লোড করা হচ্ছে ...

খুতবার বিষয়: প্রতিবন্ধিতা শাস্তি নয়, আল্লাহর পরীক্ষা

প্রতিবন্ধিতা শাস্তি নয়, আল্লাহর পরীক্ষা



আল্লাহ সুবহানাহু তাআলার শুকরিয়া আদায় করছি যিনি আমাদেরকে সুস্থ রেখেছেন। ওয়ালিল্লাহিলহামদুল মিন্নাহ। আমাদের এই সমাজে অধিকাংশ সুস্থ লোকদের পাশাপাশি বেশ কিছু মানুষ রয়েছে শিশু কিশোর বৃদ্ধ বৃদ্ধা যাদেরকে আমরা প্রতিবন্ধী বলি আরবিতে বলা হয় আল মুয়াকুন আল মুয়াকুন অর্থাৎ তাদের মধ্যে একা আছে এরা আকা মানে হচ্ছে শারীরিক অথবা মানসিক কিছু প্রবলেম আছে। কেউ হয়তো সুস্থ হয়ে জন্মগ্রহণ করার পরে এই ধরনের প্রবলেমে পড়েছেন। আবার কেউ হয়তো অসুস্থ হয়ে মুয়াক বা প্রতিবন্ধী হয়েই জন্মগ্রহণ করেছেন। এই ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধী অথবা মানসিক প্রতিবন্ধী লোকদের মধ্যে আমরা নানা রকম দেখি। শারীরিক প্রতিবন্ধীদের মধ্যে আছে যেমন অনেকের চোখ আছে কিন্তু দৃষ্টি নাই। অথবা খুব ক্ষীণ দৃষ্টি।

                                                           

অনেকের হাত নেই, পা নেই। অনেকে সুস্থ ছিলেন কিন্তু এক্সিডেন্টে হাত পা হারিয়েছেন। এখন তিনি প্রতিবন্ধী। মানসিক প্রতিবন্ধীর মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরির আছে। অটিজমের কথা আমরা শুনেছি। অল্প অটিজম, মাঝারি মানের অটিজম বা একটু সিরিয়াস রকমের অটিজম বিভিন্ন ধরনের আছে। কেউ ছোট সময় থেকেই অটিস্টিক হয়। আবার কেউ কিছু কাল যাওয়ার পরেই সেটা আস্তে আস্তে ধরা পড়ে। আবার কেউ তরুণ বয়সে ১৮, ১৯ ২০ বছর বয়সেও অটিজমের শিকার হন। এছাড়াও রয়েছে মানসিক প্রতিবন্ধীদের মধ্যে যাদের হয়তো নানা রকম মানসিক রোগ রয়েছে বিভিন্ন রকম মনোরোগ রয়েছে মানসিক সমস্যা রয়েছে মনস্তাত্বিক সমস্যা রয়েছে যখন এই ধরনের অসুস্থ ব্যক্তিরা অন্যের উপর ডিপেন্ডেন্ট হয়ে যায় মূলত সমাজ তখনই তাদেরকে প্রতিবন্ধী হিসেবে ট্রিট করে তাদেরকে নিয়ে নিয়ে আমরা কি ভেবেছি কখনো মানুষের সাথে আলাপ করলে দেখা যায় যে আমরা অধিকাংশ সুস্থ মানুষ কিন্তু এই প্রতিবন্ধীদের বিষয়গুলো নিয়ে কখনো ভাবি নাই এরকম লোকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি যারা কখনোই ভাবি নাই অবশ্য যদি কারো পরিবারে প্রতিবন্ধী কেউ থাকেন তিনি প্রতিবন্ধী সন্তান বা ছোট ভাই বা বোন তাদের দায়িত্বে থাকেন তখন তিনি বুঝেন যে প্রবলেমটা কতটা গভীর এবং কতটা চ্যালেঞ্জিং।

                                                           

আর যাদের পরিবার আমরা সবাই ভালো আছি তারা একদমই ভাবেন না। আর যারা সচ্ছল এবং সুস্থ তারা আরো বেশি ভাবেন না। বরং অটিস্টিক কাউকে দেখলে তারা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন। হাসিঢাট্টাও করতে দেখা যায় অনেককে। আজকে আমরা আমাদের খুতবা আলোচনা করব এ ধরনের প্রতিবন্ধীদের অবস্থানটা ইসলামে কি? কিভাবে ইসলাম এটাকে দেখছে? এই সমস্যাটাকে ইসলাম কিভাবে সমাধানের জন্য আমাদেরকে তাওজিহ এবং দিক নির্দেশনা দিয়েছে আর এই প্রতিবন্ধী যাদেরকে আমরা বলছি তাদের সামাজিক অধিকারটা কি? তাদের যারা প্যারেন্টস তারা প্রতিবন্ধী সন্তানকে কিভাবে যত্ন নেবেন? আমরা যারা সুস্থ মানুষ আছি এই সমাজের মধ্যে। অথবা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছে, রাষ্ট্রের দায়িত্বে আছে, প্রশাসনিক দায়িত্বে আছে। অথবা ধনী মানুষ যারা আছেন এই প্রতিবন্ধীদের প্রতি তাদের দায়িত্বটা কি? এ বিষয়গুলো আজকে খুব সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করব।

                                                           

এবং পাশাপাশি আরেকটা বিষয় হয়তো প্রাসঙ্গিকভাবে আসবে। সেটি হচ্ছে এদের পেছনে আমরা যে সামাজিকভাবে খরচটা করব সেটা কোন খাত থেকে? সেটা কি যাকাত থেকে? নাকি সাদাকা থেকে নাকি নিজের ইনকাম থেকে ইত্যাদি? আমি এ বিষয়গুলো বলার ইচ্ছা পোষণ করছি যদি সময় আমাদেরকে এলাও করে। প্রথমত বলব প্রতিবন্ধী যাদের ঘরে আছে তারাই বুঝেন যে তিনি কতটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছেন। বিশেষ করে যদি সেটা মানসিক প্রতিবন্ধী হয় তাহলে অবস্থা অনেক বেশি গুরুতর। সুস্থ সবল মানুষ দেখছি কিন্তু সে শিশুর চাইতেও আরো বেশি শিশু কিছুই বোঝে না। মানসিকভাবে সে পঙ্গু। সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করার সাধ্য তার নাই। এমনকি বাথরুম করার মত তার ক্যাপাসিটি নাই।

                                                           

এই ধরনের প্রতিবন্ধী যাদের ঘরে আছে তারা জানেন যে বিষয়টা কতটা গুরুতর। অনেক মানসিক প্রতিবন্ধী তাদের চেহারা দেখে আবার বুঝা যায় যে তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী। সবারই কোন একটা ক্রোমোজোম বা জেনেটিক কোন সমস্যা থাকে যেখান থেকে তারা হয়তো এই মানসিক পঙ্গুত্ব বরণ করে তাদের চেহারায় সেটা অনেক সময় ফুটে ওঠে এই চেহারা দেখে দেখা যাচ্ছে যে অনেকেই হয়তো ভাবেন এই লোক কোন পাপ করেছে এই পাপের ফসল এই সন্তান আমি কোন কোন মাহফিলের বক্তাকেও বলতে শুনেছি যে অটিস্টিক কিংবা প্রতিবন্ধী বাচ্চা হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে মায়ের পাপ অথবা বাবার পাপ। আমি যখন থেকে চিন্তা করেছি গতকাল থেকে বিষয় নিয়ে কথা বলব কারণ আমাদের খুতবা এগুলো নিয়ে কেউ বলে না।

                                                           

তাই না? এটা সামাজিক অসচেতনতার প্রমাণ। এই মেম্বার থেকে মসজিদ থেকে সকল সামাজিক সমস্যা এড্রেস করা উচিত। উচিত না? উচিত। মানুষকে গাইডলাইন দেওয়া উচিত। কারণ বিশেষ করে আমি লক্ষ্য করলাম প্রতিবন্ধীদের ব্যাপার নিয়ে আমরা একটা অন্ধকারে নিমজ্জিত আছি। মাহফিলের বক্তা আমার সামনে একদিন বললেন সেখানে মানে শ্রোতাদের মধ্যে মহিলারাও ছিল। অধিকাংশ পুরুষ ছিলেন। যে মা-বাবার পাপের কারণে প্রতিবন্ধী সন্তান হয়। তো আমি গতকাল থেকে দেখছিলাম মা-বাবার পাপের কারণে সন্তান হয় কিনা। কেমন কিছু পেলাম না। মানে তিনি বলতে চাচ্ছেন মা বাবার পাপের কারণে সন্তান হয়। ইটস এ পানিশমেন্ট ফ্রম আল্লাহ। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা পানিশমেন্ট। কিন্তু এটা সত্য নয়।

                                                           

এটা সত্য নয়। আল্লাহ যে কোন বালা-মুসিবাত অথবা কোন প্রবলেমকে পরীক্ষার জন্য দিয়েছেন এটা আল্লাহ ছায় কেউ জানে না। আর আমাদের পক্ষে এটা সম্ভব নয়। আমি বলে দিব যে আপনার জন্য এটা পানিশমেন্ট। আপনার জন্য ট্রায়াল, আপনার জন্য পরীক্ষা। আপনার দারাজা বৃদ্ধি করার জন্য এটা করা হয়েছে। এতটা ক্লিয়ারলি সূক্ষভাবে এনালাইসিস করা এবং ডায়াগনোসিস করে ঠিক করে দেওয়া এটা আমাদের কাজও নয় উচিতও নয়। বুঝতে পেরেছেন? বরং আমরা যারা মুসলিম কমনলি একটা জিনিস আমাদেরকে মনে রাখতে হবে। আল্লাহ সুবহাতালা আল কোরআনে যে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন সে সতর্কতা নিতে হবে। তিনি বারবার বলেছেন মুমিনদেরকে তিনি পরীক্ষা করবেন।

                                                           

বলেছেন না? অতএব আমাদের কোন সন্তান যদি এমন হয় অথবা আমাদের মধ্যে নিজের মধ্যেও কোন প্রবলেম যদি হয় কেউ যদি এক্সিডেন্টে পড়ে হাত ভাঙ্গেন পা ভাঙ্গেন এটাকে পানিশমেন্ট হিসেবে প্রথমেই মনে করাটা উচিত নয় এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা ট্রায়াল একটা ইমতেহান একটা এখতেবার একটা বালা বালা মানে হচ্ছে ট্রায়াল পরীক্ষা দেখেন আল্লাহ সুবহাতালা কোরআনে কি বলছেন সূরাতুল মুলকের মধ্যে বলছেন আল্লামা হায়াতালা তিনি মৃত্যু এবং জীবনকে সৃষ্টি করেছেন যেন তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন যে কর্মে তোমাদের মধ্যে কে উত্তম ইমাম ইবন কাসীর সহ আরো অনেকে উল্লেখ করেছেন আহবাহ অর্থাৎ কর্মে কে আল্লাহ সন্তুষ্টির জন্য কর্ম সম্পাদন করছে কর্মে কে বেশি মখলেস এবং সম্পাদনের পক্ষ থেকে কে বেশি সুন্নাহ ভিত্তিক আমল করছে আল্লাহ তো সুন্নাহ ভিত্তিক আমল ছাড়া কবুল করেন না নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লামকে পাঠানোই হয়েছে যেন তার উম্মত তার সময় থেকে আরম্ভ করে কেয়ামত পর্যন্ত সকলেই তার সুন্নাহকে ফলো করে অতএব কোন আমলের ভ্যালিডিটি এবং সেটা আল্লাহর কাছে এক্সেপ্টেড হবে কিনা এটা নির্ভর করে এই কাজটি নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লামের সুন্নাহ ভিত্তিক সম্পাদন করা হয়েছে কিনা।

                                                           

আর নবী সাল্লাল্লাহু সলামের সুন্নাহ ভিত্তিক কাজ করার পরে আপনি এ কাজটা কি দুনিয়ার স্বার্থে করেছেন? লোক দেখানোর জন্য করেছেন নাকি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করেছেন? এটা আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। ফলে পরীক্ষার মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে এই জায়গায়। আপনি আপনাকে আল্লাহ যত ট্রায়াল করছেন যত পরীক্ষা করছেন এই পরীক্ষার মধ্যে আপনি উত্তীর্ণ হওয়ার উপায় দুটো ঈমান ঈমানকে ঠিক রাখা এক নাম্বারে তারপরে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্যই আপনাকে সবকিছু করতে হবে আল্লাহ আপনার সন্তান প্রতিবন্ধী করেছেন অতএব সন্তুষ্ট থাকতে হবে আপনি হয়তো অনেকেই বলেন যে আমি কেমনে সন্তুষ্ট থাকবো এত বড় বিপদ আমি কিভাবে সন্তুষ্ট থাকবো তাহলে কি করবেন আপনি লাফালাফি করবেন টেনশন করেন করেন তাহলে আপনিও মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে যাবেন টেনশনে আপনার মানসিক রোগ বাড়বে না কমবে বলেন বাড়বে আর যদি আপনি সন্তুষ্ট থাকতে পারেন আল্লাহর প্রতি মনে করেন যে এটা পরীক্ষার জন্য আল্লাহ দিয়েছে অতএব আমাকে সবর করতে হবে সবর সন্তুষ্ট থাকা মানে সবর প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে কেউ হাহা করে হাসছেন খুশিতে এটা কি পাওয়া যায় ইসলাম তো সেটা বলছে না আপনাকে আপনার সন্তুষ তুষ্ট থাকা মানে হচ্ছে রিলিজিয়াস গাইডলাইন অনুযায়ী আপনি সবর করবেন।

                                                           

আপনি হাউতাস করবেন না। আপনি বিলাপ করবেন না। আপনি চিৎকার করবেন না। আপনি আল্লাহর উপর ক্ষিপ্ত হবেন না। আপনি ধৈর্য ধরবেন। এবং আল্লাহর কাছে রিওয়ার্ড এবং সওয়াবের আশা করবেন। এটা হচ্ছে সবর। এতটুকু করতে পারলে আপনি আল্লাহর প্রতি কাবা এবং কাদারের প্রতি আপনি সন্তুষ্ট থাকলেন তাহলে আপনার জন্য বিশাল সওয়াব থাকবে পরকালে আপনার সন্তান প্রতিবন্ধী থাকবে না এবং আপনিও সুস্থ সবল সুন্দর জান্নাতের অধিকারী হবেন সে কথাগুলো কিন্তু আছে তাহলে এই আয়াতে সূরাল মুলকের মধ্যে আমরা দেখলাম আল্লাহ ট্রায়াল করছেন আমাদেরকে তারপর সূরাতুল আম্বিয়ার ৩৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহতালা বলছেন আর তোমাদেরকে আমরা পরীক্ষা করছি আল্লাহতালা বলছেন আমরা তোমাদেরকে অকল্যাণ দিয়ে কল্যাণ দিয়ে পরীক্ষা করছি কেন ফরে ট্রায়াল ফেতনাতান মানে কি ফরে ট্রায়াল একটা পরীক্ষার জন্য তোমাদেরকে এভাবে আমরা বালা মুসিবতের মুখোমুখি করছি ওলাইনাজাউন আমাদের কাছে তোমাদের ফিরে আসতে হবে এরপরে সূরাত আল ইমরানের বলছেন যে আল্লাহ আমাদেরকে যত বালা মুসিবত দেন এটা মূলত পরীক্ষা ওলাতাম অবশ্য অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করা

                                                           

হবে তোমাদের সম্পদ দিয়ে আর তোমাদের নিজেদেরকে দিয়ে সম্পদ দিয়ে এবং নিজেদেরকে দিয়ে তারপরে সূরাতুল আনকাবুতের মধ্যে আল্লাহতালা কি বলছেন দুই নম্বর আয়াত মানুষ কি ধারণা করছে যে তাকে এমনি ছেড়ে দেওয়া হবে এই কারণে যে সে বলেছিল আমান আমরা ঈমান এনেছি আপনি ঈমান এনেছেন এই দুনিয়াতে কোন বালা মুসিবত পরীক্ষা ছাড়াই আপনি একটা সুন্দর জীবন লাভ করবেন না এটা হবে না আল্লাহ বলছেন তোমাদেরকে অবশ্যই পরীক্ষার মুখামুখি হতে হবে কারণ তিনি বলছেন তাদেরকে ফেতনায় ট্রায়ালের মধ্যে ফেলা হবে না। আমার নাই। কথা বলার কারণে এমনি ছেড়ে দেওয়া হবে। এর উত্তর কি? এমনি ছেড়ে দেওয়া হবে না। এবং আপনি দেখেন আরেকটা আয়াত সূরাতুল বাকারার ১৫৫ ৫৬ নম্বর আয়াত।

                                                           

সেখানে আল্লাহ তালা কি বলছেন? ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সুবহানাল্লাহ। কি চমৎকার কথা। এখানে আরো ইলাবোরেটলি আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা স্পষ্টভাবে ব্যর্থহীন কন্ঠে ঘোষণা করেছেন কি? অবশ্য অবশ্যই তোমাদেরকে আমরা পরীক্ষা করব কিছু ভয়ভীতি দিয়ে কিছু ক্ষুধা দিয়ে এবং কিছু সম্পদ জান এবং ফলফলাদির নক ত্রুটি দিয়ে সেগুলো উঠিয়ে নিয়ে তাইলে অনেক ধরনের পরীক্ষা তোমাদের সামনে আসবে কখনো পরীক্ষা কখনো জান উঠিয়ে নিবেন কখনো তিনি মাল এবং জানের ক্ষয়ক্ষতি আর ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দিয়ে পরীষ করবেন কখনো দুর্ভিক্ষ এবং খোদা দিয়ে তিনি পরীক্ষা করবেন। এর মধ্যে তিনি দেখেন সুসংবাদ দিয়েছেন কাদেরকে? ওবাশ সব নবী সলা সলামকে তিনি বলছেন আর তুমি সুসংবাদ দাও।

                                                           

সেসব লোকদেরকে যারা সবর করে। কারণ সবর মানুষ তখনই করে যখন সে তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকে। সে বেচাইন হয় না, অস্থির হয় না। সে আল্লাহর প্রতি ক্ষিপ্ত হয় না। খুব জাহির করে না। বলে না আল্লাহ কি আর কাউকে পেলেন না? আমাকে কেন দিলেন? অনেক মানুষ দেখবেন এভাবে বলে। সব মানুষই তো আল্লাহর বান্দা নাকি? ইয়াস সালাম। একটু সুস্থ দেহে যদি চিন্তা করেন তাহলে আল্লাহ যদি আপনাকে এমন কোন বালা মুসিবত দেয় তখন আপনি সবর করবেন। আর যদি না দেয় তখন আপনি শোকর করবেন। কি চমৎকার তাই না? এটাই তো নিয়ম। কিন্তু মুমিন যখন আল্লাহর নিয়ামত প্রাপ্ত হয় তখন আল্লাহকে ভুলে যায় না।

                                                           

আমাদের মধ্যে অনেকেই ভুলে যায়। তাহলে ঈমান ঠিকমত কাজ করছে কিনা? সন্দেহ আছে। আর যখন মুমিন কোন বালা-মুসিবত এর মুখোমুখি হয় তখন সে সবর করে। কিন্তু আমাদের মধ্যে অধিকাংশই সবর করে না। এতেও বোঝা যায় ঈমান এই দুই শ্রেণীর মধ্যেও ইফেক্টিভ না। যাদের মধ্যে সবর নাই আর শকল নেই বোঝা যাচ্ছে ঈমান তাদের অন্তরে সঠিকভাবে এখনো স্থিত হয় নাই। ঈমানি তরবিয়াত তারা পাননি। ফলে যেকোন অবস্থায় দারিদ্র এর কবলে পড়লেও আল্লাহর উপর ক্ষেপে যায়। আর যখন আল্লাহ তাকে অনেক ধন দৌলত দেন তখন আল্লাহকে ভুলে জেনা ব্যভিচার নাচ গান ইত্যাদির মধ্যে সায়লাভ হয়ে যায়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রক্ষা করুন। একটা হাদিস বলি।

                                                           

এ হাদিস ইমাম বুখারী এবং মুসলিম আবু সাদ আল খুদী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণনা করছেন নবী সাল্লাল্লাহু সাললাম বলেন মুসলিম বুখারী মুসলিমের হাদিস মুসলিম ধরেন ছোটখাট যে বিপদে পড়ুক না কেন যদি সে কোন ক্লান্তি অনুভব করে অসুস্থতা অনুভব করে যদি তার মধ্যে কোন টেনশন কাজ করে যদি সে দুশ্চিন্তায় ভোগে যদি তার কোন কষ্ট হয় যদি তার এরকম কোন না কোন মানসিক প্রবলেমে তৈরি হয় গাম মানে মানসিক প্রবলেম এমনকি একটা ছোট্ট কাঁটা চলতে গিয়ে গাছ থেকে অথবা পায়ের নিচে বিধলো সেই কাটাও তার গায়ে যদি বৃদ্ধ হয় তাহলে এই যে কষ্টের মুখোমুখী বালা মুসিবতের মুখোমুখী সে হলো এর জন্য আল্লাহ তাআলা তার পাপগুলোকে ক্ষমা করে দেন কিন্তু আপনি যদি রেগে যান আল্লাহর প্রতি আল্লাহ এটা কেন দিলা আল্লাহ তো বলল আমি তোমাকে ক্ষমা করার জন্য দিয়েছি তুমি ক্ষমা চাও না রেগে যাচ্ছ ওকে নো ক্ষমা বাট তোমার মুসিবত কিন্তু লন বিড্র এটাকে উইথড্র করা হবে না আপনি দেখেন না আপনি যদি আল্লাহর উপর ক্ষেপে যান আপনার কোন প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য বা অটিস্টিক সন্তানের জন্যে আল্লাহ কি সাথে সাথে তাকে ভালো করে দিবেন এই ব্যাটা রেগে গেছে এর সন্তানকে ভালো করে দাও আখেরাতে দেখাবো এই সিস্টেম কি আছে বলেন? নাই।

                                                           

মুসলিম যারা তারা আল্লাহতে বিশ্বাসী। তারা যত বড় বিপদেই পড়ুক আল্লাহর উপর ঈমান তারা হারাবে না। তাওয়াক্কুল তারা হারাবে না। আল্লাহর উপর আশা বাদ দিয়ে সে নিরাশ হবে না। সে আল্লাহর উপর ক্ষিপ্ত হবে না। সে কি করবে? তাহলে ধৈর্য ধারণ করবে। আল্লাহ যে তাকদীর তার জন্য নির্ধারণ করেছেন সে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করবে। এই বালা মুসিবতের মুখোমুখী আল্লাহ তাকে করছেন। কারণ আল্লাহ তাকে আখিরাতে অনেক বড় দারাজা এবং অনেক বড় মর্যাদা দেবেন এবং তার সন্তানকে মর্যাদা দেবেন। আচ্ছা এরপরে এ প্রসঙ্গে আরো অনেকগুলো হাদিস আছে। আরেকটা হাদিস বলি। ইমাম তিরমিজী এবং ইমাম আহমদ এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন নবী সলছেন চমৎকারী হাদিস যে যখনই কোন মমিন নর অথবা নারীর উপরে কোন বালা মুসিবত নাযিল হয় তার নিজের নাফসের উপরে অথবা তার সন্তানের উপরে অথবা তার সম্পদের উপরে দেখেন এগুলোই তো আমাদের জীবন তাই না দেখেন এগুলোর বাইরে তো কিছুই নাই হয় আমার নাফস না আমার সন্তান পরিবার প্রয়োজন নয় আমার সম্পদ।

                                                           

এসবটা নিত জীবন। যখনই এই তিনটার কোন একটার মধ্যে কোন বেলা মুসিবত নাযিল হবে এবং সেটা চলমান থাকবে তাহলে সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে এমত অবস্থায় যে তার কোন পাপ থাকবে না। আপনার যদি দৃঢ় বিশ্বাস থাকে এই হাদিসগুলোর উপরে নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লামের কাউলের উপরে তাহলে ওল্লাহি আপনার সন্তানের মধ্যে যদি কোন সমস্যা থাকে অটিজম থাকে অথবা সে প্রতিবন্ধী হয় আপনি বলবেন আপনি তাকে আরো বেশি টেক কেয়ার করবেন বিকজ সে আপনার জন্য ব্লেসিংস বলেন তো ব্লেসিংস সে আপনার জন্য আশীর্বাদ সে আপনার জন্য আশীর্বাদ সে আপনার জান্নাতে যাওয়ার কারণ সে আপনার নিষ্পাপ হওয়ার কারণ সে আপনার আল্লাহ আল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার একমাত্র উপকরণ।

                                                           

তার মাধ্যমে আপনার দারাজা আল্লাহর কাছে অনেক বেড়ে যাবে। আপনি জান্নাতের উচ্চ মাকাম তার মাধ্যমে আপনি পাবেন। কিন্তু শর্ত একটাই আপনাকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। আপনি রেগে যাবেন না। আপনি সন্তানকে আরো ভালোভাবে সেবা যত্ন করবেন। ওকে বুকে আরো ভালোভাবে আকড়ে ধরে রাখবেন। যক্ষের ধনের মত। কারণ সে আপনার জান্নাতে যাওয়ার কারণ। আচ্ছা এরপর আমরা একটু কথা বলবো নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম প্রতিবন্ধীদের প্রতি কেমন আচরণ করেছেন নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লামের জীবনে যতগুলো ঘটনা আমরা দেখি তাতে দেখছি যে তিনি এই ধরনের মক বা প্রতিবন্ধী যারা আছেন তাদের প্রত্যেকের মারাত্মকভাবে টেক কেয়ার করতেন যত্ন নিতেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাকতুমের কথায় ধরেন না আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুমকে তিনি মদিনার গভর্নর করেও রেখে গেছেন।

                                                           

অথচ তার দুচোখ কি ছিল? অন্ধ। প্রতিবন্ধী না? প্রতিবন্ধী। এমনকি দেখেন শুধু নবী নবী সাল্লাম তাকে অনেক সম্মান দিয়েছেন অনেক আনুকূল্য দিয়েছেন অনেক এনায়া এবং যত্ন করেছেন তারপরেও একটা পজিশনে কি হয়েছিল? একবার মক্কার সর্দাররা এসেছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে। আর আব্দুল্লাহ ইবনে মাকতুম তিনি তো কিছু দেখছিলেন না। তিনি বুঝতে পারেননি যে কে এসেছে। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বারবার প্রশ্ন করেছেন। নবী বললেন তোমার প্রশ্নটার উত্তর আমি একটু পরে দেই। আগে ইনাদের সাথে কথা বলি। কারণ ইনাদের সাথে কথা বললে হয়তো মক্কায় একটা বড় পরিবর্তন আসবে। এরা ইসলাম গ্রহণ করবে ইত্যাদি ইত্যাদি। নবী ক্যালকুলেশন কিন্তু একদম পয়েন্ট ছিল।

                                                           

আল্লাহতালা একটা সূরা নাযিল করলেন এখানে কিন্তু অনেক মানে অনেক লেসন আছে। আল্লাহ বললেন সে একটু মুখ ফিরিয়ে নিল। মানবী একটু সমালোচনা করলেন আল্লাহ তালা। কারণ তার কাছে অন্ধ এসে জিজ্ঞেস করছে সে অন্ধর পরিবর্তে অন্য সর্দারদেরকে প্রাধান্য দিল। আসলে নবী টু পয়েন্ট প্রাধান্য দেন নাই। বাট বাহ্যিকভাবে মনে হলো আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুমের চাইতে তিনি তাদেরকে প্রায়োরিটি দিয়েছেন এটাও আল্লাহ বলেছেন সংশোধন করে দিয়েছেন যে না। এ লোক প্রতিবন্ধী হতে পারে সে তোমার প্রিয় সাহাবী সে ইসলামের সম্পদ সে ইসলামের মুয়াজদ্দেন তার মর্যাদা সারা পৃথিবীর বড় বড় কুফফার সর্দারদের চাইতেও অনেক বেশি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গিতা বুঝলেন তো সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ তাইলে আল্লাহ সুবহাতালাও দেখেন প্রতিবন্ধীদের প্রতি অনেক বেশি সহানুভূতিশীল এবং তাদের ঈমানের কারণে তাদের মর্যাদা সুস্থদের চাইতেও বেশি।

                                                           

মনে রাখবেন আজকে যে সন্তান আপনার সন্তান প্রতিবন্ধী যদি এমন হয় যে সে নামাজটা পড়তে পারছে তাহলে মনে রাখবেন তার মর্যাদা হয়তো এই সমাজের অনেক বড় বড় লোকের চাইতেও বেশি আল্লাহর কাছে হতে পারে। তাহলে আল্লাহ এবং তার রাসূল আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রতিবন্ধীদের প্রতি অনেক বেশি মর্যাদাশীল ছিলেন। তাহলে আমরা এটা খুব বুঝলাম যে আসলে প্রতিবন্ধী হওয়া এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন কারস লানত অভিসম্পাদ নয়। পানিশমেন্ট নয়। সকল মুসলিমের জন্য এটা হলো একটা ট্রায়াল বা পরীক্ষা। এই ট্রায়ালে যেতার জন্য আমাদের সবরের সাথে আল্লাহর প্রতি ঈমান ঠিক রেখে তাওয়াক্কুল ঠিক রেখে আল্লাহর কাছে দোয়া অব্যাহত রাখতে হবে। আর আমাদের সন্তানদের এনায়া বা তাদের সেবা যত্ন ঠিকমত করতে হবে।

                                                           

আচ্ছা এখানে কিভাবে আমরা কেয়ার নিব এটা আমরা বলবো ইনশআল্লাহ পরে আরো ডিটেইলস কিছু তো বললাম। তারপরে এটার জন্য যে স্পেচুয়াল রিওয়ার্ড আছে আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সওয়াব আছে সেটা নিয়ে আমরা বলেছি। কিছু হাদিসের আলোকে আমরা বলেছি। আচ্ছা এখন আমরা একটু বলতে চাই যে এই সন্তানদের অধিকারটা কি? এই প্রতিবন্ধীদের অধিকারটা কি? প্রতিবন্ধী অনেক ধরনের হতে পারে। আমরা যেটা বলেছি কেউ অন্ধ। কেউ ঘোড়া। কারো চোখে প্রবলেম আছে অন্ধ না হলেও কারো হাত দিয়ে তিনি কাজ করতে পারছেন না হয়তো দোত হাতি তার পঙ্গুত্ব বরণ করেছে এবং মানসিক প্রতিবন্ধী ইত্যাদি এক্ষেত্রে তাদের প্রথম অধিকার হচ্ছে যত্ন সেবা যত্ন পাওয়ার অধিকার সেবাযত্ন পাওয়ার অধিকার আমি খুব অবাক হচ্ছি অধিকাংশ মুসলিম দেশে এবং যার প্রথম সারি আমাদের বাংলাদেশ এখানে প্রতিবন্ধীদের সত্যিকার অর্থে তেমন কোন অধিকারের জায়গা আমাদের চোখে পড়ে না।

                                                           

আপনি কি দেখেন রাস্তায় চলার পথে প্রতিবন্ধীদের জন্য কোন স্পেশাল কেয়ার আছে? আপনি কি দেখেন বাসে কিংবা ট্রেনে এখন একটা দুটো সিট রাখে লেখে আর কি। কিন্তু ওইটা লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমি এই মেট্রোতে বহুবার চড়েছি এখনো চড়ি। এই মেট্রোতে আমি দেখলাম প্রতিবন্ধীদের জন্য যেখানে সিটগুলো বরাদ্দ করা অথবা বয়স্কদের জন্য সেখানে এই তরুণদের মত ছেলেরা বসে থাকে এবং তাদের কোন লজ্জাও হয় না। যখন বয়স্ক মহিলা আসেন বয়বৃদ্ধ শ্বেতশুভ্র শশ্রুম মন্ডিত কোন মানুষ আসেন একটুও লজ্জা হয় না তাকে একটু সিটটা ছেড়ে দেই। খুব অদ্ভুত। তার মানে হচ্ছে এদেশের মানুষ মানসিকভাবে প্রস্তুত নয় এই সেবা যত্ন দেওয়া। আমি আজকের নাসিহা বলব যে আপনারা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেন।

                                                           

কেয়ারগিভার হওয়ার চেষ্টা করেন। যারা সেবাযত্ন পাওয়ার অধিকার রাখে তাদেরকে সেবাযত্ন পাওয়ার মানসিকতা অর্জন করুন এবং এডুকেটেড হন। কতদিন আর এদেশের মানুষ অজ্ঞমূর্খ থাকবে বলেন তো? নট এডুকেটেড এটাই তো অজ্ঞমূর্খ একজন মানুষের সেবা যত্ন প্রয়োজন আর আপনি দেখে হা করে তাকিয়ে আছেন সিটের মধ্যে বসে আহারে লোকটা কষ্ট করে দাঁড়িয়ে আছে হয়তো মনে মনে ভাবছেন না সুবহানাল্লাহ এটা সুস্থ মানসিকতার লক্ষণ না তাহলে আমাদেরকে এই জিনিসটা খেয়াল রাখতে হবে যে তাদের এটা হল যত্ন পাওার পাওয়ার অধিকার। দ্বিতীয় হচ্ছে কি? তাদের শিক্ষার অধিকার। যত্ন পাওয়ার অধিকার আরেকটু বলি। হসপিটালে তাদের জন্য স্পেশাল করিডোর থাকা দরকার। স্পেশাল মানে তাদের প্রায়রিটি থাকা দরকার।

                                                           

অন্যরা দাঁড়াবে সে দাঁড়াবে না। অর্থাৎ তার চিকিৎসার জন্য যারা আসবে নিয়ে আসবে সে দাঁড়াবে না। অন্যরা টিকেট কাটার জন্য দাঁড়াবে সে দাঁড়াবে না। সব জায়গায় তাকে প্রায়রিটি দিতে হবে। এটাই তো। কারণ আল্লাহ তো অলরেডি তাকে একটা চ্যালেঞ্জের মুখে সৃষ্টি করেছেন। সে এবং তার ফ্যামিলি সবসময় একটা চ্যালেঞ্জের মধ্যে। আপনিও কি আরেকটা চ্যালেঞ্জ তাড়িয়ে দিবেন? তার জন্য বাড়িয়ে দিবেন? তাই না? এভাবে আমাদের প্রত্যেকটা জায়গায় তাদের জন্য তাদের প্রতি একটু ভালোবাসার দৃষ্টি, মমতার দৃষ্টি। আমি বলবো না করুণার দৃষ্টি। করুণা হচ্ছে মানুষকে তাচ্ছিল্য করে দয়া করা। সেটার প্রয়োজন নাই। সেটা করলে আপনার জন্য রিওয়ার্ড থাকবে না। মানুষকে তাৎসল্য করে করুণা করলে মনে রাখবেন আপনার জন্য আল্লাহর কাছে রেওয়ার্ড থাকবে না।

                                                           

মানুষকে ভালোবেসে তার সাহায্যে এগিয়ে আসবেন। মমতা করে তার সাহায্যে এগিয়ে আসবেন। এটাই হচ্ছে মানে আপনার কেয়ার গিভার হওয়ার প্রমাণ। কেয়ার গিভার অর্থাৎ যত্নদাতা। কেয়ার গিভার মানে কি? যত্নদাতা। তাহলে এই যত্ন দান করতে হবে রাষ্ট্রকে। রাষ্ট্রের প্রশাসনকে। এমনকি পুলিশ স্টেশনেও এটা খেয়াল রাখতে হবে। আমরা অনেক সময় দেখি কিছু অটিস্টিক সন্তানকেও পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। তাহলে তাদেরকেও ট্রেনিং দিতে হবে যে তার জন্য কে মানসিকভাবে একটু বিধ্বস্ত বা অসুস্থ প্রতিবন্ধী এটা যেন ডিফারেশিয়েট করতে পারে। মনে রাখবেন, অটেস্টিক সন্তানের প্রতি যদি আপনি নির্মম আচরণ করেন, সে কিন্তু আরো বেশি অসহায় হয় এবং তার রোগটা আরো ডিপে চলে যায়। আরো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

                                                           

প্রত্যেকটা জায়গায় প্রত্যেকটা জায়গায় আমাদের তাদের প্রতি যত্ন বাড়াতে হবে। তাহলে এই যত্ন পাওয়াটা তার অধিকার। এ অধিকার পৃথিবীর দেখেন অমুসলিম রাষ্ট্রগুলো দিয়েছে। আমেরিকা, কানাডা, ইউরোপের প্রত্যেকটা রাষ্ট্রে প্রত্যেকটা জায়গায় প্রতিবন্ধীদের জন্য একটা প্রায়রিটি আছে। কিন্তু হতাশ হই যখন মুসলিম দেশগুলোতে যাই এবং দেখি আমাদের নিজেদের সমাজেই এটা নাই। তাহলে আপনি আজকে নিজে থেকে স্টার্ট করেন। সেকেন্ড হচ্ছে তার শিক্ষার অধিকার। আমাদের বাংলাদেশের প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার অধিকার নেই বললে চলে। এই দু তিনটা চারটা স্কুল আছে বাংলাদেশে এটা দিয়ে কি চলবে মনে রাখবেন যতই দিন যাবে প্রতিবন্ধী ছেলেদের সংখ্যা ছেলেমেয়েদের সংখ্যা শিশুদের সংখ্যা বাড়বে ওয়েস্টার্নে যদি আপনি যান সুবহানাল্লাহ প্রায় প্রত্যেকটা ফ্যামিলিতে এখন প্রতিবন্ধী সন্তান এটার অনেকগুলো কারণ আছে গ্রীনহাউস এফেক্ট পারমাণবিক এই যে তারা পরীক্ষা নিরীক্ষা গুলো করে তারপরে আমাদের যে আবহাওয়াটা নষ্ট হয়ে গেছে ঢাকার আবহাওয়া পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট হবা।

                                                           

মনে রাখবেন এখানে গর্ভবতী মায়েরা থাকেন। অতএব তাদের ভ্রুণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মনে রাখবেন। এরপরে আপনারা আমরা মিলে একটা খুবই মন্দ কাজ করছি। সেটা কি জানেন? গাছ কেটে ফেলছি। নদ নদী জলাশয় গুলো আমরা নষ্ট করে ফেলছি। ফলে খুব দ্রুত আমাদের আবহাওয়া আগামী পাঁচ ১০ বছরে আরো খারাপ হবে। আমাদের মেয়েরা যখন গর্ভবতী হবে তখন তাদের ভ্রুণ আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মনে রাখবেন অতএব প্রতিবন্ধী সন্তানদের যদি যত্ন নিতে চান তাহলে মায়ের গর্ভে যে সন্তানরা আছে তাদের প্রতি আমাদের সতর্কতা আমাদেরকে এপ্লাই করতে হবে তা না হলে সংখ্যা ভালনারেবিলিটি ঝুঁকি কিন্তু বেড়ে যাবে আচ্ছা আমি তাদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে বলছিলাম শিক্ষার অধিকার এদেশে অলিতে গলিতে মাদ্রাসাও হচ্ছে স্কুলও হচ্ছে আমি দেখলাম যে ছোট ছোট ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে স্কুল হচ্ছে মাদ্রাসা হচ্ছে কিন্তু অন্ধ মানুষদের পড়ালেখার ব্যবস্থা কি এভেলেবল? অন্ধ মানুষদের কোরআন পড়ানোর জন্য কি ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলেন তো? এই মসজিদ মসজিদ সুন্নাহ কি ব্যবস্থা নিয়েছে? ব্রেলিং পদ্ধতিতে কোরআনের কথা আপনারা হয়তো শুনেছেন।

                                                           

সেগুলো কি বাড়ানো উচিত না? আমি দেখেছি সেকুলার এনজিও অনেকগুলো আছে যারা অন্ধদেরকে নিয়ে কাজ করে। কিন্তু মুসলিমদের কেন যেন এগুলো কাজ করতে ইচ্ছে করে না। কেন করে না এটা আপনারাই জানেন। কোন মসজিদ ভিত্তিকও কাজের কোন প্রচেষ্টা নাই। যেই মসজিদ অন্ধদেরকে নিয়ে কাজ করবে। ওই মসজিদটা অটিস্টিকদেরকে নিয়ে কাজ করবে। এভাবেও তো কাজ হতে পারে তাই না? আমাদের মসজিদগুলো আমাদের ইসলামিক সেন্টারগুলো ইসলামিক প্রতিষ্ঠানগুলো সবসময় মধ্যবিত্ত শ্রেণী আর সুস্থ মানুষদেরকে নিয়ে কাজ করে। অথচ এই সমাজের মধ্যে যারা অযত্নে পড়ে আছে তাদেরকে নিয়ে কাজ করার চিন্তা কারো মাথায় আসে না। এটা ভয়াবহ রকমের আমি মনে করি মানবিক বিপর্যয়। তৃতীয় আমরা আরেকটা অধিকার বলব যে তাদের জন্য সবকিছু সহজ করে দেওয়া।

                                                           

যেহেতু আল কোরআনে আল্লাহ সুবহাতালা বারবার বলেছেন ইরদল্লাহ সহজতা চান। এবং রাফুল হারাজ এটা ইসলামের অন্যতম মাকাসেদের শরিয়া শরিয়া লক্ষ্য উদ্দেশ্য তাহলে আজকের প্রতিবন্ধী সন্তান এই সমাজটা এই সমাজের মানুষগুলো প্রতিবন্ধীদের চলাফেরা খাবার দাবার চিকিৎসা এটাকে সহজ করেছে কিনা। এদের জন্য খুবই কঠিন। যে পরিবারে প্রতিবন্ধী সন্তান আছে সেই পরিবার জানে একে লালন করা তার জন্য খুব কঠিন। কারণ এই সমাজের লোকগুলো অনেকে টিস করে। অনেকে কোন হেল্প করে না। কোন ফ্রি চিকিৎসা নাই। রাস্তাঘাটে তাদের জন্য কোন মানে কেয়ারগিভার নাই। তাদের জন্য তাইসির নাই। ইজিনেস নাই। অথচ এটা কিন্তু তাদের অধিকার। এটা তাদের অধিকার। আপনার বাবা যখন স্ট্রোক করে বিছানায় পড়ে যায় তখন কি আপনি দেখাশোনা করেন না? দেখাশোনা করেন।

                                                           

অথবা আপনার আত্মীয়-স্বজন মিলে পালাক্রমে আপনারা ডিউটি করেন। কারণ বাবাকে তো অসুস্থ হওয়া যাওয়ার কারণে এদেশে এরকম ঘটনা অবশ্য ঘটেছে যে বাবা মা অসুস্থ হয়ে গেছে। এখন তো আর পারছি না। তো কি করব? রাস্তায় ফেলে আসি। এই ঘটনা ঘটেছে বহু জায়গায় আমি নিজে পড়েছি পত্রিকায়। এবং এ ধরনের ঘটনা কোভিড৯ এর সময় আরো বেশি ঘটেছে বা মামা অসুস্থ হওয়ার পরে ভাবছে যে আমিও হয়ে যাব ফেলে দিয়ে আসি ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন মানুষের কত মারাত্মক মানসিক অধপতন আখলাকী অধপতন নৈতিক অধপতন সুবহানাল্লাহ আল্লাহ যেন আমাদেরকে রক্ষা করেন আমি এবার সংক্ষেপে একটু বলব প্রতিবন্ধীদের এই অধিকারগুলো মনে রেখে আমরা কিভাবে দায়িত্ব পালন করব।

                                                           

প্রথম দায়িত্ব আসে প্যারেন্টসদের উপর। প্যারেন্টস এর উপরে। প্যারেন্টসের দায়িত্বগুলো একটু বলে নেই। বেশ কয়েকটা দায়িত্ব আছে। আটটা দায়িত্ব আমরা এখানে বলব। প্যারেন্টসের প্রথম দায়িত্বটা হচ্ছে এই সন্তানগুলোকে শুরু থেকেই টেক কেয়ার করা। অটিজমের ক্ষেত্রে বা অনেক ক্ষেত্রে সন্তানদের চিকিৎসা ঠিকমত নিশ্চিত করতে পারলে দেখা যায় সেটা ভালো হয়ে যায়। কিন্তু বাবা মা যদি গাফেল থাকেন ব্যস্ত জীবনে সন্তানদের কথা ভুলে গেলেন তাদের ঠিকমত চিকিৎসা হলো না তো পরিণত বয়সে কিন্তু পুরো পরিবারকেই এর জন্য মূল্য দিতে হবে এবং এক্ষেত্রে বাবা মাকে খেয়াল রাখতে হবে পিউবাটারি যখন সে বালেগ হবে ওই সময়ে অন্য সন্তানদের মত কিন্তু সে না সে আলাদা তারও পিউবাটারি আসে সেও বালেগ হয় সে কিছু বলতে পারে না।

                                                           

তার সমস্যাগুলো নিয়ে বলতে পারে না। মেয়েদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরো একটু বেশি। তার পিওবাটারি আসে মাসিক সহ। তখন কিভাবে টেক কেয়ার করবেন এগুলো কিন্তু বাবা-মাকে খুব কেয়ারফুলি দেখতে হবে। এবং এক্ষেত্রে তারা প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং নেবেন ডাক্তারদের থেকে অথবা অন্য যারা এ ব্যাপারে অভিজ্ঞ তাদের থেকে। দ্বিতীয় যে বিষয়টা সেটি হচ্ছে প্রতিবন্ধী সন্তানরা এবং বিশেষ করে মানসিক প্রতিবন্ধী যারা তারা ভালো-মন্দের মধ্যে কিন্তু ডিস্টিংুইশ করতে পারে না। কোনটা নিষিদ্ধ কোনটা শুধু এটা বলতে পারে না। মেহমান আসলে অনেক প্যারেন্টসরা খুব লজ্জা পান। তাকে রুমের মধ্যে আটকায় রাখেন। এটা করবেন না। দেখুক মানুষ। অসুবিধার। কি অসুবিধা বলেন? সে হয়তো মেহমানের সাথে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না অথবা বেঠিক কোন আচরণ করে ফেলবে।

                                                           

তো মেহমানকেও তো এডুকেট হতে হবে। তারও তো সন্তান এরকম হতে পারতো নাকি? সবার সহানুভূতি দরকার। বরং তাকে সোশালাইজেশনের জন্য সবার সামনে নিয়ে আসবেন। সবাই যেন তাকে একটু দোয়া করে দেয়। তার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দেয়। তাকে একটু জিনিস খাওয়াইয়া দেয়। তাই না? আপনিও তাই করবেন। অন্যের ঘরে যখন যাবেন টেক কেয়ার করবেন। ওকে একটু আপনার বন্ধুর সন্তান অথবা আপনার কলিগের সন্তান অথবা আপনার বোনের সন্তান, ভাইয়ের সন্তান ওকে একটু আদর করবেন। এই সন্তানেরা আর কিছু না বুঝুক আদরটা বুঝবে। এভাবে। তারপর তৃতীয় যে বিষয়টা বলব সেটি হচ্ছে এই সন্তানদের তো অনেক দুর্বল পয়েন্ট আছে। কিন্তু বাবা-মা হিসেবে আপনাকে তার সবল পয়েন্টটাও একটু খুঁজে বের করতে হবে।

                                                           

যাতে করে আপনি এই সবল পয়েন্টটার উপর ভিত্তি করে তাকে আরেকটু ট্রেনিং দিয়ে তার যোগ্যতাকে আপনি একটু অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে পারেন। যেমন ধরেন মানসিক প্রতিবন্ধী অনেকে দেখবেন সুন্দর করে লিখতে পারে। তা লিখার যোগ্যতাটা তাকে আপনি ট্রেনিং দেন। অনেকে প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলো আকতে পারে। এখানে প্রাণীর দৃশ্য তো আকা ইসলামে জায়েজ নেই। তাহলে সে সুন্দর সুন্দর চিত্র অথবা ক্যালিগ্রাফি আকতে পারে। তাকে সেভাবে আপনি গড়ে তোলেন এবং তার ক্যালিগ্রাফি আপনি বিক্রি করতে পারেন অনেক দামে। আমারও এক সন্তান সে ভালো ক্যালিগ্রাফার। তার কোন কোন ক্যালিগ্রাফি আমরা ৩০০০ ৪০০০ ৫০০০ টাকা বিক্রি করছি। একটা ছোট্ট ক্যালিগ্রাফ। তাহলে আপনার সন্তান যদি এভাবে মুয়াক হয় প্রতিবন্ধী হয় তাহলে তার যেকোন একটা যোগ্যতার বিকাশ যদি আপনি করতে পারেন ওটা দিয়েই সে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।

                                                           

চতুর্থ যে পয়েন্টটা সেটি হচ্ছে তার সাথে সবসময় পজিটিভ ব্যবহার করতে হবে। আপনি আপনার সন্তানের সাথে এবং অন্যরাও আপনার সন্তানের সাথে। পজিটিভ সে প্রতিবন্ধী আপনি যদি তুমি এমন করতেছো কেন? কিছু মানুষ অবিবেচক। প্রতিবন্ধীর চাইতেও সে অবিবেচক। সে প্রতিবন্ধীর সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করে। তাই না? সবসময় মনে রাখবেন তাদের সাথে ইতিবাচক ব্যবহার করতে হবে এবং তার প্রশংসা করতে হবে। আমার এই সন্তানটা আমার কলিজার টুকরা। এই সন্তানটা আমার অত্যন্ত প্রিয়।

                                                           

আপনি এভাবে বলবেন ও যখন এ কথাটা বুঝবে তখন তার মনটা কত ভালো হয়ে যাবে এদের এদেরকে সবসময় আন্তরিক দিক খুব উৎফুল্ল রাখা মনের দিক থেকে এবং তাদের প্রশংসা করা সে যে ভালো ভালো কাজগুলো করে হ্যা সুন্দর করে হয়তো একটা কথা বলল আপনার প্রশংসা করবেন একটা কাজ করলেও প্রশংসা করবেন পঞ্চম যে বিষয়টি সেটি হচ্ছে পরিবারের আশবার সাথে এবং পরিবারের বাইরে আপনার যে সার্কেল আছে এদের সবার সাথে তার সম্পর্ক অনেক শক্তিশালী করা বাড়ানো ইন্টারেকশন বাড়ানো ষষ্ঠ যে বিষয়টা সেটি হচ্ছে তাকে কিছু সুযোগ করে দেওয়া যাতে সে পরিবারের কোন কাজে হেল্প করতে পারে অন্য মানুষকে হেল্প করতে পারে এতে তার আস্তে আস্তে একটু কনফিডেন্স আসবে নিজের উপর আস্থা তৈরি হবে সপ্তম যে বিষয়টি সেটি হচ্ছে আপনার সন্তানের কোন জায়গায় প্রবলেম তার কি কোন নির্দিষ্ট মানসিক সমস্যা আছে অথবা এটা কি অটিজম নাকি অন্য কিছু মানে যেকোন বিষয়েই যদি আপনি দেখেন যে আপনার সন্তান প্রতিবন্ধী এটা বুঝা যায় বাট

                                                           

তার মূল কারণটা কি এটা খুঁজে বের করতে হবে এবং সেই কারণ সামনে রেখে আপনি ডাক্তারদের সাথে কাউন্সিলিং করবেন তাদের প্রেসক্রিপশন নেবেন এবং তার চিকিৎসা অব্যাহত থাকতে হবে অষ্টম যে বিষয়টা সেটি সেটি হচ্ছে এই সন্তানেরা তারাও যদি কিছু বুঝে সেও কিন্তু ক্ষিপ্ত হতে পারে যে আমি কেন এরকম হইলাম? আমাকে আল্লাহ কেন এমন করলো? আসতে পারে না? আসতে পারে। বিশেষ করে শারীরিক প্রতিবন্ধী হলে তাদের তো মন পুরোটাই ঠিক। মানসিকভাবে সে সুস্থ। তাই না? আমরা প্রতিবছরই দেখি যে হাত নাই। দুই হাত নাই। কিন্তু এভাবে কলম পা দিয়ে লিখে পরীক্ষায় পাশ করে।

                                                           

প্লাস পায় তাই না এরকম তো খুব কম মানে যদি এক লক্ষ প্রতিবন্ধী থাকে তার মধ্যে হয়তো কয়েকশ এভাবে পাস করে এই সন্তান এভাবে করলো কারণ তার বাবা মা তাকে ট্রেনিং দিয়েছে তাকে বলেছে তুমি হতদ্দাম হইও না তুমি আল্লাহর উপর ঈমান হারায়ও না তুমি কাজ করে যাও তুমি সফল হবা ইনশাআল্লাহ আপনার সন্তানকেও এভাবেই তাকে ট্রেনিং দিতে হবে যে আল্লাহ তোমাকে যে এই অবস্থায় রেখেছেন এটার এটাকে তুমি একসেপ্ট করো। একসেপ্ট করতে পারলে তার মানসিক প্রশান্তি চলে আসবে। আলহামদুলিল্লাহ। তাই না? আল্লাহ যা রেখেছেন আলহামদুলিল্লাহ। তাই না? আমাদের সমাজে তো অনেক রিক্সাওয়ালাও আছে। সে যদি মনে করে যে আমি কেন ১০২০ কোটি টাকার মালিক হইলাম না।

                                                           

রিক্সাওয়ালার কি অবস্থা হবে বলেন তো? আপনি যদি একজন অফিসার হন জুনিয়র অফিসার। আপনার বেতন কতইবা হবে? সব মিলায়ে ২০,০০০ ২৫ হাজার। আপনি যদি বলেন যে আমি কেনদেড় লাখ টাকা বেতন পাই না? এই হাউতাসের মধ্যে থেকে মানসিক অশান্তি ছাড়ার কিছু হতে পারে। অতএব সন্তানকে সবসময় তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকার একটা তাদরীব ট্রেনিং দিবেন। যে ধরনের একা বা প্রবলেম তার মধ্যে আছে সে প্রবলেমটা যেন সে একসেপ্ট করে এবং সে যেন আল্লাহ থেকে বিমুখ না হয়। তাহলে দেখবেন সে আল্লাহর বারাকা দ্বিগুণ পাবে। যেহেতু সে এই কঠিন অবস্থায় আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট সবর করছে। অতএব সে আশা করা যায় অনেক বেশি সফল হবেন এবং এই এরাকা বা প্রতিবন্ধী হওয়াটা তার জীবনের সাফল্যের পথে বাধা নাও হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে দুনিয়া আখেরাত দুটোই তাদের জন্য কল্যাণকর হতে পারে।

                                                           

আচ্ছা এরপর আমি বলব যে আমাদের আমাদের প্রতি কি মানে তারা কি ধরনের ব্যবহার পাওয়ার অধিকার রাখে? আমাদের দুটো একটা হলো প্রতিবন্ধীদের প্রতি আমরা যারা ওই পরিবারের সদস্য না তাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে। আর প্রতিবন্ধীদের প্রতি আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র এবং উম্মারও কিছু দায়িত্ব আছে। আচ্ছা এখানে আমরা যারা ওই পরিবারের সদস্য না তাদের দায়িত্বদের মধ্যে এক নম্বর দায়িত্ব হচ্ছে প্রথমত তাদের প্রতি সহানুভূতি রাখা। এবং দ্বিতীয়ত আল্লাহর শোকর আদায় করা। যে আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ আমাকে এই বালা মুসিবতের মধ্যে ফেলেন নাই। কিন্তু এই যে দোয়াটা করছেন এটা যেন তাদের প্রতি আবার তাচ্ছিল্যের কারণ না হয়। তাহলে দ্বিতীয় পয়েন্ট আমরা বলব এটাই যে আমরা যারা এই বালা মুসিবতের মধ্যে পড়ি নাই তারা যেন এই প্রতিবন্ধী ফ্যামিলির কারো প্রতি বা প্রতিবন্ধী এই সন্তানের প্রতি শিশুর প্রতি কিশোর বা কিশোরীর প্রতি আমরা যেন তাচ্ছিল্য না করি।

                                                           

এমন কোন কথা না বলি যাতে তার কষ্ট হয় অথবা তার বাবার কষ্ট হয় অথবা তার মায়ের কষ্ট হয় অথবা এই পরিবারের কারো কষ্ট হয় এমন কোন আচরণও যেন না করি এমন কোন কথাও যেন আমরা না বলি তৃতীয় হচ্ছে তাদের জন্য আমরা যেন দোয়া করি তাদের জন্য আমরা যেন দোয়া করি এবং মমতার সাথে দোয়া করি তাদের প্রতি ভালোবাসা এবং মমতা রেখে তাদের জন্য দোয়া করি চতুর্থ হচ্ছে তাদের প্রতি এহসান করা অর্থাৎ তাদেরকে সহযোগিতা করা। এহসান মানে আমি আগেও বলছি এখনও বলছি সেটা হচ্ছে তাচ্ছিল্যমূলক করুণার দরকার নেই। তাদের প্রতি মমতামূলক ভালোবাসা।

                                                           

শ্রদ্ধার সাথে তাদেরকে সহযোগিতা করা এবং এই ধারণা করা যে সে আল্লাহর কাছে বড় রিওয়ার্ড পাবে এবং আল্লাহ আমাদেরকে এ থেকে নিস্তাত দিয়ে আমাদের প্রতি দয়া করেছেন অতএব আমাদের সবার উপর ওয়াজিব হচ্ছে এই সন্তানদের প্রতি এহসান করা সহযোগিতা করা সহমর্মিতা প্রকাশ করা এবং এই সহমর্মিতা দুরকম একটা হলো সিম্প্যাথি আরেকটা হল ইম্প্যাথি সিম্প্যাথি স্বাভাবিক সহ সহমর্মিতা আর ইম্প্যাথি হচ্ছে আমি এরকম হলে যে ধরনের ভালোবাসা আনুকূল্য অন্যের কাছে প্রত্যাশা করতাম সেটাই আমি এখন তাকে দিচ্ছি এটা হল ইম্প্যাথি এটা তাদেরকে দেওয়া আচ্ছা আর উম্মা বা জাতি বা সমাজের কি করণীয় সমাজের করণীয় কিছু কথা কিন্তু শুরুতেই চলে এসেছে আমরা সার্বিক পর্যায়ে উম্মা রাষ্ট্র সমাজকে এক হিসেবে যদি দেখি যেহেতু এটা মুসলিম সমাজ মুসলিম রাষ্ট্র এবং মুসলিম উম্মাহ।

                                                           

তাহলে প্রতিবন্ধীদের সবার প্রতি আমাদের একটা দায়িত্ব রয়েছে। সে দায়িত্বটা অনুভব করা। এটা ওয়াজিব। কিন্তু মনে রাখবেন এইটা শুধুমাত্র দয়া নয়। দয়া নয়। যে কারো সন্তান প্রতিবন্ধী হতে পারে। কার সন্তান হবে কেউ বলতে পারে? বলতে পারে না। অতএব এই সমাজে যেন প্রতিবন্ধী যে কোন সন্তান রেয়াত পায়, এনায়া পায়, যত্ন পায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। আজকে বাংলাদেশে এটা খুবই অপ্রতুল। যেটা আমি বললাম যেমন তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন অপ্রতুল। ঠিক তেমনি আমি যখন মদিনা ইউনিভার্সিটিতে পড়তাম তখন এই ধরনের প্রতিবন্ধীদের অনেকগুলো মারকাজ বিভিন্ন শহরে ঘুরে দেখার সুযোগ হয়েছিল। তখন ভাবতাম যে বাংলাদেশে তো এমন কোন মার্কাস দেখি নাই। বড় বড় সেন্টার বিশাল আমার মনে হয় কয়েকশ একর বা ৫০ একর ২০ একর নিয়ে বিশাল এক সেন্টার সেখানে এদের বিশেষ যত্ন নেওয়া হয় এবং মাতৃ আনুকূল্যে বা মাতৃস্নেহে পিতৃস্নেহে এদেরকে সেখানে মানুষ রাখা হয়।

                                                           

যারা পরিবারে হয়তো থাকতে পারছে না নানা কারণে। বাবা মা ব্যস্ত। তবে আমি প্রথমত বলব এই ধরনের সেন্টার থাকা ভালো। তাতে করে যাদের প্রবলেম বেশি তাদের সুচিকিৎসারও ব্যবস্থা হয়। কিন্তু কোন সন্তান এরকম অটিস্টিক হলেই আমরা এই মারকাজে দিয়ে দেব। এটা কিন্তু ঠিক না। এই সন্তানকে বাবা-মায়ের পিতৃস্নেহে মাতৃস্নেহে তাদেরকে রাখা এটাই হচ্ছে ওয়াইজ। এটাই হচ্ছে আমাদের জন্য প্রাথমিক করণীয়। তবে তারপরেও এই প্রতিবন্ধীদের নানা ধরনের সমস্যার চিকিৎসা এটা সাধারণ হসপিটাল গুলোতে নেই বললেই চলে। ফলে তাদের জন্য স্পেশাল হসপিটাল ডায়াগনোসিস সেন্টার এবং বিভিন্ন মারকাজ তাদের জন্য তাদের মারকাজ রেয়াত আল মুয়াকিন এটাকে বলা হয়। সেটা থাকতে হবে। আমাদের মদিনা ইউনিভার্সিটির একজন শিক্ষক।

                                                           

তিনিও একটা সময় খুবই সুস্থ ছিলেন। আমাদের সাথে অনেক প্রোগ্রাম করতেন। এমনকি খেলাধুলাও করতেন। তিনি তার পরিণত বয়সে প্রায় ৪০ বছর বয়সের কাছাকাছি যখন বয়স হলেন তিনি অসুস্থ হয়ে গেলেন। আর চলাফেরা করার ক্ষমতা হারালেন। নিজে ময়াক এবং প্রতিবন্ধী হয়ে গেলেন। এ অবস্থায় তিনি বাংলাদেশে কয়েকবার এসেছেন বিগত বেশ কয়েক বছরে। এবং তাকে দেখেছি মদিনার যত প্রতিবন্ধী আছে এদেরকে নিয়ে তিনি নিজে প্রতিবন্ধী হওয়ার পরে কাজ বাড়িয়ে দিয়েছেন। তো আমি আশা করব যে আমরা প্রতিবন্ধী হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবো না। আমরা যারা সুস্থ আছি ইনশাআল্লাহ তারা চেষ্টা করব এদের পেছনে কাজ করার জন্য। এটা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

                                                           

এটা আমাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। কোন পরিবারের সন্তানরা যেন অযত্নের অবহেলায় থেকে কষ্ট না পান। আর এদেশে অনেক গরীব ফ্যামিলিতে প্রতিবন্ধী বাচ্চারা আছে। এদেরকে কে দেখাশোনা করবে? তাই না? এ দায়িত্বটা আমাদের সমাজে নিতে হবে। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকেই হয়তো ভাবেন আমার তো টাকা নাই। আমাদেরকে দেখতে হবে যারা ধনী ফ্যামিলির সন্তান। তারা তাদের টাকা দিয়েই তাদের যত্ন এবং তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু যারা এমন ফ্যামিলি সন্তান যাদের এগুলোর চিকিৎসার জন্য কোন ব্যবস্থা নাই তাদের জন্য আমরা যাকাতের টাকা ব্যবহার করতে পারি। তাদের জন্য সাদাকাত টাকা ব্যবহার করতে পারি। এভাবে তাদের জন্য একটা ফান্ড রেজ করে আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারি।

                                                           

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যাকাতের টাকা ইউজ করা যাবে কিনা এটা নিয়ে তো এখতেলাফ আছে। এক্ষেত্রে আমরা বলব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমরা সাদাকাত টাকা দিয়ে করব। কিন্তু এই সন্তানদের পেছনে যে খরচটা আমরা করব তাদের চিকিৎসার খরচ, তাদের তারবিয়াতের খরচ, তাদের ট্রেনিং এর খরচ, তাদের খাওয়া-দাওয়ার খরচ, এসব খরচ যাকাতের টাকা থেকে দিতে কোন সমস্যা নেই। আপনি যদি কোন একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন সেখানে এদেরকে ভর্তি করান তাহলে এদের পেছনে মাসিক যে টাকাটা ফি আসে খরচ আসে এটা যাকাতের টাকা থেকে দেওয়া যাবে যদি এদের পরিবার দরিদ্র পরিবার হয় বা এদের খরচ বহন করতে তাদের সামর্থ্য না থাকে সম্মানিত উপস্থিতি আসুন আমরা সচেতন হই আল্লাহ আমাদেরকে যে নেয়ামত দিয়েছেন সে নেয়ামতের সত্যিকার শুকরিয়া হবে যদি আমরা এই সমাজের বঞ্চিত অসহায় প্রতিবন্ধী কিংবা অসুস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়াই।

                                                           

দুস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়াই। ইসলাম তো সেই ধরনের ব্যবস্থাপনাই সব জায়গায় করে রেখেছেন। একদিকে যেমন অসুস্থদের যত্ন নেওয়া, তাদের চিকিৎসা করার দায়িত্ব আমাদের সুস্থদের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। ঠিক তেমনি দুস্থদেরকে যারা অসহায় যাদের টাকা নাই মহতাজ তাদেরকে হেল্প করার কথা বলেছেন। এজন্য যাকাত ব্যবস্থা প্রবর্তন হয়েছে। এজন্য সাদাকা ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন হয়েছে। এজন্য ওয়াকফ ব্যবস্থা প্রবর্তন হয়েছে। আমি বরং এটাও বলবো যাদেরকে আল্লাহ অনেক সম্পদ দিয়েছেন তারা ইচ্ছা করলে এই প্রতিবন্ধীদের জন্য একটা বিশেষ ডায়াগনোসিস সেন্টার অথবা বিশেষ হসপিটাল কিংবা বিশেষ ক্লিনিক আপনি করে দিতে পারেন এবং সেটাকে আল্লাহর ওয়াস্তে ওয়াকফ করে দিতে পারেন। আপনার ইচ্ছে করলে এই অন্ধ অথবা প্রতিবন্ধীদের জন্যে আপনি বিশেষ একটা স্কুল করে দিতে পারেন এবং এটা আল্লাহর ওয়াস্তে ওয়াকফ করে দিতে পারেন।

                                                           

এই ধরনের প্রচেষ্টা আমাদের সমাজে অনেক কম। আসুন আমরা এই মহান প্রচেষ্টায় শামিল হই। আর পাশাপাশি আমি আপনাদেরকে আরেকটা কথাও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। জানেন যে সারা বাংলাদেশে এখন প্রবল বন্যা। বিভিন্ন জেলায় বন্যার পানি আমাদের অনেক মানুষকে অসহায় করে দিয়েছে। তাদের কথাও ভুলে গেলে চলবে না। আমরা তাদের পাশে দাঁড়াই। তাদের প্রতি আমাদের হাত বাড়িয়ে দেই। আল্লাহ যেন আমাদের সকল মুসলিম ভাই বোনদেরকে হেফাজত করেন। তাদের সহায় হন। আমরা যেন সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একে অপরের সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে দিতে পারি সে তৌফিক দান করেন। মুসলিমিনহ আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন ও আকিবাতুলিল মুত্তাকিন ওসসালাতু ওসসালামু আলা নাবিনা মুহাম্মাদি ওয়ালা আলিহ ওয়াসহাবিহ আজবাদুল্লাহ ইত্তাকুল্লাহ ইবাদল্লাহি সহন আস সকিন আল মুখ আল আল্লাহুম্মা আলিম আলাইনা ইন্নাকা রাহিম রব্বানা আলাইকনা আল্লাহ আলামিন আল্লাহ সুবহানাহুওতালার নেয়ামতের শুকরিয়া আমাদের আদায় করতে হবে আল্লাহতালা বলেছেন লাইনশাকার যদি তোমরা শোকর গুজার হও তাহলে আমি তোমাদের প্রতি নেয়ামত আরো বাড়িয়ে দিব।

                                                           

প্রত্যেকটা কাজে আল্লাহ সুবহাতালা আমাদেরকে এত বেশি নেয়ামত দিয়েছেন যদি সেই নেয়ামতের শুকরিয়া স্বরূপ আল্লাহর সকল বান্দাদের জন্য আমরা সহযোগী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দেই এটা নাশকরি হবে। আজকে মুসলিমদের মধ্যে পারস্পরিক সংহতির অভাব, সহযোগিতার অভাব, তাকাফুলের অভাব। আর এজন্যই দেখবেন যে ইসলামের বিরুদ্ধে যারা কাজ করছে তারা প্রবল পরক্রান্ত হয়ে উঠছে। আমরা অসহায় হয়ে যাচ্ছি। আমরা আমাদের কোন প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে পারছি না। মসজিদগুলোকে একটিভ করতে পারছি না। এবং আমাদের ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল থেকে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এখান থেকে অনেক বড় বড় আলেম স্কলার এখন আর বের হচ্ছে না। এর একটাই বড় কারণ মুসলিমরা আসলে নিজেদের সকল কাজে খুবই দুর্বলতার পরিচয় দিচ্ছে।

                                                           

আসুন আমরা জ্ঞানমুখী হই। আমলমুখী হই। সিরিয়াসলি কাজ করি। নিজেরা নিজেদের অবস্থানে শক্তিশালী হলে সারা বিশ্বের মুসলিম আবারও শক্তিশালী হবে। আজকে সারা বিশ্বে মুসলিমদের কঠিন অবস্থান আমরা দেখতে পাচ্ছি। ফিলিস্তিনে চায়নার ওই ঘরে ভারতের মুসলিমদের দুরবস্থা আমাদেরই পাশে আমরা দেখতে পাচ্ছি তাই না? একের পর এক মসজিদ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেখানে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। মুসলিমরা যদি এখনো সজাগ না হয় নিজের দেশেও তারা বিপদে পড়ার সম্ভাবনা আছে। অতএব আসুন আমরা সজাগ হই। দায়িত্ব পরায়ণ হই। কর্তব্য পরায়ণ হই। অসুস্থ মানুষ, প্রতিবন্ধী মানুষ, অভাবী মানুষ তাদের পাশে দাঁড়ায়। দুনিয়া লোভী না হই। দুনিয়া থেকে আমাদের সবাইকে চলে যেতে হবে। দুনিয়ার সম্পদের জন্য করাপশনে না জড়াই।

                                                           

দুর্নীতিতে আক্রান্ত না হই। আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে রক্ষা করেন। আল্লাহ যেন আমাদেরকে ঈমান তাওয়াক্কুল এবং ভালো আমলে সবসময় ভরপুর হওয়ার তৌফিক দান করেন। ঈমান থেকে যেন আমরা দূরে সরে না যাই। আমলে সালেহ করার যেন তৌফিক আল্লাহ সুবহাতালা আমাদেরকে দেন। আল্লাহ যেন এই মুসলিম উম্মাহকে আবারো সজাগ সচেতন করে দেন। শক্তিশালী করে দেন। অমুসলিম যেকোন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তাদেরকে বিজয়ী করে দেন। আল্লাহ যেন আমাদের শিক্ষা দীক্ষা আমলে সবকিছুতে বারাকা দেন। আমাদের মধ্যে যারা অসুস্থ তাদেরকে সুস্থ করে দেন। আমাদের উপর সকল ধরনের বারাকা এবং রহমত নাযিল করেন।