লোড করা হচ্ছে ...

খুতবার বিষয়: মহান আল্লাহ সম্পর্কে ১০টি ভ্রান্ত বিশ্বাস

মহান আল্লাহ সম্পর্কে ১০টি ভ্রান্ত বিশ্বাস



আলহামদুলিল্লাহ আমরা আল্লাহ সুবহানা তাআালার প্রশংসা জ্ঞাপন করছি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা অনাদি অনন্ত যিনি এই বিশাল আকাশের মালিক এই বিস্তীর্ণ জমিনের মালিক যিনি এই আকাশ পৃথিবী এবং তার সৃষ্টিজীবকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন এবং আরশে সমুন্নত হয়েছেন যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে তার ইবাদত জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং সৎ নেককার ঈমানদার বান্দাদের জন্য জান্নাতের ব্যবস্থা করেছেন সে আল্লাহর জন্য প্রশংসা আলহামদুলিল্লাহ দরুদ এবং সালাম বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবীর প্রতি যাকে আল্লাহ সুবহানাতালা শ্রেষ্ঠ নবী করে পাঠিয়েছেন এবং সার্বিক বিষয়ে আমাদেরকে দিক নির্দেশনা দেওয়ার জন্য তাকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি আমাদেরকে আকিদা শিক্ষা দিয়েছেন আমল শিক্ষা দিয়েছেন আখলাক মমালাত শিক্ষা দিয়েছেন। সেই রাসূলের জন্য অযুত দ্বারায় বর্ষিত হোক শান্তির বাণী।

                                                           

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলাইহি। আল্লাহুম্মা বারিক আলাইহি। সম্মানিত জুমা জামাতের উপস্থিত মুসল্লিয়ানে কেরাম মানুষের বিশ্বাস অনুযায়ী তার কর্ম পরিচালিত হয়। মানুষ যা আকিদা লালন করে সেই অনুযায়ী তার আমল হয়। যারা হিন্দু ধর্মের আছেন তারা দেখবেন তাদের নিজ হাতেই মূর্তি তৈরি করেন এবং সেইটাতে তারা রংকালি করেন করে ওইটারই আবার পূজা করেন। ওইখানেই তারা সাহায্য চান। এটাই তাদের আকিদা। তাদের বিশ্বাস যে এই মাধ্যমে পূজা আর্চনা করলেই তাদের কল্যাণ হবে। কেউ আবার দেখবেন ঈসা আলাইহি সালামের এক মূর্তির মত ছবি টানিয়ে রাখছেন। ওইখানেই পূজা করতেছেন। কেউ হয়তো সূর্যর পূজা করতেছেন। কেউ গাছ মাছের পূজা করতেছেন। মুসলিমদের মধ্যে যে যেই আকিদা ধারণ করেন সে ওই বিশ্বাসই করেন ওইভাবেই আমল করেন।

                                                           

যারা বিশ্বাস করেন যে আজকে শুক্রবার দিন আগে আগে মসজিদে আসতে হবে। খুতবার আগে আসলেই সওয়াব কাউন্ট হবে। তারা আগে আসছেন। আবার যারা বিশ্বাস করেন যে আসলেই হলো একসময় আসলেই হবে। তা তারা তখন আসবেন। আবার অনেকেই দেখবেন যে না আসলে সমস্যা কি? তারা আবার হয়তো আসবেনই না। এই যে মানুষের কর্মের ভিন্নতা এগুলি মূলত তার বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে। বিশ্বাস যার যত মজবুত, বিশ্বাস যার যত শুদ্ধ এবং বিশ্বাস যার যত সহিহ হবে তার কাজঅক্টিভিটিস আমলগুলি ওইভাবে হবে।

                                                           

তো আমাদের সমাজে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সম্পর্কে আমাদের বিভিন্ন বিশ্বাস রয়েছে যে যার অনেক বিশ্বাসগুলি কোরআন এবং হাদিসের বিপরীত এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালাকে যেরকম সম্মান দেওয়া দরকার যেরকম মর্যাদা দেওয়া দরকার অনেক সময় দেখা যায় যেমন ইবাদতের ক্ষেত্রে আমরা অনেক সময় মর্যাদা দিতে পারি না যে আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যকে সিজদা করতেছে আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যকে ডাকতেছে আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যের কাছে সাহায্য চাচ্ছে আমলগতভাবে যেভাবে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার নাফরমানি করা হচ্ছে অসম্মান করা হচ্ছে অনুরূপভাবে আকিদাগতভাবেও আল্লাহ সুবহানাতায়ালাকে বিভিন্নভাবে আপনার অসম্মান করা হয়। যেটা আল্লাহর শানে যায় না। আল্লাহর শানে যেটা মানায় না। আমাদের মুসলিম সমাজে এরকম অনেক আকিদা রয়েছে। তা আজকে আমরা আল্লাহ সুবহানাতালা সম্পর্কে ভ্রান্ত আকিদা।

                                                           

এ বিষয়ে আমরা কিছু কথা বলব। তাওফিক ইল্লাল্লা বিল্লাহ আলাইহি তাওয়াকাল। মহান আল্লাহ সুবহানাতালা কোরআনের তিন জায়গায় একটা কথা বলেছেন সেটা হল সূরা আনআমের মধ্যে, সূরা হজ্জের মধ্যে এবং সূরা জুমারের মধ্যে সূরা জুমারের ৬৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলতেছেন যে মানুষ আল্লাহকে যথাযথ মর্যাদা দিতে পারে না। কদর করতে পারে না। আল্লাহর যেরকম মর্যাদা, আল্লাহর যেরকম সম্মান, আল্লাহর যেরকম ইজ্জত এটা মানুষ যথাযথভাবে দিতে পারে না। য়ামা কেয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী আল্লাহর কবজার মধ্যে থাকবে। তাইলে এ আয়াত দ্বারা বোঝা যায় যে কিয়ামত একদিন সংঘটিত হবে। এবং এই যে পৃথিবী আমরা দেখতে পাচ্ছি কত বড় পৃথিবী। এটা আল্লাহ সুবহানাতালার হাতের মুষ্টির মধ্যে থাকবে।

                                                           

কিভাবে থাকবে আল্লাহ ভালো জানেন। এইযে আল্লাহ সুবহানাতালা সম্পর্কে তিনি নিজে বলতেছেন। ও সামাওয়াতুবিয়া আর এই যে সাত আকাশ এই সাত আকাশকে আল্লাহ সুবহাতালা গুটিয়ে নিবেন অন্য আয়াতে আল্লাহ বলছেন একজন পাঠক যেমন পড়ার সময় কিতাবটাকে খোলে ফেলে আবার পড়া শেষ হলে কিতাবটাকে বন্ধ করে বাজ করে রাখে তা আল্লাহ সুবহানাতালা কেয়ামতের দিন এই সাত আকাশকে বাজ করে নিবে এবং এটা তার ডান হাতের মধ্যে থাকবে। তাইলে আল্লাহ সুবহানাতালা হাতের কথাও এখানে বলেছেন। ও সুবহানাহু তাআলা আম্মাশিন। কিন্তু আল্লাহ পবিত্র কিন্তু অনেক মানুষই তার সাথে শিরিক করে থাকে। তো সম্মানিত উপস্থিতি আমরা আল্লাহ সুবহানাতালার সম্মান আমরা অনেকাংশে দিতে পারি না।

                                                           

অনেক সময় তাকে আল্লাহ সুবহানাতালা সম্পর্কে এমন আকিদা আমরা ধারণ করি যেই আকিদাটা তার শানে মানায় না। এইরকম দশটা ভ্রান্ত আকিদা আমরা আজকে আপনাদের সামনে উল্লেখ করব। প্রথম যে ভ্রান্ত আকিদা আল্লাহ সম্পর্কে আমাদের সমাজে সেটা হল আল্লাহর নাম নিয়ে আমরা অনেকে আল্লাহকে খোদা বলে ডাকি। অনেকে ভগবান বলে ডাকে অনেকে ঈশ্বর বলে ডাকে অনেকে গড বলে ডাকে এবং আমরা মনে করি সবই সমান আল্লাহ বললেও হয় খোদা বললেও হয় আমরা খোদা হাফেজ বলে দিচ্ছি কিন্তু আল্লাহ সুবহাতালা এ ব্যাপারে কঠোরতা আরোপ করেছেন তিনি বলেন ওলিল্লাহিল আসমাউ হুসনা আল্লাহ সুবহানাতায়ালার রয়েছে সর্বোত্তম নাম হুসনা সুন্দর নাম রয়েছে তোমরা তাকে ওই নামগুলিতেই ডাকো সূরা আরাফের ১৮০ নম্বর আয়াত আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নাম রয়েছে।

                                                           

এখন দেখেন আপনার একটা সুন্দর নাম আছে। আপনার আব্বা আম্মা দিয়েছে অথবা আপনি পছন্দ করেছেন। আপনার আইডি কার্ডে লেখা আছে সার্টিফিকেট আছে। কিন্তু আপনাকে মানুষ ওই নামে না ডেকে যদি অন্য একটা নামে ডাকে যেটা আপনার শানে মানায় না। আপনার শানে এটা উপযুক্ত না। তাহলে নিঃসন্দে আপনি অকশু হবেন। এবং অনেক সময় দেখা যায় নামের স্পেলিংও যদি ভুল হয় কেউ হয়তো দীর্ঘকার দিয়ে লেখে রসিককার দিয়ে লেখছেন অথবা স এর ক্ষেত্রে তালিবাস মদিনাস যদি চেঞ্জ হয় তাও মানুষ রেগে যায় আমার তো নাম এভাবে না অথচ উচ্চারণে হয়তো চেঞ্জ হচ্ছে না কিন্তু আল্লাহ সুবহানাতাালার ক্ষেত্রে আমরা কি করি খোদা বলে দিচ্ছি কিন্তু আল্লাহ খোদা নাম রাখেন নাই আল্লাহ সুবহানাতালার জাতি নাম হল একটা যেটার একবচন নেই বহুবচন নেই পুরুলিঙ্গ নেই স্ত্রীলিঙ্গ নেই এবং এটার কোন অনুবাদ নেই যে এটাকে আপনি যে যেই ভাষায় বলেন না কেন এটা আল্লাহই বলতে হবে আল্লাহর অনুবাদ ইংরেজি কি হয় বলা যাবে না আরবিতে কি

                                                           

হয় বাংলায় কি হয় অন্য ভাষায় কি হয় এটা বলা যাবে না এজন্য আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে যে আল্লাহকে আল্লাহ নামেই ডাকতে হবে এবং তার অধিক অনেক গুণবাচক নাম রয়েছে প্রসিদ্ধ ৯৯ টা নাম হাদিসে আসছে রহমান রাহিম মালিক এভাবে অনেকগুলি প্রসিদ্ধ নাম রয়েছে গুণবাচক নাম কিন্তু তার মূল নাম হলো আল্লাহ তা আল্লাহ সুবহাতালা বলছেন যে তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো অথবা রহমান নামে ডাকো তার অনেক সুন্দর সুন্দর নাম রয়েছে সুতরাং নামের ক্ষেত্রে আমাদের বিশ্বাস হবে যেযে খোদা বলি ভগবান বলি গড বলি এগুলো আল্লাহর সমকক্ষ না এগুলিকে আমাদের বাদ দিতে হবে দুই নম্বর যে ভ্রান্ত আকিদা আমাদের সমাজে আসে সেটা হল ওয়াহদাতুল উজুদের আকিদা ওয়াহদাতুল উজুদ কি? ওয়াহদা মানে এক একক।

                                                           

আল উজুদ মানে অস্তিত্ব। তো যেমন আল্লাহর সাব কালেমায় তাওকি দিয়ে আমরা বলে থাকি ওয়াহদাহু লা শারিকালাহ। মানে আল্লাহ কি একক। তো ওয়াহদা ওয়াহদাতুল উজুদ হলো যে যত অস্তিত্ব আছে যত সৃষ্টি আছে আল্লাহর সকল সৃষ্টির এবং আল্লাহ সুবহানাতালা এর অস্তিত্ব এক মানে হল যে আল্লাহ সুবহানাতালা লাশাইউন ইল্লাল্লাহ মানে আল্লাহ ছাড়া কোন কিছুই নাই। আমরা যা দেখি সবগুলির মধ্যেই আল্লাহ আছে। যেমন তারা বলে থাকেন যেমন ধরেন মানুষের শরীর আপনার শরীর আপনার শরীরের মধ্যে হাত আছে, পা আছে, চোখ আছে, নাক আছে, কিডনি আছে, ফুসফুস আছে। কিন্তু রুহুটা কই? রুহুটা কিন্তু সব জায়গায় আছে। আমরা যখন রুহুটা যখন চলে যাবে তখন মানুষের হাত, পা সবই থাকবে।

                                                           

তখন একটা মানুষ এখনই সে অফাত হয়েছে মারা গেছে তার তো সবই আছে কিন্তু নাই কি রুহুটা নাই তো রুহুটা না থাকার কারণে তার চোখ খুলতেছে না হাত নড়াচড়া করতেছে না পা কাজ করতেছে না তো তারা বলতে চাচ্ছে যে মানুষের শরীরের সাথে রুহের কেমন সম্পর্ক সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর এরকম সম্পর্ক নাউজুবিল্লাহ মানে আল্লাহকে আমরা দেখা যায় না কিন্তু তিনি তো আছেন এটা মনে বলতেছেন এবং এই যে আমরা বলি যে আল্লাহ সুবহানাতালা বিভিন্ন রূপে আসেন হ্যাঁ যেমন ধরেন আপনার যেটা হিন্দু ধর্মের আকিদা সর্বেশ্বরবাদ হিন্দু ধর্মের একটা আকিদা আছে সর্বেশ্বর সর্বেশ্বর মানে সবকিছুতে ঈশ্বর এই আকিদা এ মুসলিমদের মধ্যে ঢুকে পড়েছে তারা বলে সবকিছুতে আল্লাহ সুবহানাতালা আছেন এবং দেখবেন একটা গান বা ইসলামী সংগীত নামে চালায় দেয় হাসবি রব্বি জাল্লাল্লাহ মানে আমার জন্য আল্লাহ যথেষ্ট।

                                                           

ঠিক আছে? এরপরে বলি কি? মাফি গাইরুল্লাহ। আমার অন্তরে আল্লাহ ছাড়া আর কিছু নাই। মানে আমার অন্তরে আল্লাহ মওজুদ আছে। লা মাওজুদা ইল্লাল্লাহ। এমন কোন কিছু নাই। মওজুদ নাই। আল্লাহ যেখানে নাই। এইগুলি যদি আপনার আল্লাহর অস্তিত্ব মনে করেন যে এখানে আছে আল্লাহর জ্ঞান আছে আল্লাহর এলেম আছে আল্লাহর কুদরত আছে আল্লাহ সব জায়গায় আল্লাহ আছেন কিভাবে আল্লাহর এলেম আছে আল্লাহর শক্তি আছে আল্লাহর দৃষ্টি আছে আল্লাহর শ্রবণ শক্তি আছে মানে আপনি কি বলেন সব শুনতেছেন কি করতেছেন সব দেখতেছেন কিন্তু আল্লাহ তো এখানে নেই অস্তিত্বের দিক দিয়ে আপনি যদি মনে করেন যে সব জায়গায় আল্লাহ আছে তাইলে এটা ওয়াহদাতুল অজুদের আকিদা এই আকিদা ঠিক না।

                                                           

যেমন আমাদের বাংলায় একটা গানে বলে না যে এই যে দুনিয়া কিসের লাগিয়া পরে এক পর্যায়ে বলে কি যে তুমি সর্প হইয়া ধ্বংস করো। ওজা হইয়া জার মানে তুমি সর্প তুমি ওজা তুমি পুলিশ হইয়া মানে এারেস্ট কর আবার উকিল হয়া ছাড়। পুলিশ আবার সেই উকিল সব একই সম্মানিত উপস্থিতি এই আকিদা যারা বিশ্বাস করে এটা হল আপনারদের আকিদা। যেটা হিন্দু ধর্ম থেকে আসছে সর্বেশ্বরবাদ সব জায়গায় ঈশ্বর আছে এইটা ইসলামী আকিদা নয় বরং আল্লাহ সুবহানাতালাকে আপনি অপমান করা হয় এর মাধ্যমে বরং আল্লাহ সুবহাতালা আসেন তিনি আরশের উপরে আছেন আল্লাহ সাত আকাশ এবং সাত জমিন রাস বলেছেন তোমাদের সামনে একটা প্লেটে যদি সাতটা ভাত রাখলে যেরকম কাছে মনে হয় না আল্লাহ সুবহা এর চেয়ে আরো কাছে আল্লাহ সলা কিন্তু এর মধ্যে আল্লাহ সুবহাতাার অস্তিত্ব ওজুদ তার সত্যাগত দিক এখানে রয়েছেন এটা বলা ঠিক হবে না এটা শুদ্ধ আকিদা নয় তিন নম্বর যে ভ্রান্ত আকিদা আমাদের মুসলিম সমাজে ঢুকে পড়েছে সেটা হল হুলের আকিদা হুল মানে কি হুল মানে সৃষ্টির মধ্যে মিশে যাওয়া বিশ্বাস করে তারা কেউ কেউ এরকম বিশ্বাস করে যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তার কিছু কিছু সৃষ্টির সাথে তিনি মিশে যান।

                                                           

কিরকম? যেমন ধরেন এক গ্লাস পানি। একদম পানি স্বচ্ছ পানি। এই পানির মধ্যে যদি আপনি এক চামচ চিনিস দেন তাইলে চিনিটা দেখবেন একটু পরে পানির সাথে মিশে গেছে। পানি আর চিনি আলাদা করা যাবে। বাস্তবে এখন আলাদা করতে পারতেছেন না আপনি। কিন্তু চিনি তো আছে এখানে পানির মধ্যে। তারপরে আপনি যদি আবার একটা টি ব্যাগ দেন রং চা হয়ে গেছে। এরপর যদি আরেকটু দুধ দিয়ে দেন দুধ চা হয়ে গেছে। তহলে এখানে দুধ আছে, পানি আছে, চিনি আছে, আপনার মানে চায়ের লিগার আছে। কিন্তু সবগুলি কি করছে? একসাথে মিশে গেছে। তো তারা মনে করেন যে হুল হলো এরকম যে স্রষ্টা আল্লাহ সুবহানাতালা তার কিছু কিছু প্রিয় বান্দার সাথে কখনো কখনো মিশে যেতে পারেন।

                                                           

নাউজুবিল্লাহ। এবং এই আকিদা শুধু মানে মুসলিমদের এ আকিদা আসছে কোত থেকে? খ্রিস্টানদের থেকে। যেমন খ্রিস্টানরা মনে করে যে ঈসা আলাইহি সালাম ঈসা আলাইহি সালামের মধ্যে আল্লাহ মিশে গেছেন। মারিয়ম আলাইহি সালামের সাথে আল্লাহ মিশে গেছেন। তারা তিন খোদার দাবি করে। কিন্তু একজন তো ইলা তিনজন আবার একজন। মানে তিনজন আবার এটা একজনই। মানে তিনজনের মধ্যে আল্লাহ সুবহাতালা চলে আসছেন দুইজনের মধ্যে। শিয়ারাও এরকম ভ্রান্ত আকিদা ধারণ করেছে। তারা মনে করছে যে আলী রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুর মধ্যে আল্লাহ অবতরণ হয়েছেন। ওযে হিন্দু ধর্মের যে অবতারবাদ অবতার মানে স্রষ্টা নেমে আসে। এইযে কয়দিন পরে দেখবেন আপনার পূজা শুরু হচ্ছে। দুর্গাপূজা তারা কি করবে? আগে মূর্তি বানাবে।

                                                           

বানানোর পরে তারা বলবে যে এত তারিখে স্বর্গ থেকে আসবেন। এসে তারপরে তিনি আবার চলে যাবেন। যখন চলে যায় তখন তারা কি করে? মূর্তি ভেঙ্গে আবার নদীতে ফালায় দেয়। এটা তাদের আকিদা। তারা বিশ্বাস করে তারা কাজ করে সেটা তাদের বিশ্বাস। কিন্তু আপনি একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আপনার তো আকিদা থাকার কথা না। যে আল্লাহ সুবহাতালা তার কিছু কিছু বান্দার মধ্যে নেমে আসেন। এই আকিদা বিশ্বাস করার তো কথা না। আমাদের বড় বড় বক্তারা দেখবেন ওয়াজ করে। এই আকিদার বিশ্বাসকে আপনার মনসুর হাল্লাজ। তার ওয়াজ করতে যেয়ে আমাদের বক্তারা কি বলেন? যে মনসুর হাল্লাজ যখন দাবি করল যে আনাল হক।

                                                           

মানে আমি আল্লাহ। আল্লাহর একটা নাম আমি আল্লাহ আমি আল্লাহ সে যখন দাবি করল যে আমার মধ্যে আল্লাহ আছেন আমি আল্লাহ তখন ওই যুগের বাদশা তাকে বন্দিঘরের ইয়েতে নিয়ে গেলেন জেলখানাতে নিয়ে গেলেন নেওয়ার পরে এখন একদিন বাদশা গেলেন যেয়ে দেখলেন যে জেলখানাতে মনসুর ঠিকমত আছে পরে আরো কিছুদিন পরে আরেকবার গেলেন যাওয়ার পরে দেখলেন যে জেলখানাও নাই মনসুরও নাই আরেকদিন গেলেন যেয়ে দেখলেন কি যে জেলখানা আছে কিন্তু মনসুর নাই তো মানসুর হাল্লাজকে ডাকছেন বাদশা যে কি অবস্থা আমি তিনদিন গেলাম তোমাকে তিন রকম দেখলাম কেন তো মনসুর হাল্লাজ বলতেছে যে আপনি যেদিন গেলেন যেয়ে দেখলেন যে আমিও নাই জেলখানাও নাই তো ওইদিন আল্লাহ আমার কাছে আসছে আমার উপর অবতার হইছে ফলে জেলখানা আমি সব বশীভূত হয়ে গেছে আর যেদিন দেখলেন যে জেলখানাও আছে আমিও আছি তার মানে আমি আমার জায়গায় আছি আল্লাহ আল্লাহর জায়গায় আছে আর যেদিন দেখলেন যে দেলখানা আছে কিন্তু আমি নাই তখন আমি আল্লাহর সাথে

                                                           

দেখা করার জন্য গেছি এটা হল অবতারবাদের বিশ্বাস যে আল্লাহ সুবহানাতালা তাদের বিশ্বাস যে ভগবান কিছু কিছু সৃষ্টির মধ্যে অবতরণ হয় হয়ে তার শক্তি প্রকাশ করেন এই ভ্রান্ত এই আপনার অনইসলামিক এবং আল্লাহর শানে বেয়াদবি মূলক আকিদা চলে আসছে আমাদের মুসলিম সমাজের মধ্যে এবং এগুলি বক্তারা ওয়াজ করে বলতেছেন মনসুর হাল্লাজকে আল্লাহর ওলি বলা হয় আমাদের সমাজে যে মনসুর হাললা আল্লাহর বড় ওলি অথচ তিনি এইরকম অন্যায় কাজ করে গেছেন। তিন নম্বর যে আকিদাটা ভ্রান্ত আকিদা আল্লাহ সম্পর্কে সেটা হলো যে আল্লাহ সুবহানাতায় যে ক্ষমতা আল্লাহ সুবহানাতায় যে শক্তি এগুলি আল্লাহ সুবহানাতালা তার সৃষ্টির মধ্যে ভাগ করে দিয়েছেন। যেমন ধরেন আপনার সরকার যেমন তার তার ক্ষমতাগুলি কি করেন? মন্ত্রীদের মধ্যে ভাগ করে দেন।

                                                           

মন্ত্রীরা আবার কি করেন? তাদের মধ্যে যারা এমপি আছেন তাদের মধ্যে ভাগ করেন। এমপিরা আবার কি করেন? আপনার এলাকাতে যে কাউন্সিলর আছে তাদেরকে ভাগ করে দেন। কাউন্সিলর চেয়ারম্যান মেম্বার। এভাবে ক্ষমতাটা কি হয়? আপনার ভাগ হয়। হয়ে কাজটা চলে। তো তারাও মনে করেন যে আল্লাহ সুবহানাতালাও তার কাজটাকে ভাগ করে দিছেন। গাউস, কুতুব, আবদাল, আবতাদ, নুজাবা এগুলো তারদের এবং গাউস যেমন গাউসুল আজম বলা হয় আমাদের। গাউসুল আজম বলে আমাদের মনে কার নাম আসে? আব্দুল কাদের জিলানী। অর্থটা কি? গাউস শব্দের অর্থ হলো ত্রাণকর্তা। যিনি আপনাকে বিপদে পড়লে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। তিনি তাকে বলা হয় কি? গাউস। আর গাউসুল আজম মানে মহান যিনি এই কাজটা করেন।

                                                           

নাউজুবিল্লাহ। এটা মহান আল্লাহ। গাউসুল আজম। মানে গুণের দিক থেকে যে বিপদে পড়লে, সমস্যায় পড়লে আল্লাহ আপনাকে এখান থেকে উদ্ধার করেন। আর এইটা আমরা উপাধি দিছি একজনকে। আল্লাহর এক বান্দাকে দিয়েছি। যিনি নবী নন, সাহাবী নন, তাবেঈ নন। এরকম একজন ব্যক্তিকে আমরা গাউসুল আউয়াদ দিছি আব্দুল কাদের জিলানীকে। এবং তার শানে এমন এমন কিসসা বলা হয় যে কি রকম কিচ্ছা। যে আল্লাহ সুবহানাতালা নাকি তাকে এমন ক্ষমতা দিয়েছিলেন যে তিনি একদিন যাচ্ছেন এক রাস্তা দিয়ে।

                                                           

তো দেখলেন যে এক বৃদ্ধা মহিলা কাঁদতেছে তো বলে যে কাদতেছো কেন বলে যে আমার এক ছেলে আল্লাহ সুবহাতালা নিয়ে গেছেন আমি চলবো কিভাবে আমি একাই আমার স্বামী নাই আর কোন সন্তান নাই তখন এই গাউসে পাক ওরা তো বলে গাউসে পাক গাউসে পাক তখন কি করবে যে তখন বলছে ঠিক আছে আমি ব্যবস্থা নিতেছি এখন তিনি রাস্তায় দাঁড়াইছে আর মালাকুল মউত তারা তো আজরাইল বলে আজরাইল যাচ্ছিল রাস্তা দিয়ে তখন আজরাইলকে ধরছেন মালাকুল মউত ধরছে যে ওই ব্যক্তির ইয়াটা দিয়ে যাও রুহটা দিয়ে যাও বলে যে না বলেন কেমনে রুহ নিয়ে গেছি একবার তার সময় শেষ তাকে আবার রুহ দেব কিভাবে তখন না দিতেই হবে পরে যখন মালাকুল মউত বলছে না দেওয়া যাবে না তখন নাকি আপনার মানে কি বলে জোরাজুরি শুরু হইছে এখন জোরাজুরির এক পর্যায়ে ওই যে বস্তার মধ্যে রুহুল হইছে ওখানে তার একটা না আজকে সারাদিনে যতগুলি কালেকশন করছে সবগুলি রুহ ওইখানে ওই বস্তার মুখ ফলে

                                                           

গেছে আর সব রুহ চলে গেছে যে জারজের মধ্যে আবার মানুষ জীবিত হয়ে গেছে নাউজুবিল্লাহ এগুলি বলা হচ্ছে এবং ওয়াজে বলা হচ্ছে বইয়ে লেখা আছে আপনার এগুলি চলছে তার মানে দেখেন গাউসে পাকের কত ক্ষমতা সম্মানিত উপস্থিত তাদের তারা মনে করেন যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই কিছু কিছু বান্দাকে এই ক্ষমতা দিয়েছেন এবং আপনারা তো ভালো একটা কবিতা তো শুনছেন যে আল্লাহর দন রাসূলকে দিয়া আল্লাহ গেলেন খালি হইয়া। রাসূলের ধন খাজা নিয়া শুয়ে আছেন আজমিরে। কেউ ফিরে না খারিয়াতে খাজারে তোর দরবারেতে। এখন বলেন এইটা যদি আপনি বিশ্বাস করেন এটাও বক্তারা বলতেছে। এটাও বলতেছে এবং মানুষ বিশ্বাস শুধু করতেছে এবং অনেকে যাচ্ছে।

                                                           

নালে খাজা মইনুদ্দিন চিশতিকে দরবারে তার মাজারে যাওয়ার কি দরকার? শুধু ওই মাজারে আপনি দেখবেন আমি তো যাই নাই। যারা গেছে তারা বলছে শুধু মুসলমান যায় না হিন্দুরাও যায় কেন যায় তাদের আশা পূরণের জন্য ছেলে হচ্ছে না মেয়ে হচ্ছে না চাকরি হচ্ছে না উন্নতি নাই সমস্যার মধ্যে পড়ে আছি এই সমস্যার সমাধানের জন্য খাজা মইনুদ্দিন চিশতির দরবারে মাজারে লোক জড় হচ্ছে আর মুসলিমদের মধ্যে আকিদা দিয়ে দিছেন যে আল্লাহ তার আর কোন ধন তার কাছে রাখেন নাই সম্পদ রাখেন নাই এটা দিয়ে দিছেন রাসূ সাল্লামকে আর রাসূ সাল্লামের সম্পদ নিয়ে নিছেন খাজার সুতরাং আর কোথাও কিছু নাই খাজার দরবারেই সবকিছু আছে আছে সম্মানিত উপস্থিতি এই ভ্রান্ত আকিদা এই ভ্রান্ত বিশ্বাস এগুলো মুসলিম সমাজের মধ্যে আজকে আল্লাহর শানে আল্লাহ সুবহানা তাআালার শানে এগুলি মানে অপমান করা হচ্ছে যে আল্লাহ সুবহানাতাালার কাছে বান্দা চাবে তার যত বিপদ তার যত সমস্যা তার যত আপদ যেগুলো আল্লাহর কাছে চাবে আল্লাহ সুবহাতালা দিবেন আল্লাহ

                                                           

কোরআনে বলছেন কে আছে এমন সত্তা বলতো দেখি কে আছে এমন সত্তা আমবুল মুসতার যখন একজন মানুষ বিপদে পড়ে আপনার রোগে আক্রান্ত হয়ে সমস্যার সম্মুখীন হয়ে যখন মানুষকে ডাকে যখন ডাকে সে কে আছে আল্লাহ ছাড়া যে তার ডাকে সাড়া দিবে কে আছে কে শুনতে পাবে সম্মানিত উপস্থিতি সুতরাং আল্লাহ সুবহানাতায়ালার এই যে ক্ষমতা আল্লাহর যে জানা শোনার ব্যাপার এটা আল্লাহ সুবহানাতায়ালার শানেই আপনাকে প্রয়োগ করতে এবং আল্লাহই একমাত্র দেনেওয়ালা তিনিই দিতে পারেন। সুতরাং এই আল্লাহর এই ক্ষমতাকে যখন আমরা মানুষের মধ্যে বন্টন করে দিয়েছেন তাদের কাছে চাইলেই হবে। তাদেরকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রতিনিধি বানিয়েছেন এইরকম বিশ্বাস যাদের মধ্যে আছে এবং যাদের মধ্যে এই আমল আছে তাদের বিশ্বাস যেমন গর্হিত বিশ্বাস আমল শিরিক হবে এবং এই আমলের কারণে তারা জাহান্নামের অধিবাসী হবে।

                                                           

আল্লাহ সুবহানাতালা আমাদের এগুলি থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন। আরেকটা শব্দ কুতুব। আমাদের সমাজে কুতুব বলে কুতুবের রাব্বানী। কুতুব শব্দের অর্থ কি? কুতুব শব্দের অর্থ হল মানে শাব্দিক অর্থ হল আপনারা দেখবেন আগে চাকা ঘুরাইতো। মানে আপনার বিভিন্ন জিনি পিসার জন্য চাকা ঘুরাইতো। ও চাকাটাকে স্থির করার জন্য মাঝখানে একটা কাঠি থাকতো। মানে এই কাঠিটাই কিন্তু ধরে রাখছে। নালে চাকা এদিকে চলে যেত। এইটার নাম হল কুতুব। তার মানে তারা বলতে চাচ্ছে যে কুতুব বলা হয় যে এই পৃথিবীকে ধরে আছে মানে পৃথিবী কুতুবরা যদি কোন ইয়া না করেন তাইলে পৃথিবী নষ্ট হয়ে যাবে নাউজুবিল্লাহ কুতুব এই কুতুব মানে ধরে আছে এজন্য কুতুবে রাব্বানী মানে আল্লাহর পক্ষ থেকে তারা কুতুব এইগুলি এই বিশ্বাসগুলি এবং এই কথাগুলি গাউসুল আজম বলা কুতুবের রাব্বানী বলা এগুলি ইসলামী শরীয়তের কথা নয় এগুলো কোন মানুষের উপাধি হতে পারে না এগুলো আল্লাহর শানে বেয়াদপি সম্মানিত উপস্থিতি পাঁচ নম্বার যে ভ্রান্ত বিশ্বাসের কথা আমরা বলব সেটা

                                                           

হলো কেউ কেউ মনে করেন যে তারা আল্লাহ শানে যে আল্লাহ সুবহানাতালার কাছে কোন কিছু পৌঁছাতে হলে একটা মাধ্যম লাগবে মানে আল্লাহর কাছে সরাসরি যাওয়া যাবে না আল্লাহর কাছে যেতে হলে পীর ধরতে হবে আল্লাহর কাছে যেতে হলে কোন আপনার কারো মধ্যস্থতায় যেতে হবে এবং ভালো ভালো দলিল দিবে যেমন দলিল ধরেন আপনাদের এলাকার যে এমপি সাহেব মন্ত্রী তো উনার কাছে ধরেন আমি যাব আমার এটা খুব প্রয়োজন আমি গেলে তো উনাকে বাসায় ঢুকতে দিবে না কেউ চিনবে না তন আমি কি করব আপনাদের এই মসজিদের মধ্যে যিনি তার সাথে পরিচিত তার সাথে যোগাযোগ করবে যে ভাই আমাকে একটু নিয়ে চলেন তো উনি আবার তার কাছে যিনি তার কাছে বলে কয়ে নিয়ে যাবে একটা ডেট দিবে যে আগামী রবিবারে অমুক সময় আসবেন আমি গেলাম আমার কথা বললাম কাজ হয়ে গেল বাস্তব না দুনিয়া তো এরকম তারা বলে যে দেখেন দুনিয়ার একটা ছোট্ট কাজ করার জন্য একজন এমপি মন্ত্রী দেখার সাথে দেখা করার জন্য যদি আপনি মাধ্যম ছাড়া একাকি না যেতে পারেন তা আল্লাহর সাথে কিভাবে দেখা করবেন আল্লাহর সাথে কিভাবে কথা বলবেন আল্লাহর কাছে কিভাবে আপনার আবেদন জানাবেন এইজন্য আপনাকে মাধ্যম ধরতে হবে আয়াত হল দলিল যে হে ঈমানদাররা তোমরা আল্লাহকে ভয় করো আর আল্লাহর কাছে ওসিলা তালাশ কর।

                                                           

এখন ওসিলা কি? ওসিলা হল পীর। তার মাধ্যমে যেতে হবে। সম্মানিত উপস্থিতি আমাদের যদি সাধারণ সেন্স থাকে তাইলে চিন্তা করে দেখুন যে আমি মন্ত্রী সাহেবের কাছে যেতে মাধ্যম লাগে। তার কারণ মন্ত্রী সাহেব আমাকে চিনেন না। আমি কি তার দলের লোক না তার বিরোধী ছিলাম? গত কয়েক বছর আমি কি তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিছিলাম না তার পক্ষে ছিলাম এটা জানেন না উনি আমাকে। চিনেন না উনি আমাকে। সুতরাং তিনি আমাকে চিনার জন্য আমি কি তার কোন খারাপের জন্য যাচ্ছি না ভালোর জন্য যাচ্ছি কোন মন মানসিকতার লোক আমি কোন দলের লোক এটা জানার জন্য তার কাছের লোকের দরকার পরিচিত আল্লাহর ব্যাপারটা কি এরকম আল্লাহ কি আপনাকে চিনেন না আপনাকে আমাকে আপনার পিতামাতা যতটা না চিনেন তার চেয়ে হাজার গুনা আল্লাহ যখন আমার বান্দা আমার জন্য আমাকে ডাকে হে রাসপ আপনাকে যখন জিজ্ঞেস করে আমার বান্দারা কারিম আমি তো তাদের নিকটেই আছি যখন কোন ব্যক্তি আমাকে ডাকে আমি তার ডাকে সাড়া

                                                           

দেই কোন মাধ্যম লাগে না অনেকে মনে করেন যে আমি এত পাপ করছি আল্লাহ কি আমাকে ক্ষমা করবে না আপনি পাপ করছেন মানে আপনি আরো আল্লাহর ডাকলে আল্লাহ বেশি সাড়া দিবেন কারণ আল্লাহ কোন বান্দা যখন পাপ করে তার পাপ বুঝতে পারে অন্যায় বুঝতে পারে তার ভুল স্বীকার করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় তখন আল্লাহ সুবহানাতালা আরো বেশি খুশি হয়ে যান। এজন্য আল্লাহ সুবহানাতালা বলছেন যে বান্দারা যদি পাপ না করতো এবং আমার কাছে ক্ষমা না চাইতো তাইলে আমি এই জাতিকে ধ্বংস করে দিতাম। আরেকটা জাতি আমি সৃষ্টি করতাম। যারা পাপ করত আমার কাছে ক্ষমা চাইতো।

                                                           

সুতরাং এইজন্য আবার পাপ করবেন বেশি বেশি তা না বরং পাপ হয়ে গেলে ক্ষমা চাইবেন পাপ যদি হয়ে যায় তাইলে ক্ষমা চাইবেন এটা আবার অনেকে ভুল বুঝে যে পাপ যেহেতু আল্লাহ ক্ষমা করবেন পছন্দ করেন তো পাপ করে নেই না আপনার বাড়ির পাশে খুব ভালো একটা হাসপাতাল হইছে এখন আপনি নিজে নিজে পা হাত পা ভাইঙ্গা ফেলেন ভালো করে হাসপাতাল তো আছে চিকিৎসা তো হইবেই নাকি নিজে নিজে রোগী হয়ে যান না যদি রোগী হন তাইলে হাসপাতালে যাইবেনতো যদি আপনার পাপ হয়ে যায় তখন আল্লাহর কাছে কষমা চাইবেন কিন্তু এই বলে আবার পাপ করতে থাকবেন না সম্মানিত উপস্থিতি আমরা পাপ করছেন এটা শয়তানের একটা ফাদ তুমি অনেক পাপী তুমি অনেক গুনাহ করেছো তুমি আল্লাহর দরবারে কিভাবে যাইবা না বরং আপনার জন্যই আল্লাহর দরবার আপনার জন্য আল্লাহ সুবহানাতালা রাতের শেষ ভাগে প্রথম আকাশে দুনিয়ার আকাশে এসে ডেকে ডাকেন যে কে আছো পাপী আমার কাছে ক্ষমা চাইবা কে আছো রিজিক নেই সমস্যা

                                                           

আছে আমার কাছে কাছে চাও সুতরাং আপনার জন্য তো আল্লাহ সুবহানাতালা শুধু পাপ বেশি করছেন মানে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান কিন্তু কোন মাধ্যম লাগবে অমুকের মাধ্যমে আপনার কাছে যেতে হবে এরকম না এজন্য দেখা যায় আমাদের সমাজে কি করে এখন রমজানের শেষের দিকে আমি এক পারা কোরআন পড়ছি একটু বক্সে দেন বক্সে দেওয়া সম্মানিত আল্লাহর কাছে কোন সওয়াব বসে দেওয়ার দরকার নাই কোরআন খানি করে আপনার ইসালে সওয়াব ইসালে সওয়াব মানে কি দেখবেন অনেক পোস্টার ইসালে সওয়াব মাহফিল ইসালে সানাব পৌছে দেওয়া মানে সকল মুরিদানগণ সওয়াব হাসিল করছেন এগুলো আল্লাহর কাছে পৌঁছাইতে হলে কি করতে হবে যেমন আগে ডাকঘর ছিল চিঠি পাঠাইতে হলে আগে ডাক যাওয়া লাগতো পুষ্ট যাওয়া লাগতো তারপর চিঠি পাঠাইতেন তো বিষয়টা এরকম মনে করে যে আমি এত ভালো কাজ করলাম এগুলো আল্লাহর কাছে পৌঁছাইতে হলে একজন হুজুরের কাছে যেতে হবে ইমাম সাবের কাছে যেতে হবে উনি তখন আবার আল্লাহর কাছে ডাইরেক্ট পৌঁছা দিবেন এরকম কি সিস্টেম আছে কোন সিস্টেম আপনি আমল করছেন মানে আল্লাহ কবুল হয়ে গেছেন।

                                                           

আল্লাহ সুবহানাতাালার ফেরেশতারা আপনার ডানে বামে আছে তারা আপনার আমল করে আপনার বলারও দরকার নাই। আপনার নিয়ত আছে আপনি আমল করতেছেন আর ডানে বামের ফেরেশতারা লিখতেছেন আল্লাহ এমন কোন কথা এমন কোন কর্ম এমন কোন কিছু মানুষ করে না সাথে সাথে ডানে বামের ফেরেশতা লিখে ফেলেন এবং প্রত্যেকদিন আপনার আমলনামা আল্লাহর কাছে উঠানো হয় একবার সকালে একবার বিকালে সপ্তাহে আমলনামা উঠানো হয় সোমবারে বৃহস্পতিবারে বছরে আমলনামা উঠানো হয় শাবান মাসে তহলে আপনার আমলনামা পৌঁছানোর জন্য আল্লাহর কাছে ইসালে সওয়াবের মাহফিলেরও দরকার নাই বক্সে দেওয়ার জন্য হুজুরের কাছে যাওয়ার দরকার নাই আপনি শুধু আমল করেন আল্লাহর কাছে দোয়া করেন যে আল্লাহ আপনি আমার খুব আপনার আমল কবুল করেন রব্বানাতা মিন্না ইন্নাকু সামিউম আল্লাহ আমি যে আমল করেছি এগুলো আপনি কবুল করেন এইরকম ভ্রান্ত আকিদা রাখার দরকার নাই যে আল্লাহ সুবহানাতালার কাছে আপনার পৌঁছাতে হলে কোনমাধ্য লাগবে এরকম বিশ্বাস আমাদের কর্তার দরকার নাই।

                                                           

তারপরে আমাদের যে ভ্রান্ত আকিদা ছয় নম্বারে সেটা হলো যে আল্লাহ সুবহানাতায় কে একটা মাধ্যমে মানে মাধ্যম আল্লাহ সুবহানাতাালার কাছে ধরতে হবে। বিপদ থেকে রক্ষার জন্য পরকালের আযাবের জন্য বাঁচার জন্য এবং সুপারিশের জন্য। অনেকে তো আছে যে সুপারিশ করবেন। কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবেন। জাহাজ দিয়ে রওনা হবেন এবং মুরিদদেরকে ডেকে নিবেন এবং কবরে শাফাত করবেন। অনেকে আছে কবরে আবার কিছু লিখে দেয়। যেটা যেতে আমার মুরিদ বুঝতে পারে। সম্মানিত উপস্থিতি এগুলি আল্লাহ সুবহানাতায়ালার যে শান মান এবং ইসলামের যে আকিদা এগুলির বিরুদ্ধে আকিদা। কেয়ামতের দিন সুপারিশের জন্য কোন পীর কোন মানে আপনার আলেম কোন ব্যক্তি কথা বলতে পারবে না।

                                                           

নবী রাসূলগণ ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি শাফাতের যে লম্বা হাদিস রয়েছে আদম আলাইহি সালাম শাফাত করতে পারবেন না। নূহ আলাইহি সালাম করতে পারবেন না। ইব্রাহিম আলাইহি সালাম করতে পারবেন না। সর্বশেষ মুহাম্মদ সলামের কাছে সবাই যাবে। এবং মুহাম্মদ সলাম সিজদায় পড়ে থাকবেন। আল্লাহ সুবহাতালা তাকে ডাকবেন এবং বলবেন যে তুমি সুপারিশ করো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম যখন সুপারিশ করতে থাকবেন কাদেরকে করবেন? মানে আপনার নামধারী শুধু উম্মত হইলেই করবেন না। রাসূ বলছেন যে হাশরের ময়দানে যখন আমি হাউজের কাউসারের পানি পান করাইতে থাকব তখন বিদাতি যারা আসবে তাদেরকে আমি বাদ দিয়ে দেব।

                                                           

সফান সফান লিমান বাদলাদিনি যারা আমার দ্বীনকে পরিবর্তন করেছ আমার শরীয়তকে পরিবর্তন করেছ তাদেরকে আল্লাহ রাসূল সলাম বাদ দিয়ে দিবেন তাদেরকে দূরে সরিয়ে দিবেন সুতরাং আল্লাহ রাসূলের শাফাতের জন্য পরকালে মুক্তির জন্য আপনাকে সুন্নাহ তরিকায় বিশুদ্ধ আকিদায় আমল করতে হবে আল্লাহ আমাদেরকে বোঝার এবং তৌফিক দান করুন সাত নম্বর যে ভ্রান্ত আকিদা আমাদের সমাজে সেটা হলো যে আল্লাহর আল্লাহ সুবহাকে দেখা সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাতালাকে দেখা সম্পর্কে রাসূল সাল্লা আল্লাহ সুবহানাকে দেখছেন কিনা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম দুই ধরনের বর্ণনা আছে এক হল রাসূ সাল্লাল্লাহু আশা রাদিয়াল্লাহু তালা বলছেন মাসুতা তিনি এসে বলছেন উম্মাহ মুহাম্মদ রাব্বাহ মুহাম্মদ কি তার রবকে দেখেছেন তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তালা বললেন তুমি এমন একটা থা বল আমার অনেক সময় আমরা বলি না যে আমাদের পশমগুলি দাঁড়িয়ে গেল তিনি এইরকম বলে আমার পশমটা যেন স্থির হয়ে গেছে তুমি এমন একটা কথা বলেছ যে তুমি জেনে রাখলাম মহাম্মদ তুমি যদি জেনে থাকো মনে রাখো তুমি যে তোমার কাছে

                                                           

যদি কেউ বর্ণনা করে যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এই চর্ম চৌখে আল্লাহকে দেখেছেন তাইলে মিথ্যা বলেছে কে বলতেছেন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তালা বলতেছেন যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এই চর্মচৌখে মেরাজে আল্লাহকে দেখেছেন এটা যদি কেউ বর্ণনা করে তোমার কাছে সে ব্যক্তি মিথ্যা বলেছে তারপর তিনি কোরআনে আয়াত দিয়ে দলিল দিলেন এমন কোন চক্ষু নাই য আল্লাহ সুবহানাতালাকে ধরে নিতে পারে আল্লাহ সুবহাতালাকে পরিবেষ্টন করতে পারে আল্লাহ সুবহানাতালাকে আপনার ইয়া করতে পারে ধারণ করতে এমন কোন চক্ষু নাই কিন্তু আল্লাহ সবাইকে দেখছেন মোহাম্মদ দেখছেন কিভাবে এক হাদিসের মধ্যে আসছে যে মানা আমি আমার রবকে স্বপ্নযুগে দেখেছি তাইলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ সাললাম আল্লাহকে দেখছেন স্বপ্নযুগে চর্মযোগে দেখেন নাই কিন্তু রাসূ সলাম ব্যতীত আর কোন কেউ মানে এই উম্মতের মধ্যে আবু বকর ওমর ওসমান আলী থেকে শুরু করে আর কেউ দেখেছেন এরকম কোন বর্ণনা নাই কোন সাহাবী বলেন নাই এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম যে বললেন যে আমি আমার রবকে স্বপ্নযুগে দেখেছি তিরমিজির লম্বা হাদিস মহাম্দ আল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন যেইয়া মোহাম্মদ তুমি কি জানো যে উপরের ফেরেশতারা কি নিয়ে ঝগড়াঝাড়ি করতেছে তখন মহাম্দলেন আমি তো জানি কি নিয়ে ঝগড়াঝাড়ি করতেছে।

                                                           

তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু সাললাম বলেন যে লাকলা মহান আল্লাহ সুবহাতালা তার হাত আমার কাধের উপরে রাখলেন স্বপ্নযুগে। কিন্তু হাদিস স্বপ্নযোগে তখন আমি আমার অন্তরের মধ্যে ঠান্ডা অনুভব করলাম। এবং পূর্ব পশ্চিমে কি আছে সব জ্ঞান আমি জেনে নিলাম। এবার আল্লাহ সুবহাতালা জলেন ইয়া মোহাম্মদ হালতামালা তুমি কি এবার বলতে পারবা যে উপরের ফেরেশতারা কি নিয়ে বাদানুবাদ করতেছে বলে এখন আমি বলতে পারব কি নিয়ে করতেছে কাফারা ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য কাফফারার জন্য ক্ষমার জন্য তারা কে কার ক্ষমা করবে কাদের জন্য ক্ষমা তখন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সলাম বললেন যে আলমাসজিদ যে ব্যক্তি হেটে হেটে মসজিদে আছে তার তাকে কে ক্ষমা করবে আগে ওই নিয়ে তারা বাধানুবাদ করতেছে।

                                                           

তারপরে আল উদু আল মাকারে মানে কষ্ট সত্ত্বেও ভালো করে অযু করা। এই কাজটা যারা করবে তাদেরকে ক্ষমার জন্য তারা বাধানবাদ করতেছে। সালাত সালাত এক সালাতের পরে আরেক সালাতের জন্য যারা ইন্তেজার করবে অপেক্ষা করবে তাদেরকে ক্ষমার জন্য বাধানবাদ করতেছে। এখন দেখেন এই হাদিস বলার পরে সাহাবীরা কিন্তু বলেন নাই। যয়া রাসূল্লাহ আল্লাহকে যদি আপনি দেখলেন বলেন তো চেহারাটা কিরকম? হাতটা কিরকম? এন্ বলেন নাই সাহাবীরা। যেহেতু বলেন নাই সেহেতু আমাদের এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করারও কোন প্রয়োজন নাই। এজন্য একটা বর্ণনা সমাজের মধ্যে খুব পাওয়া যায় যে ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহ আলাইকে আল্লাহকে কয়বার দেখছেন স্বপ্নে? ১০০ বার। তারা বলেন ১০০ বার দেখছেন।

                                                           

তারাই আবার বলে যে আল্লাহর কি নাই? কোন আকার নাই। ওদিন আবার দেখলাম যে একটা ভিডিওতে জিজ্ঞেস করছেন একজন মুফতি সাবকে যে আপনারা তো বলেন যে আল্লাহর কোন আকার নাই। তো ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহ কিভাবে ১০০ বার দেখলেন? তো তিনি বললেন যে ১০০ বার দেখছেন ঠিক আছে কিন্তু আল্লাহর আকার নাই মানে আল্লাহর আকার বলা যাবে না কিরকম যেমন আপনি ওই যে তারকা দেখতেছেন আকাশের মধ্যে বলতে পারবেন কিরকম আকার না বলতে পারবে এরকম সম্মানিত উপস্থিতি আমরা আল্লাহ সুবহাতালার আকার আছে বিশ্বাস করতে বলা হয়েছে বলতে তো বলা হয় নাই কারণ বলতে পারবেন না আপনি যে কিরকম ছিল তো সম্মানিত উপস্থিতি এইজন্য আমরা বলব যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম চর্মচোখে দেখেন মুসা আলাই সালামের ঘটনা তো আছে তিনি বলছিলেন যে আল্লাহ আমি আপনাকে দেখতে চাচ্ছি এবং মুসা আলাইহি সালামের জাতি এত খারাপ ছিল ইহুদিরা তারা বলছিল যে মুসা আমি আপনার আপনার কথা শুনবো না যতক্ষণ আপনি আমাদেরকে প্রকাশ্যে আল্লাহকে

                                                           

না দেখান মুসা আলাই সালাম ৭০ জন প্রতিনিধি দল নিয়ে তিনি তুর পাহাড়ের সামনে গেলেন য বলেন যে আল্লাহ আপনাকে দেখতে চাচ্ছে দেখলেই নাকি শরীয়ত মানবে তখন আল্লাহ সুবহাতালা কি বললেন একটু নূরের জলক দিছিলেন তুর পাহাড়ের মধ্যে তারা একেবারে সবাই বেহুশ হয়ে গেলেন একেবারে তখন আল্লাহ আবার মুসা আল্লাহ কি করলেন না এখন যদি আমি এই অবস্থায় যাই তিনি তো মনে করছেন মারা গেছেন এই অবস্থায় যাই তখন আমার জাতি বলবে যে তুমি ভালো ভালো লোকদেরকে নিয়ে নেত্রিস্থানীয় লোকদেরকে নিয়ে মেরে দিয়েছো তখন আল্লাহ সুতা তাদেরকে আবার জাগিয়ে দিলেন এবং তিনি বললেন লাতারান মুসলেন আল্লাহ আমি আপনাকে দেখতে চাচ্ছি বলতারানি তুমি কখনো আমাকে দেখতে পারবে না মানে দুনিয়াতে এই চোখে আমরা দেখতে পাব না বরং জান্নাতে যখন যাবে কেয়ামতের দিন যাবে তখন প্রত্যেক মুমিন আল্লাহকে দেখতে পাবে এবং সবচেয়ে বড় নিয়ামত সবচেয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে যেই বড় নিয়ামতটা মুমিনরা পাবে সেটা হল তার রবকে দেখাব কামাতার পূর্ণিমার চাঁদ যেভাবে

                                                           

তোমরা প্রত্যেকের ঘরে বসে থেকে প্রত্যেকে দেখতে পাও কোন ঠেলাঠেলি নাই কোন হুরাহুরি নাই একেবারে সবাই যেভাবে দেখতে চাও লাতামুয়াত এই দেখাতে যেমন কোন অস্পষ্টতা থাকে না মেঘমুক্ত আকাশে তোমরা যেভাবে স্বচ্ছ চাঁদকে দেখতে পাও তোমাদের রবকে অচিরেই তোমরা এভাবে দেখতে পাবে সুতরাং এই দুনিয়াতে দেখা যাবে না আখেরাতে দেখা সম্ভব অষ্টম নম্বার যে ভ্রান্ত আকিদা আমাদের সমাজে আছে সেটা বলা হয় যে আল্লাহ সুবহানাতালার যে গায়ে গায়েব বিষয় আল্লাহ তো গায়েব জানেনি কিন্তু তার কিছু কিছু বান্দাকে তিনি গায়েবের সংবাদ দিয়ে থাকেন। যেমন গণকের কাছে অনেকে যায়। কেন? যে আমার ভাগ্যটা একটু দেখে দেন যে কি অবস্থা। কারণ গণক নিজেই তো জানে না যে তার ভাগ্য কি।

                                                           

তার ভাগ্য কি ভালো না মন্দ? গণক নিজেই জানে না। এই একজন নাকি তাকে থাপ্পড় মেরে দিছে। তো বলে যে আপনারা থাপ্পড় মারলেন কেন? তো বলে যে তুমি নিজের ভাগ্যই তো জানো না যে আমি তো তোমাকে থাপ্পড় দেবো। যদি তোমার ভাগ্য তুমি জানতা যে আজকে একটা লোক আসবে এসে আমাকে থাপ্পড় দিবে। তো তুমি আগে সতর্ক হলা না কেন? তার মানে তোমার নিজের ভাগ্য তুমি জানো না তুমি আমারটা কি দেখবা? কিছুই জানে না এগুলি। সুতরাং মানুষ অনুমান করে যে রাশিফল দেখবেন পত্রিকায় চলে আসছে অমুক রাশির এই তুমক রাশি বিশ্বাস করলে রাস ঈমান থাকবে না। ৪০ দিন আমল কবুল হবে না।

                                                           

কেউ যদি গণকের কাছে যায় সে যা বলে তা বিশ্বাস করে। সুতরাং গায়েবের সংবাদ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। জিনারাও গায়েবের সংবাদ জানে না। সুলাইমান আলাই সালাম যখন বাইতুল মুকাদ্দাস বানাচ্ছেন তিনি মারা গেছেন। তিনি মারা যেয়ে একটা কাচের ঘর তৈরি করলেন। করে একটা লাঠিতে দিয়ে দাঁড়াইয়া আছেন তিনি। তো নবীদের শরীর তো আর পচে না। তো তিনি দাঁড়াইয়া আছেন। আর জিনেরা কাজ করতেছেন। যখন কাজের একদম শেষ পর্যায়ে আছে ওই লাঠিতে ওই পোকা খেয়ে দিয়েছে। এবার তিনি পড়ে গেছেন। তখন জিনেরা বলতেছেন যে হায় আমরা যদি জানতাম গায়েব জানতাম। এই লাঞ্ছনাকর কষ্ট আমরা করতাম না। জীনেরাও গায়েব জানে না।

                                                           

অনেকে বলে যে জীন ধরছে জীনের মাধ্যমে। হ্যা জীনেরা অনেক দ্রুত এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারে। এই সংবাদটা আপনাকে দিতে পারে। আপনি হয়তো এখান থেকে কক্সবাজার যাইতে একদিন লাগবে কিন্তু ওরাও কয়েক মিনিটের মধ্যে চলে আসতে পারে। সুতরাং এই দ্রুততার কারণে তারা অনেক সংবাদ আপনার কাছে পৌঁছাইতে পারে। আর যারা আল্লাহ দ্রোহী হয় গায়েবে বিশ্বাস করে করে মানুষের ঈমান নষ্ট করে দেয়। এ দুষ্ট জীনগুলি তাদের সাথে যুক্ত হয়। যুক্ত হইয়া তাদেরকে কিছু সংবাদ দেয়। আর তারা এটার সাথে অনেক কিছু মিশাইয়া তখন মানুষের ঈমান নষ্ট করে দেয়। কারণ আপনি যখন একবার যাইয়া একটা সত্য পাইবেন তখন দেখা যাবে যে এইটাই বলতে থাকবেন যে অমুকের কাছে গেছিলাম উনি তো আমার সবকিছু বলে দিছেন।

                                                           

আসলে কিভাবে বলছেন এটা তো উনি জানেন আল্লাহ জানেন। সুতরাং গায়েবের সংবাদ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। মুহাম্মদ সাল্লামকে আল্লাহ যে গায়েবের সংবাদ দিয়েছিলেন এটাই তিনি বলেছেন। এছাড়াও তিনি নিজের পক্ষ থেকে কোন গায়েব জানতেন না। তার স্ত্রীর ব্যাপারে অপবাদ এসছে যে তিনি জেনাবা বিচার করছেন। তার স্ত্রী আয়েশা রাদি হার হারিয়ে ফেলছেন। কোথায় খুঁজে পাচ্ছেন না অথচ উটের নিচেই পড়ে আছে কিন্তু খুঁজে পাচ্ছেন না তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখা গেছে অনেকদিন তিনি অনেক ঘটনা ঘটে গেছেন তিনি জানতেন না আল্লাহ সুবহানাতালা তিনি জানিয়েছেন যেটা সেটাই তিনি জেনেছেন নয় নম্বর যে ভ্রান্ত আকিদা আমাদের সমাজে সেটা হল আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান মানে এটা একটা আপনি জিজ্ঞেস করেন যে আল্লাহ কোথায় দেখবেন যে সবাই বলবে আলেম থেকে শুরু করে একদম ছোট পর্যন্ত যে আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান এটা ভ্রান্ত আকিদা আল্লাহ সুবহানাতালা নিজেই বলেছেন আর রহমান আশ আল্লাহ সুবহাতালা আরশে সমুন্নত হয়েছেন আল্লাহ কোথায় আল্লাহ ভালো জানেন আপনি কিভাবে

                                                           

ভালো জানবেন আল্লাহ কোথা রাস ভালো জানেন কোরআন এবং হাদিসের বাইরে নিজের মন মস্তিষ্ক প্রসুত কোন আকিদা বিশ্বাস গ্রহণযোগ্য হবে না কিভাবে তিনি আরশে আছেন কিভাবে তিনি নেমে আসেন ইমাম মালেক রহমাতুল্লাহ আলাই এ ব্যাপারে তিনি স্পষ্ট বলেছেন এবং ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহ একটা কথা আছে তিনি বলেছেন যে কেউ যদি বলে যে আমার রব কি আকাশে আছে না জমিনে আছে আমি জানিনা এটা যদি কেউ বলে ফাকাত কাফার সে কুফরি করল কেন কুফরি করল কারণ আল্লাহ নিজেই বলে দিয়েছে যে আমি আরশ তুমি জানো না কেন আকিদা বিশ্বাসের বিষয় এজন্য ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহর সাথে মাসলাগত ডিফারেন্স আছে কিন্তু আকিদা কোন ডিফারেন্স নাই এজন্য দেখা হানাফীগণ ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহ থেকে মাসলাটা নেয় কিন্তু আকিদাটা নেয় না।

                                                           

আকিদাটা নেয় আশারী মাতুরুদি থেকে। যদি আকিদাটা তারা ফিকুল আকবার থেকে নিত। ইমাম আবু হানিফার যে আকিদা ইমাম মালেক, শাফি, আহমদ ইবনে সবার আকিদা এক। এবং স্বচ্ছ আকিদা যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তিনি আরশের মত সমুন্নত আছেন। বান্দাকে তিনি দেখতেছেন বান্দাকে তিনি সাহায্য করতে পারেন। যে কোন ক্ষমতার দিক থেকে তিনি বান্দার সাথে আছেন। ক্ষমতার দিক দিয়ে সাথে আছেন। সাহায্যের দিক দিয়ে সাথে আছেন। কিভাবে সাথে আছেন? যেমন মন্ত্রী সাহেবকে আপনি ফোন দিলেন যে ভাই আমি এই কাজটা করতে চাচ্ছি। হ্যাঁ আমি আপনার সাথে আছি কাজ করে যান। তো উনি তো ওইখান থেকে সাথে আছেন মানে আপনার সমর্থনে আছেন। তা আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা এইভাবে আমাদের সাথে আছেন।

                                                           

আল্লাহ আমাদেরকে বোঝার তৌফিক দান করুন। সর্বশেষ যে আকিদাটা সেটা হলো আল্লাহর কোন আকার নাই। এটা আমাদের একটা ভ্রান্ত আকিদা। আমাদের সমাজে প্রচলিত হয়ে গেছে যে আল্লাহ সুবহানাতাালার কোন আকার নাই। কিন্তু আমরা আগেই বলেছি যে আল্লাহ সুবহানাতাালার আকার আছেন এবং কেয়ামতের দিন বান্দা আল্লাহকে দেখতে পাবেন। এখন বলেন আল্লাহর আকার না থাকলে কি দেখবেন? আকার যদি না থাকে তাহলে কি দেখবেন বান্দা কি দেখবে আল্লাহর এবং আকারের ব্যাপারে আল্লাহ কিরুপ আকার আছে এটা বলা যাবে না কারণ এই যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লামকে সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করেন নাই যে আল্লাহ আপনাকে আল্লাহকে কিরকম দেখলেন যেহেতু বলেন না আপনি একটা জিনিস দেখেন নাই ধরেন আপনার একটা প্রাণী আছে পৃথিবীতে দেখেনই না আপনি নাম শুনছেন তাইলে আপনি তো বিশ্বাস করবেন যে আছে কিন্তু কিরকম আমি জানিনা ভাই দেখি নাই যেহেতু দেখি নাই সেজন্য বলতে পারব না এজন্য আল্লাহর ব্যাপারে বলা হয়েছে কি যে তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে এমন কথা বলিও না লা তাকুলু আলাল্লাহি

                                                           

মানে এমন কথা বলিও না যেটা তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে জানো না এজন্য আল্লাহ সুবহানাতালার বিভিন্ন সিফতের কথা আসছেন হাতের সিফতের কথা আসছেন তার হাত আছে তার আপনার চোখের কথা আসছেন তার মুখমন্ডলের কথা আসছেন আল্লাহ পায়ের কথা আসছেন পায়ের নলার কথা আসছেন কিয়ামতের দিন আল্লাহ সুবহাতালা পায়ের নলা উন্মুক্ত করে দিবেন বলবেন যে তোমরা সিজদা করো এরকম যেগুলি সিফত আস এগুলিকে আমাদের বিশ্বাস করতে হবে কিরকম আল্লাহর মত আল্লাহর সিফতগুলি আল্লাহর মত আমাদেরকে এভাবে সঠিক বিশ্বাস করতে আল্লাহ সুবহাতালা আমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে সঠিক বিশ্বাস করার তৌফিক দান করুন এবং যে ভ্রান্ত বিশ্বাস প্রান্ত আকিদা এবং এগুলি সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে আছে এগুলি থেকে আমাদের দূরে থাকার তৌফিক দান করুন আকিদা যদি ঠিক না হয় বিশ্বাস যদি শুদ্ধ না হয় কোরআন এবং সুন্নাহ মত না হয় তাহলে ইবাদত কোনই কাজে আসবে না আপনার ফাউন্ডেশন যদি ঠিক না হয় আপনার পিলার যদি ঠিক না হয় আপনার ভিত্তি যদি মজবুত না হয় তাহলে আপনার

                                                           

ইবাদত কবুল হবে না বরং ইবাদতের মূল হলো আকিদা বিশ্বাস আল্লাহ সম্পর্কে যদি আমাদের বিশ্বাস নরবরে থাকে বিশ্বাস ভ্রান্ত থাকে বিশ্বাস আপনার এমন আকিদা থাকে যেটা আল্লাহর শানে মানায় না এরকম থাকলে আমাদের কোন ইবাদতই কবুল হবে না সুতরাং আল্লাহ সুবহানাতালা আমাদেরকে তার ব্যাপারে সুন্দর স্বচ্ছ এবং কোরআন সুন্নাহ অনুযায়ী আকিদা আমল রাখার আমাদেরকে তৌফিক দান করুক। যুগে যুগের সাহাবাগণ, ইমামগণ, ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফী, মালেক, আহমদ বিন হাম্বল, ইমাম বুখারী মুসলিম তারা যে আকিদা ধারণ করে গেছেন সেই আকিদা অনুযায়ী আমাদেরকে আকিদা ধারণ করার তৌফিক দান করুক।