লোড করা হচ্ছে ...

খুতবার বিষয়: মুহাররম: মর্যাদা, আমল ও সতর্কতা

মুহাররম: মর্যাদা, আমল ও সতর্কতা



প্রশংসা মাত্র আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতালার যিনি বিশ্বজগতের একমাত্র মালিক যিনি এক ও একক যে আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতালা আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার একত্বের শিক্ষা দিয়েছেন এবং তা গ্রহণ করার তৌফিক দিয়েছেন এবং আমাদেরকে তার একত্বের উপরে প্রতিষ্ঠিত রেখেছেন। আমরা সেই সত্তার প্রশংসা করি। আলহামদুলিল্লাহ। সালাতু ওয়াস সালাম প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি যার উপরে সালাত এবং সালাম পাঠ করা আমাদের উপরে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা যেই ইবাদতের উপরে অসংখ্য নেকি রেখেছেন যে একবার যদি কেউ তার নবীর উপরে সালাত এবং সালাম পাঠ করবে আল্লাহর পক্ষ থেকে সে ১০ বার সালাত এবং সালাম প্রাপ্ত হবে এবং ১০টি পাপ মাফ হয়ে যাবে এবং ১০টি মর্যাদা উঁচু হবে।

                                                           

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি নিজেও আমাদেরকে বলেছেন আমরা যেন জুমার দিনে অধিক মাত্রায় তার উপরে সালাত এবং সালাম পাঠ করি। কেননা আমরা যখন তার উপরে সালাত পাঠ করব আমাদের নাম সহ তার কাছে পৌঁছানো হয়। আল্লাহুম্মা সাল্লি আলাই আল্লাহুম্মা বারিক আলাইহ। আজকের খুতবা এটা একটা নতুন বছরের নতুন প্রথম খুতবা হিসেবে বিবেচিত। যদিও বর্ষবরণ বা নতুন বছর বলে ইসলামে তেমন কোন দিক নির্দেশনা রাখা হয়নি। তবে গণনার ভিত্তিতে আমরা ১২ মাসে গণনা পূর্ণ করি। যেমনটা আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআালার বিধানে রয়েছে। সেই সুভাদে নতুন করে আবার একটি বছর গণনা শুরু হবে। আমাদের তারিখ অনুযায়ী আজকে মহররমের কত তারিখ? এটা একটু পরে বলি।

                                                           

আজকে আমরা ১৪০০ ৪৭ হিজরী পার করে ১৪৪৮ হিজরীতে পদার্পণ করেছি। এর মাধ্যমে আমাদের বিগত একটা বছরের আমাদের আমলনামা যা আমরা প্রেরণ করেছি সেগুলো লিপিবদ্ধ হয়েছে। আমাদের যতটুকু বয়স নির্ধারণ করা হয়েছিল সেই বয়স থেকে একটি বছর ঝরে গেছে। আমরা কবরের তত কাছে চলে যাচ্ছি। এভাবেই একটি সময় আমাদের নির্ধারিত বয়স শেষ হয়ে যাবে। তারপর আমরা আবার যেখান থেকে এসেছি সেখানে আবার আমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তো আমরা নতুন বছর বলে থাকি বটে কিন্তু অনেকে এর জন্য নানান আনুষ্ঠানিকতার মাধ্য এটাকে উদযাপন করে থাকে। যদি এক কথায় বলি এর হুকুম সম্পর্কে তাহলে ইসলামের কোন বৈধতা নেই। সেটা ইংলিশ মাস হোক, বাংলা হোক অথবা আরবি হোক বর্ষবরণের নামে যা দিয়ে উদযাপন করা হয় এগুলোকে ইসলামে বহির্ভূত কাজ বলা হয়েছে এবং এটা এমন এক জাতির আমল যেই জাতির থেকে কোন কিছু নিতে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে।

                                                           

বিশেষ করে আমরা মুসলিম হয়েও আমরা যাদেরকে অনুকরণ অনুসরণ করি মূলত তাদের উদ্দেশ্য খুব খারাপ এবং আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা যিনি আমাদের স্রষ্টা তিনি তাদের সম্পর্কে খুব ভালো জানেন তাই তিনি আমাদেরকে কোরআনে নিষেধ করে দিয়েছেন এবং তাদের অন্তরের খবর সম্পর্কে আমাদেরকে জানিয়েছেন যে তারা এই চিন্তা চেতনা নিয়ে তোমাদের সাথে মিশবে সেটা কি কোরআনের একটি আয়াত আমি আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেই আপনি যদি উপদেশ গ্রহণ না করেন তাহলে নিজেই নিজের ক্ষতির একমাত্র কারণ হবে কোরআনে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তালা অসংখ্য কথা বলেছেন। তার মধ্যে একটি আয়াত সূরা আলে ইমরান তিন নাম্বার সূরার ১০০ নাম্বার আয়াতটি আপনি খুব গভীরভাবে গিয়ে পর্যালোচনা করবেন এবং আপনি এখান থেকে শিক্ষা নেবেন।

                                                           

আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা একেবারে মুসলিমদেরকে ডেকে বলতেছেন ইয়া আইুহাল্লাজনা আমানু হে ঈমানদাররাল কিতা কাফন তোমরা যদি তোমাদের পূর্বের আহলে কিতাবদের কতকের অনুসরণ করো অনুকরণ করো তাহলে তারা তোমাদেরকে ঈমান আনার পরেও আবার কুফরের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। তাহলে এটা হচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য। আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'আলা তাদের আচরণটা এখানে পেশ করেছেন। উদ্দেশ্যটা পেশ করেছেন। কিন্তু আপনি দেখতে পাবেন পৃথিবীর কোন ইহুদী-নাসারা কোন মুসলিমকে সে বলবে না যে তুমি ইহুদী নাসারা হয়ে যাও। তুমি নিজেকে খ্রিস্টান দাবি করো। তুমি নিজেকে ইহুদি দাবি করো। ওরা এটা বলবে না। তবে ওদের উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনি নামকেও আস্তে মুসলিম থাকেন। কিন্তু আপনার সকাল হোক ওদের মত।

                                                           

আপনার সন্ধ্যা হোক ওদের মত। এবং সারাদিন আপনি যা খাবেন, যা করবেন, যা বলবেন, যা পড়বেন, যেভাবে আপনি আপনার সংসার বা রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন এটা হোক ওদের মত। এটা শুধু ওরা চায়। কিন্তু নাম আপনার মুসলিম থাকবে। আপনার চেহারা আপনার পোশাক আশাক আপনার বিহেভিয়ার আচরণ লেনদেন সব ওদের মত হোক আর বাস্তবিক তাই হয়েছে কিন্তু আমি আর আপনি নিজেকে মুসলিমই মনে করতেছি এই যে খেলতাম সারার মাধ্যমে আমাদের পোশাক আশাক ওরা পড়িয়ে দিয়েছে আমাদের সময় ওরা মেনটেন করে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাায়ালার ফজরের ওয়াক্ত নির্ধারণ করে দিয়েছেন আপনি জীবনেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে ওঠার চেষ্টা করেননি কিন্তু যেইদিন খেলাটা আপনার দলের খেলা ফজরের ওয়াক্তে পড়ে গেছে আপনি ঠিক ওই সময়ই সজাগ আপনি রাত তিনটা বাজে সজাগ শুধু আপনার দলের খেলা চালু হবে বিধায় এবং সেই টাইম আপনার জানা আছে এবং আপনাকে কেউ জাগাতে হয়নি আপনি নিজে থেকে জেগে বসে আছেন এর জন্য আনুষ্ঠানিকতা করেছেন তাহলে ইহুদি নাসারাতো এটাই চায় আপনাকে বলতে হবে না আপনি

                                                           

খ্রিস্টান আপনাকে ইহুদি বা কিছু আপনি বলতে হবে না যে অবস্থায় আছেন সে অবস্থায় শুধু ওদের সাথে রাত জাগেন ওদের সাথে মত থাকেন ওদের মত কথা বলেন ওদের মত পোশাক পড়েন আর কি লাগে আল্লাহ আল্লাহ সুবহানাহুতালা এটাই বলেছেন ঈমান আনার পরেও তারা তোমাদেরকে কুফরের দিকে নিয়ে যাবে অথচ ঈমান এবং ইসলামের মানে কি একটা মানুষ স্বাভাবিক জীবনে থাকবে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাালার পক্ষ থেকে একটা নীতি বা একটা বিধান জারি করে দিবে যারা এটা মেনে নেবে তারা মুসলিম যারা মানবে না তারা যা ছিল তাহলে আমরা নিজেদেরকে মুসলিম বলে দাবি করেও ওই পথ ছাড়তে পারেনি ও ডানে বামেই থেকে গেলাম সোজা রাস্তায় আসতে পারলাম না তাহলে এই মুসলিম অত্যত আপনাকে আমাকে নাজাত দিবে না।

                                                           

এজন্য আল্লাহ সুবহানাহুওতালা বলেছেন, বিজাতির অনুকরণ মুসলিমদের জন্য শোভা পায় না। এটা আমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা তাই আমাদেরকে বলেছেন, আমরা যেন ওই বর্ষবরণের নামে বিজাতির অনুকরণে না লিপ্ত হই। বরং আমাদের কি করা উচিত ছিল? একটা মুসলিম চিন্তাশীল মুসলিম যদি সে কোরআন এবং সুন্নাহর দিকনির্দেশনা ফলো করত তাহলে তাকে তো আজকে কান্না করা উচিত ছিল। যে বিগত একটা বছর আমার কাছ থেকে চলে গেল। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন, সুস্থতায় রেখেছিলেন, নিরাপত্তায় রেখেছিলেন, রিজিক দিয়েছিলেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক অনুগ্রহ নিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। তাহলে এই এক বছরে আমি আল্লাহর শুকরিয়া কি আদায় করলাম? বা আমার ফাইল তো রেডি হয়ে গেছে।

                                                           

এই বছরে যা কিছু আমি পাপ করেছি বা নেকি করেছি সেগুলো বন্ধ। তালাতালা হয়ে গেছে। এখন আমার আর উপায় কি? এটা নিয়ে আক্ষেপ করা উচিত ছিল। আর আমরা উপরন্ত ইহুদি নাসারাদের মত উৎফুল্লতারা জীবনযাপন করি। এটা মোটেও কাম্য নয়। আসুন আমি আপনাকে দেখাই। কোরআনে আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতালা বলেছেন শুরুতেই যে আয়াতটা পাঠ করেছিলাম সেটা সূরা হাশর। ৫৯ নাম্বার সূরার ১৮ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহুতালা বলেছেন ইয়া আইুহাল্লাজনাতুল্লাহ। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। হে ঈমানদাররা তোমরা চিন্তা ভাবনা করে দেখ এবং লক্ষ্য করো তো তোমরা যেই জগতে ফিরে আসবে সেই জগতের জন্য তোমরা আজকে কি প্রেরণ করলে তার মানে এই যে একটা বছর ১৪৪৭ হিজরীতে আমরা এই বছরে আল্লাহর কাছে কি জমা করেছি আল্লাহ এটা নিয়ে ভাবতে বলেছে আল্লাহ বলেছেন একবার লক্ষ্য করে দেখো সেই বছর আমাদের উপরে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ ছিল কতকের উপরে হজ ফরজ ছিল কতকের উপরে যাকাত ফরজ ছিল মুসলিমদের উপরে সিয়াম ফরজ ছিল হালাল হারাম খাওয়ার ব্যাপারটা লক্ষ্যের

                                                           

সাথে নিতে হতো তাহলে এই সমস্ত কিছু আমরা কি গুরুত্বের সাথে আদায় করেছি না সব ক্ষেত্রে আমাদের খেয়ানত হয়েছে আল্লাহ বলেছেন এটা একটু লক্ষ্য করে দেখো কারণ তোমার ফাইল কিন্তু আমার হাতে চলে আসছে কারণ প্রত্যেক বছরের একটা ফাইল আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছে জমা হয় বরং প্রতিদিনের ফাইল জমা হয় এ সম্পর্কে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটা হাদিস আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উকবা ইবনে আমের তার থেকে আজকে দুইটা হাদিস বর্ণনা করা হবে। এটাও উকবা ইবনে আমেরা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কোন দিন যায় না যেই দিনের আমলের সটাম্পিং না করা হয়। মানে এটাকে খতম করে সটাম্পিং করে দিয়ে ফাইল রেডি করে।

                                                           

আর স্টাম্প লেগে যাওয়া মানে এটাকে আর কেউ রদবদল করতে পারবে না। যখন কোন চেকের উপরে সিগনেচার করে স্টাম্পিং করা হয়, কোন ফাইলকে সিলগালা করে দেওয়া হয়, এটা ওই দিক নির্দেশনা না হওয়া পর্যন্ত এটা কেউ খুলতে পারবে না। ঠিক আল্লাহর পক্ষ থেকেও এই বিধান রয়েছে। রাসূল বলেছেন লাইসা এমন কোন দ্বীনের আমল নাই যার উপরে সেটাকে স্টাম্পিং না করা হয়। ইল্লা যেটার উপরে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা চূড়ান্ত একটা লক করে দেয়া হয়। যেটা কেয়ামতের মাঠ ছাড়া আর খোলা হবে না। এরকম প্রতিদিন হচ্ছে। তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দিকনির্দেশনা অনুযায়ী আমরা গত বছরে যা করেছি এক বছরের খাতা ক্লোজ এটা বন্ধ হয়ে চলে গেছে।

                                                           

কিন্তু আমি আর আপনি তাহলে উৎফুল্য হই কিভাবে? যেখানে আল্লাহ আমাদেরকে বলেছেন তোমরা খুব গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য করে দেখো। এই হাদিসের মধ্যে আরেকটি চমৎকার কথা আছে। সেটা এখানে সেরে দেই। সেটা হচ্ছে যারা বিগত বছরে বা প্রতিদিন কোন না কোন নেক আমল করেন আপনার আমার জন্য একটা সুসংবাদ রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম বলেন প্রত্যেক ব্যক্তির আমলনামা আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতালা নিয়ে সেটাকে লক করে দেয় সেটা নষ্ট করতে দেয় না। ওটা নষ্ট হবে না। তারপরে এই সৎ ব্যক্তিদের সাথে আর কি আচরণ করা হয়? মমিন কোন মুমিন ব্যক্তি যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে এমন অসুস্থ যে সে আজকের দুই রাকাত সুন্নাহ পড়তে পারেনি।

                                                           

অসুস্থতাজনিত সিয়াম রাখতে পারেনি তার মানে অভ্যাস ছিল আজকে একপারা কোরআন তেলাওয়াত করার সেটা সে পারেনি মাথা ব্যথার জন্য বা কোন অবস্থাতে সে তাহাজ্জুদ পড়তে পারে না মানে এমন অসুস্থতায় সে পড়ে গেছে আল্লাহ সুবহানাহুতালা তাদের সাথে কি করেছেন তখন ফেরেশতারা বলে কলাতলমালাইকা যেই ফেরেশতা এ কাজটা করত সে আল্লাহকে ডেকে বলে রাব্বানা হে আমাদের প্রতিপালক আবদু আপনার এ বান্দা তো আটকে পড়ে গেছে তার গিড়া লেগে গেছে সে তো এখন পড়তে পারতেছে না সুন্নাহ পড়তো পড়তে পারতেছে না কোরআন পড়তো পড়তে পারতেছে না তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয় তাকে বলা হয় রব্বু আজমলাহ তার আমলনামার মধ্যে খতম মেরে দাও আলামিয়া সে যে অবস্থায় আছে এখন তো বিছানায় উঠতে পারতেছে না ও বিছানায় যতদিন থাকবে ততদিন পর্যন্ত সে যেই নেকিগুলো করত সুস্থ থাকা অবস্থায় ওই নেকিগুলো লিখে স্টাম্পিং করতে থাকো।

                                                           

কতদিন পর্যন্ত হয় সে উঠে আবার ইবাদতে লিপ্ত হবে। আর যদি এই অবস্থায় সে অসুস্থ হতে হতে কবরে চলে যায় তাহলে কবর পর্যন্ত তার মৃত্যু পর্যন্ত তাকে এইভাবে আমলনামার মধ্যে নেকি লিখে দিয়ে সেটাকে ফাইল রেডি করে ফেলা হোক। আল্লাহর পক্ষ থেকে এটা আদেশ করা হয়। মুসাদ আহমদ হাদিসটা এসেছে ১৭৩১৭ নাম্বারে পেয়ে যাবেন আল মৌজুমল কাবিরা আলিল আওসাদ তাতে আপনি ৭৮২ তে পেয়ে যাবেন তাহলে প্রত্যেকদিনের আমলের উপরে একটা স্বাক্ষর করা হয় বা এটাকে চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করা হয় এটাকে ফাইল প্রস্তুত করা হয় আমাদের ফাইল গত হয়ে গেছে কোরআনে আল্লাহ সুবহানাহুতালা এ কথাটাকে আরো গভীরভাবে বলেছেন অনেক বহুভাবে বলেছেন আল্লাহ শপথ করে করে বলেছেন কি হবে সেইদিন জাহিমরাত যেইদিন জাহান্নামকে তোমার সামনে একবারে জ্বলন্ত অবস্থায় পেশ করা হবে ওজাল জান্নাত উজলিফাত আর জান্নাতকে একেবারে সবার নিকটে নিয়ে আসা হবে দুইটা যেই ওয়াদা আমাদের সাথে করা হয়েছে সেই দুইটা যখন বিচারের মাঠে বিচার শুরু হওয়ার আগে আমাদের চোখের সামনে তুলে

                                                           

ধরা হবে আল্লাহ সেই দিনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলতেছেন আলিমাত নাফসুমমা আহদার সেইদিন প্রত্যেক ব্যক্তি জেনে যাবে যে সে আজকে কি নিয়ে আসছে তার সাথে আজকে কি জমা করে নিয়ে আসছে এটা প্রত্যেক ব্যক্তি সেইদিন জেনে যাবে ওইদিন প্রত্যেক জান্নাতি জান্নাতের সুসংবাদ অনুভব হবে আর প্রত্যেক জাহান্নামী সে বুঝতে পারবে যে আমি তো এই জন্যই হয়তো আমল করেছিলাম আজকে আমি এরই হকদার হয়ে গেছি আল্লাহ বলেছেন আলিমাত প্রত্যেকে জেনে যাবে এটা সূরা তাকবীরের ১৪ নাম্বার আয়াতে রয়েছে তারপরের সূরা সূরা আল ইনফিতার ৮২ নাম্বার সূরাতে আল্লাহ একই কথা বলেছেন যখন কবরকে বিধীর্ণ করা হবে আর কবরে যা আছে তা উঠিয়ে আল্লাহর সামনে পেশ করা হবে আলিমাত নাফমা সেইদিন প্রত্যেক ব্যক্তি জেনে যাবে যে আজকে আমি সাথে করে কি নিয়ে আসছি আর দুনিয়াতে আমি কি ফেলে রেখে আসছি যেটা আমার করা উচিত ছিল যেটা সূরা ফজরের শেষের দিকে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা এই আয়াতটার দিকে ইঙ্গিত করেছেন যে প্রত্যেক ব্যক্তি কেয়ামতের মাঠে যখন দাঁড়াবে তখন সে তার আমলনামা নিয়েই বেশি চিন্তিত হবে এবং আক্ষেপ করবে যে আমার যেটা করা উচিত ছিল সেটা আমি করিনি।

                                                           

আর এমন কিছু করেছি যেটা আমার করা উচিত ছিল না। আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা আমাদেরকে বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মানুষের জীবন দিন যখন শেষ হয়ে যায় তাকে উচিত এটা নিয়ে ভাবা যে আজকে আমি আমার নাজাতের জন্য কি করেছি। তো আমরা যারা জমা করেছি সেটা কেয়ামতের মাঠে আমাদেরকে খুব শীঘ্রই দেখানো হবে। এবং এই কথাগুলো আল্লাহ কেন বলেছেন? কি করা হবে? আপনার আমার আমলনামা আমরা প্রত্যেকে দেখতে পাব কি করা হবে সেটাকে নিয়ে এটাও আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা আমাদেরকে ইতি বৃত্তান্ত জানিয়েছেন এবং আল্লাহ বলেছেন সেইদিন প্রত্যেক ব্যক্তির একটা অনুপরিমাণ কর্ম যা সে করেছে তার বদলা না হয় সাজা তাকে পরিপূর্ণভাবে দেওয়া হবে এটাও আমাদেরকে জানানো হয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি তার জীবনের শেষ ভাষণ যেটা বিদায় হজের খুতবা তাতে তিনি যে কথাগুলো বলেছিলেন তার মধ্যে একটা কথা এটাও ছিল তিনি বলেছিলেন রব্বাকুম খুব শীঘ্রই তোমাদেরকে তোমাদের রবের সাথে সাক্ষাত করতে হবে আর তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে তোমাদের কর্ম সম্পর্কে

                                                           

তোমাদের কর্ম সম্পর্কে তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে তার মানে আল্লাহ সুবহানাহুওতালা কাউকে ছেড়ে দিবে না আল্লাহ প্রত্যেকের সাথে সাক্ষাত করবেন এবং তাদের কর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন এটা ছিল বিদায় হজের খুতবার ভাষণের শেষ একটা টার্ম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করে বলেছিলেন আলাতার বাদলা খবরদার তোমরা আমার পরে কিন্তু আবার গোমরাহীর এবং কুফুরির পথ কিন্তু বেছে নিও না এটা রাসূুল্লাহ সলাদের সাথে ওয়াদা নিয়েছিলেন য আমার পরে কিন্তু আবার তোমরা কুফরি বা গোমরাহীর পথ বেছে নিও না এবং একটা সতর্ক করেছিলেন সেটা হচ্ছে তোমরা মুসলিম আরেকটা মুসলিমের প্রাণ নিও না। তার মানে মুসলিম হয়ে মুসলিমের রক্ত ঝরাইও না। এটা কিন্তু কুফুরির পথ।

                                                           

এটা কিন্তু পথভ্রষ্টতার পথ। এটা বলে দিয়ে আল্লাহ সুবহানাহুও তাালার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম সাক্ষী নিয়েছিলেন। বলেছেন আল্লাহুম্মা হালবালাতু আল্লাহ আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? যখন সাহাবায়ে কেরাম বলেছিলেন নাম আপনি পৌঁছে দিয়েছেন তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম তিনবার আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলেছেন আল্লাহুম্মাদ। আল্লাহুম্মাশাদ। আল্লাহুম্মাশাদ। আল্লাহ তুমি সাক্ষী থাকো। এই সমস্ত মানুষ কিন্তু সাক্ষী দিয়েছে যে আমি আমার রিসালাতের দায়িত্ব পৌঁছে দিয়েছি। এটা ছিল রাসূলামের শেষ ভূমিকা। তারপর কিছুদিন তিনি বেঁচে ছিলেন। তারপর তার ইন্তেকাল হয়ে গেছে। কেন এতগুলো কথার মাঝে কথাটা বললাম? তার মানে এটা হচ্ছে ইসলামের সর্বশেষ দিক নির্দেশনা যে খুব শীঘ্রই আমাদেরকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে এবং আমাদের আমল সম্পর্কে কিন্তু জিজ্ঞাসা করা হবে।

                                                           

এটি ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ তার কিতাবুল আদহা। কুরবানীর অধ্যায় এনেছেন ৫৫৫০ নাম্বার এবং মুসলিমে হাদিসটি কিতাবুল কেসাস হত্যার অধ্যায় এনেছেন ৪২৭৫ এ পেয়ে যাবেন। তাহলে এই কোরআন এবং হাদিস থেকে আমরা যে দিক নির্দেশনা দিতে চাই বা নিতে চাই সেটা হচ্ছে দেখেন আমাদেরকে উৎফুল্য নয় দিন শেষে আমাদেরকে আল্লাহর সামনে একটু দাঁড়াতে হবে এবং চিন্তাশীল অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে সারাদিনের জন্য একটু ক্ষমা চাইতে হবে। ইস্তেগফার করতে হবে এবং আমরা যা ভালো করেছি সেটা কবুলযোগ্য হলো কিনা আল্লাহর কাছে একবার সেটাকে পেশ করতে হবে যে আল্লাহ তুমি এটাকে কবুল করো। কারণ এটাই হচ্ছে আমাদের জীবন। এর মাঝেই আমাদের বিচার হবে।

                                                           

আমাদের কর্মের উপরেই। এজন্য আমাদেরকে উৎফুল্লতা নয় বরং আমাদেরকে চিন্তাশীল হতে হবে। আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা যেন আমাদেরকে তার দ্বীনের উপরে কায়েম রাখেন। আমিন। এবং বিগত দিনগুলোতে যারা ইবাদত করেছি গত বছর আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাালার কাছে আমরা একটা দোয়া করি। আল্লাহ তুমি আমাদের কাছ থেকে এটা কবুল করো। এবং বাকি যতদিন পর্যন্ত পৃথিবীতে আল্লাহ তুমি বাঁচিয়ে রেখেছ আল্লাহ আমাদেরকেই হেদায়েতের উপরে ইবাদতের উপরে কায়েম রাখো। আমিন ইয়া রাব্বল আলামিন। দ্বিতীয় পয়েন্টে যাওয়ার আগে এখানে একটা কথা বলে দেই। আজকে একটা জিনিস খুব ফিল হয়েছে। সেটা কি জানেন? আমরা মুসলিম হিসেবে অনেক সময় এমন কিছু কাজ করি তখন ধর্মীয় গুরুদের হুজুরদের ফতোয়ার অপেক্ষা করি না।

                                                           

মন থেকে এমন কিছু করি যেটা দেখতে হয়তো ভালো। যদিও সেটা ইসলামের সাথে সম্পর্কযুক্ত না। যেমন ঈদের দিনের কোলাকুলি আপনি ঈদের দিনে কাউকে জিজ্ঞেস করে কোলাকুলি করেন না। অন্তর থেকে কেন যেন একটা উৎফুলতার সাথে আপনি এটা কাজটা করে ফেলতেছেন। এবং এটা আপনি একটা ধর্মীয় অনুভূতির ভিত্তিতে করেন। যদিও ধর্ম আপনাকে এটা শিক্ষা দেয় নাই। কিন্তু আমি কেন বুঝাতে চাইলাম জানেন? বিষয়টা হচ্ছে আজকে আমাদের অন্তর থেকে ধর্মকর্ম এমনভাবে বিলুপ্তি হওয়ার পথে আপনি ওই লোকগুলোর কথা স্মরণ করেন তো যারা পহেলা জানুয়ারিতে ফারস্ট নাইট পালন করে এদের কাফেরদের চাইতে মুসলিমদের সংখ্যা সচিতি বেশি তাদেরকে কোন শিক্ষা দেয় নাই বা তারা যদি হুজুরদের কথা পাত্তও দিবে না যদি বলা হয় নাজায়েজ তাও তারা পাত্তাও দেবে না এটা করে বাঙালি হিসেবে পহেলা বৈশাখের দিন হুজুরদের ফতোয়া দেওয়া লাগে না তারা এটাকে কর্ণগত করবে না তারা নিজে থেকে এমন কিছু উদযাপন করে এমন কিছু আবেগের সাথে করে ফেলে তারা প্রমাণ করতে চায় তারা

                                                           

বাঙালি এখন আমার প্রশ্ন হলো জায়েজ নাজায়েজ সেটা তো আরেকটা জিনিস যে নাজায়েজ বললাম কিন্তু মানুষ যখন ফিতরতিভাবে বৈশাখ পালন করে বাঙালি হিসাবে জানুয়ারি পালন করে ওই আপনার উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে তাহলে মুসলিমত্বের হিসাবে তারা মহাররমের কয় তারিখ আজকে এইজন্য প্রথম তারিখটা বলিনি আমি যদি এখন হাত তুলতে বলি ম্যাক্সিমাম মানুষ বলতে পারবেন না আজকে মহাররমের কয় তারিখ এটা মহাররম মাস শুরু হয়েছে এটি অনেকে জানে না কোন খবর মিডিয়াতে এই সম্পর্কিত ওই যে তথাকথিত চেতনাবাদী দলের কেউ তাদের মধ্যে মুসলিম নাই তারা কি স্ট্যাটাস দিয়েছে যে আমরা তাহলে যেভাবে পহেলা বৈশাখ পালন করেছি যেভাবে আমরা থার্টিফারস্ট নাইট পালন করি এই মহাররমে কিছু একটা করতে হবে এমন কোন দিক নির্দেশনা কেউ কি দিয়েছে আপনি দেখাইতে পারবেন না তার মানে ইসলামের যে কোন বিষয়ের সাথে তারা এমনভাবে পিঠ ফিরিয়েছে যেগুলোতে এখন আর বলার অপেক্ষা রাখে না কতটা নিচে নামলে মানুষ এমনটা হতে পারে আরে যদি এমন হতো যে তারা তার থার্টিফস্ট নাইট এর মতো বৈশাখের মতো মহররম নিয়ম মেতে উঠেছে আমরা এখান থেকে ফতোয়া দিতাম যেটা জায়েজ নাই এগুলো করা ঠিক না দিতাম কিন্তু প্রয়োজনই পড়ে না কারণ আপনি নিজেই এটাকে এমনভাবে উৎখাত করে ফেলে দিয়েছেন এখানে জায়েজ নাজায়েজের বিষয়ই না।

                                                           

মানে আপনি মুসলিম এটা প্রমাণ করারও কিছু নাই। এটা খুব আশ্চর্যের একটা ব্যাপার। অথচ ম্যাক্সিমাম মানুষ জানে না যে আজকে কয় তারিখ। আল্লাহ সুবহানাহুতালা আমাদেরকে হেদায়েত দান করুন। >> মহারররাম শুধু জানুয়ারির মত না। এটা জেনে রাইখেন। মহারররাম শুধু বৈশাখের মতো না। মহাররমের আলাদা একটা মর্যাদা আছে। এটা হক রাখে যে এটা আপনি উদযাপন করবেন। এটা হক রাখে। মাসটাই এমন মর্যাদাপূর্ণ। কিন্তু তারপর আপনার অন্তর কোনদিন এদিকে ঝোকে নাই। কেন? কারণ এটা নিয়ে এডভারটাইজ নাই। এটা নিয়ে কোন রকমের তৎপরতা নাই। এটা মুসলিমত্বের সাথে আছে। এটা নিয়ে কোন হেডেক নাই কোন ব্যক্তির। এটা খুবই আশ্চর্যজনক ব্যাপার। এই মহাররম মাস আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাায়ালার পক্ষ থেকে একটি মর্যাদাপূর্ণ মাস।

                                                           

আলহামদুলিল্লাহ যদি আপনারা না জেনে বা উপেক্ষা করে উপেক্ষা করেছেন আমরা বলব আলহামদুলিল্লাহ যে এই নাজায়েজ কোন কিছু মহররমের সাথে আপনারা করেননি। আলহামদুলিল্লাহ। তবে এবার আসুন এই মহররম মাস যেহেতু আজকে মহররমের আমাদের তারিখ অনুযায়ী আজকে তিন তারিখ আজকে চার তারিখ হিসাবে আগামী ১০ তারিখ আগামী ১০ই মহাররম পড়েছে আগামী জুমা তো মহাররম মাস এককভাবে বা স্বতন্ত্রভাবে পুরো মাসটি হচ্ছে একটা মর্যাদাপূর্ণ মাস গত খুতবাগুলো যাদের স্মরণে আছে তারা বুঝতে পারেন যে মহাররম মাসের একটা মর্যাদা হলো এটা হলো হারাম মাস যে চারটা মাস হারাম তার প্রথম হচ্ছে এই মহাররম এবং এই সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। যে সম্পর্কে আপনি সূরা তওবার ৩৬ নাম্বার আয়াতে পেয়ে যাবেন।

                                                           

এবং বুখারীতে তাওহীদের অধ্যায় ৬৮৯৩ নাম্বার হাদিস মুসলিমে ৩০ নাম্বার অধ্যায়ের ১৯ নাম্বার পর্বের ১০০ ৩১৭৯ নাম্বার হাদিস সেগুলোতে আপনি পেয়ে যাবেন। এ মহাররমের মাস হচ্ছে হারাম মাস মানে সম্মানিত মাস এবং এটা হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটা মাস। যে মাস দিয়ে আরবি মাস শুরু হয়েছে। এখানে একটা কথা বলে দেই। আমি একটা পয়েন্ট ছেড়ে দিয়েছি যেটা খুতবাকে খুব সংক্ষিপ্ত করার জন্য। আপনি সূরা বাকারার সূরা তাওবার ৩৬ নাম্বার আয়াতটা পড়বেন। সেখানে একটা জিনিস পাবেন যে মক্কার কাফেররা কি করত? চার মাস যে হারাম এটা দ্বীনে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের ধর্ম থেকে মানে তারা জানতো। এবং তারা এটা মানতো। কে বলেছে তারা আল্লাহকে চিনতো না।

                                                           

আল্লাহর বহু বিধানকে তারা মানতো। কিন্তু কিছু কিছু শিরিক করার কারণে আল্লাহ তাদেরকে মুশরিক বলেছেন। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু সাললাম আসার পরে তাকে অস্বীকার করার কারণে আল্লাহদেরকে কাফের বলেছেন। কিন্তু তারা তো মূলত আল্লাহকে চিনত। ইসলামের যে বিধানগুলো মানতো তারা একটা হচ্ছে চার মাস যে হারাম যুদ্ধ করা যায় না, লুটতারাজ করা যায় না এটা তারা চরমভাবে মানতো। তাদের টেকনিকটা দেখেন এরা কি করল যে আমাদের লস লেগে যাচ্ছে। তারা তিন মাসকে কঠোরভাবে মানতো। শুধুমাত্র মহাররমটাকে তারা মানতো না কিন্তু ঘুরিয়ে মানতো। জীবন থেকে উৎখাত করে দেয়নি।

                                                           

তারা আমাদের মত এত নিকৃষ্ট না যে আল্লাহ বলেছেন চার মাস হারাম এটা কমিয়ে তিন মাসে করে ফেলেছে তারা তিন মাসও করেনি চার মাসে বহাল রেখেছে পার্থক্য শুধু এতটা করেছে তারা মহররম মাসটাকে সফর করে দিত সফর মাসটাকে মহররম বলে গণনা করতো বলতো কি জন্যযে মহাররম মাস চলতেছে এখন যারা হজে আসতো তারা কি করত যখন মহাররম মাসে আবার যার যার দেশে ফিরে যাইত তো এখন তো মহাররম হারাম লুটতারাজ করতে পারবে না ওরা বলতো এই মাসটাতে আমরা লুটতারাজ করি নাই আগামী মাসটা আমরা মহররম হিসেবে পালন করে নিব। তারা এই তওরিয়াটা এই হিল্লাটা তারা করতো। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বিদায় হজের খুতবাতে এটাও বলেছিলেন আজকে জামানা আমার মাধ্যমে ওই অবস্থায় ফিরে এসেছে যেই অবস্থায় আল্লাহ পৃথিবীটাকে সৃষ্টি করেছিলেন।

                                                           

তার মানে প্রথম মাস মুহাররম। যেটা মক্কার মুশরিকরা গণনা করতো না। মহাররমটাকে তারা পিছে ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু ইসলাম বিজয়ের সাথে সাথে এই চার মাসটাকে যেভাবে আল্লাহ হারাম করেছে সেভাবে আবার স্থায়ীভাবে করেছেন। তাহলে এই পয়েন্টটা এখানে আমি উল্লেখ করিনি কারণ এটা লম্বা আলোচনা হয়ে যেত। এজন্য সংক্ষিপ্তভাবে বলে দিলাম। তাহলে মক্কার মুশরিকরা ধর্ম পালন করত হিল্লার সাথে। তারা তওরিয়া করতো। এটা ইহুদিদের একটা একটা থিওরি বা ইহুদদের একটা গুণ। আমাদের সমাজের যারা একটা মাযহাব মানে। আমরা সে মাযহাবের নাম নিলাম না। মাযহাবের নাম নিলে তাদের গায়ে লাগে। কিন্তু এই মাযহাবের আবার কি করেছে? তারাও হিল্লা বাহানা নিয়েছে তালাকের ক্ষেত্রে।

                                                           

আল্লাহ বলেছেন তিন তালাক হয়ে যাওয়ার পরে যদি তার অন্য কোথাও বিয়ে হয় সেই স্বামী যদি মারা যায় যদি তালাক হয়ে যায় তারপরে সে আবার প্রথম স্বামীর সাথে বিয়ে বসতে পারে যদি আর এরা কি করতেছে যদি হবে না মানে আমরা বিয়ে দিয়ে নেব আবার তালাক করা নেব আল্লাহ বলছে ইন কেস যদি হয় এমন তাহলে এই ব্যক্তির বিয়ে আবার হইতে পারে তারা সেটাকে থিওরিতে নিয়েছে ইচ্ছা করে এক রাত্রের জন্য বিয়ে দেয় দিয়ে আবার তালাক নেয় নেওয়ার পরে আল্লাহর আয়াতকে বাস্তবায়ন করে একবারে সেম এ মক্কার মুশরিকদের মত এজন্য এই হিল্লা বাহানা থেকে সাবধান থেকে আল্লাহর ধর্মের সাথে হিল্লা করা যাবে না এজন্য যাদের অন্তর সোজা যারা কোরআন হাদিসকে একবারে সোজা সালাফদের মানহাজের উপর ভিত্তি করে বুঝে এবং বুঝায় তাদেরটা মেনে নেন ও সমস্ত হিল্লা বাহানাকারীদের দিকে যেয়ে তাহলে আপনার ওয়াইফকে একদিনের জন্য সে ব্যবহার করে দিবে যেমন জাতি যেমন বিধান তার সাথে আল্লাহ ঠিক এমনি আচরণ করেছে এ

                                                           

পশুর মত আচরণ রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহ এবং যাকে হিল্লা হল দুইটাকে পাঠার পাঠার বকরি আপনি সাবধান থাকবেন এ সমস্ত জাতি থেকে আল্লাহকে হেদায়েত দান করুন আমরা ওদিকে যাব না এটা হচ্ছে মুহাররম মাস সম্মানিত মাস এ সম্পর্কে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কথা যেটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সলাম বলেছেন সেটা হচ্ছে তিনি বলেছেন আফিয়ামবাদশাহুল্লাহিল মুহারম মহারমের সিয়ামটাকে বলতে গিয়ে তিনি ভাষাটা এমন ব্যবহার করেছেন যে রমজান মাসের সিয়ামের মর্যাদার পরে যদি কোন সিয়ামের মর্যাদা থাকে সেটা হচ্ছে আল্লাহর মাস মহাররমের সিয়াম বা মহাররম মাসের সিয়াম। মহাররম মাসের সিয়াম বলতে গিয়ে তিনি শাহারুল্লাহ শব্দটা উচ্চারণ করেছেন। আল্লাহর মাস মহাররম মাসের সিয়াম। তার মানে এইযে শাহারুল্লাহ শব্দটা মহররমের সাথে লেগে যাওয়ার কারণে সমস্ত মাসের চেয়ে মহররমের মর্যাদা এদিক দিয়ে বেড়ে যাচ্ছে।

                                                           

কেন? যখনই কোন কিছু আল্লাহর সাথে লাগিয়ে দেওয়া হয় সেটা আপনি জানেন যে কিতাবুল্লাহ আল্লাহর কিতাব এটার মান কেমন সবচাইতে বেশি বাইতুল্লাহ এ ঘরগুলা কার আল্লাহর ঘর রাসূলুল্লাহ এটা হচ্ছে আল্লাহর রাসূল তার মানে যা কিছু আল্লাহর সাথে লেগে যাবে তার মর্যাদা অটোমেটিকলি বেড়ে যাবে আর কোন কিছু দেখার প্রয়োজন হবে না তা মহাররম মাসের সাথে আল্লাহ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে তার মানে শাহারুল্লাহ এটা হচ্ছে আল্লাহর মাস যদিও ১২ মাসে আল্লাহর কিন্তু অন্য কোন মাসের ক্ষেত্রে রমজান শাহারুল্লাহ বলা হয় নাই। কিন্তু মুহাররমকে শাহারুল্লাহ বলা হয়েছে। এটা থেকে ওলামায়ে কেরাম এটার ইস্তেমবাদ করেছেন যে মুহাররমের মর্যাদা অত্যন্ত গভীর। যে হাদিসটা আপনি ইমাম মুসলিম ২৬৪৫ এ পেয়ে যাবেন।

                                                           

তাহলে এটা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাালার মাস মহাররম মাস। আর এ মাস হচ্ছে বিজয়ের মাস। আপনি ইতিহাস পড়লে দেখতে পাবেন এই মহররম মাসে ইসলামের বিজয় আল্লাহ করেছিলেন। সবচাইতে বড় শত্রু নবীদের ফেরাউনকে। আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তালা মহাররম মাসের ১০ তারিখেই ডুবিয়ে দিয়েছিলেন এবং পুরো বনী ইসরাইল জাতিটাকে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা বিজয়ী করেছিলেন নাজাত দিয়েছিলেন সেটা ছিল মহাররম মাসের ১০ তারিখ তো এটা ছিল মহাররম সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কথা যেহেতু আগামী খুতবা মহাররমের ১০ তারিখে পড়ে গেছে তাহলে আশুরা সম্পর্কে বিস্তারিত আমরা সেই খুতবার জন্য রেখে দিচ্ছি আজকে আপাতত শুধু ১০ তারিখ সম্পর্কে এতটা বলব প্রত্যেক মাসেই নিজস্ব কিছু দিন থাকে খাস যেমন রমজান মাসের ছিল কদর।

                                                           

জিলহজ্ মাসের ছিল ১০ দিন বা ইয়াউমে নাহার। ঠিক মহাররমেও এই ১০ দিন গুরুত্বপূর্ণ। একটা বর্ণনায় পাওয়া যায় যে মূসা আলাইহিস সালাম যে তুর পাহাড়ে ৪০ দিন অবস্থান করেছিলেন ৩০ দিন ছিল জিলহজ্ মাসের ৩০ দিন। জিলহজ মাস যখন শেষ হয়ে যাবে তখন তিনি ফিরে আসতে চেয়েছিলেন। আল্লাহ তাকে অতিরিক্ত আরো ১০ দিন অপেক্ষা করতে বললেন। একটা মত হলো সেই ১০ দিন ছিল মহররমের ১০ দিন। আরেকটা বর্ণনা আসছে না। সেটা ছিল জিলকদের ৩০ দিন আর জিলহজের ১০ দিন ছিল। এই ৪০ দিন। ওটা এটার চাইতে বেশি শক্তিশালী ওই মতটা। তবে এটা একটা মত। এটাকে কেউ দুর্বল বলেনি। এটাও হতে পারে।

                                                           

তাহলে এটা যদি হয় তাহলে মহররমের এক থেকে ১০ দিন এটাও মর্যাদাপূর্ণ বিশেষ ১০ টা দিন এবং এই দিনের মধ্যে ১০শে মহাররম হচ্ছে সবথেকে বিশেষ দিন যেই দিনের আলাদা একটা নাম আছে সেটা হচ্ছে ইয়াওমে আশুরা। যদিও আশুরা আশুরা থেকে মানে দশমকেই আশুরা বলা হয়। কিন্তু অন্য কোন মাসের দশম দিনকে আশুরা বলা হয় না। যখনই আশুরা শব্দটা উচ্চারণ হয় প্রত্যেকটা মুসলিম এটা বুঝে যায়। সেটা হচ্ছে মহররমের ১০ তারিখ। তার মানে এটা হচ্ছে এই দিনের খাস নাম। ইয়াওমে আশুরা। এই ইওমে আশুরার একটা মর্যাদা আছে। একটু আগেই বলেছি পৃথিবীর ইতিহাসে সবচাইতে বড় দিন যেটাকে বলা হয় সেটা হচ্ছে এই ইওমে আশুরা।

                                                           

মহররমের ১০ তারিখের দিন। এ সম্পর্কে আপনাকে একটা দিকনির্দেশনা দেব। এটা এমন একটা দিন। আশ্চর্য হয়ে যাবেন। যদি মহাররমের ১০ তারিখ সম্পর্কে নিয়ে আপনি স্টাডি করেন তাহলে দেখতে পাবেন। এটার মান হচ্ছে ইব্রাহিম আলাইহি সালামের মত। কেমন জানেন? ইব্রাহিম সালামের মান জানেন তিনি এমন এক ব্যক্তি তাকে পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের চাইতে বেশি তাকে নেতা হিসেবে মানে শ্রদ্ধার সাথে মানে ইহুদিরা তাকে মানে খ্রিস্টানরা তাকে মানে মক্কার মুশরিকরা তাকে মানতো এবং সমস্ত মুসলিমরা তাকে মানে মানে আল্লাহর পক্ষ থেকে পৃথিবীতে যত কিতাবধারীরা আছে সবাই ইব্রাহিম আলাইহি সালামকে সম্মান করে কারণ তারা সব তার সন্তান তার থেকেই আসছে ইহুদি নাসারা সবাই মোহাম্মদ সালাম গালি দিবে কিন্তু ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের নামটা শ্রদ্ধার সাথে নেবে তাহলে ইব্রাহিম আলাইহি সালামের জামান এ মহররমের দিনের হচ্ছে সে ঈমান কেন? ইহুদিদের কাছেও ১০ তারিখের মর্যাদা সবচাইতে বেশি।

                                                           

খ্রিস্টানদের কাছেও এই মহাররমের ১০ তারিখের মর্যাদা সবচাইতে বেশি। মক্কার মুশরিকরাও এই মহররমের ১০ তারিখকে মানতো। আর ইসলামী এটাকে বহাল রাখা হয়েছে। খুব আশ্চর্য একটা ব্যাপার। এ সম্পর্কে বহু কথা আছে একটা হাদিস নিয়ে নেন আনাশামুনা আশুরাফরা রমাদান তিনি বলতেছেন মক্কার মুশরিকদের সম্পর্কে এবং মুসলিমদের সম্পর্কে রমজান মাসের সিয়াম পালন ফরজ হওয়ার আগে এই মহররমের সিয়ামটা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল বা তৎকালীন লোকেরা এটাকে বাধ্যতামূলক হিসেবে সিয়াম পালন করতমা আর এই দিনটাকে কাবা এবং মক্কার মুশরিকরা তারা এই দিনে কাবার গিলাফকে পরিবর্তন করত। এই হাদিসটা ইমাম বুখারী কোট করেছেন ১৫৯২। আপনারা বিগত বছরগুলোতে লক্ষ্য করেছেন কাবা ঘরের এই ১৩০০ বছর ধরে মানে ইসলাম অতীত মানে মূল স্বর্ণযুগটা পার হওয়ার পর কে যেন এটা পরিবর্তন করেছিল।

                                                           

তারা এই ১৩০০ বছর ধরে পরিবর্তন করল আরাফার দিন ময়দানে চলে আসতো তখন ওই নয় তারিখে জিলহজের নয় তারিখে কাবার গিলাফ পরিবর্তন করা হতো কিন্তু বিগত আমি তিন চার পাঁচ বছর ধরে লক্ষ্য করতেছি যে দেখতেছি যে না তারা আগা আগের নিয়মে ফিরে আসছে তারা এখন মোহাররম মাসে কাবার গিলাফ পরিবর্তন করে আর সেটা ১০ তারিখে করে না যদিও মক্কার মুশরিকরা মানে কুরাইশরা ১০ তারিখে করতো কিন্তু বর্তমান সরকার সেটাকে এক তারিখে নিয়ে আসছে তার মানে মানে মহাররমের এক তারিখে কাবার গিলা পরিবর্তন করার ঘটনা ফিরে আসছে আলাকুলিহাল এটা আমরা ধর্মের পক্ষে বিপক্ষে নেব না তার মানে এটা খুব পুরানো ইতিহাস কারণ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তার ছোটবেলার কথা বলতেছেন তারা জাতিরা ওই ১০ তারিখের দিন কাবার গিলাফ পরিবর্তন করত আর এটা রাসূুল্লাহ সলা সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং জানতেন রাস পরবর্তীতে এটাকে বহাল রাখেনি এটা জাতির উপরে ছেড়ে দিয়েছেন কোন বিষয় না যেটা পরিবর্তন করতেই হবে।

                                                           

করলে কি আর না করলে কি এটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম থেকে পাওয়া যায় না। তবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে এটা আল্লাহর ঘরকে একবার পরিবর্তন করা হয় সাজানো হয়। এটা ভালো জিনিস আমরা বলতে পারি। তারিখ আলা যেটাই হোক। তবে তারা মহররমের এক তারিখ থেকে শুরু করেছে। যেমন গত তিনদিন আগে আপনারা দেখেছেন যে কাবার গিলাফকে পরিবর্তন করা হয়েছে। তাহলে এটা সম্পর্কে পাওয়া যায় যেটা একবারে পূর্বপুরুষদের থেকে আসছে। এটা বোঝা যায় যে মক্কার মুশরিক যারা পৌত্তলিক যারা তারাও ১০শে মহাররমকে এতটা মানতো যে সেইদিন তারা কাবার গিলাফকে পরিবর্তন করতো। এটা হচ্ছে প্রমাণ। তো আশ্চর্য বিষয় হলো যে ১০ তারিখের মর্যাদাকে ইসলামেও বহাল রাখা হয়েছে।

                                                           

এমন হয়নি যে ইহুদি নাসারারা সম্মান করে বিধায় আমাদের কাছ থেকে এটা সরিয়ে ফেলা হয়েছে না বরং আমাদেরকেও বলা হয়েছে যে না ১০ই মহররম এটা বিজয়ের দিন। এটা আমার ভাই মুসা আলাইহিস সালামের বিজয়ের অতএব আমার বিজয়। তাই রাসূল নিজেও সিয়াম রেখেছে এবং আমাদেরকেও সিয়াম রাখতে বলেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ১০ই মহাররমের মানে আগামী জুমায় আপনারা সিয়াম অবস্থায় থাকবো আমরা ইনশাআল্লাহ। এটার মর্যাদা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ সাল্লাম থেকে বলা হয়েছে আন্না রাসূুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরা তাকে আশুরা মানে ১০ মহররমের দিন সিয়াম রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলেমাদিয়া এইদিন যেই ব্যক্তি সিয়াম রাখবে তার অতীতের এক বছরের পাপকে মাফ করে দেয়া হবে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি এর মাধ্যমে অতীতের এক বছরের পাপকে আল্লাহ মাফ করে দিবেন।

                                                           

করেছেন ২৬৩৬ এ রয়েছে। আমরা আল্লাহর কাছে তৌফিক কামনা করি আল্লাহ আমাদেরকে যেন এই সিয়াম রাখার তৌফিক দান করেন। আমিন। >> আর বাকি কথা ইনশল্লাহ ওই দিনই হবে মহররমের ১০ তারিখের সাথে আমাদের কি সম্পর্ক রয়েছে। তবে এখানে উল্লেখ করে দেই যারা এখানে উপস্থিত আছেন অনেকের মগজে ব্রেনে বা আপনারা দেখতে পাবেন আপনাদের ঘরে মহিলাদের মগজে বসে আছে যে ১০ই মহররম মানে কারবালা। এটা অনেকের সাথে মানে এটা প্রচার প্রসারের সাথে তারা জানে কিন্তু তারা মূলত জানে না যে মহাররমের সাথে ইসলামের সম্পর্ক। মহাররমের সাথে মূল হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবদদশায় থাকতে যা কিছু বহাল রাখা হয়েছে এটাই হোক মহারম।

                                                           

ইসলামে নতুন কোন কিছু আর ঘটলেও সেটা লিপিবদ্ধ করা হবে না। ওটাকে আমলে আনা যাবে না। কারণ ওহী বন্ধ হয়ে গেছে মানে এখন সমস্ত পারমিশন বন্ধ হয়ে গেছে। এখন কেউ চাইলেই নতুন করে কোন কিছু আবিষ্কার করতে পারবে না। এজন্য কারবালার সাথে ১০শে মহররমের সম্পর্ক থাকলেও এটা ইসলামের সাথে কোন সম্পর্ক নাই। কারণ এটা একটা ঘটনা। পৃথিবীর ইতিহাসে বহু বিরল বহু ঘটনা ঘটে গেছে। ১০শে মহররমের দিন ঘটেছে। অন্য কোন দিনে ঘটেছে, হজের ২৮ তারিখে ঘটেছে। রমজানের মাসে ঘটেছে। বড় বড় ব্যক্তিত্বকে শহীদ করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। তা বিভিন্ন দিনে ঘটেছে। কিন্তু মানুষ শুধু ওই এডভারটাইজের কারণে শিয়াদের প্রচ প্ররোচনা আর প্রচার প্রসারের কারণে তারা শুধুমাত্র ১০ তারিখের ঘটনা জানে।

                                                           

আর বাকিগুলো সব ভুলে গেছে। কিন্তু এটা উচিত নয়। আসুন আমি আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেই। যদি আপনি হোসাইন রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুর হত্যাকে কেন্দ্র করে কারবালার দিন ১০শে মহররম পালন করেন তাহলে আপনি তার ভাইয়ের হত্যার দিনটা বলেন তো কবে হয়েছিল হোসাইন হাসান রাদিয়াল্লাহুকে হত্যা করা হয়েছে বিষ খাওয়ানো হয়েছে তাকে শহীদ করা হয়েছে তার আগে তার পিতা আলী রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু ফজরের সালাতে আসার পথে তাকে হত করা হয়েছিল বলেন তো সেই তারিখটা কবে তার আগে তার চাইতেও শ্রেষ্ঠ উসমান রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুকে তো একবারে কোরআন তেলাওয়াত করা অবস্থায় হত্যা করা হয়েছে বলেন তো সেই দিনটা কবে তার আগে তার চাইতেও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি যাকে মসজিদে নববীর ভিতরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাললামের জায়গায় দাঁড়িয়ে যাকে হত্যা করা হয়েছে ছুরিকা আঘাত করা হয়েছে বলেন তো সেই মাস কোনটা সেই দিনটা তার মানে সেটা সব ১০শে মহররম ছিল না এজন্য আপনার বিবেককে একটু সুস্থ করেন কোন কিছু পালন করতে হলে সবগুলো পালন করতে হবে কিন্তু ইসলামে তার বৈধতা নাই কোন ব্যক্তির মৃত্যুতে শোকাহত হওয়া কোন ব্যক্তির জন্মতে জন্মদিন পালন এটা ইসলামে বহাল রাখা হয় নাই।

                                                           

তাহলে দেখা যাবে যার ১০টা সন্তান ১০ মাসে হয়েছে ১০ মাসেই তার বার্থডে। তার স্ত্রীর একদিন ১১ মাস। তার একদিন ১২ মাস। তার নানী দাদীটা তো বাদ। ইসলামে কোন এরকম কিছু নাই। মরার দিনও তাই। আপনার অমুক নেতা মরেছে, অমুক দিন, অমুক নেতা মরেছে, অমুক দিন। তাহলে সারা বছর তো সুখই পালন করবেন। ইসলামকে নেওয়া শিখেন। আপনার এই এক ঘেয়ামি এবং আপনার এই গোড়ামি এই উদাসীনতা আপনাকে কিন্তু ইসলামের বিধান থেকে অনেক দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। আমরা আমাদের মুসলিম ভাই হিসেবে আপনাদেরকে স্মরণ করে দিতে চাই। ওমর রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুকে হত্যা করা হয়েছিল ২৪শে জিলহাজ্। ২৭শে ২৭শে জিলহাজ্ ২৩ হিজরীতে। একটা বর্ণনা আসছে ২৪শে জিলহাজ্ আঘাত করা হয়েছিল।

                                                           

২৭ তারিখে তার ইন্তেকাল হয়েছে হজের মাস। কিন্তু আপনি তো সেটাকে সুখ হিসেবে নেননি। ওসমান রাদিয়াল্লাহুকে হত্যা করা হয়েছে ২৮শে জিলহাজ। আইয়ামে তাশরিকের দিন। বলা হয়েছে একটা বর্ণনায়। আইমে তাশরিকের দিন। আরেকটা বর্ণনা ২৮শে জিলহাজ। আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে হত্যা করা হয়েছে একটা বর্ণনা ১৭ তারিখ একটা বর্ণনা ২০ তারিখে একটা বলা হয়েছে ২১শে রমজান রমজান মাসে আল্লাহ সেটা যেই তারিখেই হোক তাকে হত্যা করা হয়েছে কই আপনি তো শোখ পালন করেন না এভাবে প্রত্যেকটা বর্ণনা আছে এজন্য যারা কারবালার দিনকে শোকের দিন হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছেন আপনি কোনভাবে কিভাবে যে শিয়া হয়ে গেছেন আপনি নিজেও টের পাচ্ছেন না যেমন ইহুদী নাসারাকে কিভাবে হয়ে যায় বলতে হয় না আপনার আমলে প্রমাণিত হয় আপনিও ইরানপন্থী শিয়াপন্থী কিভাবে হয়ে আছেন আপনি নিজেও টের পাচ্ছেন কিন্তু আপনার রক্তে আগুন লেগে যায় যখন ইরানের শিয়াদের বিরুদ্ধে কিছু বলা হয় তাহলে আপনাকে বুঝতে হবে আপনার মধ্যে শিয়ার রক্ত ঢুকে গেছে।

                                                           

যখন আপনাকে দেশা বিচার করা হয় সৌদি আরবের পক্ষে কিছু বললে যদি আপনার গায়ে আগুন লেগে যায় তাহলে আপনি জেনে নেন যে আপনি কিভাবে যেন ইরানপন্থী হয়ে গেছেন আপনি টের পাচ্ছেন না। যেমন আজকে আমাদের ফুটবল টিমদের অবস্থা। ও যদি আর্জেন্টিনার ড্রেস পরে এখানে ব্রাজিলের আগুন লেগে যায়। ও যদি ব্রাজলের কথা বলে তাহলে আর্জেন্টিনার গায়ে আগুন লেগে যাচ্ছে। একই ভাই একই ঘরে বসবাস করে। তার মানে কে কোন পন্থী হয়ে গেছে সেটা মুখে তো প্রকাশ করা লাগে না। তার অন্তর তাকে বলে দিচ্ছে।

                                                           

আজকে ইসলামের পক্ষে কথা বললে সৌদি আরবের ভালো কোন কিছু যদি আপনার চোখে না লাগে আর যদি ইরানের শিয়াদের ভালো কিছু আপনার চোখে লাগে আপনি জেনে নেন যে আপনি কোন না কোন ভাবে ইরানপন্থী শিয়া হয়ে আছেন কিন্তু আপনি টের পাচ্ছেন না আর ওরা দুধের দোয়ানা এজন্য আজকের বক্তব্যটা খেলাফে আমরা দেওয়ার জন্য বলতেছি না শুধু আপনাকে সজাগ করে দেওয়ার কথা বলতেছি দুইটাই আপনার মুসলিম ভাই যদি এটাকে বহাল রাখতে হয় তাহলে আপনাকে কম্পেয়ার করতে হবে যে কে ইসলামের সবচাইতে কাছাকাছিতে আছে সৌদি সরকার এমনকি ইসলামের খেলাফ কাজ করেছে যেটা আপনার তার বিদ্বেষী আর আমি আপনাকে দেখায় দিতে পারব যে ইরান ইসলামের বিপক্ষে কত কি করেছে আরে ওরাতো ইসলামের মক্কার মক্কার ঘরকে ওরা অতটা মূল্যায়ন করে না ওদের কারবালার মাঠকে ওরা যতটা মূল্যায়ন করে আপনি কি টের পান এরাতো আপনার সবচাইতে প্রিয় ব্যক্তি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে গালি দেয় তার মেয়ে সবচাইতে সম্মানিত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুকে গালি দেয় ওমর রাদিয়াল্লাহুকে গালি দেয় সেটা হচ্ছে সেই পন্থী আর আপনার ওই যুদ্ধ বিগ্রত উৎফুল ওসব লম্বা লম্বা দাড়ি আর পাগড়ি আপনাকে ধোকায় ফেলে দিয়েছে এখনো ধর্মটাকে চিনার চেষ্টা করেন।

                                                           

আল্লাহ আমাদেরকে হিতাহিত জ্ঞান দান করুন। আমিন। তো কারবালার সাথে ইসলামের মানে পালন করার কোন সম্পর্ক নাই। যারা তারপরও পালন করে আপনাকে দুইটা হাদিস আজকে স্মরণ করিয়ে দেই। সেটা হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন রোদন করা মাতম করা সুখ পালন করা এটা ইসলামে জাহেলিয়াতের আমল বলে আখ্যায়িত করেছে এবং যেটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সলাম তার পায়ের নিচে দাবিয়ে দিয়েছেন যে তিনি বলেছিলেন আজকে জাহেলিয়াতের সমস্ত রীতিনীতি আমি আমার পায়ের নিচে দাবিয়ে দিলাম তার মানে এটা যেন আর মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে কিন্তু তারপরও সুদ জেগে গেছে তারপরও রোদন জেগে গেছে ওই কি বলে এটাকে মাতম জেগে গেছে সুখ দিবস জেগে গেছে এগুলো হচ্ছে জাহেলিয়াতের প্রথা রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেটা শক্ত হাদিস আপনি নিয়ে নেন লাইসা রাসূ বলেছেন তারা আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত হইতে পারে নামা যারা তাদের গাল চাপটায় মানে একবারে ব্যতীত হলে বুকে থাবড়ায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু বলেছেন তারা আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যারা কোন ব্যতীত হলে গড়াগড়ি

                                                           

খায় আর জামা কাপড় মহিলাদের স্বভাব দেখবেন বড় ধরনের আক্ষেপ হায় উতাস করলে প্রথম তাদের আগে কাপড় খুলে এটা একটা নির্লজ্যকর অবস্থা এটা কোন মুসলিম মহিলার আচরণ হতে পারে না সে গড়াগড়ি দেয় একবারে উলটপালট হয়ে যাচ্ছে কেউ তাকে ধইরে রাখতে পারে না তার কাপড় খুলে যাচ্ছে না রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সলাম বলেছেন তার অন্তর্ভুক্ত না এজন্য আমাদের মহিলারা যারা উপরে আছেন আপনারা এখান থেকে কিছু নেওয়ার চেষ্টা আপনার জীবনের এমন কোন ব্যথা আল্লাহ দেবে না যে আপনি শরীয়তের বহির্ভূত কোন কাজে লিপ্ত হয়ে যান। আপনাকে আপনার অজ্ঞতায় এমনটা করায় আপনি ধৈর্য ধারণ করার শিখেন এবং আপনার যে সন্তান কলিজার টুকরা আল্লাহ দিয়েছে সেটা যেমন আল্লাহ দিয়েছে আল্লাহ সেটা নেওয়ারও ক্ষমতা রাখে।

                                                           

আপনি তাকে একটুও টুশবদ্ধ করার ক্ষমতা রাখেন না। কারণ তিনি আমাদের রব। আমরা তার গোলাম। তিনি যা চায় আমাদের সাথে আচরণ করবে। এটা মেনে নেওয়াটাই হল বন্দেগী। আল্লাহ আমাদেরকে তা মেনে নেওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন। >> রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাললাম বলেছেন বেদাল জাহিলিয়া যারা আত্মীয়স্বজন মরে গেলে আপনজন মরে গেলে যারা জাহিলিয়াতের মুখ ডাক ডাকে হায় আমার পাহাড় হায় আমার অমুক হায় আমার হিরু হায় আমার তমুক এই যে বলে যারা চিৎকার করে রাসূল বলেছেন এগুলো হচ্ছে সব জাহেলিয়াতের মহিলাদের আচরণ এটা কোন মুসলিম ব্যক্তি হইতে পারে না যে আমার অমুক তমুক এ হয়ে গেছে সেই হয়ে গেছে আমার মনে আছে আমাদের কোন এক পরিচিত লোক আমি যখন সৌদি আরব থেকে ২০০৭ এ আসি অনেকদিন পর তাদের সাথে দেখা তার কি ঘটেছে এটা আমি শুনেছি তার এক ছেলেকে ক্রসফায়ারে হত্যা করে দেয়া হয়েছে।

                                                           

আরেক ছেলেকে ওই ঝুটের ব্যবসা কেন্দ্র করে ওখানে কুবিয়ে হত্যা করে দেওয়া হয়েছে। আরেক ছেলেকে কুবিয়েছে কিন্তু মরেনি। কিন্তু একদিন মানবতা যেটাকে বুঝায় দেখা হয়েছে আমাদের সাথে ক্লাসমেট ছিল। তার মাকে আমি জিজ্ঞেস করলাম কেমন আছেন? সুবহানাল্লাহ। তিনি আল্লাহ সম্পর্কে এত বাজে মন্তব্য করেছেন তখন আমার নিজের উপর এত আক্ষেপ হয়েছে। যদি আল্লাহ আমারে মাফ না করে যে আমার অপরাধ তাকে আমি জিজ্ঞেস কেন করলাম আপনি কেমন আছেন? একটা মুসলিম তো এমন হইতে পারে না। তার জীবনের কি ব্যথা আপনার হয়েছে যে আপনি আল্লাহকে এমন বাজে মন্তব্য করবেন। একটা মানুষের জীবনের অবস্থা তেমন হইতে পারে না। আপনি আল্লাহকে এটা জানেন।

                                                           

তারা মানুষ এমন চরিত্রের হয়ে গেছে যে আল্লাহকে সঠিক মূল্যায়ন করতে জানলো না। আল্লাহ আপনি তাকে চিনার চেষ্টা করেন। কার সম্পর্কে আপনি কি বলেন? কে তিনি জানতে হবে প্রত্যেকটা মুসলিমকে। একজন মানুষ এভাবে দুঃখ পেলে আক্ষেপ করলে আল্লাহর আল্লাহকে এইভাবে মন্তব্য করা আপনি আপনার নবায়ন করতে হবে ঈমানকে আপনি তওবা করেন ঈমান নিয়ে আসেন প্রত্যেক ব্যক্তিকে বলব আপনি আল্লাহ সম্পর্কে আগে জানার চেষ্টা করেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দ্বিতীয় হাদিস আমি আপনাকে শোনাই রাসূল বলেছেন আর জাহ আমার উম্মতের মাঝে ও চারটা জাহেলিয়াতের স্বভাব বিদ্যমান থাকবে তারা সেগুলোকে ছাড়তে চাইবে না সেটা হচ্ছে রোদন করা। কেউ মরে গেলে রোদন করা।

                                                           

এটা আমরুল জাহিলিয়া। তারপরে বলা হয়েছে কিয়ামাত কাতরান কাতরানের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে একটা হচ্ছে উত্তপ্ত আগুনের গোলা অথবা বলা হয়েছে আলকাতরা। যেটা তার কাপড়ের মধ্যে লাগিয়ে দেওয়া হবে। এই যে যারা কেউ মরে গেলে রোদন করে আর ওই যে দাপ্রায় কাপড় চোপড় ছিড়ে ফেলে ঠিক এটা দুনিয়াতে যেভাবে সে করেছে আল্লাহ সেটাকে হাকিকতে বদল করে দিবে তার গায়ের মধ্যে এমন চুলকানি বা এমন লেলিহান আগুন পড়িয়ে দেয়া হবে সে ঠিক এইভাবে হাশরের ময়দানে ছটপট করতে থাকবে কাদেরকে যেই ব্যক্তি বিনা তওবায় মরে যাবে এজন্য যারা এমনটা করে ফেলেছেন আপনি তওবা করে নেন আল্লাহ মাফ করবে এবং যারা উপস্থিত আছেন ওদের ভবিষ্যতে আপনার আমার জীবনে এমন কোন ঘটনা যদি না না ঘটুক যদি ঘটে তাহলে আপনি শিক্ষা নেন খবরদার কোনদিন এভাবে রোদন করবেন না আল্লাহ সম্পর্কে এবং ইসলাম সম্পর্কে আপনি এতটা উদাসীন হবেন না ইমাম মুসলিম রাহমা এটা কোট করেছেন ২০৪৯ এ রয়েছে এটা ছিল আজকের খুতবার মূল বিষয় যে কারবালার সাথে সুখ পালন করার ইসলামের কোন সম্পর্ক নাই কারণ মহাররম মাস এটা সুখের মাস নয় বহু মূর্খ মুসলিম আছে যে মহররম মাসে বিয়ে পর্যন্ত করে না এটা এসেছে ওই শিয়াদের কাছ থেকে অথচ আপনি এটা অজ্ঞতাবশত এ কাজটা করে যাচ্ছেন এটাতে কোন বাধাবিঘ্ন নাই।

                                                           

আল্লাহ সুবহানাহুতালা আমাদেরকে হেদায়েত দান করুন। আমিন। আস্তাগফিরুল্লাহ ওলাকুম মুসলিমিন গফুর রাহিম। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন ওসসালাতু ওসসালামু আলা আশরাফিল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালিন নাবিনা মুহাম্মাদিন ওয়ালা আলিহি ওয়া সাহবিহি আজমাইনবাদ এই খুতবার প্রথম অংশ ছিল চলমান সময়গুলোর সাথে মিল রেখে কিন্তু খুতবার জন্য বিশেষ একটা বিষয় আমরা নির্ধারণ করি যেমন আজকের খুতবার জন্য আমি যে বিষয়টা আপনার জন্য নির্ধারণ করেছি সেটা হচ্ছে একটা হাদিস এই যে আমরা যারা ইবাদত করি এই যে সালাত আদায় করলেন বা পড়তেছেন দাড়ি রেখেছেন টুপি পড়েছেন এ বিগত বছরগুলোতে যারা রমজান মাসের সিয়াম রেখেছেন হজ করলেন কুরবানি করলেন এই যে আমলগুলো এগুলোকে আপনি হেও প্রতিপন্ন করবেন না এগুলোকে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেন আজকে আপনার এই ভালো কাজগুলোর একটা মর্যাদা তুলে ধরবো একটা হাদিস শর্ট করে এক মিনিট লাগবে না রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাসলা ইয়া সাইমা হাসানাত যেই ব্যক্তি খারাপ কাজ করে আবার এরপরে ভালো কাজ করে তার একটা মর্যাদা আছে কে সে বা কি হয় তার সাথে তার উদাহরণ হচ্ছে কামাজ আলা এই ব্যক্তির অবস্থা হচ্ছে ওই ব্যক্তির মত যে এমন ব্যক্তিকে একটা লোহার বর্ম পড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যেটা তার গায়ের সাথে এমনভাবে আটকা যে সে চাইলেও হিলতে পারতেছে না, গাড় ঘুরাইতে পারতেছে না, হাত খুলতে পারতেছে না।

                                                           

তাকে সেটা চেপে ধরেছে। এই ধরনের পোশাক পড়লে কি আরাম হবে না কষ্ট হবে? >> আর এটা যদি লোহার হয় এটা একটা শাস্তি আজব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যেই পোশাকটা তাকে চেপে ধরে আছে এটা কবরের দৃশ্য। জেনে নেই। কবরে এমনটাই করা হবে। কিন্তু রাসূল বলেছেন আমিলা হাসানা এটা হচ্ছে ওই ব্যক্তির যারা পাপ করে যাদের অপরাধ বেশি তাদের গায়ে এমন একটা বর্ম ঝরানো যে সে বাধা পড়ে আছে সে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে এটা কবরে ঘটবে কিন্তু এই ব্যক্তিটা যদিমালা হাসানাত যদি ভালো কাজ করে তার সাথে কি ঘটে সে যখনই একটা ভালো কাজ করবে তার এককটা গিড়া তখন খুলতে থাকবে যে বরমের যে প আছে তার গায়ে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

                                                           

এগুলো একেকটা খুলতে থাকবে। যখনই সে ভালো কাজ করবে তখনই একটা খুলে যাবে। লুজ হবে। তার আস্তে আস্তে এটা দেহটা একটু ফ্রি হবে। তারপরে আবার যদি একটা ভালো কাজ করে আরেকটা গিড়া খুলে যাবে। বন্ধন খুলে যাবে। এক পর্যায়ে সে যখন প্রতিনিয়ত ভালো কাজ করতেই থাকে বর্মটা খুলে জমিনে পড়ে যাবে। তার মানে যেই জিনিসটা তাকে আটকিয়ে রেখেছিল তার ভালো কাজ তাকে তা থেকে মুক্ত করে দিবে। তার মানে জেনে নেন কবরে যাদেরকে চেপে ধরা হবে যার ভালো কাজ আছে এ ভালো কাজের বিনিময়ে তার কবর তাকে চেপে ধরতে পারবে না বা তাকে ছেড়ে দেবে এটাই হচ্ছে তার বাস্তব প্রমাণ।

                                                           

এজন্য আমাদেরকে কি করতে হবে? প্রতিনিয়ত ভালো কাজ করতে হবে। এটা অত্যন্ত জরুরি। না চাইলেও আমাদের দ্বারা পাপ হয়ে যাচ্ছে। এজন্য ইচ্ছা করে আমাদেরকে নিজেকে একটু প্রস্তুত করতে হবে যাতে আমি দুই রাকাত সালাত পড়তে পারি মাঝে মাঝে ওযু করতে পারি মাঝে মাঝে ভালো কথা বলতে পারি অন্তত কষ্ট হলেও যদি কোরআনটা নিয়ে একটা পৃষ্ঠা পড়তে পারি জিকির করতে ভালো লাগে না তারপরও করতে হবে আমরাও একটা সময় মনে আছে আমার এখানেই খুতবার পরে বলেছিলাম যে অন্তত সুবহানাল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহু আকবার ১০ বার করে পড়লে এতটা নেকি আড়াই হাজার নেকি হয় সালাতের পরে পড়লে আর ঘুমানোর পরে পড়লে সুবহানাল্লাহ আমি ওইদিনও দেখেছি সালামফান পরে ম্যাক্সিমাম মানুষ অন্তত ১০ বার করেও পড়েন নাই।

                                                           

উঠে গেছেন। তার মানে আমাদের অন্তর এতটা কঠিন হয়ে গেছে বা আমাদের ব্যস্ততা এত বেশি বেড়ে গেছে। রাসূ এ কথাটাই বলেছিল যে শয়তান মানুষের নামাজের মধ্যেই তার ব্যস্ততার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। যার ফলে সে ১০ বার সুবহানাল্লাহ পড়ার তৌফিক পায় না। অথচ আমলটা করা কতটা সহজ ছিল। এজন্য আমি আবারও বলব খুতবা থেকে। আমাদের সময় কিন্তু ঠিকই পাস হয়ে যাচ্ছে। আর হবে এটাই বাস্তব। যার যতটা ভালো কাজ আছে সেটা নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করার চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহ তুমি আমাকে এবং আমাদের মুসলিম ভাইদেরকে সেটা তৌফিক দান করো। আল্লাহ যে ইবাদতগুলোর শিক্ষা তুমি আমাদেরকে দিয়েছো আল্লাহ তুমি সেগুলোকে কবুল করো এবং আমাদেরকে এর উপরে কায়েম থাকার তৌফিক দান করো।

                                                           

আমাদেরকে তোমার ইবাদতের উপরে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করো। আমিন ইয়া রাব্বাল আলামিন। আমাদের কাছে দোয়ার দরখাস্ত করা হয়েছে। এক দ্বীনি বোন তিনি অগ্নিদগ্ধে আগুন তার গায়ে লেগেছে। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছে। তার আরোগ্যতার জন্য দোয়া করেছেন। আমরা এই ধরনের পরিস্থিতি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ আমরা যারা এখানে আছি আমরা যেন এই আগুনের আজাব থেকে দুনিয়া এবং পরকালে যেন হেফাজত থাকতে পারে। আল্লাহ তুমি আমাদেরকে কবুল করো। >> আর এই বোনকে আল্লাহ তুমি সুস্থতা দান করো। খুব শীঘ্রই তাকে উত্তম দেহ তুমি দান করো। যা তার পেরেশানির কারণ না হবে।

                                                           

এবং আমাদের কাছে আরেকটা সংবাদ এসেছে এই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে একজন ছিলেন তিনি হচ্ছেন মৌলভী রইসউদ্দিন সাহেব তার বোন গত শনিবার ইন্তেকাল তার মেয়ে তার বড় মেয়ে গত শনিবার ইন্তেকাল করেছেন তিনি হচ্ছেন মাওলানা জিল্লুল বাসেদ সাহেবের স্ত্রী রেহানা বাসেদ গত শনিবার ইন্তেকাল করেছেন এভাবে যাদের আত্মীয়-স্বজন মারা গেছে যারা দ্বীনের কাজের সাথে জড়িত আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তায়ালা তাদের প্রত্যেককে ক্ষমা করুক আল্লাহ আমার আম্মাকে এবং আপনাদের পিতামাতাকে যারা ইন্তেকাল করেছেন আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করুন। আল্লাহ এই বোনকে ক্ষমা করুন। এবং যতজনই কবরে আছে মুসলিম অবস্থায় মরে গেছেন আল্লাহ তুমি ওয়াদা করেছ আমাদের তৌহীদবাদীদের দোয়া আল্লাহ তুমি শুনে থাকো কবুল করে থাকো।

                                                           

আল্লাহ আমরা তাদের জন্য দোয়া করি। আল্লাহ তাদের কবরের আজাবকে তুমি মাফ করে দাও। তাদেরকে তুমি জান্নাতের নসিব করে দাও। আমিন। এবং আমাদেরকে আল্লাহ ইসলামের উপরে কায়েম থেকে তোমার সাথে সাক্ষাত করার তৌফিক দান করো। আমিন ইয়া রাব্বুল আলামিন।