লোড করা হচ্ছে ...

খুতবার বিষয়: ৩ মুহররম, ১৪৪৮ হিজরী

৩ মুহররম, ১৪৪৮ হিজরী



আল্লাহ সুবহানাহুতালার শুকরিয়া আদায় করছি যিনি আমাদেরকে তার সাথে ওয়াহি সব যুগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা ইস্যু ছিল এখনো আছে সেটি হল আদান আল্লাহর সাথেও ইনসাফ করার একটা বিষয় আছে এবং নিজের আত্মার সাথে ইনসাফের একটি বিষয় আছে আজকের দুনিয়ার দিকে তাকালে দেখা যায় ইনসাফ শব্দটা ডিকশনারিতে আছে। বাসিত হয়ে গেছে। আদল নিয়ে আমরা একটু কথা বলব। এর সংজ্ঞা আল কোরআনে আদল নিয়ে কি নির্দেশনা রয়েছে? নিজের সাথে কিংবা মানুষের সাথে কিংবা আল্লাহর সৃষ্ট প্রকৃতি জগতের সাথে আদল এবং ইনসাফ বজায় রাখ আদল এটা হল জরের ভিতরে জটা কি আজ জা হচ্ছে অর্থাৎ কোন জিনিসকে যেখানে রাখা উচিত সেখানে না রেখে অন্য জায়গায় রাখা পৃথিবীর যেকোন জিনিস অন্যায় তাহলে আদলটা হল ন্যায় আর জুলুমটা হল অন্যায় জুলুম বললেই আমাদের একটা চিত্র হেসে ওঠে যে কাউকে জোর করে মারছে ধরছে অত্যাচার করছে হত্যা করছে অথবা এমন কিছু কোন সন্দেহ নাই এগুলো জুলম কিন্তু জুলুম আসলে আরো অনেক

                                                           

ব্যাপক শব্দ ব্যাপকতা বোঝা যায় আরবি সংজ্ঞা দ্বারা মাহ যে কোন জিনিস যথাযথ ভাবে না করাটাই হল আপনি আপনার যদি যথাযথভাবে না করেন এটা অনেকেই বলে ইবাদত হচ্ছে আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার আমি করলে করলাম না করলে আপনারা কেন এত কথা বলছেন সালাত আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার রাখা না রাখা এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু আপনি যদি সিয়াম না রাখেন এটা জুলুম হবে। আপনি সালাত না পড়লে এটা জুলুম হবে। এবং এই আপনি নিজের নিজের স্বার্থে সালাত পড়ছেন কিন্তু সালাতটা হাকুল্লাহ। হাক্কুল্লাহ।

                                                           

আইবা সকল ইবাদত হল আল্লাহর হক আপনি যদি ইবাদত পালন না করেন তাহলে আল্লাহর হকের সাথেও জুলুম করলেন নিজের কোরআন শুধু তেলাওয়াতের জন্য বোঝার জন্যও নয় আমলের জন্যও নয় আর চিন্তা গবেষণার জন্য মোটেই না আমাদের মুসলমানদের কি এখন এত সময় আছে এত কাজ অফিস আদালত দেশ সমাজ ব্যবসা বাণিজ্য এত সময় আছে কোরআন পড়ার বুঝার আবার আমল করা কোর নিয়ে গবেষণার আল্লাহ তো ধরছে না শাস্তি দিচ্ছে না তাহলে সমস্যা কোথায় আজকে মনে হয় এ মুসলিম সমাজের অধিকাংশ মানুষের এটাই হচ্ছে বা এত জুলুম এত করাপশন আল্লাহ তো ধরছে না তাহলে সমস্যা কোথায় আমরা প্রত্যেকে আমাদের আখেরাত বাদ দিয়ে আখের গুছিয়ে নিচ্ছি আখেরাত বাদ দিয়ে আখের গুছিয়ে নিচ্ছে।

                                                           

প্রিয় ভাইয়েরা, আপনার এই আখির তো আখিরাত হবে না। আপনার একটা আখিরাত অবশ্যই আছে। যে আখেরের কথা আপনি ভাবছেন এটা অল্প কদিনে শেষ হয়ে যাবে। প্রতিনিয়ত এ সকল মানুষ আমাদের চোখের সামনে মারা যাচ্ছে। মারা যাচ্ছে না? প্রথম ট্রিলিয়ন তাই না? আজকে আমরা আদল নিয়ে কিছু কথা বলবো আল কোরআন এবং আস সুন্নাহর আলোকে যদিও এটা অনেক বড় বিষয় ইসলামে ন্যায় বিচার অনেক বড় বিষয় প্রত্যেকটা জায়গায় তাহলে ইসলাম প্রত্যেকটা জায়গায় আদলেসাব প্রতিষ্ঠার হুকুম দিয়েছে ইন্নাল্লাহ থেকে নিষেধ না করলে আদল প্রতিষ্ঠিত হয় না। আল্লাহ সুবহানাতালা সবসময় পজিটিভ দিয়ে শুরু করেন। এজন্য আদলের নির্দেশ দিয়েছে। সবকিছুর শুরুতে আদলের নির্দেশ দিয়েছেন।

                                                           

আর আদলের সাথে অতপ্রতভাবে জড়িত হচ্ছে এহসান। এহসান। এহসান মানে হচ্ছে আলক। আলকা মানে হচ্ছে কোন জিনিস যথাযথভাবে পারফর্ম করা, সম্পাদন করা। এটা হল বসাব সেটা একটা পদবী এবং তার কিছু জব লিস্ট আছে। ওটা ঠিকমত আপনাকে আদায় করতে হবে। আপনার যদি যোগ্যতা না থাকে আপনি পারবেন। আপনার নিজেরই ওই পদে যাওয়া উচিত হবে না। কারণ আপনি সেখানে বসে আদল এবং ইনসাফ করতে পারবেন না। কারণ কি? কারণ আপনি মুতম নন। আপনার মধ্যে কামের দক্ষতা নাই। ফলে আপনা আপনি আদল ইনসাফ করতে পারবেন না। আদলটা আমি আশা করি আমাদের ডিসকাশনের মধ্য দিয়ে এবং পরবর্তী আলোচনার মধ্য দিয়ে আপনাদের কাছে আরো স্পষ্ট হবে।

                                                           

শুধুমাত্র বাংলায় যে ন্যায়বিচার শব্দটা ইউজ করি আমরা সেটা আদলের কিন্তু পুরো আদলের চালচিত্র ন্যায়বিচার কথা দ্বারা বোঝা যায় না। আমরা আদলের যে সংজ্ঞা দেখি আমাদের ওলামায়ে কেরামের সংজ্ঞায় বলেছেন হুকুমাত আলামাফ কিতাবিল্লাহ কিতাবিল্লাহি সুবহানাহুতালা সুন্নাতে রাসূহি সাল্লাল্লাহু সাল্লাম আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী সকল ক্ষেত্রে ফয়সালা করা অনুযায়ী সকল ক্ষেত্রে ফয়সালা করা। এটা ইসলামী সংজ্ঞা। অমুসলিমরা এটার সাথে দ্বিপদ পোষণ করতেই পারে। কিন্তু আমরা মুসলিমরা করবো না। কারণ আমাদের কা আল কিতাব এবং আসুন্না আল কিতাব এবং আসুন্না যে সংজ্ঞা যে ডেফিনেশন যে ডেসক্রিপশন যে আলোচনা যে ইনসট্রাকশন এবং নির্দেশনা বলে সে সুন্নাহ বিশ্বাস করে না।

                                                           

আবার আরেকদল মানুষ যে অমুসলিম সেতো বলে আমি কোরআনের কোরআনে বিশ্বাস করি না। তাই না? কে কোরআনের উপর সত্য নির্ভর করে না। কে আল্লাহকে বিশ্বাস করলো আর করলো না। তার উপর ভিত্তি করে আল্লাহ। কে রব এবং ইলাহে বিশ্বাস করল আর করলো না। তাতে কিছুই যায় আসে না। এটা মনে রাখতে হবে। একজন মানুষ মধ্যাকাসন শক্তি কি এটা জানেই না। পরে আমি বুঝালাম তাকে ধরেন কথার কথা। সে বলল ভাই আপনার এই কথাটা তো আমি বিশ্বাস করি না। সে মধ্যাকর্ষণ শক্তি বিশ্বাস। মানুষ কত কিছুতে বিশ্বাস করে না। কত সত্যকে আমাদের মধ্যকার কত সত্যকে সে বিশ্বাস করে না। কত মানুষের অস্তিত্বকে বিশ্বাস করে না।

                                                           

কত মানুষের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে সে বিশ্বাস করে না। এর সাথে সত্যের কোন সম্পর্ক নাই। সত্য তার জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। আর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সত্য হচ্ছেন আমাদের রব। আমাদের ইলাহ। এবং তার অবতারিত গ্রন্থ আল কিতাব এবং তার আরেকটা ওহী সুন্নাতু রাসূলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম একজন মুসলিম তার নিজের অস্তিত্বকে যতটা দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করে তার চেয়ে বহুতার সাথে সে আল্লাহর কিতাব এবং সুন্নাহ প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে করা উচিত যদি কারো বিশ্বাসে ঘাটতি থাকে মনে রাখবেন এটা তার তরবিয়াতের ঘাটতি তার এডুকেশন র এুকেটেড সাচ আমি আপনাকে যদি সঠিকভাবে শিক্ষাটা দিতে না পারি তাহলে আপনার ইনটা হবে না আমি আমার সন্তানকে যদি কোরআন সুন্নাহ এই দৃহ প্রত্য এবং জ্ঞানের উপরে ঈমানের উপরে যদি আমি তাকে তরবিয়াত দিতে না পারি তাহলে আমার সন্তান এইভাবে হবে না দোষটা কার কিতাবের সুন্নাহ সুবহানাল্লাহ দোষটা হচ্ছে আমাদের আমাদের এই ভগ্নাংশ অথবা দুর্বল শিক্ষা ব্যবস্থার আমাদের খুবই দুর্বল প্যারেন্টিং আমাদের খুবই অসম তারবিয়াতি সিস্টেমের ত্রুটিটা আমাদের সবার আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আমাদের সিস্টেমের ত্রুটি বাট সত্যের কোন ত্রুটি নেই।

                                                           

অতএব আদ ইনসাফ কেও সেইভাবে আমাদেরকে গ্রহণ করতে হবে। এখানে আরেকটা কথা একটু বলি। দেখেন আজকের তথাকথিত সচেতন মানুষ। তারা সমতাকে আদ ইনসাফ মনে করে। আরবিতে বলা হয়। সবাইকে সমান করে দেওয়া। কিন্তু মনে রাখবেন সমান করে দেওয়া এটা আদলের বিপরীত হতে পারে আবার আদল হতেও পারে অতএব সমতা বিধান এটা আদল কিংবা ন্যায় বিচারের বা ন্যায় সঙ্গ করে প্রত্যেকের বেতন কি সমান সমাজতন্ত্র কিন্তু আবার বলছে প্রত্যেকের বেতন সমান হওয়া উচিত প্রেসিডেন্টের যেটা পিনের সেটা কিংবা ঝাড়ার একই বেতন হওয়া উচিত এটা সত্য যে একজন ঝাউদার ভাই কিংবা বোন তারা মানব সম্মানের দিক থেকে সমান। যেহেতু আল্লাহ সুবহাতালা বলেছেন কিন্তু তার প্রাপ্তি সমান নয়।

                                                           

তার প্রাপ্তি সমান নয়। পৃথিবীর সব দেশে সব সমাজে এবং সব যুগে এটা অবধারিত একটা বিষয়। একই অফিসে একই রাষ্ট্রে একই সমাজে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সবার বেতন সমান নয়। এটা কি কেউই কিন্তু জুলুম বলছে না। হ্যাঁ জুলুম অনেক সময় থাকতে পারে। আপনি টপ যিনি আছেন তাকে সর্বোচ্চ বেতন কত দিবেন? সেটা যদি হয় ২০ লাখ টাকা আর সর্বনিম্ন হয় ১০০০০ টাকা তাহলে তো এটা জুলুম হবেই। আপনাকে মানে পার্থক্যের একটা সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। তা না হলে ওটা জুলুম হয়ে যাবে। ওটাও আজকের আধুনিক সমাজ তো জুলুমের উপর জুলুম জন্ম দিচ্ছে। তারা আমাদের ব্রেন গুলোকে মুসলিম মাইন্ড গুলোকে দেখেন কিভাবে প্রভাবিত করছে।

                                                           

বলছে মেরাজের ছেলেমেয়েদের তালাককে স্বামী স্ত্রীর সমান অধিকার থাকতে হবে। এটা সমান অধিকার। সমান সমান সমান সমান। মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে। এখন নারীদের মধ্যে এমনকি মুসলিম প্র্যাকটিসিং নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি পাশ্চাত্যের চিন্তাটা ঢুকে গেছে। পোকাটা ঢুকে গেছে। মনে রাখবেন ইসলাম একটা স্ট্রাকচারের উপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামের একটা সোশাল স্ট্রাকচার আছে। ইসলামের একটা ফ্যামিলি রাষ্ট্রের স্ট্রাকচার আছে। সবকিছুর স্ট্রাকচার আছে। ইসলাম এই জগতের কোন কিছুকেই ছেড়ে দেয়নি। আল্লাহ বলছেন আমি কিতাবের মধ্যে কোন কিছুতেই কমতি করি নাই। দুনিয়ার মানুষের প্রয়োজন এরকম প্রত্যেকটা ইস্যুকে এড্রেস করা হয়েছে। হয়েছে কিনা বলেন? প্রত্যেকটা ইস্যুকে আল্লাহ এড্রেস করেছেন এবং প্রত্যেকটা ইস্যুকে তিনি কোনটা যথাযথ সেটা ঠিক করে দিয়েছেন।

                                                           

এটা হচ্ছে আদল। এটা আদলের মূল কথা। এবং এভাবেই আল্লাহ সুবহানাতালা যেহেতু তিনি সব বিষয়ে ইসলামের একটা হুকুম রেখে দিয়েছেন। আর হুকুমটাকে ফলো করাটাই হল আদম। এটা থেকে মানুষ যখন বিচ্যুত হয়েছে তখন দেখেন এই আধুনিক বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো কি মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছে কিভাবে জুলুমটাকে সারা পৃথিবীর প্রত্যেকটা জনপদে ছড়িয়ে দিছে এই জুলুমটা শুধু যুদ্ধের জুলুম না এই জুলুমটা শুরু করেছে তারা বৌদ্ধ দিক তার শিক্ষার মধ্যে জুলুম ঢুকিয়ে দিয়েছে আজকের আধুনিক শিক্ষা যে কেউ ঢুকলে সে ইসলামকে আর ও করে না। সে ইসলামের প্রতি নানা রকম প্রশ্ন তৈরি করে। সুবহানাল্লাহ। এডুকেশন কারিকুলামের কার সাজিটা মনে রাখবেন আজকে যখন আমাদের স্টুডেন্টরা কোন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে যায়, ওয়েস্টারন কোন স্কুলে যায়, ইউনিভার্সিটিতে যায়, কলেজে যায় তখন তার মধ্যে অদ্ভুত এবং খুবই বিঘ্য সব প্রশ্ন তৈরি হয়।

                                                           

আমি একবার আমাদের কিছু ভাইয়েরা যারা তাদের সন্তানকে নর্থ আমেরিকান স্কুল এবং ইউনিভার্সিটিতে পড়ান তাদের কাছে শুনলাম বলল আমাদের সন্তানরা দেখেন কতটা অনুসন্ধানী তারা কতটা রিসার্চ মাইন্ড তাদের আছে যে তারা ইসলামের বহু বিষয় নিয়ে এখনই আমাদেরকে প্রশ্ন করতেছে আমি বললাম কি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করে যেমন আয়েশা রাদিয়াল্লাহুকে এত অল্প বয়সের রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কেন তার প্রমাণ সব বিদঘ প্রশ্ন আমার সামনে উপস্থাপন করল আমি বললাম আহারে আপনি তো একজন গাফিল প্যারেন্ট আপনি বুঝতে পারছেন না দিস ইজ বিগিনিং এটা হচ্ছে নাস্তিকবাদের সূচনা আপনার সন্তানের চিন্তার জগতে অদ্ভুত প্রশ্ন করছে এবং অপ্রস্তুত করার মত সব কনসার থ রিলিজিয়াস ইসু মানে সে ধর্মীয় বিষয়গুলো নিয়ে খুবই চিন্তা গবেষণা করে সুবহানাল্লাহ মানে আমেরিকান কিংবা ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি গুলো বা শিক্ষা পাবলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ায় সন্তানগুলো যে এস্ট হয়ে যাচ্ছে কিছুদিন পরে হিজাব ছেড়ে দিবে মেয়েরা ছেলেরা আরো অদ্ভুত ওয়েস্টারন কারিকুলাম আর আমরা সেটাকে সুপ্রিম মানে করছি আমাদের প্রত্যেক সন্তানকে এই কারিকুলাম নাস্তৃতবাদের

                                                           

দিকে ঠেলে দিবে মনে রাখবেন মনে রাখবেন দিকে ঠেলে দিবে হিজাব ছাড়ার দিকে ঠেলে দিবে ইবাদত থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে দুনিয়া করে দিবে করে দিবে এবং পরিণত করবে মডারন এডুকেশন সিস্টেম আমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সাইন্সের বিরোধিতা করছি না এতো মহাজ্ঞান তাই না কিন্তু সাইন্স কি আপনাকে অমানবিক হতে বলে সাইন্স কি আপনাকে অসতার দিকে ঠেলে দেয় সাইন্স কি আপনাকে আল্লাহকে অস্বীকার করতে বলে সাইন্স কি আপনাকে ইবাদত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় না এটা কখনো করে দেয়নি আমাদের সালাফকে লক্ষ্য করেন তাদের মধ্যে তো জ্ঞানের চর্চা আরো গভীর ছিল তারা বেহু মাতৃক জ্ঞান অর্জন করতেন। বরং সেই প্রথম যুগে তাবেঈন পরবর্তী যুগে আমরা দেখি যে আমাদের বড় বড় ইমামরা হাকিমও ছিলেন।

                                                           

হাকিম মানে ডাক্তার। কোরআন সুন্নাহর জ্ঞানে ভরপুর আমলে ভরপুর আবার জাগতিক জ্ঞানও তাদের প্রচুর। প্রচুর তাদের জ্ঞান। ফলে তারা সত্যিকার ইনসাফ কায়েম করতে পেরেছিলেন। আজকের আধুনিক শিক্ষা যে সমতার পোকা আমাদের মধ্যে ঢুকাচ্ছে এটা আসলে সত্যিকার ন্যায়ের প্রতিভ নয় ফোকাস নয়। এটা হচ্ছে আপনাকে তারা ভিন্ন ফোকাসে নিয়ে যাচ্ছে। এটা হচ্ছে মানুষ যখন সামনে যেটা আসে ফোকাসটা দেখেন অন্যদিকে চলে যায়। মানুষকে যদি আমি বর্তমান ঘটনা থেকে অন্যদিকে চোখ ফিরিয়ে নিতে চাই তাহলে আরেকটা জিনিস ক্রিয়েট করে কিন্তু অন্য ফোকাসে চলে গেলে সে এই ফোকাসটা ভুলে যাবে। বুঝতে পেরেছেন? আধুনিক শিক্ষা আমাদেরকে কোরআন সুন্নাহ মূল ফোকাস থেকে সরিয়ে দিতে চায়।

                                                           

আমরা সাইন্টিফিক শিক্ষার বিরোধী না। মেডিকেল সাইন্স এগ্রিকালচার এগুলো আল্লাহর সৃষ্ট জিনিস। এগুলোকে কোন মুসলিম অস্বীকার করতে পারে না। সাইন্স পিওর সাইন্স কোনটাকে আমরা অস্বীকার করছি না কিন্তু আমরা অস্বীকার করছি যে সাইন্স আমাদেরকে আল্লাহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় যে জ্ঞান আমাদেরকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় যে জ্ঞান আমাদেরকে প্রটিসিং মুসলিম হওয়া থেকে গাফেল মুসলিমে পরিণত করে সেটা সত্যিকার অর্থে জ্ঞান নয় সেটা হচ্ছে একটা ধুম্রজাল তৈরি করা একটা কারিকুলাম আমাদের মধ্যে একটা ধুমজাল তৈরি করে ফলে আমরা গাফল মুসলিম পরিণত হয়ে গেলাম এবং ভাবলাম দুনিয়াটা আমরা জানি দেখে দেখছি যে মৃত্যু হচ্ছে তারপরেও আমরা মৃত্যুকে ভুলে দুনিয়াদার হয়ে যাচ্ছি আমার এত টাকার প্রয়োজন কি এত ভৈবভ এই পদবর কি প্রয়োজন যেটা আমি চিরজীবন ভোগ করতে পারবো না ছোট্ট একটা জীবনে সামান্য সুযোগ পেয়েছি উচিত ছিল মানুষের কল্যাণ করা উচিত ছিল আল্লাহর হককে প্রতিষ্ঠিত করা উচিত ছিল মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করা উচিত ছিল জনগণের রাষ্ট্রের সবার কল্যাণ করা এটা

                                                           

একটা মহাসুযোগ আল্লাহর পক্ষ থেকে আল্লাহর কাছে নাজাত পাওয়া এটা বড় তসলা হতে পারে সেটা বাদ দিয়ে আজকের আধুনিক শিক্ষা আমাদেরকে ঠেলে দিচ্ছে জুলুমের দিকে দিকে তারা আজকে সুন্দর করে হাই হ্যালো বলে কথা বলে একটা সুন্দর শালীন আচরণ করে ওটাকে তারা বানিয়েছে কিন্তু আজকে পৃথিবীর বড় বড় রাষ্ট্রগুলো ন্যায়বিচার আমরা দেখি নাই এটা কি ন্যায়বিচার রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে দ্বন্দ লাগিয়ে দেওয়া পৃথিবীর গরীব মানুষদের খোরাকি এ ঐতিহ্য ইউরোপ আমেরিকার রয়েছে অতএব সমতা আমি আমার ভাইদেরকে বোনদেরকে বলব এদিকে দিকপাত করা যাবে না এটা হচ্ছে আমাদের ফোকাসকে নষ্ট করার জন্য এগুলো বলা হচ্ছে। আমাদের মাথায় আরেকটা সিস্টেম দাঁড় করানো হচ্ছে। যেই সিস্টেমে আপনি কোরআনকে বিচার আল্লাহ কোরআন এবং সুন্নাহ দিয়েছেন সারা পৃথিবীর মানুষের বিচারের জন্য।

                                                           

পৃথিবীর মানুষ কোরআন সুন্নাহর বিচার করবে এইজন্য নয়। আমি যখন বিদেশে সফর করেছি আমি বললাম আপনাদের প্রবলেম কি হয়েছে জানেন? আপনারা আমেরিকান অথবা ইউরোপিয়ান মাইন্ড দিয়ে ইসলামকে বিচার করছেন। কিন্তু ইসলামের থেকে বেনিফিট পেতে হলে ইসলামিক মাইন্ড নিয়ে কোরআন পড়তে হবে। ইসলামিক পজিটিভ মাইন্ড নিয়ে হাদিস করতে হবে। আপনি যদি বিজাতীয় কোন আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হন কিংবা তাদের কি বলে বুদ্ধিজীবীদের দ্বারা আপনি যদি প্রভাবিত হন তৈরি হন তাহলে কিন্তু আপনার আর আমার মধ্যে অনেক পার্থক্য তৈরি হয়ে গেছে আপনার দৃষ্টি আমার দৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়ে গেছে অতএব আপনি কোন ক্রমে একজন সাহাবার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কোরআন সুন্নাহকে পড়তেও পারবেন না বুঝতেও পারবেন না যেহেতু যোজন যোজন দূরত্ব হয়ে গেছে এখন আপনার মাথায় কাজ করছে পাশ্চাত্য দর্শন ওয়েস্টারন ফিলোসফি ইন্ডিয়ান ফিলোসফি কিংবা গ্রিক ফিলোসফি রোমান ফিলোসফি ওটা দিয়ে কোন কালে কেউই ইসলামকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেনি।

                                                           

এমনকি আমাদের মুসলিম দার্শনিকরাও পারেনি। এফডিসিও পারেননি। ইসলামকে সঠিকভাবে তারা উপস্থাপন করতে কেন ব্যর্থ হয়েছেন জানেন? বিকজ অফ দিস এডুকেশন। যখনই আপনি ইসলামিক এডুকেশনের বাইরে গিয়ে অন্য একটা দর্শনকে গ্রহণ করেছেন তখন আর ইসলামকে ব্যাখ্যা করা আপনার জন্য আল্লাহ কঠিন করে দিয়েছেন। যা কিছু বলছেন সেটা আর ইসলামিক হয়ে ওঠেনি। সেটা আর ইসলামিক হয়ে ওঠেনি। ঠিক একই অবস্থা আমাদের এই ন্যায় পরণত ক্ষেত্রে। ইসলামের পুরোটাই হচ্ছে আদল এবং ইনসাফ।