আলহামদুলিল্লাহ শুরুতে আল্লাহ তাআালার প্রশংসা জ্ঞাপন করছি যার অশেষ রহমতে আমরা জুমার সালাত আদায় করার লক্ষে মসজিদে এসে উপস্থিত হতে পেরেছি তাই তার প্রশংসা জ্ঞাপন করছি আলহামদুলিল্লাহ দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক শেষ নবী সাইয়েদুল মুরসালিন খাতামুন নাবিয়্যিন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর আল্লাহুম্মা সাল্লি আলাই আল্লাহুম্মা বারিক আলা সম্মানিত উপস্থিতি আমরা আজকে আলোচনা করবো কোরআনের ফজিলত কোরআন শ্রেষ্ঠত্ব এবং কোরআনের সাথে আমাদের করণীয় বর্জনীয় নিয়ে আমরা সংক্ষিপ্ত আলোচনা করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ তৌফিক ইল্লাবিল্লাহ আলাইহি তাওয়াকালহ আমরা অর্জন করি। এ জ্ঞান মূলত অর্জন করা যায় মৌলিক তিনটা মাধ্যমে। আমাদের সকল জ্ঞান এই সকল জ্ঞানের উৎস মূলত মৌলিকভাবে তিনটা। তার মধ্যে সর্বপ্রথম উৎস বা যে উৎস আমরা সবাই গ্রহণ করি সে উৎস হচ্ছে আমাদের পাঁচ ইন্দ্র।
পাঁচ ইন্দ্রের মাধ্যমে আমাদের প্রাথমিক বা আমরা সিংহবাগ জ্ঞান মূলত আমরা অর্জন করে থাকি এই পাঁচটা ইন্দ্রের মাধ্যমে। ফাস্ট ইন্দ্র হচ্ছে আমাদের বাকশক্তি শ্রবণ শক্তি। দর্শন, স্বাদ, ঘ্রাণ এবং স্পর্শ এই যে ইন্দ্রগুলো আছে এই ইন্দ্রগুলোর মাধ্যমে আমরা জ্ঞান অর্জন করি। আমরা দেখি দেখে আমরা অনেক কিছু শিখি। শুনি শুনে আমরা অনেক কিছু শিখি। স্বাদ খাই। এ খাওয়ার মাধ্যমে আমরা অনেক জ্ঞান পাই। তো আমাদের প্রাথমিক যে স্তর সেটা হচ্ছে আমাদের পাঁচটা ইন্দ্র। তো আমরা পাঁচ ইন্দ্রের মাধ্যমে যে জ্ঞান অর্জন করি এই জ্ঞানটা নির্ভেজাল না। এই জ্ঞান অনেক সময় আমাদের ভুল তথ্য দেয়। আমরা অনেক সময় এই ইন্দ্রগুলোর মাধ্যমে ভুল আমরা জ্ঞান অর্জন করি।
যেমন খুব সাধারণ একটা উদাহরণ দেই। ধরেন আপনি আমার যেটা বললাম আমাদের একটা হল দৃষ্টিশক্তি চোখ। এটা আমাদের জ্ঞান অর্জনের একটা মাধ্যম। তা আমি যখন বা আমরা যখন গাড়িতে চড়ি যাই গাড়ি যখন একটু দ্রুত গতিতে চলে বাইরের দিকে তাকালে আমাদের চোখ আমাদের কি বলে চোখ আমাদের বিশ্বাস করতে বলে তোমরা বিশ্বাস করো যে পাশের যে বিল্ডিংগুলো আছে রাস্তাগুলো আছে গাছ আছে এগুলো কি করছে দৌড়াচ্ছে চলছে এটা আমাদের কি করে চোখ আমাদের এটা বিশ্বাস করতে বলে কিন্তু এ জ্ঞান কি সঠিক এ জ্ঞান সঠিক না। এরপর আমরা শ্রবণ শক্তি বলি। আমরা অনেক সময় ভুল তথ্য শুনি না। একটা একজন বলছে এক কথা।
কিন্তু আমার কানে আসছে অন্য কথা। সে একটা কথাও বলছে। কিন্তু এই কান এটা কি করছে? ভিন্নভাবে শুনছে। তাইলে কান আমাকে বিশ্বাস করতে বলে যে কি ওই কথাটা বিকৃতভাবে আমাকে বিশ্বাস করতে পারে। একইভাবে আমাদের স্বাদ স্বাদ শক্তি এটা আমাদের অনেক সময় কি ভুল তথ্য দেয় যেমন আপনার বা আমার যখন জ্বর হয় বা যখন কোন অসুস্থ হই তখন তিতা জিনিস লাগে মিঠা লাগে মিঠা জিনিস লাগে তিতা লাগে মানে আমার স্বাদটা কি হয়ে গেছে বিকৃত হয়ে গেছে মানে তিতা জিনিসটাকে আমার স্বাদ আমাকে বিশ্বাস করতে বলছে তুমি এখন বিশ্বাস কর এটা হচ্ছে মিঠা জিনিস এবার আমাদের পাঁচটা ইন্দ্র আছে এ পাঁচটা ইন্দ্র আমাদের কি দেয় ভুল তথ্য দেয় এই তথ্য পুরোপুরি সঠিক নয় অনেক সময় আমাদের বিভ্রান্তিকর তথ্য আমাদের দেয় তহলে এটা আমাদের প্রথম উৎস জ্ঞান অর্জনের দ্বিতীয় উৎস হচ্ছে জ্ঞান অর্জনের গবেষণা চিন্তাশক্তি তা আমরা চিন্তা বা গবেষণা শক্তি ব্যবহার করে আমরা কি করি? অনেক সময় জ্ঞান অর্জন করি।
এবং এটা একটা বিরাট জ্ঞানের একটা মাধ্যম। আমরা দূরে কিছু আওয়াজ শুনলে তন বলি এখানে মানুষ কি করছে? কথা বলছে। তাইলেযে মানুষ কথা বলছে। এটা কিসের মাধ্যম? আওয়াজটা গবেষণা করে আমি বের করলাম যেখানে একটা মানুষ কি করছে? কথা বলছে এখানে একটা ধরেন জুতা পড়ে আছে স্যান্ডেল পড়ে আছে আমি ভাবি তখন আমরা কি ভাবি যে এখান একটা মানুষ গেছিল তাহলে জুতা দেখে আমি শনাক্ত করতে পারি এখান একটা কি গেছে মানুষ গেছে এগ সাধারণ আমি উদাহরণ দিছি তো এটা আমার একটা গবেষণা মানে গবেষণা বলতে বুঝায় একটা দৃশ্যবান জিনিসকে চিন্তা করে আরেকটা তথ্য উদ্ঘাটন করাকে কি বলা হয় গবেষণা বলা হয় >> মানে এটার পিছনে একটা কি লাগে? একটা ক্লু লাগে।
একটা লক্ষণ লাগে। একটা কিছু আপনার ইন্দ্রিয়গ্রা কিছু জিনিস লাগে। সেটাকে নির্ভর করে আরেকটা তথ্য বের করাকে বলা হয় গবেষণা। আর এটা কাজ কিসের কাজ? এটা মেধার কাজ। এটা আমাদের মেধা দিয়ে তথ্যটা উদ্ঘাটন করা। তো আমাদের এই মেধা যে গবেষণা গবেষণালব্ধ যে জ্ঞান এ গবেষণালব্ধ জ্ঞানও কি হয়? ভুল হয় এবং এটা ভুলের পরিমাণ বেশি হয়। ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য জ্ঞানের তুলনায় এই গবেষণা লব্ধ জ্ঞানের ভুলের পরিমাণ বেশি থাকে। তাহলে আমাদের দ্বিতীয় যে উৎস যেমন কথার কথা যদি আমি একটা জায়গায় দেখলাম কি এখান থেকে দেখছি ধোয়া উঠছে। তখন আমার গবেষণা শক্তি আমার কি বলে? ওখানে আগুন লেগেছে। বলে কিন্তু দেখা গেল ওখানে গিয়ে এটা আসলে কি লাগে নাই? আগুন লাগে নাই।
হয়তো কৃতিম কোন ধোয়া উঠছে। কারণ ইলেকট্রিক অনেক কি করে অনেকভাবে ধোয়া উড়ানো যায় অথবা দেখল ওখানে ওই যে আপনাদের সিটি কর্পোরেশনের ওযে কি মশা নিধনের ই ব্যবহার করছে স্প্রে ব্যবহার করছে এখানে দূর থেকে কি মনে হচ্ছে আগুন মনে হচ্ছে এই তথ্য কি হয় ভুল হয় তাহলে আমাদের যেটা বললাম প্রথম উৎস ইন্দ্র এটাও আমাদের কি দেয় ভুল তথ্য দেয় আমাদের গবেষণা দ্বিতীয় সেটাও কি দেয় ভুল তথ্য দেয় এবং এই দুইটা উৎস পৃথিবীর সকল মানুষ ব্যবহার করে জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে এটা সবার জন্য প্রযোজ্য এবং যারা আমরা আসমানি গ্রন্থে বিশ্বাস করি সেটা হোক খ্রিস্টান হোক ইহুদি হোক মুসলিম হোক বা যারাই যারা আসমানি গ্রন্থে কি করে বিশ্বাস করে তাদের কাছে আরেকটা জ্ঞানের উৎস আছে যেটা চূড়ান্ত উৎস যে উৎসে কোন ভুল নাই যেই জ্ঞানে কোন ভুল নাই শতভা ভ নিশ্চিত জ্ঞানের উৎস সেটা হচ্ছে আমাদের ওহ ওহীর জ্ঞান যারা মুসলিম বলি বা যারা কি বললাম যারা আসমানি কিতাবে
বিশ্বাসী তারা সবাই বিশ্বাস করে যে জ্ঞানের আরেকটা উৎস আছে চূড়ান্ত উৎস যে উৎস কখনো ভুল হবে না শতভাগ নিশ্চিত জ্ঞানের উৎসটা হচ্ছে কি আসমান থেকে আল্লাহ প্রদত্ত ওহীর জ্ঞান যেই জ্ঞান কোন ধরনের ভুল নাই একদম নির্ভেজাল জ্ঞানের উৎস তো এটা যেমন ইয়াহুদি নাসারাদের কাছে তাদের কাছে তাওরাত আছে ইঞ্জিল আছে কিন্তু সেটা আবার তারা কি বিকৃত করে ফেলেছে সে উৎস এখন আর কি নাই ঠিক নাই সেটা বিকৃত একটা উৎস দাঁড়িয়েছে এখন আমাদের কাছে চূড়ান্ত যেটা উৎস সেটা হচ্ছে কি ওহী বা কোরআনের জ্ঞান এজন্য আমরা দেখতে পাই যে যখন যেই সমাজে যে এলাকায় ওহীর জ্ঞান বিলুপ্ত হয়েছে ওহীর জ্ঞান বিকৃত হয়েছে ওহীর জ্ঞানে কোন ধরনের ভুল ঢুকে গেছে অথবা ওহীর জ্ঞান পুরাটা হারিয়ে গেছে সেখানে আল্লাহ তাআলা এই সমাজটাকে ঠিক করার জন্য আবার কি ওহীর জ্ঞান পাঠিয়েছেন কারণ এখন দুইটা উৎস দুইটা উৎস কি করে ভুল করে ওহীর জ্ঞান বিকৃত ওহী নাই নবী নাই নবীর দাওয়াত নাই
তার মানে এখানে কি দুইটা উৎস যেটা ভুলে ভরা উৎস ঠিক বেঠিকের একটা উৎস সেই সময় তখন কি হয়ে গেছে বিভ্রান্ত হয়েছে শির করেছে আল্লাহকে চেনে নাই দন থেকে সরে গেছে তাওহীদের জ্ঞান হারিয়ে গেছে তারা বিভ্রান্ত হয়ে গেছে ওহীর জ্ঞান না থাকার কারণে এজন্য আল্লাহ তালা কি করেছেন সেখানে আবার নবী এবং রাসূল পাঠিয়েছেন প্রতিটা যুগে আল্লাহতালা পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন আল্লাহতালা বলেছেন সবার পরিচিত একটা আয়াত আল্লাহ তালা বলছেন আমি প্রত্যেক জাতির কাছে রসূল পাঠিয়েছি সেই রসূল দাওয়াত দিয়েছেন তোমরা একমাত্র আল্লাহর এবাদত করো এবং তাগুতকে পরিহার কর। তহলে আল্লাহ তালা কি প্রত্যেক যুগে কি করেছেন? রসূল পাঠিয়েছেন। কেন পাঠিয়েছেন? পাঠানোর একটাই কারণ সেখানে কি নাই? ওহীর জ্ঞান নাই।
ওহীর জ্ঞান না থাকার কারণে অন্য দুইটা জ্ঞান আছে। ওহীর জ্ঞান না থাকা কারণ তারা কি হয়েছে? আল্লাহকে ছেড়ে অন্য কারো ইবাদতে লিপ্ত হয়েছে। শিরকে লিপ্ত হয়েছে। এবং তারা তাগুতলা হিসেবে গ্রহণ করেছে। তাগুত মানে কি? বাতিল জ্ঞান। বাতিল জ্ঞানকে তারা কি করেছে? তাদের রব হিসাবে গ্রহণ করেছে। আল্লাহ বলেছেন যে এই ওহীর জ্ঞান হারিয়ে গেছে। অতএব এদেরকে এখন কি হতো? ওহীর জ্ঞান ঢুকাতে হবে তাদের ভিতরে। এজন্য আল্লাহ তালা কি করলেন? প্রত্যেক জাতির কাছে একেকজন করে রসূল পাঠিয়েছেন ওহীর জ্ঞান তাদের মাঝে বিতরণ করার জন্য। এজন্য মানবজাতির একমাত্র মুক্তির পথ হচ্ছে তাদের ভিতরে কি করা? ওহীর জ্ঞান বিতরণ করা।
সমাজ যত ওহীর জ্ঞান থেকে দূরে সরে যাবে তত সেখানে কি শিরক ঢুকবে? সেখানে বিদাত ঢুকবে। সেখানে কুসংস্কার ঢুকবে। সেখানে অন্যায় ঢুকবে। আর যেখানে কোরআন হাদিসের এলেম যত বেশি চর্চা হবে সেখানে কি হবে? সেই সমাজ তত সুন্নাত মোতাবেক চলবে। সেই সমাজ তত শিরক মুক্ত জীবন যাপন করে তাওহীদের পথে চলবে। সেই সমাজটা তো আল্লাহ তাআালার সঠিক দিনের উপরে থাকবে। এজন্য সমাজে সমাজ থেকে শিরক বিদাত দূর করতে হলে সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করতে হলে এর একমাত্র রাস্তা কি করা? ওহীর জ্ঞান সমাজে ব্যাপক হারে চর্চা করা। তো আমরা বললাম যে আমাদের কাছে এ ওহীর গানের উৎসা এখন কোনটা? কোরআন।
যেহেতু এটা একটা শতভাগ সুনিশ্চিত একটা জ্ঞান। এজন্য আল্লাহ তাআলা এই কোরআনের ফজিলতও কি দিয়েছেন? অনেক দিয়েছে। কোরআনের অনেক ফজিলত। আমাদের আহলে সুনাল জামাত একটা আকিদা হচ্ছে যে কোরআন হচ্ছে আল্লাহ তাআালার কালাম। কোরআন হচ্ছে আল্লাহ তাালার কি কথা। এবং এটা কি গায়ের মাখলুক? এটা কি না কোন সৃষ্টি বস্তু না এটা কি না কোন সৃষ্টি বস্তু নয় এটা হচ্ছে গায়ের মাখলুক এটা হচ্ছে আহলে সুনাল জামাতের আকিদা মানে আল্লাহ তাআলা কোরআনে যে শব্দগুলো আছে এগুলো আল্লাহ তালা কি করেছেন নিজে উচ্চারণ করেছেন একটু চিন্তা করি এটা কি আল্লাহ তাালার কি নিজে উচ্চারিত শব্দ এজন্য আমরা দেখতে পাই যে আমাদের যারা পূর্ববর্তী আলেম ছিলেন তারা যখন আপনার কোরআন পড়তে তারা যখন হাদিস পড়তেন হাদিস পাঠ করার সময় তারা কান্না করতেন কান্না করার কারণ ছিল যে তারা আনন্দে কাঁদতেন তারা বলতেন যে আমার মত একজন পাপী বান্দা আমার মত একজন অধম বান্দার মুখ দিয়ে সেই কথাগুলো বের হচ্ছে যেই কথাগুলো আমার রসূল বলেছেন।
যে কথাগুলো আমার রসূলের মুখ দিয়ে বের হয়েছে সেই কথাগুলো আমার মুখ দিয়ে উচ্চারণ করতে পারছি। এই চিন্তায় এই কল্পনা করে তারা কান্না করতেন। তো চিন্তা করেন যে আমার মত মাখলুক আমার মত সৃষ্টি বস্তু উচ্চারণ করেছে সেই শব্দগুলো যেগুলো উচ্চারণ করেছেন আমার রব। খালেক আমার স্রষ্টা যেই শব্দের উচ্চারণ করেছেন এটা আপনি কল্পনা এটা কি কল্পনা এটা একটা সৌভাগ্যের বিষয় কোরআন পাঠটা একটা সৌভাগ্যের বিষয় যে আমার মত মাখলুক করে খালেকের উচ্চারিত শব্দ আমার মুখ দিয়ে কি হচ্ছে বের হচ্ছে এই নিয়ামত সবাই পায় না এই মর্যাদা সব অর্জন করতে পারে না এবং এটা যারা চিন্তা করে তারাই এই মর্যাদা কি করতে কোরআনের মর্যাদা উপলব্ধি করতে পারে।
যেমন কোরআনের মর্যাদা উপলব্ধি করে মূলত মানুষ বাদ দিয়ে যত মাখলুক আছে সবাই কোরআনের মর্যাদা কি করে? উপলব্ধি করতে পারে। একমাত্র মানুষ কোরআনের মর্যাদা উপলব্ধি করতে পারে না। আল্লাহ তালা বলছেন যে আল্লাহ বলছেন আমি যদি কোরআনকে নাযিল করতাম অবতরণ করতাম আলাজ কোন পাহাড়ের উপরে তাহলে আপনি দেখতেন পাহাড়কে ভয়ে আল্লাহর ভয়ে প্রকম্পিত হয়ে পাহাড় কি করত? ফেটে পড়ত। মানে সে চিন্তা করত যে আমি এই পাহাড় আমার পক্ষে এই কোরআনের মর্যাদা ধারণ করা কি সম্ভব? আমার পক্ষে কোরআনের যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া কি সম্ভব? এই চিন্তা করে এই ভয়ে পাহাড় কি হতো? বিদীর্ণ হতো। ফেটে পড়তো। পাহাড় আর তার জায়গায় টিকে থাকতে পারতো না।
কোরআনের মর্যাদার কথা চিন্তা কর। এজন্য আল্লাহ তালা এই আয়াতে শেষে বলছেন যস মানুষ হচ্ছে জালেম এবং জাহেল। আল্লাহ তালা মানুষকে কি বলছেন? জালেম এবং জাহেল। এর কারণ জালেম বলতে বুঝায় যে জালেম ও ব্যক্তিকে জুলুম বলতে বুঝায় যে কোন জিনিসকে তার জায়গা বাদ দিয়ে অন্য জায়গায় রাখাকে কি বলা হয়? জুলুম বলা। কথার কথা এই যে মাইক্রোফোন এটার জায়গা কোনটা? এটা সামনে থাকে। এখন আমি এটারে কি করি? ঘুরিয়ে পিছনে নিয়ে যা এটা কি হবে? জুলুম হবে। এটার উপর কি হবে? জুলুম। কারণ তার জায়গা কোথায়? সামনে থাকে। মুখের সামনে এটা কোথায় নিয়ে গেছি? পিছনে নিয়ে গেলে এটা তার উপরে কি হবে? জুলুম হবে।
তো জালাম কেন? কারণ এই কোরআনে যতটা মর্যাদা দেওয়া দরকার আমি মানুষের উপর কোরআন দিয়েছি। আল্লাহ বলছে আমি কোরআন নাযিল করেছি তাদের উপরে। এই কোরআনে যতটুকু মর্যাদা দেওয়া দরকার কোরআনকে যেখানে রাখা দরকার মানুষ সেখানে কোরআনকে রাখে না। যার ফলে তারা কি হয়েছে? জালেম। এবং জাহুল এবং তারা হচ্ছে অজ্ঞমূর্খ। কারণ তারা কোরআনের মর্যাদা তারা বোঝে না। কোরআনকে সম্মান করতে জানে না। যার কারণ আল্লাহ তালা বলছে এরা কি কোরআন পাওয়ার পরে এ মানুষ কি হয়ে গেছে? জালেম এবং জাহেলে পরিণত হয়েছে। কোরআনের মর্যাদা তারা কি ঠিকঠাক না দেওয়ার কারণে এটার মর্যাদা তার উপলব্ধি না করার কারণ।
এরপরে আল্লাহ তাআলা অন্য আরেকটা আয়াতে বলছেন যে কোরআনের মর্যাদা অন্যান্য মাখলুক কেমন ভাবে ধারণ করে এটার আল্লাহ তালা বর্ণনা দিচ্ছেন যদি এ কোরআন দ্বারা পাহাড়কে পরিচালনা করা হতো পাহাড় পরিচালিত হতো যদি কোরআন কোন পাহাড়কে বলত যে তুমি পাহাড় এই জায়গায় না থেকে যাও সামনে চলে যাও অথবা ওই জায়গায় চলে যাও তাহলে এ কথা বলার সাথে সাথে কোরআনের এই আদেশ পাওয়ার সাথে সাথে পাহাড় কি করত সেই জায়গায় চলে যেত সেখানে আর তার অন্য কোন কথা বলতো না আদেশ পাওয়ার সাথে সাথে সেটা কি করত বাস্তবায়ন কর এরপরে বলছেনযদি কোরআন কোন জমিনকে বলত এই জমিন তুমি এই জায়গায় খাল হয়ে যাও এই জায়গায় গর্ত হয়ে যাও এই জায়গা নদী হয়ে যাও এই জায়গা নালা হয়ে যাও এ আদেশ পাওয়ার সাথে সাথে কি হতো ওই জমিন তাতেই পরিণত হতো বলার সাথে সাথে কি হতো পাহাড় হতে বলে পাহাড় হয়ে যেত গর্ত হতে বলে গর্ত হয়ে যেত নদী হতে বলতে
নদী হয়ে যেত এরপর বলছেনমা যদি পাহাড়যদি কোরআন কোন মৃত প্রাণীকে মানুষকে মত প্রাণীকে যদি বল তুমি কথা বল তাহলে এ আদেশ পাওয়ার সাথে সাথে কি অর্থ কথা বল মৃত প্রাণীকে যদি কোরআন বলতে কথা বল এ আদেশ পাওয়ার সাথে সাথে কি করতো আল্লাহ বলছেন এই মৃত প্রাণী কথা বলতে শুরু করল এটা হচ্ছে অন্যান্য মাখলুকের কাছে কোরআনের আদেশ কোরআনের নির্দেশ এতটা তাৎপর্যপূর্ণ এতটা গুরুত্বপূর্ণ যে অন্য মাখলুককে কোরআন যদি আল্লাহ এ ধরনের নিয়ম দিতেন যে তুমি আদেশ করো আদেশ পাওয়ার সাথে সাথে কি হতো সেই কাজ তারা বাস্তবায়ন করত তো কিন্তু মানুষ এটা করে মানুষ কোরআন আদেশ পালনের অনেক দূরের বিষয় কোরআনকে তারা কি করে না স্পর্শ করে না কোরআনকে তারা পড়ে না কোরআন যে মর্যাদা এ মর্যাদা তাদের ভিতরে ধারণ কর তারা করে না আদেশ পালন তো অনেক দূরের বিষয় এই কোরআনের মর্যাদা এতটাই বেশি কোরআন এতটা তাৎপর্যপূর্ণ যে কোরআন যেই জায়গায় স্পর্শ করেছে কোরআনের ছোয়া যেখানে লেগেছে সেটা কি সর্ব উৎকৃষ্ট জিনিসে পরিণত হয়েছে কোরআনের মর্যাদার কারণে কোরআনের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে এই কোরআনের ছোয়া যেখানে লেগেছে ওই জিনিসটা কি হয়েছে? পৃথিবীর সবথেকে শ্রেষ্ঠ জিনিসে পরিণত হয়েছে।
যেমন আমরা জানি যে রমাদান মাস সর্ব শ্রেষ্ঠ মাস। সবথেকে উত্তম মাস। ১২ মাসের ভিতরে সবথেকে উত্তম মাস। এ উত্তম মাস হওয়ার পিছনে কারণ হচ্ছে কি? আল্লাহ তাআলা রমাদান মাসে কোরআন নাযিল করেছে। শাহর রমাদান আল্লাহ কোরআন। এই এমন একটা মাস রমাদান এমন একটা মাস যেই মাসে আল্লাহ তালা কি করেছেন? কোরআন নাজিল করেছে। মানে আল্লাহ তালা রমাদান মাসের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরছেন। কিসের মাধ্যমে? কোরআন নাজিল হয়েছে এ কথা বলার মাধ্যমে। অতএব এইযে কোরআন শ্রেষ্ঠ মাস। এই কোরআন এ রমাদান শ্রেষ্ঠ মাস। এই রমাদান শ্রেষ্ঠ মাস হওয়ার পিছনে কারণ কি? এই মাসে আল্লাহ তাআলা কোরআন নাযিল করেছে। এরপরে লাইলাতুল কদর হাজার মাসের থেকে হাজার মাসের থেকে শ্রেষ্ঠ রাত।
এর পিছনে কারণ কি? আল্লাহ তালা এই রাত্রে কোরআন নাযিল করেছে। আল্লাহ বলছে ইন্নাজালনাফলাইলাতিল কদ আমি এই কোরআনকে নাযিল করেছি লাইলাতুল কদর। এই লাইলাতুল কদরে নাযিল করার কারণে এই মাসটা কি হয়েছে? হাজার মাসের থেকে শ্রেষ্ঠ রাতে পরিণত হয়েছে। কারণ এখানে কোরআনের ছোয়া লেগেছে। এরপরে আমাদের রাসূল সবথেকে উত্তম মানুষ। সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। এই সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হওয়ার পিছনে কারণ কি? আল্লাহ তাআলা তার উপরে কোরআন নাজিল করেছে। কোরআন নাজিল করার কারণে রাসূলের উপরে কোরআন নাজিল হওয়ার কারণে আল্লাহ রাস সবথেকে শ্রেষ্ঠ মানুষে পরিণত হয়েছে। এরপরে উম্মতে মুহাম্মাদ সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি। আমরা সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি। এই সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি হওয়ার পিছনে কারণ হচ্ছে কি? আল্লাহ তাআলা আমাদের মাঝে কোরআন নাযিল করেছেন।
তাহলে আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব আমাদের মর্যাদা এই মর্যাদার পিছনে ধারকবাক হচ্ছে কি? কোরআন। অতএব উম্মাহ যতদিন কোরআন ধারণ করবে কোরআনকে মেনে চলবে। ততদিন উম্মার শ্রেষ্ঠত্ব বজায় থাকবে এবং উম্মাহ যখন কোরআন থেকে দূরে সরে যাবে তার শ্রেষ্ঠত্ব কি হয়ে যাবে? তখন বিলীন হয়ে যাবে। এরপরে আল্লাহ রাসূললা তোমাদের ভিতরে সেই উত্তম মানুষ তোমাদের ভিতরে সেই উত্তম লোক সর্বশ্রেষ্ঠ লোক যে নিজে কোরআন শিখে অন্যকে কোরআন শিক্ষা দেয় তাহলে আমি যখন নিজে কোরআন শিখবো পাঠ করব অন্যকে যখন শিক্ষা দিব তখন কি হবে? আমি এই কোরআনের ছোঁয়া লাগার কারণে, কোরআনের জ্ঞান আমার ভিতরে থাকার কারণে এবং এই জ্ঞান অন্যের মাঝে বিতরণ করার কারণ আমি কি সবথেকে উত্তম মানুষে পরিণত।
কারণ আমার ভিতরে কি লেগেছে? কোরআনের ছোয়া লেগেছে। এরপরে এই কোরআনের ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহ তালা বলছেন ওলিকা আহা ইলাইকুহামনা কিতাম আল্লাহ বলছেন আমি তোমার কাছে ওহী করেছি আমি তোমার কাছে নাযিল করেছি রুহ আমার পক্ষ থেকে রুহ আমি তোমার উপরে নাযিল করেছি আমার পক্ষ থেকে রুহ আল্লাহ তালা কোরআনকে এখানে কি বলেছেন রুহ বলেছেন আমরা রুহ নিয়ে একবার আলোচনা করেছিলে এই মসজিদে। তো রুহ বলতে একটা মানুষ তখনই মানুষ থাকে যতক্ষণ তার মাঝে কি থাকে? রুহ থাকে। যখন রুহ যখন বের হয়ে যায় তখন তাকে কি বলা হয়? মৃত মানুষ বলা হয়। এইযে আমরা মারা যায় বলি না। মারা যায় মানে কি? ইন্তেকাল।
যে আমরা বলি ইন্তেকাল মানে কি হয়েছে? রুহ তার দেহ থেকে বের হয়ে চলে গেছে। এটাকে বলা হয় ইন্তেকালা মানে কি? এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাকে বলা হয় ইন্তেকাল বলা হয়। তো তার মানে কি? রুহ আসলে কি? আমাদের দেহের রুহ ছিল এ রুহটা কি গেছে? বের হয়ে গেছে। এ রুহ বের হয়ে যাওয়ার কারণে আমি কি হয়েছে? এখন মৃত মানুষে পরিণত হয়েছি। আল্লাহতালা কোরআনকে কি বলেছেন? রুহ বলেছেন। মানে এই কোরআন হচ্ছে রুহ। অতএব এই কোরআন যার ভিতরে থাকবে সে আল্লাহর কাছে জীবিত মানুষ। আর যার ভিতরে কোরআন থাকবে না সে আল্লাহর কাছে কি মানুষ? মৃত মানুষ। মানে আমি জীবিত থাকা অবস্থাতে আমি কি আল্লাহর কাছে কি হয়েছি? মৃত মানুষে পরিণত হয়েছি যদি আমার মাঝে কোরআনের জ্ঞান না থাকে।
তাহলে আমি আল্লাহর কাছে ততক্ষণ জীবিত। আল্লাহ পাককে ততক্ষণ জীবিত ধরবেন যতক্ষণ আমার ভিতরে কোরআনের জ্ঞান চর্চা হবে। আমি কোরআনকে ধারণ করবো তখন আমি আল্লাহর কাছে কি আছি? জীবিত আছি। এজন্য হাদিসে বিভিন্ন জায়গায় বলা হয়েছে যে ওই বাড়িটা মৃত বাড়ি। ওই বাড়িটা বিরান বাড়ি। যেই বাড়িতে আল্লাহর কি হয় না? জিকির হয় না। কোরআন তেলাওয়াত হয় না। এ বাড়িটাকে আল্লাহ কি বলেছেন? একটা মৃত বাড়ি বলেছেন। কারণ এখানে কি জীবিত মানুষ বসবাস করলে আল্লাহর কাছে এরা কি মানুষ? সব মৃত মানুষ। এরা আল্লাহর কাছে আর কি নেই? জীবিত নেই। এজন্য আমার আপনার জীবন প্রকৃত জীবিত থাকা এটা নির্ভর করে কার উপরে? কোরআন তেলাওয়াত, কোরআন চর্চা, কোরআন অনুধাবন, কোরআন ধারণ এই সবকিছুর উপরে নির্ভর করে আমি আল্লাহর কাছে জীবিত কিনা।
আমার ভিতর রুহ আছে কিনা এটা নির্ভর করে এ সবগুলোর উপরে। আমি আপনি ভাবছি আমি তো জীবিত আছি। কিন্তু আল্লাহ বলছে না তুমি কি গেছ? আমার কাছে মারা গে। যদি তুমি এ কোরআনকে ধারণ করতে না পারো। এরপরে আল্লাহ তাআলা অন্য আরেকটা আয়াতে বলছেন আল্লাহ বলছেন হে মানুষেরা তোমাদের কাছে এসেছে রব্বিকুম তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ওয়াজ আল্লাহ বলছেন তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ওয়াজ লিমাফুদ এবার অন্তরের আরোগ্য এসেছে এবং হেদায়েত এসেছে ওহমাতুল্লিল মুমিনিন এবং মুমিনদের জন্য রহমত এসেছে কোরআনকে আল্লাহতালাতে চারটা গুণে গুণান্বিত করেছে। তার মধ্যে প্রথম গুণ হচ্ছে যে এটা তোমার রবের পক্ষ থেকে ওয়াজ।
নসিহত। এটা সবথেকে বড় ওয়াজ। মানে আমি আপনি হাজার দিন ওয়াজ করলে যতটা আপনার অন্তরে কাজ দিবে পরিবর্তন ঘটবে। এর তুলনায় আপনি কোরআন পড়েন আপনার অন্তর তার থেকে কি হবে? বেশি কাজে। এজন্য অন্তর আপনি নরম করতে চান। আপনি কি পড়েন? কোরআন পড়েন। প্রথমে আল্লাহ তালা ওয়াজ বলেছেন। কারণ হচ্ছে যে একটা মানুষের অন্তরে ঈমানের চারা রোপণ করতে হবে। আল্লাহ তালা কি? এই ঈমানকে কি বলেছে?শাজার বলেছে। একটা উত্তম গাছ বলেছে। ঈমান হচ্ছে একটা উত্তম গাছ। এটা একটা গাছ।
যে গাছের থাকে শিকর থাকে আসুহা মানে সামা যেখানে কি আল্লাহ কি বলেছেন অর্থাৎ এই গোড়াটা কি থাকে জমিনে থাকে এবং এর শাখাগুলো থাকে কোথায় আসমানে থাকে একটা ঈমান একটা গাছ এ গাছ অন্তরে কি করা লাগে রোপণ করা লাগে আল্লাহ তালা এ অন্তরটা একটা কি বলেছে একটা জমির সাথে সাদৃশ্য দিয়েছে আমরা যখন জমিন কি লাগাই ধান চাষ করি গম চাষ করি তখন আমরা কি করি প্রথমে এটারে কি করা লাগে ওই লাঙ্গল দে নাঙ্গলের জমিটারে কি নরম করা লাগে আপনি নাঙ্গল চাষ না যদি কি করেন ওখানে আপনি ধানের চারা ফেলে দিলেন বীজ ফেলে কি হবে না চারা রোপণ হবে অন্তর এটা কি মানুষের অন্তরকে শক্ত হয় আল্লাহ তালা বলছেন যে কিছু মানুষের অন্তর কি শক্ত হয়ে যায় এটা কার মত হয় পাথরের মত হয়ে যায় মানুষের অন্তরটাকে পাথরের মত হয়ে যায় কখন অথবা কি পাথরের থেকেও কি হয় মানুষের অন্তর শক্ত হয়ে যায় আল্লাহ পাথর থেকে ঝরণা
প্রবাহিত হয় কিন্তু কিছু মানুষের অন্তর এমন হয় যেখানে কি হবে না ঝরণাও প্রবাহিত হবে না মানে পাথরের থেকে শক্ত এই অন্তরটারে কি করা লাগবে প্রথমে চাষ করা লাগবে লাঙ্গল দেওয়া লাগবেই কোরআন এ অন্তরটাকে চাষ করতে হলে এ অন্তরটাকে নরম করতে এটা তোমার ওয়াজ এটা কোরআন পড় তোমার অন্তর কি হবে লাঙ্গল দেওয়ার এটা কি নরম হবে এরপর আল্লাহ বলছেন এজন্য বলি যে কোরআন সবথেকে বড় ওয়াজ আপনার এত ওয়াজ শোনা দরকার আপনি কি করেন কোরআন পড়েন আপনার কি দিবে ওয়াজের কাজ দিবে আপনি এত ওয়াজ মাহফিল শোনা দরকার আপনি কি করেন কোরআন পড়েন তহলে কি সবথেকে বেশি আপনার অন্তরের প্রভাব বিস্তার করবে।
এরপরে বলছেন ওশিফউলিমাফি সুদুর এবং এটা অন্তরের ব্যাধি দূর করে। আমরা এর আগে একটা আলোচনা করেছি অন্তরের ব্যাধি নিয়ে রোগ নিয়ে আমরা আলোচনা করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম যে অন্তরে কি আমাদের দেহে যত মানে রোগ হয় তার তুলনায় বেশি রোগ থাকে কোথায়? অন্তর রোগ। অন্তরে নানান রোগ থাকে। অন্তর মারা যায়। আল্লাহ তালা বিভিন্ন জায়গায় কি বলেছেন অন্তরকে মৃত অন্তর বলেছেন এবং কিছু অন্তর এমন রোগে আক্রান্ত হয় যেটা কি আর কি হয় না কখন সারে না তাদের অন্তরে কি আছে ব্যাধি আছে অসুস্থ অন্তরতা আমাদের অন্তরে যতগুলো ব্যাধি আছে এই ব্যাধি দূর করবে কিসের মাধ্যমে কোরআন পাঠের মাধ্যমে কোরনের মান অন্তরে অনেক ব্যাধি যেমন অন্তর শক্ত হয়ে যাওয়া এটা কি ব্যাধি রোগ অন্তরোগ অন্যের প্রতি হিংসা অন্তরের রোগ।
কারো প্রতি ভালোবাসা জন্মে না অন্তরের রোগ। আল্লাহ তাালার ভয় অন্তরে ঢুকে না অন্তরের রোগ। কারো আপনাকে সহ্য হয় না। এটা কি? অন্তরের রোগ। কারো ভালো লাগা ভালো লাগে না। এটা অন্তরের রোগ। পাপের প্রতি চাহিদা বাড়ছে। এটা কি? অন্তরের রোগ। নেকির প্রতি চাহিদা বাড়ে না। এটা কি? অন্তরের রোগ। এ সবগুলো অন্তরের রোগ। অন্তরের রোগ এ রোগবেলা দূর করবে কিসে? কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। আপনার যত অন্তরে ব্যাধি আছে এ ব্যাধি যদি দূর করতে চান তাহলে আপনাকে কি করতে? বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করেন। আপনার অন্তর থেকে আল্লাহ বলছে কি হবে? এ রোগগুলো সবগুলো কি দূর হবে এবং আপনার অন্তর সুস্থ হবে।
এবং আল্লাহর কাছে জান্নাত পেতে হলে শর্ত কি হবে? সুস্থ অন্তর নিয়ে আল্লাহর সাথে দেখা করতে হবে। কারণ অসুস্থ অন্তর নিয়ে গেলে আল্লাহ তালা কি করবে না? কোন কাজে আসবে না আল্লাহর কাছে ওই ব্যক্তি মানে সফল কাম হবে যে আল্লাহর কাছে কি সুস্থ অন্তর নিয়ে যাবে সে আল্লাহর কাছে কি হবে সফল হবে এছাড়া অন্য কেউ সফল হবে না এজন্য অন্তরের ব্যাধি দূর করতে হলে কি করতে হবে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করতে হবে এরপরে বলছেন হেদায়েতের পথ দেখাবে কোরআন কি করবে? সঠিক রাস্তা দেখাবে। আমি যেটা আগেই বললাম যে এটা কি একদম নির্ভেজাল জ্ঞানের উৎস? অতএব যদি আপনি যদি সঠিক পথ পেতে চান আপনার সামনে যদি সঠিক পথ উদ্ভাষিত করতে চান তাহলে আপনি বেশি বেশি কি করেন? কোরআন হাদিসের জ্ঞান চার।
আপনার এত হুজুর দিয়ে আপনার কি হবে না? যদি আপনার খুব সন্দেহ যায় কোনটা এতো এটা সঠিক এটা সঠিক। আপনি এত কি হুজুরদের কথা শোনা দরকার নাই। আপনি কি করেন? নিজে কোরআন পড়েন, নিজে হাদিস পড়েন, আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। আমার কাছে হক তুলে ধরো। তাহলে আপনার সামনে কি হবে? কোরআন আল্লাহ তালা বলছেন যে যদি কোরআন তেলাওয়াত করো, ওহীর গান চর্চা করো তবে তোমার সামনে কি হেদায়েতের পথ? সঠিক পথ এটা কি হবে? একদম পরিষ্কার হয়ে যাবে। এরপরে বলছেন ওহমাতুল্লিল মুমিনিন। এটা মুমিনদের জন্য রহমত। কোরআন মুমিনদের জন্য রহমত। এজন্য কি? রহমত পেতে হলে আমাদের কি করতে হবে? কোরআন বেশি বেশি চর্চা করতে।
পরিবারে ওই যে আমরা আগে বিষয়গুলো আমি অনেকবার এখানে বলেছি। কোরআন মানে পরিবারে অশান্তি মানে একটা সমাজ থেকে যখন একটা পরিবার থেকে যখন একটা ব্যক্তি থেকে যখন আল্লাহর রহমত দূর হয়ে যায় তাহলে সেখানে কি আসে? সেখানে অশান্তি নেমে আসে। অতএব পরিবার বলেন ব্যক্তি বলেন সব যদি আমরা আল্লাহ রহমত পেতে চাই তবে এখানে কোরআন পড়তে হবে কোরআন তেলাওয়াত করতে কোরআনের জ্ঞান চর্চা করতে হবে তাহলে আল্লাহতালা এখানে রহমত নাযিল করলা বলছেন অতএব অতএব কোরআন পেয়ে তোমরা কি আনন্দিত আল্লাহ কোরআন পেয়ে তোমরা কি করো আনন্দিত হওযা এরপরে আমরা মোটা কোরআনে কিছুটা এধর অনেকগুলো আয়াত আছে কোরআনের মর্যাদা আমরা সংক্ষিপ্ত আলোচনা আমাদের মানে সময় মোটামুটি শেষ তা আমরা শুধু এটুকু বলব যে কোরআনের মর্যাদা শুধু জানলে হবে কোরআন আমাকে কি করতে হবে অনুধবন করতে হবে কোরআন মানতে হবে কোরআন যদি না মানি কোরআন যদি আমি যদি আমার জীবনে ধারণ না করি তবে এই কোরআন পরকালে আমার কি হবে বিপদের কারণ হবে যেমন আল্লাহ আল্লাহ রাস বলছেন আল কোরআন শাফ মুশাফ কোরআন পরকালে শাফাত করবে এবং তার শাফাত কবুল করা হবে।
রাসলেছেন কোরআন পরকালে কি করবে? শাফাত করবে এবং তার শাফাত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য। কোরআন আল্লাহর সাথে পরকালে তর্ক করবে এবং তার তর্কটা মেনে নেও। অবাহে তর্ক কর মানে আল্লাহ তালা সামনে বলবে কোরআন যদি কারো পক্ষে হয় বলবে এই বান্দা আমার পক্ষে ছিল আমাকে পড়েছিল আমাকে তেলাওয়াত করেছিল আমাকে ধারণ করেছিল অতএব এই বান্দাকে জান্নাতে দিতেই হবে এবং তার কথা আল্লাহ কি করবেন সত্য বলে মেনে নিবে এবং কোরআনকে যে বর্জন করেছে কোরআনকে যে ছেড়ে দিয়েছে কোরআনকে ধারণ করেনি পরকালে কোরআন তার বিপক্ষে সাক্ষী দেবে এবং বলবে আমার কথা মানতে হবে আল্লাহ তালা কি করবেন তার কথা মেনে নিবেন এবং কোরআনের কারণটা কি শাস্তি ভোগ করতে হবে এবং কোরআন বিভিন্নভাবে বর্জন করা হয় যেমন কোরআন তেলাওয়াত না করা এটাই কি এটা কোরআনকে বর্জন কোরআন পড়তে না পারে এটাই কি কোরআনকে বর্জন কোরআনের বিধানগুলো না মানে এটা কি কোরআনকে বর্জন আপনি সারাজীবন ব্যয় করে দিলেন কোরআন পড়া শিখলেন আপনি ২৪ ঘন্টা অনেক কাজ করতে পারেন।
পাঁচ মিনিট কোরআন পড়তে পারেন না। আপনি নিজেই চিন্তা করেন যে কোরআন কি আপনার পক্ষে নাকি বিপক্ষে? এটা আমার ফায়সালা করার বিষয় না। আপনি নিজেই চিন্তা করবেন যে আমার কোরআনের সাথে কেমন সম্পর্ক? কোরআন কি আমার পক্ষে থাকবে নাকি বিপক্ষে থাকবে? এটা আপনি নিজেই চিন্তা করবেন। তাহলে আপনি নিজেই কি পাবেন? অন্তত একটা সঠিক উত্তর আপনি পেয়ে যাবেন। এরপরে বলছেন আল্লাহ রাসূ বলছেন যে ব্যক্তি কোরআনকে তার সামনে রাখবে কোরআন তাকে জান্নাতের পথে নিয়ে যাবে। এখানে কদা বলতে বুঝায় কাউকে আদর যত্ন করে যদি সামনে নিয়ে যায় একে বলা হয় কি বলা হয়? বলা কোরআন থেকে আদর যত্ন করে কোথায় নিয়ে চলে যাবে? জান্নাতে নিয়ে চলে যাবে।
এরপরে বলছেন যে কোরআনকে পিছনে রাখবে কোরআন তাকে জাহান্নামে হাকিয়ে নিয়ে যাবে। শব্দ সাকা বলতে বুঝে আমরা যারা দেখেছি বা নিজেরা করেছি যখন আমরা কি করি? গরু হাকিয়ে নিয়ে যাই। পাচ পালের গরু আছে ১০টা অথবা ছাগল আছে এটাকে সাকা সাকা বলতে বুঝায় যেই গরুটা কথা রাস্তা থেকে চলে যাচ্ছে তখন কি করে রাখাল তারে দুই একটা বেত্রাঘাত করে আবার কোথায় নিয়ে যায় নিয়ে যায় বলে সাকা বলা হয়তো কোরআন কি করবে একে এদিক সেদিক যদি যেতেও চাই কোরআন ছেড়ে যদি কে এদিক সেদিক যেতে চাই জাহান্নামের পথে যদি ভিন্ন পথে যেতে চাই তো আল্লাহ রাসূল কি বলছেন যে না কোরআন পিটিয়ে কি করবে ওই জাহান্নামের পথেই তাকে নিয়ে যাবে অতএব কোরআনের সাথে সম্পর্ক না রেখে আমাদের আসলে কি নেই মুক্তির কোন উপায় নেই এজন্য আমাদের সাথে কোরআনের সম্পর্ক কি করতে হবে বাড়াতে আল্লাহ আমাদের কোরআনের সাথে সম্পর্ক বাড়ানোর বৃদ্ধি করার তৌফিক দান করুন আমিন ইন্নালহামদলিল্লাহসালামু আলাবি সম্মানিত উপস্থিতি আমরা শেষে একটু অনুরোধ করব যে আসুন পরকাল যদি আমরা সফল করতে চাই তবে আমরা বলব যে দুইটা আমল করেন একটা কোরআনের সাথে সম্পর্ক বাড়ান এবং নিয়মিত সালাতটা পড়েন।
দুইটা কাজ করেন। এরপরে পাপের কাজ তো বর্জন করবেন। এক কথায় আপনি যদি এই দুইটা কাজ করতে পারেন আশা করা যে আপনি পরকাল আপনার নাজাত পড়া কিভাবে খুব সহজ হবে। আপনি কোরআন রেগুলার পড়েন। পাঁচ মিনিট করে পড়েন। সকালে শুরু করেন। পাঁচ মিনিট ফজরের পরে কি করেন? পাঁচটা মিনিট পড়েন। বিকালে ঘুমানোর সময় কি করেন? পাঁচটা মিনিট কোরআন পড়েন তাও তো কোরআনের সাথে একটা আমাদের নূন্যতম কি থাকছে সম্পর্ক থাকছে এ পাঁচটা মিনিট ব্যয় করা কিনা কঠিন কিছু না আপনি এবং এটা আমার নূন্যতম বিবেক এটাই বলে আমি দুনিয়ার পিছে ৬০ বছর ৭০ বছর শেষ করে ফেললাম অথচ কোরআনের জন্য পাঁচটা সময় হয় না তাইলে এটা আসলেই আমাদের সাধারণ বিবেকও বলবে না যেটা আমার কোরআনের সাথে সম্পর্ক আছে এটা আমার কেউ বলবে না অতএব কোরআনের সাথে সম্পর্ক তৈরি করি আল্লাহ যেন আমাদের পথটা একটু সহজ করে জান্নাতের পথটা সহ সহজ করি এবং বলি যে আমরা কি করি সালাতটা পড়ি কোরআনটা
পড়ি এই দুইটা কাজে আমরা চালিয়ে যাই তবে আমরা কিছুটা হলেও মুসলিমের পথে আমরা থাকতে পারব তো আমরাও আবার শেষে উদার্ত আহবান জানাই আসুন আমরা আমাদের পরিবারে কোরআন চর্চা করি আমার সন্তানকে কোরআন শিক্ষা দেই আমার স্ত্রী কোরআন শিক্ষা দেই আমি নিজে পড়ি এবং আমাদের পরিবার একটা আইন নিয়ম করে ফেলি যে আমাদের কোরআন মানে আমাদের সকালটা শুরু হবে এবং দিন টা শেষ হবে পাঁচ মিনিট কি কোরআন পড়ার মাধ্যমে আপনি সবাইকে নিয়ে কি করেন সকাল উঠলেন আপনি সব পরিবারের সদস্যকে জড় করেন পাঁচটা মিনিট কি করেন কোরআন পড়ে এরপরে যে যার কাজে লাগুক এবং বিকালে মাগরিবের পরে যখন কোন কাজ নাই সবাই যন ফিরে আসলো পরিবারে আবার বলেন যে আমরা কি করি আজকে মিলে সবাই আমরা এটা নিয়ম বানিয়ে ফেলেন পাঁচ মিনিট করে কমপক্ষে কোরআনটা পড়েন তা আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করেন আমিন