আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ সুবহানা তাআালার প্রশংসা জ্ঞাপন করছি যে আল্লাহ সুবহানা তাআলা সকল কিছুর একচ্ছত্র মালিক যারই হুকুমে চন্দ্র সূর্য উদিত হয় দিন রাত্রের আবর্তন ঘটে এবং যারই হুকুম পালনার্থে আজকে আমরা সপ্তাহের শ্রেষ্ঠতম দিন জুমার দিনে মসজিদের মত পবিত্রতম স্থানে আসার তৌফিক পেয়েছি সুযোগ পেয়েছি সে আল্লাহর জন্য প্রশংসা আলহামদুলিল্লাহ >> দরুদ এবং সালাম বর্ষিত হোক প্রিয় নবীর প্রতি যাকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা শ্রেষ্ঠ নবী করেছেন যাকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কোরআন দ্বারা সম্মানিত করেছেন এবং যার মাধ্যমে আমরা আমাদের শরীয়ত পেয়েছি হালাল হারাম জায়েজ নাজায়েজ এগুলি জানতে পেরেছি সেই নবীর জন্য দরুদ এবং সালাম। আল্লাহুম্মা সাল্লি আলাইহি। আল্লাহুম্মা বারিক আলাইহি। সম্মানিত উপস্থিতি আরবি মাসের প্রথম মাস মহররম মাস।
বছর পরিক্রমায় ১৪ ১৪৪৭ হিজরী বিদায় নিয়েছে এবং ১৪৪৮ হিজরী আমাদের সামনে আগমন করেছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিও সাল্লাম যেই বছর হিজরত করেছিলেন মক্কা থেকে মদিনাতে ওই বছর থেকেই ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর শাসন আমল থেকে এটা গণনা শুরু হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম হিজরী গণনা শুরু করেননি। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু করেননি। ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু যখন খেলাফততে ছিলেন তখন বিভিন্ন অঞ্চলে তিনি বিভিন্ন ফরমান প্রেরণ করতেন। বিভিন্ন আদেশ নিষেধ রাষ্ট্রীয় বিষয়গুলি প্রেরণ করতেন। ওইখানে তিনি তারিখ এবং মাস উল্লেখ করতেন। তার কারণ তখনও হিজরী সন ছিল না। তো তখন বিভিন্ন গভর্নরগণ ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুকে বললেন যে আমিরুল মুমিনন আপনি যে আমাদের কাছে বিভিন্ন আদেশ নিষেধ প্রেরণ করেন এটা কোনটা আগের কোনটা পরের এটা আমরা বুঝতে পারি না।
যেহেতু এখানে সাল উল্লেখ নেই। তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তখন যারা সাহাবী ছিলেন তাদের সাথে পরামর্শ করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম যেই বছর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেছেন ওইটাকে প্রথম হিজরী ধরে গণনা শুরু করেন। তো সম্মানিত উপস্থিতি সেই গণনার ধারাবাহিকতায় আমরা ১৪৪৮ হিজরীতে এসেছি এবং এই হিজরী মাসের প্রথম মাস হল মহররম মাস। আমরা ধর্মীয় বিষয়ে হিজরী সাল অনেক গুরুত্বপূর্ণ থাকলেও আমরা আসলে এটা গণনায় আনি না বলতেও পারি না মানে খুব কয়েকটা দিন ছাড়া রমজান মাস আসলে ঈদুল আযহা আসলে তখন আমাদের তারিখগুলি স্মরণে আসে তা আজকে একটা ঐতিহাসিক দিন সেটা হল ১০ই মহররম মহররমের ১০ তারিখ এই ঐতিহাসিক দিনে কিছু ঘটনা আছে যেগুলি কোরআন এবং হাদিস দ্বারা প্রমাণিত এবং এই দিনের কিছু করুণীয়ও আছে।
আবার কিছু বিষয়ে কোরআন এবং হাদিসে নেই। কিন্তু আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে। আবার কিছু বিষয় আছে যে মানে এই দ্বীনকে কেন্দ্র করে অতিরঞ্জিত করা হয়। বাড়াবাড়ি করা হয় যেগুলি কোরআন এবং হাদিসে নেই। তা আমরা আজকে এই বিষয়গুলি নিয়ে একটু আলোচনা করব। আশুরা এবং কারবালা। এ বিষয় নিয়ে আমরা সংক্ষিপ্ত আলোচনা করব। প্রথম যে বিষয়টা আলোচনা করবো সেটা হলো আশুরা। আশুরা শব্দটা আসছে আশারা শব্দ থেকে। আশারা শব্দের অর্থ হল ১০। আল্লাহ সুবহাতালা কোরআনে কয়েক জায়গায় বলছেন। ওয়ালফজ ১০ রাত্রির কসম তিনি করেছেন। মানে ১০ শব্দটা কোরআনে এসছে। এই ১০ থেকে আশারা থেকে আছে আশুরা। আশুরা মানে দশম। দশম তারিখকে আশুরা বলা হয়।
আর আরেকটা শব্দ আসছে কোরআন হাদিসে হাদিসে সেটা হলো উসর। মানে ফসলের যাকাতের ক্ষেত্রে এক দশমাংশ যাকাত আপনাকে দিতে হয় উসর। সেটাকে বলা হয় উসর। যদি কেউ জমি চাষাবাদ করে এবং সার, বীজ, পানি ছাড়াই যদি ফসল উৎপন্ন হয় ধান, গম, গুট্টা এই জাতীয় ফসল তাহলে ১০ ভাগের এক ভাগ জায়গাত দিতে হয় যদি সেটা নিসাব পরিমাণ হয় ১৮ মণ ৩০ কেজির বেশি হয়। তো সম্মানিত উপস্থিতি তাহলে আশারা শব্দের অর্থ হল ১০ আর আশুরা হলো দশম আর ওসর হল দশমাংশ ১০ ভাগের এক ভাগ। তো আশুরা ইসলামী শরীয়তে আশুরা বলতে এই মহররম মাসের ১০ তারিখকে বুঝানো হয়। দশম তো প্রত্যেক মাসেরই ১০ তারিখে আসে।
কিন্তু যখন আপনি আশুরা বলবেন তখন মহররম মাসের ১০ তারিখকে বুঝানো হয়ে থাকে। এই মহররম মাসের ১০ তারিখ কেন্দ্রিক আমাদের সমাজে অনেক কিছু অতিরঞ্জিত হয়। তো মূল ঘটনাটা কি? এটা ইসলামী শরীয়তে প্রমাণিত। সে মূল ঘটনাটা হলো আমরা যদি একটু ইতিহাস বলি আল্লাহ সুবহানাতালা পৃথিবীতে যত নবী পাঠিয়েছেন তার মধ্যে অল্প কয়েকজন নবী ছাড়া যেমন আদম আলাইহি সালাম, নূহ আলাইহি সাল্লাম, সলেহ আলাইহি সালাম, হুদ আলাইহি সাল্লাম, ইদ্রিস আলাইহি সালাম এরকম কয়েকজন নবী ছাড়া বাকি সমস্ত আম্বিয়া, সমস্ত রাসূল ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম থেকে এবং তার বংশধর থেকে তার সন্তানদের থেকেই এসেছে। এজন্য ইব্রাহিম আলাইহি সাল্লামকে বলা হয় আবুল আম্বিয়া। নবীদের পিতা।
তো ইব্রাহিম আলাইহি সালামের দুইজন স্ত্রী ছিল। একজন স্ত্রী ছিল সারা আলাইহিস সালাম আরেকজন হাজেরা আলাইহিস সালাম। যাকে হাদিসের ভাষায় হাজার বলা হয়। তো হাজেরা যখন তার সন্তান হলো ইসমাইল আলাইহি সাল্লাম। তখন আল্লাহ সুবহানাতালা তাকে কি পরীক্ষা করলেন যে তোমার সন্তানকে তুমি নির্জন স্থানে রেখে আসো। তখন ইব্রাহিম আলাইহি সালাম থাকতেন বাইতুল মুকাদ্দাসে। মানে বর্তমান ফিলিস্তিনে। তখন তিনি তার সন্তান এবং স্ত্রীকে নিয়ে চলে আসেন মক্কাতে। এসে নির্জন এখনো কাবার মত কিছু ছিল না। ওইখানে তিনি রেখে ইসমাইল এবং তার মাকে রেখে তিনি চলে গেছেন। ইসমাইল সলাম এখানে বড় হয়েছেন এবং এখানে তিনি জমজম কুম আবিষ্কার হলো। তারপর তাদের মাধ্যমে কাবাঘর নির্মিত হলো।
তিনি এই বংশে ছিলেন। বিবাহ করেছেন। এখানে তার বংশবৃদ্ধি হয়েছে। এবং ইসমাইল আলাইহি সালামের বংশে আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের আগমন হয়েছে। তহলে এইটা হল ইব্রাহিম আলাই সালামের একটা সংসারের কথা। আরেকটা সংসার যে সারা আলাইহিস সাল্লাম তার সন্তান একজন। তিনি হলেন ইসহাক আলাইহি সাল্লাম। ইসহাক আলাইহিস সাল্লামের সন্তান হলো ইয়াকুব আলাইহিস সালাম। ইয়াকুব আলাইহিস সালামকে কোরআনের ভাষায় ইসরাইল বলা হয় এবং বনী ইসরাইল নামে একটা সূরা আছে ১৫ পারার প্রথম সূরা। এবং আল্লাহ সুবহাতালা কোরআনে অসংখ্য জায়গায় বনী ইসরাইলদের কথা বলছেন। বন ইসরাইল মানে ইয়াকুব আলাইহিস সালামের সন্তানরা। ইয়াকুব আলাইহি সালামের ১১ সন্তান ছিল। তাদের মধ্যে একজন হলেন ইউসুফ আলাইহিস সালাম।
ইউসুফ আলাইহি সালামের ছোট বয়সে তাকে তার ভাইয়েরা ষড়যন্ত্র করে কুয়ায় নিক্ষেপ করলেন। ওইখান থেকে মিশরের ব্যবসায়ীরা মিশরে নিয়ে গেলেন এবং তিনি সেখানে বড় হলেন, জেলে গেলেন। ওইখান থেকে তিনি ছাড়া পেলেন, নবুয়ত পেলেন এবং তিনি মন্ত্রী হলেন। পরে দেশের শাসক হলেন। তো ইউসুফ আলাইহিস সালাম যখন ওইখানে শাসকতা ছিলেন তখন এই ইয়াকুব আলাইহিস সালাম ফিলিস্তিনে তখন দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। তখন তারা গিয়েছিলেন এবং তার পিতার সাথে তার ভাইদের সাথে তার পরিচয় হয়েছিল। এই ইউসুফ আলাইহিস সালামের পঞ্চম পুরুষ হলেন মূসা এবং হারুন আলাইহিস সালাম। মিশরের রাজনীতি যদি আমরা বলি আগের থেকে মিশরের দুইটা দল পালাক্রমে ক্ষমতায় আসছিল। একটা দল ছিল হাকসুস যাদেরকে বলা হতো হাকসুস।
তারা ইউসুফ আলাইহিস সালাম যখন ক্ষমতায় ছিলেন রাজত্বে ছিলেন নবী ছিলেন তখন তারা ক্ষমতায় ছিল তারা ভালো ছিল ইসলামের পক্ষের লোক ছিলেন ২০০ বছর রাজত্ব করার পরে পরে ক্ষমতায় আসলো কিবতি যারা ফেরাউনের বংশধর কিবতি বলা হয় তাদেরকে তো তারা ছিলেন এই বিরোধীদের পার্টির প্রতি খুবই নিষ্ঠুর এইজন্য মুসা আলাইহি সালাম যখন জন্মগ্রহণ করেন তখন তারা কি করছিলেন পুত্র সন্তানদেরকে হত্যার তার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তো মুসা আলাইহি সালাম যেই বছর জন্মগ্রহণ করছিলেন তিনি হত্যার বছরই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আল্লাহ সুবহানাতালা তাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। তার মা তিনি যখন প্রসব হলেন তখন জিব্রাইল আলাইহি সালাম একটা কাঠের বাক্স এনে দিলেন। তার মা তাকে রেখে নদীতে বাসিয়ে দিলেন।
ও বাসতে বাসতে ওই মুসা আলাইহি সাল্লাম ফেরাউনের বাড়িতে চলে গেলেন। তার স্ত্রী ছিলেন আসিয়া। তিনি সন্তানকে দেখে তিনি নিঃসন্তান ছিলেন তার সন্তান ছিল না তিনি তার ওই ফুটফুটে বাচ্চাকে দেখে তিনি তাকে লালন পালন করলেন বড় হলেন মুসা আলাইহি সালাম সেখানেই নব আপনার বড় হলেন তারপরে তিনি ইয়েতে চলে গেলেন একজনকে হত্যার দায়ে তিনি চলে গেলেন মাদায়ে ওইখানে শোয়াইব আলাইহি সালামের বাড়িতে তিনি ১০ কি আট কি ১০ বছর ছিলেন এবং সেখান থেকে তিনি বিবাহ শাদী করলেন এবং মিশরে যখন ফিরে আসছিলেন তখন তিনি নবুয়ত প্রাপ্ত হলেন। এসে ফেরাউনকে দাওয়াত দিলেন। ফেরাউন তো মানলোই না বরং আরো অত্যাচার বাড়িয়ে দিল বনী ইসরাইলদের প্রতি।
তখন আল্লাহ সুবহানাতালার আদেশে মুসা আলাইহিস সাল্লাম হিজরত করে এই মিশর থেকে বনী ইসরাইলদেরকে নিয়ে তাদের অনুসারীদেরকে নিয়ে তিনি ফিলিস্তিনে চলে যেতে চাচ্ছিলেন। যেখান থেকে মূলত ইউসুফ আলাইহিস সালাম আসছিলেন এবং তাদের আদি নিবাস। তো তিনি যখন চলে যাচ্ছেন তখন ফেরাউন জানতে পারলেন যে মুসারা চলে যাচ্ছেন যাদেরকে দিয়ে আমরা দাস-দাসী বানিয়ে রেখেছিলাম যাদেরকে আমরা আমাদের পদনস্থ করে রেখেছিলাম তারা চলে যাচ্ছে আজকে তখন তিনি তাদের পিছনে সে ফেরাউন সে তার পিছনে এসে দাওয়া করলেন এবং তাদেরকে ধরতে চাইলেন। তো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা নদীকে মুসা আলাইহিস সালামকে বললেন যে তোমার লাঠি দ্বারা আঘাত করো। নদীটা বাঘ হয়ে গেল। ১২ টা রাস্তা হয়ে গেল।
এবং মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লামের ১২ টা গোত্র ছিল। প্রত্যেক গোত্র পার হয়ে গেল। ফেরাউন এসে দেখল অনেক সুন্দর রাস্তা। তিনিও যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলেন। যখন মাঝ সাগরে গেলেন আল্লাহ সুবহাতালা পানিকে আগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিলেন। তখন ফেরাউনকে পানি ধরে বসল। তখন সে ঈমানের কথা বলেছিল। আমানতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ইসরাইল ইসরাইল যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনছে আমিও এখন আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম আল্লাহ বলেন এখন তুমিতো আগে তো অনেক তুমি ইয়ে করেছ অনেক অত্যাচার করেছ অনেক নিজেকে আল্লাহ দাবি করেছ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় সূরা ইউনুসের ৯০ এবং ৯২ আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীর ইবনে কাসীরে একটা হাদিস নিয়ে এসেছেন তিরমিজী থেকে ইমাম ইবনে কাসীর রহমাতুল্লাহ আলাই হাদিসটার মান সহি যখন ফেরাউন আল্লাহকে ডাকতেছে যে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দেন আমি ঈমান আনছি তখন জিব্রাইল আলাই সালাম চলে আসছেন কারণ জিব্রাইল সলামের আশঙ্কা যে সে যেভাবে কাকুতি মিনতি করতেছে আর আল্লাহর যা দয়া রহমত এবং অনুগ্রহ জিব্রল মনে করছেন যে ফেরাউনকে আল্লাহ হয়তো ক্ষমা করে দিবেন জিব্রল চলে এসে সেই লোহিত সাগরের মাটি এনে তার মুখে ঢুকিয়ে দিয়েছেন যাতে সে আল্লাহকে আর ডাকতে না পারে।
তো তখন আল্লাহ সলা কি করলেন? য আজকে আমি তোমার দেহকে বাঁচিয়ে রাখবো। যাতে করে তোমার পরে যারা আসে তাদের জন্য এটার নিদর্শন হয়। সম্মানিত উপস্থিতি এই ঘটনা থেকে অনেকগুলি শিক্ষা আমরা পাই। তো প্রথম যে শিক্ষা সেটা হলো যে আল্লাহ সুবহানাতালা যে যত পাপ করে মৃত্যুর আগে যদি তাওবা সে করে খালেস মানে আল্লাহ তওবা কবুল করবেন। মানে জিব্রাইল আলা সলাম ভয় পাচ্ছেন যে সে ফেরাউন এত অত্যাচার করার পরেও সে যেভাবে তাওবা করতেছে ঈমানের কথা বলতেছে আল্লাহ হয়তো ক্ষমা করে দিবেন।
তো এজন্য আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন যে তোমাদের গুনাহ যদি পাহাড় পরিমাণ হয় তোমাদের গুনাহ যদি আকাশ সমান হয় জমিন ভর্তি হয় আর তোমরা যদি আমার কাছে তওবা করো গাফারাবা আমি তোমাদের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করব কারো পরো আমি করব না শয়তান কিন্তু এখানে এসে ধোকা দেয় অনেককে এত পাপ করছি তোকে আল্লাহ ক্ষমা করবে না এটা কিন্তু মানে আল্লাহ সুবহানাতালার শান মানে এটা একটা অপবাদ কারণ আল্লাহ সুবহানাতালা কত গুনাহ করেছো তুমি সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিব। এজন্য আমাদের তওবা করতে হবে সময় থাকতে। দ্বিতীয় যে বিষয়টা সেটা হল যে আপনে মৃত্যুর আগে সকল মানুষ কিন্তু তার ভুল বুঝতে পারে।
যখন মৃত্যুর ফেরেশতাকে দেখে ফেলে তখন তাওবা কিন্তু আর কবুল হবে না। তো সম্মানিত উপস্থিতি মূল যে ঘটনা এই যে ফেরাউন মারা গেল পানিতে ডুবে মারা গেল এবং মূসা আলাইহি সাল্লাম কে আল্লাহ বাঁচিয়ে দিলেন। এই ঘটনাটা কোন দিন ঘটেছিল? এই আজকের দিনে মানে ১০ই মহররম তারিখে এই বিখ্যাত ঘটনা এই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং মুসলমানদের নাজাত মুসা আলাইহি সালামকে আল্লাহ সুবহানাতালা এই ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং ফেরাউনকে এই দিনে লোহিত সাগরের মধ্যে আপনার ডুবিয়ে মেরেছিলেন এইটা হলো মূল ঘটনা যেটা আল্লাহ সুবহানাতালা কোরআনে সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করছেন।
কোরআনে সবচেয়ে বেশি যেই ঘটনাটা উল্লেখ আছে মানে মুসা এবং ফেরাউনের কাহিনী প্রায় ৪৪ টা সূরায় আল্লাহ সুবহানাতালা এই কাহিনীগুলো উল্লেখ করেছেন যারা আয়াত গণনা করেছেন ৫৩২ টা আয়াতে মুসা এবং ফেরাউনের কথা বর্ণিত হয়েছে এত ঘটনা বর্ণনা করেছেন আল্লাহ সুবহানাতালা এই কাহিনীটাকে কেন্দ্র করে এইটাই হল আশুরার দশম দিনের ঘটনা এবং প্রকৃত ঘটনা রাসূল যখন মদিনায় গেলেন তখন তিনি দেখলেন যেই ইহুদি সিয়াম পালন করতেছে যারা মহাম্মদ যারাই মুসা আলাইহি সালামের অনুসারী দাবি করে ইয়াহুদি তখন মহাম্দ রাস জিজ্ঞেস করলেন যে তোমরা কেন সিয়াম পালন করতেছ তখন তারা বলেন আরেকলাহ মুসা এই দিনে আল্লাহ সুবহাতালা মুসা আলাইহি সালামকে তার শত্রুদের থেকে মুক্ত করেছিলেন সমা মুসা শুকরান মুসা আলাইহি সালাম শুকরিয়াতার হিসাবে তিনি সিয়াম পালন করেছিলেন।
এজন্য আমরা সিয়াম পালন করি। তখন রাসূ বললেন যে আমি তোমাদের চাইতে মুসাকে বেশি অনুসরণের দিক থেকে আমি বেশি হকদার। রাসূ সলাম সিয়াম পালন করেছেন। তিনি মক্কাতেও সিয়াম পালন করেছেন। মদিনাতে যেয়েও তখন মুসলমানদেরকে সিয়ামের আদেশ দিলেন এবং যতদিন সিয়াম ফরজ হয় নাই ততদিন এই আশুরার সিয়াম ফরজ ছিল। যখন রমজানের সিয়াম ফরজ হলো তখন রাসুল বলেন যে যারা আজকে সিয়াম রাখতে চাও রাখতে পারো। আর যদি কেউ না রাখতে চায় তাহলে সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে। রাসূল যখন জীবনের শেষ দিকে চলে আসলেন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু বলেন তখন সাহাবীগণ বললেন ইয়া রাসূল্লাহ আপনি তো সব ক্ষেত্রে আমাদেরকে ইহুদিদের বিরোধিতা করতে বলেন।
তো ইহুদিরা একদিন সিয়াম পালন করেন। আপনিও তো একদিন সিয়াম পালন করেন এই মহররমের সিয়াম। তো এটা তো তাদের সাথে সাদৃশ্য হয়ে গেল না। তখন রাসূল সলাম বললেন যে আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি তাহলে আমিন ৯ তারিখেও সিয়াম পালন করব। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু বলেন যেই তোমরা আশুরার দিনের সিয়াম পালন কর। আর ইহুদিদের বিরোধিতা করো। তোমরা সম্ভব হলে আগের দিন অথবা পরের দিন সিয়াম পালন করে ইহুদিদের বিরোধিতা করো। এই বর্ণনাগুলি বিশ্লেষণ করে আল্লামা ইবনুল কাইম রহমাতুল্লাহ আলাই তিনি বলছেন যে আশুরার সিয়ামের তিনটা পদ্ধতি হতে পারে। একটা পদ্ধতি হলন এবং ১০ তারিখে আপনি সিয়াম পালন করলেন যেটা সবচেয়ে উত্তম।
আজকে তো ১০ তারিখ যারা সিয়াম পালন করছেন আলহামদুলিল্লাহ। নয় এবং ১০ তারিখ এই দুইদিন সিয়াম পালন করা সবচেয়ে উত্তম। যদি এইটা না পারে তাহলে ১০ এবং ১১ আজকে যেমন সিয়াম যারা পালন করেছেন আগামী দিন একটা পালন করবেন যদি আপনিনয় তারিখে না পালন করে থাকেন এ তিনি বলছেন যে তিন নম্বর পদ্ধতি হল মাত্র ১০ তারিখে পালন করা এইটাও যদি কেউ পালন করে আগে পরে পালন করতে না পারে সমস্যার কারণে তাহলে আল্লাহ সুবহাতালা তাকে এক বছর গুনাহ মাফ করে দিবেন >> তাইলে আমাদের জন্য সুযোগ আছে কারণ আশুরার সিয়া মূল হল একটা এটা হল আজকে আর আগে পরেরটা হল ইহুদিদের বিরোধী দিতা।
তো সম্মানিত উপস্থিতি এটা হলো আশুরার প্রকৃত ইতিহাস। কিন্তু আজকে আপনারা দেখবেন যে আশুরাকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে যারা মিডিয়াতে খবর রাখতেছেন বিভিন্ন জায়গায় দেখতেছেন শিয়ারা যারা শিয়া মুসলিম দাবি করে তারা আজকে এই দিনটাকে খুব মানে একেবারে সুখ দিবস হিসেবে পালন করে কালো বেচ ধারণ করে বিভিন্নভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন জায়গায় তারা এই দিবসটাকে পালন করার চেষ্টা করে। কি কি বিষয়গুলি তারা আলোচনায় নিয়ে আসে বা কার্যক্রমে নিয়ে আসে এগুলি আমরা দেখবো। প্রথম যে বিষয়টা তারা মনে করে সেটা হলো এটাকে বলা হয় শোখ দিবস। মানে আজকে একটা শোকের দিন। কারণ এই দিনে তারা বলে থাকে যে হোসাইন রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তাকে কারবালার ময়দানে শহীদ করে দেওয়া হয়েছে।
এইজন্য তারা এটাকে শোখ হিসেবে পালন করে থাকে। সম্মানিত উপস্থিত হোসাইন রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর শাহাদত বরণ নিঃসন্দেহে মুসলিম জাতির জন্য একটা অপরণীয় ক্ষতি ছিল। কিন্তু এইরকম হত্যাকাণড এটা কি পৃথিবীতে বা এই উম্মতের মধ্যে প্রথম হয়েছে না আরো হয়েছিল? আরো হয়েছিল। কিন্তু আমরা তো তাদের কারোই সুখ দিবস পালন করি না। সুখে শুকাহত হই না। এখন বিষয় হল ইসলামের দৃষ্টিতে সুখে শোকাহত হওয়ার নিয়ম হলো মাত্র তিন দিন। উম্মে হাবিবা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা তিনি থেকে সহীহ বুখারীর ১২৮০ নম্বার হাদিস। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ সাললাম বলেছেন যে কোন মুসলিমের জন্য জায়েজ নেই। সুখ পালন করা মৃত্যু ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশি।
আপনার বাবা হতে পারে, ছেলে হতে পারে, স্ত্রী হতে পারে অথবা আরো কেউ হতে পারে, নিকটাত্মীয় হতে পারে অথবা কোন মুসলিম ভাই হতে পারে। কোন মুসলিম ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশি সুখ পালন করা জায়েজ নেই। সুখ পালন মানে আপনি মানে একটু শোকাহত হওয়া। তার জন্য তার কথা স্মরণ করা। হ্যাঁ এই বিষয়গুলি তিন দিনের বেশি জায়েজ নেই এটা রাসূল সাল্লামের হতে পারে আপনার বাবার হতে পারে আরো অন্য কেউ হতে পারে আর মহিলাদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যদি তাদের মাত্র স্বামী মহিলাদের ক্ষেত্রেও তিন দিন মহিলাদের বাবা মারা গেলে ছেলে মারা গেলে ভাই মারা গেলে তিন দিনে সুখ পালন করবে কিন্তু যদি স্বামী মারা যায় একমাত্র স্বামী তাইলে সে চার মাস ১০ দিন সুখ পালন করবে সুখ পালন মানে তিনি বিবাহের প্রস্তাব গ্রহণ করবেন না শ্বাস করবেন না স্বামীর বাড়ি বাড়ি থেকে প্রয়োজন ছাড়া বের হবেন না।
এই কাজগুলি মা বোনদের জন্য। তো সম্মানিত উপস্থিতি তাহলে আমরা যদি ধরে দেই যে হোসাইন রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর শাহাদত বরণ শোখের কারণ। তো তিনদিন তো অনেক আগে পার হয়ে গেছে। ৬১ হিজরীর ১০ই মহররম তার শাহাদত বরণ হয়েছিল। তো ১০ই মহররম হলে ১০, ১১, ১২ই মহররম শেষ হয়ে গেছে। ৬১ হিজরী। তো সুতরাং এখন সুখ পালন করা। রাজনৈতিকভাবেও দেখবেন অনেক বছর পরেও নেতা নেত্রীর সুখ পালন হচ্ছে কোনটাই জায়েজ না আমরা বলি ইসলামের দৃষ্টিতে এটা কোনটাই জায়েজ নেই কারণ এই সুখ যদি আমরা পালন করি তাহলে রাসূল সাল্লাম এটা করেন নাই এবং সাহাবায়ে কেরামগণ যার যারা আমাদের আদর্শ তারাও করেন নাই আমরা যদি শুধু হোসাইন রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর বড় ভাই হাসান রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তাকেও কিন্তু স্বাভাবিকভাবে তিনি ইন্তেকাল করেন নাই তিনি স্বাভাবিকভাবে তিনি মৃত্যুবরণ করেন নাই তাকে বিষ প্রয়োগে মৃত্যুবরণ করানো হয়েছিল।
শাহাদত বরণ করা হয়েছিল। তা আমরা তো শোখ পালন করি না এটা। আর যারা হোসাইন রাদিয়াল্লাহু তালা সুখ পালন করে তারাও এটা করে না। এবং কয় তারিখ মৃত্যু দিবস তারাও জানে না। কারণ এটা পালনও করে না। তাদের দুইজনেরই বাবা আলী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তিনিও কিন্তু স্বাভাবিকভাবে তিনি মৃত্যুবরণ করেন নাই। ৪০ হিজরীর ১৭ই রমাজান তিনি যখন ফজরের সালাতের জন্য বের হচ্ছিলেন তখন আব্দুর রহমান বিন মুলজিম তার আঘাতে তিনি আহত হন এবং এই আঘাতে তিনি শাহাদত বরণ করেন। কই আলী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর মৃত্যু দিবস তো আমরা পালন করি না। যারা হোসাইনেরটা পালন করে তারাও করে না। কারণ ইসলাম জায়েজ নেই।
তারপরে এর চেয়ে বড় সাহাবী উসমান রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু। মর্যাদার দিক থেকে আলী রাদিয়াল্লাহু তালা চেয়ে উসমান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা মর্যাদা বেশি। তিনিও স্বাভাবিকভাবে তিনি মারা যান নাই। কোরআন পাঠরত অবস্থায় তার ঘরের মধ্যে মসজিদে নববীর পাশে তিনি আততাইর হাতে এ সাবাইদের হাতে তিনি শাহাদত বরণ করেছেন। কই ও শাহাদত দিবস তো পালন হচ্ছে না। যারা পালন করতেছে তারাও করে না। তার আগে ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু মর্যাদার দিক দিয়ে তিনি আরো সিনিয়র। তিনিও স্বাভাবিকভাবে কিন্তু মৃত্যুবরণ করেন নাই। ফজরের সালাত যখন তিনি পড়াচ্ছিলেন তখন আব্দুর রহমান আবুল উলু আল মাজুসি তার আঘাতে খঞ্জরের আঘাতে তিনি আহত হলেন। এই আঘাতেই তিনি শাহাদত বরণ করলেন কই তার মৃত্যু দিবস শোখ দিবস কই? এটাও নাই।
তারও আগে তারও আগে যদি আমরা দেখি রাসূল সাল্লামের যখন জীবদ্দশায় সাইয়েদু শোহাদা বলা হয় যত শহীদ আসছে হোসাইন রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু শহীদেরও আরো বড় শহীদ আলী রাদিয়াল্লাহু তালা চেয়ে বড় শহীদ রাসূ উপাধি দিয়ে গেছেন সাইদু শোহাদা সেটা হল হামজা ইবনে আব্দুল মুত্তালেব রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু রাসের চাচা উহুদের যুদ্ধে যিনি শাহাদত বরণ করেছেন কই তারা শহীদ দিবস কই তার সুখ দিবস কই তো সম্মানিত উপস্থিতি মূল বিষয়টা হলো যেটা সেটা হলো সুখ দিবস পালন করা জায়েজ নেই। একজন কেউ মারা গেল আর বছর আপনি দিন আসলো আর সুখ পালন করলেন এটা ইসলামে জায়েজ নেই। এখন হোসাইনের একটা কেন পালন করা হয়।
ইতিহাস দেখা যায় যে ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর খেলাফত আমলে বর্তমানে যে ইরান পারস্য ওই অঞ্চল ছিল অগ্নিপূজাগীদের অঞ্চল। ওই অঞ্চলে আপনার ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর সময়ে ওই অঞ্চলটা মুসলমানদের শাসনে আসে। মানে ওই অঞ্চল যুদ্ধ হয় এবং যুদ্ধে ওরা ফারসীরা পরাজিত হয়। অগ্নিপূজকরা পরাজিত হয়। এবং ফারসীর যে রাজা ছিল রাজার মেয়েকে তখন বন্দি অবস্থায় মদিনাতে আসছে। আসার পরে ওমর রাদিয়াল্লাহু তালা চিন্তা করলেন যে এত সম্ভ্রান্ত মহিলা কাকে দেওয়া যায়? মানে কার সাথে বিবাহ বন্ধনা আবদ্ধ করা যায়? কাকে তাকে দেওয়া যায়? তখন হোসাইন রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুকে কারণ তিনি রাসূলের নাতি তিনি সম্মানিত ব্যক্তি তখন তার সাথে বিবাহ বন্ধন আবদ্ধ এইজন্য ফারসীরা শিয়ারা এ হোসাইন রাদিয়াল্লাহু তালা প্রতি এত দরদ যদি দরদ না হতো তাইলে অন্যান্য দিবসতো আর সুখ দিবস পালন করা হয় না মাতম করা হয় না অন্যান্য যে কাজগুলি করা হচ্ছে সেটা শহীদ দিবস পালন করা হচ্ছে না তো সম্মানিত উপস্থিতি আল্লাহ সুবহাতালা আমাদেরকে বুঝার এবং
সঠিক দিন আমল করার তৌফিক মৃত্যু দিবস পালন করা হচ্ছে যেটা আসলে এটা সুখের দিবস না মূল হল এটা সুখের দিবস এ খুশির দিবস কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম মুসা আলাইহি সালাম থেকে শুরু করে যারাই সিয়াম পালন করছে খুশির জন্য কারণ এই দিনে অনেক ঘটনাই ঘটেছে কারণ ১০ই মহররম আজকেও তো অনেক ঘটনা ঘটবে অনেকে মারা যাবে অনেকে জন্মগ্রহণ করবে কিন্তু এটা তো শরীয়ত হবে না শরীয়ত তো হয়ে গেছে রাসূলামের যতদিন তিনি জীবিত ছিলেন তখন শরীয়তলা আল্লাহ সুবহানাতালা বিদায় হজের মাঠে আলমালাদিনা তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম মানে শরীয়ত পরিপূর্ণ জায়েজ নাজায়েজ এগুলি আর আমার জন্ম অমুকের মৃত্যু অমুকের আপনার কষ্টের দিবস এগুলি তো আর শরীয়তে কিছু আসবে না তো সুতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম যতদিন জীবিত ছিলেন তখনই শরীয়ত শেষ রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের ইন্তেকালের প্রায় ৫০ বছর পরে এই ঘটনা ঘটেছিল যেটা আসলে শোকের দিবস হতে পারে না বরং ইতিহাসে দেখা যায় যে এটা হল খুশির দিবস।
কারণ ফেরাউনকে এই দিনে আল্লাহ সুবহানাতালা তাকে পানিতে চুবিয়ে মেরেছিলেন। সম্মানিত উপস্থিতি আরো যেগুলি এদিনে করা হয় যে বিলাপ করা মানে এমনিতো বিলাপ করা মানে হাই হোসেন হাই হোসেন করে দেখবেন আপনি মানে বিলাপ করতেছে মিছিল দিতেছে। কবর একটা সাজিয়েছে ওটা নিয়ে হিন্দুরা যেমন রথযাত্রা করে এরকম ভাবে করতেছে। তো কোনটাই আসলে ইসলামের সাথে হয় না। তারপর আরেকটা বিষয় হল যে আপনার মানে গা চাপড়ানো মানে নিজেকে আঘাত করা শরীর ছিড়ে ফেলা তারপর আপনার কাপড় ছিড়ে ফেলা এগুলি ইসলামে কোন কিছুতেই জায়েজ নাই রাসপ্ট বলেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসদ বলেন যারা নিজের দেহকে রক্তাক্ত করে যাদের যারা শরীরকে রক্তাক্ত করে যারা কাপড় ছিড়ে ফেলে অনেক মা বোনগণ আছেন যে কেউ মারা গেলে দেখবেন এরকম করে বিলাপ করে একেবারে মাটিতে চাপড়িয়ে হাত দিয়ে নিজের শরীরকে আঘাত করে কোনটাই জায়েজ নেই।
এ নিষেধ করা হয়েছে। রাস দমক দিয়েছেন সে আমাদের দলমুক্ত হতে পারবে না। আমার উম্মত হতে পারবে না। কারা? যারা এই শরীর চাপড়াবে এবং এই আপনার কাপড় ছিড়বে। জাহিলিয়াতকে ডাকবে। কারণ জাহিলিয়াতের যুগে অভ্যাস ছিল। তারা কি করতেন? তারা দেখতেন যে কার মৃত্যুতে বেশি লোক কাদে। এজন্য দেখা গেছে জাহেলিয়াত যুগে লোকেরা করে নিয়ে আসতো লোকজন কাদার জন্য আমাদের সমাজে দেখে না করে হুজুর নিয়ে আসে কি জন্য কোরআন পড়ানোর জন্য এটা যে অমুকের এত কোরআন পড়ছে এত আপনার কুলখানি হইছে এত আপনার মানে কোরআন শরীফ পড়ছে হুজুররা এইটা জাহিলিয়াতের যুগের একটা অভ্যাস কারণ জাহিলিয়াতের যুগের যে লোক অনেক বড় সমাজে সমাজপতি সমাজে তার নাম ডাক বেশি টাকা পয়সা বেশি তখন অনেক লোক নিয়ে আসনা করে দুইদিন তিনজন কান্নাকাটির জন্য তো ওরা কি করত কান্নাকাটি করত রাস এই কান্নাকাটি করা এটা জাহি যুগের আর যে ব্যক্তি জাহেলিয়াতকে আহবান করবে জাহেলিয়াতকে গ্রহণ করবে সে ব্যক্তি আমার উম্মত হতে পারবে না আল্লাহ
সুবহাতালা আমাদের বোঝার তৌফিক দান করুক সম্মানিত উপস্থিতি আরেকটা বিষয় যেটা আমাদের সমাজে বেশি করা হয় মানে ইয়ার মধ্যে সেটা হলো মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু এবং তার ছেলে ইয়াজিদকে গালি গালি দেওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা যারা উল্লেখ করে তারা দেখবেন তুচ্চতাচ্ছিল্য করে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুকে যে তিনি তার ছেলেকে খলিফা বানালেন এবং মানে তিনি অন্যায় করেছেন ঠিক করেন নাই এই বিষয়গুলি বিভিন্ন মানে ইসলামিক যারা নাম বলে থাকে তাদের মধ্যে এগুলি দেখা যায় হয়তো বুঝে করে বা না বুঝে করে বিষয়টা হল যে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু একজন সম্মানিত সাহাবা ছিলেন এবং তিনি রাসূল সেলক ছিলেন এবং তিনি কোরআনের লেখক ছিলেন সাহাবাদের সম্পর্কে রাসূ স্পষ্ট কথা লাতাহাবি তোমরা আমার সাহাবাদেরকে গালি দিও না স্পষ্ট কথা তারপর রাসল তোমাদের কেউ যদি তোমাদের কেউ যদি উহুদ পরিমাণ স্বর্ণ ব্যয় করো অসম্ভব এটা কারো পক্ষে সম্ভব না এত পরিমাণ স্বর্ণের মালিক হওয়া সম্ভব না ব্যয় করাও সম্ভব না যদি তোমরা ব্যয় করো এবং তোমরা যদি মানে এত পরিমাণ ব্যয় করলেও আমাদের আমার সাহাবীরা যে এক মুট দিয়েছে এটার সমানও তোমরা বুঝতে পারবে না।
সুবহানাল্লাহ। রাসূল সাহাবীদের কত মর্যাদা দিয়েছেন তো সম্মানিত উপস্থিত এইজন্য যদি সাহাবীদের কিছু আপনার দৃষ্টিতে ভুল বলে প্রমাণিত হয় বা দেখতে পান বলতে ইসতেহা ভুল। আলী রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু এবং মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহ মধ্যে যুদ্ধ হয়েছে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু এবং রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা এবং আলী রাদিয়াল্লাহু যুদ্ধ হয়েছে এবং যুদ্ধে হাজার হাজার মুসলমান মারা গেছে। তাইলে এদের এই যুদ্ধগুলিকে মানে যারা বিশ্লেষণ করছেন তারা বলছেন এগুলি আমরা ইজতেহাদি ভুল বলব। তাদের কাউকে বলব না যে অমুকে সঠিক। অমুকে ভুল করছেন। অমুকে ঠিক করছেন অমুকে ভুল করে বলবো না। কারণ সাহাবাদের ব্যাপারে কোন কিছুই বলা যাবে না।
কারণ আল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে গেছে সুতরাং সাহাবাদের ব্যাপারে কোন কিছু বলা যাবে না ইয়াজিদের বিষয়টা এখন অনেকে বলে থাকেন এই ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামগণ বলছেন যে তাকে আমরা ভালোবাসবো না ইয়াজিদের পরে কেউ রহমাতুল্লাহ বলে না যদি বলে থাকে তাহলে বুঝবেন যে মানে সঠিকটা সে জানে না ইয়াজিদের পরে কেউ রহমাতুল্লাহ বলে না আবার ইয়াজিদ লানাতুল্লাহু এটাও বলে না কেউ কারণ তাকে নিউট্রাল রেখে দিছে আল্লাহ তার বিচার করবেন যদি ভালো করে থাকেন তা ভালো খারাপ করে থাকেন খারাপ তো সম্মানিত উপস্থিতি তাহলে এখন আমরা আশুরার যে বিষয়টা জানলাম যে এই দিনে রমাদান একটা সিয়াম ছাড়া আর কোন কাজ আমাদের নেই এবং এই দিনের ইতিহাস হল এই দিনে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই ফেরাউনকে পানিতে ডুবিয়ে মেরেছেন এবং মুসা আলাইহি সালামকে উদ্ধার করেছেন এবং এই দিনে আবার আপনার কারবালার ঘটনা ঘটেছিল ৬১ হিজরীর এই দিনে সম কারবালার ঘটনাটা কি একটু যদি আমরা সংক্ষিপ্তভাবে
বলি আপনাদেরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু সলামের যখন ওফাত হয়ে গেল তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু প্রথম খলিফা হলেন তিনি দুই বছর খেলাফত পরিচালনা করেন তারপরে ওমর রাদিয়াল্লাহু তালা খেলাফত হলেন তিনি প্রায় ১০ বছর খেলাফত পরিচালনা করেন তারপরে উসমান রাদিয়াল্লাহু তালা খলিফা হলেন তিনি প্রায় ১২ বছর খেলাফত পরিচালনা করেন তারপরে আলী রাদিয়াল্লাহু তালা খিলাফত হলেন তিনি ছয় বছর পরিচালনা করেন এবং তিনি তার শাসনামলে রাজধানী মদিনা থেকে তিনি কুফায় নিয়ে গেছিলেন। কুফা ইরাকের কুফা সেখানে তিনি শাহাদত বরণ করেন। তার শাহাদত বরণ করার পরে তার ছেলে হাসান রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ছয় মাসের জন্য খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেন। এমত অবস্থায় মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ওমর রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুর আমল থেকেই তিনি সিরিয়ার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তিনি প্রথম দিকে হাসান রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর বায়াত মেনে নেন নাই। পরে হাসান রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ইচ্ছা করে যাতে খেলাফতের সুসঙ্গিত থাকে। মুসলিমগণ যাতে এক থাকে। এইজন্য তিনি মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুকে খেলাফত হস্তান্তর করেন এবং দীর্ঘ ২০ বছর মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু খেলাফত পরিচালনা করেন এবং তার খেলাফত আমলে মুসলিম বিশ্বের রাজধানী ছিল দামেশ্কে বর্তমান সিরিয়ার দামেশকে তো তিনি যখন খিলাফতের শেষ পর্যায়ে চলে আসেন ২০ বছর দীর্ঘ খেলাফত করছেন শরীরের দুর্বজা চলে আসে বয়স বেড়ে গেছে তারপরে কে খলিফা হবেন এ বিষয়টা নিয়ে তিনি মক্কাতে হজের সময় মদিনাতে সফরের সময় বিখ্যাত বড় বড় সাহাবীদের সাথে তিনি আলোচনা করছেন যে আমার পরে এই মুসলিম সাম্রাজ্য কাকে দেওয়া যায়।
অধিকাংশই পরামর্শ দিছে যে আপনার ছেলে ইয়াজিদকে দেন। কারণ ইয়াজিদ মানে পরবর্তীতে যত খারাপের কথা শোনা যায় প্রথম দিকে কিন্তু অত খারাপ ছিল না। কারণ সে সেনাপতি ছিল এবং সেনাপতি তার অধীনে যুদ্ধ হয়েছিল সেই ইস্তাম্বুলের যুদ্ধ। যেটা সহীহ বুখারীর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে আপনাদেরকে হাদিসটা বলে দিচ্ছি সহীহ বুখারীর ২৯২৪ নম্বার হাদিস উম্মে হারাম উম্মে হারাম রাদিয়াল্লাহু তালা একজন মহিলা সাহাবী তিনি বর্ণনা করতেছেন একদিন রাস আমাকে বললেন যে আমার উম্মতের মধ্যে যারা নদীপথে প্রথম যুদ্ধ পরিচালনা করবে কারণ রাস নদীতে যুদ্ধ করেন নাই মরুভূমির দেশ তিনি গোড়ায় চড়ে উঠে চড়ে যুদ্ধ করেছেন হেটে যুদ্ধ করেছেন তো তিনি বলে গেছেন যে আমার পরে আমার উম্মতের মধ্যে প্রথম যিনি নদীপথে যুদ্ধ পরিচালনা করবে তাদের জন্য ওয়াজিব হয়ে যাবে ওয়াজিব মানে আজ জান্না তাদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে উম্মে হারাম বলেন রাসূল্লাহ আমি কি সেই যুদ্ধে থাকব বলছে তুমি সেই যুদ্ধে থাকবা রাস ভবিষ্যৎবাণী তারপরে তিনি বললেন যে আমার উম্মতের
মধ্যে যারা প্রথম ইসতাম্বুল হাদিসের ভাষায় কায়েসার ইংরেজিতে কনস্টেন্টিপুল বাংলায় বর্তমানে ইস্তাম্বুল ফিলিস্তি আপনার তুরস্কের ইসতাম্বুল রাসতাম্বুল শহরে যারা অভিযান পরিচালনা করবে তাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন হাদিস কিন্তু সহী বুখারীর এই হাদিসের ব্যাখ্যায় হাদিসের বাস্যকার ইবনে হাজার আসকলান তার তিনি তিনি ব্যাখ্যার মধ্যে বলেছেন যে প্রথম যে যুদ্ধটা নদীপথে হয়েছিল ইয়ার রুমকদের বিরুদ্ধে ২৭ হিজরীতে যখন উসমান রাদিয়াল্লাহু তালা খেলাফতে ওই যুদ্ধের মধ্যে এই মুয়াবিয়া এবং তার ছেলে ইয়াজিদ অংশগ্রহণ করেছিল তাইলে দেখেন রাস কি বলছেন যে ব্যক্তি প্রথম যুদ্ধে নদীপথে যুদ্ধ তাদের জন্য আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন তাইলে দেখেন ইয়াজিদ কিন্তু এই ফজিলতের মধ্যে পড়ে মবি পড়েনি আবার আপনার ইস্তাম্বুলের যুদ্ধে রাসুল বলছেন যে যারা ইস্তাম্বুল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে তাদের জন্য কি বলা হয়েছে মাগফুরুল্লাহ তাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন এই ইস্তাম্বুল যুদ্ধের সেনাপতি কে ইতিহাস ঘাটে দেখেন ৫১ হিজরীতে যখন মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু খলিফা তখন ইয়াজিদের নেতৃত্বে তখন ইয়াজিদ কিন্তু সেনাপতি সাধারণ মুসলমান ছিল না সৈনিক না এই
ইয়াজিদের নেতৃত্বে সেনাপতিত্বে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস আবদুল্লাহ ইবনে ওমর আবদুল্লাহ ইবনে জুবায় এবং বিখ্যাত সাহাবী আবু আবু আইয়ুব আল আনসারী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তারা তাদের নেতৃত্বে তাদের কার নেতৃত্বে ইয়াজিদের নেতৃত্বে ওই ইস্তাম্বুল যুদ্ধ যুদ্ধ আক্রমণ করেছিলেন তাইলে দেখেন ইয়াজিদ সেনাপতি ছিল এবং তার অধীনে অন্যান্য সাহাবীরা যুদ্ধ অংশগ্রহণ নিঃসন্দে তিনি বীর ছিলেন কারণ প্রত্যেক সাহাবীর আলাদা আলাদা ক্ষমতা ছিল কেউ যুদ্ধের পারদর্শী ছিলেন কেউ হাদিসের পারদর্শী ছিলেন কেউ আপনার অন্যান্য দিকে পারদর্শী ছিলেন।
তাইলে দেখেন এবং আবু আইব আনসারী রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু এই ইস্তাম্বুলে তিনি ইন্তেকাল করেছেন ওই যুদ্ধের মধ্যে এবং ওইখানে তার কবর আছে তাইলে দেখেন যে ইয়াজিদ কিন্তু প্রথম দিকে তিনি ভালো ছিলেন এ হাদিসগুলি তার প্রমাণ করে তার কর্মকাণ্ড প্রমাণ পাওয়া যায় তো মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুকে সকল সাহাবী পরামর্শ দিলেন যে আপনার ছেলে ইয়াজিদকে বানান কারণ সে আপনার সাথে থেকে রাষ্ট্র সম্পর্কে সে অনেক জ্ঞান লাভ করেছে যখন মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু অফাত হলো ইয়াজিদ তখন খলিফা হলেন তখনকার যুগের যতগুলি আপনার ইয়া ছিল মানে অঞ্চল ছিল সকল অঞ্চলের গভর্নররা সেটা তার উপরে বায়াত করেছিলেন। তাকে মেনে নিয়েছিলেন। কোন ছিল? মিশরের গভর্নর, মক্কার গভর্নর, মদিনার গভর্নর, কুফার গভর্নর, বসরার গভর্নর সহ যত গভর্নর ছিলেন সবাই তাকে মেনে নিয়েছেন।
প্রথম দিকে চারজন সাহাবী মানেন নাই। বায়াত হয় নাই। তারা কারা? আব্দুল ইবনে উমর আব্দুল ইবনে আব্বাস আব্দুল ইবনে জুবায়র হোসাইন ইবনে আলী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তারা মানেন নাই তারা বায়াত গ্রহণ করেন নাই পরে দুইজন বায়াত গ্রহণ করেছিলেন আব্দুল ইবনে আব্বাস এবং আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু পরে কুফাতে কুফা কোথায় আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর রাজধানী এই কুফার লোকেরা তখন যখন ইয়াজিদ ক্ষমতায় আসলো তখন কুফার লোকেরা চিঠি দেওয়া শুরু করল হোসাইনকে যে আপনি আসেন হাসান তোমার এর আগে শাহাদত বরণ করছেন হোসাইনকে বলছে যে আপনি আসেন আমরা ইয়াজিদকে মানি না আপনার প্রতি আমরা দরদী কারণ আলী রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু কুফাকে রাজধানী বানিয়েছিলেন এবং তিনি সেখানে শাহাদত বরণ করেছেন কুফাবাসী আলী রাদিয়াল্লাহু প্রতি একটু সিম্প্যাথি বেশি তখন প্রায় ১৫০ টা চিঠি পাইছেন হোসাইন রাদিয়াল্লাহু তালা পেয়ে বললেন যে কুফাবাসী এত আমাকে পছন্দ করে মুসলিম ইবনে আকিল তার চাচাতো ভাই হোসাইন রাদি চাচাতো ভাইকে পাঠালেন তুমি যাও কুফাতে যেয়ে দেখ
আসলে কুফার অবস্থা কি তিনি যেয়ে দেখলেন যে কুফার সমস্ত মানুষ প্রায় ১২ থেকে ১৮ হাজার মানুষ এসে বায়াত গ্রহণ করছেন মুসলিম ইবনে আকিলের হাতে হোসাইনের উপরে যে আপনি আসতে বলেন আমরা রাজি ১২ থেকে ১৮ হতো অনেক তখনকার যুগে তখন মুসলিম ইবনে আকিল চিঠি লেখছেন হোসাইনকে আপনি চলে আসেন এলাকার পরিস্থিতি ভালো আপনি চলে আসেন চিঠি পেয়ে হোসাইন রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু রওনা দিয়েছেন অনেকে বলেন যে যুদ্ধ করতে কারবালায় গেছেন না তিনি যদি যুদ্ধ করতে যাইতেন রাসূলামের নাতি তিনি প্রখ্যাত সাহাবী তিনি যদি যুদ্ধের ডাক দিতেন হাজার হাজার লোক তার সাথে যাইত কিন্তু তিনি মাত্র পরিবারের অল্প কয়জন ১০০রও কম সংখ্যা নিয়ে পরিবারের শিশু মহিলা যাদেরকে যুদ্ধে নেয় না কেউ তাদেরকে নিয়ে তিনি কুফায় রওনা দিছেন কেন কুফাবার আমন্ত্রণে ওদিকে যখন ইয়াজিদ জানতে পারছে যে হোসাইন রাদিয়াল্লাহ কুফাতে আসতেছে কেন বায়াত নেওয়ার জন্য কুফাবাসী রাজি তার উপরে তখন ওবায়দুল জিয়াদ ছিলেন বসরার গভর্নর আর কুফার গভর্নর ছিলেন নোমান ইবনে
বাশির রাস বিখ্যাত সাহাবী তখন নোমান ইবনে বাশিরকে অব্যহতি দিয়ে ওবায়দুল ইবনে জিয়াদকে কুফা এবং বাদশা দুই জায়গার আপনার গভর্নর দেওয়া হয়েছে এখন ওবায়দুল ইবনে জিয়াদ কি করলেন প্রথমে ওযে মুসলিম ইবনে আকিল যে মদিনা থেকে এসছে হোসাইনকে খবর দিছে যে আসেন তাকে হত্যা করে দিয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে হত্যা করে দিয়েছে হোসাইন রাদি রাস্তায় আসতেছে এখন চিন্তা করেন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাইতে প্রায় দুই মাসের রাস্তা টেলিফোন মোবাইল কিছুই নাই ওদিকে কি করতেছে খবরও নাই হোসাইন রাদি যাচ্ছেন আর ওইদিকে মুসলিম ইবনে আকিলকে হত্যা করে দিয়েছে তখন যারা বায়াত করছিল তারা সবাই পালায় গেছে না আমরা আর নাই নেতা যখন ছটে গেছে তখন সবাই পালিয়ে গেছে কুফার অবস্থা তো শেষ মানে হোসাইনের পক্ষে ছিল এটা তখন তারা সবাই বায়াত ভঙ্গ করে দিয়েছে হোসাইন রাদিয়াল্লাহ যখন কুফায় পৌঁছেন তখন তখন কেউ আর তার সাথে নাই।
কুফার আগেই এই কারবালা নামক স্থানে ওবায়দুল ইবনে জিয়াদ তাকে বন্দি করে ফেলেন। মানে পথ অবরোধ করেন। তখন হোসাইন দেখলেন যে তার সাথে কেউ নাই। তিনি তিনটা প্রস্তাব দিলেন। বলেন যে আমাকে মদিনায় ফেরত দেন। দুই নম্বর আমাকে ইয়াজিদের কাছে পাঠিয়ে দেন। তিন নম্বার আমাকে কোন অঞ্চলে পাঠিয়ে দেন। আমি যুদ্ধ করে আমার জীবনকে মানে ইসলামের প্রচার করব। আমার জীবন শেষ করে দেব। আমি আমি চাই না এটা। কিন্তু ওবায়দুল ইবনে জিয়াদ তিনি মানছিলেন প্রথম কিন্তু সীমার মানে মানুষ তো সবাই এক থাকে না এই সীমার তখন বলে যে না তার প্রস্তাব তো মানা যায় না বলেন যে হোসাইনকে আপনার হাতে বায়াত নিতে তখন হোসাইন রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু মানেন নাই কারণ আমি তো খলিফার হাতে বায়াত নেব তখন এই মর্মান্তিক ঘটনা এই ১০ই মহররম এই কারবালার ময়দানে সেটা ঘটেছিল দুঃখজনক ঘটনা আজকের এই দিনে তো সম্মানিত উপস্থিতি তাইলে দেখেন এই ইতিহাস পর্যালোচনা তাইলে কে হোসাইন রাদিয়াল্লাহুকে হত্যা করল আমরা অনেকেই
বলে থাকি যে ইয়াজিদ আসলে ইয়াজিদের রাজধানী তো তখন দামেশকে আর ঘটনা ঘটছে কোথায় আমরা কুফাতে আর সেখানকার গভর্নর কে ছিল ওবায়দুল্লাহ জিয়াদ এই ঘটনাগুলি বিশ্লেষণ করে মুফাসসিরগণ যেটা বলছেন যে হোসাইনের হত্যাকারী কে একটা হাদিস আসছে সহী বুখারীর মধ্যে ৫৯৯৪ নাম্বার হাদিস আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তালা একদিন হজের মাটি ছিলেন। তখন কুফা থেকে একজন লোক এসে বলতেছে ইয়া আব্দুল ইবনে ওমর হজের মাঠে মশা হত্যা করার হুকুম কি? মানে আমি হরাম অবস্থায় আছি। যদি মশা একটা মেরে দি হুকুম কি? তখন আবদুল্ম রাদিয়াল্লাহ তার দিকে তাকায়ে বলেন যে আপনি কোথা থেকে আসছেন বলেন তো? কুফা থেকে আসছি। ইরাক থেকে আসছি।
তখন আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু বলেন যে এই ব্যক্তির দিকে তোমরা তাকাও। এই লোকটা আমাকে মশার রক্ত নিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করছে অথচ তারা নবীর সন্তানকে হত্যা করেছে তাইলে দেখেন আবদুল্দি কথা বুঝা যায় কি কারা হসন হত্যা করেবাসী যারা বায়াত করতে চেয়েছিল তারা বায়াত না করে তাকে হত্যা করে দিয়েছে সুন্নাহ মধ্যে বলেছেন সমস্ত আহ মানে যারা এলেমদার হাদিসের কিতাব লেখছেন তারপর তাফসীরের কিতাব লেখছেন তাদেরইয়া হোসাইনকে হত্যার জন্য আদেশ দেন নাই ওবাদ জিয়াদ তিনি পত্র লিখে পাঠিয়েছিলেন হোসাইন আসতেছে তিনি যাতে ইরাকে এসে ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করতে না পারে এটা তুমি বাতা দিবা হত্যার আদেশ তিনি দেন নাই গাজাল গাজা নামতো শুনে থাকেন তার বিখ্যাত কিতাব ইহ উলুমুদ্দিনের মধ্যে তিনি বলছেন কেউ যদি বলেই কি লানত দেওয়া যাইবে যে হোসাইনকে হত্যা করছে তখন বলছেন বলতেছেন আমরা বলব হলাম আসলে এটা প্রমাণিত হয় নাই যে হোসাইনকে ইয়াজিদ মারার আদেশ দিয়েছেন মারেন তো নাই এবং আদেশও দেন নাই হোসাইন রাদিয়াল্লাহু
তালা যখন ইন্তেকাল করেন তখন তিনি একটা কথা বলেছিলেন যেটা বিদায় মধ্যে ইবনে কাসীর রহমাতুল্লাহ তিনি আল্লাহ আল্লাহ আপনি আমার মধ্যে এবং ওই জাতির মধ্যে আপনি ফায়সালা করবেন যারা আমাকে বায়াতের জন্য ডাকল ডাইকা তারাই আমাকে হত্যা করল ইরাকবাসী হোসাইন করছে ইয়াজিদ যখন এই ঘটনা ঘটে গেল তিনি তখন আল্লাহর কাছে দোয়া করতেছেন আল্লাহুম্মালা বিমা আল্লাহ আপনি আমাকে এইজন্য ধরবেন না যেটা আমি পছন্দ করি নাই আমি চাই নাই যে হোসাইনকে কেউ এসুক ম হত্যা করে চাইনি এবং আমি ইচ্ছাও করি না আমার এবং ওবাদুল্লাহ জিয়াদের মধ্যে আপনি ফয়সালা করে দিবেন তো সম্মানিত উপস্থিতি মূল ঘটনা আমাদের অনেকেরই অজানা। আমরা শিয়াদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমরা অনেকেই দেখা যায় যে বিখ্যাত সাহাবীদেরকে এবং বিখ্যাত ব্যক্তিদেরকে অনেক সময় লানত দিয়ে দেই।
তারা যদি লানত প্রাপ্ত না হয় তারা যদি ওইটার হকদার না হয় তাহলে কিন্তু আল্লাহ সুবহানাতালা আপনাকে এইজন্য পাকরাহ করবে। তো সুতরাং এইজন্য আমাদের কারবালার মূল ইতিহাস আমরা জানি কোত্থেকে? আমরা জানি বিশ্বাস সিন্দু থেকে। যেটার অধিকাংশ ঘটনা প্রায় ৯৫% যারা পর্যালোচনা করছেন বলছে যে ৯৫% কাহিনী হল মিথ্যা কারণ সে মীর মোশারফ হোসেন সে শিয়া ছিল উপন্যাসিক ছিল তিনি ইসলামের কোন ব্যক্তি ছিল না ফলে দেখা যায় তিনি তার উপন্যাস তো বোঝে নাই নদীর কাহিনী যেভাবে উপন্যাসকরা লেখে পাখির কাহিনী লেখে এভাবে তিনি উপন্যাস সাজিয়েছেন তো সম্মানিত উপস্থিতি আজকের এই মহররমের এই ১০ তারিখের দিনে কারবালার ঘটনা ঘটিয়েছিল মুসা আলাইহি সালামের ঘটনা ঘটেছে আরো অনেক ঘটনা ঘটবে কিন্তু শরীয়ত আমাদেরকে শিক্ষা দিছেন যে মুসা আলাই সালামের ঘটনাকে স্মরণ করে আমরা একদিন সিয়াম পালন করব আর কোন ইবাদত কোন বাড়াবাড়ি কোন দিকে আমরা যাব না আল্লাহ সুবহাতালা আমাদেরকে বোঝার এবং সঠিক দ্বীনের উপর থাকার তৌফিক দান করুন।