আল্লাহ সুবহানাহুতালা আমাদেরকে সৃষ্টি করার পরে বেশ কিছু প্রোগ্রাম দিয়েছেন। সে প্রোগ্রামগুলো যদি বাস্তবায়ন করতে হয় তাহলে প্রত্যেক মুসলিমকেই ব্যক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে। দক্ষতা অর্জন ছাড়া ইসলামের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা কখনোই সম্ভব নয়। আমরা আজকে আলোচনা করবো ব্যক্তিগত দক্ষতা অর্জনে ইসলামী শরীয়ার কি কি নির্দেশনা রয়েছে? আল কোরআন এবং আস সুন্নাহ থেকে আমাদেরকে দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কি কি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আল কোরআন আমাদের সামনে আমাদের জীবনের বড় লক্ষ্য খুবই স্পষ্ট করে রেখে দিয়েছে। আমরা কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে খুব বেশি জ্ঞান রাখি না। এটা আমাদের জন্য একটা খুবই দুঃখের বিষয়। একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের জীবনের লক্ষ্যটা কি? ইসলামী শরিয়ার মূল মাকাসেদ গুলো কি? সেই লক্ষ্যগুলো যদি আমি খুব সংক্ষেপে বলি আল্লাহ সুবহানাতালা আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদতের জন্য তথা নিরঙ্কুশ আনুগত্য পোষণের জন্য।
আপনার সামনে পৃথিবীর হাতছসানি আছে। দুনিয়ার জীবন আছে। আপনার পেশাগত ব্যস্ততা আছে। দুনিয়াতে আপনি অনেক বড় ব্যক্তিত্বে পরিণত হবেন। অনেক ক্ষমতা অনেক বৃত্ত বৈভবের আপনি মালিক হবেন। এরকম একটা লক্ষ্য আপনার সামনে কিন্তু রয়েছে। আপনি শরীয়া না পড়লে এগুলো আপনার সামনে চলে আসবে। কিন্তু ইসলামী শারিয়া আপনাকে যে মূল লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে আপনাকে মনে রাখতে হবে আপনার এই লক্ষ্যমাত্রার সাথে শরিয়ার লক্ষ্যমাত্রা যায় কিনা শরিয়ার লক্ষ্যমাত্রাটাকে আপনাকে ধরে রাখতে হবে এবং বাকিগুলো হবে পরিপূরক সূরা দারিয়াতের মধ্যে আল্লাহ সতালা বলেছেন তাহলে আল্লাহ সুবহাতাার ইবাদত করা এবং তার নিরঙ্কুশ আনুগত্য করা এটা হল আমাদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য এজন্য আল্লাহ তালা আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন আপনি সচ্ছলতা অর্জন করতে চান, দুনিয়ার ক্ষমতা অর্জন করতে চান, ভালো ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চান, ভালো পেশায় নিজেকে দক্ষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে তুলে অনেক টাকা কামাই করতে চান।
এগুলো ইসলামের সাথে সর্বাত্মকভাবে সাংঘর্ষিক নয়। কিন্তু ফলে আপনি এগুলো করবেন শরীয়ার ইনস্ট্রাকশন অনুযায়ী। কিন্তু যখনই আপনার এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শরীয়া লঙ্ঘিত হবে তখন কোনটাকে রক্ষা করবেন? আল্লাহ সুবহানাতালা নির্দেশনাকে রক্ষা করবেন। সেটা ঠিক রেখেই আপনি ধনী হন। সেটা ঠিক রেখেই আপনি ক্ষমতার মসনদে বসেন। সেটা ঠিক রেখেই আপনি ব্যবসা-বাণিজ্য চালান। সেটা ঠিক রেখেই আপনি প্রশাসন চালান। সেটা ঠিক রেখেই আপনি আপনার পেশাদারিত্ব অর্জন করেন। এটা ইসলাম কখনো আপনাকে নিষেধ করবে না। কিন্তু আপনি যদি শরীয়ার মূল উদ্দেশ্যকে ব্যহত করেন। আল্লাহকে ভুলে যান। ইবাদত আপনি এভয়েড করেন আল্লাহর বান্দা হওয়ার কোন লক্ষ্য আপনার সামনে থাকে না তখন বুঝতে হবে আপনি খুবই ঝুঁকির মধ্যে আছেন।
আপনি যেই কাজই করতে যাবেন সেই কাজের মধ্যেই শরিয়া লঙ্ঘন হবে। মনে রাখবেন হচ্ছে কিনা বলেন আপনি যখন আল্লাহকে ইগনোর করবেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লামকে অপেক্ষা করবেন কোরআন সুন্নাহর নির্দেশনা জানার মানার বোঝার এবং মেনে চলার কোন গরজ ফিল করবেন না তখনই আপনি যাই করতে যান তাতেই শরীয়া লঙ্ঘন হবে আমি মার্কেটে কত মানুষকে ক্যাফেটেরিয়াতে দেখি যে বাম হাতে পান করছে শরীয়া লংঘন কিনা কেউ কি আপনাকে ডান হাতে খেতে নিষেধ করছে বলেন তো তাহলে খামাখা কেন বাম হাতে আপনি পান করছেন খাচ্ছেন রাস্তায় বের হলে দেখি অসংখ্য মানুষ সিগারেট পান করছে সিগারেট পান করার জন্য আপনাকে কি বাধ্য করা হচ্ছে তাহলে ক্ষতিকর কাজটা কেন আপনি করছেন কারণ আপনি আল্লাহ এবং তার রাসূলের নির্দেশকে ভুলে যাচ্ছেন মানার কোন খরচ নাই ফলে একটা খামাখা কাজে যেটা আপনার শরীরেও ক্ষতি করছে এমন কাজে আপনি কি করছেন শরীয়া লংঘন করছেন না আমরা দেখি আমাদের দেশের নানা জায়গায় কাজ করতে গেলে ঘুষ চায় শেরিয়া কি ঘুষ খেতে কখনো শেরিয়ার কথা বাদ দেই কোন অফিস সরকারি সরকারি বেসরকারি কোন অফিস আপনাকে কি ঘুষ খেতে বাধ্য করে? বরং প্রত্যেকটা অফিসে ঘুষ খাওয়া নিষিদ্ধ।
ধরা পড়লে চাকরি যায় কিনা? তারপরেও প্রত্যেকটা মানুষ বা অধিকাংশ মানুষ কেন ঘুষ খায়? কারণ সে শর এলাইন করছে না। ফলে তার ঘুষ খেতে ইচ্ছে করে খেয়ে ফেলে। সুদ খেতে ইচ্ছে করে খেয়ে ফেলে। অন্যায় করতে ইচ্ছে করে খেয়ে ফেলে। আরেকজনের জমি একটু দখল করতে ইচ্ছে করে করে ফেলে। রাস্তার জমি ঝড়না দিয়ে বাড়ি বানাতে ইচ্ছে করে বাড়ি বানিয়ে ফেলে। আমাদের জীবনের মূল লক্ষ্য আল্লাহ সুবহানাতালা নির্ধারণ করে দিয়েছেন এবং যাতে আমরা দক্ষতার সাথে জীবন চালাতে পারি সে নির্দেশনাও দিয়েছেন। সূরা হুদের ৬১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তালা বলছেন তিনি জমিন থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং জমিনে তোমাদেরকে তিনি আবাদ করার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
তোমাদের বসৎ ভিটার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তোমাদের জীবনযাপনের ব্যবস্থা করে করে দিয়েছেন। মানে জমিনকে আবাদ করা। তোমাদেরকে এমন দক্ষতার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন যাতে তোমরা জমিনকে সবচেয়ে পারফেক্ট ওয়েতে সবচেয়ে ভালো পন্থায় তোমরা জমিনকে আবাদ করতে পারো। তাহলে বোঝা গেল আল্লাহ যেমন হঠাৎ করে আমাদেরকে সৃষ্টি করে তার ইচ্ছা ছিল রব্বানাতা বাতিলাত আল্লাহ বলছেন তোমাদেরকে কি তাহলে এমনি অনর্থক সৃষ্টি করেছি আর আমার কাছে তোমাদেরকে ফিরে আসতে হবে না কোরআন পড়েন ভালো করে তাহলে বুঝবেন তাহলে দুনিয়াকে আবাদ করা এটা দক্ষতার সাথে হতে হবে যেন তেন ভাবে দুনিয়াকে আবাদ করা যায় না এজন্য আজকে অসংখ্য মানুষ আছে ইসলাম ভালোবাসেন। বাংলাদেশকে ওলামায়ে কেরামের দেশ বলা হয়।
কিন্তু আমরা কি যথেষ্ট যোগ্যতা স্বাক্ষর রাখতে পারছি বলেন তো? আমাদের ওলামায়ে কেরাম মুসলিম উম্মাহ তাদের কাছে যেটা এক্সপেক্ট করে। এই বাংলাদেশী জাতি তাদের কাছে যেটা চায়, যেটা আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে, যে নেতৃত্ব আশা পোষণ করে, যে কন্ট্রিবিউশন অবদান মানুষ আশা করে সেটা কি আমরা দিতে পারছি? আমাদের ওলামায়ে কেরাম দিতে পারছেন? এদেশের নেতৃত্ব মুসলিম নেতৃত্ব সেটা দিতে পারছে। এখানে আপনি দেখবেন নিজেকেই যদি বিশ্লেষণ করেন আপনি দেখবেন আপনার দক্ষতার অসংখ্য ঘাটতি রয়েছে। আমরা বলছিলাম যে আমাদের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আপনি আল্লাহওয়ালা হয়ে গেলেই দুনিয়া আপনার মাধ্যমে সব ঠিক হয়ে যাবে। এটা অসম্ভব। এটা আল্লাহর জাগতিক সিস্টেম বলে না।
আল্লাহর জাগতিক সিস্টেম হচ্ছে আপনি যতই আল্লাহওয়ালা হন আপনাকে দক্ষতাও অর্জন করতে হবে। এজন্যই দ্বীনি দক্ষতার পরেই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কি? জাগতিক দক্ষতা। দ্বীনি দক্ষতার পরেই জাগতিক দক্ষতা। কিন্তু আমাদের মানুষ এখন ডিভাইডেড হয়ে গেছে। একদল মনে করেন দ্বীনি দক্ষতার বাইরে আমার কোন দক্ষতাই লাগবে না। ফলে তারা অর্থনীতি বুঝেন না, ইসলামিক ফিন্যান্স বুঝেন না, ব্যবসায়িক বুঝেন না, ব্যবসায়িক বিষয়গুলো তারপরে প্রশাসন বুঝেন না, প্রকৌশল দপ্তরের কাজগুলো বুঝেন না। কারণ আমি তো দিন বুঝতে পারছি যে আর কিছু আমাদের লাগবে না। তারা জাগতিক দক্ষতা থেকে অনেক দূরে। আমরা অনেকের মধ্যে দেখেছি ইভেন সফট স্কিলগুলো নাই। সফট স্কিল এটা জাগতিক দক্ষতা।
সুন্দরভাবে ব্যবহার করা। ক্রিটিক্যাল থিংকিং আপনারা জানেন ইফেক্টিভ কমিউনিকেশন পজিটিভ সাইকোলজি মনে রাখবেন এটা সব মানুষের মধ্যে এই সফট স্কিলগুলো আসলে আপনি আলেম হন আর যাই হন আপনি মানুষের সাথে সুন্দর করে চলতে পারবেন না তাহলে একদল মানুষ হচ্ছে যারা রিলিজিয়াস দক্ষতা অর্জন করেছেন কিন্তু জাগতিক দক্ষতা তাদের প্রয়োজন আছে বলে তারা মনে করেন না আর আরেকদল মানুষ জাগতিক দক্ষতা অর্জন করছেন কিন্তু রিলিজিয়াস বা ধর্মীয় দক্ষতা অর্জন করার প্রয়োজন আছে বলে তারা মনে করেন না আমাদের দ্বীনি দক্ষতা বা রিলিজিয়াস দক্ষ আমাদের অর্জন করতে হবে যদি আমরা একটা ইসলামিক লাইফ মেনটেন করতে চাই বিশুদ্ধ ঈমান আকিদা মেনটেন করতে চাই আল্লাহর ইবাদতগুলো সঠিকভাবে যদি করতে চাই আখলাকটা যদি সুন্দর করতে চাই তাহলে আমাদের রিলিজিয়াস দক্ষতা জ্ঞান এবং দক্ষতা অর্জন করতে হবে আর আখিরাতের সাফল্যের জন্য আমাদের এটা এক নাম্বার প্রয়োজন এক নাম্বার প্রয়োজন খুব বড় একজন ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গেল ডাক্তার হয়ে গেল অথচ তার ঈমান ঠিক নাই অনেক ভুল আকিদা তাহলে কি সে আখিরাতে আল্লাহর কাছে নাজাত পাবে পাবে না।
আবার আমরা বলছি যে একদল মানুষ আছেন যারা রিলিজিয়াস দক্ষতা অর্জন করেন নাই। জাগতিক দক্ষতা অর্জন করেছেন। জাগতিক দক্ষতা অর্জন করলে আল্লাহর নিয়ম হচ্ছে তিনি তাদেরকে জগতে অনেক সুযোগ সুবিধা প্রদান করবেন। আপনি যদি দেখবেন অক্সফোর্ড থেকে যারা কিংবা হারভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে যারা গ্রাজুয়েট হয় এখনকার দুনিয়া কিন্তু তারাই চালায়। আমি জাস্ট উদাহরণ বললাম এরকম কয়েকটা বিশ্ববিখ্যাত ইউনিভার্সিটির কথা বললাম। কারণ তারা জাগতিক দক্ষ মানুষ তারা তৈরি করে এমনভাবে তৈরি করে যে কোন সোসাইটিতে গেলে এই সোসাইটি তাদের চিন্তা চেতনা দ্বারা প্রভাবিত হবে আমাদের মাদ্রাসাগুলো কিন্তু সেভাবে লোক তৈরি করছে না মাদ্রাসা থেকে যারা বের হয় তারাও মনে করে আর আপনারা যারা জনগণ আছেন তারাও মনে করেন মাদ্রাসার হুজুর শুধু খুতবা দিবে ইমামতি করবে আর দাওয়াত খাবে এক্সপেক্টেশন আপনাদের সবাইকে সীমাবদ্ধ করে ফেলছে চিন্তা চেতনার দিক থেকে ফলে আমাদের কেউ যদি ইভেন দেশ বিদেশ বিশ্বের জন্য কিছু করতে চায় আপনারা এলাও করবেন না আপনার দৌড় শুধু মসজিদ পর্যন্ত থাকবে কেউ
কেউ মনে করেন তিনি হুজুর মানুষ তিনি তসবি টিপবেন বড়জোর মিলাদ পড়াবেন এই কাজগুলো করবেন আপনি সমাজ নিয়ে চিন্তা করেন কেন আপনি জিওপলিটিক্স নিয়ে চিন্তা করেন কেন আপনি অর্থনীতি নিয়ে চিন্তা করেন কেন আপনি ব্যাংকিং অথবা দেশের প্রশাসন নিয়ে আপনি চিন্তা করার কোন সুযোগ নাই এটা সাধারণ মানুষই অনেক সময় মনে করে দুটো কারণ থাকতে পারে একটা হলো আমাদের আসলে যে ধর্মীয় ব্যক্তিরা দ্বীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ আর দক্ষতা তারা অর্জন করছেন না। আর যারা দুনিয়ার দক্ষতা অর্জন করছেন তারা দ্বীনের দক্ষতা অর্জন করছেন না। ফলে এরকম একটা বিভাজন হয়ে গেছে। একদল মানুষ মনে করে দুনিয়ার কাজে আপনাকে আসার দরকার হবে না।
আর আরেকদল মানুষ মনে করে দুনিয়ার কাজে আমি যাবো না। যাওয়ার দরকার নাই। কারণ ওখানে ফেতনা ফাসাদ। অতএব সেই জায়গায় আমরা যাবো না। আমরা ডিটাচ থাকবো। কিন্তু ইসলাম তো এটা বলে না। ইসলাম বলে যে দুনিয়ার জীবনেও শরিয়া বাস্তবায়ন করতে হবে। হবে কিনা বলেন? ব্যক্তিগত জীবনে এবাদত করবেন এরপরে সুদ ঘুষের মধ্যে ওকে করবেন এটা কি ইসলাম বলে তাহলে তো জাগতিক প্রত্যেকটা বিষয়ে আল্লাহ এবং তার রাসূলের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে ঠিক না আকিদা শুদ্ধ করবেন এরপরে আমলের মধ্যে সে আকিদার কোন বিকাশ নাই তাহলে কেমনে হবে আপনি বিশ্বাস করেন ঘুষ হারাম তাহলে ঘুষ দিচ্ছেন কেন যদি নাও খান দিচ্ছেন কেন আপনি যদি বিশ্বাস করেন সুদ হারাম আপনি বললেন আমি সুদ খাই না সুদ দেই না কিন্তু আপনার সমাজ তো দিচ্ছে আপনি কি কাজ করেছেন সুদ মুক্ত অর্থনীতি ব্যবসা বাণিজ্য প্রচলনের জন্য আপনি কি কাজ করেছেন অনেকে খুব খোশাহালে আছে তাই না এভাবে সমাজে আরো যে অন্যায় দুর্নীতি অনাচারগুলো আছে
সেগুলো রোধ করার জন্য আমরা নীরব দর্শকের চাইতে আর বেশি কিছু ভূমিকা কি পালন করছি শেরিয়া কি এটা বলে আপনি হয়তো বলবেন আমার কি করার আছে হ্যাঁ আপনার কিছু করার নাই আপনি ভাবছেন কারণ আপনি দক্ষতা অর্জন করেন নাই এটা একটা দক্ষতা একটা সমাজকে কিভাবে কলুষ মুক্ত করতে হয় দুর্নীতি মুক্ত করতে য় নিজেকে নিজের পরিবার পরিজনকে সমাজকে এটার জন্য দক্ষতা লাগে না নাকি অটোমেটিক হয়ে যায় এই দক্ষতা স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম অর্জন করেছিলেন সাহাবীদেরকে সেভাবেই গড়ে তুলেছিলেন তার সময়ে সেই সমাজে দেখেন সব ধরনের দুর্নীতি ছিল শিশু নির্যাতন ছিল শিশুদেরকে জীবন্ত পুতে ফেলা হতো নারী নির্যাতন ছিল সমাজে কোন অধিকার ছিল না জোর যার মূল্যক তার ছিল তাই না সেখানে ঘুষ ছিল সুদ আরো বেশি ছিল নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম সেগুলোকে রিমুভ করেছেন দক্ষতা ছাড়া নাকি দক্ষতা সহ? তাহলে বোঝা গেল আজকে আমরা শুধু টুপি আর লম্বা জব্বা পড়ে বসে থাকলে কাজ হবে না।
আসলে আপনাকে শিক্ষিত প্রশিক্ষিত হতে হবে। দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সেটা নিয়ে আমরা আজকে একটু কথা বলি। প্রথম যে জিনিসটা দরকার সেটা হচ্ছে। জ্ঞান অনুসন্ধান করা। কারণ জ্ঞানী দক্ষতা তৈরি করে। জ্ঞানী দক্ষতা তৈরি করে। এজন্য ইসলাম প্রথমে বলছে কিন্তু ইসলাম বলেছে এই জ্ঞান যেন রবের সাথে কানেক্টেড থাকে। এজন্য বলছেন খলাক আপনি যদি রব থেকে বিচ্ছিন্ন জ্ঞান শেখান তাহলে এই জ্ঞান দিয়ে কোন জাতি উঠতে পারবে না যদি পারতো তাহলে আজকের ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ড পারতো আমেরিকা উত্তর আমেরিকা ইউরোপের চাইতে গান বাজনা কোথায় বেশি হয় আমাকে বলেন তো হ্যাঁ এটা কি মুসলিম দেশে বেশি হয় তাহলে আজকে সেখানে অশান্তি দেখেন মানুষের লাইফটা কিন্তু প্রায় জাহান্নামের মত হয়ে গেছে অশ্লীলতায় ভরে গেছে যৌন বিকৃতিতে ভরে গেছে আরো যে কত কি আছে আল্লাহই ভালো জানেন যদিও আমাদের মানুষ স্বপ্ন দেখে ইউরোপ আমেরিকায় গেলে সে সোনার হরিণ পাবে সোনার হরিণ পাবে যদিও এখন এটা মনে হয় কিছুটা কমে এসেছে যেটা দেখলাম মানুষ এখন
জানে কোথায় কি হচ্ছে যেহেতু ইন্টারনেটের যুগ ইত্যাদি গান বাজনা বাধ্য দিয়ে আসলে একটা জাতি উন্নত হতে পারে না অতএব আপনি প্রাইমারি স্কুল থেকে যদি গান শেখানোর চিন্তা করেন এটা ভুল বিশ্ববিদ্যালয় কনসার্ট আমি ঠিক জানিনা এই অনুষ্ঠানগুলো কি করে একটা জাতির উন্নয়নে প্রভাব ফেলে বলেন তো জাতীয় উন্নয়ন দরকার এই যে বললাম না ঈমান আকিদা মুসলিমরা মনে রাখবেন কখনো উন্নত হবে না তার চারটা এরিয়া সে ঠিক না রাখে। একল ঈমান আকিদা, আরেকটা হলো তার ইবাদত, আরেকটা হলো তার হালাল হারামের বিধান মেনে চলা এবং আরেকটা হলো তার সুন্দর আখলাক। এই চারটা জিনিস যদি মুসলিম জাতি ধরে রাখতে পারে তাহলে তাদের উন্নয়ন কেউ ঠেকা থাকতে পারবে না।
এটা হল আল্লাহ সুবহাতাার সুন্নাতুল্লাহর। আল্লাহর বিধান। আল্লাহর বিধান। কিন্তু এই চারটার কোন একটা জায়গায় যদি ঘাটতি তৈরি হয় অদক্ষতা তৈরি হয় তাহলে কিন্তু মুসলিমরা কখনোই উঠতে পারবে না। আপনি মুসলিম সেজন্য আল্লাহ তালা অটোমেটিক আপনাকে উঠিয়ে দিবেন। এটা কখনোই ঘটবে না। তাহলে দক্ষতার জন্য প্রথম দরকার কি? এলেম অর্জন করা। এলেম অর্জন করা। আল্লাহ সুবহানাতালা এলেমের প্রতি আমাদেরকে অনেক গুরুত্ব আরোপ করেছেন। আল কোরআনের মধ্যে আপনারা অনেকগুলো আয়াত পাবেন। ফালামনাহু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওস্তাগফ্বিক। এভাবে অসংখ্য আয়াতে আল্লাহ সুবহানাতালা এলেম অর্জন এবং পড়ার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। এখানে দুটো জিনিস। একটা হলো পড়া আরেকটা হলো এলেম অর্জন। আপনি পড়লেন কিন্তু এলেম অর্জন করলেন না।
দক্ষতা আসবে? আসবে না। আপনি পড়লেন কিন্তু ভুল বই পড়লেন। আপনার বই নির্বাচনে কোন এলেম আপনি অর্জন করবেন সে নির্বাচনটা ভুল ছিল। তাহলে কি প্রকৃত এলেম অর্জন করতে পারবেন? প্রকৃত এলেম যদি আপনি অর্জন করতে ব্যর্থ হন তাহলে প্রকৃত দক্ষতা অর্জনেও ব্যর্থ হবেন। এটা মনে রাখবেন। নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লামের সে বিখ্যাত বাণীতো আমরা জানি। তলা মুসলিম এলেম দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু সলাম পুরো তৎকালীন সমাজকে আলোকিত করেছেন এবং দক্ষ করে গড়ে তুলেছেন এলেমটা মেইন। মনে রাখবেন জ্ঞান নলেজ ইসলামিক নলেজ ইউনিভার্সাল এটা শুধুমাত্র একটা ধর্মীয় সংকীর্ণ নলেজ না। এটা জগৎ জীবনের সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে আপনাকে সেই ওয়ার্ল্ড ভিউ নিয়ে সেই ওয়ার্ল্ড ভিউ নিয়েই আপনাকে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
শুধু একজন মৌলবী হওয়ার জন্য নয়। শুধু তসবি টিপার জন্য নয়। শুধু মসজিদের চার দেওয়াল আবাদ করার জন্য নয়। অথবা মাদ্রাসার এই সীমানাকে আবাদ করার জন্য নয়। আল্লাহ সুবহানাতালা পুরো জমিনটাকে আবাদ করার জন্য এই এলেম দিয়েছেন। এটা মনে রাখতে হবে। আমাদের ওলামায়ে কেরামকে তোলাবুল এলেম এবং আপামর যত মুসলিম জনগোষ্ঠী আছে মুসলিম উম্মাহ সকল সদস্যকে এটা মনে রাখতে হবে আচ্ছা দ্বিতীয় যে বিষয়টা আমাদের দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন সেটা হচ্ছে সময় ইনভেস্ট করা সময় আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে একটা জীবন দিয়েছেন জীবন হচ্ছে অনেকগুলো সেকেন্ডের সমন্বয় আপনি হিসাব করে বের করে ফেলতে পারবেন যে ৭০ বছর যার বয়স সে কত সেকেন্ড বেঁচে ছিল পারবেন না পারবেন এইজন্য আমরা সময়ের সবচেয়ে ছোট একক হচ্ছে আমাদের কাছে সেকেন্ড যদিও যদিও সেকেন্ডটাকেও এখন ডিজিটালি ভাগ করা যায় সেটা আমাদের আলোচ্য বিষয় না।
আমাদের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে এই যে আল্লাহ তালা আপনাকে প্রত্যেকটা সেকেন্ড দিয়েছেন এটার হিসাব নেবেন কিনা? আমরা মনে করেছি আমার মনে হয় আমভাবে আপনার আমার ধারণা আল্লাহ বছরের হিসাব নেবেন। এই বছরে কি করলেন? তা আপনি তো এখনো তো এই বছর যদি আমরা আরবি সল ধরি মহররম এখন সফর না আরো ১০ মাস আছে তো কাজ করার তো এখন অনেক সময় আছে পরীক্ষার্থীরা যেরকম মনে করে আল্লাহ আসলে আপনার প্রত্যেকটা সেকেন্ডের সময় নিবে প্রত্যেকটা সেকেন্ড সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবে প্রত্যেকটা সেকেন্ডে আপনি কিভাবে আপনার জীবন যাপন করেছেন এটা সম্পর্কে আল্লাহ জিজ্ঞাসাবাদ করবেন ফলে সময়কে আপনি কতটা কাজে লাগালেন এটাও কিন্তু একটা দক্ষতা এজন্য আমরা টাইম ম্যানেজ পড়ি টাইম ম্যানেজমেন্ট আরবিতে বলা হয় এদারাতুল এ টাইমটাকে সঠিকভাবে ম্যানেজ করাকে বলা হয় আসতেও সময়টাকে ইনভেস্ট করা বিনিয়োগ করা যে সময়টাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাবে সেই সবচেয়ে বেশি সুন্দর ফলাফল পাবে অফিসে আপনি আট ঘন্টা কাজ করেন স্যালারি পান তার মানে কি অফিস আপনার থেকে
আট ঘন্টা কাজ কিনে নিয়েছে আপনার জীবনের আট ঘন্টা সে কিনে নিয়েছে অতএব আমানতদারী হচ্ছে এই আট ঘন্টা আপনি ফ্রুট কাজ করবেন ইফেক্টিভলি কাজ করবেন তাহলে আপনাকে দক্ষ অফিসার বলা হবে কিনা আর যদি আপনি ফাঁকি দেন তাহলে ফাঁকিবাজ অফিসার আর যদি আপনি অদক্ষ হন কাজ বুঝেন না ঘুষ দিয়ে চাকরি নিয়েছেন তাহলে অদক্ষ হবেন না অদক্ষ এদেশে ঘুষ দেওয়াটা এখন হয়ে গেছে ব্যাপক হয়ে গেছে প্রত্যেকটা চাকরিতে ঘুষ দিয়ে মানুষ ঢুকে ইল্লা মাশাল্লাহ ইল্লা মাশাল্লাহ মানে কিছু না করলাম কারণ কিছু তো আছে ঘুষ ছাড়া মানুষ ঢুকতে পারে বাট আমরা যা শুনতে পাই আমাদের কাছে আমার ব্যক্তিগত ত কোন সার্ভে নাই।
বাট আমরা যা শুনতে পাই এমন কোন চাকরি নাই যেখানে ঘুষ দেওয়া হয় না। দু চারজন ঘুষ ছাড়া লবিং এ ঢুকতে পারেন। আবার কেউ কেউ অতি মেধাবী হওয়ার কারণে সুযোগটা পেতে পারেন। বাট অন্যদের ক্ষেত্রে ঘুষের মাধ্যমে। তাইলে দক্ষতা কি সেখানে আছে? দক্ষতার মূল্যায়ন কি হচ্ছে? এই জাতি এখনই একটা বড় ঝুঁকির মধ্যে আছে। মেধাহীনতার মধ্যে ভুগছে। আপনি দেখবেন আলেমদের মধ্যে একটা শূন্যতা। আমরা আমাদের আগের জেনারেশন গুলোতে অনেক আলেম পেয়েছি জাতি যাদের পেছনে ঐক্যবদ্ধ এখন কোথায় এখন কোথায় শিক্ষাবিদ শূন্যতা বিদ্যালয় মাধ্যমিক স্কুল মাদ্রাসা ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক নিয়োগে যদি এই এই জিনিসগুলো বাদ না দেওয়া হয় দুর্নীতি বাদ না দেওয়া হয় তাহলে যোগ্যরা কি শিক্ষকতার পোস্টে আসতে পারবেন জাতি কিন্তু মেধাশূন্য হয়ে যাবে মনে রাখবেন আজকে হয়তো আপনি ধরতে পারছেন না কিন্তু ১০ বছর পরে একযুগ পরে এটা প্রকট টাকারধার করবেন জাতীয় নেতৃত্বের মধ্যে আপনি মেধা দেখবেন না ভালো শিক্ষাবিদ পাবেন না ভালো আলেম পাবেন না এটা কিসের অভাবে হয়েছে কারণ দক্ষ লোকদেরকে আপনারা নিয়োগ দেন নাই অদক্ষতার কারণে এই মহাশূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে এই এলাকার মুসলিম উম্মাহ এলাকার জনগণ যার বিশাল মূল্য দিতে বাধ্য থাকবে মনে রাখবেন আল্লাহ আমাকে বলার সুযোগ দিয়েছেন এজন্য বলে গেলাম জাতির সামনে নবী বিখ্যাত হাদিস আদমের দুই পা কেয়ামতের দিন সরবে না।
অর্থাৎ তাকে মুভ করার অনুমতি দেওয়া হবে না যতক্ষণ না তাকে চারটা জিনিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। প্রথমটা হচ্ছে তার জীবন সম্পর্কে যা সে জীবন যেটাকে সে ব্যয় করেছে। যে ক্ষেত্রে সে ব্যয় করেছে। আচ্ছা এখন আমরা একটু দক্ষতার বিষয়ে একটু আসি। আমাদের এলমি দক্ষতা এবং আমাদের সময় ইউজ করার দক্ষতা অর্জনের পরে আরো যে সমস্ত ক্ষেত্রে আমাদের দক্ষতা অর্জন করতে হবে সেগুলোর মধ্যে একটা হচ্ছে আপনার সোশ্যাল দক্ষতা মানুষ আমরা জানি বাই বর্ন সামাজিক জীব এটা ইসলামও বলে আরবিতে বলে মাদানবাদন মানুষ কিন্তু আইসোলেটেড জীবন যাপন করে না সমাজে তলে সমাজের সবার সাথে সম্পৃক্ততা সবার সাথে একটা সুসম্পর্ক বজায় রাখা এটা কিন্তু খুবই জরুরী একটা দক্ষতা এবং এর সাথে হচ্ছে মানুষের সাথে সুন্দরভাবে মিলেমিশে থাকা এটাকে আরবিতে বলা হয় তাওয়াস কমিউনিকেশন একটা ইফেক্টিভ কমিউনিকেশন তাইলে ইফেক্টিভ সোশাল রিলেশন এবং ইফেক্টিভ কমিউনিকেশন এটা দরকার এর পক্ষে দলিলটা কি দেখেন সহ বুখারী দলিল নবী সলাম বলছেন আল মুসলিম মুসলিম যদি সবাই আলাদা আলাদা করে নিজের ভাষা আবদ্ধ থাকতো তাহলে কি হাদিসটা বলা হতো মুসলিম হচ্ছে সেই অন্যান্য মুসলিমরা যার হাতের আক্রমণ মুখের আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকে।
আজকে কি আমরা নিরাপদ? আজকে আমরা নিরাপদ না। আজকে আমরা যেমন মামলা- হামলা এগুলো দেখতে পাচ্ছি। আরো অনেক আগ থেকে শুধু আজকে না পরিবেশ অনেক আগেই নষ্ট হয়েছে। প্রায় দুই যুগ ধরে এ দেশের পরিবেশ নষ্ট। আগেও ছিল বাট এখন আমরা অনেক বেশি দেখতে পাচ্ছি। আর ফেসবুক অনলাইন প্লাটফর্ম যদি দেখেন আক্রমণ করাটাই এখন স্বভাব হয়ে গেছে। লেসানের কোন হেফাজত নাই এবং মানুষের কোন নিরাপত্তাও নাই। এখন একদল আরেক দলকে আক্রমণ করা আর আমাদের হাতে হাতিয়ার তুলে দিচ্ছে অমুসলিম সম্প্রদায়সমূহ আধুনিক প্রযুক্তির নামে। ফলে আমাদেরকে তাদের হাতের খেলনা এবং কেরানোকে পরিণত করছে। পুতুলে পরিণত করছে। আজকে মন্তব্যের ঘর দেখেন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সেই যেকোন জায়গায় আপনি Instagram বলেন, ফেসবুক বলেন, YouTube বলেন, যেকোন মন্তব্য কিন্তু আপনি দিতে পারে।
ফলে প্রত্যেক মানুষ মনে করে যে আমি তো স্বাধীন যা ইচ্ছা তাই দিব। একজন অতি সম্মানিত ব্যক্তিকে গালি দিতেও এখন কারো একটু বাধা হয় না। আর সে তো আইসোলেটেড হয়ে তার নিজের বাসার মধ্যে দিচ্ছে। কে দেখে না সামনা সামনি অনেক টাকা গালি দেওয়া যেত না কিন্তু এখন ফেসবুকে বসে গালি দেওয়া যায় প্রযুক্তি আমাদেরকে আনসিভিলাইজড করে দিয়েছে আনসিভিলাইজড এর বাংলা শব্দটা কিন্তু অত সুবিধার না এজন্য আর বললাম না আমাদেরকে অমানুষ করে দিয়েছে আমাদের দক্ষতাগুলো এখন মানে যেটা আসল দক্ষতা সেগুলো উপেক্ষিত আর নকল দক্ষতাগুলো আমরা এখন অর্জন করছি এই জায়গায় আমাদেরকে মনে রাখতে হবে আমরা যেন কাউকে আঘাত না করি কারো সম্মানে আঘাত না করি মিথ্যা এবং অন্য যে কোোন ধরনের অপবাদ যেন না দেই এ এর মাধ্যমে আপনারা হয়তো জানেন এআই এর উপরও আমি মনে করি আপনাদের স্টাডি করা উচিত আমাদের ওলামায়ে কেরাম কি বলেছেন এআই দিয়ে আপনি একজন ছবি বানিয়ে ফেলতেছেন এআইকে যদি আপনি বলেন একটা
ছোট্ট নাটিকা করে দে সে করে দিচ্ছে এখন ফ্রি দুই বছর পরে কিন্তু যে অনেক পয়সা নিবে মনে রেখে আপনাদেরকে অভ্যস্ত করছে আপনিফেসবু এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছেন এডিক্টেড হয়ে গেছেন ছাড়তে পারছেন নাফেসবু এখন দেখবেন যে আপনার রিচ কমিয়ে দিয়েছে নানা টেকনিক এপ্লাই করে অ্যালগরিদম পাল্টে পাল্টে সে কিন্তু আপনাকে টাকা দিতে বাধ্য করছে একটা সময় দীর্ঘ সময় ধরে ইমেইল কোনদিন দেখি নাই যে পয়সা চায়। এখন ইমেইল বলে যে আপনার মেমোরি শেষ। আপনি বছরে ১৬০০ টাকা দেন। বুঝতে পারছেন? এও তাই করবে। এটা হচছে বিজনেস পলিসি তাদের। কিন্তু এআই দিয়ে আপনি যাচ্ছে তাই করবেন কেন? মিথ্যা ছবি তৈরি করে একজনকে আক্রমণ কেন করবেন? এটা মনে রাখতে হবে।
তার মানে হচ্ছে আমাদের মুখের ভাষা কিংবা হাতের আক্রমণ থেকে এখন মুসলিমরা আর নিরাপদ নয়। আমরা আমাদের দক্ষতাগুলোকে অন্যায় জায়গায় এস্টাবলিশ করছি। ওটা থেকে আমাদের ফিরে আসতে হবে। আসল দক্ষতাটা কি? আসল দক্ষতা হচ্ছে আপনি এমন একটা সোশ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করবেন, এমন একটা সোশ্যাল স্ট্রাকচার এবং সিস্টেম তৈরি করবেন ফ্যামিলিটাও আমাদের সোসাইটির একটা পার্ট। অতএব ফ্যামিলি স্ট্রাকচার এমনভাবে তৈরি করবেন বা এডমিনিস্ট্রেটিভ যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো আছে এমনভাবে তৈরি করবেন যাতে সকল মোমেন এবং মুসলিম নিরাপদ থাকে। এই দক্ষতাটা খুব জরুরি। দ্বিতীয় হচ্ছে আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ। এটাকে আরবিতে বলা হয় নাফস।
আত্ নিয়ন্ত্রণ আপনার ভেতর থেকে আপনার নাফস আপনাকে অনেক কিছু করার জন্য টেমট করছে প্রণোদিত করছে আর কোরআন বলছে ইন্নাফাত নাফস মানুষকে খারাপ জিনিসের নির্দেশ দেয় এই নাফসকে যদি আপনি বশীভূত করতে না পারেন নাফসের যদি আপনি এত্তেবা করেন তাহলে কি হবে কোরআন কিন্তু এটা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করেছে যারা নাফস এর এবং শাহতের যারা অনুসরণ করে তারা পথভ্রষ্ট আপনার নাফস যে নাফস হচ্ছে আম এটা আপনাকে কিন্তু অসৎ সৎপথে নিয়ে যাবে। মনে রাখতে হবে। তাহলে এই নাফসকে বশীভূত করা নিয়ন্ত্রিত করার দক্ষতা আপনার অর্জন করতে হবে। দ্বিতীয় হচ্ছে আরেকটা হলো এটার সাথেই আমরা বলব আপনি অন্যের অনুভূতি নিজের অনুভূতিগুলোকেও ঠিকমত ম্যানেজ করতে হবে।
একজন মানুষ আপনার কাছে প্রত্যাশা করে ভদ্র ভাষা। সুন্দর বিনয় বিনয়ের সাথে ব্যবহার। বিনয়ী ব্যবহার। আপনি তাকে খুব কঠোর গালি দিলেন তার হৃদয়টা খানখান হয়ে যাবে না। আপনিও মানুষ। তিনিও মানুষ। তাহলে আপনি অনুভূতিটাকে ঠিকমত তো পরিচালনা করেন নাই। আপনার মধ্যে রাগ বেশি। আপনি রিএক্টিভ প্রকৃতির মানুষ। এজন্য আপনি আরেকজনকে আক্রমণ করলেন। এটা তো হবে না। আপনাকে হতে হবে প্রোঅ্যাক্টিভ ইতিবাচক। পজিটিভ এবং এটা দপ্তর নফসের মাধ্যমে সম্ভব। এটাকে বলা হয় ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স। ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স। এটা একটা সফট স্কিল। এটা অর্জন না করলে আপনি যদি অনেক বড় আলেম হন আর মানুষকে গালিগালাজ করেন মানুষ কিন্তু আপনাকে ভালোবাসবে না। আপনার এলেম অনেক মানসম্পন্ন।
কিন্তু আপনি ইমোশনকে কন্ট্রোল করতে পারছেন না। রেগে যাচ্ছেন। অন্যায়ভাবে মানুষের প্রতি আক্রমণ করছেন। তাহলে আপনার এই অদক্ষতার কারণে আপনার এলেমটা মানুষের কাছে উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। তাহলে আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং ইমোশন কে সঠিকভাবে ব্যবহার করা বা ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স যাতে আমরা সে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তৃতীয় যে দক্ষতা আমাদের প্রয়োজন সেটা দুটো জিনিস। একটা হলো সূক্ষ প্ল্যান। সূক্ষ প্ল্যান। পরিকল্পনামাফিক কাজ করা। আর পরিকল্পনামাফিক কাজগুলোকে খুব সুন্দর সুশৃঙ্খলভাবে করা। আরবিতে বলা হয় আততাম। মানে হচ্ছে খুতবা থেকে প্ল্যান সুন্দরভাবে প্ল্যান করা। এবং এই প্ল্যানটাকে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করার দক্ষতা অর্জন করা। আমাদের মদিনা ইউনিভার্সিটির একজন প্রফেসর।
আমাদের অনেক বাংলাদেশী ছাত্রদের একটা সভায় তিনি আমাদেরকে নসিহত করেছিলেন তিনটা জিনিস খুব জরুরী যেকোনো কাজে সাফল্যের জন্য তিনটা শর্ত খুবই জরুরী প্রথম হচ্ছে আল ফিককরুল আমেক সূক্ষ চিন্তা যেটাকে আমরা আল বাহাতুল আমেক বলতে পারি রিসার্চ গভীর ভাবে রিসার্চ করে দেখবেন গবেষণা করা আর গবেষণাটা সবসময় ইন্টেলেক্ট থেকে আসে এটা একটা ইন্টেলেকচুয়াল ইফো বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টা এটাই হলো গবেষণা ইমোশনাল প্রচেষ্টাকে গবেষণা বলা হয় না ভাষাভাষা নলেজ নিয়ে কথা বলাকে গবেষণা বলা হয় না। তাইলে যেকোনো কাজের শুরুতে আপনাকে গবেষণা করতে হবে যে কোন প্ল্যান, প্রোগ্রাম, প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, লোকালিটির জন্য ভালো কাজ, কল্যাণকর কাজ, দেশের জন্য কাজ, সমাজের জন্য কাজ, দেশের অর্থনীতি বিকাশ ইত্যাদি যা কিছু করেন শুরুতে এক নাম্বারের পয়েন্টটা কি? গভীর চিন্তা বা গবেষণা।
দুই নাম্বার হচ্ছে আততাক। তিনি বলেছিলেন আততাক। সূক্ষ প্লান। সূক্ষ পরিকল্পনা। আর তৃতীয় তিনি বলেছিলেন আল আমাল মোতাওয়াসেল আল আমাল আল মোতাওয়াসেল অবিরাম কাজ করে যাওয়া নিরাশ না হওয়া অনেক সময় হঠাৎ করে সাফল্য আসছে না কিন্তু আপনি নিরাশ হবেন না আপনি নিরাশ হবেন না কাজ করে যাবেন কারণ আসলে কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করলে ইতিহাস প্রমাণ করে প্রত্যেক কাজেরই একটা সাফল্য অবশ্যই আছে ইন্নামা আল্লাহই বলে দিয়েছেন কঠিন মনে হচ্ছে আপাদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে আমি সফল হব না আমি সহজ সমাধান পাব আল্লাহ বলছেন ইন্না সাফল্য আসবে সাফল্য আসবেই সাফলতা আসবে কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন আল আমল মতাওয়াসল আপনি যদি এক বছর দুই বছর তিন বছর কাজ করে বসে যান কারণ এখনো সাফল্য দেখা পান নাই তাহলে কি কোনদিন সাফল্যের দেখা পাবেন পাবেন না তাহলে এটা একটা দক্ষতা যে অবিরাম কাজ করে যাওয়ার দক্ষতা এখানে দুটো দক্ষতা লাগবে এক হচ্ছে মানসিক দক্ষতা মানসিক দক্ষতাটা কি অবিরাম কাজ করে যাওয়ার মানসিকতা আর শারীরিক দক্ষতা কি নিজের শরীরকে সেভাবে ফিট রাখা যেন আমি কাজ করতে পারি যেন আমি বিছানায় পড়ে না যাই যেন আমি মানে এমনভাবে নিজেকে কোন ঝুঁকির মধ্যে ক্ষতির মধ্যে না ফেলে দেই যে আমি শারীরিকভাবে আর সক্ষম থাকলাম না।
চতুর্থ যে বিষয়টা সেটি হচ্ছে আরেকটা দক্ষতা সৃজনশীলতার বিকাশ। এ দক্ষতাটা হলো সৃজনশীলতার বিকাশ এবং পজিটিভ চিন্তাভাবনা। ইতিবাচক চিন্তাভাব। আপনার সৃজনশীলতাটাকে আপনি সবসময় ইতিবাচক রাখবেন। তাহলে দুটো জিনিস এখানে এড হচ্ছে। এক আপনাকে আল্লাহ তাআলা যে চিন্তার শক্তি দিয়েছেন যে মেধাটা দিয়েছেন যে ইন্টেলেকচুয়াল পাওয়ারটা দিয়েছেন সেটাকে আপনি বিকশিত রাখবেন একটিভ রাখবেন সেটাকে আপনি বন্ধ করে ফেলবেন না ক্লোজ করে ফেলবেন না আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা মানুষের সৃজনশীলতাকে কিন্তু হত্যা করে অর্থাৎ সৃজনশীলতাকে নষ্ট করে দেয় এটা আমাদের আরবি শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেশি কিন্তু অন্যগুলোতেও আছে ঢাকা ইউনিভার্সিটির একজন প্রফেসরের আমি আমার মনে আছে প্রফেসর ডক্টর জাকির উনি সম্ভবত তো জুলজির টিচার ছিলেন অনেক আগে।
আজ থেকে প্রায় ১৫ ২০ বছর আগে আমি তার একটা আর্টিকেল পড়েছিলাম দৈনিক। উনি বলেছেন যে আমাদের টিচাররা সেই ছাত্রকে বেশি নাম্বার দেয় যে হুবহু আমার মত লিখতে পারে। আমি ক্লাসে যে লেকচারটা দিয়েছি, হুবহু আমি ভাবি যে আহা এতো অনেক মেধাবী দেখি আমার সব কথা ধরে ফেলেছে এবং লিখে দিয়েছে। কিন্তু তিনি কখনো চিন্তা করেন নাই যে এই শিক্ষার্থী মেধাবী মুখস্ত করতে পারে কিন্তু সে তার সৃজনশীলতার বিকাশ কিন্তু দেয় নাই। সে একজন টিচারকে হুবহু অনুসরণ করে তার থেকে বেশি নাম্বার প্রাপ্তির আশা এটা করেছে তার জন্য উচিত ছিল সে তার টিচারের কথাকে নিজের মত করে সে ব্যক্ত করবে তাহলে এটা সৃজনশীলতার বিকাশ হতো ছোট সময় আমরাও রচনা মুখস্ত করতাম আরবিতে রচনাকে বলা হয় ইনশা এই সাবজেক্টটা ছিল কমপ্লিটলি সৃজনশীল সাবজেক্ট কিছুকাল আগে আমরা প্রাইমারি স্কুলে বা মাধ্যমিকে দেখলাম সৃজনশীলতার প্রশ্ন ওগুলো বাজে জিনিস অমেধাবীরাই সৃজনশীলতার বিকাশ করেছে ফলে বললাম না অদক্ষ লোকদের হাতে ওটা সৃজনশীল ছিল না।
করিম আর রহিম এই কাজ করেছে। এখন তুমি বলতো এটা কি? এটা সৃজনশীলতা না। সৃজনশীলতার বিকাশের জন্য রচনা লিখতে হবে। মানে আমি একটা আইডিয়া দিব। সে আইডিয়া নিজের ভাষা ব্যক্ত করা। ক্লাসে আমার টিচাররাই বলতো যে কোন একজন ভালো লোককে দিয়ে রচনা লিখে পরীক্ষা দাও। দেখবে যে অনেক নাম্বার পাইবার। ঠিকই। আমি রচনায় সবসময় বেশি নাম্বার পেয়েছি। কিন্তু মুখস্ত করে পরীক্ষা দিয়েছে। দাখিলে যখন পরীক্ষা দিলাম তাও মুখস্ত করে এবং সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়েছে। কিন্তু এখন যখন বুঝলাম যে না এটা রচনা হয় নাই। রচনা হচ্ছে আমার টিচার আমাকে বলে দেবে আর সে নিজের ভাষায় ব্যক্ত করবে এটা হলো রচনা রচনার মধ্যে সৃজনশীল হতে হবে অবশ্যই আপনি যত সুন্দর রচনায় লেখেন যদি ওটা সৃজনশীল না হয় ওস্তাদার পায় তাহলে জিরো পাবে ১০০র মধ্যে জিরো পাবে ইসলাম আমাদের সৃজনশীলতার বিকাশের জন্য অনেক কিছু বলেছে ইসলাম আমাদেরকে বলেছে না ইসলাম বলেছে না বলেছে না তারা কেন কোরআন নিয়ে চিন্তা গবেষণা করে না।
কোরআন দেওয়া হয়েছে চিন্তা গবেষণা করার জন্য ফিকির এবং আকলকে কাজে লাগানোর জন্য। আর যদি কেউ না করে আল্লাহ বলছেন আমলাহা নাকি তাদের অন্তর লক অন্তরলক অন্তরকে আল্লাহ অন্তর দিয়েছেন অন্তর দিয়ে চিন্তা করার জন্য আল্লাহ সমালোচনা করেননি এখানে তাদের অন্তর আছে কিন্তু তারা সেটা দিয়ে গভীর ভাবে উপলব্ধি করে না গভীরভাবে উপলব্ধি করার জন্য চিন্তা শক্তি এবং সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে হবে এই দক্ষতা আমাদের প্রয়োজন ফলে আজকে দেখেন অনেক মানুষ অনেক ভুল কাজ করছে আমাদের চিন্তাশীল মানুষ নাই একটা মাজারে এত টাকা কেন দিচ্ছেন কাকে দিচ্ছেন কে বেনিফিটেড হচ্ছে একটা মাজারকে ঘিরে তওয়াফ করছে অথচ তাওয়াফ করার কথা শুধু বায়তুল্লাহ কোন দলিলের ভিত্তিতে আপনি এদিকে যাচ্ছেন আল্লাহ কি একটু চিন্তার কোন শক্তি আপনাদেরকে দেয় নাই দিয়েছেন কিন্তু আপনারা সেটাকে কাজে লাগাচ্ছেন না ইন্নাল্লাহ এটা বায়হাকের একটা হাদিস আল্লাহতালা তোমাদের কেউ যখন কোন কাজ করে সে যেন পরিপক্ষভাবে প্রফিশিয়েন্সির সাথে করে এটা আল্লাহ পছন্দ করেন কে বলেছেন নবী হাদিস অতএব
এতকানের জন্য কি লাগবে দক্ষতা লাগবে পঞ্চম যে বিষয়টা সেটি হচ্ছে নেতৃত্ব নেতৃত্বের দক্ষতা জাতির জন্য অথবা প্রতিষ্ঠানের জন্য অথবা সমাজের জন্য যেই সিদ্ধান্তটা সবচেয়ে ইফেক্টিভ সবচেয়ে কল্যাণকর সবচেয়ে শুদ্ধ সুন্দর সেই সিদ্ধান্তটা নেওয়া এটা কি মুসলিম নেতৃত্ব নিতে পারছে যদি পারে তাইলে বুঝতে হবে তারা দক্ষতা অর্জন করেছে আর যদি না পারে তাহলে বুঝতে হবে তারা এখনো দক্ষতা অর্জন করেন নাই নবী সাল্লাম শ জামানার দিকে এসে বলেছেন ইত্তাদলা এই শেষ জামানায় এসে মুসলিম জনপদ তাদের খুবই পছন্দ হচ্ছে কি জাহেল লোকদের পছন্দ সঠিক নেতৃত্ব এবং সৎ নেতৃত্ব এটা তাদের হয়তো পছন্দ না কারণ গান বন্ধ করে দিবে নাচ বন্ধ করে দিবে ঘুষ বন্ধ করে দিবে সুদ বন্ধ করে দিবে বুঝছেন না নবী সাল্লা দেখেন সাহাবাদের মধ্যে যারা দক্ষ তাদেরকে তিনি এপয়েন্টমেন্ট দিতেন আর যারা অদক্ষ অথচ ভালো তাদেরকে বলতেন তুমি এই পদের মধ্যে এসো না যেমন আবু দর গফার রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুকে কি বলেছেন এটা সহ মুসলিম কিতাবুলার
হাদিস ইন্নাকা আপনি এই পজিশনের জন্য দাফ দুর্বল তারপর বলছেন আর যে মাসুলিয়াতের ব্যাপারে কথা হচ্ছে আলোচনা হচ্ছে সেটা আমানত আপনি অত্যন্ত সফট আর এই আমানতদারী রক্ষার জন্য কঠোর প্রকৃতির দক্ষ লোক লাগবে ফলে নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বুঝিয়ে দিয়েছেন কনফিউজ করে দিয়েছেন সাহাবায়ে কেরামকে যে কে কোন জায়গায় ফিট সেটা এটা জানতে হবে তাহলে নেতৃত্বের যে দক্ষতা এটা কিন্তু দেখার একটা বিষয় আমরা আজকে অনেক হাফেজ তৈরি করছে মাদ্রাসার অনেক ছাত্র তৈরি করছে স্কুলে তৈরি করছে কিন্তু দেশ জাতি এবং এই যে বৈশ্বিক যে সিচুয়েশন এই ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার মত জেনারেশনকে আমরা তৈরি করছি এটা একটা বিষয় আর নেতৃত্বটা কি এটাও কিন্তু আমাদের আরেকটা গবেষণার বিষয় হওয়া উচিত নেতৃত্ব বললেই আমাদের সবার দৃষ্টি চলে যায় পলিটিক্যাল লিডারেশন কিন্তু শিক্ষা ক্ষেত্রে কি নেতৃত্বের প্রয়োজন আছে না চিকিৎসা ক্ষেত্রে নেতৃত্বের প্রয়োজন আছে না আর্কিটেকচার এবং প্রকৌশল ক্ষেত্রে কি নেতৃত্বের প্রয়োজন আছে না ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সৎ ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বের প্রয়োজন আছে না? পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে নেতৃত্বের প্রয়োজন আছে না? শিক্ষকদের ক্ষেত্রে নেতৃত্বের প্রয়োজন আছে না? নেতা শুধু পলিটিক্যাল লিডার কেন? সব ক্ষেত্রেই নেতৃত্বের প্রয়োজন।
এবং এই দক্ষতা অর্জন ছাড়া কোন জাতি বাঙালি জাতি বা বাংলাদেশী জাতির কথা তো দূরের কথা এবং মুসলিম উম্মার কোন জাতি কোনদিন সে উন্নতির শিখরে উঠতে পারবে না। এটা পৃথিবীর ইতিহাস সাক্ষ। যাই হোক তাহলে আমাদের কি করতে হবে? আমি খুব সংক্ষেপে বলে শেষ করছি। আমাদের টাইমও প্রায় শেষ। আমাদের ব্যক্তিগত দক্ষতা অর্জনের জন্য ইসলামের যে নির্দেশনা প্রথম নির্দেশনা আমি শুরুতে বলেছিলাম সেখান থেকে শুরু করি সেটা হচ্ছে ইবাদত দিয়ে শুরু করতে হবে মুসলিম দক্ষতা শুরু হয় কি দিয়ে ইবাদত দিয়ে কার ইবাদত একমাত্র আল্লাহ সুবহানাতায়ালার ইবাদত এবং এখানে ইবাদতের মূল যে নলেজ ওটা রাখতে হবে আল্লাহর ইবাদত শুধু পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আর রমাদানের সিয়াম আর যাকাতের মধ্য দিয়ে আদায় হয় না আল্লাহর ইবাদত আদায় হয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহ এবং তার রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামকে মেনে চলার মধ্য দিয়ে এবং অথেন্টিক দলিলের ভিত্তিতে মেনে চলার মধ্য দিয়ে দুর্বল জাল হাদিস এগুলোর মধ্য দিয়ে ইসলামকে মানা যায় না।
ইসলামকে মানতে হয় অথেন্টিক দলিল দিয়ে। আমাদের এই যে ১৪০০ সড়েশ বছর ধরে অসংখ্য ওলামায়ে কেরাম আছে। সাহাবায়ে কেরাম আছেন এক লক্ষেরও বেশি সাহাবায়ে কেরাম এদের লাইফস্টাইল আমাদের কাছে আজকে আছে। আমরা জানি তারা কে কি তুরাস যে যে নলেজ তারা আমাদের জন্য রেখে গিয়েছেন যে ট্রেডিশন যে ঐতিহ্য তারা আমাদের জন্য রেখে গিয়েছেন সেটা আমাদের কাছে আছে। আজকের মুসলিম উম্মাহ যদি সত্যিকারের পথ চলতে চায় তাহলে তাদের সেই ঐতিহ্যের সাথে তার কানেকশন বাড়াতে হবে। তার গবেষণার একটা বড় ক্ষেত্র হবে এই ঐতিহ্য। এগুলোকে এখন আমরা আমাদের চিন্তা চেতনা, সমাজ, আমাদের অর্থায়ন, আমাদের ব্যবসা, বাণিজ্য, আমাদের সোশ্যাল ইন্টারেকশন, আমাদের প্রশাসন এ সবকিছুর মধ্যে কনভার্ট করার মত দক্ষতা আমাদের লাগবে।
আমাদের অনেকেই এগুলো সেই আগের সে হাদিসগুলো এখন কিভাবে কনভার্ট করবো এটা জানে না। ফলে সে দক্ষতা অর্জন করে যদি আমরা আমাদের ইসলামের মূল ঐতিহ্য অনুসরণ করে আল্লাহ এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের মূল নির্দেশনা অনুসরণ করে চলতে পারি তাহলেই মুসলিম উম্মার জাগরণ সম্ভব, উন্নয়ন সম্ভব। মুসলিম জনপদগুলো আবারো উন্নতির শিখরে উঠতে পারে। মুসলিম দেশগুলো তারা নিজেরা স্বতন্ত্র হতে পারে এবং উন্নয়নের যে ইসলামের রূপরেখা সেটা ফলো করেই তারা উন্নত জাতি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে। তাহলে ইবাদত দিয়ে সেটা শুরু করতে হবে। দুই নম্বর হচ্ছে সর্বত্র যারা সৎ তাদের সাথে আমাদের কানেকশন বাড়াতে হবে। সৎ মানুষ সৎ ওলামায়ে কেরাম মুহাক্কিক ওলামায়ে কেরাম তাদের নির্দেশনায় এবং তাদের সাথে ইন্টারেকশনে এই সমাজটা সুন্দর হতে পারে।
তৃতীয় হচ্ছে অনেক বেশি পড়াশোনা। আজকের নতুন জেনারেশন তো পড়াশোনা থেকে একদম বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এজন্য তাদেরকে পড়াশোনামুখী কিভাবে করা যায়। জোর করে পড়ালে কোন কাজ হবে না। জোর করে পর্দা করালেও মেয়েদের আপনি দ্বীনদারিতে আনতে পারবেন না। তাহলে তাদেরকে কনভিন্স করা। তাদেরকে দ্বীনের এই রীতিগুলো এমনভাবে দেওয়া যেন তারা সানন্দে সেটাকে গ্রহণ করে। এই পদ্ধতিতে নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম শিখিয়েছিলেন বলেই সাহাবায়ে কেরাম দেখেন তারা সানন্দে ইসলাম গ্রহণ করেছেন না তারা আনন্দের সাথে ইবাদত করেছেন না তারা আনন্দের সাথে দ্বীনের সমস্ত নির্দেশনা এবং অনুশাসনগুলো মেনে চলেছিলেন আজকে আমরা সেটাই চাইবো আমরা জোর করে কিছু চাপিয়ে দিব না কিন্তু এর জন্য একটা প্রপার এডুকেশন সিস্টেম লাগবে একটা সুন্দর দাওয়া সিস্টেম লাগবে মসজিদগুলোকে একটিভ করতে হবে মাদ্রাসাগুলোকে একটিভ করতে হবে প্রত্যেক ওলামায়ে কেরাম তারা নিজেরা একটিভ হবেন দক্ষতা বাড়াবেন আর যারা আমাদের সাধারণ শিক্ষিত মুসলিম ভাই বোনেরা আছেন তারাও একাধারে তাদের একই কায়দায় যদি দক্ষতা বাড়াতে শুরু করেন তাহলে সেদিন হয়তো বেশি
দূরে নয় যেদিন আমরা দেখব যে আমাদের সমাজ অনেক বেশি নিরাপদ অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ অনেক বেশি ইসলামিক অনেক বেশি সৎ তাই না আল্লাহ যেন আমাদেরকে সে তৌফিক দান করেন আল্লাহর কাছে সে দোয়া করছি আমাদের ভুল ত্রুটি যেন তিনি ক্ষমা করে দেন মুসলিমিনহ আলহামদুলিল্লাহ আলামিন মুত্তাকসালাতুসসালামু আলাবিনা মুহাম্মাদি ওয়ালা আলিহবিহ আজ আম্মা মুসলিম্লাহ আললাহ সুবহানাতাহ মুসলিম আসুন আমরা সবাই আগের চেয়েও বেশি সচেতন হই জ্ঞানমুখী হই জ্ঞান অনুসন্ধান করি আমলের জন্যে এবং জ্ঞান এবং এলেমকে আমলে কনভার্ট করি জীবনের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে শুধু ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে নয় আপনি আপনার অফিসে আপনার পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দেশের প্রতি আপনার যে দায়িত্ব আছে সে দায়িত্ব পালনে সামাজিক দায়িত্ব পালনে সামাজিক ইন্টারেকশনে আপনার পারিবারিক দায়িত্ব পালনে আপনার যেকোন ট্রাানজেকশনে ব্যবসা বাণিজ্য সব জায়গাতে আপনি যদি এইভাবে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারেন যে আল্লাহ এবং তার রাসূলের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছেন চমৎকার দক্ষতার সাথে তাহলে আসলে আপনার দেখাদেখি আরো অনেক মানুষ হেদায়েত হয়ে যাবে এটাই পৃথিবীর
নিয়ম পৃথিবীর মানুষ হেদায়েতও শিখে আবার দলাতও শিখে খেয়াল করেন পৃথিবীর মানুষ হেদায়েতও শেখে আবার দলাত বা ভ্রষ্টতাও শিখে তারা হেদায়েত শিখে আলেম ওলামার কাছ থেকে হেদায়েত শিখে ভালো মানুষদের কাছ থেকে হেদায়েত শেখে সমাজের সৎ মানুষদের থেকে যারা কোরআন সুন্নাহর সাথে কানেক্ট কোরআন সুন্নাহ ভিত্তিক জীবন যাপন করেন তাদের কাছ থেকে আর দলাত শেখে যারা ভ্রষ্ট মানুষ যারা বিপদগামী মানুষ যারা দ্বীনের সাথে কোন এটাচমেন্ট রাখে না যারা গান বাজনা বাধ্য এসব নিয়ে থাকে অথবা যারা দ্বীন ধর্ম থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকে সেইসব লোকদের থেকে আপনি যাই গ্রহণ করবেন সেটাই হবে কি দালাত শুধু কিছুমাত্র আইন কানুনের দ্বারা আপনারা নিজেরা ধোকা খাবেন না মানুষ মনে করে যে দেশে যে জায়গায় সুন্দর মত সবকিছু চলে তারাই পৃথিবী শ্রেষ্ঠ মানুষ না এটা বলবেন না অনেক শ্রেষ্ঠ মানুষ যাদেরকে মনে করা হয় তারা জীবনের সবচেয়ে অশ্লীল জীবন যাপন করে আমাদের কাছে শ্রেষ্ঠত্বের নিক্তি একটাই সেটা হচ্ছে কোরআন এবং সুন্নাহ এবং একমাত্র ব্যক্তি তিনি হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম অতএব পৃথিবীর অন্য যে কোন ব্যক্তি আমরা আমলের ক্ষেত্রে তাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের সাথে দেখবো যদি তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের মত হুবহু হন তাহলে আমরা তাকে অনুসরণ করব অন্যথায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের ডিসিশন তার হাদিস আমাদের কাছে এক নম্বর প্রায়রিটি পাবে।
এমনকি দেখেন সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু তারা তো রাসূল সলামকে সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করতেন। বাট যখন দেখা যায় কোন সাহাবীর একটা রেওয়েত রাসূল সালালামের সহী রেওয়েতের বিপরীত আপনি কোনটা মানবেন? রাস এটাই যদি আমরা মনে রাখি খুব বেশি অনেক কিছু মনে রাখার প্রয়োজন নাই। এই নীতিটা যদি আমরা মনে রাখি তাহলে আমাদের জন্য দক্ষতা অর্জন করা এবং সত্য পথে চলা কখনোই কঠিন হবে না। আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করেন। সত্য বোঝার তৌফিক দান করেন। সত্যের পথে চলার তৌফিক দান করেন। জ্ঞানমুখী হওয়ার তৌফিক দান করেন। জ্ঞান দ্বারা আমাদেরকে আলোকিত করেন। আমরা যেন এলেমের পাশাপাশি আমলও করি।
আমরা যেন নিজেদেরকে দলাত, ভ্রষ্টতা, কুফরি, শেরেক, পাপ এবং অন্যায় যেকোন চিন্তা দুর্নীতি থেকে নিজেদেরকে মুক্ত রাখি। আমাদের মধ্যে যারা অসুস্থ আছেন আল্লাহ যেন তাদেরকে সুস্থ করে দেন। আমাদের দেশের উপর আল্লাহ যেন অনেক বারাকা নাযিল করেন। আমাদের নেতৃত্বকে আল্লাহ যখনই যাদেরকে রাখেন তাদেরকে যেন সঠিক হেদায়েত দান করেন। সঠিক বুঝ দান করেন। কোরআন সুন্নাহর সহায়ক তাদেরকে করে দেন। এবং এদেশের ওলামায়ে কেরাম আল্লাহ যেন তাদেরকেও পূর্ণ দক্ষতার সাথে কাজ করার তৌফিক দেন। ইসলামপ্রিয় মানুষগুলোকেও আল্লাহ যেন দক্ষতার সাথে সঠিকভাবে ইসলাম মেনে চলার তৌফিক দান।