহীদ বিরোধী অবস্থানে আছেন। বরং তার ইসলামই টিকবে না। যদি কোন ব্যক্তি এই ধরনের ডিলেমার মধ্যে পড়ে যান। তাওহীদ আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ঈমানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এবং মুসলিম জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আকিদা ঈমান এবং কাজ আমল। এজন্য গোটা হজ জুড়ে শুধু তাওহীদের ঘোষণা বারবার তাওহীদের ঘোষণা অনুরোধিত হয়েছিল।

                                                           

সে মক্কার প্রতিটা প্রান্তরে মিনায় মুজদালিফায় আরাফাতে হাজীরা তৌহীদের ধ্বনি দিয়ে মুখরিত করে রেখেছিল সেই দিনগুলো। লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক ইন্নাল হামদামাতা লাকাল মুলক লা শারিকালাক প্রতিটা জায়গায় জায়গায় তাওহীদের বাণী কালিমাতু তৌহীদের বাণী উচ্চারিত হয়েছিল প্রত্যেক ইন্ডিভিজুয়াল হাজী সেই বাণী উচ্চারণ করেছেন ঘোষণা দিয়েছেন সেই পবিত্র কাবার প্রান্তরে মসজিদুল হারামে হারামের সীমানায় লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহ লা শারিকালাহ লাহুল মুলক ওলাহুল হাহামদহু আলা কুল্লিশাইন কাদির যেটা আমরা আমাদের সকাল সন্ধ্যার আজকারের মধ্যেও বারবার পড়ি। যেটা আমরা আমাদের প্রত্যেক ফরজ সালাতের পরে আল আজকার আকিবা সালাওয়াত সালাত পরবর্তী যে আজকার গুলো আছে সেখানেও আমরা পড়ি। তৌহীদের ঘোষণা একটা অমুক ঘোষণা।

                                                           

প্রতিনিয়ত প্রত্যেক মুসলিমকে এই ঘোষণা দিতে হয় এবং সেইজন্যেই ফরজ সালাতের পরেও এই দোয়াটা আছে। সকাল সন্ধ্যার আজকারের মধ্যে এ দোয়াটা আছে। আপনি যখন সতে যাবেন এই দোয়াটা আছে। বরং আরাফার দিনের সবচেয়ে আফদ নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম ঘোষণা করেছেন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহুল মুলকলাহু আলাই কাদির। সম্মানিত উপস্থিতি তাওহীদকে সঠিকভাবে ধারণ করার দায়িত্ব আপনার নিজের। তাওহীদ কোন কনসেপ্ট নয়। এটা কোন অস্তিত্বশীল জিনিস নয় যেটা পকেটে রাখবেন। এটা জ্ঞানগত একটা বিষয়। তৌহীদের জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তৌহীদের যে অমগ ঘোষণাগুলো আল্লাহ সুবহাতালা দিয়েছেন সে আয়াতগুলো আপনাকে পড়ে নিতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম তৌহীদ নিয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন সেগুলো আপনাকে আত্মস্থ করতে হবে।

                                                           

সহীহ বুখারীর সর্বশেষ যে কিতাব কিতাবুত তাওহীদ আপনাকে পড়ে দেখতে হবে এবং সেগুলোকে ধারণ করতে হবে। এভাবেই একজন মুসলিম তাওহীদকে তার নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারে এবং তার জীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। কিন্তু জ্ঞানগত এই প্রস্তুতি, জ্ঞানগত এই তথ্য ভান্ডার যদি আপনি ধারণ করতে না পারেন তাহলে আপনার অজান্তেই আপনি তাওহীদ বিরোধী অবস্থানে কিন্তু চলে যাবেন। ফলত আপনি হজের শিক্ষাকে ধরে রাখতে পারবেন না। আপনি কোরবানির শিক্ষাকে ধরে রাখতে পারবেন না।

                                                           

আপনি ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ পয়েন্টটাকে আপনি মিস করে ফেলতে পারেন এবং সেটাই আমরা আজকে অনেক মুসলিমের জীবনে দেখতে পাচ্ছি যারা আসলে আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ করেছে এবং সেখানে তাদের পুরো জীবনটা ব্যয় করে দিয়েছে কিন্তু তৌহিদের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা না বুঝতে পেরেছে না ধারণ করতে পেরেছে না বাস্তবায়ন করতে পেরেছে হজের দ্বিতীয় যে শিক্ষাটা যেটা আমাদেরকে জীবনভর ধরে রাখতে সেটি হচ্ছে আতাকিরবি আখেরাত দিবসের স্মরণ শুধু স্মরণ নয় আখেরাত দিবসকে দৃঢ প্রত্যয়ের সাথে বিশ্বাস বিশ্বাসে রাখা সূরা আল বাকারার শুরুতে আল্লাহ সতালা বলেছেন এই মমিনরা যাদের পরিচয় আল্লাহতালা মুত্তাক হিসেবে দিয়েছেন কি বলেছেন আল্লাহ কিতা এখানে বেশ কয়েকটা ক্রাইটেরিয়া বলা হয়েছে যে তারা গায়েবে বিশ্বাস করে তারা সালাত কায়েম করে তারা আল্লাহর দেয়া রিজিক থেকে তারা আল্লাহর পথে ব্যয় করে তারা আল্লাহর রাসূল সলামের প্রতি যা নাযিল হয়েছে ইতপূর্বে আরো অন্যান্য যে কিতাব নাযিল হয়েছে তার প্রতি ঈমান রাখে আর আখেরাতের প্রতি রাখে দৃঢ় বিশ্বাস।

                                                           

এটা আপনার লাইফলং ঈমান। কিন্তু আপনি এটা বলতে পারেন না যে আমি শেষ জীবনে এসে আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস পোষণ করব। ঈমান আনার সাথে সাথেই আখেরাতের প্রতি ঈমান আমাদের ঈমানের অপরিহার্য একটা রোকন হয়ে দাঁড়ায়। ঈমানের যে ছয়টা রোকন আছে তার মধ্যে আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস অন্যতম। বরং আল্লাহ সুবহানাতালা কোরআনে বারবার তার প্রতি ঈমান এবং আখেরাতের প্রতি ঈমানটাকে বারবার উল্লেখ করেছেন যেন মানুষ আখেরাতকে না ভুলে যায় আখেরাতকে যে ভুলে যায় সে দুনিয়াদার হয়ে পড়ে দুনিয়ার সকল কিছু তখন তার তার কাছে আকাঙ্ক্ষিত হয় কারণ সে আখেরাতকে ভুলে গেছে সে জান্নাতের কথা ভুলে গেছে সে জাহান্নামের ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা ভুলে গেছে ফলে এসব কিছু ভুলে থাকলে তার পক্ষে দুনিয়াতে যেকোনো অন্যায় কখনোই কঠিন নয়।

                                                           

যেকোনো পাপে সম্পৃক্ত হওয়া সহজ হয়ে যায়। যদি আখেরাতকে মানুষ ভুলে যায়। আর আখেরাতের কথা যদি মানুষ মনে রাখে তখন তার এবাদতের কষ্ট আর কষ্ট মনে হয় না। কারণ আপনি ছোট্ট কাজ করবেন আর আপনার রিওয়ার্ড হবে অনেক বড়। আর আপনি ছোট্ট অপরাধ করবেন আপনার শাস্তি হবে অনেক ভয়াবহ। তাই না? একটু পড়ে দেখুন। সত্যকে জানুন। তাহলে। তাহলে হজের অন্যতম আরেকটা শিক্ষা ছিল আখেরাতের কথা মনে রাখা এবং হজের প্রোগ্রামগুলোকে আল্লাহ সুতালা আখেরাতের সাথে মিলিয়ে সেট করেছেন। সাদা কাপড় মানুষ যখন মারা যায় তাকে কোন কাপড় পড়ানো হয়? কফিন। দাফনের সময় তাকে যে কাপড়টা পড়ানো হয় সেটাও এই যে হাজী সাহেবের দুই টুকরো কাপড়ের মতই মনে হয়।

                                                           

লক্ষ লক্ষ জনতা যারা মিনার ময়দানে একসাথ হয়েছেন যারা আরাফার ময়দানে একসাথ হয়েছেন যারা মুজদালিফার ময়দানে একসাথ হয়েছেন মনে হয় যেন তারা কাফন পড়ে প্রস্তুত হয়ে আছে আল্লাহর সান্নিধ্যে যাওয়ার জন্য সুবহানাল্লাহ ইবাদত তো মানুষ এমনভাবেই সম্পাদন করবে যেন তার মনে হয় একটু পরে আমি আল্লাহর সাথে সাক্ষাতে মিলিত হব আল্লাহর কাছে চলে যাব যেতে তো হবেই তাই না আল্লাহর কাছে যেতেই হবে আমি আল্লাহর কাছে যাবো তাহলে আমার প্রস্তুতিটা কেমন জীবনের শেষ সালাত আপনি কিভাবে পড়বেন আপনি যখন জানবেন যে আল্লাহ এই ইবাদত টুকু চান এবং আল্লাহর জন্য আপনি এগুলোকে উৎসর্গ করছেন তার সামনে পেশ করছেন তাহলে আপনার পারফরম্যান্স কি রকম হওয়া উচিত কতটা সুন্দরভাবে এই প্রত্যেকটি ইবাদত পরিপালন করা উচিত তাই না? দেখেন হজের মধ্যে কিন্তু সে মহান শিক্ষাটা আছে।

                                                           

হজের মধ্যে আরাফার ময়দানে একসাথ হওয়া আমাদেরকে হাশরের ময়দানের কথা মনে করিয়ে দেয়। এইভাবেই একজন মানুষ যখন হজ করে তার কাছে আখেরাতের চিত্র বারবার ভেসে ওঠে। কারণ সে আখেরাত নিয়ে পড়াশোনা করেছে। এবং সে নিজেও দেখেছে সবকিছু দেখে যে শিক্ষাটা নিয়েছে এটাকে জাস্ট আপনার কন্টিনিউ করা উচিত। যারা হজে যান নাই হজের শিক্ষাটা তাদের নিতে কোন অসুবিধা নেই। আখেরাতম মুখী শিক্ষা এটা আমাদের মুমিনদের জন্যে মুসলিমদের জন্য অপরিহার্য। আখেরাতের শিক্ষাটাই আমাদেরকে আমাদেরকে সার্বক্ষণিকভাবে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আখেরাতের শিক্ষাটাই আমাদেরকে আল্লাহ আমাদেরকে ইন লং রান।

                                                           

কি জিনিসটা দিবেন? আমাদের বিচার কিভাবে করবেন সে জিনিসটা আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় স্মরণ করিয়ে দেয় নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় ভয়াবহ শাস্তির কথা আপনি যখন পাপ করবেন আপনার কাছে সেই উপলব্ধি আসবে না এই পাপের শাস্তি ভয়াবহ মিথ্যা কথা বলা ঘুষ খাওয়া সুদ খাওয়া অন্যায় করা মানুষের অধিকার ক্ষুন্ন করা প্রতিবেশীকে আঘাত করা নিজেদের কলিগদের মধ্যে জুলুম করা সমাজের মধ্যে বিপর্যয় সৃষ্টি করা অন্যায় করা আপনি যখন ব্যবসায়ী হন ব্যবসায়ের মধ্যে ভেজাল মেশানো মানুষকে মানুষকে মানে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ানো নিজের আপনি যখন ডাক্তার হবেন প্রকৌশলী হবেন সরকারি অফিসার হবেন পুলিশ অফিসার হবেন আর্মি অফিসার হবেন কিংবা কোন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হবেন যখনই কোন অন্যায় করেন আপনার আখিরাতের কথা মনে পড়বে আপনি সাবধান হয়ে যাবেন নিজেকে আপনি পাপমুক্ত রাখবেন অন্যায় মুক্ত রাখবেন এটাই তো আসলে শিক্ষা আমরা এই ইবাদতগুলোকে রিচুয়াল বানিয়ে নিয়েছি করি কিন্তু আসলে শিক্ষাটা গ্রহণ করি না তাহলে এই যে হজ পরবর্তী শিক্ষাটা আমাদের তো কন্টিনিউ হলো না আখেরাতের শিক্ষাটা আমাদের প্রত্যেকের জন্য জরুরি টপ টু বটম এ টু জেড যত ব্যক্তি আছেন আমাদের সবার প্রয়োজন যারা নিজেদেরকে মোমেন বলে মনে করেন মুসলিম বলে মনে করেন তিনি হতে পারেন প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী যেই হন না কেন আখিরাতের কথা তাদের প্রত্যেককেই স্মরণ রাখতে হবে।

                                                           

তা না হলে তিনি তাকওয়ার মধ্যে থাকতে পারবেন না। তাকওয়ার মধ্যে যারা থাকতে চান আখেরাতের বিশ্বাস তাদের জন্য লালন করা, ধারণ করা, পোষণ করা এটা অত্যন্ত জরুরি। তৃতীয় যে বিষয়টা আমরা হজের শিক্ষা পাই যেটা আমাদের ধরে রাখতে হবে সেটি হল নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লামের অনুসরণ। তাকে আমাদের রোল মডেল হিসাবে গ্রহণ করা। তিনি আমাদের তিনি আমাদের রোল মডেল। তিনি আমাদের আদর্শ এমন ঘোষণা তো কোরআনে আল্লাহ বহুবার দিয়েছেন লাকলা রাসল্লাহ হাসানা নিশ্চয় রাসূুল্লাহর মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ হজের মধ্যে এটা আরো প্রকটিত হয় হজের প্রত্যেকটা জায়গায় আপনি রাসূল সাল্লা যেভাবে আদায় করেছেন সেভাবেই করতে হবে এর বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নাই ফলে এই যে বেশ কদিন প্রায় এক মাস ৪০ দিন ৪৫ দিন অনেক হাজী সাহেবরা থাকেন সেখানে তারা মসজিদুল হারামে এক্সক্লুসিভ ইবাদত করার সুযোগ পান তাওয়াফ করেন স করেন এবং তারা আর অন্যান্য যে সকল আমলগুলো করেন ওমরা করেন হজের বিভিন্ন আমলগুলো পালন করেন দেখেন প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে আপনাকে টু দা পয়েন্ট রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামকে অনুসরণ করতে হয় আপনি যদি একটু বিচ্যুত হয়ে যান আপনার আমলটা কিন্তু গ্রহণযোগ্য হবে না আপনাকে যেমন রামিউল জামারাতের ক্ষেত্রে পাথর গুনে গুনে কয়টা? প্রত্যেকটা জামরাতে সাতটা করে পাথর নিক্ষেপ করতে হয়।

                                                           

একসাথে নিক্ষেপ করলেও হবে না। তাইলে কত সূক্ষভাবে আপনাকে আমল করতে হয়। আপনি যদি সাত তারিখে মিনায় থাকেন আর আট তারিখে আরাফায় থাকেন আপনার হজ হবে। আপনাকে আট তারিখে থাকতে হবে কোথায়? মিনায়। ৯ তারিখে থাকতে হবে কোথায়? আরাফাতে। আপনাকে এই যে টাইমিংটা। এটাকেও আপনাকে খুব সূক্ষভাবে মেনটেন করতে হবে। আপনি যদি ১০ তারিখে আরাফায় যান আপনার হজ হবে? হবে না। কেন হবে না? এই প্রশ্নটা একটু ক্ষতিয়ে দেখুন। কেন হবে না? আপনিনয় তারিখে যদি কোরবানি করেন নয় জিলহাজ্ আপনার কোরবানি হবে? হবে না। কেন হবে না? কারণ আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম আমাদের সকল কাজের মধ্যে তিনি আমাদের পথ প্রদর্শক।

                                                           

তিনি আমাদের আদর্শ তিনি আমাদের রোল মডেল। অতএব প্রত্যেকটা কাজে সেটা হোক ইবাদতের কাজ। এমনকি মামালাতের কাজ সেখানেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুসরণ করতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিও সাল্লাম দেখেন আমাদের মলাতের মধ্যে অনেক ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যকে নিষেধ করেছেন। আবার অনেকগুলোকে তিনি জায়েজ করেছেন। তিনি যেগুলোকে জায়েজ করেছেন সেগুলো আমাদের জন্য জায়েজ। যেগুলোকে নিষেধ করেছেন সেগুলো আমাদের জন্য নিষেধ। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি ঘুষের লেনদেনকে হারাম করেছেন। তিনি সুদের লেনদেনকে হারাম করেছেন। তিনি চোরাচালানিকে হারাম করেছেন। তিনি ছিন্তাই করা এবং ডাকাতি করাকে হারাম করেছেন।

                                                           

করেছেন না? তিনি খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে অনেক কিছুকে হারাম করেছেন যেমন শুকর যে জিনিসগুলো আছে তিনি মদকে হারাম করেছেন এভাবে আরো অনেক জিনিস হারাম আছে কিন্তু অধিকাংশই হালাল পৃথিবীর অধিকাংশ জিনিসগুলোই আমাদের মধ্যে আমরা কি আমাদের জীবনের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে কোনটা হালাল আর কোনটা হারাম রাসূল সালাম যেভাবে বলেছেন সেভাবে আমরা কি মেনে চলছি যদি মেনে চলেন তাহলে বুঝতে হবে হজ থেকে আপনারা উপকৃত হয়েছেন কোরবানি থেকে উপকৃত হয়েছেন আর যদি মেনে না চলেন তাহলে বুঝতে হবে এগুলো ছিল ফরস জাস্ট রিচুয়াল হিসেবে আদায় করা হয়েছে কিন্তু এ থেকে কোন শিক্ষা নেওয়া হয় নাই হজের মধ্যে আমরা আরো অনেকগুলো শিক্ষা পাই যেমন ভাতৃত্ববোধ আলহামদুলিল্লাহ বহু আগ থেকে মক্কায় যাওয়ার পরে আজ পর্যন্ত আমি আমার চোখে এখনো দেখি নাই যে হজের মধ্যে মারামারি হতে না আমাদের বাংলাদেশী হাজী না অন্যদেশী হাজী।

                                                           

তার মানে হচ্ছে আপনি আগে থেকে মাইন্ডসেট করে গিয়েছেন যে আপনি হজের মধ্যে মারামারি করবেন না। আপনি হজের মধ্যে খারাপ কাজ করবেন না। যেমনটি আল্লাহ সুবহানাতালা কোরআনে ঘোষণা করেছেন আলহাজ্মা। যেহেতু হজের মধ্যে কোন অশ্লীলতা, কোন পাপাচার এবং কোন ঝগড়াঝাটি নেই। এই যে মাইন্ডসেটটা এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। ফলে হজের মধ্যে এত দেশের মানুষ প্রায় ২০০ দেশের হাজির আছে। পৃথিবীতে ২০০ প্লাস দেশ। তাইলে ২০০ দেশের যে কোন দেশ থেকে মিনিমাম একজন করেও হাজী আছে। তো এত দেশের হাজীদের মধ্যে এত সুন্দর সম্পর্ক। এটা আসলে যদি তারা আগে থেকে মাইন্ডসেট না করতো তাহলে অসম্ভব ব্যাপার ছিল। বাংলাদেশের যেকোন সমাবেশে আপনি দেখেন একটু পরে কেউ না কেউ লেগে যায়।

                                                           

লাগে কিনা বলেন তাই না? এভাবে আমরা দেখি যে ভাতৃত্ববোধ। এই ভাতৃত্ব কি আমরা মক্কায় রেখে আসবো? নাকি মক্কা থেকে বাংলাদেশে আনতে অসুবিধা আছে? ভাতৃত্ববোধ আমরা চাই আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠিত থাকুক। আছে। আলহামদুলিল্লাহ কিন্তু ব্যাপকভাবে একটা দেশের আমাদের একই এথনিক মানুষ সবগুলো একই স্বভাবের একই এলাকার একই রঙের একই ভাষার তাহলে ভাতৃত্ববোধটা আমাদের জাগ্রত রাখতে হবে অনেক কিছু নিয়ে আমাদের এখতেলাফ থাকতে পারে কিন্তু সেটা যেন ঝগড়াঝাটি খুন রাহাজানি হত্যা এগুলোর মধ্যে এগুলো যেন কনভার্ট না করে সেই জিনিসটা আমাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে আমরা হজের মধ্যে সেই শিখেছি সবর। এই যে বাংলাদেশে এখন খুব গরম পড়ছে তাই না? হজের মধ্যে তার থেকে বেশি গরম।

                                                           

৪৮ ডিগ্রি। এ কদিন আগে। আমিও এই হজে ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ। এত প্রচন্ড গরমের মধ্যে মানুষ কিন্তু হাহুতাস করতে দেখি নাই। আলহামদুলিল্লাহ। হজের মধ্যে অনেক কষ্ট। আমরা ১১ তারিখে প্রায় ১৪ কিলোমিটার হাঁটলাম। শুধু পাথর মারতে যাওয়ার। গেলাম আসলাম ১৪ কিলোমিটার। আমাদের মত লক্ষ লক্ষ জনতা তারাও হেটে হেটে কষ্ট করে এ কাজগুলো করেছে। আবার অনেকে মিনা থেকে এসে মক্কায় তাওয়াফের জন্য গিয়েছেন। আবার মিনায় চলে এসেছেন হেঁটে। কারণ গাড়িতে যাওয়াটা অনেক লম্বা টাইম এবং অনেক জায়গায় গাড়ি পাওয়া যায় না। এই যে প্রত্যেকটা জায়গায় সবরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। সবরের চমৎকার ট্রেনিং। এই ট্রেনিংটাও আমাদেরকে কাজে লাগাতে হবে। হজের মধ্যে এভাবে আরো অনেকগুলো শিক্ষা আমাদের আছে।

                                                           

আমি অল্প কিছু বললাম এতটুকু যে যাতে করে আমরা হজের শিক্ষাটাকে ধরে রাখতে পারি। এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ আরেকটা বিষয় আছে। সেটা হচ্ছে হজের ইতিহাসের সাথে অনেক কিছু জড়িত। আপনি সূরাতুস সাফফাতের মধ্যে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এবং ইসমাইল আলাইহিস সালামের সেই কুরবানীর ঘটনাটা পাবেন একদম শুরু থেকেই। এবং আল্লাহ সুবহাতালা ইসমাইল সালামের পরিবর্তে একটা তিনি অন্য একটা ফিদিয়া তিনি দুম্বার তিনি আয়োজন করে সেখানে কুরবানির ব্যবস্থা করে দিলেন। ইসমাইল আলাইহিস সালামকে বাইহাকের বর্ণনা এবং আরো অন্যান্য বর্ণনা এসেছে। শয়তান বারবার ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। যাতে আল্লাহর পথ থেকে একটু হলেও বিচ্যুত করা যায়। কিন্তু শয়তান তাদেরকে না ইব্রাহিম আলাই সালাম না ইসমাইল আলা সালামকে কোনরকম ধোকা দিতে পেরেছে।

                                                           

কোরআন কিন্তু বারবার বলে দিয়েছে যে এই শয়তান আমাদের অত্যন্ত ভয়াবহ শত্রু। আজও শয়তান কিন্তু একটিভ। সূরাতুল আরাফের মধ্যে শুরু থেকে পড়েন যে শয়তান কিভাবে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছে শপথ করে সে অঙ্গীকার করেছিল যে সে মানবজাতিকে সামনে থেকে পিছন থেকে সবদিক থেকে ধোঁকা দিবে কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে এই নির্দেশ এসেছে যে না সবাইকে তুমি ধোঁকা দিতে পারবে না যারা মুত্তাকি যারা আল্লাহর পথে চলে যারা আল্লাহ এবং রাসূলের নির্দেশ মেনে চলে তাদেরকে শয়তান কখনোই ধোঁকা দিতে পারবেনা কিন্তু সে শয়তান তো আজও কার্যকর। বিশ্বব্যাপী শয়তানের থাবা কিন্তু বিস্তৃত রয়েছে। হজের একটা শিক্ষা এটাও যে শয়তানের থাবা থেকে আমাদেরকে মুক্ত রাখতে হবে।

                                                           

কারণ শয়তানের অনুসরণ করলেই আপনি পাপের মধ্যে সম্পৃক্ত হবেন। আর যদি পাপ থেকে মুক্ত থাকতে চান তাহলে শয়তানকে শত্রু হিসেবে কনসিডার করতে হবে। এবং যে কথাটা আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা বারবার কোরআনের মধ্যে বলে দিয়েছেন। বলে দিয়েছেন যারা শয়তানের অনুসরণ করে কিভাবে তারা পথচ্যত হয়। কিভাবে তাদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবষিত হয়। সূরাতুল কাহাফের মধ্যে আল্লাহতালা বলছেন হে রাসূ আপনি বলে দিন য আমি কি তোমাদেরকে জানিয়ে দেব অবহিত করব সেইসব লোকদের সম্পর্কে যাদের আমল আমলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত আলদুনিয়া যাদের সকল প্রচেষ্টা দুনিয়ার জীবনে নষ্ট হয়ে গেছে অথচ তারা মনে করছে যে তারা ভালো কাজ করছে শয়তান আমাদের প্রকাশ্য শত্রু। শয়তানই আমাদের সকল ভালো কাজকে মন্দের দিকে নিয়ে যায়।

                                                           

আমার মনে হয় আমরা একটু ছোট্ট করব কারণ বাইরে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। শয়তানি আমাদের সকল ভালো কাজকেও মন্দ কাজে পরিণত করে। আর আল্লাহ আমাদের মন্দ কাজ থেকে তওবা করলে মন্দ কাজকেও আল্লাহ নেকি হিসেবে কনসিডার করেন। যেমন আপনার যদি রিয়া চলে আসে সালাতের মধ্যে এই সালাতটা কি গ্রহণযোগ্য হবে? কোরবানির মধ্যে যদি আপনি রিয়া প্রদর্শন করেন দেখানোর জন্য কোরবানী করেন এ আমলটা কি কবুল হবে? হজের মধ্যে যদি আপনি আলহাজ হওয়ার জন্য আলহাজ লকবটা লাগানোর জন্য আপনি হজ করেন তাহলে হজটা কি কবুল হবে? হবে না। তাহলে আমাদেরকে মনে রাখতে হবে সকল কাজ আল্লাহর জন্য করতে হবে। শয়তান আমাদের ভালো কাজগুলোকে নষ্ট করার জন্য ফোন দিয়ে করে।

                                                           

আমরা যদি তাদের তার ফাদে পা দেই তখন সাথে সাথে আমাদের কাজগুলো বাতিল হয়ে যায়। শয়তান যারা আহলুল বাতেল তাদের কাছে আসে যারা বাতিলপন্থী ভুল পথে আছে তাদেরকে বলে তোমরা সঠিক পথে আছো যেন তারা কখনো তওবা করে ভালো না হয় শয়তান যারা অহংকারী তাদেরকে আরো অহংকারীর দাম্ভিক করে তোলে যাতে দম্ভ থেকে তারা মুক্ত না হয় যারা রাগান্বিত হয় শয়তান তাদেরকে আরো বেশি রাগান্বিত করে যাতে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে তাদের বিভেদ হয় তালাক হয়ে যায় কিংবা সমাজের মধ্যে দ্বন্দ এবং বিদ্বেষ সৃষ্টি হয় যে বাখিল শয়তান তার কাছে এসে তাকে আরো বেশি কৃপণ বানিয়ে দেয় এবং শয়তান পরবর্তীতে একটা সময় এসে বলে যে তোমরা আমাকে অনুসরণ করে বিচ্যুত হয়েছ আজ আমি তোমাদের থেকে মুক্ত আয়াতটা একটু বলি সূরাতুল হাশরের ১৬ এবং ১৭ নম্বর আয়াত শয়তানের মত যে মানুষকে বলে কুফরি করার যখন মানুষ কুফরি করে আমি তোমার থেকে মুক্ত তুমি কুফরি করেছ এখন কারণ তোমাকে ধোকা দিয়ে আমি বিচ্যুত

                                                           

করেছি কিন্তু আমি তোমার থেকে মুক্ত ইন্নিল্লাহ রাব্বুল আলামন আমি রাব্বুল আলামন আল্লাহকে ভয় পাই আল্লাহ এখানে বলছেন শয়তান এবং তার অনুসারী উভয়ের শেষ পরিণাম হচ্ছে তাদের উভয়কে আল্লাহ সুবহাতালা জাহান্নামে দেবেন কিন্তু জাহান্নামে যাওয়ার আগে শয়তান মানুষকে জানিয়ে দেবে আমি তোমাদেরকে বিচ্যুতির পথে ছেড়ে দিয়েছিলাম কিন্তু আজ আজকে তোমাদের থেকে আমি মুক্ত। আমি সে দায়িত্বটা নিচ্ছি না যে আমি তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছি। তোমাদের থেকে আজকে আমি মুক্ত। প্রিয় ভাইয়েরা আসুন আমরা কোরবানির যে শিক্ষা তাকওয়া হজের যে মূল শিক্ষা তাকওয়া ঈমান এবং সততার সাথে জীবন যাপন করা আমরা সে শিক্ষাটা একটু ধরে রাখি।

                                                           

আমাদের হজ পরবর্তী জীবন কোরবানি পরবর্তী জীবনটাকে আমরা একজন ভালো মানুষের মত আমরা যাপন করি এবং আমরা একটা পবিত্র জীবন গ্রহণ করি আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করেন