আল্লাহু সুবহানাহুলাহ আল্লাহ সুবহানাহুতালার অনেক শুকরিয়া আদায় করছি যে আজকে এই পবিত্র জুমাবারে সুদূর ঢাকা থেকে অনেক চড়াই পার হয়ে ফেনী শহরের এই আল মাদিনা মসজিদে আসার তৌফিক দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ এত বেশি নেয়ামত দিয়েছেন এই নেয়ামতগুলোর শুকরিয়া আমরা যদি সারাজীবন আদায় করি শেষ করতে পারব যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামত গুলোকে সুমার করা শুরু করো তাহলে সুমার করে গণনা করে শেষ করতে পারবে আল্লাহতালা আমাদেরকে মানুষ করেছেন মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন শুধু তাই না আমাদেরকে সম্মানিত করেছে বনি আদমকে আমরা সম্মানিত করেছি সম্মাননা দিয়েছি মর্যাদা দিয়েছি অতএব মানুষ নামক প্রাণী সবাই একটা কমন সম্মানের অধিকারী দিয়েছেন কে আল্লাহ অতএব আল্লাহ এত বড় নেয়ামতের শুকরিয়া উমরা আদায় করে শেষ করতে পারব কিন্তু এর চেয়ে বড় আরেকটা সম্মান দিয়েছে আরেকটা বড় নেয়ামত দিয়েছেন যেটা সব নেয়ামতের সেরা নেয়ামত নেয়ামতুল ইসলাম ঈমান ইসলাম এবং ঈমানের নেয়ামত যদি এটা আমরা প্রাপ্ত না হতাম তাহলে আমাদের দুনিয়া আখেরাত দুটোই বরবাদ হয়ে যেত আল্লাহ আমাদেরকে সে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছেন আল্লাহ আমাদেরকে এত বড় নেয়ামত দিয়েছেন সেজন্য আরো একবার তার প্রশংসা করে বলি আলহামদুলিল্লাহ আমাদের এই জীবন ব্যবস্থায় আল্লাহ একটা চমৎকার পারিবারিক ব্যবস্থাপনা আমাদেরকে দিয়েছে।
ইসলামের সামাজিক ভিত্তির মূল ফাউন্ডেশনটাই হল পরিবার। পরিবার ছাড়া ইসলাম মানা কঠিন। পরিবার ছাড়া ইসলাম চর্চা করাও কঠিন। বরং ইসলামী জ্ঞান অর্জন করাটাই কঠিন। পরিবারের সবচেয়ে বড় নেয়ামত হল মা এবং বাবা। মা এবং বাবা। মা বাবার তারবিয়ত পেয়ে আমরা বিশুদ্ধ ঈমান শিখতে পারি বিশুদ্ধ আকিদা মা বাবা যদি দ্বীনদার হন তাদের কাছে আমাদের আল কোরআনের হাতে খড়ি হয় আমরা আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লামের পরিচয় জানতে পারি ছোট্ট সময়ে মা শুয়ে শুয়ে আমাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গল্পই শোনাতেন আর শোনাতেন সাহাবাদের গল্প তাই না আমরা গল্পের মজাও পেতাম আবার আদর্শিক জ্ঞানটাও এখান থেকে আমাদেরকে ছোট্ট ছোট্ট সূরা শেখাতেন বাবা এবং মা দুজনে কুলহু আল্লাহ দিয়ে শুরু করতেন।
কারণ তৌহীদ। ইসলামের সবচেয়ে জরুরি বিষয়টা কি? তৌহীদ। সে তৌহীদ। আমার মা আমার বাবা আমাকে শিখিয়েছেন কোরআন থেকে। কোন সূরা? সূরাতুল এখলাস। যার আরেকটা নাম হল সূরাতু তাওহীদ। সূরাত। এটা তাওহীদের সূরা। ছোট্ট সূরা। তাওহীদের পুরো ঘোষণাই এ সূরার মধ্যে তৌহীদের পুরো জ্ঞান এ সূরার মধ্যে নিহিত। এজন্য সূরার নাম হয়ে গেছে এখলাস। এখলাসটা আল্লাহর সাথে জড়িত। আমরা বলি আমাদের ঈমানের পরে এখলাসের প্রয়োজন। এখলাসের পরে মতা সুন্নাহ প্রয়োজন। তিনটা গুণ যে মুসলিমের মধ্যে থাকবে সে কিন্তু নাজাত পেয়ে গেছে। আলহামদুলিল্লাহ। প্রথম কি? ঈমান।
তারপর কি? ইখলাস এখলাস এখলাসটা তাওহীদের অনুসঙ্গ তাওহীদের গুরুত্বপূর্ণ পার্ট যা কিছু করব কার জন্য করব ইবাদত কার জন্য করব ঈমান কার জন্য পোষণ করব জীবন আল্লাহর আনুগত্যে রাসূ সুন্নত চালাবো কেন কার জন্য সবকছু আল্লাহর ইন্না সালাতিল্লাহি এটাদের মূল কথা এটা মূল কথাটা আমরা শিখেছি মায়ের বুকে থাকতেই ছোট্ট সময়ে দুই তিন বছর বয়সে সূরাতুল এখলাস মুখস্ত করার মত বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম কহু আল্লাহু আহাদ আল্লাহুস সামাদ লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলায়ালাহু সরা সহজে মুখস্ত করা যায় শিশুরা খুব সহজেই এটাকে আত্মস্থ করতে পারে সুন্দর উচ্চারণে মুখস্ত করে নিতে পারে তাই মায়ের কাছে বাবার কাছে দ্বিতীয় সূরাটা হল সূরাতুল কাউসার ছোট্ট আরেকটা সূরা সবচেয়ে ছোট সূরা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম শিখিয়েছেন বলেন আমাদেরকে শিখিয়েছেন আমাদের বাবা অথবা কত বাবা মা কত বড় নেয়ামত আজকের আধুনিক সমাজে এটা অনুধাবন করে অনুধাবন করেছে ইসলাম আমাদেরকে শিখিয়েছে কোরআন আমাদেরকে শিখিয়েছে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম মা বাবা কত বড় নেয়ামত এটা নিয়ে আজকে একটু
কথা বলব কারণ আজকের আধুনিক সমাজ তথাকথিত উন্নত সমাজ যেখানে যাওয়ার জন্য আমাদের তরুণরা শব্দ দেখে অথচ সেখানে তারা ভাবে সোনার হলিন আছে কিন্তু আসলে মানুষ ইসলাম হারা হয়ে যায় দ্বীন হারা হয়ে যায় সেই সমাজ আমাদেরকে আমাদের বাবা মা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় সে আমেরিকা ইউরোপের সমাজের কথা বলছি পাশ্চাত্য সভ্যতার কথা বলছি যারা সন্তান এবং বাবা মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেয় বাবা মায়ের প্রয়োজনীয়তাটাকে অস্বীকার করে কিন্তু কোরআন বলছে বাবা মাই আমাদের সবচেয়ে প্রিয়জন এই পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে কাছের মানুষ কে বাবা এবং মা আল কোরআন বাবা মায়ের প্রতি ভালোবাসা শ্রদ্ধা তাদের প্রতি দায়িত্ব পালন তাদের আনুগত্য করা তাদের প্রতি সেবা পরায়ণ থাকা তাদের খোঁজখবর নেওয়াকে আল্লাহ সুবহানাতালার ইবাদতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দিয়েছে বরং ঘোষণা করেছে কোন ইবাদত পূর্ণ হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত বাবা মায়ের প্রতি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা না হবে যে মুসলিম সালাত পড়বে ইবাদত করবে বাবা মায়ের অবাধ্য হবে সে মুসলিম কিন্তু আল্লাহরও অবাধ্য বান্দা
মনে রাখ সে আল্লাহর অবাধ্য ঠিক রেখেছে কিন্তু বাবা মায়ের সে অবাধ্যে তাহলে কি করতে হবে আল্লাহরও বাধ্যগত হতে হবে বাবা মায়ের বাধ্যগত হতে হবে দেখুন আল্লাহ সরাতুসার ৩৬ নম্বর এটা কিন্তু আল্লাহতালা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা সমস্ত মানুষের জন্যই সমস্ত মানুষের জন্য তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তার সাথে কারো শরিক করো না এর চাইতে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা কোরআনে আর না আল্লাহর ইবাদত এক নাম্বারে কি আল্লাহর এবং ইবাদত সঠিকভাবে হবে যদি শেরক মুক্ত থাকে তাহলে দ্বিতীয় ঘোষণা হচ্ছে শেরেক মুক্ত কোন ধরনের শিরিক করা যাবে না আজকে হাজারো শেরে ডুবে আছে আমাদের সমস্ত জনপদ অতএব আপনাদেরকে জানতে হবে কি সবশ থেকে মক্ক থেকে আল্লাহ বাদ করতে হবে আর এ সাথে আল্লাহতালা সম্পৃক্ত করে দিয়েছেন আরেকটা কথা বলি আর বাবা মায়ের প্রতি সদয় আচরণ সুন্দর আচরণ মানে দয়া করা নয় বাবা মায়ের প্রতি সুন্দর আচরণ কারণ সুন্দর আচরণ না করলে সে বাবা মায়ের অবাধ্য সন্তান হয় মুসলিম বাবা মায়ের অবাধ্য সন্তান
আল্লাহর অবাধ্য বান্দা অতএব কথাটি আল্লাহ সুবহানাতালা আরো স্পষ্ট করে বর্ণনা করলেন সূরাতুল যেটাকে সূরা ইসরাইল বলা হয় ২৩ নম্বর ২৪ নম্বর আয়াত আল্লাহ বলছেন তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন যে তাকে ছাড়া আর কারো ইবাদত করবে না করবে একমাত্রের পরে তিনি বাবা মায়ের কথা নিয়ে এসেছে গুরুত্ব বুঝতে হবে কিন্তু এবং তিনি নির্দেশ দিয়েছেন বাবা মায়ের সাথে সুন্দর আচরণ কর বাবা মায়ের সাথে সুন্দর আচরণ করলে আপনার ইবাদত আল্লাহর কাছে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হবে। আর না করলে ইবাদত প্রশ্নের পক্ষে দাঁড়িয়ে যাবে। যতক্ষণ না বাবা মায়ের আনুগত্যে সন্তান ফিরে আসে। বাবা মায়ের সাথে যে অসচরণ করে অসচরণ বলা হয় বাবা মায়ের নির্দেশ করা।
বাবা মায়ের অবাধ্য হওয়া বাবা মায়ের সাথে শত্রুতা পোষণ করা। বাবা মায়ের অধিকারকে উপেক্ষা করা। বাবা মায়ের অধিকারকে লঙ্ঘন করা, বাবা মায়ের কথা না শোনা এবং তাদের দায়িত্ব না নেওয়া। সন্তানের উপর ফরজ হচ্ছে বাবা মায়ের দায়িত্ব নেওয়া, গ্রহণ করা। কোন সন্তান যদি মনে করে আমার মূল দায়িত্ব আমার স্ত্রী এবং সন্তান সন্ততি বাবা মা নয়। সে ভুল করছে তার নিজের সন্তান তার স্ত্রীর দায়িত্ব পালনের আগে তার উপর ফরজ হচ্ছে তার বাবা মায়ের দায়িত্ব পালন মনে রাখবেন এটা আমার কথা নয় এটা কোরআনের কথা এটা নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লামের কথা এটা সকল মুসলিমের ঐক্যমত একটা অভিমত কোরআন হাদিসের আলোকে অতএব আমাদের সকল সন্তানকে মনে রাখতে হবে বাবা মায়ের দেখাশোনাটা এটা আমাদের জন্য অপশনাল না নফল না ঐচ্ছিক না এটা কি ফরজলেই নির্দেশ নেওয়াটাই আল্লাহ সুবহানাতালা বারবার আমাদেরকে স্মরণ করছে তিনি এরপরে কি বলছেন এরপরে বলছেন কি যদি তাদের বৃদ্ধ বয়সে তোমার কাছে তাদের দুজন অথবা কোন একজন পৌছে যায় অর্থাৎ
তোমার বাবামা যদি বৃদ্ধ বয়সে পৌছে যায় শব্দটা বলবে না তাদেরকে ধমক দেবে নামা এবং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা শ্রদ্ধাভাজন কথা বলবে আচরণ করবে তাদের উদ্দেশ্যে ভালোবাসা এবং বিনয়ের মেলে দেবে আর তাদের জন্য দোয়া করবে কথা বলে আমার রব তাদের প্রতি রহম করুন যেভাবে শৈশবে তারা দুজন আমার প্রতি রহম করেছিল কি চমৎকার এ কথাটা আপনারা ভেবে দেখবেন আজকের সংক্ষিপ্ত সময় ব্যাখ্যা করে বলতে পারব না তবে দু তিনটা কথা বলছে শব্দটা বলা যাবে না তাহলে কি গালিগালাজ করা যাবে কঠিন কথা বলা যাবে অসচারণ করা যাবে না কোরআন চমৎকার ভাবে বলে দিয়েছে শব্দটাও বলা যাবে না। এমনকি তারা যদি জুলুমও করেন এমনকি তারা যদি রক্ষ মেজাজ আমার সাথে অথবা আমার স্ত্রীর সাথে অথবা আমার সন্তান তথা তাদের নাতিনাতের সাথে করেন তবুও তাদের সাথে শব্দটাও বলা যাবে।
তাদের গায়ে কি হাত তোলা যাবে? তাদেরকে কি প্রহার করা যাবে? তাদেরকে কি ঘর থেকে বের করে দেওয়া যাবে? তাদের কাছ থেকে কি জোর করে বাবা মায়ের সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া যাবে সমাজে কি এগুলো হচ্ছে না হচ্ছে তাহলে এই সমাজকে বলে দিন শব্দটাও বলা যাবে এবং এর উপর তার দিন আমাদের শিক্ষা ধসে গেছে ধ্বংস হয়ে গেছে এই শিক্ষা আজকের আধুনিক শিক্ষা এ কথা শেখায় আমাদেরকে স্বার্থপরে মানুষের অধিকারের নামে অনধিকার চর্চা সারা বিশ্বব্যাপী শুরু হয়েছে আজকে কোথায় বাবা মায়ের অধিকার বলেন কে বাবা মায়ের অধিকারকে সংরক্ষণ করছে যত বেশি আধুনিক শিক্ষিত তত বাবা মায়ের প্রতি অপেক্ষা প্রদর্শন বাবা মা গ্রামে অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে সন্তান শহরে সুখ অনুভূতি লাভ করছে স্ত্রীর সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে এটা যদি সে শরীয়তের বন্ধনে থাকে আর শরীয়তের বন্ধন থেকে যদি ছুটে যায় তাহলে সন্তান গার্লফ্রেন্ড নিয়ে ঘুরে ঘরে কিনা সব ধসে গেছে সব ধ্বংস হয়ে গেছে মনে রাখবেন আজকের আধুনিকতা আমাদের ঈমান এবং আকিদাকে যেমন ধ্বংস করেছে আমাদেরকে ইবাদত থেকে সালাত থেকে সিয়াম থেকে যাকাত থেকে হজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে অনুভূতিকে ফোকা করে দিয়েছে ধ্বংস করে দিয়েছে আমার ইসলামের যে গায়ত ছিল আত্মমর্যাদা ছিল ইসলাম ঈমান আল্লাহ রাসূল কোরআন সুন্নাহর প্রতি যে ভালোবাসা ছিল ওটাকে ডিলিট করে দিয়েছে ধ্বংস করে দিয়েছে।
ফলে আজকের এই আধুনিক সমাজ বাবা মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালন করছে। তারা আজকে অদ্ভুত অদ্ভুত সব মানুষের অধিকার নিয়ে আমাদের সামনে উপস্থিত হচ্ছে। তারা কুকুরের অধিকার, বিড়ালের অধিকার, গাছের অধিকার, সমকামীদের অধিকার ইত্যাদি অশ্লীলতার মধ্যে যারা আছে তাদের অধিকার নিয়ে আজকে তারা সারা বিশ্বকে সচেতন করছে। কিন্তু মানুষের যে মৌলিক অধিকার সেটা ভুলে যাচ্ছে। আমাদের মুরুব্বিদের যে অধিকার, সেটা ভুলে যাচ্ছে। আমাদের ভাই-বোনেরাদের যে অধিকার সেটা ভুলে যাচ্ছে। আত্মীয়স্বজনের যে অধিকার সেটা ভুলে যাচ্ছে। জনগণের যে অধিকার সেটা ভুলে যাচ্ছে। আজকে দেখুন বিশ্বশক্তি আজকে জনগণের অধিকার কিন্তু রক্ষা করছে না। জনগণকে চিট করছে প্রতাারিত করছে। বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলো আজকে ফিলিস্তিনে কি কান্ড চালাচ্ছে দেখেন।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কিভাবে ব্যাসেকার করেছে দেখুন। মুসলিমদের অধিকার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে দেখুন। তারা আজকে গণতন্ত্র মানবাধিকার কিছু আমাদেরকে শেখাচ্ছে। প্রিয় ভাইয়েরা প্রিয় মুসল্লিয়ানে কেরাম মানুষের মুক্তি শুধু আল কোরআন এবং আস সুন্নাহ অনুশাসনের মধ্যে আল কোরআন এবং সুন্নাহকে অনুসরণ করা ছাড়া আল কোরআন এবং সুন্নাহ দিকে ফিরে আসা ছাড়া কোনদিন মানবাধিকার এই পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত হবে না। হয়নি। অমুসলিমরা নিজেদের দেশে যদিও কিছু সুন্দর নিয়ম কানুন তারা চালু করে কিন্তু মুসলিম দেশগুলোকে তারা জাহান্নাম বানিয়ে রেখেছে আমাদের পরিবার প্রথাকে ধ্বংস করার জন্য এখন পায়েতারা চলছে মুসলিম সমাজের মধ্যে জেনা ব্যভিচার অশ্লীলতা ঠকিয়ে দেওয়া হচ্ছে এখন ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে সমকামিতা আপনারা সাবধান থাকবেন একটু পড়াশোনা করুন ইসলাম বিরোধী যত চিন্তা ভাবনা ধ্যান ধারণা আছে এগুলো আজকে আমাদের অসচেতনতার কারণে আমাদের এলমি যোগ্যতা না থাকার কারণে আমাদের কোরআন সুন্নাহ ভিত্তিক জ্ঞান না থাকার কারণে আমাদেরকে পেয়ে বসেছে আমাদের রাজনীতিবিদদেরকে পেয়ে বসেছে আমাদের সমাজের প্রভাবশালীদেরকে পেয়ে বসেছে আমাদের ধনী মানুষদেরকে পেয়ে বসেছি আমাদের শিক্ষিত তথাকথিত
পন্ডিতদেরকে বুদ্ধিজীবীদেরকে পেয়ে বসেছি এদের কাছ থেকে তো আমরা জ্ঞান নেই এদের পরিস্থিতি আমরা চলি ফলশ্রুতিতে কি হচ্ছে বাবা মা থেকে বেছে আধুনিক দেখবেন যে অনেক বড় সরকারি চাকরি করে বাবা মায়ের কোন খোজ বাবা কৃষক তিনি সচিব তিনি বাবা মায়ের খোঁজ নিচ্ছেন লজ্জাবোধ করছেন কিভাবে বন্ধুদের সামনে বলবেন তিনি আমার বাবা কিন্তু মুসলিম হলে মনে রাখবেন মুসলিম তার বাবার পরিচয় দিতে গৌরবোধ করে মুসলিম তার মায়ের পরিচয় দিতে গৌরাবোধ করে। কারণ আজকে কেউ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হন, ভাইস চ্যান্সেলর হন কিংবা সরকারের একজন গ্রেড ওয়ান সচিব হন এই বাবা মায়ের কল্যাণে।
এই বাবা মায়ের সহযোগিতা এই বাবা মা তাকে না খেয়ে না দেয়ে তাকে মানুষ করেছে কিন্তু আধুনিক শিক্ষা তাকে এই পরম স্নেহ মমতায় ভরা বাবামা থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে দিয়েছে কিনা বলেন আমাদেরকে আজকে যদি বাবা মায়ের সাথে কানেক্টেড হতে হয় তাহলে দ্বীনের দিকে ফিরে আসতে হবে কারণ দন আমাদেরকে শেখায় বাবা মায়ের মর্যাদা দিন আমাদেরকে আবারো মনুষ্যত্বের দিকে নিয়ে আসে কারণ যে তার বাবা মাকে অপেক্ষা করে সে আসলে মানুষের মধ্যে যে বাবা মায়ের অসুস্থতায় বাবা মা বৃদ্ধ হলে তার খোঁজখবর রাখে না। তার প্রয়োজনীয় খরপোষ দেয় না সে মানুষের মধ্যে পড়ে না। আজকের অনেক বাবা মা কোটিপতি হাজার কোটি টাকার মালিক বৈধ অবৈধ নানা উপায়ে অর্জন করেছে।
সন্ধানকে পাঠাচ্ছে ইউরোপ আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে প্রতিবছর টিউশন ফি দিতে হয় কয়েক কোটি টাকা। কিন্তু হয়তো তার মা কিংবা বাবা ঔষধ কেনার পয়সা পাচ্ছেন। বলছে বাবা সন্তানের টিউশন ফি দিতে দিতে আমি হয়রান হয়ে গেলাম। তোমাদের খরপোষ এবং ঔষধের টাকা পাঠাতেছি। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইহিউন। কোটি কোটি টাকা ঢালছেন সন্তানের ইউরোপ কিংবা আমেরিকান ইউনিভার্সিটিতে। আর বাবা মায়ের জন্য কয়েক হাজার টাকাও দিতে পারছেন না। সন্তান কি হয়ে ফিরবেন বলেন তো মানুষ হয়ে নাকি অমানুষ হয়ে? এরকম গল্প আমাদের অনেক শোনা আছে। এক বাবা বাহরাইনে চাকরি করতেন। খুবই ভালো পোস্টে ইঞ্জিনিয়ার। একমাত্র সন্তান কন্যা তাকে ইংলিশ মিডিয়ামে সেখানে পড়ালেন। আর দেশেও অনেক কষ্ট।
পড়াশোনা অনেক কষ্ট। বিশেষ করে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল বড়। তারপরে তাকে পাঠালেন আমেরিকাতে। অনেক বড় বিদ্বাান হয়ে গেল পিএইচডি করল সেই কন্যা বাবা হঠাৎ এক্সিডেন্টে মারা গেল প্রশাসন থেকে বলা হলো তুমি একমাত্র কন্যা তুমি ফিরে আসো বলেরি বিজি আই ডো হ টাইম প্লিজ আপনারা শেষ কিন্তু ওখানেই করে দিন কন্যার কোন সময় নেই বাবার কাছে এসে বাবার কাজগুলো কমপ্লিট করে তার দাফনের ব্যবস্থা করার সময় তার এসে শিক্ষা সে কোথায় পেয়েছে? আধুনিক বিশ্বে পেয়েছে। আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় তাকে এভাবে তৈরি করেছে যে বাবা মারা যাবে। তোমার ওটা দেখার দরকার নেই। তুমি তোমার কাজে ব্যস্ত থাকো। কিন্তু ইসলাম কি এটা বলে? ইসলাম এটা বলে।
দাফন কাফন তো এমনিতেই ফরজ কাজ। সমাজের উপর ফরজে কেফায়া। কিন্তু আপনজন তো সেটা করতে হবে। আপনজন যদি না করে তাইলে হয়তো অন্যরা এগিয়ে আসবে। আজকের আধুনিক শিক্ষা কিন্তু আমাদেরকে এভাবে শেখাছে আবু রাদিয়াল্লাহু তালা থেকে বর্ণিত একটা হাদিসে বলা হয়েছে এটা খুবই বিশুদ্ধ একটা হাদিস সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন আল্লাহ রাসূ সুন্দর জীবন যাপনের জন্য কোন ব্যক্তি আমার কাছে সবচেয়ে বেশি হকদার কার অধিকার বেশি যে আমার কাছ থেকে সুন্দর আচরণ সহবস্থান এবং সুন্দর আচরণ প্রত্যাশা করতে পারে তিনি বললেন অমুক তোমার মামা ইয়া রাসূল্লাহ বললেন তোমার মামা ইয়া রাসূল্লাহ তারপর কে আল্লাহ রাসূ তিনি বললেন তোমার মাম্মামান ইয়া রাসূল্লাহ তারপর কে ধরতে পারে যখন জিজ্ঞেস করলেন তখন বললেন আবু আবুক তাহলে পৃথিবীতে সবচেয়ে কাছের মানুষ কে বলেন তো তারপরে কোরআন দুজনকে ওয়ালেদান বলেছে ওয়ালেদান বলেছে মা এবং বাবা মা এক নাম্বার মায়ের অনেক অবদান ইবনে রাদিয়াল্লাহু যে হাদিসটা আপনারা জানেন সহি মুসলিমের অনেক বড় হাদিস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম ওমর ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুকে বলেছিলেন যে দেখো মুরাদ গোত্রের কারনি বংশে একজন মানুষ রয়েছে তার নাম ওয়েস ইবনে আস আমাদের দেশে ওসাল করেনি বলেনি তিনি ইয়ামানের সাহায্যকারী ফৌজের সাথে আসলেন তার কষ্টরোগ হয়েছিল ছিল একটা দিহামের জায়গায় বাকি থেকে গেছে সেটা সুস্থ হয় নাই বাকিটা সুস্থ হয়ে গেছে এ লোক মায়ের খুব সেবা পরায় তুমি যদি কখনো তার সাক্ষাৎ পাও তাহলে তার কাছে মাগফিরাতের দোয়া প্রার্থনা করতে পারো কারণ সে এতটাই সৎ যদি সে আল্লাহর নামে শপথ করে তাহলে আল্লাহ তার সে শপথকে পূর্ণ করে তার দোয়া কবুল হয় আল্লাহ তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের যুগে জীবদশায় তিনিও জীবিত ছিলেন ইয়ামানে ছিলেন তিনি আসতে পারেন নাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে কেন আসতে পারেন না জানেন তিনি তার মায়ের সেবা করতেন মায়ের সেবা করতেন আমরা কি করছি প্রিয় ভাইয়েরা আমরা কি করছি এরপরে ওমর খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুর সময় তিনি যখন আসলেন তিনি জিজ্ঞেস করছিলেন আমাদের সে
ফৌজের মধ্যে বিন আমর নামে কেউ আছে কিনা খোজ করতে করতে পেয়ে গেলেন একজন বললেন হ্যা আমি ওয়েস তখন জিজ্ঞেস করলেন তুমি কি সেই ব্যক্তি যার দেহে কুষ্ঠ রোগ হয়েছিল বললেন যে তোমার কি কুঠর ভালো হয়ে গিয়েছিল যে পুরোটা বললে যে একটা দেরহাম এর অংশটা বাকি ছিল তুমি সে তুমি তোমার মায়ের সেবা করছিলে নাহ মায়ের সেবা করার জন্য রাসূুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লামের সহবাতকে স্যাক্রিফাইস করলেন। প্রিয় মুসল্লিয়ানে কেরাম, প্রিয় মুসলিম ভাই বোনেরা, আপনার মায়ের সেবার জন্যে আপনার বাবার সেবার জন্যে আপনি কতটা স্যাক্রিফাইস করেছেন? কতটা কষ্ট করেছেন গো? ওমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু তিনি তখন তাকে বললেন, তাহলে তো তুমি সে ব্যক্তি।
তুমি আমার জন্য আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার। তিনি করলেন। সুবহানাল্লাহ। ওমর রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু তারপরে জিজ্ঞেস করলেন তুমি কোথায় যেতে চাও বলল কুফায় ওমর ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু বললেন আমি তাহলে কুফার প্রশাসককে বলে দেই তোমাকে সকল ধরনের সহযোগিতা করবে তিনি বললেন প্রয়োজন নেই আমি নিশ্চয় এবং দরিদ্রদের কাতারেই থাকতে চাই সুবহানাল্লাহ মনে রাখবেন টাকার প্রতি লোভ আপনাকে অমানুষ করবে টাকার প্রতি লোভ আপনাকে মনুষ্যত্ব থেকে বাইরে নিয়ে যাবে। আপনাকে দুর্নীতিগ্রস্ত করবে। আপনাকে সুদ ঘুষ জনগণের সম্পদ আত্মসাথে আপনাকে উদ্বুদ্ধ করবে। নিঃসদের কাতারে থাকাটাই আমাদের জন্য ভালো। এরপর আমরা দ্বীন ইসলাম মেনে চলবো। ঈমানের পথে থাকবো। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করব।
আর আল্লাহ সন্তুষ্টি বলছেন এটা সুনানের কিছু কিছু গ্রন্থে এসেছে হাসান রেওয়েতে বাবা মায়ের সন্তুষ্টিতে আল্লাহুষ্টি যে আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুসন্ধান করে না সে কি আল্লাহর আরেক বান্দা যদিও সে তার বাবা কিংবা মা তার সন্তুষ্টি চাইবে চাইবে না অতএব আল্লাহ সন্তুষ্টি দিয়েই আমাদের জীবন শুরু করতে হবে আল্লাহ সন্তুষ ভিত্তিতেই আমাকে আত্ম গঠন করতে হবে পরিবার গঠন করতে হবে সমাজ গঠন করতে হবে রাষ্ট্র গঠন করতে হবে আমরা অনেক সময় রাষ্ট্র কথা ভুলে যাই রাষ্ট্র যেমন মন্দ তেমন চল আসলে আমি কি রাষ্ট্রের নাগরিক না আমি কি রাষ্ট্রের উন্নতি চাই না আমি কি চাই না রাষ্ট্রের সবাই ভালো হয়ে যাক আমি কি চাই না আমাদের রাষ্ট্র যারা চালায় তারা ভালো মানুষ ভালো মানুষ ভালো মানুষ ভালো মানুষ ভালো মানুষ ভালো মানুষ ভালো মানুষ ভালো মানুষ ভালো মানুষ ভালো মানুষ ভালো হোক যদি চাই রাষ্ট্রের জন্য দোয়া করতে হবে রাষ্ট্র যারা চালায় তারাও যেন ভালো হয়।
আল্লাহর কাছে সে তৌফিক আমরা কামনা করব। তাদের জন্য সেই নাসিহাটাও আমরা দেব। আমরা কি সমাজ থেকে মুক্ত কোন মানুষ? সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন কোন মানুষ? তাহলে এই সমাজ যারা চালায় তাদেরও ভালো হতে হবে। সমাজটা অন্ধকারে ঢুকে যাবে। এই সমাজটা অধপতনে তলিয়ে যাবে। যদি সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ধনী ব্যক্তিরা সৎ এবং ন্যায় পরায়ণ না হয় আল কোরআন এবং সুন্নাহ মধ্যে দেখেন সততা এবং ন্যায় পরায়তার অনেক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বরং এটা গোটা উম্মত সকল মানুষের প্রধান কাজ বলে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন তোমরাই হচ্ছ সবচেয়ে উত্তম জাতি। যাদেরকে পৃথিবীর তাবক মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে।
তোমাদের কাজ হবে সৎ কাজের আদেশ করা। অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা এবং আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ ইমান পোষণ করা। আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ ঈমান রাখা। এই কাজগুলোর মধ্য দিয়ে আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব। অতএব মুসলিম জনতা মুসলিম সমাজ, মুসলিম রাষ্ট্র যদি আমর বিল মারুফ মনকারের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে শ্রেষ্ঠত্ব কিন্তু থাকবে না। যদি তারা ঈমান থেকে সরে যায় তাহলে শ্রেষ্ঠত্ব থাকবে না। এবং আরো যত কল্যাণ আছে সেগুলো বেহাত। আজকের সমাজে সব ধরনের কল্যাণ ব্যহত। বাবা মায়ের প্রতি যে ভালোবাসা যে শ্রদ্ধা যে তাদের খোঁজখবর নেওয়া তাদের যে দায়িত্ব পালন তাদের প্রতি যে হুট পোষ দেওয়ার দায়িত্ব দেখেন এগুলো ব্যহত হচ্ছে ব্যহত হচ্ছে একরকমের না এজনের ক্ষেত্রে একরকম যে যতটা আধুনিক জীবনে সম্পৃক্ত এবং যতটা ঈমান থেকে দূরে ইসলাম থেকে দূরে আখলাক থেকে দূরে ইবাদত থেকে দূরে সে তার বাবা মায়ের দায়িত্ব থেকে ততটাই দূরে সে বাবা মায়ের দায়িত্বের ব্যাপারে ততটাই গাফিল।
প্রিয় ভাইয়েরা, প্রিয় বোনেরা, যারা আজকে এই সালাতু জুমার মধ্যে এসেছেন আপনাদের প্রতি নাসিহা হল নিজের ঈমানটা আগে ঠিক করে নেন। মুসলিম এবং মমিন ব্যক্তি যদি ঈমান ঠিক না করে তার কোন কিছুই ঠিক হবে না। ঈমানের সাথে আমাদের যে কয়েকটা জিনিস থাকা প্রয়োজন যদি আমরা বাবা মায়ের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে চাই ঈমানের পরে তাকওয়া। ঈমানের পরে কি? সার্বক্ষণিক আল্লাহর চিন্তা আল্লাহ দেখছেন আমাকে আল্লাহ আমাকে অবজারভ করছেন এই অনুভ নিজের মধ্যে রাখাই হচ্ছে আল্লাহ সচেতন আল্লাহ আল্লাহ শুধু আমরা একটা বাঘ দেখলে যে ভয় পাই এটা সেই ভয় নয় এটা সার্বক্ষণিক তাকওয়ার কথা বলা হচ্ছে তাকওয়া শুধু বেশভূষা দিয়ে আসে তারপর আলোচনা আমরা আরেকদিন তৃতীয় হচ্ছে ইবাদত তৃতীয় হচ্ছে কিবা বিশুদ্ধভাবে ইবাদত ইবাদত যেন তেনভাবে পালন করলে হবে না মাজারে পড়ে থাকলে কি ইবাদত হবে মাজার করলে কি ইবাদত হবে কবরের কবরওয়ালার কাছে গিয়ে চাইলে কি ইবাদত হবে এইযে বিভিন্ন জ্যোতিষী কিংবা গণকু যেন বলে বিভিন্ন রকম যে
পরিভাষাগুলো গ্রামেগঞ্জে আছে মানুষ তাবিজের জন্য যায় তারপরে বদ নজরের জন্য যায় তাদের কাছে যাওয়া কি ইবাদত হবে বরং এগুলো হচ্ছে এবাদতকে ধ্বংসকারী এগুলোর অধিকাংশই হচ্ছে বড় শিরক অধিকাংশ সময় এগুলো বড় শেরেক হিসাবে আমাদের সামনে চলে আসে ফলে আমার ঈমান আমল সবই ধ্বংস হয়ে যায় শিরিক মুক্ত ইবাদত দ্বিতীয়বার কি বললাম আমরা শিরিক মুক্ত ইবাদত শিরিক মুক্ত মানে কুফরি মুক্ত শিরিক মুক্ত মানে নাস্তিকতা মুক্ত ইবাদত তারপরে আমাদের প্রয়োজন হচ্ছে হালাল হারাম বেঁচে চলা। হালাল হারাম বেছে চলা। কখনোই হারামের মধ্যে যাবেন না। ভুলে চলে গেলে তওবা করে চলে আসুন। কখনোই হারামের সাথে সম্পৃক্ত হবেন না। হারাম আমাদের জীবনের সব ভালো কিছু ধ্বংস করে দেয়।
হারাম আপনাকে মানে আপনার ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়। আপনি হারামটাকে ইনকাম করলে ওটা দেখবেন কোন এক সময় আপনার পেটে চলে যাবে। আপনার সন্তানের পেটে চলে যাবে। আপনার পরিবারের যেকোন সদস্যের পেটেও যারা ঘুষ খায় দেখবেন ঘুষের টাকা যা কিছু করে সে কনজিম করছে না যারা সুদ খায় তাদের একই অবস্থা যারা চুরিচামারি করে যারা চিন্তাই করে আত্মসাৎ করে জনগণের টাকা আত্মসাৎ করে মানি লন্ডারিং করে বিদেশে টাকা নিয়ে যায় এটা সবারই একই সর্বশেষ হচ্ছে আখলাক আখলাক আখলাক সুন্দর না হলে সে বাবা মাকে বলবে বাবা তোমার জন্য পারলাম নামা তুমি এমন কেন বলছো এমন কেন বলছো অথচ কোরআন কি বলছে শব্দটাও বলা যাবে না শব্দটা না বলার স্বভাব আপনার রক্ত হবে যদি আপনার আখলাক সুন্দর হয় এগুলোকে ইংরেজিতে বলে সফ স্কিল আরবিতে বলে আলমা সুন্দর সুন্দর স্কিলগুলো আমাদের অর্জন করতে হবে ইতিবাচক থাকতে হবে বাবা মা আমাকে জুলুম করুক মারুক ধরুক আমার আচরণাতে হবে সুন্দর আমার দুনিয়ার অনেক টানাটানি থাকতে পারে।
কিন্তু আমার প্রথম প্রায়রিটি সবচেয়ে বেশি অগ্রগণ্য ব্যক্তি হচ্ছে বাবা এবং মা। আমি কষ্ট করব একবেলা খাবো না। কিন্তু আমার বাবা মা যেন অনাহারে না থাকে। প্রিয় ভাইয়েরা বোনেরা ইসলাম এভাবেই আমাদেরকে তারবিয়ত দিয়েছে। আমরাও এভাবে তারবিয়ত পেয়েছি। যারা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছি। মদিনায় গিয়ে আমাদের প্রখ্যাত একজন ওস্তাদের একটা লেকচার শুনেছিলাম। যিনি এখন মদিনার ব্র্যান্ড মুফতি সৌদি আরবের উচ্চ ওলামা পরিষদেরও তিনি অনেকদিন সদস্য ছিলেন আমাদের তিন বছরের ওস্তাদ মদিনা ইউনিভার্সিটিতে এবং মসজিদে নববীর মসজিদুল হারাম মাক্কা এবং আরো অনেক মসজিদে তিনি নিয়মিত দারস দিতেন লম্বা টাইম প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ বিন মোহাম্মদ আল মুহতার হাফেজুল্লাহ তার একটা সুন্দর লেকচার ছিল ফাফিমা ফাজাহিদ ফাহিমা ফাজাহিদ ফাফি হিমা মানে বুঝতে পেরেছেন তোমার জিহাদ তোমার বাবা মায়ের মধ্যে তোমার জিহাদ তোমার বাবা মায়ের মধ্যে কোন এক সাহাবী দুটো হাদিস আছে এখানে শুধু ভাষ্যটা আমি নিজের ভাষায় বলে দিচ্ছি একজন জিহাদে যেতে চেয়েছিলেন বললেন তোমার বাবা মা কি জীবিত তখন বললেন তুমি তাদের মধ্যে
জিহাদ কর বাবামা জীবিত থাকতে ফরজ ফরজ আইন ছাড়া আপনি বাবামার প্রয়োজন থাকলে আগে সেটাই মেটাবেন তারপরে যদি মুসলিম শাসক আপনাকে নির্দেশ দেয় তখন আপনি বাবা মায়ের অনুমতি নিয়ে জিহাদে যাবেন অন্যথায় আপনাকে বাবা মায়ের মধ্যেই জিহাদ করতে হবে অর্থাৎ বাবা মায়ের সেবায় আপনাকে ২৪ ঘন্টা অষ্টগ্রহ নিযুত করতে হবে আরেকটি হচ্ছে হজ ওমরা করতে চেয়েছিলেন তখন তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আগে বাবা মায়ের নিট পূরণ করো তারপরে। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে ইসলাম অনেক বড় বড় আমলের চাইতেও বাবা মায়ের দেখাশোনা এবং তাদের সেবাকে ইসলাম গুরুত্ব দিয়েছে।
আলাইহিস সালাম তিনি বাবা মায়ের প্রতি অত্যন্ত সেবা করা ১৪ তিনি ছিলেন বাবা মায়ের প্রতি অত্যন্ত সেবায় একই বিষয় আমরা সূরা মারিয়ামের মধ্যে তিনি বলছেন আমি আমার মায়ের প্রতি সেবা পরায় আল্লাহতালা তাকে মাই দিয়েছেন স্পেশাল ভাবে তাকে আল্লাহতালা সৃষ্টি করেছেন এভাবে প্রিয় উপস্থিতি আসুন আমরা নিজেদের একটু সমালোচনা করি এ পৃথিবীতে আল্লাহ আমাদের যেই সবচেয়ে কাছের মানুষকে সবচেয়ে বেশি প্রায়রিটি দিয়েছেন আমরাও যেন সে প্রায়রিটিটা রক্ষা করি যে সম্মান তাদেরকে দিতে বলেছেন যে সেবা তাদেরকে দিতে বলেছেন যে সুশ্রসা তাদেরকে দিতে বলেছেন আমরা যদি তার ব্যর্থ না করি তাহলে শুধু বাবা অপেক্ষা প্রদর্শন হবে না বরং মহান আল্লাহর নির্দেশ লংঘন হবে মহান আল্লাহর ইবাদতে বিঘ্ন হবে যদি আমরা সেটা করি আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করেন আমরা যেন আমাদের বাবায়ের প্রতি দায়িত্ব পালন করি আমাদের বাবা মা যেন আমাদের থেকে কোন কষ্ট না পান বরং প্রয়োজনীয় সেবা এবং সুশ্রসা সুন্দর আচরণ এবং ব্যবহার যেন তারা আল্লাহ আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করুন আলহামদুলিল্লাহ আলামিন মহাম্ ল্লাহ আল্লাহতালা আমাদেরকে এত নেয়ামত দিলেন আসুন নিয়ে আমরা একটু গবেষণা আল্লাহতালা মুসলিমদেরকে গবেষণাকারী জাতি হিসাবে সৃষ্টি করেছে কিন্তু গবেষণা আমরা অর্জন করেছি।
এটা আমাদের ট্রাজেডি ডেকে নিয়ে এসছে। আপনি দেখেন সারা বিশ্বের উন্নয়ন কিন্তু গবেষণা নির্ভর। সারা বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থা গবেষণা নির্মল। শিক্ষা কারিকুলাম গবেষণা নির্ণয়। আমাদের দেশে মাদ্রাসাগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কারিকুলাম কোথায়? কোন কারিকুলাম ওইভাবে নাই। এখন কিছু প্রচলিত হয়েছে গত আট ১০ বছর। কিন্তু কাঙ্খিত মানে পৌঁছে নাই। শিক্ষা ব্যবস্থা এমন যেখানে শতভাগ এ প্লাস পায় একটা স্কুল এবং কলেজ আপনারা জানেন আপনার নাম উল্লেখ করছি সেটাকে বোর্ডের সুকচ করতে হয় আপনারা কি বুঝতে পেরেছেন এই নিউজটা কি শুনেছেন একটা স্কুল এন্ড কলেজ এসএসসি তে শতভাগ এ প্লাস পাওয়ার পরে তোমরা কেন এ প্লাস পাইলা সবাই সুপোস করা এর পিছনে কারণটা বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয়ই এখানে ইঞ্জিনিয়ারিং আছে ইঞ্জিনিয়ারিং মানে প্রপোরশন না অন্য কিছু এবং দুর্নীতি আছে এজন্য সবসটা করা হয়েছে তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদেরকে একটা ভালো রেজাল্টে উপনীত করেছে কিন্তু দুর্নীতিমুক্ত করতে পারে নাই আমাদেরকে মানুষের মত মানুষ বানাতে পারে নাই ফাকি ঝুকি দিয়ে এ প্লাস পাওয়ার কৌশল রপ্ত করিয়েছে।
এটাকে কি কারিকুলাম বলে? এটা কি শিক্ষা ব্যবস্থা হতে পারে? হতে পারে না। কোরআন সুন্নাহ শিক্ষার চাইতে উত্তম শিক্ষা এই জমিনে আর নাই। এই জগতে আর নাই। এই মহাবিশ্বে আর মুসলিম সমাজ মুসলিম জাতি যদি সমৃদ্ধ হতে চায় যদি আলোকিত মানুষ হতে চায় যদি বিশুদ্ধ বিবেক সম্পন্ন মানুষ হতে চায় তাহলে কোরআন সুন্নাহ থেকেই তাদেরকে ফিরে আসতে পৃথিবীর মানুষ ভালো মানুষ হতে পারে যদি কোরআন সুন্নাহ তথা আল্লাহর অনুশাসন তারা মেনে চলে আর যারা কোরআন সুন্নাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয় যারা আল্লাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয় আল্লাহ আল্লাহ এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের নির্দেশ এবং অনুশাসন থেকে যারা বিচ্ছিন্ন হয় তারা যতই চেষ্টা করুক না কেন তারা আলোকিত মানুষ হতে পারে তারা দায়িত্বশীল মানুষ হতে পারবে না মানুষ কাকে বলে যে মানুষ পৃথিবীর সব মানুষের কল্যাণে কাজ করে সেই হল প্রকৃত মানুষ আজকে বাংলাদেশে বসে আমি অন্য দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারি না আমি অন্য জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারি না আমি অন্য
গোত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারি না এই মহান বাণী তো আমাদের রাস আল্লাহতালা তো তাকে সেভাবেই প্রেরণ করেছেন আমাদের কাছে শুধু আমাদের মা বাবাই নিরাপদ নয় আমাদের কাছে শুধু আমাদের স্ত্রী নিরাপদ নয় আমাদের কাছে শুধু আমাদের ভাই বোন সন্তান সন্ততিই নিরাপদ নয় আমাদের মুসলিমদের কাছে সারা পৃথিবীর তাবক মানুষ নিরাপদ এই নিরাপত্তা কে দিয়েছেন আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহ এ সম্মান কে দিয়েছেন? আল্লাহ। সে নিরাপত্তা আমরা বিঘ্নিত করতে পারি না। প্রিয় উপস্থিতি এজন্য বারবার বলছি এই যে শিক্ষাটা পেলাম আপনাদের সামনে এ কথাগুলো কোথেকে উপস্থাপন করছি। আমার নিজের থেকে না আমাদের নফস তো ভালো না। আমি সব কথা উপস্থাপন করছি আল কোরআন এবং আমি সব কথা উপস্থাপন করছি।
ওহীর জ্ঞান থেকে আমি সব কথা উপস্থাপন করছি আমাদের প্রিয় রাসূ সাল্লাল্লাহু সাল্লামের সিরাত থেকে এবং সুন্নাহ থেকে একটা কথাও আমি বড় আজ আপনাদের সামনে বলি নাই বলার সাধ্য আমাদের না আমি যদি নিজের কথা বলতে যাই আমি বিভ্রান্ত হয়ে যাব আমি যদি নিজের কথা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে যাই তাহলে আমি সঠিক পথে থাকব না প্রিয় ভাইয়েরা এজন্য আপনাদের প্রতি আমার নাসিহাত সত্যের দিকে আসুন কোরআনের দিকে আসুন কোরআন বোঝে সহি সুন্নাহর দিকে আসুন কারণ জাল হাদিস আছে অতিব দুর্বল হাদিস আছে যেগুলো আমাদেরকে বিভ্রান্ত করছে যেগুলো অনুযায়ী আমল করা জায়েজ নেই এমন কিছু আজকে ইসলাম হিসেবে আমরা পালন করছি আমাদেরকে আসতে হবে অথেন্টিক বিশুদ্ধ নলেজের দিকে বিশুদ্ধ জিনিসই বিশুদ্ধতা আপনার মধ্যে তৈরি করবে বিশুদ্ধ চিকিৎসা আপনার রোগ দূর করবে আর অশুদ্ধ চিকিৎসা আপনার রোগকে দূর করবে না।
আরো বেশি রোগ আক্রান্ত আপনাকে করে দেবে। বুঝতে পেরেছেন? অতএব যদি মা বাবার অধিকার রক্ষা করতে চান, ভাই বোনের অধিকার রক্ষা করতে চান, আত্মীয়স্বজনদের অধিকার রক্ষা করতে চান, প্রতিবেশীদের অধিকার রক্ষা করতে চান, আর জনগণের অধিকার রক্ষা করতে চান, তাহলে কোরআন সুন্নাহ ভিত্তিক জীবন যাপন। সাদা মাটা জীবন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের মতই, সাহাবায়ে কেরাম, খোলাফায়ে রাশের জীবনের মতই, আমাদের মুমিনদের জীবন অতীব সাদা মাটা। দুনিয়ার জৌলসে সেখানে অনুপস্থিতি। দুনিয়ার চাকচিককে আমরা বিভ্রান্ত হই না। দুনিয়ার চাকচিক্য আমাদেরকে ভুল পথে নিয়ে যায়। আসুন সেভাবে আত্মগঠন করি, জীবন গঠন করি, সমাজ গঠন করি এবং বিশ্ব গঠন করি। আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে তৌফিক দেন।
আল্লাহ যেন আমাদের গুনাহ খাতা গুলোকে ক্ষমা করে দেন। আমাদের ভুল বিভ্রান্তি গুলোকে দূর করে দেন। আমাদেরকে জ্ঞানের ভুবনে বিচরণ করার তৌফিক দেন। জ্ঞানের ভুবন থেকে মনিমুক্তাগুলো আহরণ করার তৌফিক দেন। আমরা যেন জ্ঞানের আলোকে এলমের আলোকে আমরা যেন আমাদের ঈমান এবং আকিদার তথ্যগুলো গ্রহণ করি। ঈমান এবং আকিদাকে সাজাই। ইবাদতগুলো পালন করি। হালাল হারাম এই জ্ঞানের আলোকেই যেন আমরা বেছে চলতে পারি। আর আমাদের আখলাকটাকেও কোরআন সুন্নাহর আলোকেই আমরা যেন গঠন করি। আল্লাহ আমাদেরকে সে তৌফিক দান করুন। আমিন। যারা অসুস্থ তাদেরকে সুস্থ করে দিন। যারা বিভিন্ন সমস্যায় আছেন, মুসিবতে আছেন আল্লাহ যেন তাদের বালা মুসিবত সমস্যাগুলোকে দূর করে দেন।
আল্লাহ যেন আমাদেরকে বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করেন। আমাদেরকে আমাদের সমাজকে আমাদের রাষ্ট্রকে বহিঃশত্রুর যেকোনো ষড়যন্ত্র থেকে আল্লাহ যেন রক্ষা করেন। আল্লাহ যেন এই জাতিকে বারাকা পূর্ণ করেন। এই জাতির উপর বারাকা নাজিল করেন।