ইবলিশের পৃথিবীতে সবচাইতে ভয়ঙ্কর একটি অস্ত্র, পৃথিবীতে সবচাইতে ভয়াবহ একটি অস্ত্র এবং ক্ষতিকর একটি অস্ত্র হচ্ছে যার মাধ্যমে মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যায় সেটি হচ্ছে বিদাত। তোমরা অনেক ডানে বামের পথগুলোর অনুসরণ করিও না। হলে তোমাদেরকে ইবলিশ ওই পথগুলো দিয়ে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। তোমরা নিজেদেরকে দীনের মাঝে নতুন কিছু চালু করা থেকে বিরত রাখবে। কেননা নতুন কিছু চালু করাই হচ্ছে ভ্রষ্টতা। ভ্রষ্টতাই তোমাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। কেননা আমার পরে যারা পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। অনেক পথ মত বেদাত দেখতে পাবে। রীতিনীতি দেখতে পাবে। প্রথম ভয়ঙ্কর দিক হচ্ছে বেদাত। ইসলামী শরীয়তের রীতির সাথে প্রতিদ্বন্দ্দিতা করে সাংঘর্ষিক।
আজকে যদি এই পূর্ব নির্ধারিত আল্লাহতালার ফায়সালা না থাকতো তাদের তাকদীর নির্ধারিত না থাকতো তাহলে এই বেদাত আবিষ্কার করার কারণে আল্লাহতালা পৃথিবীতে তাদেরকে ধ্বংস করে দিতেন পৃথিবীতে তাদেরকে নিঃশ্বাস করে দিতেন যে ব্যক্তি দ্বীনি ইসলামের মাঝে এমন কিছু চালু করল যা ইসলামের মাঝে নেই সেটা তার উপরেই প্রত্যাখ্যান হবে তার উপরেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে বেদাত নতুন কিছু আবিষ্কার করে নেওয়া এটি জালেমদের কাজ অত্যাচারীদের কাজ যারা তারা আল্লাহ তাআালার সাথে সমকক্ষ মনে করে অন্যদের নিজেদের মনগড়া হাওয়াকে প্রবৃত্তিকে তারা রব হিসেবে গ্রহণ করে নিজেদের মন খেয়াল খুশি মত তারা শরীয়ত পরিপন্থী শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক তারা বিদাত চালু করছে উপস্থিত বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি প্রতিষ্ঠান আল জামিয়া সালাফিয়া বায়তুল হামদ জামেয়া মসজিদ রাজশাহী শাখার শ্রদ্ধাভাজন মুসাল্লিয়নে কেরাম আলোচনার শুরুতে শুকরিয়া আদায় করছি সেই মহানব আলামীনের যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদেরকে দ্বীন ইসলামের মাঝে প্রবেশ করে দ্বীন ইসলামের সার্বিক বিষয়গুলো সুন্দরভাবে সুচারু রূপে পালন করার তৌফিক দিয়েছেন সে আল্লাহ তাআলার দরবারে জানাচ্ছি লাখো কোটি সিজদায় শুকুর আলহামদুলিল্লাহ অতঃপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই মহামানবের প্রতি যে মহামানব পৃথিবীর এমন কোন কল্যাণ নেই।
যে কল্যাণগুলোর সম্পর্কে যে কল্যাণগুলোর প্রতি তিনি আমাদেরকে অবগত করে যাননি। এমন কোন অকল্যাণ নেই, এমন কোন ক্ষতিকর দিক নেই যার ব্যাপারে তিনি সতর্ক সতর্ক করে যাননি। যে মহামানব আমাদেরকে স্বচ্ছ একটি জীবন ব্যবস্থার উপরে রেখে গিয়েছেন সেই মহামানবের প্রতি বর্ষিত হোক শত সহস্র দরুদ ও সালাম আমরা বলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্মানিত শ্রদ্ধাভাজন মুসল্লিন কেরাম আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা পৃথিবীতে তার মনোনীত জীবন ব্যবস্থা দ্বীনি ইসলামকে আমাদের জন্য পূর্ণতা প্রদান করেছেন এবং দ্বীন ইসলামকে তাবলীগ করার দায়িত্ব দিয়েছেন মহান মানব পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যিনি পরিপূর্ণরূপে দ্বীন ইসলামকে তাবলীগ করে গিয়েছেন দ্বীন ইসলামকে পরিপূর্ণরূপে স্পষ্টভাবে আমাদের কাছে বিবৃতি দিয়ে গিয়েছেন বর্ণনা করে গিয়েছেন দ্বীন ইসলামের উম্মত যারা হবে উম্মতদের এখন একটি কর্তব্য তা হচ্ছে আসর আলা তার রীতিনীতির উপরে শুধুমাত্র চলা।
এছাড়া উম্মতে মোহাম্মদর এমন কোন সুযোগ নেই যে দ্বীন ইসলামের মাঝে নূন্যতম কিছু অনুপ্রবেশ ঘটাবে। এমন কোন উম্মতে মোহাম্মদর সুযোগ নেই। দ্বীন ইসলামের মাঝে কোন অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে নতুন কিছু নত চালু করবে। নতুন কিছু ফর্মুলা চালু করবে। এইরূপ উম্মতে মোহাম্মদের সুযোগ নেই। শুধুমাত্র এতটুকুই দায়িত্ব তার রেখে যাওয়া পথ তার রেখে যাওয়া নীতি তার রেখে যাওয়া মানহাজের উপরে চলা এবং তিনি যে সতর্ক করে গিয়েছেন সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা যে ব্যাপারে যে ব্যাপারে সহীহুল বুখারী গ্রন্থের মাঝে ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ এবং সহীহ মুসলিমের মাঝে ইমাম মুসলিম রাহিমাহুল্লাহ একটি হাদিস নিয়ে এসেছেন।
যে হাদিসটি তারেক বিন শিহাব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন কলাতিয়াহুদ ওমর ইবন খাত্তাবা রাদিয়াল্লাহ খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ইয়াহুদিরা ওমর ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুকে একদিন বললেন একদিন বলল হে ওমর ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ইন্নাকুম কিতাবিক নিশ্চয় তোমাদের কিতাবের মাঝে তোমাদের কোরআনুল কারীমের মাঝে একটি আয়াত তোমরা তেলাওয়াত করো লাইনাহুদি যদি আমাদের ইয়াহুদিদের উপরে আয়াতটি অবতীর্ণ হতো লাই তাহলে ওই দিনটাকে আমরা ঈদের দিন একটা উৎসবের দিন হিসেবে গ্রহণ করতাম আমরা একটা ঈদের দিন হিসেবে গ্রহণ করতাম এ আয়াতকে আমরা পেয়ে এ আয়াতের প্রতি আনন্দিত হয়ে এ আয়াতকে আমাদের জীবনের পূর্ণতা পেয়ে আমরা এই দিনটাকে ঈদের দিন হিসেবে গ্রহণ করতাম।
ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তখন জিজ্ঞাসা করলেন কোন আয়াতের কথা বলছো? তারা ইয়াহুদিরা তখন সকলেই বলল আলাকদিনা আলাইকুম ইসলামাদিনা আমি যে আমরা যে আয়াতটির কথা বলছি সে আয়াতটি হচ্ছে যে আল্লাহ তাআলা বলেছেন আমি তোমাদের জন্য দ্বীনকে পূর্ণতা প্রদান করলাম। আমার নেয়ামতগুলো তোমাদের উপরে পূর্ণতা প্রদান করলাম এবং তোমাদের জন্য দ্বীন ইসলামকে মনোনীত আমার মনোনীত ধর্ম হিসেবে সন্তুষ্ট প্রকাশ করলাম। ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তখন ইয়াহুদের উত্তরে বললেন শুনে রেখ হে ইয়াহুদের দলেরা শুনে রেখ ল্লাহ আল্লাহর কসম করে বলছি আমি অবশ্যই অবশ্যই জানি যে এ আয়াতটি আল্লাতি নাসালা রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়াতটি কোন দিনে আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে অবতীর্ণ হয়েছে সেই দিনটি আমি জানিনা কোন সময়টিতে অবতীর্ণ হয়েছে এই সময়টিও আমি জানি শুনে রেখ হে ইয়াহুদর দলেরা রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়াতটি আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপরে অবতীর্ণ হয়েছে আসতামি আরাফাইমিল জুমা জুমার দিন আরাফার দিন সন্ধ্যার সময় জিলহাজ্ মাসের দশম সালে জিলহাজ্ মাসের দশম সালে জিলহাজ্ মাসেরন তারিখ আরাফার দিন সন্ধ্যার সময় এ আয়াতটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর অবতীর্ণ হয়েছে।
সম্মানিত উপস্থিতি এই ইয়াহুদীরা দ্বীন ইসলামের পূর্ণতা মহত্বতা বুঝেছিল। দ্বীন ইসলামের পূর্ণতা বুঝার কারণেই তারা বলেছিল এ আয়াতটি যদি আমাদের মাঝে অবতীর্ণ হতো তাহলে ওই দিনটাকে আমরা আমাদের ঈদের দিন উৎসবের দিন হিসেবে ঈদের দিন হিসেবে গ্রহণ করতাম। সম্মানিত উপস্থিতি হাদিস থেকে প্রতিবাদ বোঝা যায় প্রতিপাদ্য বিষয় হাদিস থেকে যে জিনিসটি বোঝা যায় দ্বীনের মাঝে ধর্মের মাঝে ঈদ চালু করার নীতি হচ্ছে ইয়াহুদী খ্রিস্টানদের ধর্মের মাঝে ঈদ চালু করার নীতি হচ্ছে ইয়াহুদী খ্রিস্টানদের ইয়াহুদিদের যেটি হাদিস থেকে স্পষ্ট প্রতিবাণিত প্রমাণিত হয়ে যায় সম্মানিত উপস্থিতি আজকে যারা ধর্মের নামে ঈদ চালু করছে অথচ ইসলামী ধর্মের মাঝে দুইটি ঈদ দুই এর বেশি ঈদ নেই।
যারা ঈদে মিলাদুন্নবী চালু করেছে তারাও এটি ওই ইয়াহুদিদের নীতি অনুসরণ করেই আজকে ঈদে মিলাদুন্নবী চালু করেছে। প্রিয় উপস্থিতি দন ইসলামের মাঝে ঈদ গ্রহণ করার সুযোগ নেই। ঈদ হচ্ছে দুইটি দিন। এর বাইরে কোন ঈদ গ্রহণ করার সুযোগ নেই। এ আয়া এই হাদিস থেকে এটাও প্রমাণিত হয়ে যায়। সম্মানিত উপস্থিতি ওমর ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর এ হাদিস থেকে ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ এটাই বুঝেছেন। তাই তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে মাবদাতা কোন সম্প্রদায় যদি কোন বেদাতের চালু করে এবং সে মনে করে যে এটি একটি সুন্দর কর্ম সুন্দর কাজ ভালো কাজ এটা যদি মনে করে তাহলে শুনে রেখো হে পৃথিবীর মানুষ সেনা মুহাম্মাদান সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রিসালা তাহলে সে এটি দাবি করছে যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বাল্লিগ করার তাবলীগ করার সে দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে তিনি খেয়ানতি করেছে কেননা আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতালা বলেছেন আলমালাদিনা আমি তোমাদের জন্য দীন ইসলামকে পরিপূর্ণ করে দিলাম সুতরাং দ ইসলামের মাঝে কোন প্রবেশ ঘটানো কোন কিছু নতুন করে তৈরি করে প্রবেশ ঘটানো দন ইসলামের মাঝে কোন সুযোগ নেই যদি কেউ মনে করে যে না এখানে কিছু সুযোগ রয়েছে ঈদে মিলাদুন্নবী ঈদে অমুক ইত্যাদি ইত্যাদি বেদাত নতুন কিছু চালু করব।
তাহলে সে দাবি করছে যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রিসালাতের দায়িত্ব তিনি পালন করেননি। সম্মানিত উপস্থিতি রাসূলের উপরে তহমত লাগিয়েছে রাসূলের উপরে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে এই ব্যক্তিরা যারা দ্বীন ইসলামের মাঝে কোন কিছু অনুপ্রবেশ ঘটাবে। একথাই ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ বুঝেছেন। সম্মানিত উপস্থিতি এইজন্য ইমাম এইজন্য সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তিনি বলেন তোমরা দন ইসলামের রীতিনীতি মানহাজের অনুসরণ করো। সেখানে নতুন কিছু আবিষ্কার করিও না। নতুন কিছু চালি চালু করিও না। কুফিত তোমাদের জন্য যথেষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এই কথাটুকু দলালা প্রত্যেকটা বেদাতি হচ্ছে ভ্রষ্টতা। প্রত্যেকটি বেদাত হচ্ছে ভ্রষ্টতা।
অথচ আজকে বর্তমান সময়ে যদি দেখা যায় ধর্মের নামে পৃথিবীতে মানুষেরা নতুন কিছু মনগড়া চালু করে নিয়েছে ধর্মের নামে নতুন কিছু চালু করে নিয়ে তারা মনে করছে এটি ভালো কাজ সম্পাদন করছে অথচ এই ব্যক্তিদের ব্যাপারেই আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা বলেছেন হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি বলে দিন পৃথিবীর বুকে সবচাইতে আমলের দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ব্যাপারে কি তোমাকে অবগত করবো না? তারা কারা? তারা হচ্ছে আল্লাহ হায়াত দুনিয়া যাদের পার্তিব্য জগতের চলাফেরাটা যাদের পার্তিব্য জগতের ইবাদত বন্দেগীটা যাদের পার্তিব্য জগতের জীবন জীবিকা নির্বাহটা যাদের পার্তিব্য জগতের সকল রীতিনীতিগুলো তারা চালু করেছে দল্লাহু তাদের চলা প্রচেষ্টাটা পথভ্রষ্ট হয়েছে এই পৃথিবীতে তারাই হচ্ছে সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত আমলকারী আল্লাদিনা অথচ তারা দাবি করে তারা ধারণা করে আনা যে তারা ভালো কাজ করছে।
আল্লাহ তালা বলছেন ওরা তাদের রবের সাথে সাক্ষাত করার এবং তার আয়াত গুলোর প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে। সুতরাং এদের জন্য আমি কিয়ামতের মাঠে দাড়িপাল্লা নিযুক্ত করবো না। তাদেরকে বিনা হিসেবে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। সম্মানিত উপস্থিতি যারা পার্থিব্য জগতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রেখে যাওয়া নীতি রেখে যাওয়া পথ রেখে যাওয়ার সুন্নাত এর অনুসরণ না করে নিজেদের মন গড়ার রীতিন নীতি অনুপাতে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে চাইবে। আল্লাহর অনুসরণ আল্লাহ তাআালার ইবাদত করতে চাইবে।
এদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলছেন তাদেরকে আমি কোন প্রকার দাড়িপাল্লা নিযুক্ত করা ছাড়াই তাদের মাপকাঠি নিযুক্ত করা ছাড়াই তাদের নেকি এবং গুনাহ গুলোকে মাফ করা ছাড়াই আমি তাদেরকে বিনা হিসেবে জাহান্নামে দিব এবং তাদের ভাবে তাদের আমলগুলো সব নষ্ট হয়ে যাবে তাদের পৃথিবীর আমলগুলো কাজে লাগবে না এরা কারা এরা হচ্ছে ওরাই যারা মুক্তাদি পৃথিবীর বুকে বেদাত তৈরি করেছে পৃথিবীর বুকে বেদাত সৃষ্টি করেছে পৃথিবীতে এজন্য ইবনুল কাইয়ুম রাহিমাহুল্লাহ বলেন পৃথিবীতে শয়তান মানুষের উপরে যে কর্তৃত্ব বিস্তার করে থাকে মানুষকে জাহান্নামের নিয়ে যাওয়ার যে আল্লাহ তাআালার কাছে চ্যালেঞ্জ করে এসেছে এই চ্যালেঞ্জের বড় যে মাধ্যমগুলো রয়েছে ভয়ঙ্কর যে মাধ্যমগুলো রয়েছে যার মাধ্যমে মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যায় তার সবচাইতে ভয়ঙ্কর মাধ্যম হচ্ছে শিরক এবং কুফর দ্বিতীয় নাম্বার ভয়ঙ্কর মাধ্যম হচ্ছে আল বিদা বেদাত তৈরি করা।
শয়তান মানুষকে বেদাতের মাধ্যমে যত বেশি জাহান্নামে নিয়ে যেতে পারে শয়তান মানুষকে বেদাতের মাধ্যমে যত বেশি জাহান্নামে নিয়ে যেতে পারে তত বেশি জাহান্নামে নিয়ে যেতে পারে না। মাসিয়াতের মাধ্যমে কাবায়ের গুনাহে কাবায়ের যেগুলো রয়েছে যেগুলো কাবিরা গুনাহ রয়েছে সেগুলোর মাধ্যমে তত বেশি জাহান্নামে নিতে পারে না। যত বেশি জাহান্নামে নিতে পারে এই বেদাতের মাধ্যমে। সুতরাং ইবলিশের পৃথিবীতে সবচাইতে ভয়ঙ্কর একটি অস্ত্র, পৃথিবীতে সবচাইতে ভয়াবহ একটি অস্ত্র এবং ক্ষতিকর একটি অস্ত্র হচ্ছে যার মাধ্যমে মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যায় সেটি হচ্ছে বেদাত। বেদাতের ব্যাপারে ইসলামী শরীয়ত অনেক বেশি সতর্ক করেছে।
আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতালা কোরআনুল কারীমের মাঝে বলেছেন, এই বেদাতের ব্যাপারে সতর্ক করে আল্লাহ তালা বলেন, মুস্তাকিমা এটি হচ্ছে আমার সরল সঠিক পথ এটি হচ্ছে আমার সোজা পথতাবিহু তোমরা এই সরল সঠিক পথের অনুসরণ করো যেই পথ তোমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে তোমরা অনেক ডানে বামের পথগুলোর অনুসরণ করিও না হলে তোমাদেরকে ইবলিশ ওই পথগুলো দিয়ে জাহান্নামে নিয়ে যাবে সম্মানিত উপস্থিতি ইসলামী শরীয়ত এখানেবিকুম জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার পথগুলো যেগুলো নির্ধারণ করছে তার অন্যতম একটি হচ্ছে বেদাত। বেদাতের মাধ্যমে জাহান্নামে ইবলিশ মানুষকে নিয়ে যায়।
সম্মানিত উপস্থিতি এজন্যই আল্লাহ সুবহানাহুতালা আরো এক আয়াতে বলছেন ব্যক্তিরা যেন আল্লাহতালার যারা রসূলের আদেশের রাসূলের রেখে যাওয়া পথের রাসূলের রেখে যাওয়া নীতির বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্কতা অবলম্বন করে সতর্ক করে সতর্ক থাকে ফেতনা যে তাদের কাছে কোন ফেতনা পৌঁছবে আসবা অথবা তাদের কাছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি পৌঁছবে সম্মানিত উপস্থিতি পৃথিবীতে ফেতনা পছার বড় মাধ্যম হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মোখালাফা করা রাসূল সলাম রীতি রেখে যাননি পথ রেখে যাননি এমন পথকে চালু করাই হচ্ছে মানুষকে ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন করা সম্মানিত উপস্থিতি এজন্যই জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন কানা রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মেম্বারে উঠতেন খুতবা দিতেন মানুষদেরকে ভাষণ দিতেন তার দুই চোখ রক্তম লালে রক্তিম হয়ে যেত লাল হয়ে যেত রক্ত রক্তিম হয়ে যেত দুই চোখ তার আওয়াজটা উঁচু হয়ে যেত স্বাভাবিক যেটা তিনি কথা বলতেন তার চাইতে উঁচু আওয়াজে কথা বলতেন তার রাগটা খুব প্রকট আকার ধারণ
করতে করত আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলতেন সবা তোমাদেরকে সন্য যেন তিনি সতর্ক করছেন সৈন্যদলকে যে সববাহক তোমাদেরকে সকালে অমুক দিক থেকে শয়তান তোমাদেরকে সকালে অমুক দিক থেকে শত্রু আক্রমণ করতে পারে তোমাদেরকে সন্ধ্যায় শত্রু আক্রমণ করতে পারে তিনি আরো এ কথা বলতেন আমি এবং কিয়ামত এভাবে প্রেরিত হয়েছি তিনি তার দুইটি আঙ্গুলকে মিলিয়ে বলতেন শাহাদাত এবং মধ্যমা আঙ্গুলকে মিলিয়ে বলতেন আমার এবং কিয়ামত আগমন হচ্ছে এত কাছাকাছি আমি এবং কিয়ামত এসেছি পৃথিবীতে খুব সন্নিকটেই কিয়ামতের খুব সন্নিকটেই আমাকে আল্লাহ তালা পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন আর তিনি আরো বলতেন তার উম্মতকে সতর্ক করার জন্য যে আল্লাহ তালার প্রশংসা এবং রাসূ সলামের উপরে দরুদ পাঠের পরে কিতাবি কিতাবুল্লাহ হাদিস কিতাবুল্লাহ আল্লাহ তাআালার কাছে সবচাইতে শ্রেষ্ঠ কথা হচ্ছে আল্লাহ তাআালার কালাম ওখাইরল হাদি আর সর্বোত্তম পথ হচ্ছে হাদিজ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রেখে যাওয়া পথ মহা আর তিনি বলতেন সবচাইতে নিকৃষ্ট পথ হচ্ছে বেদাত নতুন কিছু চালু করার পথ উদাহলা আর প্রত্যেক বেদাতই হচ্ছে ভ্রষ্টতা।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে প্রত্যেকটা বেদাতকে প্রত্যেকটা রীতিনীতিকে যা ইসলামী শরীয়তের পূর্ব কোন কোরআন বা সুন্নাতে নির্ধারণ করেনি এমন প্রত্যেক রীতিনীতিকেই বেদাত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আর প্রত্যেক বেদাতি ভ্রষ্ট হিসেবে তিনি নিযুক্ত করেছেন। বেদাত কাকে বলা হয়? বেদাত হচ্ছে ইন্নাল মদাফিদিন দ্বীনের মাঝে নতুন কিছু চালু করা দনের মাঝে নতুন কিছু চালু করার অর্থ হচ্ছে সাবিলিন এমন প্রত্যেক কথা কাজ ও প্রচলন রীতি যা এমন প্রত্যেক পথ মত ও রীতি যাদিন দ্বীনের মাঝে বর্ধিত করা হয়েছেল্লাহলিল্লাহ যার দ্বারাতে আল্লাহতালা ইবাদত করার উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে রাসুল যা আল্লাহ এবং তার রাসূল শরীয়ত নির্ধারণ করেছেন তার বাইরে তার কোন পূর্ব নির্ধারিত নমুনা নেই এমন প্রত্যেক জিনিসকেই বলা হয় বেদাত সম্মানিত উপস্থিতি এই বেদাতের ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক বেশি সতর্ক করে গিয়েছেন।
যেমনটি আল্লাহ রাসূল সাললামের হাদিস এরবাদ বিন সারিয়া রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তিনি বলেন ওয়াদানা রাসূুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামতান আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে একদিন উপদেশ দিলেন একদিন ওয়াজ করছিলেন এমন ওয়াজ করলেন অন্তরটা ভত সন্ত্রস্ত হয়ে গেল চক্ষু দিয়ে অস্র প্রবাহিত হল রাসল্লাহ আমরা তখন বললাম হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজকে যে ওসিয়াত করলেন আজকে যে আমাদেরকে ওয়াজ করলেন এই ওয়াজটি যেন মনে হচ্ছে শেষ ওয়াজনা সুতরাং আমাদেরকে ওসিয়ত করুন আমাদেরকে কিছু উপদেশ দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন আমি তোমাদেরকে ওসিয়ত করছি আল্লাহকে ভয় করার আমি তোমাদেরকে আল্লাহর ভয় করার ওসিয়ত করছি। এবং শোনার ও আনুগত্য করার তোমাদেরকে ওসিয়ত করছি।
শুনে রেখো তোমাদের উপরে যদি একজন দাস তোমাদের আমির নিযুক্ত হয় তারপরেও তার কথা শুনবে। তার আনুগত্য করে চলবে। এরপরে রাসূ সলাম বলছেন কেননা আমার পরে যারা পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে অনেক পথ মত বেদাত দেখতে পাবে রীতিনীতি দেখতে পাবে সুতরাং এই রীতিনীতিগুলো হচ্ছে আলাইকুমবি সুন্নাতি তোমাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার পথ সুতরাং তোমাদের উপরে কর্তব্য হচ্ছে আমার সুন্নাতকে কেড়ে ধরা ও সুন্নাতল খলাফ আমার হেদায়েত প্রাপ্ত খোলাফা রাশেদার সুন্নাতকে রীতিনীতিকে এড়ে ধরা শুনে রেখো তোমরা এটাকে তোমাদের চাবলের দাত দিয়ে শক্তভাবে এড়ে ধর যেন কখনো কখনো তোমাদের থেকে এটি ছুটে না যায় শুনে রেখ আর তোমরা নিজেদেরকে দনের মাঝে নতুন কিছু চালু করা থেকে বিরত রাখবে কেননা নতুন কিছু চালু করাই হচ্ছে ভ্রষ্টতা।
ভ্রষ্টতাই তোমাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। সম্মানিত উপস্থিতি এইজন্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সতর্ক করে গিয়েছেন। পৃথিবীতে এমন কোন রীতি এমন কোন নিয়ম চালু করতে পারবো না যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করে যাননি। যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিক নির্দেশনা দিয়ে যাননি। আজকে এই পৃথিবীর পৃথিবীতে যে বেদাত চালু হয়েছে এই বেদাতগুলোর ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষেরা যদি জানতো তাহলে মানুষেরা এর ধারে কাছেও যেত না বরং তারা কোরআন এবং সুন্নাহর বাইরে কোন সময় চিন্তাও করতে পারতো না বেদাতের ভয়াবহতা ভয়ঙ্কর এবং ক্ষতিকর দিকগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আল বেদাতশারিয়াত ইসলামিয়া প্রথম ভয়ঙ্কর দিক হচ্ছে বেদাত ইসলামী শরীয়তের রীতির সাথে প্রতিদ্বন্দীতা সাংঘর্ষিক বেদাত মানে ইসলাম যে নীতি রীতি দিয়ে গিয়েছে সেই রীতিনীতির বিপরীত সাংঘর্ষিক আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা বলছেন তাদের কি কেন এমন শরিক রয়েছে তাদের এমন কোন প্রভু রয়েছে তাদের এমন কোন শরীয়ত প্রণেতা রয়েছে যেই শরীয়ত প্রণতারা কি করবে সারাহমিনা দনের তাদের শরীয়ত নির্ধারণ করবে দীনের মধ্যে নতুন কিছু তাদের জন্য শরীয়ত
প্রণয়ন করবে শরীয়ত চালু করবে শরীয়ত প্রবর্তন করবে এমন কোন শরীকে রয়েছেলা যেটি আল্লাহ তালা অনুমতি দেননি এরকম কোন শরীয়ত প্রণেতা রয়েছে কি আল্লাহ তালা বলছেন তারা যে আজকে এই শরীয়ত প্রণেতাদের ছাড়াই তারা নতুন কিছু চালু করে নিয়েছে আল্লাহর দেওয়া রীতির বিপরীতে আল্লাহর দেওয়া পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থার বিপরীতে তারা যে নতুন কিছু চালু করে নিয়েছে শুনে রেখোলা কালিমাতুল আজকে যদি পূর্ব নির্ধারিত আল্লাহ তাালার ফয়সালা না থাকতো তাদের তাকদীর নির্ধারিত না থাকতো তাহলে এই বেদাত আবিষ্কার করার কারণে আল্লাহ তালা পৃথিবীতে তাদেরকে ধ্বংস করে দিতেন পৃথিবীতে তাদেরকে নিঃশেষ করে দিতেন আল্লাহতালা বলছেন তবে পৃথিবীতে তাদের যেহেতু তাকদীর নির্ধারিত রয়েছে।
এ নির্ধারণ থাকার কারণেই তাদের এই অপরাধের কারণে আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে শাস্তি দেন না। কিন্তু পরকালে তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক কষ্টদায়ক শাস্তি অপেক্ষা করছে। সম্মানিত উপস্থিতি সুতরাং বেদাত চালু করা বেদাত নতুন কিছু আবিষ্কার করে নেওয়া এটি জালেমদের কাজ। অত্যাচারীদের কাজ যারা আল্লাহ তাআালার সাথে সমকক্ষ মনে করে অন্যদের নিজেদের মন গড়া হাওয়াকে প্রবৃত্তিকে তারা রব হিসেবে গ্রহণ করে নিজেদের মন খেয়াল খুশি মত তারা শরীয়ত পরিপন্থী শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক তারা বেদাত চালু করছে দ্বিতীয় নাম্বার শরীয়তের দ্বিতীয় নাম্বার বেদাতের ভয়াবহ দিক হচ্ছে আনা মুজিবালি মানুষ যে সৎকর্মগুলো করে ভালো কাজগুলো করে সে কাজগুলোকে সে কাজগুলোকে নষ্ট করে দেয় সে কাজগুলো আমল গ্রহণ হয় না ওমহ সেটা আল্লাহ তাআালার কাছে কবুল হয় না মাহমা সেটা যতই বেশি হোক না কেন যতই সংখ্যায় বেশি হোক না কেন যতই বড় হোক না কেন যতই মহিমান্বিত হোক না কেন বেদাতিদের কোন আমল আল্লাহ তাআালার কাছে কবুল হয় না রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মা আয়েশা
সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ব্যক্তি দন ইসলামের মাঝে এমন কিছু চালু করল যা ইসলামের মাঝে নেই সেটা তার উপরেই প্রত্যাখ্যান হবে তার উপরেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে অন্য রেতে রয়েছে কেউ যদি ইসলামী শরীয়তের মাঝে এমন কিছু নীতি এমন কোন নীতি চালু করে যার নির্দেশনা আমাদের নেই তাহলে সেটা তার উপরেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে সেটা গৃহীত হবে না তাহলে বেদাতের আরো একটি ভয়ঙ্কর দিক হচ্ছে আপনি যতই আমল করেন না কেন আমল বেদাতের মাধ্যমে আল্লাহ তাালার কাছে গৃহীত হবে না বেদাত করলে এই বেদাত মানুষ এই বেদাত রাস সাললাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতকে নষ্ট করে দিবে।
বেদাত যখন কোন সম্প্রদায়ের মাঝে চালু হবে তখন সেই সম্প্রদায়ের লোকেরা সুন্নাত থেকে দূরে সরে যাবে। তাদের মাঝে সুন্নাতটা বর্জিত হবে। সুন্নাতটা পরিত্যক্ত হবে এবং সুন্নাতটা ধীরে ধীরে মিটিয়ে যাবে। সুন্নাতটা ধীরে ধীরে নিভিয়ে যাবে। সুন্নাতটা ধীরে ধীরে লোভ পেয়ে যাবে। এবং ওই সুন্নাত পালন করা থেকে মানুষেরা দূরে সরে যাবে। আল্লাহ এজন্য হাসান বিন আতিজিয়া যে হাদিসটি ইমাম দারেমি রাহিমাহুল্লাহ তার দারেমি গ্রন্থের মাঝে নিয়ে এসেছেন সেখানে তিনি বলেছেন হাসান ইবনে আতিজিয়া বলেন কোন সম্প্রদায় যেন যদি কোন বেদাত চালু করে ইল্লাল্লাহু আল্লাহ তালা ও উম্মত থেকে ওই সম্প্রদায়ের লোক থেকে আল্লাহ তালা একটা সুন্নাতকে অনুরূপ টেনে নেয় সেই সুন্নাত আর তাদের কাছে কেয়ামত পর্যন্ত ফিরে আসে না।
সম্মানিত উপস্থিতি আজকে যেমন এর বাস্তব দৃষ্টান্ত হচ্ছে ফরজ সালাতের পরে যে হাত তুলে মোনাজাত করার বেদাত যখন চালু হয়েছে এই বেদাতকে পরিত্যাগ করতে গিয়ে আজকে মানুষেরা কি করেছে? সুন্নাত যেগুলো রয়েছে মাসনুন জিকির আজকার যেগুলো রয়েছে সেগুলো আজকে পরিত্যাগ করেছে। কবর মাটি দেওয়ার পরে মানুষেরা যখন হাত তুলে জেমা দোয়া করছিল এই বেদাতকে চালু করেছে তখনই মানুষদের মধ্য থেকে উম্মতে মুহাম্মদের মধ্য থেকে ওই সুন্নাত লোভ পেয়ে গেছে। সুন্নাত দূর হয়ে গিয়েছে। যেটি আল্লাহ রাসূ বলেছেন তোমাদের ভাইয়ের জন্য তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা কর।
কারণ তাকে এখন জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে কবরে মাটি দেওয়ার পরে তার জন্য খাস করে দোয়া করা আল্লাহুমাফলাহুহাম এই দোয়া আজকে সমাজ থেকে লোভ পেয়ে গেছে এভাবে অসংখ্য সুন্নাত যেগুলো আজকে উম্মতে মুহাম্মদ থেকে লোভ পেয়ে গেছে লোভ পাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে যে সেখানে বেদাত চালু হওয়া যখনই কোন উম্মতের মাঝে একটি বেদাত চালু হবে তখনই অনুরূপ একটি সুন্নাতকে সে উম্মত থেকে টেনে নেওয়া হবে সে উম্মত থেকে লোভ পেয়ে দে হবে সে উম্মত উম্মত থেকে দূর করে দেওয়া হবে। সম্মানিত উপস্থিতি তাহলে বেদাতের আরো একটি ভয়ঙ্কর দিক হচ্ছে সুন্নাতকে একেবারেই নিঃশেষ করে দেওয়া নিমিষ করে দেওয়ার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে বেদাত।
তৃতীয় চতুর্থ নাম্বার কারণ হচ্ছে যে বেদাতিদের এই চিন্তা চেতনা তখন তাদের আকিদা বিশ্বাস এটাই থাকে যে দ্বীনি ইসলাম পরিপূর্ণ নয় বরং দ্বীনি ইসলামকে পূর্ণতা দিতে হলে কি করতে হবে সেখানে নতুন কিছু চালু করতে হবে তাই তারা বেদাত চালু করে মনে করে তারা যে ইসলামের মাঝে নাস রয়েছে ইসলামের মাঝে পূর্ণতা নেই নাউজুবিল্লাহি মিন জালিক এটা বেদাতিদের অন্তরে জাগ্রত হয়ে থাকে অথচ আল্লাহ আলতালা বলেছেন আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দিয়েছি এজন্য ইমাম মালিক রহমা্লাহ বললেন যে কোন উম্মত যদি বেদাত চালু করে এবং মনে করে এটা ভালো কাজ করছি তাহলে সেই উম্মত থেকে একটা সুন্নাতকে লোভ পেয়ে দেওয়া হয় সুন্নাতকে একটা টেনে নেওয়া হয় এবং সে দাবি করল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে দাবি করল যে মোহাম্মদ রিসালাতের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে খেয়ানত করেছে।
সম্মানিত উপস্থিতি অনুরূপভাবে আরো ভয়াবহ দিক হচ্ছে যে এটি এটা মানুষদের মাঝে দীনের বিষয়টাকে সন্দেহ সংশয়ে ফেলে দেয়। মানুষেরা মনে করে যে দ্বীনের মাঝে এটা হতে পারে অথবা এটাও হতে পারে সন্দেহর জায়গা সৃষ্টি করে। ধর্মের মাঝে সন্দেহর জায়গা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের মাঝে এজন্যই আল্লাহ তালা বলেছেন মহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলুন পৃথিবীতে সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত আমলকারীদের সম্পর্কে কি আমি সংবাদ দিব না আল্লাদুনিয়া যাদের পার্থিব্য জগতের প্রচেষ্টাটা ব্যর্থ হয়েছে পার্থিব্য জগতের প্রচেষ্টাটা যাদের ব্যর্থ ভ্রষ্ট হয়েছে অথচ তারা ধারণা করে আল্লাহ তারা ভালো কাজই করছে। তারা বেদাতকে ভালো কাজ মনে করেই করছে। এবং তারা বলে এটা তো ভালো কাজ করছি।
ভালো কাজ করলে অসুবিধা কি? এই মনে করে তারা এ কাজ করে। অথচ আল্লাহ তালা তাদের ব্যাপারে বলেছেন তারা আল্লাহর আয়াত এবং তার সাথে সাক্ষাতের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে অর্থাৎ তারা মুমিন থেকে বের হয়ে গিয়েছে এবং তাদের জন্য আল্লাহতালা বলেছেন এদের আমলগুলো নষ্ট হয়ে যাবে এবং তাদের জন্য কিয়ামতের দিন কোন প্রকার দাড়িপাল্লা নিযুক্ত করা হবে না এটা কেন কারণ এটা অপরাধ হচ্ছে এই কারণে যে তারা মনে করে যে আল্লাহ তারা আল্লাহ তাালার আয়াত এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপের পাত্র হিসেবে গ্রহণ করার কারণে আল্লাহ তালা তাদের সকল আমলগুলো বাতিল করে দিবেন সম্মানিত উপস্থিতি বেদাতের আরো ভয়াবহ দিক হচ্ছে কেন বেদাতের ভয়াবহ দিক হচ্ছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বেদাতিরা তওবা করার সুযোগ পায় কেন? কারণ তারা এটাকে ভালো মনে করেই করে থাকে।
এজন্য সুফিয়ানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আল বেদাত আহালা ইবলিশ বেদাত ইবলিশের কাছে অধিক পছন্দনীয় অধিক প্রিয়। মিনাল পাপের চাইতে পাপ গুনাহে কাবিরার চাইতে বেদাত করাটা ইবলিশের কাছে অধিক পছন্দনীয় অধিক প্রিয়। কারণ বেদাত যারা করে আল বেদাতু লাতাবুমিনহা বেদাত থেকে তওবা করার সুযোগ থাকে না। কিন্তু মাসিয়াতের ক্ষেত্রে অনেক সময় মানুষ যখন গুনাহে কাবিরা করে তখন মানুষ সেখান থেকে তওবা করে অনুতপ্ত হয় সে কাজ করার পরে নিজেকে লজ্জিত করে অপমানিতভাবে এবং সেই কাজ থেকে ফিরে আসতে পারে। কিন্তু বেদাত এমন একটি পাপ যে পাপ থেকে মানুষেরা সহজে ফিরে আসতে পারে না। কারণ সে সেটাকে ভালো মনে করেই করে। এজন্য সুফিয়ান সাউর বলছেন যে ইবলিশের কাছে পাপের চাইতে ইবলিশের কাছে মাসিয়াতের চাইতে গুনাহে কাবিরার চাইতে বেদাতটা অধিক পছন্দনীয়।
সম্মানিত উপস্থিতি বেদাতের আরো ভয়াবহ দিক হচ্ছে যে কেয়ামতের মাঠে বেদাতিরা হাউজে কাউসারে পানি আল্লাহ তাআলা যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি তার সম্মানিত স্থান হিসেবে দান করবে বেদাতিরা এই পানি পান করতে পারবে না আল্লাহ রাসূ সহ বুখারীর হাদিস রাসূ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন কিয়ামতের দিন কিছু মানুষকে হাজে কাউসারের কাছে নিয়ে আসা হবে তাদেরকে নিয়ে আসার পরে সে তাদেরকে বামদিকে নিয়ে চলে যাওয়া হবে। হাউজে কাউসারের কাছে আসতে পারবে না। বামদিকে তাদেরকে হাঁকিয়ে নিয়ে চলে যাওয়া হবে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদেরকে দেখার পরে বলবেন হে আল্লাহ রব্বি এরা তো আসহাবী আমার সাহাবী। তাদের ওযুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুলো দেখছি।
উজ্জ্বল জলজল করে জ্বলছে। এরা তো আমার উম্মত। এরপরেও তাদেরকে কেন বামদিকে নিয়ে চলে যাওয়া হচ্ছে? কেন হাউজে কাউসারের কাছে নিয়ে আসতে দেওয়া হচ্ছে না? তখন আল্লাহ তাআালার পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হবে যে হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি জানেন না মাহুবা আপনার পরে এরা কি চালু করেছিল বেদাত কি চালু করেছিল প্রচলন ঘটিয়েছিল এটা জানেন না এজন্যই তাদেরকে এই বামদিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই উত্তর শুনে বলবেন দূর হোক দূর হোক ওই ব্যক্তিরা যারা আমার নামে আমার শরীয়তের মাঝে নতুন কিছু চালু করেছে যে রীতিনীতি আমি রেখে আসেননি সেই রীতিনীতির পরিবর্তন করে নিজেদের মনগড়া রীতিনীতি চালু করেছে তারা দূর হোক দূর হোক এভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম তাদেরকে বিতাারিত করবেন তাদেরকে তাদেরকে সরিয়ে দিবেন বেদাত এর আরো ভয়াবহ দিক হচ্ছে বেদাত যখন চালু হবে তখন উম্মতে মোহাম্মদর মাঝে বিভক্তি তৈরি হবে উম্মতে মোহাম্মদর মাঝে দলে দলে বিভক্ত হয়ে যাবে উম্মতে মোহাম্মদীরা এক প্লাটফর্মে থাকতে পারবে না ইত্যাদি ইত্যাদি বেদাতের ভয়াবহ দিক রয়েছে আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা আমাদেরকে বেদাত থেকে বেঁচে থেকে চলার তৌফিক দান করুন।
আল্লাহুম্মা আমিন। সাল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মদ আলহামদুলিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহি নাহমাদুহুবিল্লাহ আললা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহুলা শারিকালা আনা মুহাম্মাদান আবদুহু রাসুলুহ সম্মানিত উপস্থিতি আমরা আজকের আলোচ্য বিষয় হিসেবে আলোচনা করতেছিলাম ইবলিশ জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার মানুষের সাথে শত্রুতা করে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার যে রাস্তাগুলো যে পথগুলো গ্রহণ করেছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বেদাত। বেদাতের ভয়ঙ্কর দিকগুলো আমরা আলোচনা করলাম। এখন মানুষেরা কেন বেদাত করে থাকে? মানুষরা বেদাতের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে যায়। কেন? নিজেরা কেন বেদাতি হয়ে যায়? এ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিছু আলোচনা করেই আমার খুতবা সমাপ্তি করার চেষ্টা করছি। ইনশাআল্লাহুল আজিজ। যে মানুষরা বেদাতের সাথে জড়িত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে আল জাহলুবিদ্দিন আল জাহলুবিদ্দিন দ্বীনের ব্যাপারে মরক্ষতা দ্বীনের ব্যাপারে অজ্ঞতা থাকা দীন না জানার কারণে মানুষেরা বেদাতের সাথে জড়িত হয় বেদাত করে থাকে আল্লাহ সুবহানাহুতালা বলছেন হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি বলুন আমার রব হারাম করে দিয়েছেন অশ্লীলতাকে সেটা প্রকাশ্য হোক গোপনীয় হোক।
এভাবে বলতে বলতে বলতে বলতে আল্লাহ তালা বলছেন আল্লাহতালাম তোমরা যা জানো না তা আল্লাহর ব্যাপারে বলাটাও আমার রব হারাম করে দিয়েছে। সম্মানিত উপস্থিতি বেদাত আল্লাহ তাআলা মানুষকে হারাম করেছেন যে আল্লাহর ব্যাপারে যে জ্ঞান নেই এমন কিছু আল্লাহর ব্যাপারে বলবে এটি হারাম করে দিয়েছে। ইবনুল কাইম রাহমা্লাহ এজন্য বলছেন আল্লাহ তাআালার উপরে কথা বলা যে ব্যাপারে জ্ঞান নেই জ্ঞানহীন জ্ঞান না থেকে আল্লাহর ব্যাপারে শরীয়তের ব্যাপারে দ্বীনের ব্যাপারে কথা বলা সেটি হারাম পৃথিবীতে যতগুলো হারাম রয়েছে তার মাঝে সবচাইতে ভয়ঙ্কর কঠোর হারাম হচ্ছে কঠিন হারাম হচ্ছে যে আল্লাহর ব্যাপারে এমন কথা বলা যে ব্যাপারে জ্ঞান নেই সম্মানিত উপস্থিতি এবং পাপের দিক থেকে সবচাইতে বড় পাপ হচ্ছে আল্লাহর ব্যাপারে জ্ঞানহীন কথা বলা।
যে ব্যাপারে শরীয়তের জ্ঞান নাই। শরীয়তের ব্যাপারে মন্তব্য করাই হচ্ছে ইসলামের ব্যাপারে মন্তব্য করা। যে ব্যাপারে জ্ঞান নাই এটা সবচাইতে বড় পাপ। এবং আসল শিরক এটা হচ্ছে শিরকের মূল কুফ কুফরির মূল এবং ভ্রষ্টতা বেদাত এর উপরেই প্রতিষ্ঠিত এর উপরে ভিত্তি নির্মাণ করেছে। পৃথিবীতে যত বেদাত চালু হয়েছে বেদাত চালু হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে আল্লাহ তাআলা ইসলাম সম্পর্কে না জেনে মন্তব্য করা। ইসলাম সম্পর্কে না জেনে কথা বলা এজন্যই তো রাসূ সলাম বলছেন ইন্নাল্লাহা ইন্নাল্লাহা আল্লাহ তালা বান্দাদের থেকে অন্তর থেকে এলেম ছিনিয়ে নিয়ে এলেমকে উঠিয়ে নিবেন নামালা কিন্তু আল্লাহ তালা এলেমকে উঠিয়ে নিবেন ওলামাদেরকে উঠিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে যখন ওলামাদেরকে আল্লাহ তালা উঠিয়ে নিবেন তখন লাম পৃথিবীতে আলেম থাকবে না।
মানুষেরা তখন পথভ্রষ্ট জাহেলদেরকে তারা মুফতি হিসেবে গ্রহণ করবে। তারা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবে তারা তখন তাদেরকে ফতোয়া দিবেন এলেম ছাড়াই তারা নিজেরা ভ্রষ্ট হবে। মানুষদেরকে ভ্রষ্ট করবে। সুতরাং পৃথিবীতে সবচাইতে বেদাতের মূল নীতি মূল কারণ যার কারণে আজকে বেদাত চালু হয়েছে সেটি হচ্ছে আল্লাহ তাআলা শরীয়ত সম্পর্কে না জেনে মন্তব্য করা না জেনে কথা বলা দইতে হাওয়া প্রবৃত্তির অনুসরণ করার কারণে পৃথিবীতে বেদাতের চালু হয়েছে আল্লাহতালা বলেন যদি তারা আপনার ডাকে সাড়া না দেয় তাহলে জেনে রেখুন তারা তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে যে ওই ব্যক্তির চাইতে পথভ্রষ্ট আর কে রয়েছে যে প্রবৃত্তির অনুসরণ করে প্রবৃত্তির অনুসারীর চাইতে আর পৃথিবীতে পথভ্রষ্ট নেইবা হাওয়া বেদাতিদের চাইতে পথভ্রষ্ট পৃথিবীতে আর কেউ নেই সবচাইতে পথভ্রষ্ট ব্যক্তি হচ্ছে বেদাতিরা যারা নিজেদের মন মন মত শরীয়তের বিধান বাছাই করে নিয়েছে সুতরাং এজন্য আল্লাহ রাসূ সাল্লাল্লাহু বলেছেন সমা আমার উম্মতের মাঝে একটা দল কিছু দল বের হবে কিছু কম বের হবে যাদের অবস্থা হবে তাজার তাদের শরীরে প্রবৃত্তি তাদের শরীরে মন যা চাইবে খা প্রবৃত্তির অনুসরণটা তাদের শরীরে ছড়িয়ে পড়বে কামাতাহ যেমন একটা কুকুর কাউকে কাম কামড় দিলে তার কামড় দিয়েছে এমন ব্যক্তির শরীরে জলতাঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জলতাঙ্ক যখন ছড়িয়ে পড়ে তখন সে মানুষ দেখলে তাকে আক্রমণ করতে যায়। তা মানুষ পশুপাখি দেখলেই তাকে আক্রমণ করতে যায়। পানি দেখলে তখন কুকুর দেখে তখন স্বাভাবিক গতি তার থাকে না। তখন তার এমন অবস্থা হয়। প্রত্যেকটা সিরায় জোড়ে রগে রগে এই জলতাঙ্ক রগ প্রবাহিত হয়ে থাকে। ঠিক তেমনি একজন বেদাতি বেদাত বেদাতি যখন মুক্তাদী যখন শরীয়তের নীতি দেখবে সুন্নাহ এর বাস্তবায়নকারীদেরকে দেখবে যারা আল্লাহ এবং রাসূল সাললামের সুন্নাতকে মেনে চলে যারা আহলু সুন্নাহ ওয়াল জামাতের অনুসারী কোরআন সুন্নাহর একমাত্র অনুসারী আহলুল হাদিস তাদেরকে যখন দেখবে ঠিক তেমনি তাদের শরীরে জলতাঙ্ক ছড়িয়ে পড়বে তারা নিজেদেরকে নিজেদেরকে সংবরণ করে রাখতে পারবে না।
তারা বিভিন্নভাবে সুন্নাহ এর অনুসারীদেরকে আক্রমণ করবে। আক্রান্ত করার চেষ্টা করবে। এ কথা আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। যে হাদিসটি ইমাম আবু দাউদ রাহমা্লাহ বর্ণনা করেছেন। সম্মানিত উপস্থিতি সুতরাং এই পৃথিবীতে বেদাত চালু হওয়ার দ্বিতীয় নাম্বার কারণ হচ্ছে যে প্রবৃত্তির অনুসরণ। তৃতীয় নাম্বার কারণ হচ্ছে তাকদি মুরব্বিরা বলেছেন বড়রা বলেছেন তাদের কথাকে অগ্রাধিকার দেওয়া কোরআন সুন্নাহর দলিলের উপরে যেমনটি আল্লাহ তালা বলছেন যখন তাদেরকে বলা হবে তোমরা আল্লাহয নাজিল করেছে সেইদিকে আসো তখন তারা বলবে আমরা যে আমাদের বাপ দাদাকে যে নীতির উপর পেয়েছি সেটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট যদিও তাদের বাপ-দাদারা কোন কিছু না জানে হেদায়েতের উপরে না থাকে তারপরও বাপ-দাদার রীতিনীতিকে তারা এড়ে ধরে থাকবে তাদের বাপ-দাদার মতামতকে তারা প্রাধান্য দিবে কোরআন সুন্নাহ তাদের কাছে অন্যন্যতম মূল্য থাকবে না তখনই এই কারণেই মানুষেরা মানুষেরা বেদাতকে গ্রহণ করে থাকে বেদাতের চালু হয়ে থাকে তৃতীয় চতুর্থ নাম্বার কারণ হচ্ছে কোরআন সুন্নাহর হাদিস কোরআনের আয়াত হাদিস থাকার পরেও যখন তারা নিজেদের মতকে নিজেদের হাওয়াকে নিজেদের প্রবৃত্তিকে নিজেদের চিন্তা চেতনাকে অগ্রাধিকার দিবে তখন বেদাত চালু হবে আল্লাহতালা বলছেন আল্লাহর কসম আপনার রবের কসম ততক্ষণ পর্যন্ত তারা মমিন নয় যতক্ষণ পর্যন্ত আপনাকে তারা বিচারক না মানছে তারপরে আপনাকে বিচারক মানার পরে আপনার ফায়সালাতে তারা অন্তরে কষ্ট পাবে না।
তাসলিমা আপনার সিদ্ধান্তকে তারা কোন প্রকার আপত্তি ছাড়াই মেনে নিবে। তখনই তারা মুমিন হতে পারবে। এছাড়া মুমিন হতে পারবে না। সুতরাং মানুষ যখন নিজেদের মতামতকে প্রাধান্য দিবে, কোরআন সুন্নাহকে প্রাধান্য দিতে পারবে না। তখনই তারা পথভ্রষ্ট হবে। তখনই তারা বেদাতের অনুসারী হবে। তখনই বেদাতের চালু করবে। সম্মানিত উপস্থিতি অনুরূপভাবে বেদাত চালু হওয়ার আরো একটি কারণ হচ্ছে আত্লুকুলা নিজেদেরকে সংশয়পূর্ণ জিনিসের সাথে জড়িত থাকার কারণে বেদাতের চালু হয়ে থাকে এজন্যই রাস বলেছেন যখন তোমরা দেখতে পাবে যে যারা ওই কোরআনের আয়াতগুলো মুতাশাবে আয়াতগুলোর প্রতি অনুসরণ করছে মুতাসাবে আয়াতগুলোকে সন্দেহ তৈরি করার জন্য তার অনুসরণ করছে তখন জেনে রেখ আল্লাহ তালা ওদের দের ব্যাপারে ওদেরকেই বলেছেন কোরআনুল কারীমের মাঝে যে তারা প্রত এই উদ্দেশ্যেই তাদেরকেই বলেছেন সুতরাং তাদের থেকে আপনি তোমরা সতর্কতা অবলম্বন করো সম্মানিত উপস্থিতি আবুলাবা এবং পঞ্চম ষষ্ঠ নম্বার কারণ বেদাত চালু হওয়ার ষষ্ঠ নম্বার কারণ হচ্ছে মুজালাসা আহল বেদা বেদাতিদের সাথে বসা বেদাতিদের সাথে চলাফেরা বেদাতিদের সাথে সংমিশ্রণ ঘটা এর কারণে বেদাত চালু হয়ে থাকে।
আল্লাহ রাসূ আবু কেলাবা রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু তিনি বলেন লাজ তোমরা প্রবৃত্তির অনুসারীদের সাথে বসিও না এবং তাদের সাথে বাহাস বিতর্কে জড়াইও না আবু কেলাবা বলছেন যে তোমরা প্রবৃত্তির অনুসারী বেদাতিদের সাথে বসিও না বেদাতিদের সাথে তর্ক বিতর্ক এবং বেদাতিদের সাথে বাহাসের আয়োজন করিও না যদি করো তাহলে শুনে রেখ আমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে তোমাদেরকে তারা হয় তাদের ভ্রষ্টতায় তোমাদেরকে ডুবাবে অথবা তোমাদেরকে তোমরা যে সুন্নাত পালন করো সুন্নাতকে তোমাদের জীবনে একরে ধরে আছো এই সুন্নাতের মাঝে তোমাদের সন্দেহ তৈরি করবে সংশয় তৈরি করবে দিয়ে তোমাদেরকে সুন্নাত থেকে সরিয়ে দিবে এজন্য এজন্যই কোন আহলুল বিদা কোন আহুল আহ সাথে ইসলামী শরীয়া বসার অনুমতি দেয়নি।
ইসলামী শরীয়া আহলুল আহওয়া যারা রয়েছে প্রবৃত্তির অনুসারী বেদাতি রয়েছে তাদের থেকে শরীয়তের জ্ঞান গ্রহণ করাও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তাদের থেকে শরীয়তের জ্ঞানও অর্জন করা যাবে না তাদের মাহফিলে বসা যাবে না তাদের মাজলিসে বসা যাবে না তাদের থেকে জ্ঞান নেওয়া যাবে না এবং তাদেরকে পরাস্ত করার জন্য বিতর্ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করাও যাবে না তাদেরকে সুন্নাতকে বোঝানোর জন্য তাদের সাথে বাহাসের আয়োজনও করাও নিষেধ যদি কেউ করে তাহলে বুঝে নিতে হবে এখানে বেদাতিদের কোন না কোন ভ্রষ্টতা তাদের মাঝে প্রবেশ করবেই করবে সম্মানিত উপস্থিতি কসবিন প্রত্যেকটা দল নিজ নিজ মত নিয়ে সন্তুষ্ট রয়েছে বেদাতিদের কাছে হাজারো যুক্তি পেশ করলেও তারা তাদের মত থেকে সরে আসবে না এজন্য বেদাতিদের সাথে বসা যাবে না এজন্যই আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলছেন তোমরা প্রবৃত্তির অনুসারীদের সাথে বসিও না।
তোমরা বেদাতিদের সাথে বসিও না। কেননা তাদের সাথে যদি বসো তাহলে মুমরেদাতুনলিল কলব এটা তোমাদের অন্তরে রোগ ব্যাধি তৈরি করবে। তোমাদের অন্তরকে ব্যাধিতে আক্রান্ত করে দিবে। রোগ আক্রান্ত করে দিবে। এজন্য আহলুল আহ যারা রয়েছে বেদাতি যারা রয়েছে তাদের সাথে কোনভাবেই বসা যাবে না। তাদের থেকে এলেম গ্রহণ করা যাবে না। সম্মানিত উপস্থিতি এদের সাথে বসতে গেলেই বেদাত চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপরে সপ্তম নাম্বার কারণ হচ্ছে দুর্বল হাদিসগুলো হাদিসগুলোকে তারা এড়ে ধরে থাকে সব এবং এটাই হচ্ছে বেদাতিদের একটা অভ্যাস তারা জাল জফ হাদিসগুলোকে খুঁজে বের করে তারা তাদের মতের পক্ষে তারা দলিল সাব্যস্ত করতে চায় অথচ সেগুলো তদন্ত করতে গেলে দেখা যায় অধিকাংশ হাদিসগুলোই তাদের জাল জয়ফ হয়েছে সম্মানিত উপস্থিতি অনুরূপভাবে বেদাত তৈরি হওয়ার বেদাত ছড়িয়ে পড়ার শিরক ছড়িয়ে পড়ার এবং কুফর ছড়িয়ে পড়ার সবচাইতে ভয়ঙ্কর এবং সবচাইতে বড় মাধ্যম হচ্ছে আল কুলবফিদন দ্ীনের মাঝে বাড়াবাড়ি করা যে ব্যাপারে আল্লাহ তালা রাসূ নিষেধ করেছেন তোমরা আল্লাহতালা তোমাদের বলেছেন তোমরা তোমাদের দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করিও না আল্লাহ রাসলছেন যেম তোমরা আমার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করিও না যেমন ঈসা ইবনে মারিয়ামের ব্যাপারে খ্রিস্টানরা বাড়াবাড়ি করেছে সম্মানিত উপস্থিতি সুতরাং বেদাত চালু হওয়ার অন্যতম বড় কারণ হচ্ছে দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা।
দ্বীন যতটুকু আছে ততটুকুই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। দ্বীন পরিপূর্ণ। যেখানে নাফস এসেছে, যেখানে হাদিস এসেছে, যেখানে কোরআন এসেছে সেখানেই আমাদেরকে ক্ষান্ত থাকতে হবে। এর থেকে আমরা নিজ থেকে বাড়িয়ে কিছু বুঝতে পারবো না। যতটুকু এসেছে ততটুকুই আমাদেরকে পালন করতে হবে। যদি আমরা বেদাত থেকে বাঁচতে চাই, সমাজকে যদি ধ্বংস থেকে বাঁচতে চাই, বাঁচাতে চাই এবং জাতিকে যদি ধ্বংস থেকে বাঁচাতে চাই, চাই, তাহলেই পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থাতে আমাদেরকে পরিপূর্ণরূপে প্রবেশ করতে হবে। তাহলেই আমরা আমাদের জাতি সমাজ এবং নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারবো। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল প্রকার শয়তানের ওয়াসওয়াসা, শয়তানের ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচিয়ে রেখে এবং আহলুল আহওয়া যারা রয়েছে, প্রবৃত্তির অনুসারী রয়েছে তাদের থেকে বাঁচিয়ে রাখুক।
বিশেষ করে বর্তমান সময়ে শায়েখ সোলাইমান রুহাইলী যিনি মদিনার সবচাইতে বড় ফাকি তিনি বলছেন আহলুল আহুয়া যারা বেদাতি যারা এরা হচ্ছে হাইওয়ানুন মুফতারিশ এরা হচ্ছে হিংস্র প্রাণীর মত হিংস প্রাণী হিংস প্রাণী কেন আজকে তার বাস্তব দৃষ্টান্ত দেখেন এই যে রাফিজি শিয়াদের একটি একটি উপদল হুতি নামক যারা ইমেম ইয়ামেনে বর্তমানে একটি এরিয়া নিয়ন্ত্রণ করে বসবাস করছে। কয়েকদিন আগে তারা মক্কার উপরে কাবা ঘরের উপরে ড্রোন হামলা করে কাবা ঘরকে ধ্বংস করতে চেয়েছে। যেমনটি চেয়েছিল তাদের উত্তরসরী আব্রাহাম আব্রাহা যেমনটি তাদের উত্তরসরী অসংখ্য শিয়ারা চেয়েছিল এবং কাবা থেকে হাজরে আসওয়াদকে চুরি করে নিয়ে দীর্ঘ সময় লুকিয়ে রেখেছিল।
এই ইয়াহুদি ইয়াহুদিদের অনুসারী বা এই রাফিজি এই শিয়ারা তাদেরই তারা হচ্ছে হাইওয়ানুল মুফতারিশ তারা ইসলামের নাম দিয়ে ইসলামের মাঝে বসবাস করে আজকে ইসলামের মূল কেন্দ্র ইসলামের মূল কেন্দ্র কাবা ঘরকে তারা ধ্বংস করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে আক্রমণ করছে সুতরাং সোলাইমান রুহাইল ডক্টর সোলাইমান রুহাই যে কথাটি বলেছেন এরা হচ্ছে কাল হাইয়ানিল মুফতারিস এরা হচ্ছে হিংসর জানোয়ারের ন্যায় হিংস প্রাণীর নয় যাদের ভালো মন্দ বাজবিচার থাকে না তারা শুধু তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য ইসলাম এবং ইসলামের অনুসারীদেরকে মুসলিমদেরকে তারা নিধন করে সম্মানিত উপস্থিতি তাই পরিশেষে এ কথাই স্মরণ করিয়ে দিতে চাচ্ছি আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা দিয়েছেন দ্বীন ইসলাম যেখানে কোন কিছু অনুপ্রবেশ ঘটানোর সুযোগ নেই কেউ যদি অনুপ্রবেশ ঘটায় তাহলে তার জন্য বিনা হিসেবে জাহান্নাম অবধারিত এ কথা আল্লাহ তাআলা বলেছেন তাই আসুন নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে এবং ইবলিশের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করার বড় মাধ্যম সুন্নাতকে একে ধরা আমরা সুন্নাতকে এড়ে ধরি বেদাতকে বর্জন করি আল্লাহ