যাবতীয় প্রশংসা সেই মহান আল্লাহ পাকের জন্য যিনি তার অসহায় বান্দাকে তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছেন। বান্দা হলো অসহায়। আর আল্লাহ হলেন অসীম শক্তির অধিকারী। অসহায় বান্দা বিপদে আপদে বালা মুসিবতে যেন অসীম সত্তার সঙ্গে যেকোন টাইমে যোগাযোগ করতে পারেন। কথা বলতে পারেন। এরকম একটা ব্যবস্থা সেই আল্লাহ করে রেখেছেন। আপনাদের এলাকার ধরেন এমপি সাহেব আছেন একসময় তার সাথে একসাথেই হয়তো খেলাধুলা করেছেন বা একই স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। এমপি হয়ে যাওয়ার পরে এখন তাকে আর নাগালে পাওয়া যায় না। তার কাছে যে দুইটা কথা বলবেন সুখ-দুঃখের সেরকম কোন ব্যবস্থা নাই। তা আল্লাহও যদি ওরকম হতেন যে বান্দার নাগালের বাইরে তহলে বান্দা বিপদ আপদে কার কাছে গিয়ে সুপারিশ শেকায়েত করত অভিযোগ করত এইজন্য আল্লাহ পাক তার বান্দাকে যোগাযোগের জন্য একটি মাধ্যম দিয়েছেন তা হলো সালাত।
আল্লাহ পাক বলছেন আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম। ইয়া আইুহাল্লাজনা আমানুসনবি সবসলা ইন্নাল্লাহামা সব আল্লাহ পাক বলছেন ওহে যারা ঈমান এনেছ তোমরা সাহায্য আল্লাহর কাছেই চাও। নু আল্লাহর কাছে চাও সাহায্য সাহায্য পেতে হলে দুইটি তরিকা লাগবে দুইটি মাধ্যম একটি হলো সবরক আরেকটা হল সালাত ধৈর্য ধারণ করতে হবে আর সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে যে লোক অধৈর্য বিপদ হয়ার সাথে সাথেই হয়রান পেরেশান অস্থির হয়ে একদম কিং কর্তব্য বিমূড় হয়ে যায়। তাকে আল্লাহ সাহায্য করেন না। আল্লাহর সাহায্য পেতে হলে ধৈর্য ধরতে হয়। সবর করতে হয়। সবলা সালাত শব্দের অর্থ দুইটি। মৌলিক অর্থ দুইটি। আসসালাতু মাখুদাতুম মিনাস সিলাতে সালাত শব্দটা হল সিলাতুন শব্দ থেকে এসেছে আল্লাহ এবং বান্দার মাঝখানে যোগাযোগ করে দেয় সম্পর্ক স্থাপন করে দেয় এই সালাত সালাতে বান্দা যখন দাঁড়ায় আল্লাহু আকবার বলে এটাকে বলা হয় তাকবীরে তাহরিমা।
তাহরিমা দিয়ে আল্লাহু আকবার বলল দুনিয়াবী সকল কথাবার্তা কাজ কর্ম সব কি হয়ে গেল? হারাম হয়ে গেল। দুনিয়ার সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। লাইন কেটে দিল। এখন ছেলে কানতেছে, মেয়ে কানতেছে, স্ত্রী চিল্লাচ্ছে, কে ফোন দিচ্ছে, কে কি বলছে না বলছে এটা আর দেখার সময় নেই। সালাতে দাঁড়িয়েছি। দুনিয়ার সাথে কানেকশন শেষ হয়ে গেল। এবার আল্লাহর সঙ্গে কানেকশন শুরু হলো। প্রথমেই শুরু করলাম ছানা দিয়ে। আল্লাহুম্মা বাবাই বাইনা খাতায়া কামা মাগরিব হে আল্লাহ আমার পাপকে আমার থেকে এত দূরে সরায়ে দাও আমার পাপ আমার কাছ থেকে সরায় নিয়ে যাও এত দূরে নিয়ে যাও যেমন দূরত্ব তুমি পূর্ব দিগন্ত থেকে পশ্চিম দিগন্তে রেখেছো যেখান থেকে সূর্য ওঠে আর যেখানে যায় সূর্য ডোবে এই দুইটার যতটা দূরত্ব ব্যবধান আমার থেকে আমার পাপ তত দূরে নিয়ে চলে যাব।
ডাইরেক্ট কথা শুরু হয়ে গেল আল্লাহর সাথে। আল্লাহুম্মা বাবা বাইনিবাইনা খাতায়া কামাবা আল্লাহুমমাখা কালা হে আল্লাহ আমাকে পাপ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করো যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয় রঙ্গিন কাপড় থাবাথপা ধুয়ে দিলাম হয়ে গেল কিন্তু সাদা কাপড় যত্ন করে ধুইতে হয়। সাদা কাপড় রাখতে হয় পরিষ্কার জায়গায়। সাদা কাপড়ের দাগ দেখা যায়। দাগগুলি লেবু দিয়ে ঘষে তুলতে হয়। কালো কাপড়ে অত দেখা যায়। কাপড় ধুয়ে দড়ির উপরে শুকাতে দিলাম। দড়ির মধ্যে এক গাদা ময়লা। কালো কাপড় হলে বুঝা যায় না। দড়ির ময়লা কাপড়ে লেগে গেছে। কিন্তু সাদা কাপড় পরিষ্কার দেখা যায়। সাদা কাপড় যেমন যত্ন সহকারে ধোয়া হয় সেইভাবে আমার পাপকে তুমি ধুয়ে সাফ করে দাও।
আল্লাহুম্মা খাতা কামালা আল্লাহুম্মাখা হে আল্লাহ আমার পাক গুলিকে তুমি ধুয়ে পরিষ্কার করো বিলমায়ে পানি দিয়ে। ওয়াসসাল যে বরফ দিয়ে ওয়াল বারাদ শিশির বিন্দু দিয়ে আমার পা দিয়ে দাও। বারাদ শব্দের অর্থ হল শিশিরবিন্দু। ঘাসের উপরে পরে শিশিরবিন্দু। এটাকে মেডিকেল সাইন্সের ভাষায় বলে ডিস্টিল ওয়াটার। আগে আমরা দেখি যে পাউডারের ইনজেকশন থাকতো। আর একটা পানি থাকতো। পানিটা ভেঙ্গে সিরিঞ্জ দিয়ে পানিটা তুলে পাউডারের ইনজেকশনের মধ্যে পুশ করে ওটারে গুলায়ে তারপর ওটা তুলে মানুষের গায়ে পুশ করতো। ওটাকে বলা হয় ডিস্টিল ওয়াটার। সেই ডিস্টিল ওয়াটার হলো শিশিরবিন্দু। পানি দিয়ে ধুয়ে দাও। বরফ দিয়ে ধুয়ে দাও। শিশিরবিন্দু দিয়ে ধুয়ে দাও। ও ২০১৮ সালে প্রচন্ড এক্সিডেন্টের মুখ মুখামুখি একদম যেই প্রাইভেট কারে আমি ছিলাম ওই প্রাইভেট কার তো ট্রাকের মুখামুখি সংকটে দুমড়ি মুচড়ি একদম গর্দা হয়ে গেছে ওই ছেলেটা সামনের সিটে বসা ছিল আল্লাহ ওকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এখনো গাড়িটা নেটে দেখে আমি বলব এই গাড়িতে আমরা ছিলাম জীবন্ত আল্লাহ বের করেছে।
ডাক্তারের কাছে গেলাম। ডাক্তার বলে বরফ দিয়ে ছক দেন। বুকে আঘাত পেয়েছি। তো বরফ দিয়ে ছক দিলে ঠান্ডা লাগবে আরো বেশি। ব্যথাতে আমরা তেনা গরম করে করে আগে মা খালাদেরকে দেখেছি ছক দিতে। তা আমি বরফ দিয়ে ছক না দিয়ে নেকরা গরম করে ছক দিলাম। ডাক্তারের কথা শুনি নাই। ব্যথা আরো বেড়ে গেল। ডাক্তার বলে ব্যথা বাড়লো কেন? বললাম যে ঠান্ডার দিন বুকে বরফ লাগাইলে বুকে কফ জমে যাবে। আর বরফ দিয়েছক দিলে ঠান্ডা লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা। তাই তো আমি সক দিয়েছি গরম কাপড় দিয়ে। কারণ ডাক্তার রেগে গিয়ে বললেন আপনারা তো বেশি বোঝেন তো ওইজন্য আপনাদের সাথে করা মুশকিল।
বরফের চেক আর গরম নেকরার চেকের পার্থক্য কি? বলছে আপনার আঘাতের চোটে বুকের মধ্যে অনেক টিস্যু ছিড়ে গেছে। ছোট ছোট রগগুলি ছিড়ে গেছে। যখনই বরফ দিয়ে সেক দিবেন তখন ওই যে রগের মাথায় যে রক্তখরণ হয় বরফের প্রভাবে সেইগুলি জমাট বেঁধে যাবে। রক্ত আর বের হবে না। আর যখনই আপনি গরম দিয়েছেন যে কয়টা বন্ধ হয়ে যাবে সে কয়টা গরমের হিটে খুলে গেছে। খুলে যে রক্তখরণ চুর ব্যথা হবে না তো হবে কি ততদিনে এই দোয়ায় ছানার অর্থটা আমি তখন বুঝলাম যেবিলার পানি দিয়ে ধুয়ে দাও বরফ দিয়ে ধুয়ে দাও শশির বিন্দু দিয়ে ধুয়ে দাও বরফের কাজ পানি দিয়ে হয় পানির কাজ বরফ দিয়ে হয় না তাহলে আল্লাহ আমার পাপকে তুমি ধুয়ে দাও এইযে সরাসরি আল্লাহ সঙ্গে কানেকশন।
আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম। ইয়া আইুহাল্লাজনা আমানুসনবি সবলা ইন্নাল্লাহা। সালাত মানে হল জোড়া লাগানো। সালাত মানে হল কানেকশন দেওয়া। মোবাইলের কানেকশন দিয়ে দিলেন। কথা হতে থাকলো ইতালিতে। মোবাইলের কানেকশন দিয়ে দিলাম। কথা হতে দিল আমেরিকা লন্ডনে। কানেকশন নাই কথাও নাই। বান্দার সঙ্গে আল্লাহর ডাইরেক্ট কানেকশন হয় যে ইবাদতে সেই এবাদতের নাম হল সালাত। হ্যা আল্লাহর সঙ্গে আমরা আপনারা কথা বলি। কিন্তু আল্লাহর কথা আমরা শুনতে পাই না। সহি হাদিসে আসছে নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলছেন ইজ আবদুস সালাতাম সালাতাম সালাতাবা আবদি কামু সালাতাবা আবদিবাস আল্লাহ বলছেন সূরা ফাতেহাটাকে আমি এবং আমার বান্দার মাঝখানে দুই ভাগে ভাগ করে নিয়েছে। কি ভাগ করেছেন? সূরা ফাতেহা।
আল্লাহ বললেন কি? কাসামতুস সালাত। আমি সালাতকে ভাগ করেছি। সালাতের অর্ধেক আমার আর অর্ধেক আমার বান্দার। সালাতকে ভাগ করেছি। সালাত ভাগ করেছেন। আল্লাহ বললেন তাই। কিন্তু তরজমা কি হবে? সূরা ফাতেহাকে ভাগ করে নিয়েছে। কি কোথা থেকে বুঝা গেল? হাদিসের পরের অংশ থেকে বুঝা গেল ইজ কলা আবদু আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। বান্দা যখন বলে আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন যাবতীয় প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ। প্রশংসা পাওয়ার হকদার কেউ নাই পৃথিবীতে। সবাই সব প্রশংসার মালিক হলেন আল্লাহ। বলবেন আমানুল্লাহ মাদানীর কন্ঠস্বরটা একটু ভালো। আমানুল্লাহ মাদানীকে যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি ভালো। এটা তো আমানুল্লাহর কৃতিত্ব নয়। আপনার মাইকের সার্ভিসটা সুন্দর। মাইকটা খুব সুন্দর সার্ভিস দিছে।
মাইকের তো কোন কৃতিত্ব নাই। মাইক যিনি তৈরি করেছেন তিনি আরো বেশি বুদ্ধিমান মাইকের চেয়েও। আর মাইক যিনি তৈরি করেছেন তাকে যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি সকল প্রশংসার মালিক। এই ফুলটা খুব সুন্দর। এই ফুলটা যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি আরো বেশি সুন্দর। তোমার সৃষ্টি যদি হয় এত সুন্দর। না জানি তাহলে প্রভু তুমি কত সুন্দর তোমার সৃষ্টি এত সুন্দর তুমি না জানি কত সুন্দর তোমাকে তো দেখি নাই আমি কিন্তু তুমি কত সুন্দর এত সুন্দর প্রাণী তুমি সৃষ্টি করেছ একটা প্রজাপতি একটা ঘাসফরিং ঘাসের উপরে আছে প্রজাপতি আছে ফুলের উপরে দেখেন তার পাখায় কত সুনিপুন কারুকার্য আল্লাহ পাক তৈরি করেছে আল্লাহু আকবার সুবহানাল্লাহ সুন্দরবন সফরে গিয়ে ডক্টর গালিব স্যার আহ মহতারাম আমির জামাত আমাদেরকে বলে থাম থামলাম তো দেখছে যে এইযে ঘাসগুলি দেখতো কেমন স্যার আমরা তো ফলো করি না আমরা তো হেটে যাচ্ছি ঘাসের উপর ঘাসের দিক তাকায়া দেখ প্রত্যেকটা ঘাস এক জায়গায় এক একটা করে ডিজাইন করা এখানে এক
সোপা ওখানে এক সোফা ওখানে এক সোফা এমনভাবে ঘাসগুলি সুন্দরবনের ভিতরে ডিজাইন করে আল্লাহ তৈরি করেছেন দেখে মনে হচ্ছে যে কোন আল্লাহর বান্দা একটা কার্পেট তৈরি করে কার্পেটের বিভিন্ন জায়গায় ফুল আকায়ে কার্পেটটা বিছা আল্লাহু আকবার তাহলে প্রশংসার মালিক কে আল্লাহ নেতার প্রশংসা পীর সাহেবের এর প্রশংসা, বুজুর্গের প্রশংসা, আলেমের প্রশংসা, বাপ-দাদার প্রশংসা। সেদিন এক ভন্ড পীর বলছে যে আমার বাপ-দাদার নাম আছে। তাই তো আমি বলি তোর বাপ দাদার নাম আছে। তোর বাপ দাদাকে কে চেনে? ভন্ড পীর বুঝাতে চাচ্ছে আমার বাপ দাদাকে সবাই চেনে।
আর সবাই চিনলে সে কি হয়? বড় এবার ফেসবুক এর কমেন্টসে লেখে দিছে আবু জাহেল কেও তো সবাই চেনে ফেরাউন কেউ তো সবাই চেনে আবু লাহাবের নাম তো কোরআনেই আসছে সবাই চিনলে যদি তার কারিশমা বেড়ে যায় আর কেউ না চিনলে যদি তার দুর্গতি হয় দুর্নাম হয় তাহলে তোর বাপ দাদাকে সবাই চেনে ফেরাউনকে তো সবাই চেনে তাহলে ফেরাউন কি কাজেই সবাই চেনে আমার বাপ দাদার বিশাল নাম এল প্রশংসা এই প্রশংসার অধিকার কেউ রাখে না প্রশংসার মালিক কে আলহামদুলিল্লাহ যাবতীয় প্রশংসা আলিফ লাম জিনসিয়াসগরাকিয়া হামদের আগে যে আলিফ লাম আছে এটাকে আরবি ব্যাকরণে বলে জিনসিয়াসগরাকিয়া জিনসিয়াসগাকিয়া দিয়ে আল্লাহ পাক বলছেন যাবতী প্রশংসার মালিক কেবলমাত্র আল্লাহ।
বান্দা যখন এটা বলে তখন আল্লাহ বলেন হামিদানি আবদি আমার বান্দা আমার গুণগান করল। আল্লাহর সঙ্গে সঙ্গে কি করেন? জবাব দেন আর বলেন আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল। আর রাহমানির রাহিম। তালা আমার বান্দা আমার গুণগান করল ও আবদু মালিকি ইয়ামিদ্দিন আল্লাহুতালা মাজদানবদি আমার বান্দা আমার উচ্চ মর্যাদা বর্ণনা করব ইয়াকাবুদুয়াকাসন কেবল তোমারই এবাদত করি আর তোমার কাছে সাহায্য চাই আল্লাহর এবাদত আমরা করি। আর আল্লাহর কাছে আমরা কি চাই? সাহায্য। আল্লাহ আমাদেরকে দেন সাহায্য। আর তিনি গ্রহণ করেন আমাদের এবাদত। আমরা এবাদত দেই আল্লাহকে আর সাহায্য নেই।
আর আল্লাহ পাক বান্দার কাছ থেকে সাহায্য গ্রহণ করেন আর এবাদত এবাদত গ্রহণ করেন আর সাহায্য প্রদান করেন বান্দার আল্লাহর মধ্যে এখানে লেনদেন হয়ে যায় আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজম ইল্লাল্লাহ মনিনাহ জান্না নিশ্চয় আল্লাহ পাক মুমিনের জানমাল খরিদ করে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে তাহলে আমার জীবন আমি আল্লাহর কাছে বিক্রি করে দিয়েছি আর আল্লাহর কাছ থেকে জান্নাত খরিদ করে নিয়েছি আমার দেখতে হবে জান্নাত ঠিক আছে কিনা আর আল্লাহর দেখবেন যে বান্দা আমার কাছে জানমাল বিক্রি করেছে কিনা গরু বিক্রি করেছি কষায়ের কাছে। গরুর লেজ কাটা আছে না কান কাটা এটা আর আমার দেখার দায়িত্ব নয়। কসাই নিয়ে জবাই করবে শনিবারে না মঙ্গলবারে সেটা কইয়ের কাজ।
কিন্তু আমাকে যে টাকা দিল গরুর বিনিময়ে টাকাটা ঠিক আছে কিনা দেখে নিতে হবে। আল্লাহ যে আমার জীবনের বিনিময়ে আমাকে জান্নাত দিলেন জান্নাতটা আমার ঠিক আছে কিনা দেখতে হবে। আর আল্লাহ আমার জান মাল নিয়ে নিলেন তার কাছে বিক্রি করলাম। আল্লাহর সঙ্গে বান্দার লেনদেন হয়। সম্মানিত উপস্থিতি বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত সূরা ফাতেহা পড়ে যখন বলে ইয়াকানাবুদুইয়াকাসন কেবল তোমার এবাদত করি তোমার কাছে সাহায্য চাই। তখন আল্লাহ বলেন এই আয়াতের অর্ধেক আমার আর অর্ধেক হল আমার বান্দার বান্দা আমাকে এবাদত দিয়ে থাকেন আর সাহায্য গ্রহণ করেন আমি বান্দাকে সাহায্য দিয়ে এবাদত নেই এবাদত আমার সাহায্য হল বান্দার অর্ধেক আমার আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন এক আয়াত আর রহমানির রাহিম দুই আয়াত মালিকি ইয়ামিদ্দিন তিন আয়াত ইয়াকা নাবুদুয়া নাস্তাইন চতুর্থ আয়াতের অর্ধেক আল্লাহর অর্ধেক বান্দা তারপরে বাকি যে আয়াতগুলি আছে ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম সিরাতাল্লাজিনা আনমতা আলাইহিম গাইরিল মাগুবি আলাইহিম এই তিন আয়াত হল বান্দার চাওয়া পাওয়া মাঝখানের আয়াত অর্ধেক আল্লাহর অর্ধেক বান্দার আর প্রথম তিন আয়াত হল আল্লাহর প্রশংসা গোটা সূরা ফাতেহার সাতটি আয়াতের সাড়ে তিন আয়াত হল আল্লাহর প্রশংসা এবং আল্লাহর এবাদত আর সাড়ে তিন আয়াত হলো হল বান্দার চাওয়া পাওয়া।
সূরা ফাতেহা আল্লাহ ভাগ করলেন। আর শুরুতে বললেন যে সালাতকে ভাগ করেছি। আর ভাগ করলেন ফাতেহা। নাম থল সালাত। আর ভাগ করল ফাতেহা। তার মানে তার মানে হলো ফাতেহাটাই সালাত। আর সালাতটাই ফাতেহা। ওই রাস্তা দিয়ে একটা সবুজ গাড়ি যায়। তিন চাক্কার গাড়ি। ওই গাড়ির নাম কি? সিএনজি। সিএনজি কি গাড়ির নাম না? ও গ্যাসের নাম। সিএনজি কিসের নাম? গ্যাসের নাম। তো গাড়ির নাম সিএনজি রাখলো কে? গাড়ি তো সিএনজি নয়। সিএনজি গ্যাস দিয়ে ওই গাড়ি চলে। সিএনজির গ্যাস ছাড়াও গাড়ি চালানো যায় না। এইজন্য গাড়ির নামই সিএনজি হয়ে গেছে। ফাতেহা ছাড়া সালাত হয় না। অতএব ফাতেহার নামই হয়ে গেছে সালাত।
আমরা তো সালাতে দাঁড়িয়ে কিছু লোক আছে ইমামের উপরে দায়িত্ব দিয়ে দিলাম। ইমাম পড়বে আর আমার পড়া হয়ে যাবে। ইমাম তো রুকুতে গিয়ে দোয়া পড়ে। তো আপনি পড়েন কেন? ইমাম তো সানা পড়ে তো আপনি পড়েন কেন? ইমাম তো সেজদায় গিয়ে তাসবি পড়ে তো আপনি পড়েন কেন? ইমাম তো তাশাহুদ পড়ে আপনি পড়েন কেন? ইমাম পড়লে যদি আপনার হয়ে যায় তো ইমামের উপর ভাত দিয়ে আপনি বসে থাকেন। কিছু আপনি পড়লেন আর কিছু ইমামের উপর রেখে দিলেন। বহু কথা। প্রত্যেককেই সূরা ফাতেহা পড়তেই হবে। প্রত্যেককেই সূরা ফাতেহা পড়তেই হবে। লা সালাতা ইল্লা ফাতিহাল কিতাব ফাতেহা ছাড়া সালাত হয় না। ইমাম বুখারী রাহমা্লাহ এই হাদিসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলছেন ইমামল ইমামল মামু ইমামেরও হবে না মুক্তাদিরও হবে না।
ফরজও হবে না সুন্নত নফলও হবে না। ফাতেহা ছাড়া সালাত হবে না। ফাতেহা পড়তে হবে। বলে ইমাম পড়লেই তো শুনলেই তো হয়ে যায়। ইমাম শুনলে হয়ে যায়। ইমাম ফজরের সময় পড়েন। আপনি শোনেন শুনলে হয়ে যায়। মাগরিবের প্রথম দুই রাকাতে ইমাম পড়েন। আপনি শোনেন শুনলে হয়ে যায়। এশার প্রথম দুই রাকাতে ইমাম পড়েন। আপনি শোনেন শুনলে হয়ে যায়। এতো ১৭ রাকাত ফরজের মধ্যে ছয় রাকাতে শোনা যায়। আর বাকি ১১ রাকাতে শোনা যায় না। তখন আপনি কি করেন? অতএব দুনিয়ার কোন মানুষ যে যা বলুক না কেন ইমাম বুখারী রাহমা্লাহ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলছেন লা সালাতা কোন সালাত নাই। ইল্লা কিতা ছাড়া লা ইলাহা কোন মাবুদ নাই।
ইল্লাল্লাহ আল্লাহ ছাড়া আনাকেরাতুফি সিয়াকনাফিদুম যখনই নেগেটিভ ভার্ষনে নেগেটিভ ভার্ষনে যখনই অনির্দিষ্টবাচক বিশেষ্য হয় তখনই একদম পুরাপুরি নিষেধ করে দেওয়া হয় আমি বললাম আমার কাছে কোন টাকা পয়সা কিছু নাই তার মানে কোন টাকা নাই দান করার টাকাও নেই, যাকাতের টাকাও নেই, সাদাকার টাকাও নেই, খরচের টাকাও নেই, মসজিদের টাকা নেই, কোন টাকা নেই আমার কাছে। কোন মাবুদ নেই এক আল্লাহ ছাড়া। কোন সালাত হবে না একমাত্র ফাতেহা ছাড়া। ফাতেহা যখন বান্দা পড়ে তখন আল্লাহ সাত আসমানের উপর থেকে জবাব দেন বান্দার। বান্দার সঙ্গে আল্লাহর ডাইরেক্ট কথোপকথন হয়। সালাতের মাধ্যমে। সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার কথোপকথন হয়। পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে বড় এবাদত হলো সালাত।
সালাতের রয়েছে অসংখ্য বৈশিষ্ট্য। অসংখ্য বৈশিষ্ট্য লিখে শেষ করার নাই। আমি এখানে ১২টি পয়েন্ট মাত্র লিখে এনেছি। এক নাম্বার হল আউয়ালুফদিমিন ফারাইদিল্লাহ বাশাহাদা কালেমায় শাহাদাত আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর ঘোষণা দেওয়ার পরে প্রথম ফরজ যেটা সেটাই হল সালাত দুই নাম্বার দুনিয়ার যত এবাদত সব ফরজ হয়েছে জমিনে আল্লাহ পাক আসমান থেকে ওহী নাযিল করেছেন জিবরীল ফেরেশতা ওহী নিয়ে এসে নবীকে জানিয়েছেন পর্দা ফরজ। পর্দার আয়াত নাযিল হয়েছে পর্দা ফরজ। কিন্তু সালাতের ওহী নিয়ে জিবরীল আমিন আসেন নাই। মেরাজের রাতে আল্লাহ পাক নবীকে আসমানে ডেকে নিয়ে ফেরেশতার মাধ্যমে ফরজ করেন নাই। সরাসরি আল্লাহ নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এর উপরে প্রথমে ৫০ তারপরে কমাতে কুমাতে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ করে দিলেন।
তিন নাম্বার হলো সুরিয়ালাহানদা। দুনিয়ার কোন এবাদতে আযান দেওয়া হয় না। যাকাত দিবেন আযান দিয়ে। পর্দা করবেন আযান দিয়ে। কোরআন তেলাওয়াত করবেন আযান দিয়ে। এরকম কোন সিস্টেম নাই। কিন্তু সালাতের জন্য আযান দিতে হয়, ঘোষণা দিতে হয়। আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ হাই আলাস ফালা হাই আলাল ফালা কেরানীগঞ্জের এক লোক আহলে হাদিস হয়েছেন কোরআন হাদিস মেনে নিয়েছেন। কোরআন হাদিস মেনে নিয়ে মসজিদে গিয়ে জোরে আমিন বলে সালাত আদায় করেছেন। ইমাম সাহেব বলছেন জোরে আমিন এই মসজিদে চলবে না। জোরে আমিন এই মসজিদে চলবে না। সালমানের দেশে চলে যাও সৌদি আরবে। ওখানে গিয়ে জোরে আমিন বলো। এদেশ আরাফীয় মাযহাবের দেশ।
এখানে জোরে আমিন চলবে না। তখন ওই মুক্তাদি জিজ্ঞেস করছেন ডেকে এনে অপমান করলেন? তোমাকে কখন ডেকেছি? তুমি একটা বেয়াদব লোক। তুমি ১০ জনের নামাজের ডিস্টার্ব করো। বলে আপনি যে বলেছেন হাইয়া আলাস সালাহ। হাইয়া আলাল ফালাহ। সালাতের দিকে আসো। কল্যাণের দিকে আসো। কালকে থেকে আজান দিবেন। আজানে বলবেন হাই আলা সালা ইল্লাহারালা ইল্লা সালাতের জন্য আসো। যারা জোরে আমিন বল তারা এসো না। সালাতের জন্য আসো। যারা রফলিয়াদাইন করো তারাই এসো না আজানটা বদলায় দেন তাহলে আমি আর কালকে দিয়ে আসবো না হাই আলা সালা বলবেন আস সালাতের দিকে হাইলা আস কল্যাণের দিকে যতদিন পর্যন্ত আজানে আপনি বলবেন ততদিন পর্যন্ত আমি আসতেই থাকব তখন ওই মোল্লা সাহেব বলছে যে তুই তো পাগল হইছিস রে তুই আমারেও পাগল বানা ফেললি যা তুমি বলেছো তোমার তো জবাব আমার কাছে নাই।
সম্মানিত উপস্থিতি যে ব্যক্তি মসজিদে আসতে বারণ করে তার চেয়ে জালেম কে আছে? আল্লাহ বলছেন ওর চেয়ে জালেম কে আছে? মসজিদে আসতে নিষেধ করে। পৃথিবীর জালেম ছাড়া কেউ মসজিদে আসতে নিষেধ করতে পারে না। জেনাকারকে বলে দেন ইমাম সাহেব কোন জেনাকার এই মসজিদে ঢুকবে না। কোন চোর এই মসজিদে ঢুকবে না। কোন ঋণ খেলাফ মসজিদে ঢুকবে না। কোন ডাকাত এই মসজিদে ঢুকবে না। মসজিদ কি তোর বাপের যে তুই বলবি যে এখানে ঢুকবে না আর হয়ে যাবে। জেনাকার আসবে মসজিদে। জেনার পাপ থেকে মসজিদে এসে চোখের পানি ঝরায়ে মাফ চাবে সুদখোর আসবে মসজিদে সুদের পাপ থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে পাপিষ্ঠ লোক মসজিদে এসে কেঁদে কেঁদে পাপ ঝরায়ে চলে যাবে কাউকে বারণ করার অধিকার পৃথিবীর কারো নাই সম্মানিত উপস্থিতি আযান দেওয়া হয় সালাতের জন্য ফরিদাবাদ সাবি সালাওয়াত সাত র বয়সে কোন মানুষকে যাকাত দিতে বলা হয় নাই।
সাত বছর বয়সে কোন মানুষকে অন্য কোন এবাদত করতে বলা হয় নাই। কিন্তু সালাত এমন একটি এবাদত যে সাত বছর হলেই পড়ার জন্য নির্দেশ দিতে হবে। রাসূুল্লাহ বলছেন মুরু আওলাদা তোমার বাচ্চাদেরকে সালাতের জন্য নির্দেশ দাও যখন তাদের বয়স হয় সাত সাত বছরে কি সাবালক হয় সাবালক না হলে কি তার উপরে ইসলাম প্রযোজ্য হয় ইসলামের সব বিধান সাবালক হওয়ার পরে কিন্তু সালাতের বিধান সাত বছরে তার মানে সাবালক হওয়ার আগেই আপনার বাচ্চাকে আপনি সালাতের নির্দেশ দিবেন পাঁচ নাম্বার সালাত ত্যাগ করলে গোটা জাতি ধ্বংস হয়ে যায়।
সূরা মারিয়ামের মধ্যে আল্লাহ পাক বলছেন খালাফামিবাহ সালাতবাশাও পরবর্তী বংশধরেরা এল সালাতকে নষ্ট করে দিল আর নিজেদের প্রবৃত্তিকে অংশগ্রহণ করল তারা ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে গেল ছয় নাম্বার হলো অধিক পরিমাণে সালাতের কথা আল্লাহ বলছেন আকিমুস সালা সালাত আকিমুস সালাত অন্য কোন এবাদত সম্পর্কে এত বেশি বলা হয়নি যত বেশি বলা হয়েছে সালাত সম্পর্কে সাত নাম্বার হল ফুরিলা জামিল আহয়াল সার্বিক অবস্থায় সালাত ফরজ অসুস্থ ব্যক্তি সালাত পড়বে মুসাফির ব্যক্তি গাড়িতে পড়বে অসুস্থ ব্যক্তি হাসপাতালের বিছানায় পড়বে দাঁড়িয়ে পড়তে পারলে পড়বে না পারলে বসে পড়বে। বসেও যদি পড়ার ক্ষমতা না থাকে শুয়ে শুয়ে সালাত পড়বে। শুয়ে শুয়ে যদি হাত পা নাড়াবার ক্ষমতা না থাকে চোখ ইশারা করে চোখের পাতা তুলে তুলে সালাত আদায় করবে।
চোখের পাতা উপরে তুলবে। আল্লাহু আকবার। সামি আল্লাহু লিমান হামিদা। আল্লাহু আকবার। চোখ অর্ধেক বন্ধ করবে রুকু। আর অর্ধেকের বেশি বন্ধ করবে সেজদা। সে মনে মনে চোখের পাতা নেড়ে নেড়ে রুকু সেজদা করে করে সালাত আদায় করবে। চলন্ত ব্যাটল ফিল্ডে সালাত ফরজ। যে ব্যক্তির শরীর দিয়ে খেজুরের গাছের মত টসটস করে পেশাব করছে টসটস করে পেশাব ঝরতে থাকবে। ওই পেশাব নিয়েই তাকে সালাত পড়তে। সালাত মাফ নাই। সালাত কেয়ামতের দিনে সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব হবে। আল্লাহ পাক হাশরের ময়দানে আসবেন। এসে বলবেন আনা রব্বুকুম আমি তোমাদের প্রভু। সহি মুসলিমের হাদিস বলছি। বলবেন না আপনি আমাদের প্রভু নন। যেহেতু আল্লাহ প্রথমে ছদ্দবেশে আসবেন।
আল্লাহর আসল চেহারায় তিনি আসবেন না। ছদ্দবেশে এসে বলবেন আমি তোমাদের প্রভু। বান্দারা বলবেন না আপনি আমাদের প্রভু নন। আমরা এখানে বসে আছি। আমাদের প্রভু আসলে আমরা দেখলেই চিনবো আমাদের প্রভুকে। তখন আল্লাহ পাক অরিজিনাল সুরতে এসে বলবেন এবার দেখো আমি তোমাদের প্রভু। এখন বুঝা গেল আপনি আমাদের প্রভু। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জিজ্ঞেস করবেন সালাত কি পড়েছিলে? বলে হ্যাঁ পড়েছিলাম। সালাত পড়েছিলে? পড়েছিলাম। প্রথম প্রশ্ন আল্লাহ করবেন সালাত পড়েছিলে কিনা? বলে পড়েছিলাম। তোমার সঙ্গে বেশি কথা আমার নাই। একটা ইন্টারভিউ হবে। ইন্টারভিউতে পাস করলে তোমাকে ডাইরেক্ট জান্নাত দিয়ে দিব। আমি তোমার প্রভু আমি আল্লাহ। আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজম। ইয়ালাহ।
তারাললা ইা সেদিন আল্লাহ পাক তার পায়ের নলা খুলে দিবেন আল্লাহ পাকের পায়ের নলা থেকে আল্লাহ পাক কাপড় সরিয়ে দেবেন সূরাতুল কালামের আয়াত পড়ছি আয়াত তরজমা করছি আমি আর কিছু বলি নাই ইয়ামাা আল্লাহ পায়ের নলা খুলে দিয়ে বলবেন আস আমার পায়ের তলায় একটা করে সেজদা করবা একটা সেজদা আমার পায়ের সামনে করবা একটা সেজদা করতে পারলেই তুমি ইন্টারভিউতে পাক আমি আল্লাহ ডাইরেক্ট জান্নাত দিয়ে যারা সালাত আদায় করেনি নবীর তরিকায় করেনি সালাতের মধ্যে দোকানের হিসাব একটা গল্প শুনেছিলাম বলছে হুজুর ইমাম সাহেব আজকের এশার সালাত তিন রাকাত হয়েছে বলে তিন রাকাত হল তুমি বুঝলে কি করে কয় আমি ডেইলি চারটা দোকান বন্ধ করে এশার সালাতে দাড়াই চার দোকানের হিসাব কমপ্লিট করি আপনার চার রাকাত সালাত শেষ হয় আজকে তিন দোকানের হিসাব কমপ্লিট হয়েছে।
আপনি সালাম ফিরিয়ে দিয়েছেন তাতেই তো আমি বুঝলাম আরেক রাকাত বাকি আছে। সালাত পড়ছে এখানে আর মন যায় রছে বাজারে। এই ভন্ডামির সালাত আল্লাহ পাক পছন্দ করেন না। তাকে দুনিয়ায় ডাকা হতো সালাতের জন্য সুস্থ শরীরে সালাত আদায় করতো না নানান কাজের অজুহাতে করলি সালাত কাজা খাজনা তারে দিলি না যে দিন দুনিয়ার রাজা দন দুনিয়ার রাজাকে খাজনা তুমি দাও নাই তোমার চোখের কত পাওয়ার তার নিয়ামত কত বিদ্যুতের বাতি জ্বালাও বিল না দিলে লাইন কেটে দিয়ে যায়। তোমার চোখের বিদ্যুতের বাতি আল্লাহ লাইন কেটে দেন নাই। তোমার হাত পা চলছে। তোমার শরীরের মধ্যে কত কিছু চলে। কোনটা লাইন আল্লাহ কেটে দেন নাই।
আল্লাহর আদেশ নিষেধকে তুমি অমান্য করে চলেছ। সহী মুসলিম শরীফের হাদিসে আসছে মুনাফিক লোকেরা খুব চেষ্টা করবে। একটা রুকু করার আল্লাহর সামনে একটা সেজদা করতে পারলে আমি জান্নাত পেয়ে যাব। কতই না চেষ্টা করবে উল্টো হয়ে পড়ে যাবে। আর সেজদা করা সম্ভব হবে না। সম্মানিত উপস্থিতি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত দিন রাতে ফরজ। যাকাত বছরে একবার দিলে হয়। হজ জীবনে একবার করলে হয়। বিয়ে জীবনে একবার করলে ফরদিয়াত আদায় হয়ে যায়। অনেক কিছু আছে একবার দুইবার করলেই হয়ে যায়। কিন্তু সালাত দৈনিক পাঁচ বার পড়তে হয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলছেন তোমাদের বাড়ির পাশে যদি নদী থাকে প্রবাহিত স্বচ্ছ পানি থাকে দৈনিক পাঁচবার যদি তুমি গোসল করো তাহলে কি তোমার শরীরে কোন ময়লা থাকবে? সাহাবায়ে কেরাম বলে না ময়লা থাকে কি করে? দৈনিক পাঁচবার শতশ্রেণী নদী পরিষ্কার পানিতে যদি পাঁচবার অবগণ করে ময়লা কি করে থাকে? রাসূুল্লাহ বললেন এইভাবেই পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের দৃষ্টান্ত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পড়লে সারাদিনে তার শরীরে কোন পাপ জমার সুযোগ পায় না। সম্মানিত উপস্থিতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম সালাত এবং ঈমান এবং কুফরের পার্থক্য করেছেন সালাত। ইব্রাহিম আলা সাল্লাম তার ছেলের জন্য দোয়া করলেন রব্বানা আলি উকিমুস সালাত।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাললাম বিছানায় সজ্যায় সায়িত রুহু বের হয়ে বিদায় হয়ে যাবেন পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবেন পৃথিবী ছেড়ে তখন তিনি মৃত্যু সজ্যায় বলছেন আসসালাতু আসলা সালাতের পাবন্দ হও সালাতের প্রতি যত্নবান হও অধীনস্থ যারা আছে তাদের সম্পর্কে সজাগ হয়ে যাও সম্মানিত উপস্থিতি আজকে আমাদের সালাতের বেহাল দশা মসজিদে আসতে চাই না সারা সপ্তাহের পরে জুমার দিন একবার মসজিদে আসবো তাও আসতে আসতে খুতবার অর্ধেক শেষ হয়ে যায় যোহরের সালাত কয় রাকাত চার রাকাত জুমা কয় রাকাত দুই রাকাত কমালো কে কেন কমলো যোহরের সালাত তো চার রাকাত জুমা দুই রাকাত কমলো কেন? দুই রাকাত কমলো খুতবার কারণে। তার মানে যদি আপনি খুতবাটা কমপ্লিট না শোনেন তাহলে আপনার সালাত কমপ্লিট হয় নাই।
সম্মানিত উপস্থিতি সালাতের প্রতি যত্নবান হওয়া খুব জরুরি। সন্তান সন্ততিকে সালাতের জন্য অগ্রসর করা জরুরি। আরব দেশের মানুষের কথা শুনলে আশ্চর্য হয়ে যাবেন। বকাটি ছেলেরা রাস্তায় ঘুরছে। আজান হওয়ার সাথে সাথে মসজিদ ভরে গেল। এক বেদুইনের গাড়িতে উঠলাম। আলগাত শহর থেকে আলগাত শহর থেকে বুরায়দা শহরে যাব। বেদুইনের টেক্সি ক্যাবে উঠেছি। বেদুইন রাস্তার মধ্যে গিয়ে গাড়ি থামায়ে দিব। আল্লাহু আকবার। আল্লাহু আকবার। আশাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আমি বেদন তুমি কর কি? কয় সালাত পড়ছি বলে আমি আমি তো পড়ব তুমি এখানে সালাত পড়ছো কেন সামনে আগাও পেট্রোল পাম্পে চলো আমার অজু নাই অজু করে তোমার সাথে আমি পড়ব কয় তুই পেট্রোল পাম্পে পড় আর না পড় সেটা তোর ব্যাপার আমি এখানে পড়ব আমি তো অজু করি নাই ওযে সামনে পেট্রোল পাম্প এখানেম করে আমার সাথে দাঁড়া যদি দাঁড়াবি তো দাড়া না দাড়াবি তো আমি কিন্তু আর গাড়ি ব্রেক দেব না ঘটিয়ে বেদুইন বেদুইনকে বললাম সামনের পেট্রোল পাম্পে গেলেই তো হয়ে যায়।
বলছে আজান এখানে হয়ে গেছে। পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত যাওয়ার হায়াত আমার আছে কি নাই? আমার আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। আজান এখানে হয়েছে। গাড়ি আমি এখানে বেরেক দিয়েছি। এখানে আমি পড়ব। তুই পড়লে পড়। না পড়লে তুই ওদিকে থাক। বেদুইনকে আর কে বুঝায়? ওইভাবে অগত্যতাম করে বেদুইনের সাথে দাঁড়িয়ে গেলাম। তারপরে যা হয় হবে। সম্মানিত উপস্থিতি ছেলে সালাত পড়ে না মেয়ে সালাত পড়ে না পরিশেষে একটা ছোট্ট ঘটনা বলি শেষ করলাম একজন মহিলা একজন আরেবিয়ান আলেমকে বলছে সকালে ফজরের সময় ছেলেকে ডাকি ওঠে না মেয়েকে ডাকি ওঠে না আমার স্বামীকে ডাকি ওঠে না কি করব আমি তখন আরবের শায়েখ বলছেন ডেকে তুলবেন বলে ডাকলে ওঠে না কি করব তখন বললেন ডাকলে যে ওঠে না আপনার ঘরে যদি আগুন ধরে যায় তো আপনি তখন কি করবেন বলছে ঘরে আগুন ধরে গেল ছেলেকে আর স্বামীকে ডেকে তুলব বলছে স্বামী তো ওঠে না ডাকলে ছেলেও ওঠে না ঘরে আগুন ধরে গেল তখন আপনি কি করবেন তখন ওই মহিলা বলছে ঠ্যাংের মধ্যে স্বামীর ঠ্যাং দড়ি লাগিয়ে আর ছেলের ঠ্যাং দড়ি লাগিয়ে টানতে টানতে ঘরের বাইরে নিয়ে ফেলে দেব আগুনের না পড়ে।
তখন শেখ বলছেন মহিলাকে দুনিয়ার আগুন চোখে দেখেছেন তাই তো ঠ্যাং দড়ি লাগায়ে স্বামীকে ঘর থেকে বের করে ফেলে দিবেন। স্বামীর যদি ঘুম না ভাঙ্গে তো ঘুমন্ত স্বামীর ঠেঙ্গে দড়ি লাগায়ে ঘর থেকে বের করে বাইরে ফেলে দেবেন। যাতে আগুনে না পুড়ে মরে। আল্লাহর কসম জাহান্নামের আগুন যদি আপনি দেখতেন অবশ্যই আপনার স্বামীর ঠেঙ্গে দড়ি লাগায়ে টানতে টানতে মসজিদের বারান্দায় নিয়ে রাব্বিল আলামিন এইযে মসজিদটা এত সুন্দর হয়েছে ভালো লাগে না দেখে এখানে কি এত সুন্দর মসজিদ ছিল একটা টিনের ঘর এই টিনের ঘর এই মসজিদ হয়েছে চারতলা কমপ্লিট এত বড় বিশাল প্রজেক্ট এটা কি ফেরেশতারা দিয়েছেন না আপনারা দিয়েছেন? আপনারা দিয়েছেন।
তারপরে তো হয়েছে এই যে বাক্সটা যে সালাম ফিরাবার পরে যায় ওই বাক্সটাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েন না। ওটা আল্লাহর ঘরের বাক্স। ১ ৫০০ ২০০ ৫০ পা টাকা যদি পারেন তবুওর মধ্যে দিয়ে তারপর বাক্সটারে ধাক্কা দিবেন। খবরদার খালি বাক্স কেউ ধাক্কা দিবেন না। কারণ আল্লাহর ঘরের বাক্স। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।