যারা আমাদেরকে অত্যাচার করেছে তারা কোন সময় বাইরের ছিল অথবা তারা কোন সময় ভেতরের ছিল নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় পুরো সমাজকে একটা কল্যাণের দিকে নিয়ে যেতে চাই মানুষ চাইলে আমাদের দাম বাড়াচ্ছে আমাদের তেলের দাম বাড়াচ্ছে সেই তেলের দাম বাড়ার কারণে জিনিসপাতির দাম বাড়তেছে আমাদের সন্তানদের সর্বোচ্চ স্বপ্ন হয় কোন নেতার পা চাটবে অথবা সর্বোচ্চ স্বপ্ন হলে একটা সরকারি চাকরি করবে বাংলাদেশে যত নেতা হয়েছে এরা সব নেতার ছেলে নেতা হয়েছে অথবা নেতার মেয়ে নেতা হয়েছে আমাদের দেশের নেতারা সবচেয়ে বেশি মূর্খ। এরা একদম গন্ড মূর্খ। সকল প্রশংসা এবং সকল গুণগান সেই আল্লাহ তাআলার জন্য যিনি আমাদেরকে এই জুমার দিনে জুমার সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে উপস্থিত হওয়ার তৌফিক দান করেছেন।
আলহামদুলিল্লাহ। তারপরই দরুদ এবং সালাম বর্ষিত হোক। তার প্রেরিত সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর উপরে সকলেই বলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। সম্মানিত উপস্থিতি আমার আজকের সংক্ষিপ্ত জুমার খুতবার বিষয়বস্তু হচ্ছে মহান আল্লাহ তাআলা যখন কোন মজলুম অসহায় অশিক্ষিত অত্যাচারিত জাতিকে অত্যাচার থেকে মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেন বা মুক্তি দিতে চান তখন ওই মুক্তি দেওয়ার জন্য উনি যেই লিডার তৈরি করেন যে নেতা তৈরি করেন সেই নেতাকে উনি কিভাবে প্রস্তুত করেন এটাই মূলত আজকে আমার আলোচনার বিষয়বস্তু আমি জানিনা যে আসলে আমার আলোচনাটা আমি কতটুকু সহজ করে আপনাদেরকে বুঝাতে পারব আমি চাইবো যে আপনারা আলোচনাটা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। যদি বোঝা সহজ হয় তাহলে একবারই বুঝে নিবেন।
আর যদি বোঝা না সহজ হয় পরে কাউকে জিজ্ঞাসা করে সহজ করে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। আসলে আমি একটু আমাদের সমাজ থেকে গল্পটাকে সামনে নিয়ে যাই তাহলে সহজ হবে হয়তো বুঝতে। আজকে যদি আমরা কোন একটা চায়ের দোকানে বসি তাহলে সেই চায়ের দোকানের ৯০ থেকে ৮৫ পারসেন্ট গল্প রাষ্ট্রের সমস্যা নিয়ে আলোচিত হয়। মানে আমার দেশে কি সমস্যা? তেলের দাম বাড়লো না কমলো? দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়লো কিনা কমে গেল? সরকার কতটুকু সফল, কতটুকু ব্যর্থ? এগুলো নিয়েই কিন্তু আমাদের সমাজে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়। মানে আমরা চাইলেও আমাদের রাষ্ট্রের অব্যবস্থাপনা অথবা আমাদের রাষ্ট্রের সুব্যবস্থাপনা বা ভালো নিয়মনীতির বাইরে নই।
শুধু এইটা নয় আমরা যদি আজকের স্কুল কলেজ অথবা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রদেরকে দেখি তাহলে দেখব যে তাদের বিশাল একটা অংশ কোন না কোন ভাবে নেতাদের কাছে যেতে চায় তাদের সান্নিধ্য চায় তাদের নৈকট্য চায় তাহলে যেই দেশের একদম প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের আলোচনার বিষয়টা রাষ্ট্র নিয়ে হয় তাহলে সেই দেশের মানুষ এবং সেই অঞ্চলের যুবসমাজ কি কখনো রাষ্ট্র নিয়ে বাস্তবেই চিন্তাভাবনা করেছে সমালোচনার বাইরে গিয়ে আমার প্রশ্নটা আমি আবার করি যেই যুবসমাজ তার দেশের আমি নাম নিয়েই বলছি আমি এটা বিরোধিতার জন্য বলছি না বুঝানোর জন্য বলছি ধরেন আপনার এলাকায় যুবদল যে নেতা আছে অথবা ছাত্রদলের যে নেতা আছে আপনার অঞ্চলের কলেজ অথবা স্কুলের ছেলেটা চেষ্টা করে ওই নেতার কাছাকাছি থাকার।
আর আপনার মত বৃদ্ধ মানুষেরা যখন চায়ের স্টলে বসে তখন আপনারাদের গল্পের একটা বিশাল অংশ জুড়ে রাষ্ট্র থাকে। তাহলে যেই দেশের যুবসমাজ নেতাদের কাছাকাছি থাকতে চায়। আর যে দেশের বৃদ্ধ শ্রেণীরা রাষ্ট্রের সমস্যা নিয়ে গল্প করে তারা কি কোন সময় এই সমাধান কিভাবে হবে সেইটা নিয়ে কোন সময় চিন্তাভাবনা করেছে? আমরা শুধু সমালোচনার জায়গা থেকে সমালোচনা করি। আর আমাদের যুবকেরা শুধুমাত্র দাসত্ব এবং গোলামী করতে পছন্দ করে। এরা ভাবে যে যে নেতা হয়েছে আমি ওই নেতার পিছনে ছুটবো। ওরে ভাই বলে ডাকবো। ও মিছিলে ডাক দিবে ৫০০ টাকায় ১০০০ টাকায় নিজের সময়টাকে বিক্রি করব। আমি ওর পা চেটে চেটে গোলামর মাধ্যমে আমিও একদিন আমার এলাকার চুনোকুটি একটা নেতায় পরিণত হব।
আমাদের স্বপ্ন কোন সময় এর বাইরে যায় নাই। কিন্তু আমি আজকে আমার এই আলোচনায় দেখাবো যে আমরা যদি একটা পুরো সমাজকে পরিবর্তন করতে চাই অথবা পুরো সমাজের একজন নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই বা পুরো সমাজকে একটা কল্যাণের দিকে নিয়ে যেতে চাই তাহলে সেইটার রাস্তা কেমন হতে পারে মহান আল্লাহ তাআলাকে এই ধরনের কোন দিক নির্দেশনা তার পবিত্র কোরআনের মধ্যে কোথাও দিয়েছেন আসলে শুধু দিক নির্দেশনা না বরং মহান আল্লাহ তাআলা একটা মাজলুম ধরেন আমরা যদি আজকে আমাদের বাংলাদেশের কথাই বলি আজকে আমরা অনেক দিক থেকেই অত্যাচারের শিকার বিশ্বব্যবস্থার দ্বারা অত্যাচারের শিকার মানুষ চাইলে আমাদের দাম বাড়াচ্ছে আমাদের তেলের দাম বাড়াচ্ছে সেই তেলের দাম বাড়ার কারণে জিনিসপাতির দাম বাড়তেছে আমরা সবাই সেটার সমস্যা ভোগ করছি আমাদের পাশের যে রাষ্ট্র আছে সে পাশের রাষ্ট্র আমাদের মানুষদেরকে আমাদের সীমান্তে হত্যা করছে আমাদের আগের যে সরকার ছিল সেই সরকার একসময় আমাদের উপর অত্যাচার করার চেষ্টা করেছে।
এর আগে যখন পাকিস্তানিরা ছিল তারা আমাদের উপরে কিছু হলেও অত্যাচার করেছে। তার আগে যখন ব্রিটিশরা ছিল তারাও আমাদের উপর অত্যাচার করেছে। তো দীর্ঘ এই সময়ে আমরা যদি বিগত ২০০ ২৫০ বছরের ইতিহাসের কথা বলি তাহলে এই পুরো ২০০ বছরের ইতিহাসে আমাদের একমাত্র পরিচয় যে আমরা ছিলাম অত্যাচারিত এবং মাজলুম। সেই যারা আমাদেরকে অত্যাচার করেছে তারা কোন সময় বাইরের ছিল অথবা তারা কোন সময় ভেতরের ছিল। আপনি আজকেও দেখেন বিগত ৭০ ৮০ বছরে বাংলাদেশে যত নেতা হয়েছে এরা সব নেতার ছেলে নেতা হয়েছে। অথবা নেতার মেয়ে নেতা হয়েছে। এটাই চলেছে। কিন্তু তাদের অত্যাচার এবং তাদের যে সমস্যা, এই সমস্যার বোঝা, এই সমস্যার ঘানি কারা টেনেছে? আমার আপনার মত সাধারণ মানুষ টেনেছে।
আপনি কি মনে করেন যে আজকে অকটেন যে ১৬৮ অথবা ১৬৭ রিয়াল হয়েছে এই ১৬৮ অথবা ১৬৭ রিয়ালে ঢাকায় বসবাস করা দামি গাড়িতে চলাফেরা করা মানুষটার কোন সমস্যা আছে যেই নেতা এমপি হয়েছে মন্ত্রী হয়েছে তার এই দাম বাড়ায় কোন বিন্দুমাত্র প্রবলেম আছে এই যে দ্রব্যমূল্য ধরেন মরিচের দাম বেগুনের দাম ১০০ ১৫০ টাকা কেজি হবে চাউলের ৭০ ৮০ টাকা কেজি চাউল হবে আলুর দাম হুহু করে বেড়ে যাবে এই চালুর চাউলের দাম আলুর দাম যদি টাকা কেজি হয় ৩০০ টাকা কেজিও হয় তাও কি এই সমাজের যারা উচ্চ শ্রেণী তাদের কোন সমস্যা আছে তাদের কোন সমস্যা নাই সমস্যা যদি থেকে থাকে তাহলে আমাদেরই সমস্যা আছে কিন্তু আমরা কি কোন সময় গোলামী এবং দাসত্বের বাইরে গিয়ে আমাদের এলাকার জেলার উপজেলার থানার নেতাদের পাচাটার বাইরে গিয়ে অন্য কোন স্বপ্ন কোন সময় দেখেছি আমাদের সন্তানদের যেই সন্তানটা কৃষকের ছেলে ওই সন্তানটার সর্বোচ্চ স্বপ্ন দুইটা স্বপ্ন হয় কোন নেতার পা চাটবে অথবা সর্বোচ্চ স্বপ্ন হলে একটা সরকারি চাকরি করবে।
এর বাইরে আমাদের সন্তানদের এর চাইতে বড় কোন স্বপ্ন আর নাই। তো মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনের মধ্যে এইরকমই এক মজলুম জাতিকে উনি কিভাবে মুক্ত করবেন সেই কথা বলছেন। আমি সেই জাতির কথা বলার আগে ওই আয়াতটা একটু স্পষ্ট করি তাহলে আপনার বুঝতে সহজ হবে। মহান আল্লাহ তালা সূরা কাসাসের মধ্যে বলছেন আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম চনামুন্না অনুগ্রহ করব দয়া করব আল্লা তাদের উপরে দয়া করব যাদেরকে দুর্বল মনে করা হয়েছে জমিনে পৃথিবীতে যাদেরকে পৃথিবীতে দুর্বল মনে করা হয়েছে আমি তাদেরকে দয়া করব আর আমি তাদেরকে ইমাম বানাবো নেতা বানাব এবং তাদের মাঝে এটা বংশ পরিক্রমায় আমি চলমান রাখতো মহান আল্লাহতালা এখানে দুইটা কথা বলেছেন এক যাদেরকে পৃথিবীতে দুর্বল মনে করা হয় তাদের প্রতি আমি অনুগ্রহ করব।
কিভাবে অনুগ্রহ করব? তারা যে কষ্টের মাঝে আছে, যে বিপদের মাঝে আছে ওই বিপদ থেকে আমি মুক্ত করব। মহান আল্লাহ তাআলা মূলত এখানে কাদের কথা বলছেন? যে কাদেরকে দুর্বল মনে করা হয়েছে? মহান আল্লাহতালা মূলত এখানে বানু ইসরাইলের কথা বলছেন। কখনকার কথা বলছেন? যখন বানু ইসরাইলের ছেলে সন্তানদেরকে হত্যা করা হতো এবং মেয়ে সন্তানদেরকে জীবিত রাখা হতো। মানে এর চাইতে বড় অত্যাচার এবং জুলুম হতে পারে না। যখন পুরো বানু ইসরাইল মানে ধরেন আমরা এখন বাংলাদেশী। বাংলাদেশের এই অঞ্চলের আমরা মুসলিম জাতি। তো বানু ইসরাইলেরা হচ্ছে মিশরের অধিবাসী। মিশরে ওরা থাকে। তো বানু ইসরাইলের ছেলে সন্তানদেরকে জবাই করে দেওয়া হতো।
আর মেয়ে সন্তানদেরকে জীবিত ছেড়ে দেওয়া হতো। এবং বানু ইসরাইলদেরকে শুধুমাত্র দাস এবং গোলামে পরিণত করে রাখা হয়েছিল। এরা সমাজে ওই অঞ্চলের মানে মিশরের বড় মানুষদের শুধুমাত্র সেবা করতো। এই সেবা করার বাইরে দাসত্ব করার বাইরে গোলামী করার বাইরে মিছিল মিটিং করার বাইরে আজকের আপনাদের মত ৫০০ টাকার বিনিময়ে ১০০০ টাকার বিনিময়ে রাস্তায় মোটরসাইকেল গিয়ে মিছিল মিটিং করার বাইরে আর কোন তাদের কাজ ছিল না তো মহান আল্লাহতালা বলছেন এইরকম একটা নির্যাতিত জাতিকে আমি মুক্তি দিব তো মুক্তি মহান আল্লাহতালা কিভাবে দিবেন ওই মুক্তি দেওয়ার জন্য মহান আল্লাহতালা কাকে পাঠালেন ওই মুক্তি দেওয়ার জন্য মহান আল্লাহ তাআলা তৎকালীন ইসরাইলের মহিলাদের মধ্যে একজন মহিলার গর্ভে মুসা আলাইহিস সালামকে পাঠালেন।
এখন মুসা আলাইহিস সালামকে যেইদিন মহান আল্লাহতালা পাঠালেন সেইদিন থেকেই কি মহান মুসা আলাইহিস সালাম বান ইসরাইলকে মুক্তি দেওয়া শুরু করেছে? মহান আল্লাহতালা বান ইসরাইলের মুসা আলাইহিস সালামকে পাঠিয়েছিলেন শিশু অবস্থায়। শিশু থেকে মুসা আলাইহি সালামকে বড় করেছেন। বড় করা পর্যন্ত মুসা আলাইহি সালামের পুরো জিন্দেগী এবং মুসা আলাইহি সালামের মৃত্যু পর্যন্ত এই পুরো সময়টা মহান আল্লাহ তালা পবিত্র কোরআনের মধ্যে বর্ণনা করেছেন। আজকে আমার আলোচনার যে অংশটুকু সেটা হচ্ছে যে মহান আল্লাহ তাআলা বানু নির্যাতিত বানু ইসরাইল মজলুম বানু ইসরাইল অশিক্ষিত বানু ইসরাইল গোলাম বানু ইসরাইল দাস বানু ইসরাইলকে মুক্তি দেওয়ার জন্য যে মূসা আলাইহিস সালাম কে পাঠিয়েছিলেন ওই মুসা আলাইহিস সালামের মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাআলা বানু ইসরাইলকে কিভাবে মুক্তি দিয়েছিলেন আর ওই মুক্তি দেওয়ানোর জন্য মহান আল্লাহতালা মুসা আলাইহিস সালামকে কিভাবে প্রস্তুত করেছিলেন এখানে মুসা আলাইহি সালামের জীবনের অসংখ্য ঘটনা আপনারা জানেন শুনেছেন মুসা আলাইহি সালামের সাথে ফেরাউনের কথোপকথন আপনারা শুনেছেন মুসা আলাইহি সালাম তুর পাহাড়ে গেছিল সেই
ঘটনা আপনারা জানেন তারপরে মুসা আলাইহি সালাম সমুদ্র পার হয়ে চলে গেছিল ফেরাউন ডুবে মরে গেছিল এই গল্পগুলো আপনারা জানেন তো আজকের আমার আলোচনার আসলে এই গল্পগুলো আলোচনা করা উদ্দেশ্য না আমার আলোচনার উদ্দেশ্য হচ্ছে বা আমার আলোচনার পয়েন্টগুলো হচ্ছে যে একটা মজলুম জাতিকে মুক্তি দেওয়ার মহান আল্লাহতালা মুসা আলাইহি সালামকে কিভাবে প্রস্তুত করলেন? কেনা মুসা আলাইহিস সালামকে যেভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল ওইভাবে কোন মানুষকে যদি প্রস্তুত করা যায় তাহলে সেটা জাতির মুক্তির একটা মাধ্যম হতে পারে। আচ্ছা কেন মুসা আলাইহিস সালামের জীবনী অনুসরণীয় আমি তারও একটা কথা বলব। সেটা হচ্ছে যে পবিত্র কোরআনের মধ্যে মহান আল্লাহ তাআলা যেমন প্রথমে বললেন যে আমি একটা নির্যাতিত জাতিকে মুক্তি দিতে চাই।
এ কথাটা যেমন বললেন তেমনিইভাবে মহান আল্লাহ তালা আরো একটা কথা মুসা আলাইহি সালামের ক্ষেত্রে বলেছেন। মহান আল্লাহ তালা মুসা আলাইহিস সালামের ক্ষেত্রে পবিত্র কোরআনের মধ্যে একটা শব্দ ব্যবহার করেছেন। যে শব্দটা আমি আপনাদের সামনে বলছি। মহান আল্লাহ তালা বলছেন যে লিসনা আইনা আরেকটা জায়গায় মহান আল্লাহতালা ব্যবহার করছেন যে মানে হে মুসা আমি তোমাকে আমার চোখের সামনে প্রস্তুত করব রেডি করব আরেকটা আয়াতে মহান আল্লাহতালা বলছেন যে আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য প্রস্তুত করব এখানে একটা মজার বিষয় যে মহান আল্লাহতালা যখন কোন নবীকে পাঠিয়েছেন ধরেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনি নবী হয়েছেন ৪০ বছর বয়সে আল্লাহতালা তার কাছে ওহী পাঠিয়েছেন ঈসা আলাইহি সালামকে পাঠিয়েছেন তখন মহান আল্লাহতালা বলছেন যে আমি ঈসাকে পাঠিয়েছি তার কওমের কাছে ঠিকম আলাই সালাম আলাইহি সালাম নূহ আলাইহি সালাম ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম সকলকেই মহান আল্লাহতালা তার কওমের কাছে পাঠিয়েছেন এই পাঠানোর জায়গায় মহান আল্লাহতালা আর সালা শব্দ ব্যবহার করেছেন।
কিন্তু মুসা আলাইহিস সালামের ক্ষেত্রে একটা এক্সট্রা অর্ডিনারি মানে একটা আলাদা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। সেই শব্দটাকে লিতুসনা। যে আমি মুসাকে প্রস্তুত করব। মুসাকে প্রস্তুত করবো মানে কি? ছোট থেকে নিয়ে শুরু করে বড় হওয়া পর্যন্ত পুরোটাই আমি মুসাকে প্রস্তুত করব। এখানে সানা শব্দের অর্থ হচ্ছে যখন কোন কিছুকে সময় নিয়ে নিখুতভাবে প্রস্তুত করা হয় রেডি করা হয় কোন কাজ সম্পন্ন করা হয় আরবিতে সেটার জন্য সানা শব্দ ব্যবহার করা হয় মানে মুসা আলাইহিস সালামকে মহান আল্লাহ তাআলা সময় নিয়ে নিখুতভাবে ধীরে সুস্থ মানে ধীরস্থিরভাবে প্রস্তুত করেছিলেন কেন প্রস্তুত করেছিলেন কেননা মুসার মাধ্যমে মহান আল্লাহতালা একটা জাতিকে মুক্তি দিবেন মুসা আলাইহিস সালামের মাধ্যমে মহান আল্লাহ তালা নির্যাতিত বানু ইসরাইলকে ফেরাউনের হাত থেকে বাঁচাবেন।
এজন্য মুসা আলাইহি সালামের জীবনের শুরুর দুইটা অংশ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এক যে মুসা আলাইহিস সালামকে দিয়ে একটা জাতির মুক্তি হবে। আর দুই মহান আল্লাহ তালা মুসা আলাইহিস সালামকে নিজে প্রস্তুত করেছেন। রেডি করেছেন। মানে মুসা আলাইহিস সালামের জীবনের প্রত্যেকটা অংশ আমাদের জন্য শিক্ষণীয়। একজন বাপের একজন বাবার জন্য শিক্ষণীয় যে সে তার সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবে আর একজন ছেলের জন্য একজন যুবকের জন্য শিক্ষণীয় যে আমি কিভাবে আমার জাতির মুক্তির জন্য চেষ্টা করব আমি গোলামী করবো না দাসত্ব করব না এইটার জন্য আমি কিভাবে নিজেকে প্রস্তুত করব সেই দুইটা জিনিস আমরা মুসা আলাইহিস সালামের জীবনী থেকে শিখবো আপনি যদি মুসা আলাইহি সালামের জীবনীর একদম প্রথমে যান তো আমরা দেখব যে মুসা আলাইহিস সালামকে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছিল মানে তার মা তাকে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন বক্সের মধ্যে বন্দি করে।
সেই বক্সের মধ্যে বন্দি করা সন্তানটাকে ফেরাউনের স্ত্রী তুলে নিয়েছিল। কি বলে তুলে নিয়েছিল যে আপনি সন্তানটাকে তুলে নেন। হয়তো সে আমাদের চক্ষু শীতলকারী হবে অথবা সে আমাদের উপকার করবে। এগো কিন্তু কোরআনের আয়াত। আমি আয়াত বলছি না যেন ঘটনাটা জটিল না হয়। তো মুসা আলাইহিস সালামকে যিনি তুলে নিলেন তুলে নিয়ে যেই রাজপ্রাসাদে চলে গেলেন সেই রাজপ্রাসাদটা কার রাজপ্রাসাদ? ফেরাউনের রাজপ্রাসাদ। এইখানে বিষয় এইটা না যে মুসা আলাইহি সালাম যেখানে গেলেন সেটা ফেরাউনের রাজপ্রাসাদ ছিল। এখানে বিষয় এইটা যে মুসা আলাইহিস সালাম যেই কওমের মধ্যে ছিলেন ওই কম ছিল পুরো মিশরের সবচেয়ে নির্যাতিত। সবচেয়ে মাজলুম, সবচেয়ে দাসত্বকারী, সবচেয়ে অত্যাচারিত কওম বানু ইসরাইল।
আর ওই কওম থেকে বের হয়ে যেই পরিবারে গিয়ে মূসা আলাইহিস সালাম মানুষ হচ্ছেন। আমরা এখানে জানলাম যে মুসা আলাইহিস সালাম ফেরাউনের কাছে মানুষ হয়েছিলেন। তো যেই প্রাসাদে গিয়ে মূসা আলাইহিস সালাম মানুষ হচ্ছেন, সেই প্রাসাদটা হচ্ছে তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাজবংশের রাজপ্রাসাদ। আমি মনে হয় বুঝাতে পারিনি কথাটা। আপনি কথাটা আবার বোঝেন। সেটা হচ্ছে যে মুসা আলাইহিস সালাম যে কওমের মধ্যে ছিলেন সেই কওমটা হচ্ছে বান ইসরাইল। এরা প্রচুর মিথ্যা কথা বলে। দাসত্ব আর গোলামী করতে করতে এদের মাঝে ধোকা মিথ্যা কথা বলা। আরেকজন মানুষকে ফাঁকি দেওয়া এই ধরনের স্বভাব এদের রক্তে প্রবেশ করে গেছে। এইরকম একটা জাতির ভেতর থেকে মুসা আলাইহিস সালামকে বের করে নিয়ে মহান আল্লাহ তালা দিলেন ফেরাউনের রাজপ্রাসাদে।
আর ফেরাউনের রাজপ্রাসাদটা কোন রাজপ্রাসাদ? এটা সাধারণ কোন রাজপ্রাসাদ না। তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর যে দুই চারটা সভ্যতা। যেমন ধরেন ব্যাবলোনিয় সভ্যতা। আসারীয় সভ্যতা। এইরকম তিন চারটা সভ্যতার একটা সভ্যতা হচ্ছে ফারাওদের সভ্যতা। মানে ধরেন আজকের পরাশক্তির একটা পরাশক্তি হচছে চীন। আজকের পরাশক্তির একটা পরাশক্তি হচছে রাশিয়া। আজকের পরাশক্তির একটা পরাশক্তি হচ্ছে আমেরিকা। এইরকম তিন চারটা পরাশক্তির একটা পরাশক্তি হচ্ছে ফেরাউন। আর এই ফেরাউনের রাজপ্রাসাদে যিনি মানুষ হওয়ার জন্য যাচ্ছেন, যাকে মানুষ করার জন্য তুলে নেওয়া হচ্ছে তিনি কে? তিনি হচ্ছেন মুসা আলাইহিস সালাম। মানে মুসা আলাইহি সালাম যেই রাজপ্রাসাদে মানুষ হয়েছিলেন সেটা তৎকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের রাজপ্রাসাদ। মানে ওইখান থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ডিসিশন গুলো হয়।
তিনি উনার চোখের সামনে মানুষকে অত্যাচারিত হতে দেখেছেন। তিনি উনার চোখের সামনে দেখেছেন রাজা বাদশারা কিভাবে ফায়সালা দেয়। উনি উনার চোখের সামনে দেখেছেন যে মন্ত্রীরা কিভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। উনি উনার চোখের সামনে দেখেছেন যে বান ইসরাইলের উপর কিভাবে এই বিশাল রাজপ্রাসাদে বসে থেকে এরা অত্যাচার করে জুলুম করে। এই রাজপ্রাসাদের আরেকটা মজার বিষয় আছে। মুসা আলাইহিস সালাম যেই রাজপ্রাসাদে মানুষ হয়েছিলেন ওই রাজপ্রাসাদ থেকে কুফরের ঘোষণা যেত। ওই রাজপ্রাসাদ থেকে বান ইসরাইলের উপর অত্যাচার করার ঘোষণা যেত। কিন্তু ওই রাজপ্রাসাদে আরো একজন মানুষ ছিলেন। বলতে পারেন কে সে? ফেরাউনের স্ত্রী পৃথিবীর সবচেয়ে পুতা পবিত্র সবচেয়ে তাকওয়াবান পরহেজগার। মুত্তাকী রমণীদের একজন ছিলেন যার বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন যে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ চারজন অথবা পৃথিবীর পরিপূর্ণ পাওয়া নারীদের একজন নারী হচ্ছে আসিয়া আলাইহিস সালাম।
ওই আসিয়া আলাইহিস সালাম থাকতো আবার ফেরাউনের এই রাজপ্রাসাদে। মানে যেই রাজপ্রাসাদ থেকে বানু ইসরাইলের উপর জুলুম এবং অত্যাচারের ফায়সালা হতো। যেই রাজপ্রাসাদ থেকে পুরো পৃথিবীর একটা বিশাল অংশ পরিচালিত হতো। যেই রাজপ্রাসাদের মানুষেরা আল্লাহকে মানতো না, যেই রাজপ্রাসাদের মানুষেরা কুফরি করত, ওই রাজপ্রাসাদেই পৃথিবীর সবচেয়ে তাকওয়াবান পরহেজগারিণী রমণীদের একজন রমণী বসবাস করতেন। আর মুসা আলাইহি সালামকে যিনি কোলে তুলে নিয়েছিলেন মানে মুসা আলাইহি সালামকে যিনি সন্তান করার জন্য সন্তান হিসেবে মানুষ করার জন্য তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনিও কে ছিলেন? আসি আলাইহিস সালাম ছিলেন। এখানে দুইটা জিনিস আছে। এই অংশে এই অংশের যেটা দুইটা জিনিস সেটা হচ্ছে যে মুসা আলাইহিস সালাম এটা হাদিস কোরআন একদম স্পষ্ট নাই কিন্তু ঘটনা আমাদেরকে বলছে যে মুসা আলাইহিস সালাম একদিকে যেমন ফেরাউনের অত্যাচার দেখেছেন মুসা আলাইহিস সালাম একদিকে যেমন তৎকালীন মন্ত্রীদের তৎকালীন ওজিরদের সীমালঙ্ঘন দেখেছেন ঠিক তেমনিভাবে আসিয়া আলাইহিস সালামের তাকওয়া এবং পরহেজগারিতা দেখেছেন।
উনি যেমন একদিন একদিকে দুনিয়া দেখেছেন আবার আরেকদিকে তেমন কি দেখেছেন? দ্বীন দেখেছেন। আল্লাহ বিরুতা দেখেছেন। আরো একটা মজার বিষয় হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রাজপ্রাসাদের মধ্যে বসে থেকে আসিয়া আলাইহিস সালাম তার জীবনের শেষ মুহূর্তে দোয়া করছেন রবজান্না। আপনি চিন্তা করতে পারেন ধরেন আপনি বসে আছেন হোয়াইট হাউসে। আজকের হোয়াইট হাউস মানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজপ্রাসাদ। ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজপ্রাসাদে বসে থেকে রাজপ্রাসাদের সুবিধা ভোগ করে দুনিয়ার সকল বিলাসিতা নিজের চোখে দেখার পরে আল্লাহ তাালার কাছে কি কামনা করছেন? রব্বিবনিলি হে আল্লাহ আপনি আমার জন্য নির্মাণ করেন ইন্দাকা আপনার কাছে বাইতানফিল জান্না জান্নাতে আমার জন্য একটা ঘর নির্মাণ করেন মানে এই দুনিয়ার যত ভোগ বিলাসের মধ্যে আপনি বসবাস করেন না কেন আপনার শেষ ঠিকানা কোথায় জান্নাত অথবা জাহান্নাম দুই যে আপনি ভোগ বিলাসের মধ্যে থাকতে পারেন আপনি ক্ষমতার সর্বোচ্চ পৌঁছে যেতে পারেন পৃথিবীর পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিধর রাজা আপনি হতে পারেন।
পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিধর রাজার আপনি রানী হতে পারেন। কিন্তু আপনি কার সামনে নত থাকবেন? আল্লাহ তাালার সামনে নত থাকবেন। আল্লাহ তাআালার গোলাম এবং দাস হিসেবে আপনার পরিচয় থাকবে। তো মুসা আলাইহিস সালাম তার জীবনের শুরুতেই দুইটা জিনিস দেখেছেন। এক রাজপ্রাসাদ দেখেছেন আর রাজপ্রাসাদের সীমালঙ্ঘন দেখেছেন। আর ওই রাজপ্রাসাদের মধ্যে বসে থাকা পুতাপবিত্রা রমণীর পরহেজগারিতা দেখেছেন। এখানে আরো একটা বিষয় আছে। সেটা হচ্ছে যে মুসা আলাইহিস সালামকে যিনি মুসা আলাইহিস সালামকে যিনি জন্ম দিচ্ছেন তিনি কিন্তু কোন সাধারণ রমণী নন। মুসা আলাইহিস সালাম কে যিনি জন্ম দিচ্ছেন যিনি আল্লাহ তাআলার উপর ভরসা করে তার সন্তানকে নদীতে ভাসিয়ে দিচ্ছেন মানে তার মাঝেও তার হৃদয়েও আল্লাহর প্রতি ভরসা আছে এখানে আমরা শুরু থেকে একটা জিনিস দেখছি সেটা হচ্ছে যে একজন মানুষকে বিনির্মাণ করার পেছনে সর্বপ্রথম যে দুইজনের কথা আসতেছে সেই দুইজনই হচ্ছে কি নারী একদিকে মুসা আলাইহি সালামের মা আরেকদিকে ফেরাউনের রাজপ্রাসাদের ফেরাউনের স্ত্রী।
মানে এখানে আরেকটা কথা বলি। আসলে ইসলাম যখন বলে মানে আমাদের ইসলামটাকে এভাবে বলা হয় যে ইসলাম নারীদেরকে ঘরের মধ্যে থাকতে বলে। না ইসলাম আসলে নারীদেরকে ঘরের মধ্যে থাকতে বলে না। ইসলাম বলে এই পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন দায়িত্বটা। এই পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন চাকরিটা হচ্ছে নারীদের। দেখেন একটা কারখানায়, একটা গার্মেন্টসে গিয়ে একটা কাপড় সেলাই করা বড় কোন কিছু না। আপনি একটা স্কুলে গিয়ে ১০টা সন্তানকে আধা ঘন্টা পড়াবেন এটা কোন কিছু না। এটা বড় কোন কিছুই না। কিন্তু বড় হচ্ছে যে একটা মানুষকে একটা সন্তানকে একটা শিশুকে আপনি মানুষের মত মানুষ করবেন। এটা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন চাকরি। এর চাইতে বড় চাকরি তো হতেই পারে না।
মানে এর চাইতে বড় চাকরি কেন হতে পারে না? আজকে সারা পৃথিবী মানুষকে মানুষ হওয়ার জন্য বলছি। আজকে সারা পৃথিবী একজন শিক্ষিত যুবসমাজ গড়ার জন্য বলছে। একটা সফল চাকরিজীবী প্রতিষ্ঠা করার জন্য বলছে। একজন সফল পুরুষকে গড়ার পেছনে একজন মায়ের চাইতে বড় ভূমিকা আর কার হতে পারে? ইসলাম এইটা বলছে না যে ইসলাম নারীদেরকে ঘরের মধ্যে থাকতে বলে। বরং ইসলাম বলছে যে একজন সফল সন্তান প্রতিষ্ঠা করার চাকরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কাকে? একজন রমণীকে। মানে মহান আল্লাহ তালা এই পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন চাকরি এই পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন জিম্মেদারী দিয়েছেন একজন নারীকে। আর ওই নারীদের সংস্পর্শেই মুসা আলাইহিস সালাম তার জীবনের সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
এরপরে ধরেন মুসা আলাইহিস সালাম ফেরাউনের রাজপ্রাসাদে থাকলেন, মানুষ হলেন যখন মুসা আলাইহিস সালাম পরিপূর্ণ বয়স্ক হলেন মানে তিনি যখন বালেগ হলেন তখন এবার মহান আল্লাহ তালা বলছেন যে মানে যখন মুসার বয়স ধরেন আনুমানিক ১৫ ১৬ বছর হল তখন আমরা মুসাকে সর্বপ্রথম যে জিনিসটা দিলাম সেটা হচ্ছে আমরা মুসাকে হুকুম এবংলম মানে মুসাকে আমরা হিকমত দিলাম। আর দ্বিতীয় যে জিনিসটা আমরা মুসাকে দিলাম সেটা হচ্ছে মুসা আলাইহিস সালামকে আমরা জ্ঞান দিলাম। এখানে এইখানে যে বিষয়টা সেটা হচ্ছে যে মহান আল্লাহ তালা মুসা আলাইহিস সালামকে একটা জাতির জন্য প্রস্তুত করবেন। একটা জাতির মুক্তির জন্য রেডি করবেন। তো সেইখানে তাকে জ্ঞান দেওয়ার কথাটা আলাদা করে বলার কি দরকার? মানে এখানে কিন্তু এখনো মুসা আলাইহি সালামের কাছে ওহী আসে নাই।
আপনারা জানেন যে মুসা আলাইহি আপনারা যে ঘটনাটা জানেন যে মুসা আলাইহি সালাম আগুন দেখলেন তারপরে আগুনের দিকে এগিয়ে গেলেন। সেখানে মুসা আলাইহিস সালামের সাথে আল্লাহ তাালার কথা হলো। তখন মুসা আলাইহি সালামের কাছে ওহী আসল। ওই ঘটনাটা কিন্তু আরো পরের। কিন্তু মুসা আলাইহিস সালামকে যখন মহান আল্লাহ তালা জ্ঞান দিচ্ছেন তখন মুসা আলাইহিস সালাম সবে মাত্র ১৫ ১৬ বছরের যুবক। তো মুসা আলাইহিস সালামকে আলাদা করে জ্ঞান দেওয়ার কথাটা বলার কি দরকার? এইটা এই জন্য বলা দরকার যে কোন জাতি যদি বাস্তবেই মুক্তি চায় কোন জাতি যদি বাস্তবেই মুক্তি অর্জন করতে চায় তাহলে সেই জাতির প্রথম প্রায়রিটি মানে সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটাতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত সেটা হচ্ছে জ্ঞান অর্জনের পিছনে।
এইজন্য মহান আল্লাহ তাআলা যখন আদম আলাইহিস সালামকে দুনিয়ায় পাঠালেন ফেরেশতাদের কথাকে উপেক্ষা করে তখন মহান আল্লাহ তালা আদম আলাইহিস সালামকে সর্বপ্রথম কি দিয়েছিলেন মানে আদম আলাইহি সালামকে মহান আল্লাহতালা সর্বপ্রথম যেটা দিয়েছিলেন সেটা কি ছিল জ্ঞান ছিল আপনারা জানেন না ঘটনা জানেন যে আদম আলাইহিস সালাম এবং ফেরেশতাদের মাঝে একটা প্রতিযোগিতা হয়েছিল আল্লাহতালা ফেরেশতাদেরকে কে বললেন এই ফেরেশতারা তোমরা এগুলোর নাম বলতো। ফেরেশতারা নাম বলতে পারলো না। আদম আলাইহিস সালামকে বললেন, হে আদম তুমি এগুলোর নাম বলতো। তখন আদম সেগুলোর নাম বলে দিল। তারপরে ফেরেশতারা আদম আলাইহিস সালামকে সেজদা করলো। এই ঘটনাটা কিসের ঘটনা? এই ঘটনাটা হচ্ছে মহান আল্লাহতালা মানবজাতিকে সর্বপ্রথম যে জিনিসটা দিয়েছিলেন পৃথিবীর মানুষদের আদি পিতাকে যে জিনিসটা দিয়েছিলেন সেটা ছিল জ্ঞান।
আর জ্ঞানের সামনেই সেজদারা মাথা নত করেছিল। আজকেও যদি কোন জাতি জ্ঞান অর্জনে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে তাহলে সারা পৃথিবী তার সামনে কি করবে? কথা আপনি ধরেন ধরেন আজকে আমরা আমেরিকাকে ভয় পাই অথবা রাশিয়াকে ভয় পাই অথবা চীনকে ভয় পাই অথবা ভারতকে ভয় পাই অথবা ইসরাইলকে ভয় পাই। এই ভয় পাওয়া গুলোর পেছনে কি শুধু বম কারণ আছে? এই ভয় পাওয়া গুলোর পেছনে কি শক্তিশালী বিমান কারণ? না বরং এই ভয় পাওয়া গুলোর পেছনের মূল কারণ হচ্ছে যেই জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে তারা এই বিমান তৈরি করেছে যেই জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে তারা শক্তিশালী বোমা তৈরি করেছে যেই জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে তারা এই শক্তিশালী টেকনোলজি প্রতিষ্ঠা করেছে তাহলে যে জাতির কাছে যে সময় জ্ঞান থাকবে ওই জাতি ওই সময় সবচেয়ে বড় শক্তিশালী সম্প্রদায় পরিণত হবে এবং সারা পৃথিবীর সবাই তাদের সামনে মাথা নত করবে ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় সেটা মুসলিম হোক অথবা অমুসলিম হোক আগামীকাল যদি আগামীকাল থেকে যদি বাংলাদেশের
মানুষদের একমাত্র ভিশন এবং মিশন হয়ে যায় যে আমরা জ্ঞান বিজ্ঞানে সবচেয়ে সামনে এগিয়ে যাব তাহলে আজ থেকে ১০০ বছর পরে এই পুরো পৃথিবী বাংলাদেশীদের এই আপনাদের মত সাধারণ মানুষদেরকে ভয় পাবে এবং আপনাদের সামনে মাথা নত করবে এটাই জ্ঞানের বৈশিষ্ট্য এই জন্য মহান আল্লাহতালা সর্বপ্রথম যে জিনিসটা মুসা আলাইহিস সালামকে দিয়েছিলেন সেটা হচ্ছে জ্ঞান দিয়েছিলেন আর আমাদের যুবক ছেলেরা জ্ঞান অর্জন করতে গিয়ে জ্ঞান না অর্জন করে নেতা খেতার পিছনে মিছিল করে। আমাদের ছেলেরা স্কুলে গিয়ে টিচারদের কাছ থেকে শিক্ষা না নিয়ে ওই এলাকায় কোন নেতা কোথায় মিছিল করতে যাবে কে ৫০০ টাকা দিল কে১০০০ টাকা দিল সেইটার পেছনে ছুটে বেড়ায়।
কে কোন দলের বড় ভাই আর কে কোন দলের সভাপতি আর কোন দলের সভাসভাপতি এইটার পেছনে আমাদের যুবক শ্রেণী ঘুরে বেড়ায়। দেখেন আপনি তো দাস ছিলেন ছিলেন। আপনার বাবা তো দাস ছিল ছিল। আপনিও দাস আছেন এবং আপনার পরবর্তী বংশধর দাস থাকবে যদি আপনারা এভাবে আপনাদের নেতাকে তাদের পাচারতে থাকেন। সেইদিনই আপনাদের কপালে শুধুমাত্র মুক্তি লেখা থাকবে যেইদিন আপনারা ঈমানের সাথে জ্ঞান অর্জনের এই পথে অগ্রসর হবেন। যদি ঈমান নাও থাকে আপনাদের যদি আপনাদের ঈমান নাও থাকে তাও এই পুরো পৃথিবীর রাজত্ব আপনাদের পায়ের তলে এসে সেজদা করবে এবং অবনত হবে। এইজন্য মহান আল্লাহ তালা মুসা আলাইহিস সালামকে সর্বপ্রথম যেই জিনিসটা দিলেন সেটা হচ্ছে মুসা আলাইহি সালামকে মহান আল্লাহ তালা জ্ঞান দিলেন।
কেননা মুসা আলাইহিস সালাম তো বানি ইসরাইলকে নেতৃত্ব দিবেন। তাহলে একজন নেতার বৈশিষ্ট্য কি হবে? একজন নেতার বৈশিষ্ট্য হবে তিনি জ্ঞানী। আর আমাদের দেশের নেতাদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আমাদের দেশের নেতারা সবচেয়ে বেশি মূর্খ। একদম গন্ডম মূর্খ। অধিকাংশ নেতাই মূর্খ। আমাদের দেশে শিক্ষিত শ্রেণীর পড়াশোনা করে আসা মানুষের নেতা হওয়ার প্রমাণ খুব কম। কেন? আমরা তো আমাদের ছাত্রদেরকে যখন পড়াশোনা করার সময় তখন পড়াশোনা করতে দেই নাই। তখন নেতৃত্বের লোভ দেখিয়ে ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে আমরা তাদেরকে আমাদের এই ভুল পথের দিকে নিয়ে গেছি। আমি পরের কথায় আসি। মুসা আলাইহিস সালামকে যখন মহান আল্লাহতালা জ্ঞান দিয়ে দিলেন তারপরে কি হল? আমি সংক্ষেপে বলছি।
মুসা আলাইহিস সালাম একজন কিব্তীকে হত্যা করেছিলেন। মানে ফেরাউনের বংশধরের একজন ব্যক্তি। একদিন মুসা আলাইহিস সালাম দেখলেন যে একটা বানু ইসরাইল আর ফেরাউনের বংশের একটা ব্যক্তি দুইজন লড়াই করছে। তো দুইজনের মাঝে ফায়সালা করার জন্য মুসা আলাইহিস সালাম ওই ফেরাউনের বংশধরের একজন ব্যক্তিকে একটা ঘুষি মারে। ওই ঘুষিতে ওই কৃপ্তি ব্যক্তি মানে ফেরাউনের বংশধরের ওই ব্যক্তি মারা যায়। তো এই খবর ফেরাউন পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তখন তারা মুসাকে ধরার জন্য লোক পাঠায়। মুসা আলাইহিস সালাম তখন ফেরাউনের এই অঞ্চল থেকে পালাতে পালাতে পালাতে পালাতে কোথায় চলে যায়? মাদায়েইনে চলে যায়। এই যে মুসা আলাইহিস সালাম পালিয়ে মাদাইনে গেলেন। মুসা আলাইহি সালাম পালিয়ে মাদাইনে কেন গেলেন? কেন অন্য কোথাও গেলেন না? মুসা আলাইহিস সালাম পালিয়ে যেই মাদাইনে গেলেন ওই মাদাইনটা হচ্ছে শোয়াইব আলাইহিস সালামের মাদাইন।
শোয়াইব আলাইহিস সালামের মাদাইন মানে যেই অঞ্চলের মানুষদেরকে মহান আল্লাহ তাআলা ওজনে কম দেওয়ার জন্য মানুষকে ঠকানোর জন্য ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। পবিত্র কোরআনের মাত্র দুইটা সূরা আছে। যেই দুইটা সূরা ওয়াইলুন শব্দ দিয়ে শুরু হয়েছে। পবিত্র কোরআনের মাত্র দুইটা সূরা আছে। যেই দুইটা সূরা ওয়াইলুন ধ্বংস হোক। এই কথা বলে শুরু হয়েছে সেই দুইটা সূরার একটা সূরা হচ্ছে আল্লা যারা কি করে মানুষকে ওজনে কম দেয় যারা মানুষের সাথে না ইনসাফি করে যারা মানুষের সাথে আদাল করে না এই ধরনের ব্যক্তিদের উপর ধ্বংস হোক তো এই কওমটা হচ্ছে শোয়াইব আলাইহিস সালামের কওম আরশব আলাইহি সালামের কওম বসবাস করত মাদায়েতোশোয়াব আলাইহি সালামের কওমকে মহান আল্লাহ তালা ধ্বংস করে দিয়েছিলেন শুধুমাত্র ওজনে কম দেওয়ার কারণে না ইনসাফি করার কারণে আদাল ইনসাফ ন্যায় পরায়ণতা প্রতিষ্ঠা না করার কারণে তাহলে মুসা আলাইহিস সালাম যেই মাদাইনে গেলেন ওই মাদাইনে মানুষের সাথে ইনসাফ না করার জন্য ওই শহরটাকে ওই শহরের মানুষদেরকে মহান আল্লাহতালা একসময় ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।
আল্টিমেটলি সাধারণভাবেই যখন মুসা আলাইহিস সালাম মাদাইনে যাবেন থাকবেন তখন উনি এটা জেনে যাবেন যে এই অঞ্চলের মানুষদেরকে কি কারণে ধ্বংস করা হয়েছিল আদল ইনসাফ ন্যায় প্রতিষ্ঠা না করার জন্য ধ্বংস করা হয়েছিল মানে যিনি নেতা হবেন তার দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য জ্ঞানের পরে একজন যিনি নেতা হবেন যিনি একটা জাতিকে পথ প্রদর্শন করাবেন তার দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তিনি কি হবেন আদেল হবেন ন্যায় পরায়ণ হবেন সত্যবাদী হবেন ইনসাফ করবেন মানুষের সাথে কেননা যে ইনসাফ করতে পারবে না যে ন্যায় পরায়ণ হতে পারবে না যে সৎ হতে পারবে না সে কশ্চিন কালেও তার জাতিকে কি করতে পারবে না মুক্তি দিতে পারবে না বিগত ৫০ বছরে আপনাদের এই অঞ্চলে শত শত এমপি মন্ত্রী এসেছে শত শত উপজেলা জেলা চেয়ারম্যানেরা এসেছে আপনাদেরকে শত শত তারা কি করেছে ওয়াদা অঙ্গীকার করেছে ওই শত শত ওয়াদা অঙ্গীকারের কয়টা আপনার বাস্তব হতে দেখে দেখি নাই আমরা বাস্তবায়ন হতে খুব কম সংখ্যক বাস্তবায়ন হয়েছে
কেননা আমাদের নেতাদের প্রথম দুইটা বৈশিষ্ট্য সবচেয়ে বড় দুর্বলতা আছে এক হয় তাদের কাছে ইলিম নাই আর ইলিম থাকলে তাদের কাছে ইনসাফ নাই এরপরে আসেন মুসা আলাইহি সালাম মাদায়ে গেলেন মাদায়ে যাওয়ার পরে মুসা আলাইহিস সালাম চুপচাপ বসে আছেন এগুলো কোরআনে এসেছে আমি আয়াতগুলো বলছি না উনি বসে থাকতে থাকতে কুপের পাশে গিয়ে বসেছেন একটা কুপের পাশে উনি দেখছেন যে দুইটা মেয়ে দূরে দাঁড়িয়ে আছে তাদের ছাগল ভেড়ার পাল নিয়ে। আর বাকি মানুষেরা ওখানে কি করাচ্ছে? তাদের ছাগলদেরকে কুপ থেকে তুলে পানি পান করাচ্ছে। তো মুসা আলাইহিস সালাম তখন ওই দুই নারীর কাছে চলে গেলেন। ওই দুই নারীর কাছে চলে গিয়ে বলছেন যেকুমা কি ব্যাপার? তোমরা এখানে কেন দাঁড়িয়ে আছো? তখন তারা বলছে যে আমরা আমাদের ছাগলদেরকে পানি পান করানোর জন্য এসেছি।
কেননা আমাদের বাবা হচ্ছেন বৃদ্ধ মানুষ। মানে আমাদের বাবা আসতে পারবেন না। তাই আমরা এখানে আমাদের ছাগলকে পানি পান করানোর জন্য এসেছি। এইখানে তৃতীয় যে শিক্ষা সেটা হচ্ছে যিনি কওমকে মুক্তি দিতে চাইবেন তার মাঝে আরেকজনকে সহযোগিতা করার মন মানসিকতা থাকতে হবে। বিনা পয়সায় বিনা পারিশ্রমিকে। কেন? মূসা আলাইহিস সালাম তো এখানে অপরিচিত মানুষ। উনি কুপের পাশে বসে আসেন। ওই দুই নারীকে গিয়ে উনার জিজ্ঞাসা করার কি দরকার যে তোমাদের কি সমস্যা? কিন্তু উনি নিজে গিয়ে তাদের দুইজনকে জিজ্ঞাসা করলেন যে তোমাদের কি সমস্যা? তখন তারা বলল যে আমাদের বাবা বৃদ্ধ আমরা ছাগলকে পানি পান করানোর জন্য এসেছি। তো আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত এই মানুষগুলো এখান থেকে না সরে যাচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের ছাগলদেরকে পানি পান করাতে পারবো না।
এই মানুষগুলো এখান থেকে সরে গেলে এই পুরুষ মানুষেরা এখান থেকে চলে গেলে আমরা আমাদের ছাগলকে পানি পান করাবো। তখন মুসা আলাইহিস সাল্লাম নিজে তাদের ছাগলকে পানি পান করালেন। এইখানে যেই জিনিসটা চতুর্থ যে জিনিসটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটা হচ্ছে যে মূসা আলাইহিস সালামের তৃতীয় যে জিনিসটা আমরা বলেছি যিনি নেতা হবেন যিনি জাতিকে মুক্তি দিতে চাইবেন জাতির জন্য কিছু করতে চাইবেন তাকে সহযোগী হতে হবে। এটা হচ্ছে নেতার অথবা কায়েদের অথবা জাতির জন্য যিনি কিছু করতে চাইবেন তার তৃতীয় বৈশিষ্ট্য। এইখানে চতুর্থ আরেকটা জিনিস প্রবেশ করতেছে। চতুর্থ আরেকটা জিনিস সেটা হচ্ছে একজন পুরুষ ব্যক্তির স্ত্রী কেমন হবে? এখানে কোরআনের আয়াতটা এসেছে যে আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের ছাগলকে পানি পান করাবো না যতক্ষণ পর্যন্ত এই মানুষেরা তাদের ছাগলকে পানি পান করিয়ে ফিরে না যায়।
তাহলে ওই দুই রমণীর সর্বপ্রথম বৈশিষ্ট্য কি ছিল? মুসা আলাইহি সালামের বৈশিষ্ট্য শেষ। ওই দুই নারীর সর্বপ্রথম বৈশিষ্ট্য কি ছিল? ওই দুই নারীর সর্বপ্রথম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে তারা পর্দাশীলা ছিলেন। তারা পুরুষদের মাঝে যেতে ইতস্ত করছিলেন। আর আজকের নারীরা পুরুষদের সাথে, রাস্তায়, বাসে, স্কুলে, অনুষ্ঠানে ধাক্কাধাক্কি করাটাকে নিজেদের স্বাধীনতা মনে করে। এইটাকে আপনি স্বাধীনতা মনে করেন। এটা আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমি এই জায়গায় আপনার উপর কথা বলছি না। ধরেন আমি ছেড়ে দিলাম যে বর্তমান দুনিয়ার নিয়ম অনুযায়ী এটা আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু যদি আপনার ইচ্ছা হয় যে আপনি এমন একজন সন্তান পয়দা করবেন যেই সন্তান বাংলাদেশের মানুষকে মুক্তির পথ দেখাবে।
বাংলাদেশের সমাজের অসহায় মানুষদের মুক্তির দূত হিসেবে আবির্ভূত হবে। তাহলে অবশ্যই মুত্তাকী পরহেজগারিনী হওয়া ছাড়া আপনার সামনে দ্বিতীয় কোন কি নাই? রাস্তা। আপনাকে প্রচন্ড লেভেলের পর্দাশীলা রমণী হতে হবে। আর মুসা আলাইহিস সালাম তাদের এই অসহায়ত্বের কি নেননি? সুযোগ নেন নাই। এইজন্য আপনার মত যুবকদেরকে নারীদের থেকে শত হাত দূরে অবস্থান করতে হবে। এই অংশের যে কথাটা আমরা বলছিলাম এই অংশের যেটা বিষয় সেটা হচ্ছে এখানে আমরা দেখবো যে একজন পুরুষের স্ত্রী কেমন হবে। তো আমরা প্রথমেই যে জিনিসটা দেখেছি যে একজন পুরুষের যিনি স্ত্রী হবেন তার প্রথম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তিনি পর্দাশীলা হবেন।
আচ্ছা তারা যে ওই দুইজন রমণী যে পর্দাশীলা ছিলেন তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ কি? তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে মুসা আলাইহি সালাম যখন তাদেরকে পানি পান করালেন পানি পান করানোর পরে যখন তারা বাসায় চলে গেল বাসায় চলে যাওয়ার পরে তাদের বাবা তাকে জিজ্ঞাসা করছে কি ব্যাপার তোমরা আজকে এত সকাল সকাল তোমরা তো অন্যান্য দিন অনেক দেরি করে আসো তখন তারা মুসা আলাই সালামের ঘটনা বলে যে একজন যুবক আজকে আমাদেরকে পানি পান করিয়েছে তাই আমরা তাড়াতাড়ি চলে এসেছি তো তখন তার বাবা মানে ওই দুই মেয়ের বৃদ্ধ বাবা মুসা আলাইহি সালামকে ডেকে পাঠালে তো মুসা আলাইহি সালামকে ডাকার জন্য যখন ওই মেয়েটা আসতে তখন কোরআনে এই শব্দটা উল্লেখ করা হয়েছে।
কোরআনের শব্দটা এসেছে যে তাদের দুইজনের একজন মুসা আলাইহি সালামের কাছে আসলো তাম হেটে আসল ধীরে হেটে আসল লজ্জার সহ এখন আপনার প্রশ্ন হতে পারে মুসা আলাইহিস সালামেরই ঘটনা ওই দুই নারীর এই ঘটনা ওই দুই নারীর আবার মুসা আলাইহি সালামের কাছে আসার ঘটনা সেই ঘটনা আবার আসতে সূক্ষ সূক্ষ শব্দ ব্যবহার বর্ণনা করার পিছনের উদ্দেশ্য কি আপনি মনে আমার প্রশ্নটা বুঝতে পারেন মানে এত বিস্তারিত করে ঘটনাগুলো বর্ণনা করার কি দরকার মানে ওই মেয়েটা কিভাবে হেটে এসেছিল এটা আল্লাহকে বলতে হবে তার বাপের কাছে চলে গেল সহ ছিল কথাটা কিন্তু মহান আল্লাহ সে হেটে এসেছিল লজ্জার সহিত মানে সে লজ্জা পাচ্ছি ছিল মুসা আলাইহি সালামের সামনে আসতে তাহলে একজন নারীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তিনি লজ্জাশীলা হবেন আর আমাদের আজকের সমাজের যুবক শ্রেণী যেমন বেহায়া যেমন নির্লজ্য আমাদের নারীরাও আমাদের বোনেরাও ঠিক তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে নির্লজ্যতা এবং বেহায় পেছনে এগিয়ে যাচ্ছে কথাগুলো শুনতে কষ্ট লাগবে কিন্তু এটা বাস্তবতা আপনার যদি দাসত্ব করার ইচ্ছা না থাকে।
আপনার যদি গোলামী করার ইচ্ছা না থাকে তাহলে এই অভ্যাস আপনাকে পরিবর্তন করতে হবে। আপনি যদি শুধু ২০০ টাকা তেলের সমস্যার কথা আলোচনা করবেন ২০০ টাকা কেজি পিঁয়াজের সমস্যার কথা আলোচনা করবেন ৮০ টাকা কেজি চাউলের সমস্যার কথা আলোচনা করবেন আপনার উপর যে ফায়সালা দিয়ে দেওয়া হবে সেই ফায়সালা আপনি এই সুদূর সোনাতলার গ্রামের অঞ্চলে বসে থেকে গোলাম এবং দাসত্বের মত আপনি সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিবেন যদি এইটাতে আপনার কোন সমস্যা না থাকে খালা কোন সমস্যা নাই আপনার বাপ দাস ছিলেন আপনার দাদা দাস ছিলেন আপনিও দাস কোন সমস্যা নাই কিন্তু আপনি যদি মনে করেন না ওই ঢাকায় বসে থেকে কি ডিসিশন হবে আর সেই ডিসিশন সোনাতলার অজপাড়া গায়ের আমি একজন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ আমার উপর বাস্তবায়ন কেন হবে এই প্রশ্ন যদি আপনার মাথার মধ্যে জাগে তাহলে আজকেই আপনার অভ্যাস নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে আপনার মাথার মধ্যে যদি জাগে যে আমি দেশ এবং জাতির জন্য কিছু করব আপনার মাথার মধ্যে যদি জাগে যে আমি সমাজের জন্য কিছু করব তাহলে আপনাকে আগে অবশ্যই নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে।
আপনার ওই গাইবান্ধার বিশ্বরোডে বগুড়ার রাস্তায় আর আপনার এলাকার রাস্তায় মিছিল করার উদ্দেশ্য যদি এইটা হয় যে আমরা একটা ভালো নেতা চাই। সামনের উপজেলা নির্বাচনে আপনার ইচ্ছা যদি হয় মিছিল করার পেছনে যে আমরা একটা ভালো নেতা চাই তাহলে সবার আগে নিজেকে পরিবর্তন করেন। ওই মিছিল ছেড়ে দিয়ে জ্ঞান অর্জনের টেবিলে চলে যান। ওই মিছিল ছেড়ে দিয়ে হেকমা অবলম্বনের টেবিলে চলে যান। ওই মিছিল ছেড়ে দিয়ে তাকওয়া পরহেজগারিতা অবলম্বনের জায়গায় চলে যান। ওই মিছিল ছেড়ে দিয়ে মুসা আলাইহিস সালামের মত আমানতদার হয়ে যান। এইখানে এবার পরের যে কথাটা সেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মুসা আলাইহিস সালামকে যখন ডেকে পাঠালেন, মুসা আলাইহিস সালাম যখন তাদের বাসায় গেলেন তখন মুসা আলাইহিস সালামের গুণ ওই মেয়েটা বর্ণনা করতেছে।
হে আমার বাবা আপনি মুসাকে আপনার কাছে চাকরি দেন। কেন চাকরি দিবেন মুসাকে? মুসার কি এমন বৈশিষ্ট্য আছে যে মুসাকে চাকরি দিতে হবে? আমিন। মুসা হচ্ছে শক্তিশালী এবং আমানতদার। বুঝতে পারেননি মনে হয় কথা আপনার টাকা চুরি করার ক্ষমতাই নাই তো আপনি কিসের আমানতদার হবেন আপনার টাকা চুরি করার ক্ষমতা আছে তারপরেও আপনি টাকা চুরি করেননি এটা হচ্ছে আমানতদারী আপনার রাস্তায় একটা মেয়েকে উত্তক্ত করার ক্ষমতা আছে সব ক্ষমতা আছে কিন্তু ওই ক্ষমতা থাকার পরেও আপনি একটা মেয়েকে উত্তক্ত করেন নাই এটা হচ্ছে আমানত দায়িত্ব আপনার মিথ্যা কথা বলার সক্ষমতা ছিল। আপনি মিথ্যা কথা বলতে পারতেন। আপনি ধোকা দিতে পারতেন।
তারপরও আপনি ধোকা দিতে পারেন নাই। এটা হচ্ছে আমানতদারিতা। তো ওই মেয়েটা তার বাবার কাছে মুসা আলাইহিস সালামের যেই বৈশিষ্ট্যটা বলছেন সেই বৈশিষ্ট্যটা কি? যে মুসা হচ্ছে লাকবি আমিন। মুসা হচ্ছে বিশ্বস্ত এবং আমানতদার। তাহলে একজন নেতার কোর প্রাইমারি বৈশিষ্ট্যগুলোর একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যিনি জাতিকে মুক্তি দিতে চাইবেন তার বৈশিষ্ট্যগুলোর একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তিনি আমানতদার হবেন। এরপর মুসা আলাইহিস সালাম এই মাদায়ে ১০ বছর অবস্থান করলেন। ১০ বছর মানে এইটা ছিল মুসা আলাইহি সালামের জীবনের একটা পাঠশালা। কিভাবে পাঠশালা? মুসা আলাইহিস সালাম থেকেছেন তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজার রাজপ্রাসাদে। মানে সোনার চামচ মুখে দিয়ে মানুষ হয়েছেন। ওই জায়গায় মানুষ হওয়া একটা ছেলে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে এসেছে।
৬০০ কিলোমিটার দূরে মাদা এনে এসে কি করতেছে? চাকরি করে খাচ্ছে। মানে তিনি জীবনের দুইটা দৃশ্য দেখেছেন। উনি উনার জীবনে সুখ দেখেছেন এবং উনি উনার জীবনে কষ্ট দেখেছেন। তাহলে আমরা যারা সমাজকে পরিবর্তন করতে চাইবো তাদের মাঝে সুখের সময় পথভ্রষ্ট না হওয়া আর দুঃখের সময় ধৈর্য ধারণ করা এই দুইটা জিনিসই থাকতে হবে। সুখের সময় পথভ্রষ্ট না হওয়া আর দুঃখের সময় ধৈর্য ধারণ করা। এরপর যখন নির্দিষ্ট সময় হয়ে গেল তখন মুসা আলাইহিস সালাম তার স্ত্রীকে নিয়ে আবার মিশরের পথে যাচ্ছেন। এই মিশরের পথে যাওয়ার সময় মুসা আলাইহি সালাম আগুন দেখলেন। সেই আগুনের দিকে এগিয়ে গেলেন। তখন ওইখানে মুসা আলাইহিস সালামের উপর ওহী আসলো।
তখন মুসা আলাইহিস সালামের উপর ওহী আসলো যে হে মুসা তুমি এবং তোমার ভাই ফেরাউনের কাছে যাও। ফেরাউনের কাছে গিয়ে দাওয়াত দাও। তখন মুসা আলাইহিস সালাম এবং হারুন আলাইহি সালাম ফেরাউনের কাছে গেলেন। ফেরাউনের কাছে দাওয়াত দিলেন। ওই দাওয়াত ফেরাউন গ্রহণ করলো না। তখন মুসা আলাইহিস সালাম ফেরাউনকে বললেন, তুমি আমার সাথে বু ইসরাইলকে পাঠিয়ে দাও। ফেরাউন বু ইসরাইলকে পাঠাতে চাইলো না। কেননা বানু ইসরাইল হচ্ছে ফেরাউনের খাদেম। বানু ইসরাইল ফেরাউনদের খেদমত করে। তো বানু ইসরাইল যদি মুসার সাথে পাঠিয়ে দেয় তাহলে কি হবে? তাহলে তো আর তাদের খেদমত করার কেউ থাকবে না। এজন্য ফেরাউন চাইলো না মুসার সাথে বানু ইসরাইলকে পাঠাতে।
তখন মুসা আলাইহিস সালাম বানু ইসরাইলকে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। মুসা আলাইহিস সালাম যখন বানু ইসরাইলকে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন তখন পালিয়ে যাওয়ার একদম পালিয়ে যেতে যেতে উনি সমুদ্রের মুখামুখী হয়েছেন। বাহরে কুলজুমের মুখামুখি হয়েছেন বা লোহিত সাগরের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। যখন সামনে সমুদ্র আর পিছনে ফেরাউনের বিশাল সেনাবাহিনী ওই জায়গায় দাঁড়িয়ে এবার মুসা আলাইহিস সালামের কওম বানি ইসরাইল মুসা আলাইহি সালামকে বলতেছে আরে ফেরাউন তো আমাদেরকে ধরে নিল এখনতো ফেরাউন আমাদেরকে গ্রেফতার করে ফেলবে আমরা তো ফেরাউনের হাতে বন্দি হয়ে যাব সামনে ওই বিশাল সমুদ্র দেখার পরেও জানেন যেখানে কোন মুক্তির রাস্তা নাই মুসা সলাম জানেন যেখানে সেকেন্ডে ব্রিজ হভ না কিন্তু উনি কি বলছেনলা কষনো না নিশ্চয় আমার প্রতিপালক আমাকে পথ দেখাবে আপনি পারবেন এরকম অসহায় মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আপনার প্রতিপালকের উপর দঢ অবিচল বিশ্বাস রাখতে আচ্ছা আরো একটা ঘটনা বলি আগের ঘটনা মুসা আলাই সালাম যখনই বিপদের সামনে দাঁড়ালেন তখন উনি বলছেন যে কষনো ফেরাউন আমাদেরকে গ্রেফতার করতে পারবে না।
আল্লাহ আমাদেরকে মুক্তি দিবেন। এই ঘটনা উনার জীবনে আরো একবার ঘটেছিল। যখন উনি কিবতিকে হত্যা করলেন দিয়ে উনি যখন পালিয়ে মাদায়েন যাচ্ছিলেন তখন উনি মহান আল্লাহতালাকে কি বলছিলেন? তখন উনি বলছিলেন উনি ভীত সন্তুষ্ট ছিলেন। তখন উনি বলছিলেন য আশা করা যায় যে আমি আমার প্রতিপালকের কাছে আশা করছি যে তিনি আমাকে পথ দেখাবে। একটা হচ্ছে ১০ বছর আগের বাক্য আরেকটা হচ্ছে ১০ বছর পরের বাক্য মানে ১০ বছর আগের বাক্য হচ্ছে আসার আশা করছি আমার প্রতিপালকের কাছে যে উনি পথ দেখাবেন আর ১০ বছর পরের বাক্য কি কাললা কষণ না অবশ্য অবশ্যই আমার প্রতিপালক আমাকে পথ দেখাবেন আপনি কি দুইটা বাক্যের মাঝে পার্থক্য বুঝতে পারতেছেন মানে এই দুইটা এই ১০ বছরে মুসা আলাইহি সালামের বিশ্বাস তার রবের প্রতি কোথায় গেছে তাহলে যিনি নেতা হবেন তিনি তার কওমকে মুক্তি দিতে চাইবেন।
তিনি সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিপদের মুখে দাঁড়িয়েও কি বলবেন? যে আমি আমার রবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করি। তিনি আমাকে আমার এই বিপদ থেকে উদ্ধার করলে। আর আমাদের নেতারা বিপদে পড়লে কি করে? কমপ্রমাইজের রাস্তা খুলে। দ্বীনি কমপ্রমাইজ তো দূরে থাক। দুনিয়াবী বিষয়েও কমপ্রমাইজ করে। ধরেন কথার কথা আগামীকাল যদি আওয়ামী লীগ চলে আসে না বাংলাদেশে দেখবেন যে বাংলাদেশের সব বড় বড় বিএনপির নেতারা টাকা দিয়ে আওয়ামী লীগের সাথে লিয়াজু করে ফেলেছে। ঠিক যেভাবে আওয়ামী লীগের নেতা শেখ হাসিনার পতনের পরে বিএনপির নেতাদের সাথে লিয়াজু করেছে। তো এদের তো দুনিয়ার ক্ষেত্রেই আত্মমর্যাদা নাই। এরা দুনিয়ার ক্ষেত্রে নিজের দলের প্রতি সংবেদনশীল না। এরা দুনিয়াতেই নিজের দলের প্রতি নিজেদের যে আত্মমর্যাদা বজায় রাখার কথা সে আত্মমর্যাদা বজায় রাখে না।
টাকা দিয়ে বিএনপির গোলাম হয়ে গেছে। দুইদিন পরে আওয়ামী লীগ আসলে বিএনপি টাকা দিয়ে আওয়ামী লীগের গোলাম হয়ে যাবে। তো যাদের দুনিয়ার ক্ষেত্রে আত্মমর্যাদা নাই তারা কোনদিন জাতিকে মুক্তি দিতে পারে। তারা কোনদিন জাতিকে মুক্তি দিতে পারবে না এবং তাদের মাধ্যমে কোনদিন জাতির মুক্তি হবে না এটা আপনি লিখে রাখেন কেন আপনাদের বিশ্বাস হচ্ছে না যখন ২৪ এর পাই আগস্ট শেখ হাসিনার পতন হল তখন এই বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজ যে আশা দেখেছিল সেই আশার একটা ধুলিকনাও পূরণ হয়েছে হয় না হবে না কেন রক্তে দাসত্ব আছে রক্তে গোলাম আছে এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রত্যেক শিক্ষিত ছেলেকে গোলাম করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
যেই ছেলের আজাদ মানসিকতা নিয়ে বেড়ে ওঠার কথা ছিল, যেই যুবকের আত্মমর্যাদা নিয়ে বেড়ে ওঠার কথা ছিল, যেই যুবকের স্বাধীন চিন্তা নিয়ে বেড়ে ওঠার কথা ছিল, ওই যুবক বড় হয়েছেন বড় ভাই করে। বড় ভাইকে রাস্তায় ছেলে কি শিখবে? গোলাম শিখে বড় আমি আরো দেখাই যখন মুসা আলা সালাম তার অবিচল বিশ্বাসের জায়গা থেকে বললেন যে প্রতিপালক আমাকে পথ দেখাবেন। তখন মহান আল্লাহ তাআলা মুসা আলাইহি সালামকে বললেন যে তুমি তোমার লাঠি সমুদ্রের মধ্যে মারো। সমুদ্রের মধ্যে দিয়ে রাস্তা হয়ে গেল। মুসা আলাইহিস সালাম পার হয়ে গেলেন। তারপরে মুসা আলাইহিস সালাম এবং তার পুরো কওম ফেরাউনের কাছ থেকে মুক্তি পেয়ে নিলেন।
তারপরে মুসা আলাইহিস সালাম এবং ফেরাউন মুসা আলাইহি সালাম এবং তার কওম বানু ইসরাইলের মাঝে অসংখ্য ঘটনা আছে। আমি সেই সমস্ত ঘটনার কথা বলছি না। তো মুসা আলাইহিস সালামকে পাঠানোর প্রথম উদ্দেশ্য ছিল যে আল্লাহ তালা বানু ইসরাইলকে মুক্তি দিবেন। সেটা আমরা ঘটনার প্রথমে বলেছি। তাহলে যখনই সমুদ্র মুসা আলাইহি সালাম পার হয়ে গেলেন তাহলে প্রথম উদ্দেশ্য কি হয়ে গেল? পূর্ণ হয়ে গেল। ইসরাইল মুক্তি পেয়ে গেল। এরপরের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য কি? এরপরের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে ইয়া কমি। মুসা আলাইহি সালাম তার কওমকে দীর্ঘদিন পরে তার কমকে বলছেন হে কম তোমরা সবাই আর মুকাদ্দাসা মানে ফিলিস্তিনে প্রবেশ কর।
তো মুসা আলাইহিস সালাম যখন তার কওমকে বলছেন যে তোমরা ফিলিস্তিনে প্রবেশ করো তখন মুসা আলাইহিস সালামের কওম মুসা আলাইহিস সালামকে উদ্দেশ্য করে কি বলছেন? মুসা আলাইহিস সালাম যখন তার কওমকে বললেন যে হে কওম তোমরা চলো আমার সাথে আমরা বাইতুল মাকদাস জয় করি বাইতুল মাকদাসে আমরা প্রবেশ করব তখন মুসা আলাইহি সালামের কম বলছে আমরা কখনোই ওই শহরে প্রবেশ করব না কেননা সেখানে কি আছে শক্তিশালী দল আছে যাদের অনেক ক্ষমতা আছে প্রতাপ আছে তখন আল্লাহতালা এবার আবার বলছে তোমরা শুধু দরজা দিয়ে প্রবেশ কর্ললা আল্লাহতালা তোমাদেরকে বিজয় দিয়ে দিবেন। এই ঘটনাটা একটু বোঝা। মুসা আলাইহি সালামের প্রথম উদ্দেশ্য পূরণ হয়ে গেছে।
বান ইসরাইল ফেরাউন থেকে মুক্তি পেয়েছে। এখন দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে বাইতুল মাকদাস জয় করা। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে বাইতুল মাকদাস জয় করা। তো দ্বিতীয় উদ্দেশ্য পূরণ করার জন্য মুসা আলাইহি সালাম মাঝখানে লম্বা সময় নিয়েছেন। লম্বা সময় অতিবাহিত হওয়ার পরে মুসা আলাইহিস সালাম বানু ইসরাইলকে উদ্দেশ্য করে বলছেন চল আমরা বায়তুল মাকদাস জয় করি। তো বানু ইসরাইল কি বলছে? আমরা যাব না কেননা ওখানে কমান জাব্বারিন ওখানে একটা শক্তিশালী দল থাকে শক্তিশালী একটা দেশ আছে শক্তিশালী একটা সরকার আছে ওখানে আমরা ওখানে যাব নাতো তাদের এই কথার জবাবে আবার আল্লাহতালা বলছে আরে তোমরা শুধু যাও না তোমরা শুধু দরজা দিয়ে প্রবেশ করবা আর আমি তোমাদেরকে বিজয় দিয়ে দিব আপনি কি জিনিসটা কল্পনা করতে পারেন মানে তোমরা শুধু দরজা দিয়ে প্রবেশ করবা আর আমি তোমাদেরকে বিজয় দিয়ে দিবস কি বলল আমরা কখনোই ওই শহরে প্রবেশ করবো না।
হে মুসা তুমি এবং তোমার আল্লাহ যাও। তুমি এবং তোমার আল্লাহ গিয়ে ওই বায়তুল মাকদাস জয় করো তারপরে আমরা প্রবেশ করব। কত ভয়ঙ্কর কথা। এই ভয়ঙ্কর কথাটা বানু ইসরাইল কেন বলল বলেন তো? এই ভয়ঙ্কর কথাটা বানু ইসরাইল বলল যে ফেরাউনের গোলামী করতে করতে দাসত্ব করতে করতে এদের ব্যক্তিত্ব এত আত্মমর্যাদা সব নষ্ট হয়ে গেছে। ঠিক যেভাবে দীর্ঘদিন ২০০ আশ বছর ব্রিটিশদের রাজত্ব করতে মানে ব্রিটিশদের দাসত্ব করতে করতে গোলামী করতে করতে আমাদের আত্মমর্যাদা নষ্ট হয়ে গেছে। এইজন্য আমরা স্বাধীন চিন্তা করার চাইতে আরেকজনের আন্ডারে থাকতে ভালোবাসি। নিজে জাতির মুক্তির চেষ্টা করার চাইতে আরেকজনের পা চাপতে আমরা পছন্দ করি। কেননা আমরা বিগত ২০০ ২৫০ বছর যাবত ব্রিটিশদের গোলামী করেছি।
ওই গোলামর রক্ত আমাদের ভেতরে আসে। যদি কারো কোন সময় ইতিহাস জানার দরকার হয় তাহলে ইবনে খালদুন রাহমা্লাহ বিখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ইবনে খালদুন রাহ্লাহ তার কিতাব মুকাদ্দামা ইবনে খালদুনের মধ্যে এই পূর্ণ কথা উনি আলোচনা করেছেন যে দাসত্বের মাধ্যমে একটা জাতি কিভাবে প্রভাবিত হয়। তো বন ইসরাইলদের মত আজকে আমাদের অবস্থা। তো বন ইসরাইল মুসাকে বলছে যে তুমি যাও এবং তোমার আল্লাহ যাও যে যুদ্ধ কর ভয়ঙ্কর কথা আমরা হয়তো কোনদিন বলব না তখন মুসা আলাই সালাম কি বললেন হে আল্লাহ আপনি আমার মাঝে এবং আমার কওমের মাঝে পার্থক্য করে দেন তখন মহান আল্লাহ তালা বানু ইসরাইলকে তিহ প্রান্তরে ৪০ বছর যাবত পাগলের মত রেখে দিলেন।
ওরা তিহ প্রান্তরে ৪০ বছর যাবত পাগলের মত ঘুরতে থাকল। এই ৪০ বছরের মধ্যে মুসা আলাইহিস সালাম মারা গেলেন। মুসা আলাইহিস সালামের জীবনের খুব বড় স্বপ্ন ছিল যিনি বাইতুল মাকদাস জয় করবেন। এইজন্য উনি উনার জীবনের শেষ মুহূর্তে কঙ্কর নিক্ষেপ করেছিলেন। যেন উনার শরীরটাকে বাইতুল মাকদাসের একটু নিকটে গিয়ে মানে যতটুকু নিকটে হয় দাফন করা যায়। মানে উনার জীবনের একটা শখ ছিল। একটা স্বপ্ন ছিল যে উনি বায়তুল মাকদাস জয় করবেন। কিন্তু উনি বায়তুল মাকদাস জয় করতে পারেন নাই। এই তিহ প্রান্তরে বু ইসরাইলেরা ৪০ বছর যাবত ঘরে। এই সময়ের মধ্যে মুসা আলাইহিস সালামের ভাই হারুন আলাইহিস সালাম মারা যায় এবং তাদের মারা যাওয়ার সাথে বানু ইসরাইলের যে মূল বংশধর ছিল সেই পুরো বংশধর শেষ হয়ে যায়।
পুরো জেনারেশন শেষ হয়ে যায়। পরবর্তী যে নতুন জেনারেশন আসে ওই জেনারেশনকে নেতৃত্ব দেয় মুসা আলাইহিস সালামের শিষ্য ইউবিন আর সে নেতৃত্ব দিয়ে নিয়ে গিয়ে বাইতুল মাকদাস জয় করে। তাহলে আপনি দেখেন মুসা আলাইহিস সালামকে পাঠানোর আগে মহান আল্লাহ তালা স্বপ্ন দেখেছিলেন যে বানু ইসরাইলকে মুক্তি দিবেন। তো বানু ইসরাইলকে মুক্তি দিয়ে বাইতুল মাকদাস পর্যন্ত পৌঁছাতে দীর্ঘ আমি যদি জাস্ট কোরআন হাদিসের সংখ্যা না। কিন্তু আমি যদি জাস্ট এমনি সামারি করার চেষ্টা করি তাহলে কত বছর সময় লেগেছে? প্রায় ৮০ বছর বা ৯০ বছরের মত সময় লেগেছে। বানি ইসরাইলকে ফেরাউনের হাত থেকে মুক্তি করে বাইতুল মাকদাস পর্যন্ত পৌঁছাতে ৮০ থেকে ৯০ বছরের মত সময় লেগেছে।
আর এই ৯০ বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে অংশটা যে যেই জেনারেশন গোলামী এবং দাসত্বতে অভ্যস্ত ছিল তারা যখন সমাজ সংস্কারের মাধ্যমে পরিবর্তন হয় নাই তখন তারা শেষ হয়ে গেছে। নিঃশেষ হয়ে গেছে। ওই নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পরে নতুন কওম এবং নতুন জাতিকে সংস্কার করে ইউশাবিন নুন বায়তুল মাকদাস জয় করার জন্য নিয়ে গেছেন। তাহলে এই অংশের শেখার কি? এই অংশের শেখার হচ্ছে আজকেও যদি আমরা আমাদের সমাজকে পরিবর্তন করতে চাই তাহলে বিষয়টা এরকম না যে আজকে বাংলাদেশে একটা ইলেকশন হলো। ভোটাঘটি হলো। সেই ইলেকশনে আমি মন্ত্রী হলাম। সেই ইলেকশনে আমি প্রধানমন্ত্রী হলাম। আর বাংলাদেশের ক্ষমতায় বসে গেলাম। আর সারা বাংলাদেশকে আমি একদিনে পরিবর্তন করে দিলাম।
এ সম্ভব না। এটা অলিক স্বপ্ন। যদি একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব হতো তাহলে তো মুসা আলাইহি সালাম ফেরাউনের হাত থেকে পালানোর পরেই মুসা আলাইহি সালাম ইসরাইলের শাসক। ইসরাইলের নেতা। তো মুসা আলাইহি সালাম ইসরাইল যেটা বলবে সেটাই হবে। কিন্তু সেটা তো হয় নাই। তাহলে আমরা যদি কেউ এই সমাজকে পরিবর্তন করার স্বপ্ন দেখি তাহলে এই স্বপ্নের প্লাানটা হতে হবে ৮০ ৯০ বছরে। এবং এই পুরো প্লাানের প্রথম স্তর হচ্ছে সমাজ সংস্কারের প্লাান। আর এইটার দ্বিতীয় স্তর হচ্ছে যে এই পুরো এই সমাজের যুবক শ্রেণীকে শিক্ষিত হতে হবে। তৃতীয় স্তর হচ্ছে যে এই যুবক শ্রেণীর যে সমস্ত নারীরা স্ত্রী হবেন তারা পূতা পবিত্র হবেন।
চতুর্থ যে জিনিসটা হবে সেই জিনিসটা হচ্ছে তাদের মাঝে আমানতদারিতা থাকবে। পঞ্চম যে জিনিসটা হবে তাদের মাঝে তাকওয়া পরহেজগারিতা আল্লাহ ভীতি থাকবে। এই সকল কিছু যখন একত্রিত হবে তখনই শুধুমাত্র একটা জাতিকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব। আর এই জাতির মুক্তির দায়িত্ব আজকের এই বৃদ্ধদের হাতে নয়। এই জাতির মুক্তির দায়িত্ব যাদের বয়স ৪৫ ৫০ বছর হয়ে গেছে তাদের হাতে নয়। এই জাতির মুক্তির দায়িত্ব হচ্ছে আজকে যাদের বয়স ১৬ থেকে নিয়ে ৩৫ এর মধ্যে।
সুতরাং যারা যুবক আছেন তারা এইটা মনে করিয়েন না যে আপনি শুধু গোলাম হবেন দাস হবেন আমার কথা হচ্ছে দেখেন যদি আপনি জীবনে কিছুই না হতে পারেন অন্তত গোলামী এবং দাসত্বের বাইরে গিয়ে একটু বড় স্বপ্ন দেখেন একটু বড় স্বপ্ন দেখেন এই দাসত্বের এবং গোলামর চিন্তা মাথা থেকে ছেড়ে ফেলে দেন মহান আল্লাহ তালা যেন আমাদেরকে গোলামী এবং এই দাসত্বের চিন্তা থেকে মুক্ত থাকার তৌফিক দান করে এবং আমাদের যুব সমাজকে মুসা আলাইহি সালামের মত হওয়ার তৌফিক দান করেন এবং আমাদের বাবাদেরকে মূসা আলাইহিস সালামের মত সন্তান প্রতিপালন করার প্রতি উৎসাহিত করেন সেটার তৌফিক দান করেন। আল্লাহুম্মা আমিন।