লোড করা হচ্ছে ...

খুতবার বিষয়: সূরা আ'লা এর সংক্ষিপ্ত তাফসীর

সূরা আ'লা এর সংক্ষিপ্ত তাফসীর


কুরআনের দলিল
৮৭ : ১ আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামের পবিত্রতা বর্ণনা করুন
৫৬ : ৯৬ অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামে পবিত্রতা ঘোষণা করুন।
১০ : ৬২ মনে রেখো যারা আল্লাহর বন্ধু, তাদের না কোন ভয় ভীতি আছে, না তারা চিন্তান্বিত হবে।
১৯ : ৯০ হয় তো এর কারণেই এখনই নভোমন্ডল ফেটে পড়বে, পৃথিবী খন্ড-বিখন্ড হবে এবং পর্বতমালা চূর্ণ-বিচুর্ণ হবে।
১৯ : ৯১ এ কারণে যে, তারা দয়াময় আল্লাহর জন্যে সন্তান আহবান করে।
৮৭ : ২ যিনি সৃষ্টি করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন।
৮৭ : ৩ এবং যিনি সুপরিমিত করেছেন ও পথ প্রদর্শন করেছেন
৮৭ : ৪ এবং যিনি তৃণাদি উৎপন্ন করেছেন,
৮৭ : ৫ অতঃপর করেছেন তাকে কাল আবর্জনা।
৮৭ : ৬ আমি আপনাকে পাঠ করাতে থাকব, ফলে আপনি বিস্মৃত হবেন না
৮৭ : ৭ আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত। নিশ্চয় তিনি জানেন প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়।
৮৭ : ৮ আমি আপনার জন্যে সহজ শরীয়ত সহজতর করে দেবো।

৮৭ : ৯ উপদেশ ফলপ্রসূ হলে উপদেশ দান করুন,
৮৭ : ১০ যে ভয় করে, সে উপদেশ গ্রহণ করবে,
৮৭ : ১১ আর যে, হতভাগা, সে তা উপেক্ষা করবে,

৮৭ : ১২ সে মহা-অগ্নিতে প্রবেশ করবে।
৮৭ : ১৩ অতঃপর সেখানে সে মরবেও না, জীবিতও থাকবে না।
৮৭ : ১৮ এটা লিখিত রয়েছে পূর্ববতী কিতাবসমূহে;
৮৭ : ১৯ ইব্রাহীম ও মূসার কিতাবসমূহে।

৮৭ : ১৪ নিশ্চয় সাফল্য লাভ করবে সে, যে শুদ্ধ হয়
৮৭ : ১৫ এবং তার পালনকর্তার নাম স্মরণ করে, অতঃপর নামায আদায় করে।
৮৭ : ১৬ বস্তুতঃ তোমরা পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দাও,
৮৭ : ১৭ অথচ পরকালের জীবন উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী।

সম্মানিত মুসল্লিয়ানে কেরাম মা ও বোনেরা আমরা আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'আলার অগণিত শুকরিয়া আদায় করছি যিনি আমাদেরকে আজকের এই জুমার দিনে বায়তুল মামুর চাঁদ জামে মসজিদ ঢাকায় জুমার সালাত আদায় করার জন্য উপস্থিত হওয়ার তৌফিক দান করেছেন এজন্য বলছি আলহামদুলিল্লাহ । অসংখ্য দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আখেরি জামানার নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর উপর তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবায়ে কেরামের উপর । আমরা আজকের জুমায় ইনশাআল্লাহ একটা সূরার উপরে আলোচনা শুনবো এই সূরার নাম হচ্ছে সূরাতুল আ'লা । আমরা এটা জানি সবাই যে আল্লাহর নবী (সাঃ) জুমার দিনের ফজরের সালাতে এবং ঈদের দুই রাকাত সালাতে এই দুইটা সূরা বাঁচাই করতেন, পড়তেন । তো জুমার দিন জুমার সালাতে ফজরে নয় ফজরে সূরা সেজদা এবং হাল আতা আলাল ইনসান এই দুইটা আর জুমার দিনে জুম'আর সালাতে হাল আতাকা হাদিসুল গাশিয়াহ পড়তেন সাব্বি হিসমা রব্বিকাল আ'লা এটা পড়তেন এবং ঈদের সালাতে এটা পড়তেন । তো আমরা এটা শুনে শুনে অনেকের মুখস্থ হয়ে গেছে অনেকে এটা আমরা পারিও, পড়িও । তো আজকে আমরা জানবো এই সূরার মধ্যে কি আছে কি মাহাত্ম্য আছে । আর শুরুতে যে খুতবা আমরা শুনি বা ভুমিকাটা শুনি এটা আমি প্রায় সময় বলি এবং আমরা এটা অনেকেই এই জিনিসটা ধরতে পারিনা দেখবেন একটু খেয়াল করবেন আমাদের দেশের কথাই বলি যত উলামায়ে কেরাম বক্তৃতা দেন ওয়াজ করেন অথবা মিম্বরে খুতবা দেন প্রথমে আরবি ভাষায় কতক্ষণ কিছু বলেন । যেকোনো উলামায়ে কেরাম বক্তব্য দেওয়ার আগে ওয়াজ করার আগে আরবি ভাষায় কিছু বলেন এটারে বক্তব্যের খুতবা বা ভূমিকা, আরবি ভুমিকা বলা হয় । গোটা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের সারাংশ কিন্তু ওই কথার মধ্যে নিহিত আছে কিন্তু প্রায় সময় কি হয় ওই বক্তব্যটা সাধারণত একটা ট্রেডিশন হিসেবে পরিণত হয়ে গেছে যে প্রথমে একটু হুজুর আরবি পড়ে । পড়ে না বক্তব্য শুরু করবে তো ওই সময় শ্রোতার ও খেয়াল থাকে না যে আসলে কি বলতেছেন আর বক্তা যিনি উনি এটার কোন অনুবাদ বা ব্যাখ্যাও করে বোঝানোর প্রয়োজন মনে করেন না । কিন্তু আসল বক্তব্যটা ওখানেই আছে । সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ খুতবা ওই খানেই আছে । এই যে আমরা শুরুতে কি বলি প্রথমে সালাম দেই সালাম দিয়ে বসি তার পরে আজান শেষ হলে হামদ বলি । নাহমাদুহু ওয়া নাসতায়িনুহু এগুলো আল্লাহর হামদ , আল্লাহর প্রশংসা । এটা হচ্ছে খুতবার সুন্নত যে আল্লাহর নবী (সাঃ) যখন খুতবা দিতেন যখন বক্তব্য দিতেন তখন দুইটা কাজ করতেন আল্লাহর প্রশংসা করতেন এবং তার গুণগান করতেন । এই জিনিসটা একটু ভালো করে মাথায় ঢুকিয়ে রাখতে হবে আপনারাও বক্তব্য দিবেন খুতবা দিবেন খুতবার সুন্নত টা । যে আল্লাহর নবী (সাঃ) খুতবার সময় প্রথম কি করতেন ? মিম্বরে যখন আরোহন করতেন তখন সালাম দিতেন আরেকটা হাদিসে আছে আসসালাম কাবলাল কালাম, কথা বলার আগে সালাম দিতে হবে । এজন্য যে সকল মানুষ বক্তব্য দেওয়ার আগে সালাম দেন না তারা এই খুতবার বা বক্তব্যের সুন্নত নিয়ম জানেন না । প্রথমে অনেকে বিসমিল্লাহ বলে শুরু করেন । অনেকে আউযুবিল্লাহ বলে শুরু করেন । প্রথমে হল সালাম ১ নাম্বার কাজ ২ নাম্বার কাজ কি ? হামদুল্লাহ, মাথায় সিরিয়ালটা গেঁথে রাখবেন হামদুল্লাহ মানে কি? আল্লাহর প্রশংসা আল্লাহর গুনগান মূলক কথা । ৩ নাম্বার সানাউল্লাহ আল্লাহর গুন কীর্তি এইগুলা এর পরে কি আমরা কোন কথাটা বলি আম্মাবায়াদ বলার পরে? আম্মাবায়াদু ফাইন্না আহসানালাল হাদিসি কিতাবুল্লাহ । আলহামদুলিল্লাহ । মুখস্থ হয়ে গেছে আপনাদেরও শুনতে শুনতে । এইখানে যত বক্তা বক্তব্য দেন, আর যত খতিব খুতবা দেন এই যে এখানে চার-পাঁচটা কথা আছে শরিয়তের মূল কথাগুলো এখানে ঢোকানো আছে সুবহানাল্লাহ ।এই চার-পাঁচটা কথার মধ্যে সব বক্তব্যের সারনির্যাস বলা আছে । আম্মাবায়াদ এর অর্থ হচ্ছে আমি যে এতক্ষণ প্রশংসা করলাম আল্লাহর হামদ পড়লাম তার গুণগান করলাম এই আম্মাবায়াদ এর অর্থ হলো আল্লাহর গুনগান এবং প্রশংসা করার পর এবার আমি বক্তব্য শুরু করতেছি । কি বক্তব্য শুরু করতেছি ? ফাইন্না আহসানালাল হাদিসি কিতাবুল্লাহ । শুরুতেই এই কুরআনের কথা দিয়া শুরু হচ্ছে যে সবচেয়ে সুন্দর, আহসান অর্থ হচ্ছে সুন্দর না শুধু সবচেয়ে সুন্দর আল-হাদিস মানে বাণী কথা । অর্থাৎ এই পৃথিবীতে যত মানুষ কথা বলে পৃথিবীতে যত মানুষ বক্তব্য দেয় পৃথিবীতে যত মানুষ ভাষণ দেয় পৃথিবীতে যত মানুষ খুতবা দেয় এই খুতবার মধ্যে তারা যত কথা বলে এর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর কথা হচ্ছে আল্লাহর কিতাবের কথা আল্লাহু আকবার। আল্লাহর কিতাবের কথার চেয়ে সুন্দর আর কোন কথা নাই । এর পরের বাক্যটা কি বলি আমরা ওইন্না খাইরাল হাদিয়ি হাদিয়ি মুহাম্মদ (সঃ) । এইখানে কিন্তু মূল বক্তব্য আছে এটা আমরা অনেকে খেয়াল করি না । অনেকে অর্থও বুঝি না । ওইন্না খাইরাল হাদিয়ি সবচেয়ে উত্তম পথপ্রদর্শক, প্রথমে পাইলাম যে কথা বলার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম কথা সুন্দর কথা হচ্ছে আল্লাহর কথা যেটা আল্লাহ কুরআনে বলেছেন । এবার আমি যদি পথপ্রদর্শক কে সবচেয়ে ভাল এই চিন্তা করি তাহলে এখানে বলা আছে ওইন্না খাইরাল হাদিয়ি হাদিয়ি মুহাম্মদ (সঃ) । যে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যে হেদায়েত, মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যে রাস্তা তিনি যে পথ প্রদর্শন করেছেন এটা হচ্ছে সারা পৃথিবীর যত মানুষ পথ দেখায় যত পথ দেখায় তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম এবং সবচেয়ে সঠিক পথ হল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পথ সুবহানাল্লাহ ।এর পরে আমরা কি বলি ওয়াশাররাল উমুরি মুহদাসাতুহা, শাররাল উমুর মানে কি? একটু বুঝতে হবে শাররাল মানে কি? মন্দ । শাররাল মানে মন্দ আর উমুর মানে কাজ, বিষয় ।মুহদাসাতুহা মানে নব আবিষ্কৃত নতুন জিনিস । দেখেন আল্লাহর ভূমিকায় এই কথাগুলো বারবার বলেছেন এবং সব বক্তা আরবিতে এটা বলেন কিন্তু আমাদের সমস্যাটা বাঁধছেই এই জায়গায় যে “শাররল উমুরি মুখদাসা তুহা” তার মানে হচ্ছে ইসলামের মধ্যে যা কিছু নতুন আছে সবকিছু সবচেয়ে খারাপ কাজ । তার মানে যত আমল দলিল দ্বারা প্রমাণিত নয় বেদাআতের মধ্যে পড়ে যায় এগুলো সব কি খারাপ কাজ । এরপরে “অশাররল উমুরি মুখদাসা তুহা অকুল্লা মুখদাসাতিন বিদায়া” প্রত্যেক নতুন আবিষ্কৃত যত এবাদত-বন্দেগি আছে সব হইল বেদায়াত । “অকুল্লা বেদায়াতিন দলালা” আর যত বেদাতি কাজ আছে সব হলো গোমরাহী । “অকুল্লা দলালাতিন ফিন নার” আর সব গোমরাহী কোথায় যাবে জান্নাতে না জাহান্নামে ? জাহান্নামে । এত সুন্দরভাবে এই কথাগুলি সেটআপ করা মানে এক মিনিটের বক্তব্যের মধ্যে টোটাল ইসলামী শরীয়ত টা ঢুকে গেছে, কি সবচেয়ে সুন্দর কথা হচ্ছে আল্লাহর কথা । আল্লাহর কোরআন পড়, বুঝ আমল করো । আর যদি তুমি সবচেয়ে ভালো পথ প্রদর্শনকারী চাও, যে মানুষকে ভালো পথ দেখাইতে পারে হেদায়েত দিতে পারে তাহলে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর পথ খুঁজে খুঁজে বের করো তার আদর্শ তার সুন্নত, তার তরিকা মেনে চলো, আর যত মানুষ যা কিছু দুনিয়াতে নতুন নতুন এবাদত-বন্দেগি আবিষ্কার করে বসেছে এগুলা সব হচ্ছে সবচেয়ে খারাপ কাজ এগুলো হচ্ছে বেদাআত এগুলা হচ্ছে গোমরাহী এগুলা ঠিকানা হচ্ছে কোথায় জাহান্নাম । এর চেয়ে সুন্দর বক্তব্য আর নাই । যত বক্তব্য দিবেন আপনি, যত ওয়াজ করবেন এই কথার চেয়ে সুন্দর কথা আর নাই ।

এবার আমরা আল্লাহর কিতাব যখন “আহসানুল হাদিস “ সবচেয়ে উত্তম বাণী এখান থেকে একটা সূরার উপরে আলোচনা শুনি ইনশাআল্লাহ । সূরা আল আ'লা, এটার মধ্যে ১৯ টা আয়াত আছে । এই সূরাটা নাযিল হয়েছে মক্কী জীবনে । এটা মাক্কিয়া সূরা । এর পরে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'য়ালা এই সূরার শুরুটা করেছেন এইভাবে, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম । “সাব্বিহ হিসমা রব্বিকাল আ'লা“ সাব্বিহ এই শব্দগুলোর সাথে আপনাদের পরিচয় করানোর জন্য আমি এগুলা পড়তেছি আপনারা আল্লাহর বক্তব্যটা ধারাটা খেয়াল করবেন আর কুরআনের শব্দ গুলোর সাথে পরিচয় হওয়ার চেষ্টা করবেন । এটাই আমাদের বেশি দরকার । সাব্বিহ এটা হচ্ছে আদেশসূচক ক্রিয়া, এখানে একটা আদেশ আছে , অর্ডার আছে । এই অর্ডার টা কিসের? আল্লাহ সূরা টা শুরু করছেন আদেশ দিয়ে, কিসের আদেশ? সাব্বিহ, তার অর্থ হচ্ছে তুমি তাসবিহ পড়ো । তাসবিহ মানে কি? পবিত্রতা বর্ণনা করা, মাহাত্ম্য ঘোষণা করা, আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যে পবিত্র তিনি যে মহান তিনি যে সব ধরনের বাজে কাজ, সব ধরনের বাজে জিনিস থেকে তার সত্তাগত দিক থেকে পবিত্র গুণগত দিক থেকে পবিত্র এই কথাটা আমরা যেন ঘোষণা করি , আমরা যেন বর্ণনা করি , জবানের মাধ্যমে কাজের মাধ্যমে এই জন্য আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে এখানে নির্দেশ প্রদান করলেন সাব্বিহ তুমি পবিত্রতা ঘোষণা করো , কার? আমরা তো যে যেটা বুঝি আমরা যে যার অনুসরণ করি তার গুণগান তার পবিত্রতা বর্ণনা করতে করতে শেষ করে দেই ।

আল্লাহ বলছেন না সবাই ভুল করতে পারে, কিন্তু আল্লাহ সুবহানাতায়ালা হচ্ছেন সবচেয়ে পবিত্র । সাব্বিহ তুমি পবিত্রতা ঘোষণা করো হিসমা রব্বিকাল আ'লা তোমার সুউচ্ছ, সুমহান রবের নামের । তাহলে এই আয়াতটা যখন নাযিল হয় তখন এই “সাব্বিহ হিসমা রব্বিকাল আ'লা” নাযিল হওয়ার পর আল্লাহর নবী (সাঃ) এর উপরেতো নাযিল হয়েছে । তিনি এই তাসবিহ এর আমল টা কিভাবে করবেন? তিনি একটা সুন্দর নিয়ম করলেন যে এটা নাযিল হওয়ার পরে সাহাবায়ে কেরামকে বললেন যে এই “সাব্বিহ হিসমা” এর আমল টাকে তোমরা সেজদার মধ্যে রাখ । অর্থাৎ সিজদায় গিয়ে আমরা কি বলি “সুবাহানারাব্বিয়াল আ'লা” এই আদেশ বাস্তবায়ন ।

আর আরেক আয়াতে আছে “ফাসাব্বিহ বিস্মি রব্বিকাল আযিম” তুমি তোমার মহান রবের তাসবিহ বর্ণনা করো । এই “ফাসাব্বিহ বিস্মি রব্বিকাল আযিম” যেটা সূরা ওয়াকিয়ার মধ্যে আছে । এটাকে আমরা রুকুর মধ্যে বাস্তবায়ন করি । সেটা কখন কি পড়ি রুকুতে গিয়া রুকুতে যাইয়া “সুবহানা রব্বিয়াল আযীম” আমি আমার মহান রবের তাসবিহ গুনোগান বর্ণনা করতেছি । এ আদেশ দেয় আল্লাহ যখন করলেন তখন আল্লাহর কয়েকটা সিফাত গুণ এখানে বর্ণনা করলেন । একটা জিনিস আমাদের মনে রাখা দরকার যতদিন পর্যন্ত খুব ভালো করে বুঝবেন যতদিন পর্যন্ত আমরা আল্লাহর সাথে পরিচিত না হব , আল্লাহর সিফাত সম্পর্কে না জানবো আল্লাহর গুণ সম্পর্কে না জানবো ততদিন পর্যন্ত আল্লাহর সাথে বন্ধুত্ব হবে না । আবার বলতে পারেন আল্লাহ সাথে বন্ধুত্ব মানে আবার কি আল্লাহ সাথে বন্ধুত্ব কেমনে করা যায় । যারে দেখি না , যার অবস্থান বুঝি না , তার সাথে আমার বন্ধুত্ব কেমনে হয় । বন্ধুত্ব আরেকজনের সাথে একজন করে যাকে দেখে যার দেখা পায় কথা বলতে পারে, আল্লাহর সাথে আমরা কথা বলতে পারি না , আল্লাহ সাথে আমাদের দেখা-সাক্ষাৎ হয় না , আল্লাহর সাথে আবার বন্ধুত্ব কেমনে হয় । কোরআন মজীদে আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা তাঁর হাতে বন্ধুত্বের কথা বলেছেন ।

“আলা য় ইন্না আওলিয়া - আল্লা-হি লা-খওফুন ‘আলাইহিম্ অলা-হুম্ ইয়াহ্যানূন্” সূরা ইউনূসের এই আয়াতে আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা বলছেন সাবধান আল্লাহর বন্ধু যারা হয় তাদের কোন ভয় নাই চিন্তাও নাই । আল্লাহর বন্ধু , ঈমানদার রা হয়, এক ঈমানদার আরেক ঈমানদার বন্ধু হয় । আল্লাহ ঈমানদারের বন্ধু হন, নবী-রাসূলরা ঈমানদারদের বন্ধু হন । এরা পরস্পরের বন্ধু । এখন আল্লাহর সাথে বন্ধুত্বের মানে কি আল্লাহর সাথে বন্ধুত্বের মানে হচ্ছে আল্লাহর মহব্বত, আল্লাহর ভালোবাসা, আমার অন্তরে সবসময় জাগ্রত থাকবে । তাহলে কি হবে আমি যখন আল্লাহকে চিনবো, আল্লাহর ভালোবাসা আমার অন্তরে থাকবে তখন আমি আমার সময় শ্রম মেধা আমার সব শক্তি আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে ব্যয় করবো । এইভাবে আল্লাহর সাথে আমার একটা অদৃশ্য মহব্বত সম্পর্ক বন্ধুত্ব তৈরি হয়ে যাবে । আমি আল্লাহকে দেখব না কিন্তু আল্লাহকে আমি অনুভব করতে পারব ।

আমি আল্লাহর সাহায্য সরাসরি দেখতে পাচ্ছিনা যে আল্লাহ আমাকে ১০ টাকা হাতে দিয়ে গেছেন বান্দা তোমারে আমি দশ টাকা দিয়ে গেলাম একটা রূপ নিয়ে আসছেন এটা দেখবো না । কিন্তু আমি বুঝতে পারব যে আমার আল্লাহ আমাকে এই মুহূর্তে দয়া করেছেন । এই মুহূর্তে আমার আল্লাহ আমাকে রহমত করেছেন । আমি অনেক অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি আমার শরীর পীড়ায় ভরে গেছে হঠাৎ করে আমার আল্লাহ আমাকে সুস্থ করে দিয়েছেন । হঠাৎ আমার টাকা পয়সা নাই বিপদে পড়ে গেছি এমন ভাবে আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেছেন আমি বুঝতেও পারিনা এগুলো আল্লাহ বলছেন, তুমি আল্লাহর এই যে আল্লাহর সাথে বন্ধুত্ব করলে আল্লাহর মদত আল্লাহ এই বন্ধুত্বের প্রতিদান আল্লাহর এই সাহায্য কিভাবে তোমার কাছে আসবে না বান্দা এটা হিসাব করে পাবে না । এটা বুঝতেও পারবেনা । আল্লাহ প্রথম ধারণা হচ্ছে “আল-আ'লা ” সিজদার মধ্যে যে আমরা বলি “সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা” এখানে আল্লাহ বললেনঃ “সাব্বি হিসমা রব্বিকাল আ'লা” আ'লা , আলা না অনেকে তাসবিহ টা শুদ্ধ করে উচ্চারণ করতে পারে না । কেমনে পরে জানেন শুনছি তো “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা”, “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা”, “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা” এই ভাবে পড়ে । “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা” এভাবে হয় না, আরে সিজদার মধ্যে গিয়ে তো সময়ও দিতে চায় না । মানে সিজদার মধ্যে গিয়া সময় দিতে চায় না দুই সিজদার মধ্যে বসেও সময় দিতে চায় না । কিন্তু আল্লাহর নবীর রুকু দেওয়া, রুকু থেকে দাঁড়ানো, সিজদা দেওয়ার সিজদা থেকে দুই সিজদার মাঝখানে উঠে বসা “সাওয়াউন” । “সাওয়াউন” মানে কি সমান সমান । এই উচ্চারণটা হচ্ছে “সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা” । আঈন এর উচ্চারণ করতে হবে ।

আল্লাহ সম্পর্কে একটা জিনিস বুঝি আল্লাহর যত সিফাত আছে যত আসমাউল হুসনা আছে এর মধ্যে আল্লাহ সম্পর্কে আল্লাহর কথা মাথায় আসলেই আল্লাহ নামটা উচ্চারণ হলেই আল্লাহর চিন্তা মাথায় আসার সাথে সাথে আল্লাহর প্রথম যে বৈশিষ্ট্য বান্দার মধ্যে বিরাজমান হয় , বান্দার মধ্যে যে কনসেপ্ট তৈরি হয় আল্লাহ সম্পর্কে আল্লাহ মানেই হচ্ছে উপরে, উঁচা । এটা ২ ভাবে, একটা হচ্ছে আল্লাহ অবস্থানের দিক থেকে উপরে তিনি মাটির নিচে থাকে না তিনি জমিনেও থাকেন না, আকাশে অথবা আরশের উপরে অর্থাৎ আল্লাহর অবস্থান হচ্ছে উপর দিকে । আর যত ভালো গূন আছে , যত বৈশিষ্ট্য আছে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার এগুলোও সবার চেয়ে তা তিনি সবকিছু থেকে তিনি উপরে । মানুষ শিরিক করে কিন্তু আল্লাহ শিরিক থেকে কি উর্ধে । এই যে শিরিকের কত অনুষ্ঠান আসতেছে, আর যাচ্ছে । যারা শিরিক করে তারাও তো করতেছে, আর যারা শিরিক করেনাও তারা মজা নিচ্ছে উপভোগ করছে । আর জমিনের কোন জায়গায় যখন একটু সামনে আগানতো, ওই যে পিছনে লোক আছে । জায়গা অনেক আছে একটু সামনে আগান অনেক জায়গা আছে। এখানে একটা কথা ফাকে বলি একটা মারাত্মক ভয়ঙ্কর কথা আল্লাহর জমিনে কোন জায়গায় যদি শিরকি কাজ হয় কি বুঝলেন আল্লাহর জমিনের কোন জায়গায় শিরকি কি কাজ হয় এই শিরকি কাজ মানুষ সহ্য করে নেয় । মানুষ একদল শিরিক করে , আরেক বলে তাকে উপভোগ করে , আরেক দল এটাকে সাধুবাদ জানায় আরেকজন এটাকে স্বাগতম জানায় আর আসমান-জমিন পাহাড় কি করে বলেন তো একটা প্রশ্ন রাখলাম আপনাদের কাছে ।

এটার উত্তর সূরা মারইয়াম পড়লে পেয়ে যাবেন । আল্লাহ সুবাহানাতালা বলছেন যে আসমান জমিন পাহাড় এগুলো থরথর করে কাপা করা শুরু করে দেয় যখন মানুষ আল্লাহ শুরু করে দেয় আল্লাহু আকবার । আসমান সয্য করতে পারেনা । আকাশ মনে হয় যেন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে পড়ে যাবে জমিনে । ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে আকাশ ঠিক থাকতে পারে না কি হচ্ছেটা কি?

এই বিশাল পাহাড় গুলি স্তম্ভের মত আছে জমিনের মধ্যে, পাহাড় যেন উপচে পড়বে এবং জমিন যেন থর থর করে কাঁপা শুরু করে দেবে । এই জন্য যে মানুষ আল্লাহ সন্তান দাবি করে, আল্লাহর পুত্র দাবি করে , আল্লাহর সাথে শরীক করে । এই জন্য আল্লাহ সুবহানাতায়ালা মানুষের মনের মধ্যে প্রথম তার যে ধারণা দিলেন সেই ধারণা টা হচ্ছে “উলুউন” এর ধারণা । কিসের ধারণা উলুউন এর ধারণা অর্থাৎ বান্দা আল্লাহকে তো তুমি চিনলে না । আল্লাহ তো উপরে । তারমানে অবস্থানের দিক থেকেও তিনি উপরে । গুণাগুণের দিক থেকেও তিনি উপরে । যত নোংরা কাজ আছে যত বাজে যা কিছু পৃথিবীতে আছে এগুলোর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নাই । তুমি তার সন্তান পাবা কেমনে? তারতো স্ত্রীও নাই । কিন্তু মানুষ এগুলো বানাইছে । কেমনে বানাইছে? এক দল এই দুনিয়াতে এখনো আছে, অতীতেও চলে গেছে যারা আমরা যেভাবে মানুষের যে পারিবারিক সম্পর্ক তৈরি হয় স্বামী স্ত্রী সন্তান এইভাবে । তারা এইভাবে সেটআপ করে দিয়েছে আল্লাহর ক্ষেত্রে এবং এগুলো কুরআন মজীদে আল্লাহ তুলে দিয়েছেন যে একদল আল্লাহকে স্বামী বানিয়ে ফেলেছে এবং মারিয়াম আলাইহিস সালামকে স্ত্রী বানিয়ে দিয়েছে এবং ঈসা আলাইহিস সালামকে সন্তান , পুত্র বানিয়ে দিয়েছে । আবার আরেক দল আল্লাহর ফেরেশতা যারা আছেন তার সৃষ্টি এদেরকে কন্যাসন্তান বানিয়ে দিয়েছে । এইভাবে মানুষ ধারণা করে বসে আছে আর আল্লাহর আসমান-জমিন পাহাড় বলতেছে সর্বনাশ আমরা তো সহ্য করতে পারতেছি না তোমরা কিভাবে সহ্য করো । তোমাদের কিভাবে সহ্য হয় তোমরা কি করতেছো আল্লাহতো এগুলোর থেকে উপরে ।

যত শিরকি কর্মকাণ্ড হয় আল্লাহ হচ্ছেন সোবাহান তিনি হচ্ছেন এর থেকে পবিত্র এখান থেকে আমরা দুইটা জিনিস পেলাম আল্লাহ সাথে মানায় না এমন যত কাজ আছে এর ক্ষতি বান্দার উপরে আসবে আল্লাহ থেকে পবিত্র । আরেকটা জিনিস হচ্ছে যে আল্লাহর অবস্থান এর ধারণা সম্পর্কে যে সকল মানুষের কনসেপ্ট ঠিক থাকবেনা ইমাম যারা ছিলেন আমাদের যে ইমামসহ শরীয়তের গবেষক তারা এমনও কথা বলেছেন, খুব কঠিন কথা, খেয়াল করবেন আমি বলছিনা আমি আমার বক্তব্যে চেষ্টা করি আমার কোন কথাই আমি বলবো না আল্লাহর কথা বলব, নবীর কথা বলব , সালাফে সালেহীনের ব্যাখ্যা বলবো আপনারা একটু দোয়া করবেন মন থেকে যাতে আমাকেই নীতির উপর থাকার তৌফিক দান করে আল্লাহুম্মা আমীন ।

এমনও কথা আছে সালাফে সালেহীন থেকে যে মানুষটা জানে না খুব কঠিন কথা যে মানুষটা জানে না তার আল্লাহ কোথায় জমিনে না আসমানে সে মুসলমানি হয়নি । সে কাফের রয়ে গেছে । আল্লাহর অবস্থান সম্পর্কে সে এখনো জানেনা সে কাফের রয়ে গেছে সে মুমিন হয়নি । এই হাদিসটা আপনারা জেনে থাকবেন সহিহ মুসলিম এর হাদিস । এক বান্দার তার এক দাসি ছিল কাজ করতো সে একবার রেগে গিয়েছিল ওর উপরে রেগে একটা থাপ্পর মারছে । থাপ্পর মারার পর তার ভিতরে অনুশোচনা আসছে যে কি করা যায় ? আমি তো ভুল করলাম তখন আল্লাহর নবীর কাছে গিয়ে বলল যে আমি ওকে আজাদ করে দিতে চাই কি করা যায় আমি তোকে প্রহার করেছি, মেরেছি । ওকে বলা হয়েছে একজন দাসী ।

তখন আল্লাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম ঐ দাসী কে বললেন বলতো আল্লাহ তুমিকোথায় ? দেখছেন ঈমানের পরীক্ষা করতেছেন । ঈমানের পরীক্ষা হচ্ছে আল্লাহ সম্পর্কে ধারণা দিয়ে । এই যে আয়াত টা “সাব্বিহ হিসমা রব্বিকাল আ'লা“ তোমার সুমহান সুউচ্চ রবের তাসবিহ তুমি গণনা করো । শুনতে-শুনতে আয়াত টারে কতবার শুনছি এই আয়াত মুখস্ত নাই আমি একজন মুসল্লী আছে বিশ্বাস করব না কারণ প্রত্যেক জুমআর সালাতে যারা সুন্নতি কেরাত পড়েন তারা এই আয়াত টা পড়েন কিন্তু এই আয়াতের গভীরে যে কী রয়ে গেছে এখন পর্যন্ত বুঝার চেষ্টা করিনি ।

বলতো হে মেয়ে আল্লাহ কোথায় ? সে কি উত্তর দিয়েছিল “ফিসসামা” আল্লাহ তো উপরে আছেন দেখেন আল্লাহ সম্পর্কে তার ধারনা ঠিক আছে । এই কথাটা বলার পর আল্লাহর নবী ইসলাম ওই লোকটাকে আদেশ করলেন একে তুমি আজাদ করে দাও , একে কষ্ট দিও না , এরমধ্যে ঈমান চলে আসছে আল্লাহু আকবার। সে ঈমানদার হয়ে গেছে । আল্লাহর অবস্থান ক্লিয়ার , আমি সারাটা জীবন যার জন্য আরাধনা করবো , সারাটা জীবন যার এবাদত করব , যার রহমতে যার উছিলায় এই দুনিয়াতে জীবন ধারন করতেছে যার করুনায় আমি জান্নাত পাওয়ার চেষ্টা করতেছি তার অবস্থান তার সিফাত আমি জানিনা । তার গুণাগুণ আমি জানিনা এই জন্যই তো এখনো মসজিদে মানুষ নাই । হাজারো লাখো মানুষ মসজিদের বাহিরে । একটাই কারণ তার মালিককে সে চিনে নাই ।

মালিক কে চিনে নাই, মালিক কে চিনলে মালিকের অর্ডার পালন করত । আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'আলার সম্পর্কে প্রথম ধারণা আমরা কি পেলাম উপরের ধারণা যে আল্লাহ গুনা গুণের দিক থেকে উপরে অবস্থানের দিক থেকেও তিনি উপরে । এত স্স্পষ্ট কথা থাকার পরেও আমাদের দেশে অনেক মানুষ আছে আপনার সব জায়গায় নিয়ে আল্লাহকে বসাবে সব জায়গায় এমন কোন জায়গা নেই যেখানে আল্লাহকে হাজির-নাজির না মনে করবে । এই ধারণা আল্লাহর কোরআনের সাথেও মিলে না হাদীসের সাথেও মিলে না আল্লাহ সবকিছুর উপরে ।

এবার আসেন দুই নম্বর সিফাত দুই নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলছেন “আল্লাযী খলাক্ব ফাসাওয়্যা” আল্লাযী যিনি খলাক্ব সৃষ্টি করেছেন ফাসাওয়্যা অতঃপর সুঠাম করেছেন। এই ফাসাওয়্যা শব্দ টা নিয়ে যদি মানুষ চিন্তা করে তার মাথা হ্যাং হয়ে যেতে পারে । যে এই কথাটার মধ্যে কি আছে । সাওয়্যা শব্দটা আরবি ভাষায় এমন অর্থ বহন করে এক শব্দ দিয়ে এটার অনুবাদ করা ও মুশকিল । অর্থাৎ আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার সৃষ্টি কত বলতে পারবেন কত কিসের কত ক্লাসিফিকেশন এর সৃষ্টি এই দুনিয়াতে জলে-স্থলে আছে এর সংখ্য বলতে পারবেন? মানুষ বলেনা ১৮ হাজার মাখলুকাত এর দলিল আছে বলে আমি জানি না তবে আল্লাহ একটা কথা বলেছেন আল্লাহর তো সৃষ্টি আছে আরো কত সৃষ্টি তিনি সৃষ্টি করেন কতকিছু তিনি আবিষ্কার করেন এই দুনিয়াতে তোমরা কিছু জানোইনা ।

এই সৃষ্টির মধ্যে যে ভারসাম্য রক্ষা করা অবকাঠামোগত ব্যালেন্স রক্ষা করা তার শারীরিক ফিটনেস ব্যালেন্স রক্ষা করা তার মেজাজ তার রিজিক এই যে অবস্থা কাজগুলিকে করে একমাত্র আল্লাহ সুবাহানাতালা করেন । তিনি সুরত দাতা তিনি আকৃতি দাতা । এই একটা কথা যদি সারা জীবন মানুষ চিন্তা করে দেখেন আমরা এই মসজিদ ভর্তি মানুষ আলহামদুলিল্লাহ কিন্তু আমাদের নাম ভিন্ন আমাদের বাপ মা ভিন্ন কিন্তু আমাদের শরীরের অঙ্গ সবার সংখ্যার দিক থেকে সমান । চোখ কান মাথা ইত্যাদির দিক থেকে সমান, সবার একটা মুখ আছে সবার ২টা ঠোঁট আছে কিন্তু সবগুলি মানুষকে এক সারিতে ধরে দাড় করাইয়া দেখেন প্রত্যেকটা মানুষের ফেইসের কাটিং আলাদা আলাদা । মনে হয় যেন একেকজন একেক মেশিন থেকে তৈরি হয়ে আসছে আল্লাহু আকবার ।

এর নাম হচ্ছে মুছউইর তিনি আকৃতি দানকারী । এরপর কথা হলো আল্লাহ বলছেন যে আমি সৃষ্টি করেছি তারপর এই সৃষ্টিকে সুঠাম করে দিয়েছি যার জন্য যে ধরনের গঠন দরকার সেই গঠন দিয়েই আমি সব সৃষ্টিকে সৃষ্টি করেছি । দুই নাম্বার গুন আল্লাহর । সৃষ্টি করার গুন কার? আল্লাহর । মানুষ কি করে মানুষ আল্লাহর সৃষ্টিকে রূপায়িত করে বিভিন্ন জিনিসের রূপ দেয় এই যে মাইক টা এটা মানুষ বানাইছে কিন্তু এর যে জিনিসগুলো দিয়ে তৈরি হয়েছে এইটা এই জিনিসগুলো সে বানায় নাই । এটা আল্লাহর বানানো ।

এরপর ৩ নাম্বার গুণ আল্লাহ কি বললেন এটা আরও মারাত্মক “অল্লাযী ক্বদ্দার ফাহাদা” ক্বদ্দার মানে পরিমাণ নির্ধারণ করা । আরেক অর্থ হচ্ছে তাকদীর নির্ধারণ করা পৃথিবীতে কোন সময় একই পরিমাণ মানুষ আসবে এটা আল্লাহ হিসাব কিতাব করেন । এই হিসাব আল্লাহর । আপনি জন্ম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য হাজার মিশন নিয়ে নেমে যান । সব অ্যাপ্লাই করেন কিন্তু মানুষ যতজন আল্লাহ দুনিয়াতে দিবেন মানুষ ততজন আসবেই । কিন্তু যে এই ক্ষেত্রে অন্যায় আচরণ করবে অন্যায় ব্যবহার করবে আল্লাহর সৃষ্টির ভারসাম্য নষ্ট করার চেষ্টা করবে সে পাপী হয়ে যাবে কিন্তু এই সৃষ্টির সংখ্যা এর পরিমাণ নির্ধারণ করা এটা কার কাজ? আল্লাহর । আপনি ইচ্ছা করলে হ্রদ করতে পারবেন না ইচ্ছা করলে একটা সৃষ্টি আনতে ও পারবেন না দুনিয়াতে । সবকিছু এই যে আল্লাহ বৃষ্টিটা বর্ষণ করেন এটার একটা পরিমান আছে যদি অধিক পরিমাণে বৃষ্টি হয় তালে পৃথিবী তলায়ে যাবে বাঁচবে না কেউ আর বৃষ্টি যদি বন্ধ হয়ে যায় সব শুকিয়ে আপনার ছাই খর হয়ে যাবে কোন উদ্ভিদ জন্মাবেনা মানুষ না খেয়ে মরবে পশুপাখি না খেয়ে মরবে । সবকিছুতে আল্লাহ পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন এটা হচ্ছে তার একটা সিফাত ক্বদ্দার । এর পরের কথা টা কি “অল্লাযী ক্বদ্দার ফাহাদা” এটা আরও মারাত্মক কথা । প্রথমে আল্লাহর সিফাত আমরা জানলাম যে তার তিনি হচ্ছেন রব্ব, তিনি উপরে । সবকিছুর ঊর্ধ্বে ।তারপরে কি জানলাম তিনি সৃষ্টি করেছেন সবকিছু, তারপর কি জানলাম সৃষ্টির মধ্যে কাঠামোগত ভারসাম্য রক্ষা করেছেন । তারপরে কি জানলাম যিনি সব কিছুর পরিমাণ নির্ধারণ করেন, তাকদীর নির্ধারণ করেন । এর পর কথা হচ্ছে তিনি পথ প্রদর্শন করেন । এখানে একটু সুক্ষ কথা আছে পথ প্রদর্শন হেদায়েত এটা দুই রকম কয় প্রকার দুই প্রকার, দুই রকম হেদায়েত । একটা হচ্ছে জান্নাতে যাওয়ার জন্য সঠিক রাস্তা পাওয়ার জন্য শরীয়তের হেদায়েত । আর আরেকটা হচ্ছে প্রত্যেক প্রাণী এই দুনিয়াতে তার হায়াত অনুযায়ী জীবন-যাপন করার জন্য তার যা কিছু দরকার এটা সংগ্রহ করার হেদায়েত ।

আচ্ছা একটা কথা বলি ছোট কথা ধরেণ একটা কুকুর, বা অন্য প্রাণীর কথা ধরেণ, একটা ছাগল গর্ভবতী হয়েছে তার বাচ্চা প্রসব হবে কেউ নাই, মানুষ নাই সে জমিনের মধ্যে ঘাস খাচ্ছে হঠাৎ তার প্রসবের সময় হয়েছে প্রসব হয়ে একটা বা দুইটা বাচ্চা তার প্রসব হয়ে গেছে । মালিক কিন্তু নাই মালিক রেখে গেছে একটা সকাল বেলা সন্ধ্যা বেলায় এসে দেখে কি যে ওই দুইটা বাচ্চা প্রসব হয়ে কতক্ষন তার মা কি করে চুষে ওড় ভেজা অংশ শুকানোর চেষ্টা করে । এর পরে ওই বাচ্ছা গুলা দাঁড়ায় । দাঁড়ানোর পরে মায়ের দুধ খুজে । আচ্ছা এই শিক্ষাটা তাকে কে দিল । এই যে বাচ্চাটা মাটিতে পড়ার সাথে সাথে তার মার ওলান কোথায় আছে ওইখানে সে মুখ দিয়ে ওখানে সে কিভাবে জানলো যে আমি আরেক জগতে চলে আসছি এখন আমার আর রক্তের সাথে খাবারের সংযোগ নাই এখন আমার মায়ের ওলান আছে ওখানে দুধ আছে আমি টানলে ওইটা খেয়ে বাঁচতে পারবো মালিক কিন্তু এখনো ধারে কাছেও নাই মালিক আইসা দেখে বাচ্চা দুধ খায়তাছে এমন ঘটনা অসম্ভব না এই শিক্ষা তাঁকে কে দিল । এটা হচ্ছে “আল্লাযী খলাক্ব ফাসাওয়্যা, অল্লাযী ক্বদ্দার ফাহাদা” । এই হেদায়েত টা আল্লাহই দিয়েছেন তাকে সুবহানাল্লাহ । এই বাচ্চাটার মধ্যে আল্লাহ এই কনসেপ্ট দিয়ে দিয়েছেন যে তুমি এখন বাঁচতে হলে তোমাকে খেতে হবে আর এই খাবার তুমি তোমার মায়ের ওলান থেকে চুষে নিতে হবে । বাচ্চাটা যখন মাটিতে পড়ল তখন পানিতে ভিজা থাকে এই অবস্থায় যদি বেশীক্ষণ থাকে ওইটা মারাও যেতে পারে তার মায়ের মধ্য এই কনসেপ্ট কে জাগিয়ে দিল যে এখন তোমার বাচ্চাটাকে তুমি চুষে ওকে শুকাও । এই হেদায়েত কে দিল ? কোনদিনই স্কুল-কলেজে পড়াইছেন ছাগল আইনা যে এতদিন তো মানুষ পড়াইলাম এবার একটা ছাগল আনি আইনা একটা শিক্ষা দেই হাতে-কলমে যে তুমি যখন বাচ্চা প্রসব করবা তখন তোমার বাচ্চাটাকে চুষে তুমি শুখায়ে ফেলবা যাতে বাচ্চার কষ্ট না হয় । এই শিক্ষাটা কে দিল ? এটা হচ্ছে ফাহাদা “অল্লাযী ক্বদ্দার ফাহাদা”। যিনি ঈমান নির্ধারণ করেন ফাহাদা এবং সবকিছুর মধ্যে পথপ্রদর্শন তিনি দিয়ে দেন । এরপরে এই বাচ্চাটা যখন আরেকটু বড় হল ৫-৭ দিন গেল ১ মাস গেল শুধু মায়ের দুধ খাইছে এবার ঘাস খুজে । এখন আর তার দুধে হচ্ছে না আরও খাবার দরকার তখন ঘাস খুঁজে তাকে কে এই শিক্ষা দিল, কে তারে পড়াইলো যে তুমি এতদিন পরে ঘাস খুঁজবা । ঘাস তোমার খাবার এটা আল্লাহ শিখাই দেয় ।


আল্লাহ সুবাহানাতালা এখানে তাঁর এই সিফাতটা বললেন যে দেখ দুনিয়ার মানুষ আমারে তো তোমরা চিনলানা আমিতো সব কিছু জীবজন্তু সহ মানুষকে সবকিছু আমি শিখাইয়া দেই , এই হেদায়েত টা আমই দান করি । এরপরে আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা বলছেন “অল্লাযী য় আখ্রজ্বাল্ র্মা‘আ” আখ্রজ্বা মানে বের করা , অল্লাযী যিনি , আখ্রজ্বা বের করেছেন , আল র্মা‘আ , র্মা‘আ অর্থ হচ্ছে চারণ ভূমী । যেখানে খেত হয়, ঘাস হয় , গরু ছাগল চড়ে বেড়ায় । এই আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ এর মাধ্যমে আল্লাহ জমিনকে জেতা করেন তাজা করেন আর এর মাধ্যমে জমিন থেকে ঘাস, ফসলাদি উৎপন্ন হয় এই উৎপন্ন হওয়ার মাধ্যমে এটা কি হয় পশু পাখির খাবার হয় আর ক্ষেতগুলো মানুষের খাবার হয় । এরপরে আল্লাহ কি বলছেন “ফাজ্বা‘আলাহূ গুছা-য়ান্ আহ্ওয়া” এরপর আবার তিনি এটাকে আবর্জনায় খর কুটায় পরিণত করেন । ধরেণ ভাদ্র মাসে ধান লাগাইলেন , ধান লাগানোর পরে অগ্রহায়ণ মাসে কাটলেন, কাটার পরে ধান নিয়ে আসলেন বা খর নিয়ে আসলেন, নিচের যে অংশটা থেকে গেল ওটা সার হয়ে যায় । এটা আল্লাহ বলেছেন এটা আবর্জনায় পরিণত হয়ে পচে কালো হয়ে যায় এটা আবার ওই ওই গুরাটাই আবার সার উৎপন্ন করে আবর্জনা পচা সার হয়ে যায় । এরপরে এই পর্যন্ত আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা কি বললেন একটু মনে আনেনতো আল্লাহ প্রথমে তার বললেন যে তাসবিহ পড়তে, কি করতে তার তাসবিহ পড়তে পবিত্রতা বর্ণনা করতে । এবার আল্লাহ বুঝাইয়ে দিলেন যে তুমি পবিত্রতা কেন বর্ণনা করবা না । তুমি তো আসমান জমিনের মতোও হইতে পারলা না তুমি শিরির কেন করবা । তুমি শিরিকের মন্ডপ কেন বানাইবা । তুমি এগুলো যে করতেছো তুমি তো মেনে নিচ্ছ আমার আসমান জমিন তো এগুলা মানে না । জমিন ফেটে পড়তে চায়, আসমান ফেটে পড়তে চায়, পাহাড় থর থর করে কাঁপতে থাকে তারপরও তুমি কেন তোমার রব কে চিনলানা । তুমি তোমার রব কে চিনো তিনি তো আ'লা । সবকিছু থেকে উর্ধে । তারপরে আল্লাহ কি বলেন তিনি সব সৃষ্টি করলেন , সবকিছুর হেদায়াত দিলেন , পরিমাণ নির্ধারণ করলেন , তারপরে ক্ষেত-খামার বাহির করলেন তারপরে আপনার সব কিছুর পথ প্রদর্শন দিলেন এই সব কাজ তিনি করেছেন । এরপরে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা প্রসঙ্গ পাল্টে দিয়েছেন অন্য কথা শুরু করেছেন ।

কি কথা এরপরের আয়াতটা “সানুকরিয়ুকা ফালা-তান্সা য়, ইল্লা-মা-শা-য়াল্লা-হ্” এখানে আল্লাহ নবীর কাছে চলে আসছেন ওহী নাযিলের একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে কি এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার জিনিস আছে আপনাদের সন্তানদের জন্য কাজে লাগবে যদি মনে রাখতে পারেন যাদের ছেলে মেয়ে আছে । আল্লাহ বলছেন , আমি আয়াত টার আগে অনুবাদ করে ফেলি । প্রসঙ্গ টা পরে বলি । আল্লাহ বলছেন সানুকরিয়ুকা অচিরেই আমি তোমাকে পড়িয়ে দিব , ফালা-তান্সা য় আমি পরিয়ে দেওয়ার পর আর তুমি কখনো ভুলবে না “ইল্লা-মা-শা-য়াল্লা-হ্” তবে আল্লাহ যেটা ভুলিয়ে দিতে চান সেটা ভিন্ন কথা । তারপর বলছেন “ইন্নাহূ ইয়া’লামুল্ জ্বাহ্র অমা- ইয়াখ্ফা” তিনি প্রকাশ্য জিনিস জানেন গোপন জিনিস জানেন ।

এই আয়াতটার প্রসঙ্গ টা হচ্ছে আল্লাহর নবী (সাঃ) এর কাছে ওহী নাযিল হচ্ছিল এই সূরাগুলি কার কাছে নাজিল হচ্ছিল নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর কাছে নাযিল হচ্ছিল । এই নাযিল হওয়ার সময় নবীর একটা টেনশন ছিল পেরেশানি ছিল । টেনশন টাকি ? আল্লাহ আয়াতগুলি যাতে তিনি না ভুলে যান এই জন্য খালি জপতেন এবং খালি প্রচুর কষ্ট করতেন পরিশ্রম করতেন । এই কষ্ট দেখে আল্লাহ নবীর প্রতি এহসান করলেন দয়া করলেন । কি করলেন যে শুনো আমি যেহেতু এটা নাযিল করতেছি তোমার মনের ভিতর তোমার শিনার ভিতর এই আয়াতগুলো কিভাবে সংরক্ষিত থাকবে এটাও তো আমি জানি এর হেফাজতের দায়িত্বতো আমি নেব । পূজামণ্ডপে কেন কোরআন যদি হাজার কপিও মুছে দেওয়া হয় , পুড়িয়ে ফেলা হয় , তাতে কি হয়েছে এটাতো আলেমদের অন্তরে আল্লাহর গেঁথে দিয়েছেন । একটা কপি যদি না থাকে দুনিয়াতে হাজার হাজার আলেমদের অন্তর থেকে যেভাবে নাযিল হয়েছে ওভাবে কোরআন বেরিয়ে আসবে এবং হাজারো আলেম আছে, লোক আছে তারা হুবহু ওই ভাবে লেখে ছাপিয়ে বের করে দিবে । কোরআনের কোন সমস্যা হবে না । কোন সমস্যা হবে না । কারণ এর দায়িত্ব নেওয়ার মালিক আপনি আমি ? আমরা তো আমাদের কেই বাচাইতে পারি না গাড়িতে উঠলে এক্সিডেন্ট হইলে বাঁচাইতে পারি? এর দায়িত্ব যিনি নাযিল করেছেন তিনি নিয়েছেন তিনি বলেছেন আমি নাযিল করেছি আমি এর হেফাজতের দায়িত্ব নিয়েছি এজন্য ওই কে কী করলো এই কপি নিয়া, এটা অবশ্যই কেউ যদি এটার অবমাননা করে সে কাফির । সে কাফির হলেতো কাফির আর মুসলমান হলেও যদি ইসলামের কোন শেয়ার নিয়ে ব্যঙ্গ করে তাহলে সে কাফের হয় । মসজিদ নিয়ে কটাক্ষ করে , আল্লাহর নবীকে নিয়ে কটাক্ষ করে , কোরআন কে নিয়ে কটাক্ষ করে এমনকি আপনারা পড়ছেন কিনা জানিনা কিভাবে মানুষ কাফের হয় এই জিনিসগুলো যদি খুঁজে বের করেন তাহলে পাবেন কোন কোন কথা আছে জবানের মাধ্যমে মানুষ কাফের হয় । কেউ বলল আমি আল্লাহ মানিনা, আমই রাসুলকে মানিনা ইসলামের এই বিধান কে আমি মানিনা । এই ভাবে মানুষ কাফের হয় । আর একটা কুফুর আছে মানে কর্মগত মাধ্যমে যেমন আল্লাহ কোরআনকে এইভাবে তুচ্ছ জ্ঞান করে ছুড়ে মারল, আল্লাহর কোরআনের উপর রেখে দিল, আল্লাহর কোরআনকে আপনার ছিঁড়ে ফেলল এইভাবে মানুষ কাফের হয়ে যায় । তার মানে আল্লাহর এই বিধানের প্রতি আল্লাহর যে ওহীয়ের প্রতি তার ভালোবাসা শ্রদ্ধা বোধ উঠে গেছে সে এর প্রতি ঈমান রাখতে পারেনি । ঈমানের রুকুন এর মধ্যে আছে ওয়া কুতুবিহি । পাইছেন না আপনারা আমানতু বিল্লাহি, ওয়া মালায়িকাতিহি, ওয়া রাসুলিহি, ওয়া কুতুবিহি । এই কুতুবের মধ্যে আসমানি কিতাব একটা ।

যদি আসমানের যত কিতাব আছে, ওহী আছে আল্লাহ নাযিল করেছেন একটা কিতাব কেউ যদি কেউ অস্বীকার করে সে কাফির । সে মুসলমান থাকেনা হ্যা কোরআনের আগের কিতাবগুলোতে ঈমান রাখতে হবে । আর ওই কিতাবের যে বিধানগুলি আল্লাহ এখানে দিয়েছেন কোরানের বিধান গুলোকে বাস্তবায়ন করতে হবে , এটা হলো কথা ।

এরপরে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে বললেন যে শোনো তুমি এটা জপে এত কষ্ট করার দরকার নাই আমি নিজে এটাকে পড়িয়ে দিব সুবহানাল্লাহ। “সানুকরিয়ুকা ফালা-তান্সা য় ” খেয়াল করেন এটাকে বলা হয় মুতাকাল্লিমের শব্দ । মুতাকাল্লিম বোঝেন মানে আল্লাহ নিজে বলছেন নবী তুমি কোরআন জপতে জপতে মুখস্ত করতে কষ্ট হচ্ছে তোমার এতো কষ্ট করো না । সানুকরিয়ুকা আমই নিজে তোমাকে পড়িয়ে দিব । ফালা-তান্সা য় আর তুমি ভুলবেনা সুবহানাল্লাহ। । তাহলে নবীর শিক্ষক কে ? আল্লাহ । নবীর শিক্ষক সরাসরি আল্লাহ আর সাহাবায়ে কেরামের শিক্ষক সরাসরি কে আল্লাহর নবী ।

তাহলে আল্লাহ হচ্ছেন প্রথম শিক্ষক যিনি শিক্ষা দিলেন তার নবীদেরকে । নবীর কাছে ওহী নাজিল করে তিনি শিক্ষা দেন । আর এই নবীর শিক্ষা গুলো আমাদের নবীর শিক্ষাগুলো শিখেছেন সাহাবায়ে কেরামের এরা ছিল তার ছাত্র । এরপর আস্তে আস্তে এভাবেই আমাদের কাছে আসছে । এখানে একটা জিনিস আমই প্রসঙ্গে বলি আমাদের বাংলাদেশ অনেক হিফয খানা মাদ্রাসা আছে না? হিফয খানা মাদ্রাসা এর কাজ কি আল্লাহ কোরআন মুখস্থ করাি দেওয়াএই তো ? এখানে আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো প্রতিষ্ঠান আছে ভালো ভালো হাফিজ হয় প্রশংসনীয় কিন্তু প্রসঙ্গে একটা কথা বলি অনেক বাচ্চা আছে সে হয়তো টেকনিক না জানার কারণে বা তার ব্রেইন এর দুর্বলতা থাকার কারণে কোরআন টা মুখস্ত হতে তার কষ্ট হয় বা মুখস্ত করতে পারে না তখন ওস্তাদ এবং বাব-মা কি করেন জানেন ওর প্রতি নির্দয় ব্যবহার করেন । অনেক ছাত্র আছে ওকে বেঁধে রাখা হয় । বাপ-মা বলে যে না ওরে বাড়িতে দিবেন না ও কেন মুখস্ত করতে পারে না শিক্ষকও ওরে প্রচুর প্রহার করেন মারেন । এক ধরনের নির্যাতনের মধ্যে পড়ে যায় । এই আয়াত থেকে শিক্ষা নিতে হবে আল্লাহর নবীও শুধু জপতেন । কিন্তু তার এই কষ্টটা আল্লাহ সয়ং লাঘব করে দিয়েছেন । এজন্য ইলম হোক আর কোরআন মুখস্ত করা হোক বান্দার সাধ্য অনুযায়ী বান্দা চেষ্টা করবে আর যেখানে তার সাধ্য শেষ সেখানে সাহায্য করবে কে? আল্লাহ । একটা ছেলে হাফেয হবে কি হবে না এটা আল্লাহ জানেন সে চেষ্টা করে যাবে এটার জন্য তার উপরে নির্যাতন করা যাবে না । তাকে অতিরিক্ত মারধোর করা তাঁকে নার্ভাস করে ফেলা এইটা করা যাবে না ।

এরপরে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখন আমি সংক্ষেপে শেষ করব আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা এর পরে কি বললেন “ফাযার্ক্কি ইন্ নাফা‘আতিয্ যিক্র” আমি কোরআন নাজিল করলাম আর এটাকে আমি পড়াইয়া দিচ্ছি তোমার কষ্ট করা লাগবে না এবার তুমি কি করো ওয়াজ করা শুরু করো । দেখছেন, বক্তব্যের ধারা দেখছেন প্রথমে আল্লাহর পরিচয় জানাইলেন । তুমি তাসবিহ পড়ো আগে আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা কর । আল্লাহ কে চেনো তার পরে ওহীর কাছে আসলেন । যে আমি এটা তোমাকে শিখিয়ে দেবো আমি তোমাকে পড়াইয়ে দিব । এর পরে কি বলতেছে ? ওয়াজ করো । তুমি কি করো মানুষকে নসিহত করো মানুষকে বোঝাও কি দিয়ে ফাজাক্কির বিল কুরআন এই কোরআন দিয়া কোরআন পড়ে পড়ে মানুষকে নসীহত করা সুবহানাল্লাহ । এত সুন্দর কথা আল্লাহর এত মানানসই কথা । আমারা এই জায়গায় ভুল করলাম কেন? আমরা আমাদের সন্তানদেরকে আমি নিশ্চিন্তে বলতে পারি অনেক ছাত্র আছে তালেবে ইলম, যারা ফেকার কিতাব পড়তে পারে , যারা বাংলা বিভিন্ন জিনিস পড়তে পারে , যারা মাসলা-মাসায়েল পড়া শুরু করে দিয়েছে , কিন্তু কোরআন এখনো বুঝেনি । এই সিলেবাস কে তৈরি করল কারা তৈরি করল ? এই জন্য আল্লাহ বলছেন “ফাজাক্কির বিল কুরআন” এবার তুমি কোরআন শিক্ষে কুরআন দিয়ে মানুষকে ওয়াজ করো এটা আবার কখন? যদি উপদেশ কাজে লাগে । এবার ওয়াজ করার পরে উপদেশ দেওয়ার পরে মানুষ দুই ভাগে ভাগ হয় কয় ভাগে দুই ভাগে । এটা আল্লাহর পরে বলেছেন ।

যে “সাইয়ায্যাক্কারু মাইঁ ইয়াখ্শা,অইয়াতাজ্বান্নাবুহাল্ আশ্ক্বা” তুমি বক্তব্য দেওয়ার পরে কুরআন মানুষকে শোনানোর পরে কুরআন দিয়ে মানুষকে বোঝানোর পরে মানুষ দুই ভাগ হবে “সাইয়ায্যাক্কারু মাইঁ ইয়াখ্শা” যে আল্লাহকে ভয় করেছে, আল্লাহর ভয় অন্তরে আছে আল্লাহর বিধান না পালণ করলে শাস্তির ভয় তার অন্তরে আছে আল্লাহর হুকুম পালন করলে জান্নাত পাবে এই আসা যার মধ্যে আছে সে আপনার সব কথা মানবে শুনবে সুবহানাল্লাহ ।

এরপরে কি বললেন “অইয়াতাজ্বান্নাবুহাল্ আশ্ক্বা” আর যে হতভাগা হয়ে গেছে সে আপনার উপদেশ থেকে কোরআন থেকে দূরে সরে যাবে নাউজুবিল্লাহ । তাহলে আল্লাহও এটা জানেন যে সব মানুষ আল্লাহর কালামের কথা নিবে না সবাই এটা বুঝবে না আপনি কিচ্ছা শুরু করেন এতো মজা করে শুনবে আর খালি সুবহানাল্লাহ, আর বাহবা দিবে । কোরআনের আয়াত পড়ে বুঝাবেন এটাতে তার মজা লাগবে না । বলবে কি আবার শুরু করল এটা ওয়াজ হইল । আজকে এত বছরের পর বছর কত সুন্দর সুন্দর ওয়াজ শুনে আসতেছি , কি সুন্দর করে টান দেয় । চোখের পানি চলে আসে এই আল্লাহ বলে দিছেন যে কোরআনের কথা শুনলে মানুষ দুই ভাগ হবে সবাই এটা নিতে পারবে না এটা সবাই বহন করতে পারবে না একদল এটাকে মানবে এটা বুঝবে এটা নেবে আরেকদল দূরে চলে যাবে । কারা যারা নিজেদের ভাগ্যকে খারাপ করেছে । হেদায়েত নিতে চায় না বুঝতে চায় না এরপরে আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা বলছেন তার কি অবস্থা হবে “ল্লাযী ইয়াছ্লা ন্না-রল্ কুব্র” একটু থামেন । এতক্ষণে যা শুনলেন এই আয়াত টাতেএকটু থামেন আল্লাহ একটা মানুষকে সরাসরি জাহান্নামে পাঠিয়ে দিচ্ছেন আল্লাহ । ল্লাযী যে ইয়াছ্লা মানে পৌঁছাবে , প্রবেশ করবে আন ন্না-রল্ কুব্র বড় আগুনে । মানে জাহান্নামের মধ্যে সবচেয়ে বড় যে জাহান্নাম এই জাহান্নামের মধ্য সে প্রবেশ করবে কারণ টা কি? এই মানুষটা কোনটা ?

এতক্ষণের বক্তৃতা থেকে কি বুঝলেন এই দুই আগের দুই আয়াত আর এর পরের আয়াত । আয়াততো আপনারা বুঝতেছেন আমিতো আর আয়াত বানাচ্ছি না । “সাইয়ায্যাক্কারু মাইঁ ইয়াখ্শা, অইয়াতাজ্বান্নাবুহাল্ আশ্ক্বা” যে আল্লাহকে ভয় করে সে কুরআন শুনলে উপদেশ গ্রহণ করে মাইনা নেয় । আর পরে কি বললেন “অইয়াতাজ্বান্নাবুহাল্ আশ্ক্বা” যে হতভাগা সে কোরআন থেকে দূরে থাকে । এরপরের কথাটা কি এই লোক টার কথা বলছে, যে মানুষ কোরআন থেকে হেদায়াত নেয় না হতভাগা হয়ে যায় সে কি “ল্লাযী ইয়াছ্লা ন্না-রল্ কুব্র” ডাইরেক্ট জাহান্নাম ।

এই হিসাবতো আমরা করি না । কোরআন না পরার কারণে মানুষ জাহান্নামে চলে যাচ্ছে এইটা মাথায়ও নাই অনেকের । আল্লাহ এই বক্তব্য দিলেন । আর একদিন তো ওই যে কবরে মুগুরের বাড়ি পড়বে কি জন্য এটাতো শুনাইলাম । এরপরে আল্লাহ বলছেন “ছুম্মা লা-ইয়ামূতু ফীহা-অলা-ইয়াহ্ইয়া” এই ন্না-রল্ কুব্র যে জাহান্নামের কঠিন আগুন এখানে প্রবেশ যে করল এইখানে চলে যাওয়ার পর তার কি হচ্ছে ? লা-ইয়ামূতু ফীহা কি বুঝলেন? লা-ইয়ামূতু সে মরতেছে না । অলা-ইয়াহ্ইয়া সে বাঁচতেছেনা । ২ টা কথা আল্লাহ বললেন । এই আগুনে যাওয়ার পরে তার মরন হচ্ছে না তার বাঁচাও হচ্ছে না তাহলে কি হচ্ছে চাচ্ছে আল্লাহ মেরে ফেলো শাস্তি ভোগ করতে পারিনা কষ্ট হয় মেরে ফেলো কিন্তু তার মরণ আসতেছে না । মরণ আসলে তো শেষ হয়ে গেল এইভাবে তার শাস্তি হতে চলেছে হতে চলেছে । এরপর আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা সূরার শেষ কয়েকটা কথা বলেছেন এই অল্প চার-পাঁচটা কথা বলে বল্লেন যে এই কথাগুলি শুধু কোরআনে যে দিলাম এই কথাগুলি শুধু কোরআনের না “ইন্না হা-যা-লাফিছ্ ছুহুফিল্ ঊলা” এর আগে যে সকল ওহী নাযিল করেছিলাম এই কথাগুলি ঐসব ওহীতেও আছে আবার ব্যাখ্যা করে বলেন আগের এই টা কার সহফাতে আছে? কার কিতাবে আছে নবীর নাম বলে দিচ্ছেন দুইজনের কইজনের? দুই জন নবীর নাম বলে দিচ্ছেন কারা কারা? “ছুহুফি ইব্রা-হীমা অমূসা” এটা ইব্রাহিমের সহিফায় ও আছে মূসা (আঃ) এর সহিফায় ও আছে । কি কথা গুলি তার একটা অর্থ হচ্ছে পূরা সূরার বক্তব্য টা ।

অথবা এই যে “ক্বদ্ আফ্লাহা” থেকে যে কথাগুলা । এখানে আল্লাহ বলছেন একটা লাস্ট বক্তব্য ফিনিশিং সূরার “ক্বদ্ আফ্লাহা মান্ তাযাক্কা” একটা তো জাহান্নামে চলে গেছে কোরআন না মানার কারণে না বোঝার কারণে । এবার আল্লাহ বলছেন তার বিপরীত কথা সফল হবে তাহলে কে ? ক্বদ্ আফ্লাহা অবশ্যই সফলকাম হয়ে যাবে মান্ তাযাক্কা যে পরিশুদ্ধ হয়েছে । “অযাকারস্মা রব্বিহী” এবং আল্লাহর নাম নিয়েছে ফাছোয়াল্লা অতঃপর কি করেছে ? সালাত আদায় করেছে । এর দুইটা তাফসীর আছে এবং দুই টাই সঠিক । এই ক্বদ্ আফ্লাহা মান্ তাযাক্কা এর দুইটা তাফসীর আছে ।একটা তাফসীর হলো এই তাযাক্কার অর্থ হইল রামাযান মাসে আমরা রমজান শেষে কি দেই মানুষকে গরীবকে কি দেই ফিতরা দেইনা? যাকাত ফিতির এটা একটা তাফসীর আছে যে এই মান্ তাযাক্কা এর অর্থ হলো যাকাতুল ফিতর আদায় করা আর অযাকারস্মা রব্বিহী এর অর্থ হলো তাকবীর বলা । ফাছোয়াল্লা এর অর্থ হলো ঈদের সালাত আদায় করা । এটা একটা তাফসীর । আর আরেকটা তাফসীর হলো সাধারণ যে এখানে তাযাক্কা এর অর্থ হচ্ছে পরিশুদ্ধতা অর্জন করা মনকে পরিশুদ্ধ করলো আমলকে পরিশুদ্ধ করলো নিজের নফসকে পরিশুদ্ধ করলো এইভাবে পরিশুদ্ধ করে আল্লাহর নাম নিয়ে সালাত আদায় করার মাধ্যমে যে মানুষ আল্লাহকে খুশি করল সে কি হয়ে গেল ক্বদ্ আফ্লাহা সফল হয়ে গেল। এরপর আল্লাহ কি বললেন “বাল্ তুছিরূনাল্ হা-ইয়া-তাদ্দুন্ইয়া” এইবার আল্লাহ একটা নীতিগত কথা বলে সূরা শেষ করতেছেন । এতক্ষণ তো সুন্দর সুন্দর কথা আমি বললাম , আমার পরিচয় তুলে ধরলাম , কোরআনের বিষয়ে বললাম যে এটা শুধু জপলে হবেনা আমি পড়াই দেবো তুমি চেষ্টা করবা তারপরে আল্লাহ কে জাহান্নামে যাবে তার কথাও বললেন কে জান্নাতে যাবে তার কথাও বললেন । এবার বললে কি হবে এই যে দেখেন আমরা এখানে এই সূরা গুলি শুনলাম না মসজিদ থেকে বাহির হওয়ার পরে অনেকে আমরা এইটার কিছুই আর মনে থাকবে না ভুলে যাব এই কথাটা বলতেছেন এর পরে “বাল্ তুছিরূনাল্ হা-ইয়া-তাদ্দুন্ইয়া” কিন্তু বুঝাইলে কি হবে তোমরা তো দুনিয়া টাই বুঝ । দুনিয়াইতো প্রাধান্য দেও । বাস্তবতা তুলে ধরতেছেন মানুষের যে তোমরা এত কিছু বুচ্ছতো বুঝার পরেও তোমাদের কাছে এখনো বড় রয়ে গেছে দুনিয়া । এর পরে কি বললেন “অল্ আ-খিরতু খাইরুঁও ওয়া আব্ক্ব” কিন্তু আখেরাতটা হচ্ছে উত্তম এবং চিরস্থায়ী এই দুইটা শব্দের মধ্যে দুনিয়া-আখেরাতের পার্থক্য এটা একটু মনে রাখবেন । দুনিয়া আখেরাতের পার্থক্য মৌলিক দুইটা অনেক পার্থক্য আছে মৌলিক হলো দুইটা । এই “খাইরুঁও ওয়া আব্ক্ব” এই দুইটা দুনিয়াতে নাই আর এই দুইটা থাকবে পরকালের নিয়ামতের মধ্যে । খাইর মানে হচ্ছে উত্তম আজকে আপনি যে পোশাকগুলি পড়েছেন হয়তো বা আপনি যদি সবচেয়ে দামি সবচেয়ে ভালো আপনার যে পোশাকটা আছে এইটা পড়ে যদি মসজিদে আসেন তারপরেও আল্লাহ আমাকে জান্নাতে যাওয়ার পর যে পোশাক দিবেন এগুলার ধারের কাছেও যাবে না ওখানে সব হয়ে যাবে “সুন্দুস আর ইস্তাব্রা” মানে মিহি চিকন সুতার রেশমের পোশাক আল্লাহু আকবর অনেক দামি অনেক দামি ।

আল্লাহ বলেছেন সূরা আর রহমানে যে বিছানার নিচে যেগুলো থাকবে ওইটাই হবে রেশমের আর উপরের স্তর কি হবে এটা তুমি এমনিই বুঝে নাও এত দামি এত দামি । তাইলে এটা হল দুনিয়াতে এখন আমরা যাইয়া বাসায় যাইয়া শুক্রবারে কিন্তু আমি এদিকে আসতে দেখলাম প্রচুর গোশত বিক্রি হইয়াছে তারমানে শুক্রবারে প্রচুর ভালো খাবার দাবার আয়োজন হয় গোস্ত হয় । আমরাও মাদ্রাসাগুলোতে আলহামদুলিল্লাহ চেষ্টা করি শুক্রবারে বাচ্চাদের গোস্ত খাওয়ানোর আজকেই আমি আসার সময় খাসি কিনে জবাই করে মাদ্রাসায় গোস্ত পাঠায়া আসছি আলহামদুলিল্লাহ । এখন আপনারা বাসায় যাইয়া সবচেয়ে ভালো যে খাবারটা খাবেন আল্লাহ বলছেন তুমিতো বাসায় গেলে হয়তো পাখির গোস্ত পাবানা আমি তোমাকে পাখির গোস্ত রেডি করে রেখেছি । মাছের কলিজা তৈরি করে , মানে তুমি যা ব্যবহার করবা আমার জান্নাতে তার চেয়ে উন্নত মানেরটা তোমার জন্য রেডি আছে । শুধু তুমি আমার জন্য কাজ করে আমার কাছে আসো । এইটা হলো একটা গুণগত মানের দিক থেকে দুনিয়াতে মানুষ যত ভালো জিনিস ব্যবহার করে আখেরাতে তার গুণগতমান তার চেয়ে অনেক অনেক কি ? বেশি । আরেকটা কথা এটাই হচ্ছে আজকের খুতবা শেষকথা । আরেকটা কথা হচ্ছে আব্ক্ব । আব্ক্ব মানে কি ? চিরস্থায়ী ।

এই শব্দগুলির অর্থ আজ পর্যন্ত কেন শিখলাম না আমরা এগুলো আমার অনুবাদ করার পরে আপনাকে দেরকে বুঝাবো ? সবার দায়িত্ব ছিল এই সূরা গুলির অর্থ ছোট থাকতে শিখে ফেলা । আপনাদের সন্তানদেরকে শিখান এটা আমার অনুরোধ । এই সূরাগুলো নিবেন বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করবেন শিখাবেন । আব্ক্ব মানে হচ্ছে কি চিরস্থায়ী । আমরা যে বাসাগুলি বানাইছি এখানে যা যার বাসা সবচেয়ে সুন্দর এই বাসাটাকি কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে ? থাকবে না । অথবা যে কয় দিন বাসা থাকবে সে কয় দিন আমি নাই । একটা সময় আসবে বাসা আমাকে ঠেলে বের করে দিবে । এটা হচ্ছে দুনিয়ার নিষ্ঠুরতা এটা আমরা বুঝতে পারি না ।

যত আমরা দুনিয়াকে মহব্বত করে আর প্রাধান্য দেই একটা সময় দুনিয়া আমাকে জোর করে বের করে ঠেলে দিবে । যত সুন্দর দামি পোশাক থাক আর যত সুন্দর বাসা থাক । হাওয়া বেরিয়ে গেছে তখন আমার নাম পাল্টে গেছে আজকে আমি আব্দুর রহমান আর দম বাহির হওয়ার পরে যখন আমাকে খাটিয়া রাখবে গোসল দিতে নিবে ,কবরে নিয়ে যাবে তখন শুধু আমার নাম বলবে এই লাশ কোথায় রে ? লাশ কোথায় রাখছে একটু দেখব । এই লাশটাকে নিয়ে আসো একটু গোসল দেয়াই দেই । এই লাশটাকে খাটিয়ার উপরে উঠাও । লাশটা ধরো কবরে নিয়ে যাব । লাশটাকে কবরে নামাও বুঝেন না কথা? আমার নাম মৃত্যুর সাথে সাথে প্রথম যে ইফেক্ট হয় মানুষের উপরে তার নামটা পরিবর্তন হয়ে যায় । আর দম বাহির হওয়ার পরে আমাকে আর কেউ আব্দুর রহমান বলে, এই আব্দুর রহমান কোথায় জিন্দেগী তেও বলবে না । এখন আমার বাসায় হোক মাদ্রাসায় হোক প্রতিষ্ঠানে হোক গেলে বলবে আব্দুর রহমান সাহেব কোথায় । আর যেই মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে যাবে তখন বলবে লাশটা কোথায় । পরিবর্তন হয়ে গেছে ।

তো যাই হোক এই সূরা থেকে আমরা যে শিক্ষাগুলো পেলাম আল্লাহ বলছেন তোমরা দুনিয়াকে প্রাধান্য দিও না । তোমরা আখেরাতকে প্রাধান্য দাও এটা স্থায়ী এবং উত্তম । আল্লাহ আমাদের বুঝ দান করুন আল্লাহুম্মা আমিন ।