আলহামদুলিল্লাহ যাবতীয় প্রশংসা তারিফ গুণগান বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলার জন্য যিনি আমাদেরকে দুনিয়াবী যাবতীয় ঝামেলা ব্যস্ততা থেকে মুক্ত করে আজকে পবিত্র জুমার দিনে মসজিদে সমবেত হওয়ার সুযোগ দান করেছেন সে আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি আলহামদুলিল্লাহ দরুদ এবং সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী আহমদ মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি। আজকের জুমার খুতবায় সংক্ষিপ্ত আলোচনার বিষয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে এহসানের গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে উক্ত বিষয়টি ভালোভাবে উপস্থাপন করে বোঝার তৌফিক দান করুন। সকলে বলি আল্লাহুম্মা আমিন। সম্মানিত উপস্থিতি এহসান শব্দটি একটি আরবি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। যার বাংলা অর্থ হচ্ছে দয়া করা, অনুগ্রহ করা। পৃথিবীর কমবেশি প্রত্যেকেই এহসান শব্দটির সাথে পরিচিত।
ভালো মানুষ এহসান শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন। মন্দ খারাপ দুশ্চরিত্র মানুষরাও এহসান শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন। আর এই পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় এহসানকারী অনুগ্রহকারী দয়াকারী হলেন মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। তিনি মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বসময়ে মানুষদের প্রতি এহসান করে আসছেন। একজন মানুষের প্রতি আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলার সবচেয়ে বড় এহসান হচ্ছে যে তিনি মানুষকে দুনিয়াতে জন্মগ্রহণের সুযোগ দান করেছেন। মহান আল্লাহ যদি চাইতেন তাহলে ওই নাপাক শুক্রীট রূপে থাকা অবস্থাতেই তিনি আপনাকে নিঃশেষ করে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি মানবজাতির যে জীবন পরিক্রমা, জীবন প্রক্রিয়া তার একটা ধাপ হচ্ছে মায়ের পেট। সেখানে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা সেই নাপাক শুক্রীট থেকে আপনাকে একটা রক্তপিণ্ড হওয়ার তৌফিক দান করেছিলেন।
সেখানেও আপনাকে শেষ করে দিতে পারতেন। কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা তা না করে আপনাকে গোস্তপিণ্ডে রূপান্তরিত হওয়ার সুযোগ দান করেছিলেন। সেখানেও চাইলে তিনি ওটাকে নষ্ট করে দিতে পারতেন। কিন্তু না তিনি তা না করে ৪০ এর দিনে ফেরেশতা পাঠিয়ে তিনি ওই ছোট্ট গোস্তপিণ্ডতে রুহ ফুঁকে দেওয়ার ব্যবস্থাও করেছিলেন। আলহামদুলিল্লাহ। সেই আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা এরপরেও শেষ করে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে এই দুনিয়াতে আসার সুচারু রূপে যত ব্যবস্থাপনা লাগে সবকিছু তিনি আপনার জন্য করে দিয়েছেন। আরো বড় এহসান হচ্ছে যে তিনি আমাদেরকে মুসলিমের ঘরে মুসলিম হিসেবে জন্মগ্রহণ করার সুযোগ দান করেছেন। আরো বড় এহসান হচ্ছে যে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা আমাদেরকে কোরআন এবং হাদিস চর্চা করার সুযোগ দিয়েছেন।
আমরা কোরআন এবং বিশুদ্ধ হাদিসের প্রতি আগ্রহী। তিনি আমাদেরকে সেই আগ্রহটা দান করেছেন। এইভাবে মানবজাতির প্রতিটা সেক্টরে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা এহসান দিয়ে পরিপূর্ণ করে রেখেছেন। পবিত্র কোরআনে তিনি বলেছেন যখন কেউ বিপদে পড়ে আল্লাহকে ডাকে তখন সেই ডাকে কে সাড়া দেয়? কে সেই ডাকে সাড়া দান করে? কে তার অভাবের কথাগুলো শোনে? কে আছে যে তার অসুস্থর কথাগুলো শোনে তার বিরহের কথাগুলো শোনে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আইয়ুব আলাইহিস সালাম তার ব্যাপারে কোরআনে বলা হয়েছে আইয়ুব আলাইহিস সালাতুওস সালাম যখন তার রবকে ডাকলেন আনিমাহাম রাহিমিন হে আমার প্রতিপালক আমাকে দুঃখ স্পর্শ করেছে বিপদ আমাকে আক্রান্ত করেছে। অসুস্থতায় জরজরিত হয়ে গেছি আমি।
আর আমার ভরসা তো শুধু তোমার কাছে। কারণ তুমি হচ্ছ আরহামুর রাহিমিন। সমস্ত দয়ালুদের শ্রেষ্ঠ দয়ালু। আল্লাহ তাআালার পরিচয় এটাই। এবং তিনি আপনাদেরকেও দোয়া করতে শিখিয়ে দিয়েছেন এইভাবে। রবফারহা হে আল্লাহ আপনি ক্ষমা করুন। আপনি আমাদের প্রতি রহম করুন। কেননা আপনি তো পৃথিবীর সব দয়ালুর ঊর্ধে সমস্ত দয়ালুর বড় দয়ালু। সম্মানিত উপস্থিতি যখন আপনার খাবারের প্রয়োজন হয় তিনিই খাবার দেন। অক্সিজেনের প্রয়োজন হচ্ছে তিনি দিচ্ছেন। আরো বড় কৃপা এহসান আমাদের প্রতি যে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা আমাদেরকে গুনাহ করার পরেও এখন পর্যন্ত ধ্বংস না করে বাঁচিয়ে রেখেছেন। এটা সবচেয়ে বড় এহসান। আর এই দৃষ্টিকোণ থেকে আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা হচ্ছেন হালিম। তিনি সহনশীল।
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ধৈর্যশীল। যে আমরা গুনাহ করছি তার অবাধ্য হচ্ছি। এরপরেও তিনি আমাদেরকে এখনো ধ্বংস করেননি। তিনি আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত পৃথিবী ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত তাওবার সুযোগ দিয়ে রেখেছেন। তিনি ক্ষমার জন্য বসে আছেন। শুধু তাই নয় তার নিকটেও কিছু দয়া, কিছু রহমত, কিছু এহসানকে তিনি জমা করে রেখেছেন। কিয়ামতের মাঠে তার বান্দাকে দিবেন বলে। সুবহানাল্লাহ। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর বর্ণনা একটা হাদিস। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ললাহ নিশ্চয় আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলার ১০০ টা দয়া আছে রহমত আছে হাওবা ১০০টা দয়ার মধ্যে থেকে আল্লাহ তাআলা একটা মাত্র দয়াকে শুধুমাত্র একটা দয়াকে পৃথিবীর সমস্ত জীন সমস্ত মানুষ সমস্ত চতুষ্পদ জন্তু এবং সমস্ত তুচ্ছ কীট পতঙ্গের মাঝে তিনি ভাগ করে দিয়েছেন।
আর একটা দয়ার কারণেই মানুষরা পরস্পর একে অপরকে ভালোবাসে। একে অপরের প্রতি দয়া করে স্নেহ করে মায়া করে। ওই একটা দয়া যেটা আল্লাহ তাআলা বান্দাদের মাঝে পৃথিবীর সমস্ত প্রাণীর মাঝে ভাগ করেছেন ওই একটা দয়ার গুণে বন্য প্রাণী হিংস্র প্রাণীও তার সন্তানকে ভালোবাসার চেষ্টা করে। আর আল্লাহ তাআলা তার নিকটে ৯৯টা দয়াকে জমা করে রেখেছেন এজন্য যে ওই ৯৯ টা দয়া দিয়ে আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের মাঠে তার বান্দাদেরকে রহম করবেন। সুবহানাল্লাহ। এটা আল্লাহর দয়া। এবং তিনি বলেছেন এই কথাও যে আমার রাগ এটাকে অতিক্রম করে গেছে আমার দয়া। মানে আমার রাগের যে লিমিট এই রাগের লিমিটকে ক্রস করে চলে গেছে আমার দয়া।
মানে আমার রাগের চেয়েও আমার দয়া বেশি। সে কথা আল্লাহ বলেছেন। এজন্য অন্য একটা হাদিসে আছে রাসূ বলেছেন লালাম কাফ্লাহ কাফের যারা আল্লাহ দ্রোহী আল্লাহ বিদ্বেষী ইসলাম বিদ্বেষী ওরাও যদি জানত যে আল্লাহর কাছে এত দয়া আছে এত এহসান আছে আল্লাহর কাছে এত রহম আছে তাহলে একটা কাফেরও আল্লাহর জান্নাত থেকেও নিরাশ হতো না। সুবহানাল্লাহ। মানে আমরা অবাধ্য হওয়ার পরেও কুফরি করার পরেও কি বলতো যে আল্লাহর এত দয়া কাকে দিবে আমরা অবাধ্য আমরা কুফরি করছি এরপর আল্লাহ তালা আমাদেরকে মনে হয় জান্নাত দিবে এত দয়া আল্লাহ তালার একটা কথা আপনাদের মনে আছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় তার জামানাতে কিছু যুদ্ধবন্দীদেরকে ধরে নিয়ে আসা হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের কাছে যুদ্ধের মাঠে তাদেরকে আটক করা হয়েছে যুদ্ধবন্দীদের মাঝে একজন মহিলা ছিলেন যেই মহিলাটার স্তন থেকে দুধ ঝরে পড়ে যাচ্ছে।
মানে বাচ্চাকে যে খাওয়াবে সেরকম কোন বাচ্চা নেই। দুধ পড়ে যাচ্ছে। এ কারণে তিনি ছোটাছুটি করছেন, দৌড়াদৌড়ি করছেন যে একটা বাচ্চাকে যদি পেয়ে যান তাহলে একটু দুধ পান করাবে। তো ঠিক আছে একটা বাচ্চাকে পেয়ে গেল ওই বাচ্চাকে সে কোলে নিল এবং ওই বাচ্চাটাকে তিনি তার বুকের সঙ্গে জড়িয়ে নিলেন জড়িয়ে ধরলেন এবং তাকে দুধ পান করালেন এই দৃশ্যটা রাসূ দেখে ফেললেন তিনি সাহাবীদেরকে গিয়ে বলতেছে সাহাবীরা বলতো এই যে মহিলাটা যে অন্যের বাচ্চাকে নিয়ে এত সুন্দর করে কোলে জড়িয়ে ধরল বুকের সঙ্গে যেন মিশিয়ে নিল নিজের স্তন থেকে দুধটুকু পান করাচ্ছে এই মহিলা আতহাত যে মহিলাটা অন্যের বাচ্চাকে এত সুন্দর করে কেয়ার করতে পারে ভালোবাসতে পারে সেই মহিলা কি নিজের সন্তানকে স্বেচ্ছায় জাহান্নামে নিক্ষেপ করতে পারবে সাহাবীরা তখন বললেন যে লা ইয়া রাসূল্লাহ আল্লাহ রাসূল এ মহিলা তো কোনদিনও তার সন্তানকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করতে পারে না পারবে না কারণ এর মনে তোদ দয়া আছে অনুগ্রহ আছে যেটা আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন।
তখন রাসূ সাহাবীদেরকে বললেন আরহাম নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা অধিক দয়ালু। এই মহিলাটা তার নিজের সন্তানের প্রতি যতটানা দয়াশীল আল্লাহ তাআলা তার বান্দার উপরে তার চেয়ে বেশি দয়াশীল। সুবহানাল্লাহ। একটা মহিলা তার বাচ্চার প্রতি যতটানা দয়াশীল। আপনি আপনার সন্তানকে যতটানা ভালোবাসেন আপনার স্ত্রী আপনার সন্তানকে যতটানা ভালোবাসে মনে রাখবেন ও আপনার সন্তান হওয়ার আগে আল্লাহর বান্দা আল্লাহর বান্দ এজন্য আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা তাকে আপনাদের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন আপনার সন্তানকে আল্লাহ আপনাদের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন এটা হচ্ছে আল্লাহর দয়া আল্লাহর এহসান তো যেই আল্লাহ মানবজাতির প্রতিটা ক্ষেত্রকে এহসান দিয়ে ভরে রেখেছেন এহসান তিনি করছেন কেয়ামত পর্যন্ত করবেন। ক্ষমার সুযোগ রেখেছেন। পদে পদে আমরা তার এহসানের শিকার হচ্ছি।
সেই আল্লাহই কিন্তু আপনাদেরকেও এহসান করার কথা বলেছেন। পবিত্র কোরআনে তিনিই নির্দেশনা দিয়েছেন যে আপনারাও এহসান করুন। আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতালা বলেছেন ইন্নাল্লাহাবিহান। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা ন্যায় পরায়ণতার আদেশ তোমাদেরকে করেছেন। ওহসানি পরস্পরে তোমরা এহসান করবা, দয়া করবা, অনুগ্রহ করবা এটা আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপরে নির্ধারণ করে দিয়েছেন, ফরজ করে দিয়েছেন। আরো তিনি বলতেছেন যারা নিকট আত্মীয় আছে এদেরকেও তোমরা তাদের হক দিয়ে দাও। এক্ষেত্রেও আল্লাহ সুবহানাহুতালা এহসান করার কথা বলেছেন। আগের তিনটা গেল আল্লাহর নির্দেশ আল্লাহর আদেশ ন্যায় পরায়ণতা বজায় রাখা এহসান করা নিকট আত্মীয়দের হক যথাযথভাবে দিয়ে দেওয়া এই তিনটা হচ্ছে আল্লাহর নির্দেশ আর এখন যে কথা আল্লাহ তালা বলতেছে এটা আল্লাহর নিষেধ তিনি বলতেছে যে তিনি আল্লাহ নিষেধ করেছেন মিনাল মুনকার অশ্লীল এবং ফাহেশা কাছ থেকে সীমালঙ্ঘন থেকে আল্লাহ তাআলা আপনাদেরকে এতক্ষণ কিছু ওয়াজ করলেন কিছু নাসিহাত করলেন লাল্লাকুম তাকারুন যাতে করে তোমরা আল্লাহকে স্মরণ করতে পারো আল্লাহকে মনে করতে পারো আল্লাহর অনুগ্রহকে তোমরা বুঝতে পারো যে আল্লাহ সুবহানাতালা আমাদের জন্য কি চাচ্ছেন আর কি চাচ্ছেন না সুতরাং সেই আল্লাহ তাআলাই কিন্তু এহসানকে আপনাদের উপরে বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তিনি একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন ইয়া রাসূল্লাহ হে আল্লাহর রাসূল আনবিলনাফিলজাহ জাহেলি যুগে আমরা যে অপরাধগুলো করেছি যে পাপগুলো করেছি সেই জাহিলী যুগের অপরাধের কারণে আমাদেরকে কি পাকড়াও করা হবে আমরা কি আল্লাহর কাছে গ্রেফতার হব আমরা তো জাহেলী যুগে ইসলামের পূর্বে অনেক অপরাধ করেই ফেলতে পারি তো এজন্য কি আল্লাহর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে আমাদেরকে? তখন রাসূ সলাম বললেন মান আহসানাফিল ইসলাম যে ব্যক্তি ইসলাম পাওয়ার পরে এহসান করবে এহসান মানে একটা ব্যাপক বিষয়। আপনি শুধু এহসানকে যদি মানুষের সাথে দয়া করা এতটুকুতে সীমাবদ্ধ রাখেন তাহলে আপনি ভুল বুঝবেন। এহসান হচ্ছে আখেরাত পরকালীন জীবনের জন্য যতগুলো প্রস্তুতি আছে এই দুনিয়াতে সেই প্রস্তুতিগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করা।
এটাই এহসান। তো যারা দুনিয়াতে এহসান করবে সুচারু রূপে ভালো কাজ করবে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা তাদেরকে পাকড়াও করবেন না। আর ইসলাম যারা ইসলাম পাওয়ার পরেও খারাপ কাজ করবে মন্দ কাজ করবে। তাহলে জাহেলী যুগে যে অপরাধ করেছে তার জন্যও ধরা হবে। আবার ইসলামী যুগে যতটুকু অপরাধ করেছে এটার জন্য তাকে ধরা হবে। তার মানে এহসানের গুরুত্ব অনেক। আপনি এখন মুসলিম মানে আপনাকে এখন মুহসিন হতে হবে কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন ইন্নাল্লাহা ইহিব্বুল মহসিন নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মহসিনদেরকে ভালোবাসেন জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্র যারা এহসান দিয়ে সাজান দয়া অনুগ্রহ দিয়ে সাজান আল্লাহ তালা তাদেরকে ভালোবাসেন সম্মানিত উপস্থিতি এই এহসান শিখাবার জন্য এবাদতে এহসানটা কি এটা শিখাবার জন্য কিন্তু আল্লাহ তাআলা জিব্রাইল আলাইহিস সালাতুওস সালামকে মানুষের আকৃতি দিয়ে রাসূল কাছে পাঠিয়েছিলেন।
হাদিসে জিবরীল যাকে বলা হয় লম্বা একটা হাদিস ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলতেছেন বাইনা রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম আমরা একদিন রাস কাছে বসেছিলাম একজন ব্যক্তি হঠাৎ করে চলে আসলেন সাদা কাপড় কালো কুচকুচে চুল সফর থেকে আসলে একটা মানুষকে যে ক্লান্ত দেখায় ওইরকম ক্লান্তি বোধও তার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের কোন সাহাবী এই লোকটাকে চিনতে পারলো না যে সাদা ধবধপে কালো কুচকুচে চুল সাদা ধবধপে পোশাক হঠাৎ চলে আসলেন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাসের কাছে এসে বসে পড়লেন এমনভাবে বসলেন তার দুই হাটুকে রাসূলের হাটুর সঙ্গে লাগিয়ে দিলেন দুই হাতকে তার উরুর উপরে রাখলেন। মানে যেভাবে ওস্তাদের সামনে ছাত্র বসেন, আদবের সাথে বসেন তাশাহুদের সূতে সেভাবে বসে পড়লেন।
বসে জিজ্ঞেস করছে ইসলাম। মোহাম্মদ আপনি আমাকে ইসলাম সম্পর্কে জানান ইসলাম কি? তখন রাসূলাম পাঁচটা জিনিসের কথা বললেন ইসলাম হচ্ছে কালিমাশাহাদাতাইন। আল্লাহকে এক বলে সাক্ষ্য দিবে। মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এটা বলে সাক্ষ্য দিতে হবে। সালাত প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যাকাত প্রদান করতে হবে। রমাদানের সিয়াম পালন করতে হবে। সামর্থ্য থাকলে মক্কায় গিয়ে হজ করে আসতে হবে। এই পাঁচটা কথা তিনি ইসলামের ক্ষেত্রে বললেন। এরপরে দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস করলেন ঈমান কি জিনিস? ঈমান সম্পর্কে বলেন তখন রাসূ ছয়টা জিনিস বলেছিলেন বিল্লাহিস আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবা। রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনবা। আসমানি যত কিতাব আছে এগুলোর প্রতি ঈমান আনবা। ফেরেশতা মন্ডলীর প্রতি ঈমান আনবা এবং পরকালের প্রতি ঈমান আনবা এবং ওবিল কাদারহ তাকদীরের যেটা ভালো এবং মন্দ এগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবা।
এটা হচ্ছে ঈমান। এরপরে তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন আপনি আমাকে এহসান সম্পর্কে সংবাদ দিন। এহসান কি জিনিস? তখন রাস বলেছিলেন এমনভাবে তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি আল্লাহকে দেখছো যেন আল্লাহ তোমাকে দেখতেছে যদি তুমি আল্লাহকে দেখতে না পাও তাহলে মনে করবা যে আল্লাহ আমাকে দেখতেছে মানে এবাদতের ক্ষেত্রে এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণবাদতের ক্ষেত্রে আহবাল্লাহ আল্লাহ বাদতের ক্ষেত্রে এটা আমাদের অধিকাংশ মানুষের মাঝে নাই। অধিকাংশ মানুষের মাঝে না থাকার কারণে এবাদত করার পরেও আমরা মনে তৃপ্তি পাই না। কারণ ইবাদতে এহসান নাই। তাহলে এবাদতে এহসানটা কি? যে আল্লাহ আপনাকে আপনি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছেন। তো যদি আপনি আল্লাহকে দেখতে না পান এটা তো সম্ভবও নয়।
তাহলে মনে করতে হবে যে আল্লাহ আপনাকে দেখতেছে। আল মুশাহাদা মরাবা। আল্লাহকে আপনি দেখছেন নয়তো আল্লাহ আপনাকে দেখছে। এই অনুভূতিটা এবাদতের ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর এটা একটা আকিদাগত বিষয় এবং বিশ্বাসের জিনিস। এটা এই অনুভূতিটা সবার মাঝে থাকতে হবে। এবাদতের ক্ষেত্রে। যদি আপনি এবাদতের ক্ষেত্রে এহসান না রাখেন তাহলে ওই এবাদত করে আপনি সাফল্য মন্ডিত হবেন না। আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলেছেন আলহাজ্মাত। হজ হচ্ছে নির্দিষ্ট কয়েকটা মাস। নির্দিষ্ট কয়েকটা মাসে মক্কায় গিয়ে মানুষ হজ করে। তো হজে যাওয়ার পরে সেখানে কোন পাপাচারিতা নাই। সেখানে কোন অশ্লীলতা নাই। সেখানে কোন ঝগড়া বিবাদ তর্ক-বিতর্ক নাই। এখন আপনি মক্কায় গিয়ে যদি ঝগড়া বিবাদ করেন, তর্ক লিপ্ত হন, অশ্লীলতা করেন, ফাহেশা কথা বলেন, তাহলে আপনি আপনার হজের সাথে এহসান করেননি।
এই হজ আপনাকে সাফল্য মন্ডিত করতে পারবে না। এবং হজ থেকে ফিরে আসার ক্ষেত্রে রাসূলাম কি বলেছেন? হজ করে যে ব্যক্তি ফিরে আসলো সে এমনভাবে ফিরে আসলো ওই দিনের মত ফিরে আসলো যেন তার মা তাকে সেই দিনে জন্ম দান করল। সুবহানাল্লাহ। মায়ের পেট থেকে জন্ম নিলে যেমন কোন অপরাধ থাকে না। নিষ্পাপ হয়ে জন্ম নেয়। কোন ব্যক্তি যদি হজ থেকে ফিরে আসে তাহলে ওই ব্যক্তি যেন নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসলো। এখন আপনি হজ্ থেকে ফিরে আসার পরে বিভিন্ন অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয়ে গেছেন। সালাত পড়ছেন না। অশ্লীল কথা বলছেন, সুদে লিপ্ত হয়ে গেছেন, ঘুষে লিপ্ত হয়ে গেছেন। তাহলে আপনি আপনার এই এবাদতের খাতে এহসান করেননি।
এহসান মানে হচ্ছে মোরাকাবা থাকতে হবে যে আল্লাহ আমাকে দেখতেছে। এখন আপনি যদি এটা বিশ্বাস করতেন যে আমার সাথে আল্লাহ আছে। আল্লাহ আমাকে দেখতেছে ২৪ ঘন্টা পর্যবেক্ষণ করে আমি ঘুমাই। ওই সময় আল্লাহ আমাকে দেখতেছে মানে তিনি আমার সাথে আছেন। তো এই আল্লাহ যদি আসলে বাস্তবেও থাকতেন এখানে মানে তার অস্তিত্ব নিয়ে সরাসরি থাকতেন তাহলে কি আপনি অপরাধে লিপ্ত হতে পারতেন? হজে গিয়ে কি গুনাহ করতে পারতেন? যদি আল্লাহ তার সত্যাগতভাবে আপনার সাথে থাকতেন। তার সরাসরি অস্তিত্ব নিয়ে আপনি কিন্তু কখনোই করতে পারতেন না। তাহলে আল্লাহ তাআলাকে আপনি দেখতে পাচ্ছেন না। সেই মোরাকাব আপনার মধ্যে নাই। সে এহসান আপনার মধ্যে নাই।
এজন্য হজে গিয়েও পাপাচারী লিপ্ত হচ্ছেন। হজ থেকে ফিরে এসেও ভালো হওয়ার কথা ছিল কিন্তু পাপে লিপ্ত হচ্ছেন। মনে রাখবেন এটা এবাদতের ক্ষেত্রে এহসান হয়নি। এটা আপনার জন্য কাজে আসবে না। ঠিক একইভাবে সিয়ামের ক্ষেত্রে রাস বলেছিলেন যে সিয়াম হচ্ছে আমার জন্য। আল্লাহ বলেছেন আমি সিয়ামের প্রতিদান নিজে দিব। যখন তোমাদের কারো সিয়ামের দিন এসে যাবে ফালায়ার সে ব্যক্তি যেন অশ্লীল কথা না বলে কারো সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত না হয় পাপাচারিতা যেন না করে যদি কেউ জোর করে মারতে আসে গালি দিতে আসে সে যেন বলে ইন্নি আমি একজন রোজাদার মানুষ তুমি আমার সাথে এরকম করিও না আবার অন্য জায়গায় রাস কি বলেছেন যেলাইসামিনা শুধু খানাপিনা থেকে বিরত থাকার নাম সিয়াম নয়।
ইন্নামায়া গুনাহ পাপাচার অশ্লীল কথা এবং কর্ম থেকে বিরত থাকার নাম হচ্ছে সিয়াম। আবার অন্য জায়গায় রাসূ বলেছেন যে ব্যক্তি সিয়াম পালন করার পরেও গুনাহ পাপাচারিতায় লিপ্ত থাকলো ওই ব্যক্তির সিয়ামে আমার আল্লাহর কোন প্রয়োজন নাই। তাহলে এখন আপনি সিয়াম পালন করছেন আবার অন্যায় কাজ করতেছেন। এই যে কাজগুলো আল্লাহ রাসূল নিষেধ করলেন ওগুলোই করতেছেন। তাহলে আপনি আপনার সিয়ামের সাথে এহসান করেননি। আপনার ভেতরে আল্লাহর মোরাকাবা নাই। আল্লাহর মুশাহাদা নাই। আপনি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছেন অথবা আল্লাহ আপনাকে দেখতেছে। এই চিন্তা চেতনা আপনার মধ্যে নাই বিধায় আপনি সিয়াম করার পরে অশ্লীলতায় লিপ্ত হচ্ছেন। আপনি সিয়ামের সাথে এহসান কোনদিনও করেননি।
রাসূ আল্লাহ তালা নিজে সালাতের ব্যাপারে কোরআনে বলেছেন ইন্না মুনকার নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে অশ্লীল গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে মানে যে ব্যক্তি সালাত আদায় করবে প্রকৃত নামাজী হবে ওই ব্যক্তি অশ্লীল কাজ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করবে যদিও শয়তান কখনো প্ররোচনা দিয়ে কাজ করায়ও সেখান থেকে দ্রুত সে ব্যাক করবে ফিরে আসবে তওবা করবে কিন্তু দেখা যাচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পড়ে আরো বেশি এক্সট্রা নফল সালাতগুলো পড়ার চেষ্টা করে কিন্তু গুনাহ সে ছাড়তে পারছে না। সামান্য অপরাধ প্রবণ কাজকর্ম সে ছাড়তে পারে না। আমাদের অনেকের অভ্যাস এটা আমরা সালাত পড়ি কিন্তু গুনাহ ছাড়তে পারেনি। তার মানে আপনি এবাদতের সাথে সালাতের সাথে এহসান করেননি।
আপনার মাঝে আল্লাহর মোরাকাবা নাই। আল্লাহর ধ্যান নাই। আপনার মাঝে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলার তিনি তাকে যে উপস্থিতি মনে করবেন তিনি আমাকে দেখছেন এই চিন্তাভাবনা না থাকার কারণে আপনি সালাত আদায় করার পরেও গুনাহে লিপ্ত হচ্ছেন ওইযে এই ব্যক্তির কথা আপনাদের জানা আছে রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম তিন তিনবার তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন যে যাও তোমার সালাত তুমি পড়ইনি আবার গিয়ে সালাত পড় আবার গিয়ে পরে এভাবে তিনবার ফিরিয়ে দেওয়ার পরে লোকটা চতুর্থবার এসে কি বলেছিল আল্লাহর রাসূল আমি এর চেয়ে বেশি এহসান সালাতের ক্ষেত্রে আর করতে পারবো না। মানে আমি তো চেষ্টা করছি তিনবার আপনি আমাকে বললেন সালাত পড়নি এর চেয়ে ভালো করে আমি আর পড়তে পারবো না।
আর কোন এহসান আমার মধ্যে নাই। তখন রাসকে বললেন আপনি আমাকে শিখিয়ে দেন কিভাবে আমি সালাত পড়ব। রাস তাকে শিখিয়ে দিলেন যে যখন তুমি সালাতে দাঁড়াবে সালাতের জন্য আসতে চাইবে। সুন্দর করে আগে অযু করতে হবে পশ্চিম দিকে অর্থাৎ কিবলামুখী হতে হবে এরপর আল্লাহু আকবার বলতে হবে এবং কোরআনের সবচেয়ে সহজ যেটা তোমার জানা আছে সেটা তুমি সালাতে পাঠ করার চেষ্টা করবে এরপরে ধীরস্থিরভাবে সুন্দর করে রুকুতে চলে যাবে। এরপরে যখন রুকু থেকে উঠবে হাততাদিলা ধীরস্থিরভাবে সোজা হয়ে সুন্দরভাবে দাঁড়াবে। আবার যখন সেজদায় যাবে ধীরস্থিরভাবে সেজদায় যাবে সেজদা থেকে যখন উঠবেলা ধীরস্থিরভাবে আগে বসবে আবার দ্বিতীয় সেজদায় যাবে না। একটু বসবে দোয়া পড়বে।
এরপর আবার সেজদায় যাবে। এভাবে সালাতের শেষ পর্যন্ত ধীরস্থিরের সাথে তাদিলে আরকানের সাথে যেখানে যেটা নিয়ম কানুন রুকুন আরকান শুরু এবং ওয়াজিবাত গুলো আছে এগুলো যথাযথভাবে তুমি আদায় করবে এটাই হচ্ছে সালাতের সাথে তোমার এহসান এই এহসানটা আমরা অনেকেই করি না এজন্য আমাদের সালাত আমাদের কাজে আসবে না আবু হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু একজন ব্যক্তির ৪০ বছরের সালাতকে তো তিনি নিজেই নাকস করে দিয়েছিলেন সালাত তিনি আদায় করেছেন রুকু এবং সাজদা ঠিকভাবে দিচ্ছিলেন না। তখন তিনি তাকে কাছে ডেকে বললেন মকম সলা এভাবে তুমি কতদিন যাবত সালাত পড়তেছো? তখন তিনি বলল মর ধরে এভাবে সালাত পড়ছি। তখন হুদাফা রাদিয়াল্লাহু তাকে বলেছিলেন মরলাম ৪০ বছর যাবত তুমি কোন সালাতই পড় নাই।
কোন সালাত তুমি পড় নাই। আর এভাবেই যদি মারা যাও তাহলে মতলা গাইরি ফিতরাতি মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু সাল্লাম মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লামের ফেতরাতের আদর্শের সুন্নাতের বাহিরে গিয়ে তুমি মৃত্যুবরণ করলে নাউজুবিল্লাহ। তাহলে আপনার সালাতের সাথেও কিন্তু আপনার এহসান নাই। কিন্তু আমাদের এবাদতের ক্ষেত্রে এহসান অনেক বেশি জরুরি একটা বিষয়। এজন্য প্রত্যেকটা এবাদতের ক্ষেত্রে মনে রাখবেন যে আল্লাহ তালা কিন্তু আপনাকে দেখছেন। তিনি আপনার সাথে আছেন। এটা মনে করে এবাদত করবেন এবং পাপ কাজ থেকে বিরত রাখবেন। এই মুশাহাদা মরাকাবা এটা যদি ঠিক রাখতে পারেন দেখবেন আপনি আল্লাহর অনেক প্রিয় বান্দা হবেন এবং আল্লাহ তাআলা আপনাকে অনেক অপরাধ থেকে দূরে রাখবে এবং ইবাদত করে একটা তৃপ্তি আপনি পাবেন।
যেটা এখন পাচ্ছেন না। কিন্তু আল্লাহর উপস্থিতি কামনা করে যদি আপনি এবাদত করেন তাহলে আপনি একটা অন্যরকম তৃপ্তি পাবেন ইবাদতের মাঝে। এক্ষেত্রে আল্লাহর প্রতি ঈমানের ক্ষেত্রেও এহসান আছে। অনেক মানুষ মনে করেন যে আল্লাহ তাআলা সব জায়গায় বিরাজমান। আল্লাহ তাআলা নিরাকার তার কোন আকার নাই। তাহলে এভাবে যদি আল্লাহকে বিশ্বাস করেন এটা তো আল্লাহর প্রতি ঈমান হলোই না। বরং ঈমানের ক্ষেত্রে এহসানটা আপনি করেননি। মানে আল্লাহ তাআলার যে বৈশিষ্ট্য তার আকারকৃতি আছে লাইসা। তবে সেটা কারো মতো নয়। তার সাথে যেমনটা মানায় এটা তার মত। তিনি সব জায়গায় বিরাজমান নন। তার জ্ঞান সব জায়গায় আছে। তার দৃষ্টি সব জায়গায় আছে।
তার ক্ষমতা পাওয়ার কর্তৃত্ব সব জায়গায় আছে। কিন্তু তিনি সব জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে নাই। তিনি আরশে আজিমে আছেন। যে ব্যাপারে যে ব্যাপারে ইমাম মালিক ইবনে আনাস রহমাতুল্লাহি আলাই তিনি বলেছেন আইসতামালুম। আল্লাহ তালা যে আরশের উপরে আছেন এটা জ্ঞাত বিষয়। মাজহুল কিভাবে আসেন শুয়ে আছেন না বসে আছেন এটা আমাদেরকে জানানো হয়নি এটা একটা অজ্ঞাত বিষয় এটা জানানো হয়নি ওমান ওয়াজিব আর এভাবেই বিশ্বাস স্থাপন করা আবশ্যক আর এ ব্যাপারে কোন প্রশ্ন করাই হচ্ছে বিদাত ইমাম মালেক রাহ্লাহ কথা বলেছিলেন এইযে আল্লাহ তালাকে আপনি সঠিকভাবে বিশ্বাস করাটাও ঈমানের ক্ষেত্রে এহসান নবী মুহাম্মদ সলামের উপর ঈমান আনার ক্ষেত্রেও আমাদের অনেকের এহসান নাই সেটা কিভাবে আমরা রাসকে হাজির নাজির মনে করি রাসূল সাললাম বিভিন্ন মিলাদ মাহফিলে চলে আসেন বিভিন্ন জায়গায় উপস্থিত হতে পারেন রাসূল সাল্লাম নূরের তৈরী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম তিনি জীবিত আছেন হায়াতুন্নবীতে বিশ্বাসী এইভাবে যদি আমরা রাসূল সলামের প্রতি ঈমান নিয়ে আসি এটাও ঈমানের ক্ষেত্রে এহসান হলো না এটা এহসান হয়নি সম্মানিত উপস্থিত অতএব মুহাম্মদ সলাম এবং আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা তারা যেভাবে নিজেদের বৈশিষ্ট্যকে বর্ণনা করেছেন নিজেদের যে সঠিক বৈশিষ্ট্যটা আছে সেভাবেই তাদেরকে বিশ্বাস করাটা আমাদের সঠিক এহসান।
এক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করব এবাদতের ক্ষেত্রে ঈমানের ক্ষেত্রে এহসান বজায় রাখার চেষ্টা করব। এহসান কি? আল্লাহকে তিনি আমরা আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছি। নয়তো আল্লাহ আমাকে দেখছেন এটা মনে করে আমরা এবাদত করব। এবাদতকে সুন্দর করে করব। গুনাহ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করব। আল্লাহ তালা তৌফিক দান করুন। অন্যান্য ক্ষেত্রে এহসান আছেফিল কথার ক্ষেত্রে এহসান আছে যেটা কোরআন হাদিসের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আল্লাহ সুবহানাতালা কোরআনে বলেছেন মুসলিমিন তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কথা কার যেই ব্যক্তি বলে যে আমি আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বান করে নিজেও আমল করে এবং বলে আমি একজন মুসলিম। এই ব্যক্তির চেয়ে শ্রেষ্ঠ কথা আর কার হতে পারে? তার মানে যারা আল্লাহর পথে মানুষকে ডাকে এই দায় আপনিও হতে পারেন।
আপনি আপনার সন্তানকে সালাতের জন্য ডাকেন, স্ত্রীকে এবাদতের জন্য ডাকেন। আপনার প্রতিবেশীকে এবাদতের জন্য ডাকেন। আপনিও একজন দায় আল্লাহ। আপনি আল্লাহর পথে মানুষকে ডাকছেন। তো আপনি যে কথাগুলো বলবেন আল্লাহর পথে দাওয়াত দিতে গিয়ে এই কথার চেয়ে আর কারো কথাকে আল্লাহ তালা শ্রেষ্ঠ বলেননি। এই ভালো পথে মানুষকে ডাকা এটাও হচ্ছে আপনার কথার এহসান। এটাকে বজায় রাখার চেষ্টা করুন। আবার কথার এহসান আরেকটা সেটা হলো অশ্লীল মন্দ কাজ গীবত বদনাম থেকে নিজের জিহবাকে সংযত করা। এটাও কথার ক্ষেত্রে এহসান। রাস বলেছেন কোন মানুষ যদি নবী মুহাম্মদ তিনি বলেছেন আমার জন্য নিজের যেহবা দুই চাওয়ালের মাঝখানে যেহবাকে সংযত করে দুই উরুর মাঝখানে লজ্জাস্থানের হেফাজত করে জান্না আমি তার জন্য জান্নাতের জিম্মেদারী গ্রহণ করলাম সুবহানাল্লাহ আপনি দুই চোয়ালের মাঝখানে দুই ঠোটের যে জেহবাটা এটাকে সংবরণ যেহবাকে অযথা ব্যবহার করিয়েন না।
এ কারণে রাসূল সলামকে প্রশ্ন করা হয়েছিল ইয়া রাসূল্লাহ মাননাজা নাজাতের উপায় কি? কিভাবে মুক্তি পাবো? এই ফেতনাময় দুনিয়া থেকে বাঁচার রাস্তা কি? রাসূ বলেছেন তোমার জিহবাকে বন্ধ করে রাখো। জিহবাকে আটকে রাখো। মুখ দিয়ে একটা কথা বললে সেই কথাকে ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। অস্ত্র তরবারির আঘাতের চেয়েও কথার আঘাত অনেক বেশি। অস্ত্র তরবারির আঘাত একদিন শুকিয়ে যায়। কথার আঘাত অন্তর থেকে শুকায় না। কাউকে তুমি কষ্ট দিয়ে কথা বলো না। কাউকে তুমি গালিগালাজ করো না। কারো গিবাত বদনাম করো না। এটাই হচ্ছে তোমার জেহবাকে সংযত করা। এটা যদি করতে পারো তুমি নাজাত পেয়ে যাবা। রাসূ এভাবে বলেছেন আবার তিনি একই কথা বলেছেন যেদুনিয়া দুনিয়াতে যাদের যেহবা দুইটা হবে।
যেহবা দুইটা মানে চোগলখুরি করে বেড়ায়। আপনার কাছে গিয়ে আমার দোষ বলে আমার কাছে এসে আপনার দোষ বলে এইভাবে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেনমা আল্লাহ তাআলা ওই চগলখুর ব্যক্তির মুখে কিয়ামতের মাঠে আগুনের দুইটা জিহবা তৈরি করে দিবেন নাউজুবিল্লাহ আগুনের দুইটা জিহবা দেওয়া থাকবে এ কারণে রাসূ সলাম নিজের জিহবা ধরে বলেছিলেন এই জিহবায় মানুষকে ধ্বংস করে ফেলে সুতরাং কথার ক্ষেত্রে এহসান হচ্ছে মানুষদেরকে ভালো কথা বলবেন অন্যায় কাজ থেকে দূরে রাখার জন্য কথা বলবেন। আল্লাহর পথে দাওয়াতি কাজ করার চেষ্টা করবেন। এটা কথার ক্ষেত্রে এহসান। আরেকটা হচ্ছে যে আপনি আপনার যেহবাকে সংযত করবেন। যেখানে সেখানে যা তা বলবেন না।
আল্লাহ তালা আমাদেরকে কথার ক্ষেত্রেও এহসানকে বজায় রাখার তৌফিক দান করুন। আমিন। আরো এহসান আছে। আহসান আমল আমলের ক্ষেত্রে কর্মের ক্ষেত্রে এহসান। কর্মের ক্ষেত্রে এহসান। এটা আবার দুইভাবে হতে পারে। একটা হচ্ছে ভালো ভালো কাজ করার মাধ্যমে কর্মের এহসান আরেকটা হচ্ছে আল এহসান বিতারকিল মনকার অন্যায় কাজ গর্হিত কাজগুলো বিরত রাখার মাধ্যমে নিজে বিরত থাকার মাধ্যমে কর্মের এহসানকে বজায় রাখা তার মানে ভালো কাজ করা অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকা এটাও হচ্ছে আপনার কর্মের এহসান ভালো কাজ করেন রাস বলেছেন নিশ্চয়ই মানুষের মৃত্যুর পরে মানুষের সাথে যেই এবাদতগুলো সাক্ষাত করবে তার কাজে আসবে তার একটা এবাদত হচ্ছেলমান আলিমাহু যেই জ্ঞান সে নিজে অর্জন করেছে আবার বিতরণও করছে একটা কোরআন কাউকে দিয়ে গেছে কিনে দুনিয়া থেকে বিদায় হয়ে গেছে একটা মসজিদ তৈরি করে গেছে নিজে একা করতে পারেনি টাকা পয়সা দিয়ে বুদ্ধি পরিশ্রম দিয়ে একটা মসজিদকে দাড় করিয়েছে একটা মুসাফির পথিকদের জন্য একটা ঘর তৈরি করেছে।
একটা নদী পুকুর খনন করে দিয়ে গেছে যেখান থেকে মানুষ পানি নাই সুবিধা গ্রহণ করে এবং নিজের জীবনে সুস্থ থাকা অবস্থায় কিছু দান সাদাকা সে করে গেছে। এগুলো হচ্ছে কর্মের এহসান। এগুলো হচ্ছে আপনার কর্মের এহসান। এই ভালো ভালো কাজগুলো করার চেষ্টা করবেন। আবার রাস বলেছেন সাতটা ধ্বংসাত্মক গুনাহ থেকে বিরত থাকো। সাতটা ধ্বংসাত্মক গুনাহ মানে যেই গুনাহ আপনার আমলকে খেয়ে ফেলে। আপনার আমল পূণ্যকে নষ্ট করে দেয় তার একটা হচ্ছে শিরকুবিল্লাহ। আল্লাহর সাথে শিরিক করা। জাদু করাবিল অন্যায়ভাবে কোন মুসলিম ব্যক্তিকে হত্যা করা। এবং তিনি আরো বলেছেন যুদ্ধের মাঠ থেকে পালায়ন করা। তিনি আরো বলেছেন সুদ খাওয়া।
ইতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা তিনি আরো বলেছেন একজন সতী সাধু মুমিন নারীকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে লজ্জিত করা এ কাজগুলো আমলকে ধ্বংস করে দেয় এগুলো হচ্ছে অন্যায় কাজ এগুলো থেকে বিরত থাকার মাধ্যমেও আপনি আপনার কর্মের এহসান বজায় রাখতে পারবেন আরো এহসান আছে মানে কোরআন হাদিসে এহসানের কথা ছড়িয়ে ছিটিয়ে কত জায়গায় যে আছে সবগুলো তো উপস্থাপন করা সম্ভব নয় বিখালল্লাহ আল্লাহর সৃষ্টির সাথে এহসান করা আল্লাহর সৃষ্টি জীবের সাথে এহসান করা এবাদতের ক্ষেত্রে এহসান আছে কথার ক্ষেত্রে আছে কর্মের ক্ষেত্রে আছে সেইরকম আল্লাহর সৃষ্টি যারা মানে মানুষ মানুষের প্রতি মানুষ পশুপাণীর প্রতি এহসান করবে এই এহসানটাও আছে যে কারণে আল্লাহ সুবহানাহুতালা তিনি প্রত্যেকটা মানুষের জন্য এহসানকে ফরজ করে দিয়েছেন রাস বলেছেনল্লাহ আল্লাহ তালা প্রত্যেকটা বান্দার জন্য এহসান ফরজ করে দিয়েছেন।
যখন তোমরা কাউকে হত্যা করবা উত্তমভাবে হত্যা করো মানে পশুর ক্ষেত্রে অথবা শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে কোন পশুপাণী যদি জবেহ কর উত্তম পদ্ধতিতে জবেহ করবা তোমাদের কেউ যদি পশুপ্রাণীকে জবেহ করতে যায় তাহলে সে যেন ছুরি চাকুকে ধারালো করে নেয় এটাই হচ্ছে এহসান এবং জবেহ করার পরে হাত পায়ের রগ কাটা শুরু করবে না। জীবনটা বের হতে দিবে, ঠান্ডা হতে দিবে, আরাম পেতে দিবে। এরপরে সে গোস্ত কাটাকাটি শুরু করবে। এটা হচ্ছে পশুর প্রতি এহসান। যেটা আল্লাহ তাআলা প্রত্যেকের উপরে লিপিবদ্ধ করেছেন, ফরজ করে দিয়েছেন। তাহলে মানুষের প্রতি কিভাবে এহসান করা যেতে পারে? যে আল্লাহ পশু জবাবে করার ক্ষেত্রে এভাবে এহসান করার কথা বলেছেন।
তাহলে সেই আল্লাহ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব আশরাফুল মাখলুকাত। সেই মানুষের সাথে কিভাবে কথা বলতে হবে? কোন ভাষায় বলতে হবে কিভাবে চলতে হবে মুয়ামালাজ করতে হবে তাহলে এটা নিজেরাই আজ করেন যে একটা পশুর সাথে যদি আল্লাহ এভাবে বিহেভিয়ার করতে বলেন এভাবে চলতে বলেন তাহলে একটা মানুষের সাথে কিভাবে চলতে হবে আর মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এহসান সবচেয়ে বেশি সদাচরণ সবচেয়ে বেশি দয়া অনুগ্রহ পাওয়ার হকদার কে মাতা এবং পিতা এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বেশি হকদার পাওয়ার আপনার কাছে আশরাফ মাখলুকাতের প্রতি আপনি এহসান করবেন। আর সমস্ত সৃষ্টিজীবের সর্বশ্রেষ্ঠ এহসান পাওয়ার হকদার হচ্ছে আপনার বাবা এবং মা। যেটা রাস প্রশ্ন করেছিলেন সাহাবীরা আমার কাছে সবচেয়ে বেশি সদাচারণ এহসান পাওয়ার হক কার? তিনি তিনবার বলেছিলেন তোমার মা, তোমার মা, তোমার মা।
চতুর্থবার বলেছিলেন তোমার বাবা। এরপরে তোমার যারা নিকট আত্মীয় তোমার যে কারাবা আছে যারা তোমার রেহেমের সম্পর্কীয় আত্মীয় এদের সঙ্গে তুমি এহসান করবা। এরপরে তোমার প্রতিবেশী অন্যান্য দূর সম্পর্কীয় আত্মীয়স্বজন এদের সাথে তুমি এহসান করবা। সম্মানিত উপস্থিতি আজকে আমাদের অধিকাংশ মানুষ আল্লাহ তাআলা যার প্রতি এহসান করা সবার আগে ফরজ করেছেন আল্লাহর ইবাদতের পরে কোরআনে পিতামাতার সাথে এহসান করা ফরজ করেছেন আমরা কিন্তু এটা করি না অনেকেই আছেন এহসান করেন তবে সেটা শ্বশুর শাশুড়ির উপরে শ্বশুর শাশুড়কে এহসান করতেছে কিন্তু বাবা মাকে দূরে সরে মনে রাখবেন শ্বশুর শাশুড়ি কিন্তু দুররেহেম না দল আরহাম না তারা কিন্তু আপনার রেহেমের সম্পর্কীয় আত্মীয় না।
আপনি যদি আপনার শ্বশুর শাশুড়ির সাথে কথাও না বলেন, তাদের বাড়িতে নাও যান, দাওয়াত দিলেও যদি না যান, আল্লাহ তাআলা আপনাকে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী হিসেবে কিন্তু কবরে উঠাবেন না। বা হাশরের মাঠে আপনাকে দাড় করাবেন না। কিন্তু আপনি যদি আপনার ভাইয়ের সাথে সম্পর্ক ছিহ্ন করেন, মা-বাবার সাথে সম্পর্ক ছিহ্ন করেন, আপনি কিন্তু এক নম্বর কাতির রাহেম রেহেমের সম্পর্ক ছিহ্নকারী। যার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাম বলেছেন জান্না ও ব্যক্তি কোনদিন জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এ কারণে আমি বলতেছি না শ্বশুর শাশুড়ির সাথে খারাপ ব্যবহার করতে হবে। শ্বশুর শাশুড়ি মুরব্বি মানুষ তাদের সঙ্গে সদাচরণ করবেন, ভালো ব্যবহার করবেন। উত্তম আচরণ করবেন। বাড়িতে আসার জন্য দাওয়াত করবেন।
ভালোমন্দ খাওয়াবেন। কিন্তু আমি বলতেছি যেটা যে বাবা-মায়ের চেয়েও বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া এটা আমরা কোন জায়গা থেকে শিখলাম? সম্মানিত উপস্থিত। অতএব সবচেয়ে বেশি যারা এহসান পাওয়ার যোগ্য সে বাবা-মার প্রতি আপনি এহসান করার চেষ্টা করুন এবং আপনার সন্তানদের প্রতি এহসান করুন। আপনার সন্তানের প্রতি আপনার এহসান হচ্ছে তাকে ছোট্টবেলায় কোরআন শিক্ষা দেওয়া। যেই ফেতরাতের উপরে সেই সন্তান জন্ম নিয়েছে। মানে হিন্দু ইয়াহুদি খ্রিস্টান যার পেট থেকে সন্তান জন্ম নেক তারা সকলে কিন্তু ইসলামের ফেতরাতের উপরে জন্মায়। রাসূল বলেছেন যার বাবা ইয়াহুদ সে ইহুদি হয়ে যাচ্ছে। যার বাবা অগ্নিপূজক সে অগ্নিপূজক হয়ে যাচ্ছে। যার বাবা খ্রিস্টান সে খ্রিস্টান হয়ে যাচ্ছে। যার বাবা মুসলিম সেও মুসলিম হয়ে যাচ্ছে।
তার মানে সবাই ইসলামী ফিতরাতের উপরে জন্ম নেয়। কিন্তু ইসলামী ফেতরাতের উপরে জন্ম নেওয়া একটা সন্তানকে আপনি ছোটবেলায় এহসান করেননি। মানে তাকে কোরআন শিক্ষা দেননি। রাসূলের সুন্নাহ শিক্ষা দেননি। ইসলামের আখলাক গুলো তাকে শিক্ষা দেননি। তাহলে আপনি আপনার সন্তানের সাথে এহসান করেননি। আপনারাও যদি এমনটা হয় তাহলে আপনার বাবা মাও আপনার প্রতি এহসান করেনি। আর এই এহসানটা না করার কারণে আপনার সন্তান আপনার বিরুদ্ধে কিয়ামতের মাঠে অবস্থান করবে। আপনি যদি আপনার সন্তানকে দ্বীনের শিক্ষা না দেন, কোরআনুল কারীমের শিক্ষা না দেন, সুন্নাহের জ্ঞান যদি তাকে পৌঁছাতে না পারেন, ব্যবস্থাও যদি না করেন, আগে বুঝতে পারেননি এখনো যদি না বলেন, তাগিদ যদি না দেন, তাহলে আল্লাহ তাআলা আপনার বিরুদ্ধে সন্তান কিভাবে সাক্ষী দেয় সেই ব্যবস্থা কিয়ামতের মাঠে করে রাখবেন।
সুতরাং আপনি আপনার সন্তানের প্রতিও এহসান করতে ভুলে যাবেন না। আর এহসানটা কি? ছোটবেলায় যে ফেতরাতে সে জন্ম নিয়েছে সেই ফেতরাতের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় কোরআন এবং সুন্নাহের জ্ঞান তার কানে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন। তার বক্ষে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করুন। এরপরে অন্যান্য জ্ঞান তাকে দিবেন। সেটা ভিন্ন কথা। আল্লাহ সুবহানাহুও তাআলা আমাদেরকে এবাদতে কথায় কর্মে এবং সৃষ্টিজীবের প্রতি জীবনের সকল ক্ষেত্রে এহসানকে ভালোভাবে বোঝার, অনুধাবন করার এবং আমাদের জীবনে তার বাস্তবায়ন করার তৌফিক দান করুন। আমিন। আমরা সবাই এহসান বিমুখ চলাফেরা করছি। এহসান আমরা কিছুই বুঝি না। আল্লাহর মোরাকাবা মুশাহাদা আল্লাহ আমাদেরকে দেখছেন এটা আমরা মনেই করি না। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদেরকে এই বিশ্বাসটুকু অর্জন করার তৌফিক দেন যে আল্লাহ আমাদেরকে দেখছেন।
সুতরাং আল্লাহর উপস্থিতি মনে করে আমি সুন্দরভাবে ইবাদত করব। কোন অপরাধ করবো না। কারণ আল্লাহ তো আমাকে দেখছে। এই বিশ্বাস যেন, এই অনুভূতি শক্তি যেন আল্লাহ তালা আমাদের সকলকে দান করেন। সকলে বলি আল্লাহুম্মা আমিন।