আজকের এই জুমাবারে সমাবেত সম্মানিত দ্বীনদার মুসলিম ভাই এবং বোনেরা আল্লাহ সুবহানা তালার একটি আয়াত নিয়ে আজকে আমরা বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু পয়েন্ট আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব। সে আয়াতটি হলো সূরাতুন নাহলের ১২৫ নম্বর আয়াত। আল্লাহ আমাদের ঈমান আনার পরে যে দায়িত্বটা দিয়েছেন মানুষকে ঈমানের দিকে আহ্বান করা। এই আয়াতটি মূলত সে দায়িত্বের একটা নীতিমালা খুবই সংক্ষেপে গোটা মানবজাতির সামনে পেশ করেছে। আল্লাহ সুবহানাতালা এই সূরাটির মধ্যে বান্দার উপর তার অজস্র নেয়ামতের বর্ণনা দিয়েছেন। এজন্য ওলামায়ে কেরাম অনেকেই এই সূরাটা এই সূরাটিকে বলে সূরাতুন নেয়াম। নেয়ামতের সূরা। যেই সূরায় আল্লাহর অনেকগুলো নেয়ামত বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা সবচেয়ে বড় নেয়ামতের বর্ণনা দিয়ে এই সূরাটি শেষ করেছেন যে আয়াত দিয়ে সেটি হচ্ছে হেদায়া হদাতে নেয়ামত দিয়ে তিনি এই সূরাটা শেষ করলেন।
অর্থ কি? তুমি তোমার রবের পথের দিকে আহ্বান করো হিকমত সহকারে এবং উত্তম উপদেশ সহকারে এবং সবচেয়ে উত্তম পন্থায় তাদের সাথে আলোচনা করো বিতর্ক করো। নিশ্চয়ই তোমার রব সবচেয়ে বেশি জানেন ওই ব্যক্তিদের সম্পর্কে যারা তার পথ থেকে বিভ্রান্ত হয়েছে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনি জানেন অধিক ওই ব্যক্তিদের সম্পর্কেও যারা হেদায়েত প্রাপ্ত হয়েছে এই দাওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্যই হচ্ছে মানুষকে হেদায়েতের দিকে আহ্বান করা আর হেদায়েতের মালিক কে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'আলা তিনি সেটা নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন আল কোরআনে ইন্নাকলাতা মানলাকল্লাহ তুমি যাকে পছন্দ করো অথবা ভালোবাসো যে সে হেদায়েত পাক তাকে তুমি হেদায়েত দিতে পারবে না বরং আল্লাহ যাকে চান তিনি তাকে হেদায়েত প্রদান করেন করতে পারেন এজন্যে আল কোরআন বারবার রিসালাতের দায়িত্বকে তাবলীগ বা প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছে।
মালা রাসূলে ইল্লাল বালা রাসূলের দায়িত্ব শুধু পৌছিয়ে দেওয়া। আর পৌঁছানোটাই হচ্ছে দাদা ইলাল্লাহ হে রাসূ আপনার রবের কাছ থেকে আপনার উপর যা নাযিল হয়েছে সেটি প্রচার করে দিন আর এই প্রচারটাই হচ্ছে দালাল্লাহ কিন্তু কে ইসলাম গ্রহণ করবে আর না করবে এটা নির্ধারণ করেন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা কারো হাতেই মানুষের পূর্ণ হেদায়েতের ক্ষমতা অর্পিতও হয় নাই আর সত্যিকার অর্থে ক্ষমতাও নাই। এই আয়াতে যে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ন্যাস্ত হয়েছে স্বয়ং নবী সাল্লালামের উপরে এবং তার উম্মতের উপরে সেটি হচ্ছে আদাল্লাহ। এবং এই দাওয়া ইলাল্লাহর কাজটা অত্যন্ত সুচারু রূপে সুসম্পন্ন করার জন্যে এখানে একটা গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। তিনটা গাইডলাইন। এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করব আজকে।
প্রথম গাইডলাইনটা হচ্ছে আল হিকমা। দ্বিতীয় গাইডলাইনটা হচ্ছে আলমাতুল হাসানা। এবং তৃতীয় গাইডলাইনটা হচ্ছে আল মুজাদালা বিল্লাতিহিয়া আহসান। আল্লাহ সুবহাতালা এই আয়াতটির আগে আরেকটা আয়াতে তিনি বলেছেন কি বলেছেন এরপর আপনার প্রতি হে মুহাম্মদ আমরা ওহী পাঠালাম এই নির্দেশ দিয়ে যে ইব্রাহিমের মিল্লাতের অনুসরণ করো ইব্রাহিমের দীন মিল্লাত মানে এখানে দ্বীনের অনুসরণ করো তিনি একনিষ্ঠ ছিলেন মুখলেস ছিলেন। হানিফা দিয়ে একনিষ্ঠ এখলাস বোঝানোর উদ্দেশ্য ওমাানা মিনাল মুশরিক এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহতালা যেন বললেন তোমরা যারা ইব্রাহিমের মিল্লাত এবং দ্বীনকে অনুসরণ করতে চাও যিনি তার সন্তানের সাথেও খুবই চমৎকার একটা পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন। ইয়া বুনাই বলে তিনি কথা বলেছিলেন এবং তার বাবার সাথেও যখন নেগোশিয়েট হয় তখন তিনি ইয়াবাতি এভাবে সুন্দর শ্রদ্ধা ব্যঞ্জক ভাষা তিনি ব্যবহার করেছেন।
আবার যখন তিনি তদিয়া আল্লাহরদ্রোহী এক ব্যক্তির সাথে পরস্পর বিতর্ক করলেন প্রত্যেকে তার হুজ্জত পেশ করলেন তখনও তিনি দাওয়া ইলাল্লাহর সবচেয়ে সুন্দর মানহাজ সবচেয়ে সুন্দর মেথডলজি ফলো করলেন ওহাজ্জা ইব্রাহিম আল কোরআন সেটা বলেছে উদ্ধৃতি দিয়েছে আমরা বেচারারা বোকা বুঝি না শুধু তেলাওয়াত করেই মজা পাই। কিন্তু এর মধ্যে যে বুদ্ধিমত্তা এর মধ্যে যে মেথডোলজি এর মধ্যে যে গভীর চিন্তার অনেক কিছু আছে, অনেক লেসন আছে সেটা কিন্তু আমরা মিস করি। তাহলে আল্লাহ এখানে আসলে বললেন কি? যে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের এই যে দাওয়ার চমৎকার মানহাজটা তোমরা গ্রহণ করো। ঠিক যেমনি তৌহীদের ব্যাপারে তার আকিদাটা তোমরা গ্রহণ করবে। সকল নবীদের মূল আকিদা ছিল কি? আকিদাতুত তৌহীদ।
আকিদাতুত তাওহীদ। এই আকিদাতুত তৌহীদ হচ্ছে দ্বীনের মূল ক্রিম। মূল জিনিস। এজন্য সকল নবীদের শরীয়তের বিভিন্ন আহকামে এখতেলাফ থাকলেও আকিদাত তৌহীদে একটা এটম কিংবা পরমাণু পরিমাণ এখতেলাফ ছিল না আল্লাহ বারবার তাকে অনুসরণের কথা বলছেন মিল্লাতা ইব্রাহিমা হানফামিনাল মুশরিক তিনি বলে দিচ্ছেন যে তার মধ্যে আকিদাতুশ ছিল না অতএব যে ব্যক্তি আকিদাতুত তাওহীদকে শতভাগ প্রতিষ্ঠিত করেছে তার মানহাজটাই হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম অতএব তার অনুসৃত নীতিমালা এবং দ্বীন তোমরা অনুসরণ করো আজকের প্রেক্ষাপটে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বক্তব্য আকিদাত তাওহীদকে যারা সত্যিকার অর্থে ধারণ করেছে তাদের মেথডলজি হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম মেথডলজি এখানে আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা আমাদেরকে সেই নির্দেশ দিয়েছেন ইমাম ইবনু কাতির রাহমাুল্লাহ তার তাফসীর উল্লেখ করেছেন বলেছেন রাসহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহতালা এই আয়াতটিতে নির্দেশ দিয়েছেন সকল সৃষ্টিকে সকল মানুষকে যে তারা যেন সবাইকে হেমা সহকারে আল্লাহর দিকে আহ্বান করে ডাকে ইবনু জারির বলেছেন আলাইহ কিতা হমাটা কি ইবনর যাকে রাসুল মুফাসসিরীন বলা হয় তিনি বলছেন হেমাটা হচ্ছে এখানে আল্লাহ সুবহাতালা যা নাযিল করেছেন কিতাবুল্লাহ এবং সুন্নাতে মুহাম্মাদন হকমাটাকে বাংলায় আমরা বলি প্রজ্ঞা প্রজ্ঞাটা আসে কিন্তু জ্ঞান থেকে ধারণা থেকে না।
অতএব প্রজ্ঞার অধিকারী সাধারণত জ্ঞানী ব্যক্তিরাই হয়ে থাকে। অজ্ঞ কিংবা যারা জানে না তাদের কখনো কোন প্রজ্ঞা আছে বলে কেউ স্বীকৃতি দেয় না। তাইলে প্রজ্ঞার উৎস কি? আর ইসলামী জ্ঞানের উৎসটা কি? আল কোরআন এবং আলসুন্নাহ। অতএব হকমা। হেমাটা অবশ্যই কোরআন সুন্নাহ থেকেই উৎসারিত হতে হবে। আজকে অনেক মানুষ দাওয়াই আল্লাহর ক্ষেত্রে আমল করতে গিয়ে নিজের মন মত কাজ করে তার আকলে যেটা বলে সেটা করে অনেক সময় বিভিন্ন বাতিলের সাথে আপোষ করে এবং বলে যে এটা হমা এটা হেকমার বিকৃত ব্যাখ্যা হমার সঠিক ব্যাখ্যা হচ্ছে যেটি ইমাম তবারী রাহমাহুল্লাহ বলেছেন সুবহানাহুতালা ও সুন্নাহ আল্লাহ সুবহাতালা কোরআন সুন্নাহর যে মহাজ্ঞান এই মানবজাতির উদ্দেশ্যে পেশ করেছেন এটাই হল হমা অতএব কোন দাড়ি যদি হেমা সহকারে কাজ করতে চান তাকে ফুল মেথডলজি থেকে আরম্ভ করে জ্ঞানের সকল কন্টেন্ট দাওয়ার পদ্ধতির সকল কন্টেন্ট তাকে নিতে হবে কোত্থেকে কোরআন এবং সুন্নাহ থেকে সুন্নাহর সাথে জড়িত নবী (স) সিরা নবী সাল্লাল্লাহু সলামের বায়োগ্রাফি তার পুরো জীবনী আমাদের জন্য সবচেয়ে উত্তম আদর্শ এলা কোরআনে ঘোষণা করেছেন এবং বারবার তাকে অনুসরণ করার কথা বলেছেন রাসূকেত করল সে আল্লাহকে অনুসরণ করল রাসল্লাহ হাসানা নিশ্চয় রাসূুল্লাহর মধ্যে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে অতএব তার কাছ থেকে শুধু সালাত শিখবো না তার কাছ থেকে শিখবো সকল ইবাদত।
তার কাছ থেকে শিখবো তৌহীদ। তার কাছ থেকে শিখবো ঈমান। তার কাছ থেকে শিখবো ইসলামের সকল বস্তু। তার কাছ থেকে শিখবো আখলাক। তার কাছ থেকে শিখবো হালাল হারামের বিধান। এ সবকিছু কি আর কারো কাছ থেকে শেখা যাবে? পৃথিবীর আর কোন ব্যক্তি কোন দল কোন পার্লামেন্ট অথবা কোন অন্য কোন কিছু থেকে শেখার সুযোগ আছে মুসলিমদের জন্য সেই সুযোগ আসলেই নেই সম্মানিত উপস্থিতি তাহলে আমরা দাওয়া নিয়ে আজকে যে পয়েন্টগুলো বলব কারণ সময় খুব কম আমি এতে হয়তো বিস্তারিত বলতে পারবো না গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টটি উল্লেখ করছি এটা একটা পেশা একটা প্রফেশন একটা বড় কাজ একটা বড় দায়িত্ব এটা হচ্ছে ফাতুল আম্বিয়াও মুরসালিন সকল নবী রাসূলদের এটা ছিল প্রধান পেশা যে পেশাটা কে নির্ধারণ করেছেন আল্লাহ কারণ আল্লাহর পক্ষ থেকে তারা বার্তাবাহক আল্লাহর পক্ষ থেকে তারা ওহীর প্রচারক সুতরাং প্রচারই যদি না করেন তাহলে মানুষ জানবে কি করে অতএব প্রত্যেক নবী এবং রাসূল ছিলেন দালাল্লাহ দা ইল্লাল্লাহ এবং তাদের প্রত্যেকের দাওয়াটা
ছিল প্রথমত তাওহীদের দিকে ইয়াদল্লাহ সব নবী রাসূলদের এটাই ছিল তারা ইয়া বলে তারা তাদের দাওয়া শুরু করেছেন হে আমার জাতির লোকেরা নির্দিষ্ট কোন গোত্র নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তি নির্দিষ্ট কোন প্রভাবশালী অথবা পরিবার তাদের টার্গেট ছিল না তাদের টার্গেট ছিল গোটা মানবজাতি বিশেষ করে শেষ নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম তিনি প্রেরিত হয়েছেন গোটা বিশ্বের জন্যে বিশ্বজগতের জন্যে অতএব আজকের ইসলামের আহবানল্লাহ এটা ইউনিভার্সাল একটা আহবান ইউনিভার্সাল একটা মিশন সারা পৃথিবীর সকল মানুষের কল্যাণ কামনা করে তাদের দুনিয়া আখেরাতের কল্যাণের দিকে এটা হচ্ছে একটা চমৎকার আহ্বান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ নিজেই বলছেনল্লাহ সুবহানাল্লাহি হে রাসূ আপনি বলে দিন এটা আমার পথ আমি আল্লাহর দিকে আহবান করি আলা বাসিরা আলা বাসিরা মানে আলাইলমিন আলাু আলাহিন আলামিনাল্লাহ আল্লাহর নির্দেশে আল্লাহর ওহীর আলোকে এলেমের আলোকে কিতাব এবং সুন্নাহর আলোকে আমি মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান করি।
আর এই কারণে কিতাব সুন্না হয়ে গেছে এলেম এবং সেটাই হচ্ছে আজকে দায়র মূল কন্টেন্ট। মূল জিনিস যেটা সে প্রচার করবে সেটা কি? কিতাব এবং সুন্নাহ। আল কিতাব এবং আস সুন্নাহ। এরপর বলছেন এ দায়িত্বটা পালন করি আমি। এবং যারা আমাকে অনুসরণ করে কারা তাকে অনুসরণ করে মোমেন এবং মুসলিম যারা তারাই আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লামকে অনুসরণ করে কারণ তাদের একমাত্র রোল মডেল কেবল এরপর বললেন আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি সুবহানাল্লাহ মানে আল্লাহর পবিত্রতামিনাল মুশরিক সবসময় দেখেন সলামের সময় বলা হচ্ছেনামিনাল মুশরিক নিজের কথা বলছেন শেরকের সাথে কোন কমপ্রমাইজ নেই শেরকের সাথে কোন বন্ধুত্ব নেই শেরকে যারা লালন করে তাদেরকে বন্ধু হিসেবে নির্ধারণ করা যাবে না ইসলামের সবচেয়ে বড় সংঘাত এটা শেরকের সাথে কারণ এটা তাওহীদকে ধ্বংস করে দেয় চৌচির করে দেয়।
মুসলিমদের যত ভরাঢুবি ঘটেছে বিভিন্ন সময় সেটা শেরকে সংস্পর্শে আসার কারণে। ইসলামবাদে আর সবাই শেরকের সাদা সাধন করেছে। একমাত্র ইসলাম যেটা নির্ভেজাল তাওহীদ নির্ভর একটা চমৎকার দীন। ইহুদিরা বলেছেুল্লাহ। খ্রিস্টানরা বলেছে নাসারারা কি? আলমাসিহনুল্লাহ। এগুলো আসমানি দিন কিন্তু মুসা আলাই সালামের দ্বীন ঈসা আলাই সালামের কাছে যে দ্বীন আল্লাহ সতালা দিয়েছিলেন এরপরেও তারা শিরকে সম্পৃক্ত হয়েছে তারা মানব সন্তানকে আল্লাহর সন্তান হিসাবেয়াদুবিল্লাহ তারা প্রচার করেছে ফলে এই আসমানি দিনগুলো শেরকের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে কিন্তু ইসলামে কোন ব্যক্তিকে কি আল্লাহ আল্লাহর সন্তান বলা হয়েছে অথবা কোন নারীকে কি আল্লাহর কন্যা বলা হয়েছে বলা হয়নি ইসলাম আজও ইনটেক সেরকম নির্ভেজাল তাওহীদের উপর আছে যেভাবে নাযিল হয়েছে অনেক মানুষ হয়তো সেটা জানে নাই তাদের পড়াশোনার দৌড়টা নাই চেষ্টা নাই অথবা অনেক মানুষ তারা পৌত্তলিকতার মধ্যে অবলকন করছে মানে অবগাহন করছে ডুবে আছে তৌহীদের মূল লেসনটা নিতে পারে নাই।
এজন্য অনেক মানুষ তৌহীদ নিয়ে আজকে বিতর্ক তৈরি করছে। তৌহীদ বিরোধী অনেক চিন্তা চেতনাকে ইসলামী চিন্তা চেতনা হিসেবে তারা ভাবছে এবং বলছে আপনারা বেশি বাড়াবাড়ি করছেন। কিন্তু জ্ঞান তো আমাদের সামনে উন্মুক্ত। জ্ঞান সবার সামনে উন্মুক্ত। ইসলামী জ্ঞান কিন্তু কেউ বদ্ধ করে রাখে নাই। ফলে জ্ঞানের সঠিক চর্চা হলে কোনটা তাওহীদ আর কোনটা শেরেক সেটা কিন্তু আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে যায়। অতএব মুদ্দা কথা হলো সকল নবী রাসূলদের মূল কাজটা ছিল দাওয়া ইলাল্লাহ আল্লাহর দিকে আহবান করা আপনি দেখবেন যে আল কোরআন অনেক নবীদের কাহিনী বর্ণনা করছে এ কাহিনীর মূল ফোকাসটা কি জানেন আদল্লাহওয়ালা আমাদের অনেক কোরআনের পাঠক এই ফোকাসটাও জানে না জিজ্ঞেস করে দেখেন তারা মুসা সালামের কাহিনীগুলোতে সাপের এর কাহিনী আজদাহা হয়ে গেছে আবার খেয়ে ফেলেছে জাদুকর মানে ইত্যাদি জিনিসগুলো দেখে কিন্তু আপনি দেখবেন যে পুরো বর্ণনার মধ্যে মূল ফোকাসটা কি? আদহ ইলাল্লাহ।
ফেরাউনের কাছে গিয়ে আল্লাহ তাদেরকে বললেন না তুমি এবং হারুন দুজনেই চলে যাও ফেরাউনের কাছে। এবং শুধু সেটাই না তাদেরকে নরম কথা বলো। বলেছেন কি? নরম কথা। তো গরম কথা বললে শুনবে না। কারণ গরম কথা মানুষকে রিএক্টিভ করে দেয়। গরম কথা সে হয়তো প্রস্তুত হচ্ছিল আপনার কথা নেয়ার জন্য নিজের বাতিলটা ত্যাগ করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। কিন্তু গরম কথা বলার সাথে সাথে সে কিন্তু তার বাতিলে স্টিক হয়ে গেল। আল্লাহ সুবহানাতালা তার নবী সলাকে বলছেন একই কথাল্লাহ আল্লাহর রহমতে তুমি বিনয়ী হয়ে গেলে নরম হয়ে গেলে আর যদি তুমি কঠিন হৃদয় সম্পন্ন কঠোর ভাসি হতে তাহলে তারা তোমার চারপাশ থেকে সরে যেত আল্লাহর একটা চমৎকার উসলু হচ্ছে এভাবে বিনয় ভদ্র ভাষা ব্যবহার করা অথচ খুবই শক্তিশালী যে ভাষাটা প্রয়োগ করেছিলেন কে? ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম।
তো সুতরাং আমাদেরকে এ ব্যাপারে আরেকটু সতর্ক হতে হবে। দাওয়া ইলাল্লাহর ফজিলত ইসলামে অনেক বেশি। ইসলাম চায় যে আমরা সকলেই দায়ল্লাহ হয়ে যাই। যাদের কাছে জ্ঞান কম আছে তারা জ্ঞানীদের সহযোগী হিসেবে কাজ করবেন। সহযোগী দায় হিসেবে কাজ করবেন। কিন্তু দাওয়া থেকে মুখ ফেরানোর কোন সুযোগ নেই। দাওয়া ইল্লাল্লাহ কি শুধুই সালাতের দিকে মানুষকে আহ্বান করা? শুধুই তাওহীদের দিকে আহ্বান করা? না এগুলো তো মেইন কিন্তু এর বাইরেও আছে একজন মানুষ সিগারেট পান করছে তাকে বলবেন ভাই সিগারেট পান করবেন না একজন মানুষ চুরি চামারি করছে তাকে বলবেন যে চুরি আর করবেন না মানুষের হক ফিরিয়ে দেন একজন মানুষ ঘুষ খাচ্ছে তাকে বলুন ভাই এটা খাবেন না একজন মানুষ সুদে সম্পৃক্ত আছে তাকে দাওয়া দেন আমর বিল মারুফের পাশাপাশি নাহি মনকার খুব গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু দাওয়া দুটো পার্ট একটা হল আমর মারুফ আরেকটা হল নাহল মনকার উম্মার শ্রেষ্ঠত্ব আল্লাহতালা বর্ণনা করেছেন এ দুটো কারণে দাড়ি হতে পারে তাহলে ঈমান ঠিক রেখে
তারপর দুটো মেইন কাজ করতে হবে একটা হল আমর মারুফ আরেকটা হল নাল মুনকার দেওয়ার দুটো গুরুত্বপূর্ণ পার্ট এটা তাকওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পার্ট যিনি মুত্তাকী হিসেবে থাকতে চান তাকে আল্লাহর নির্দেশ যথাসম্ভব পরিপালন করতে হবে আর আল্লাহ এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের নিষেধকৃত সকল কাজ সর্বতভাবে বর্জন করতে হবে আর করে ফেললে আবার তওবা করে ফিরে আসতে হবে সুতরাং আপনি দেখেন প্রত্যেকটা মেথডের সাথে একটা চমৎকার পরিপূরক সম্পর্ক আছে। তাকওয়া দাওয়াল্লাহ। অতএব আপনি যদি শুধু মানুষকে বলেন ভাইজান আপনারা নামাজ পড়েন। এটাই আপনার দাওয়া। তাহলে সমাজ থেকে অন্যায়গুলো দূর হবে কি করে? সমাজের ভুল ত্রুটিগুলো দূর হবে কি করে? মানুষের চিন্তা চেতনায় সবচেয়ে বেশি বলা মুসিবত।
মানুষ ইসলাম নিয়ে সঠিক ধারণা অনেক সময় পোষণ করে না। তাই না? একজন মানুষকে ভালো হওয়ার জন্য আগে তার ব্রেন পরিষ্কার করতে হবে। জাগতিকভাবে আপনি একটু দেখেন। ব্রেনের ছোট্ট একটা কোষে এখানে অনেক ডাক্তাররাও আছে। যদি একটু স্ট্রোক হয় তাহলে কি হবে বলেন তো? যেটাকে আমরা ব্রেন স্ট্রোক বলি। বেচারা মেমোরি হারিয়ে ফেলবে না এবং খুব দ্রুত চিকিৎসা না হলে মারাও যাবে। হার্ট স্ট্রোক এবং ব্রেইন স্ট্রোক দুটোই ভয়ঙ্কর। ইসলামেও এ দুটো ভয়ঙ্কর। হার্ট ফেলিউর হলে মানুষ দ্রুত চিকিৎসা না হলে মারা যায়। আর আপনার হার্টে যদি শেরেক ঢোকে ওটা স্ট্রোকের চাইতে আরো ভয়াবহ।
ইসলাম মনে করে যে কারো চিন্তা চেতনায় যদি পৌত্তলিক ধ্যান ধারণা নাস্তিক ধ্যান ধারণা ঢুকে ওটা ব্রেন স্ট্রোকের চাইতেও আরো ভয়ঙ্করকে আপনি মারা যাবেন কিন্তু যদি তাওহীদ নিয়ে যেতে পারেন আল্লাহর কাছে আপনি পুরস্কৃত হবেন কিন্তু এই চিন্তা চেতনা নিয়ে আপনি তো অমর থাকবেন না কেউ যদি বলে যে না আমি যদি নাস্তিক চিন্তা ধ্যান ধারণা বহন করি তাহলে আমি ১০০০ বছর ২০০০ বছর ৫০০০ বছর বাঁচব তাহলে আপনি নাস্তিক হন। এই অল্প কয়টা বছর? আমাদের সবারই প্রায় কাছাকাছি বয়স। আল্লাহর কাছে যাবেন কি নিয়ে? নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন এটা বুখারীর একটি বিখ্যাত হাদিস।
আল্লাহর কসম আল্লাহ তোমার মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকেও যদি হেদায়েত দান করেন হেদায়েত এখানেও নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কার দিকে কানেক্ট করেছেন আল্লাহর সাথে সেটা তোমার জন্য তোমার একটা লালুট হওয়ার চাইতেও উত্তম লালুট মানে হচ্ছে তৎকালীন যুগে খুব লোকটিভ মানুষের কাছে আকাঙ্ক্ষিত একটা দামি সম্পদ এটাই আসলে বোঝা উদ্দেশ্য যে তোমার অনেক বড় দামি একটা সম্পদ হয়ে যাবে একটা বড় গুলশানে বাড়ি হয়ে যাবে বা একটা কিছু বড় একটা মার্সিডিজ গাড়ি ১০ ১২ ১৫ কোটি টাকার এটার চাইতে একজন ব্যক্তিকে যদি তুমি লাইনে আনতে পারো তাকে হেদায়েত দিতে পারো তাকে হেদায়েতের পথে আনতে পারো হেদায়েত দেওয়ার মালিক তো আল্লাহ তাকে দাওয়া দিতে পারো দাওয়া দিয়ে তুমি যদি সফল হও তাহলে এটা তোমার জন্য একটা বিশাল অর্জন নবী আরো বলেছেন এটা সহ মুসলিমের আরেকটা হাদিস যে ব্যক্তি আল্লাহর হেদায়েতের দিকে কাউকে ডাকে তাহলে তার জন্য সওয়াবের পরিমাণ এখানে বলা হচ্ছে যে ওই ব্যক্তি আপনার হেদায়েত আপনার মধ্য থেকে দাওয়া পেয়ে যে হেদায়েতটুকু অর্জন করল এবং সে অনুযায়ী সারাজীবন যতগুলো সওয়াবের কাজ করলো সবগুলো সওয়াব এই ব্যক্তির জন্য আল্লাহ নির্ধারণ করে দিবেন।
কিন্তু ব্যক্তিদের কোন ঘাটতি হবে না। তাদের সওয়াবের কোন ঘাটতি হবে না। যে তাদের থেকে একটু নিয়ে এখানে দেওয়া হলো এমনটা হবে না। সুতরাং দালাল্লাহ বিশাল ফজিলত। এটা আমাদের সামনে চলে আসল। এখানে আল্লাহতালা বললেন তোমার রবের পথের দিকে। এটার দ্বারা কি বোঝানো হয়েছে? মূল টার্গেট এখানে আল্লাহ সুবহা তুলে ধরেছেন দাওয়া দিবেন কোথায় ইলা সাবিলা রব্বিক ইলা সাবিলে আল্লাহর পথের দিকে এটা দুটো জিনিসকে ইন্ডিকেট করছে এক আপনার মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করছে সবকিছুর একটা লক্ষ্য থাকে লক্ষ্য হল আল্লাহর দিকে মানুষকে নিয়ে যাওয়া আর দ্বিতীয় আরেকটা জিনিস ইন্ডিকেট করছে সেটা হল এখলাস আপনি রবের দিকে রবের পথে যদি পথ চলেন তাইলে আপনি আল্লাহর মুখলেস বান্দা হলেন।
আপনার এখলাসটা আছে। আপনি ইব্রাহিম সালামের মত হানিফা মুসলিমা হতে পারলেন। কিন্তু যদি আপনার দ্বীনি কর্মকাণ্ড আপনাকে একটা অন্য জায়গায় নিয়ে যায়। দুনিয়ার লোভ, দুনিয়ার প্রাপ্তি কিংবা প্রভাব প্রতিপত্তি সৃষ্টি এটা যদি আপনার উদ্দেশ্য হয়ে যায় আপনার দাড়ি টুপি লম্বা কর্তা যাই থাকুক না কেন আপনি এখলাস থেকে দূরে সরে গেলেন। তাহলে এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রত্যেক ব্যক্তি দাওয়ার মাধ্যমে সে মূলত আল্লাহর দিকে আহ্বান করবে। সে তার দলের দিকে আহ্বান করবে না। সে তার নিজের মতের দিকে আহ্বান করবে না। সে তার নিজের ব্যক্তিগত প্রাপ্তির দিকে এবং প্রভাবের দিকেও আহ্বান করবে না।
আচ্ছা এখানে ইমাম মোহাম্মদ বিন আব্দুহাবের একটা সুন্দর কথা কিতাবুত তাওহীদে তিনি উল্লেখ করেছেন বলেছেন আনাফিহাত আখলাস এইযে আয়াতটা আল্লাহ সতালা বললেন ইলা সাবিল রব্বিকা অথবা আইল্লাহ যেটা অন্য আরেকটি আয়াতে এখানে আল্লাহতালা আসলে তামবি করেছেন যেন দাওয়াতটা তার উদ্দেশ্যেই হয় কারণ অনেক মানুষ যখন হকের দিকে মানুষকে দাওয়াত দেয় একটা সময় সে নিজের দিকে মানুষকে আহবান করতে থাকে নিজের দিকে নিজের মাযহাবের দিকে নিজের জামাতের দিকে নিজের কওমের দিকে নিজের স্বার্থের দিকে নিজের প্রতিষ্ঠানের দিকে মানুষ আহ্বান করতে থাকে। দাওয়ার যে সার্বজনীনতা দাওটা যে শুধুই আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য হবে সেটা মিস হয়ে যায়। আচ্ছা এখন দাওয়ার মধ্যে আপনি এখলাসের আলামত মানে কিভাবে বুঝবেন যে আপনার এখলাস আছে? তার কিছু আলামত আছে।
খুব সংক্ষেপে বলছি। এক হচ্ছে যদি আপনাদের এই দাওয়াত দিতে গিয়ে দেখেন যে আপনার কিছু ভুল হচ্ছে আরেকজন সঠিকটা বলছেন তাহলে আরেকজনের সঠিকটা পেয়ে আপনি খুশি হবেন আমাদের উল্টো হয় আমি যেটা বলছি ওটাতে আমাকে জিততে হবে আমারটাই ঠিক আর সব বেঠিক যদি আমি উপলব্ধি করি এটা গোপনে রাখি তাই না কিন্তু দাওয়া এবং দ্বীনি কার্যক্রমের মধ্যে হক যেখানে আমি সেখানে এটাই হচ্ছে এখলাসের প্রমাণ হক যেখানে আমি সেখানে হকটা যদি আপনার মুখ দিয়ে বের হয় আহলান সাহান যদি আপনার মুখ দিয়ে বের হয় তাহ আহ সাহান আর আমি যদি ভুল করি কি করতে হবে আমার ভুলটা স্বীকার করে তওবা করতে হবে এটাই হচ্ছে নিয়ম আচ্ছা দ্বিতীয় হচ্ছে দাওয়ার কাজটা যেন এটা আপনার শহরত অর্জনের সিঁড়ি না হয় যেন ভাইরাল হওয়ার নেশা আপনাকে না পেয়ে বসে অধিক ফলোয়ার আপনাকে ফলো করছে এটা যেন আপনার খুশির কারণ না হয় কিংবা দাওয়াতের মাধ্যমে আপনি লাখ কোটি টাকা ইনকাম করছেন।
আপনার প্রফেশন হয়ে দাঁড়ালো যে বিভিন্ন জায়গায় দাওয়াত কাজ করে করে আপনি লাখ লাখ টাকা ইনকাম করবেন। তাহলে এখানে এখলাস থাকলো না। দাওয়ার জন্য আরেকটা শর্ত হচ্ছে এলেম। এলেম থাকতে হবে। অনেক দাড়ি তারা এলেম ছাড়াই দাওয়াত দেয়। ফলে সেটা হেদায়েতের পরিবর্তে মানুষকে গোমরাহের দিকে নিয়ে যায়। কারণ এখানে দাওয়ার প্রথম বিষয়টা বলা হচ্ছে কি? হিকমা। অতএব হেকমাটা যেটা আমরা বলেছি হেকমাটা মূলত জ্ঞান থেকে উৎসারিত হতে হবে। ফলে দাওয়াটা হতে হবে জ্ঞানের আলোকে। আপনি যদি অল্প দাওয়াও দেন কিন্তু সেটা জ্ঞানের আলোকে দিতে হবে। অর্থাৎ কোন জিনিস আন্দাজে আপনি নিশ্চিত নন। আপনি কারো কারো কাছে শুনেছেন সেদিকে মানুষকে দাওয়াত দেওয়া যাবে না।
আপনার সত্যের প্রতি আপনার ইয়াকিন থাকতে হবে। আর সত্যটাও আপনার কাছে প্রমাণিত থাকতে হবে। মানুষ অনেক ফেক জিনিসকে ভুল জিনিসকে সত্য বলে মনে করে। মানুষ অনেক ধারণাকে নলেজ বলে মনে করে। কিন্তু যেটা ধারণা সেটা কি নলেজ বলেন তো? জ্ঞান তো প্রমাণিত জ্ঞান প্রমাণিত এজন্য আপনি আমি অনেক সময় অনেক কিছু ভাবি এ ভাবনাগুলো ভুল হতে পারে কিন্তু কোরআন ভুল হতে পারে না নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লামের সহীহ হাদিস ভুল হতে পারে না এবং শাইখুল ইসলাম তাইমিয়া এটাও বলেছেন যে কোরআনের বাণীর সাথে সহীহ হাদিসের আসলে কোন বিরোধ কখনোই পাওয়া যায় না কারণ দুটোই যখন শুদ্ধ হয় তখন দেখবেন যে এই দুটোর মধ্যে কোন বিরোধ নাই প্রবলেম তখনই শুরু হয় যখন একটা তথ্য হলো শুদ্ধ আর আরেকটা তথ্য হলো অশুদ্ধ।
দুটোকেই শুদ্ধ মনে করে আমরা সামনাসামনি দাঁড় করিয়ে দিলাম এবং তখন লেগে গেল যুদ্ধ। কি নিয়ে এটা শুদ্ধ কিনা এটা নিয়ে কোনটা শুদ্ধ? এটা নিয়ে হয় যুদ্ধ ফলে বড় প্রবলেমের মধ্যে আমরা পড়ে যাই। আচ্ছা এখানে যদি মানহাজের কথায় আমরা আসি প্রথম মানহাজটা হলো কি হেক্মা হেকমা মানে হচ্ছে নিষেধ করা দাঁড়ির জন্য হেক্মা হচ্ছে তার এমন কিছু তথ্য এবং জ্ঞান তার সাথে থাকা যা তাকে ভুল পথে পরিচালিত হওয়া বা ভুল দিকে মানুষকে আহ্বান করা থেকে নিষেধ করবে তাহলে হেকমার মূল জিনিসই হলো যে সে সবসময় আপনাকে সঠিক পথে পথে চলতে সহযোগিতা করে আর ভুল পথে পথে চলা থেকে আপনাকে নিষেধ করে হমা মানে হল আলান হক এখানে আল্লামা স তিনি এই হমতের বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন হমার একটা অংশ হল আপনি জ্ঞান দ্বারা যখন সমৃদ্ধ হবেন তখন এই জ্ঞানটাকে কখন খন কিভাবে কাজে লাগাবেন পরিবেশ পরিস্থিতি ব্যক্তি অনুযায়ী সেটা নির্ধারণ করবেন পুরো হক একসাথে এক জায়গায় ঢেলে দিলেই আপনার দাওয়া কাজে নাও আসতে পারে এজন্য যেমন হেমার মধ্যে আছে তাদরুজ এটা কোরআনিক মেথডলজি একদিনে কোরআন নাযিল হয় নাই আরেকদিনে বলে এই কোরআন দিলাম এবার সবাই মানুষ হয়ে যাও ২৩ বছর ধরে ধরে কোরআন নাযিল হয়েছে মানুষকে ধীরে ধীরে ধরে মানুষকে পরিবর্তনের দিকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
কারণ মানুষের একটা স্বভাব হচ্ছে একসাথে সে পরিবর্তন হয় না। তাকে তৈরি করতে হয়। তাকে মেন্টালি তৈরি করতে হয়। এজন্য ঈমানের বিষয়গুলো এসেছে। ঈমান আকিদা কিন্তু মানুষকে মেন্টালি তৈরি করে। তাকে প্রাক্টিক্যালি তৈরি করতে হয়। এজন্য ইবাদতগুলো দেয়া হয়েছে। প্র্যাক্টিক্যালি ইবাদত। কারণ শুধু মানসিকভাবে প্রস্তুত করলে হয় না। তার প্রোগ্রাম থাকতে হয়। তাকে এঙ্গেজ রাখতে হয়। ইবাদতগুলো হচ্ছে মানুষকে রবের সাথে এঙ্গেজ করে দেওয়া এবং তারপরে আছে আরো কিছু বিধিনিষেধ যেটা হালাল হারামের মধ্যে আর হচ্ছে এটিকেটস যেটা আখলাকের মধ্য দিয়ে আমরা পাই এখানে হেকমতের যে বিষয়টা এটি হচ্ছে আল্লাহ সুবহাতা প্রদত্ত একটা জিনিস এটা চাইলে আপনি হেকমত পাবেন না এটা আল্লাহ এলেম যেমন যেমন আল্লাহতালা তোমাদেরকে কম এলেম দেয়া হয়েছে এলেম অর্জন করার জন্য আপনাকে পরিশ্রম করতে হবে।
আপনাকে চেষ্টা করতে হবে। এলেম ছাড়া আসলে সত্যিকার অর্থে মানে কষ্ট ছাড়া আপনি সত্যিকার অর্থে অর্জন করতে পারবেন না। ঠিক তেমনি হেমাও এলেমের আরো গভীর চর্চাটা হেকমা তৈরি করে। যদি আপনি কিছু মুখস্থ বিদ্যা চর্চা করেন তাহলে কিন্তু আপনার হেকমাটা অর্জিত নাও হতে পারে। আল্লাহ বলছেন সূরা আল বাকারার ২৯ নম্বর আয়াত যাকে ইচ্ছা আল্লাহতালা হেকমত দিয়ে থাকেন আর যাকে আল্লাহতালা হেকমত দেন তাহলে তাকে অনেক খয়ের অনেক কল্যাণ প্রদান করা হলো এখানে আমরা দেখি যে হেকমতের মধ্যে আছে তাদারুজ তাদারুজ মানে হচ্ছে গ্রাজুয়ালি কাজ করা একদিনে সব কাজ না করা দ্বিতীয় হচ্ছে এটা হচ্ছে প্রায়রিটি ম্যানেজমেন্ট যেটাকে আমরা বলি তারতিবুল আউলাইয়াত প্রায়রিটি ম্যানেজমেন্ট যেমন ধরেন এক লোকে দেখলেন যে একটা মুস্তাহাব তরক করেছে আবার দেখলেন যে ফরজ তরক করেছে আবার দেখলেন যে শেরকি কাজে লিপ্ত হচ্ছে কোনটা আগে আপনি রিপেয়ার করবেন এটা হল প্রায়রিটি ম্যানেজমেন্ট কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ দেখি দেখি যে মস্তাহাব নিয়ে বেশি তর্ক করে এবং শিখ
মুস্তাহাব মিষ্টি খাওয়া সুন্নত খাবারের পরে লাউ খাওয়া সুন্নত এগুলো দিয়ে তারা দ্বীনি দায়িত্ব পালন করে এতে দাওয়াতি দায়িত্ব পালন হয় না দেখেন এইযে প্রায়রিটি ম্যানেজমেন্টটা আমরা মোটামুটি সবাই জানি কিন্তু বলুন তো তাহলে আজকে কেন এখনো আকিদাগত সমস্যা এ দেশে বিশাল বড় সমস্যা তাহলে বোঝা গেছে যে সত্যিকার অর্থে মানুষকে মেন্টালি প্রিপেয়ার করা কোরআন সুন্নাহর ঈমান এবং আকিদায় তাদেরকে গড় গড়ে তোলার দায়িত্ব কিন্তু আমরা কেউ পালন করছি না। আমাদের খুতবাগুলোর টপিকটা কি? সেখানে ঈমান আকিদার যথেষ্ট পরিমাণ খুতবা দেওয়া হয় কিনা? একটা অঞ্চলের সকল মানুষের উপর যদি সার্ভে করেন যে এই অঞ্চলের মানুষ ঈমান আকিদার কতটুকু সঠিকভাবে পালন করছে আর কতটুকু তারা চিন্তাগত দিক থেকে বিভিন্ন ভুল বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত আছে আসলে এই ধরনের সার্ভে করার কোন প্রয়োজনীয়তা আমরা বোধ করি না ফলে আমরা জানিই না যে বিপুল সংখ্যক মানুষ নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লামের নাম জানে না সেদিন একজন ভাই আমাদেরকে একটা ডকুমেন্টারি দেখালেন।
একজন লোককে জিজ্ঞেস করছেন নবীর নাম কি? সে বলছে কোভিদ নাম কাজী নজরুল ইসলাম। আমি নিজ চোখে দেখেছি। তাকে বারবার জিজ্ঞেস করার পরেও সে মনে করছে নবী তো বুঝি না। আমি জানি কবি। মানুষের যে কি কঠিন অবস্থা জ্ঞান থেকে দাওয়া থেকে তারা আসলে মাহরুম। সাধারণ মানুষগুলোকে অপবাদ দেওয়াটাও ঠিক না। যারা আমরা দ্বীন মোটামুটি বুঝেছি কোরআন সুন্নাহ সংস্পর্শে থাকি তাদের উপর দায়িত্বটা একটু বেশি। তাই না? আমি যদি দেখি যে রাস্তার কিনারায় একজন গর্তে পড়ে যাবেন বা ড্রেনে পড়ে যাবেন। আর তার পাশে হাঁটি তিনি পড়ে যাওয়ার সময় আমি কি ধরবো না? দেখেন এটালি চলে আসে স্তস্পর্তভাবে। এই দায়িত্বটা যেহেতু আল্লাহ আমাদেরকে আকল দিয়েছেন এ কারণে চলে আসে।
আপনি যদি বলেন না সব দায়িত্ব আমি নিব কেন? আপনার ঈমানের দায়িত্ব আছে। আপনি যদি মনে করেন আপনি সঠিক চিন্তাভাবনা জ্ঞানের চর্চা করেন তাহলে আপনার দায়িত্বটা আছে। দায়িত্বটা পালন করতে হবে আমাদেরকে। মানুষকে বিপথে যাওয়া থেকে তাদেরকে ফিরিয়ে রাখা। এটা আমাদের সবারই নৈতিক দায়িত্ব। এজন্যই নবী সলাভাবে বলে দিয়েছেন এটি বুখারীর হাদিস। আচ্ছা আরো অনেক আলোচনা ছিল। আমি তো দেখলাম যে সময় শেষ। আমি এটা নিয়ে পরবর্তীতে আরেকটা আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ। আজকে প্রথমে প্রথম পর্বে আমরা এতটুকুই রাখি। কারণ এখানে প্রত্যেকটা মেথডোলজি আরেকটু বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে দলিল প্রমাণসহ যদি আমরা দিতে পারি এটা একটা ক্লাসের মতোই হয়তো আমাদেরকে আলোকিত করবে, সমৃদ্ধ করবে ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহর কাছে দোয়া করি আমরা যেন সকলেই দাওয়া ইলাল্লাহর গুরুত্ব অনুধাবন করে এবং প্রত্যেকেই পরিবারভুক্ত সবাইকে নিয়ে আমরা যেন দাড়ি ইলাল্লাহ হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। আপনি আপনার ছোট্ট সন্তানকেও কিন্তু ছোট্ট জুনিয়র দাড়ি বানাতে পারেন। আর আগামী দিনের বড় দাড়িতে সে যাতে পরিণত হয় সেজন্য তাকে তারবিয়া দিতে পারেন। আপনার ছোট্ট ছেলে বা মেয়েকে বলবেন তুমি তোমার চাচা মামা বা চাচি খালু এদের সবাইকে একটু ফোন করো। ফোন করার কিন্তু সুন্দর আদব আছে। তুমি বল যে আমি তো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। আলহামদুলিল্লাহ আমার জন্য দোয়া করবেন। সুযোগ হলে বলে দাও যে আপনার নামাজটা ঠিক আছে তো? এটা তো একদম বেয়াদবি হবে না।
তাই না? অনেকেই লজ্জা পাবেন। কারণ আমাদের মধ্যে সালাতে গাফলতি এখন আম হয়ে গেছে। কোন এলাকার মুসলিমদের মধ্যে যদি সালাতের গাফলাতি আম হয়ে যায় মনে রাখবেন সেখানে কিন্তু বিপর্যয় কেউ রোকতে পারবে না। মুসলিম হওয়ার সবচেয়ে বড় আলামত হচ্ছে কি? এই ফরজ সালাতগুলো ঠিকমত আদায় করা। একটা এলাকায় যেমন ধরেন এবার হাম হলো ডেঙ্গু হলো এটা নিয়ে আমরা খুব ভয় পাচ্ছি। তাহলে ভয় পাচ্ছি না কেন যে নামাজ হচ্ছে না ঠিকমত। ওটা নিয়ে ভয় পাচ্ছি না কেন? আমরা কেন ভয় পাচ্ছি না যে শেরেক বেদাতে বিভিন্ন এলাকা ভরপুর হয়ে যাচ্ছে। আমরা তো বলছি না যারা শেরেক বিদাতে লিপ্ত আছে ওদেরকে গিয়ে প্রহার করে ঠিক করে নিয়ে আসো।
নো সুন্দর দাওয়া দিয়ে তাদের তারা আমাদের ভাই বোন কেউ জাহান্নামের পথে হাঁটছে আমরা শুধু তাদেরকে জান্নাতের পথে আনার জন্য তাদেরকে আহ্বান জানাচ্ছি এটাই হলো দাও আল্লাহর মূল কথা আসুন সেভাবে আমরা প্রস্তুতি নেই আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করেন আমিন আমাদের ভুল বিভ্রান্তিকে ক্ষমা করে দেন আমিন ভুল বিভ্রান্তি থেকে তওবা করে আবারো পাপমুক্ত এবং ত্রুটিমুক্ত মুমিনে পরিণত হওয়ার তৌফিক দান করেন। মুসলিমিনহ আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। আলাবিনা মুহাম্মাদিওয়ালা আলিহন আম্মাবাদ আইুহাল মুসলিম ইত্তাকুল্লাহবাদল্লাহ সহনজ্লাহ সুবহানাতা আল্লাহ আলিম আলাইনা ইন্নাকতাব রাহিম রব্বানা আলাইকনা মাসিরবাদল্লাহ আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা আমাদেরকে এত যে নেয়ামত দিলেন যে নেয়ামতের মধ্যে কোন সন্দেহ নেই সবচেয়ে বড় নেয়ামত হচ্ছে নেয়ামাতুল হেদায়া আমরা আশা করি আমরা হেদায়েতের পথে আছি আমরা সবাই সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করছি যদি কোন ভুল থাকে সে ভুলগুলো থেকে শুধরে নিয়ে পরিপূর্ণ হেদায়েতের পথে চলতে আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ যেন আমাদেরকে সে তৌফিক দান করেন আমাদের কোন ভুল ত্রুটি হয়ে গেলে আল্লাহ যেন সেটি আমাদের সামনে চিহ্নিত করে দেন এবং আমরা যেন সেগুলো থেকে সময় থাকতেই তওবা করে ফিরে আসতে পারি এই তারবিয়াটাও খুব জরুরি এই তারবিয়াটাও খুব জরুরি এই যে এই যে দোয়াটা করলাম এটা একটা তারবিয়া আপনি কখনো ভাববেন না আপনি ভুলমুক্ত।
আপনি কখনো ভাববেন না আপনি যা বলছেন সেটাই সঠিক। হ্যাঁ। সঠিক তখনই যখনই আপনার পক্ষে পরিপূর্ণ দলিল থাকবে এবং আপনার কাছে সেটা স্পষ্ট থাকবে। অনেক সময় সত্য কথা সবার কাছে স্পষ্ট হয় না। কারো কারো কাছে অস্পষ্ট হয়। স্পষ্টভাবে সত্যকে জানা বোঝার জন্য আমাদেরকে অধ্যয়ন চালিয়ে যেতে হবে। আমাদেরকে ওলামায়ে কেরাম মুহাক্কেক ওলামায়ে কেরামের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। আজ পৃথিবীতে আসলে বহু চ্যালেঞ্জ। তার মধ্যে একটা চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সবাই যার যার মত করে সত্য বানায়। সবাই যার যার মত করে বয়ান তৈরি করে। এবং এখানে কে যে সত্যিকার অর্থে ১০০ পারসেন্ট সঠিক মানহাজ এবং কোরআন সুন্নাহর উপর আছে এটা অনেক সাধারণ মানুষের কাছে নির্ণয় করা কঠিন হয়ে যায়।
যে যার বয়ান পড়ে ভালো লাগে সে তাকে অনুসরণ করা শুরু করে। আমার কাছে এটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে হয়। আজকের মুসলিমদের জন্যে যাদের কাছে উগ্র কথাবার্তা ভালো লাগে সে উগ্র হয়ে যায়। যাদের কাছে লিবারেল কথাবার্তা ভালো লাগে সে লিবারাল হয়ে যায়। যাদের কাছে মনে হয় সবার সাথে মিলেমিশে থাকা উচিত। হ্যা মিলেমিশে তো থাকা উচিত। কিন্তু সবার ধর্মমত কি গ্রহণ করা যাবে? সেটা তার কাছে আইডিয়াল মনে হয়। আর যাদের কাছে কোরআন সুন্নাহ সঠিক মনে হয় এটা তো মনে হওয়ার ব্যাপার না। এটা বিশ্বাসের ব্যাপার। সে বিশ্বাস নিয়ে আপনাকে প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশ্বাস আর প্রস্তুতি যেখানে একসাথে একসূত্রে গাথা না হয় সেখানে কিন্তু পথ পাওয়াটা কঠিন।
আপনার নেক নিয়তের কারণে আপনি ইসলামকে পাবেন এমন কোন গ্যারান্টি নাই। এই সমাজের মধ্যে বহু মানুষ খুবই মখলেস। রাত্রে প্রচুর কাঁদে। হয়তো তার অস্রুতে তার জামাও ভরে যায়। কিন্তু সত্যিকার অর্থে সে সঠিক পথ পেয়েছে কিনা এটাও দেখার বিষয় আছে। কান্না দিয়ে সঠিক পথ পাওয়া যায় না। এটা দিয়ে মন নরম হয়। দ্বীনের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। কিন্তু সঠিক পথ পাওয়ার জন্য কি লাগবে? এলেম এলেম এবং কোরআন সুন্নাহ ভিত্তিক আমাদের পড়াশোনা এবং জানা জানার পরিধি বাড়ানো। অতএব আসুন আমরা সে পথে অগ্রসর হই। নিজেকে যতটুকু পারি একজন জ্ঞানীগুণী দাড়ি আল্লাহ হিসেবে তৈরি করি এবং যতটুকু নিশ্চিতভাবে জানি শুধু ততটুকুই মানুষের কাছে পৌঁছায়।
আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করেন। আল্লাহ যেন আমাদের সকল ভুল ত্রুটি ক্ষমা করে দেন। আমাদেরকে মাজিদ ভালো কাজের আমলে সলেহের তৌফিক দান করেন। এবং আমাদের মধ্যে যারা অসুস্থ আছে তাদেরকে সুস্থ করে দেন।