লোড করা হচ্ছে ...

খুতবার বিষয়: সিয়াম ও সলাতের উদ্দেশ্য

সিয়াম ও সলাতের উদ্দেশ্য


কুরআনের দলিল
২ : ৮৩ যখন আমি বনী-ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারও উপাসনা করবে না, পিতা-মাতা, আত্নীয়-স্বজন, এতীম ও দীন-দরিদ্রদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, মানুষকে সৎ কথাবার্তা বলবে, নামায প্রতিষ্ঠা করবে এবং যাকাত দেবে, তখন সামান্য কয়েকজন ছাড়া তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে, তোমরাই অগ্রাহ্যকারী।
২ : ৮৪ যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা পরস্পর খুনাখুনি করবে না এবং নিজেদেরকে দেশ থেকে বহিস্কার করবে না, তখন তোমরা তা স্বীকার করেছিলে এবং তোমরা তার সাক্ষ্য দিচ্ছিলে।
২ : ৮৫ অতঃপর তোমরাই পরস্পর খুনাখুনি করছ এবং তোমাদেরই একদলকে তাদের দেশ থেকে বহিস্কার করছ। তাদের বিরুদ্ধে পাপ ও অন্যায়ের মাধ্যমে আক্রমণ করছ। আর যদি তারাই কারও বন্দী হয়ে তোমাদের কাছে আসে, তবে বিনিময় নিয়ে তাদের মুক্ত করছ। অথচ তাদের বহিস্কার করাও তোমাদের জন্য অবৈধ। তবে কি তোমরা গ্রন্থের কিয়দংশ বিশ্বাস কর এবং কিয়দংশ অবিশ্বাস কর? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন।
২ : ৮৬ এরাই পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবন ক্রয় করেছে। অতএব এদের শাস্তি লঘু হবে না এবং এরা সাহায্যও পাবে না।
২ : ৮৭ অবশ্যই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি। এবং তার পরে পর্যায়ক্রমে রসূল পাঠিয়েছি। আমি মরিয়ম তনয় ঈসাকে সুস্পষ্ট মোজেযা দান করেছি এবং পবিত্র রূহের মাধ্যমে তাকে শক্তিদান করেছি। অতঃপর যখনই কোন রসূল এমন নির্দেশ নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছে, যা তোমাদের মনে ভাল লাগেনি, তখনই তোমরা অহংকার করেছ। শেষ পর্যন্ত তোমরা একদলকে মিথ্যাবাদী বলেছ এবং একদলকে হত্যা করেছ।

২ : ১৮৩ হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার।
২০ : ১৪ আমিই আল্লাহ আমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। অতএব আমার এবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর।
২৯ : ৪৫ আপনি আপনার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট কিতাব পাঠ করুন এবং নামায কায়েম করুন। নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে। আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন তোমরা যা কর।
২৪ : ৩০ মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।
২৪ : ৩১ ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।

১৭ : ৩৬ যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তার পিছনে পড়ো না। নিশ্চয় কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে।

সম্মানিত মুসল্লিয়ানে কেরাম মা ও বোনেরা আমরা শুকরিয়া আদায় করছি সেই মহান আল্লাহর যিনি আমাদেরকে আজকের এই জুমার দিনে বায়তুল মামুর জামে মসজিদ এখানে জুমার সালাত আদায় করার জন্য সমবেত হওয়ার সুযোগ এবং তৌফিক এনায়েত করেছেন এজন্য বলছি আলহামদুলিল্লাহ । অগণিত দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আখেরি জামানার নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবায়ে কেরামের উপর আল্লাহুম্মা সাল্লে আলাইহি আল্লাহুম্মা বারিক আলাইহি । গত জুমায় আপনারা যারা উপস্থিত ছিলেন মনে থাকার কথা আমরা যে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করেছিলাম যে আসলে কুরআন আল্লাহ কেন দিয়েছেন আর আমরা এটাকে কিভাবে ব্যবহার করছি । এ প্রসঙ্গে কোরআনের কয়েকটা প্রসঙ্গ আসছিল যে কোরআন কি উদ্দেশ্যে আমাদের পড়া উচিত । এই ব্যাপারে আলোচনা গিয়েছিল তো এখানে আমরা জানছিলাম যে কুরআন আমরা পড়বো উপদেশ নেয়ার জন্য কুরআন পড়বো জ্ঞান নেয়ার জন্য কুরআন পড়বো হেদায়েত নেয়ার জন্য । আর কোরান দিয়ে বক্তব্য হবে বক্তব্য ওয়াজ নসিহত ইসলামিক যত সেমিনার হবে এগুলো কোরআনের আয়াত দিয়ে হবে তারপরে দুনিয়ার জমিনে যত বিচার ফায়সালা হবে এগুলো কোরআনের আয়াতের আলোকে হবে বিধানের আলোকে হবে মানুষের মধ্যে যত মতভেদ আছে সেই বিষয় গুলোর সমাধান হবে কোরআনের আইনের আলোকে বিধানের আলোকে ।এটা ছিল সারমর্ম এখন আজকে যে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা আমরা করতে যাচ্ছি সেটা হচ্ছে যে আমাদের খুব সন্নিকটে রামাযানের মাস তো আমি রমজান মাসের ফজিলত, সিয়ামের ফজিলত সম্পর্কে খুব বেশি বলব না এটা আপনারাই জানেন । কিছু ওয়াজ আছে কমন এটা প্রায়ই বলা হয় । আবার কিছু কমনের মধ্যে আনকমন থাকে আমি আবার ওই খুটিনাটি বিষয় যেগুলো সাধারণত মানুষের দৃষ্টির বাইরে থাকে আমার নজর টা একটু ঐদিকে থাকে বেশি ।

রামাযানের মাস আমাদের খুব সামনে সন্নিকটে চলে আসতেছে এই মাস সম্পর্কে কুরআন মজীদে আল্লাহ আয়াত নাযিল করেছেন “শাহরু রামাদনাল্লাজি উনজিলা ফিহিল কুরআন” এই রমাদান মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে । এটা হচ্ছে হেদায়েতের বাণী “বাইয়্যিনাতিম মিনালহুদা ওয়াল ফুরকান” এবং হেদায়াতের মধ্যে নিদর্শন হেদায়াতের নিদর্শন এবং এটা সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী এখানে একটা কথা সংক্ষেপে বলে রাখি এই ভাবে আগে চিন্তা করছেন কিনা জানিনা আমাদের যে ফরজ বিধান গুলি আছে ইবাদাহ, সালাতের বিষয়ে, সিয়ামের বিষয়ে, হজ এর বিষয়্‌ যাকাতের বিষয়ে, ইসলামের মৌলিক যে রুকুন গুলো আছে ইবাদা সংক্রান্ত ঈমানের পরে এই বিষয়গুলোতে কোরআনে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ভাবে আলোচনা আসছে সালাত বিষয়ে কোথাও সালাতের গুরুত্ব, কোথাও সালাতের সময্‌ তার পরে বিভিন্ন সালাতের ক্লাসিফিকেশন বিভিন্ন বর্ণনা আছে কিন্তু সিয়ামের বিষয়ে যদি আপনার কোরানিক বক্তব্য সিয়াম সম্পর্কে আমরা জানতে চাই যে সিয়াম বা রমাদান সম্পর্কে রমজানের মাস সম্পর্কে আল্লাহ কোরআনে কি বক্তব্য দিয়েছেন । তবে সেটা বিভিন্ন জায়গায় নাই এটা এক জায়গায় আছে একটা রুকু সূরা আল বাকারা এর ১৮৩, ১৮৪, ১৮৫, ১৮৬, ১৮৭ । এই পাঁচ খানা আয়াতের মধ্যে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা এত বেশি বিধান সিয়াম সংক্রান্ত নাযিল করেছেন যে অন্য এবাদতের সব জায়গায় মিলাইলে যা হয় শুধু সিয়ামের বিধান এই কয়েক আয়াতের মধ্যে অনেক বেশি বেশি বের হয়ে যায় সুবহানাল্লাহ । এটা আমি আপনাদের লোকেশন দিয়ে দিলাম আর আমি বলেছিলাম যে কুরআন অর্থসহ কুরআন নাই এমন কোন ফ্যামিলি মুসলিমের ফ্যামিলি হয়না এই কোথায় আপনারা কষ্ট পেলেও কষ্ট নিবেন না আপনার পরিবার টা মুসলিম পরিবার আপনি একজন ঈমানদার মুসলিম আর আপনার ঘরে আপনি যে ভাষা বুঝেন সেই ভাষায় কোরআন নাই কোরআনের তাফসীর নাই এটার চর্চা নাই এটা দীনী ফ্যামিলি হয়না । কেন? সূরা আহযাব এর মধ্যে আল্লাহ নবীর পরিবারকে নির্দেশ দিয়ে বলছেন তোমাদের ঘরে যে ওহী নাযিল হচ্ছে এটা তেলাওয়াত করো এটা স্মরণ করো এটার চর্চা তোমরা করো । যে ফ্যামিলিতে দিনের চর্চা নাই যে পরিবারে কোরআনের চর্চা নাই যে মসজিদে কোরআনের তালিম নাই যে সমাজে কোরআনের দারস নাই এগুলা মরা সমাজ আর জিন্দা সমাজ এর কোন পার্থক্য নাই । কারণ বেসিক নলেজ যারা পাচ্ছে না তারা পরিবর্তন কিভাবে হবে । পরিবর্তন দেখেন একটা রাস্তা খারাপ আরেকটা রাস্তা ভালো ওই ভালো রাস্তার জ্ঞান যতক্ষণ মানুষের মধ্যে না আসবে ততক্ষণ সে তো ভাল রাস্তা খারাপ রাস্তায় আর ভালো রাস্তা এর মধ্যে তারতম্য বুঝে নাই এই জিনিসটাই বুঝায় কোরআনের একটা আয়াত ধরে ধরে মানুষকে বুঝিয়ে দেয় যে ওইটা ভালো পথ ছিল না এই যে এটা ভালো । এজন্য আল্লাহ বলেছেন “বাইয়্যিনাতিম মিনালহুদা ওয়াল ফুরকান” কোরআনের একটা নাম হচ্ছে ফোরকান ফোরকান মানে কি সত্য এবং মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী ধরিয়ে দেওয়ার জিনিস ওটা ভালো ওটা মন্দ ওটা সঠিক ওটা বেঠিক ওটা সত্য ওটা মিথ্যা এই জিনিসটা পার্থক্য নিরিক করতে পারে আল্লাহর কালাম । তো এখন আমরা সামনের দিকে একটু যাই যে সূরা আল বাকারার ১৮৩, ১৮৪, ১৮৫, ১৮৬, ১৮৭ এই আয়াতগুলো থেকে রামাদানের বিধানগুলো তাফসীর পরে পরে আপনারা জানবেন যে আল্লাহ কি বলেছেন এরপরে যদি আমরা হাদিসের মধ্যে প্রবেশ করি তাহলে বুখারি মুসলিম তিরমিজি সহ সব কিতাবে কিতাবুস সিয়ামের অধ্যায় আছে । এই সিয়ামের অধ্যায় এর মধ্যে কিছু আছে ফজিলত সংক্রান্ত হাদিস আর কিছু আছে আপনার বিধান সংক্রান্ত হাদিস । এ প্রসঙ্গে সামনের ঝুমা গুলোতে বা রমাদান চলাকালীন সময়ে যে খুতবা গুলো হবে যেই খতিব সমস্যা নাই উনারা ওই প্রসঙ্গক্রমে বিষয়গুলো আনবেন এটা আমরা আগেও জেনেছি আরো জানতে পারব ইনশাআল্লাহ ।


এখন আমি আপনাদের যেটা বলতে চাচ্ছি এবার একটু খেয়াল করবেন এখন মূল কোথায় আসছি আমরা রমজানে সিয়াম রাখবো মাশাল্লাহ আমাদের নিয়ত আছে । আল্লাহ আমাদের কবুল করুন এই নিয়ত কে । এটা আমাদের সবারই ইচ্ছা আছে যে আমরা রমজানের ফজিলত এবং বারাকা গুলো নেব এটার রহমত বরকত এবং মাগফিরাত আল্লাহ দিবেন এটা আমরা নিব, চেষ্টাও করব । আমরা সালাত টা প্রতিদিনই আদায় করি কমপক্ষে পাঁচ বার এই যে আজকে যোহর হত জুমা হওয়ার কারণে আমরা জুমা পড়তে এসেছি । তাহলে দৈনিক একটা এবাদত ফরজ এটা পেলাম সালাত বৎসরে একটা এবাদত ফরজ এটা পেলাম সিয়াম, বছরে আরো একটা এবাদত ফরজ তার নাম কি হজ্জ মাশাল্লাহ । আর আরো একটা ইবাদত ফরজ বছরে একবার এটার নাম যাকাত । তাহলে সিয়াম হজ্জ যাকাত এই তিনটা আমরা বছরে একবার পাচ্ছি ফরজ হিসেবে নফল হিসেবে সব সময় চলমান । আর সালাত টা পাচ্ছি প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচ বার এই জন্য এটাই হচ্ছে আপনার মুসলিম আর কাফেরের মধ্যে পার্থক্যকারী এমন একজন মানুষ রামাযানের পরেরদিন শাওয়াল মাসের প্রথম দিন মুসলমান হয়েছে ধরে নেন এখন সে মুসলিম না কাফের এখন সিয়াম যদি তার টেস্ট পরীক্ষা হতো তাহলে ১১ মাস অপেক্ষা অপেক্ষা করা লাগবে । যে পরের রমাদান আসলে সে সিয়াম রাখে কিনা তখন আমি বুঝবো যে সে মুসলিম কিনা এতদিন অপেক্ষা করবে কে ? এই জন্য আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু ইসলাম এমন একটা জিনিসকে টেস্ট বানিয়ে দিয়েছেন যে মুশরিক আর কাফের বেঈমান আর ঈমানদার এর মধ্যে মানদন্ড হচ্ছে সালাত । সালাত দিয়ে যাচাই হয়ে যায় যে সে আসলে মুসলিম না অমুসলিম আচ্ছা এই পর্যন্ত রাখেন এখন আমি যেটা বলতে চাইব আমরা ঈমান আনলাম মুসলিম হলাম আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করলাম সিফাত গুণাবলী সব স্বীকার করলাম জান্নাত-জাহান্নাম, আখেরাত , রিসালাত আসমানী কিতাব মালাইকা তাকদির, ঈমানের রুকন ইসলামের রুকন সব আমরা মেনে নিলাম । এবার আল্লাহ আমাদেরকে যে ফরজ ইবাদত গুলি দিয়েছেন আমরা রমজানের সিয়াম পালন করব, হজের মাসে হজ করব , প্রতিদিন সালাত আদায় করব, যাকাতের সামর্থ্য হয়ে গেলে বা যাকাত ফরজ হয়ে গেলে যাকাত দিব । এখানে এই এবাদত গুলো আল্লাহ কেন দিয়েছেন এবং এর দ্বারা আল্লাহ কি চাচ্ছেন মাকসুদ টা কি? প্রত্যেকটা জিনিসের একটা মাকসুদ আছে মনে রাখবেন । মাকসুদ ছাড়া উদ্দেশ্য ছাড়া কেউ কিছু করেনা আল্লাহ কিছু করেন না । আল্লাহ বলতেছেন আসমান আর জমিন আর এর মধ্যে যা কিছু রয়েছে কোন কিছুই আমি খেলাচ্ছলে বানাইনি আল্লাহু আকবার তারমানে প্রত্যেকটা জিনিসের সৃষ্টির পিছনে মাকসুদ আছে উদ্দেশ্য আছে যে আল্লাহই কাজটা কেন করলেন । আল্লাহ বারবার কুরআনে একথা বলেছেন “আমি সৃষ্টি থেকে অমনোযোগী নই, আমি সৃষ্টি থেকে বেখবর নই , আমি খেলার জন্য কিছুই বানায়নি” এই কথাগুলি আল্লাহ বারবার বলেছেন । তাহলে এবার আমাদের জানার বিষয় রামাদানের মাস আসবে সিয়াম রাখবো বাট কেন সিয়াম রাখবো এই জিনিস যদি আমরা না বুঝি তাহলে এই সিয়াম রাখা না রাখা সমান একজন মানুষের পেটে ক্ষুধা লাগছে তার পুষ্টির অভাব এখন তারে পুষ্টিকর জিনিস খাবার দিলেন খাওয়াইলেন কিন্তু কি হলো খাবারটা হজম হয়ে শরীরের শক্তি যোগানো রাগে তার ব্লাড তৈরি হওয়ার আগে ওই খাবারটা আবার সে বমি করে ফেলে দিল তাহলে কি শরীর এখান থেকে কিছু নিতে পারল না তাইলে ওই খাওয়া আর না খাওয়া সমান হয়ে গেছে । সেম আমাদের সমাজের যে সিয়াম বা রমাদান পালন হয় এটা হয়ে গেছে অনুষ্ঠান কেন্দ্রিক এবাদত । যে খুব ভাব গাম্ভীর্যের সাথে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে এবারের রমাদান উদযাপিত হয়েছে । এবার শেষ জুমার দিন বলবে জুমাতুল বিদা পালিত হয়েছে উদযাপিত হয়েছে । তার মানে এই এবাদত গুলো অনুষ্ঠান সর্বোচ্চ হয়ে গেছে জাস্ট পালন কিন্তু এই পালনের মধ্যে ভিতরে কি আছে বা কেনই পালন করব এটা অনেকে নিজেও জানে না যে আসলে কাজটা কেন করলাম ।

এখন তাহলে আমরা আজকে একটা আয়াত এবার একটা আয়াতের মধ্যে প্রবেশ করি সূরা আল বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াত সিয়াম ফরজ হওয়ার এটাই হচ্ছে প্রথম আয়াত যেখানে সিয়ামের কথা আল্লাহ ফরজ করে দিয়েছেন । এখানে আল্লাহ প্রথমে ডাক দিচ্ছেন “ইয়া আইয়ুহাল্লাজিনা আমানু” এই আয়াতের অনুবাদ এই অংশের অনুবাদ আপনারা সবাই জানার কথা হে ঈমানদারগণ আমি এগুলা আরো আগেও বলেছিলাম । এর পরে কি বলছেন “কুতিবা আলাইকুমুস সিয়াম” কুতিবা অর্থ হচ্ছে পুরিযা লিখে দেওয়া হয়েছে । কুতিবা কাতাবা মানে লেখা কাতিব মানে লেখক কাঁচা বা মানে লিখেছে এগুলা রূপ পরিবর্তন হলে অর্থ পরিবর্তন হয় । কুতিবা মানে লিখে দেওয়া হয়েছে, আলাইকুম তোমাদের উপরে মানে আমরা যারা মুমিন তাদের উপরে আল্লাহ প্রথমে কাদের ডাক দিলেন ইমানদারদেরকে । তাইলে এখান থেকে বোঝা গেল সিয়ামের বিধান কোন কাফেরের জন্য নয় সিয়ামের বিধান কোন মুশফিকের জন্য নয় । সিয়ামের বিধান কোন বেঈমান এর জন্য নয় । এখন যদি ঈমান ছাড়া একজন মানুষ সারা জীবন সিয়াম পালন করে তার ওই সিয়ামের আল্লাহর কিছু যায় আসে না । সে এতে কোন উপকার পাবে না শারীরিক উপকার পাইতে পারে , তার গ্যাস্টিক কমতে পারে , তার আপনার ডায়াবেটিস কমতে পারে কিন্তু ওই সাওয়াব নামক জিনিসটা নেকি নামক যে জিনিসটা এটা পাবেনা ।
তোমাদের
এখানে প্রসঙ্গক্রমে যেহেতু আসছে এটা আমার সাবজেক্ট না সিয়ামের দ্বারা শুধু নেকী অর্জন হয় না শারীরিক অনেক উপকার হয় এটা আমার একটা বই আছে সিয়াম ও যাকাত সেখানে সিয়ামের বৈজ্ঞানিক উপকারিতা পয়েন্টগুলো দেওয়া আছে । ওইটা আমি সাবজেক্ট আজকের ওইটা উদ্দেশ্য নেই নি এই জন্য ওই বিষয়ে আর বলছিনা । এটা আরো আপনারা সার্চ করলে পেয়ে যাবেন । আমি যেটা বলতে চাচ্ছি যে ছিলাম আমরা কেন রাখব আল্লাহ ডাক দিয়ে বললেন হে ঈমানদারগণ কুতিবা আলাইকুম তোমাদের উপরে লিখে দেওয়া হয়েছে, তোমাদের ওপরে ফরয করে দেওয়া হয়েছে । কি? সিয়াম সিয়াম জিনিসটা ফরজ করে দেওয়া হয়েছে । এর পরে কি বললেন তোমরা হয়তো ভয় পেতে পারো যে আহারে এত লম্বা সময় এক মাস কী ব্যাপার কী করা যায় এবার জন্য আমাদেরকে হালকা করার জন্য অতীতের ইতিহাস বলছেন কামা কুতিবা যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল আলাল্লাযিনা মিন কব্লিকুম তোমাদের আগে যারা ঈমানদার ছিল তোমাদের আগে যারা নবী-রাসূল চলে গিয়েছিলেন তাদের সময়েও এই বিধানটা ফরজ করে দেওয়া হয়েছিল । তারাও এই আমলটা করে এসেছে বিধায় তোমাদের উপরও এটা দেওয়া হয়ে । এটা নতুন কোন ইবাদত না তোমাদের ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই । এরপরের কথাটা কি আয়াতের শেষ শব্দ টা কি “লায়াল্লাকুম তাত্তাকুন” এটা মুখস্ত করবেন সবাই । এই কথাটাই হচ্ছে সিয়াম ফরজ করার উদ্দেশ্য যে আয়াতে আল্লাহ সিয়াম ফরজ করছেন ওই আয়াতের শেষ বাক্যটার মধ্যে আল্লাহ বলছেন কেন আমি তোমাকে এক মাস এই ট্রেনিং টা দেওয়াবো, কেন আমি একমাস সারাদিন তোমাকে খানাপিনা যৌনসর্ম্পকের গুলো থেকে বিরত রাখবো এই উদ্দেশ্যটা আমার হলো “লায়াল্লাকুম তাত্তাকুন” যাতে তোমরা কি হয়ে যাও মুত্তাকী হয়ে যাও । তাহলে এই আয়াত থেকে আমরা ২-৩ টা ইনফরমেশন পেয়ে গেলাম যেহেতু আল্লাহ এটা খেয়াল করবেন এটা হচ্ছে কুরআনের দারস কুরআন এই ভাবেই বুঝতে হয় । এই আয়াতে আল্লাহ কি বুঝাইলেন প্রথমে আল্লাহ ঈমানদারদেরকে ডাক দিলেন এ থেকে আমরা বুঝলাম সিয়াম এর বিধান মুমিন যারা মুসলিম যারা তাদের জন্য । অন্য কেউ সিয়াম রাখলে তার কোন উপকার ফজিলত সে আখেরাতে পাবে না । তারপরে আমরা জানলাম কুতিবা শব্দের মাধ্যমে যে সিয়াম রমাদান মাসের সিয়াম বালেগ, সুস্থ প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর, নারীদের ক্ষেত্রে হায়েজ - নেফাস থেকে মুক্ত হওয়া একটা শর্ত আছে । এছাড়া পুরুষদের ক্ষেত্রে বালেগ এবং সামর্থ্য থাকা সুস্থ থাকা এই শর্ত অনুযায়ী সিয়াম রাখা এটা ফরজ । যদি কোন মানুষ মুসলিম হইয়া অস্বীকার করে যে সিয়াম বলতে আমি কিছু বুঝিনা কিছু মানি না তাহলে সে মুরতাদ হয়ে যাবে তাকে আবার কালেমা পড়ে মুসলমান হওয়া লাগবে । আর যদি কেউ স্বীকার করার পরেও গাফিল হইয়া সিয়াম ভঙ্গ করে তাহলে ওলামাদের বক্তব্য হচ্ছে যে তাকে কাফের বলা না তবে মারাত্মক ফাসেক হবে । সিয়াম ভঙ্গ করার কারণে এই অপরাধী ক্ষমা না করেন তাহলে তার জাহান্নাম হতে পারে । এই অপরাধের কারণে যেহেতু সে ফরজ বিধান ত্যাগ করেছে ।

এবার আছেন আরেকটা ইনফরমেশন পেলাম এই আয়াত থেকে প্রথমে পেলাম সিয়াম মুমিনদের জন্য তার পরে জানলাম যে এটা ফরজ বিধান এটা নিয়ে অবহেলা করার কোন সুযোগ নাই আপনি দোকানের মধ্যে পর্দা টানায় দিবেন আর ভিতরে গিয়ে সবাই খাবে বিড়ি খাবে সিগারেট খাবে চা খাবে ওটা চলবে না তবে হোটেল বন্ধ করে দিতে হবে রমজান মাসে এটা কিন্তু ইসলাম বলে নাই যে হোটেল বন্ধ করে দিতে হবে কারণ এই আয়াত গুলোর মধ্যে একটা অপশন আছে যদি কোন মানুষ অসুস্থ হয় অথবা যদি কোন মানুষ মুসাফির হয় তাহলে তার জন্য সিয়াম ভেঙ্গে পরে কাযা করার বিধান আছে।

এখন একজন মানুষ দূর থেকে বিদেশ থেকে ঢাকা শহরে এসে নামছে সে মুসাফির তার জন্য সিয়াম ভাঙ্গা যায়েয এখন যদি কোন হোটেলে না থাকে তাহলে সে খাবে কি এই জন্য এই হোটেল গুলি সিয়ামের মধ্যে খোলা রেখে মুসলিমদেরকে রোজা ভাঙ্গার ব্যবস্থা করে দেবে এটা হারাম এইটা যে সব দোকানদার এই কাজটা করবে এটা হারাম তবে কেউ যদি মুসাফিরদের জন্যে রোগের জন্য কোন জায়গায় বিশেষ প্রয়োজনে হাসপাতাল কেন্দ্রিক বা বিভিন্ন সফরের স্পট কেন্দ্রিক ব্যবস্থা রাখে সেটা তার জন্য কোনো সমস্যা নেই কিন্তু আমাদের এই লোকালয়ে আশপাশে যে হোটেল গুলা থাকে এগুলাতে বেশিরভাগ আপনার যারা নিজেদেরকে মুসলমান মনে করে ওরাই গিয়ে খাওয়া দাওয়া করে ।

আচ্ছা এরপরে আমরা জানলাম যে সিয়ামের বিধান আগেও ছিল মূসা আলাইহিস সালাম আশুরার রোজার সিয়াম পালন করতেন তারপরে দাউদ আলাইহিস সালাম একদিন সিয়াম রাখতেন একদিন ছেড়ে দিতেন ওগুলো আবার অনেকগুলো হাদিস আমি ওদিকে গিয়ে আজকে সময় কুলাবে না এইজন্য যাচ্ছিনা । এই সিয়ামের বিধান টা আগেও ছিল তারপরে আরেকটা ইনফর্মেশন জানলাম এই আয়াত থেকে সিয়াম কেন রাখব এখন আর আমি বলব না সিয়াম কেন রাখব রোজা রাখার উদ্দেশ্য কি আপনারা মুখস্ত করে নিবেন আয়াতের শব্দ টা মুখস্থ করবেন । আয়াতের শব্দ টা কি “লায়াল্লাকুম তাত্তাকুন” এটা জব্বেন। সিয়াম রাখার উদ্দেশ্য হচ্ছে “লায়াল্লাকুম তাত্তাকুন” আমরা যাতে মুত্তাকী হই এই জন্য আল্লাহ সিয়াম দিয়েছেন ।

এবার এখান থেকে আরেকটু সামনে যাব মাঝখানে একটু অন্য একটা প্রসঙ্গ আরো দুইটা আয়াত আমি আনতেছি এটাতো বৎসরের এবাদত সামনে আসছে দেখেই প্রসঙ্গ টা আসলো কিন্তু প্রতিদিনের যে ইবাদত টা ফরজ এটা কোনটা আপনারা বুঝে ফেলেছেন সলাত এই সলাত আমরা কেন করি এটা মিলািছিলেন এটাক উদ্দেশ্য মিলিয়া যে আচ্ছা আমি বলি এখানে যদি আমি প্রশ্ন করি যে এই পর্যন্ত আমরা যতদিন সালাত আদায় করছি নামাজ পড়ছি আমাদের অনেকের অনেক বয়স হয়ে গেছে যে আল্লাহর কোরআনে কেন নামাজ পড়বো এই কথাটা কোথায় বলা আছে এবং ওই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য আমি নামাজ পড়বো এইটা খুইজা নামাজ পড়ছি এরকম মুসল্লী সংখ্যা কম পাওয়া যাবে ।

অথচ নামাজ ঠিকই পড়তেছি আমরা এইজন্য উদ্দেশ্যের সাথে কাজের মিল হচ্ছে না বেমিল হচ্ছে যে উদ্দেশ্যে যেটা করতে যাই ওইটা করেও তার উল্টোটা হয়ে যাচ্ছে । এবার বুঝছেন ঘটনাটা । এবার আমি বেশি বলব না এই প্রসঙ্গে দুইটা আয়াত বলে আমি আবার ওই সিয়ামের মধ্যে চলে যাব ওখানে । একটা হচ্ছে সূরা তোহা এর14 নম্বর আয়াত এখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন তুর পাহাড়ে নিয়ে গেলেন ওহী দিবেন তো ওখানে অনেক বক্তব্য দিলেন প্রথম দিকে । এইভাবে পড়ে পড়ে 14 নম্বর আয়াতে গিয়ে পাবেন মুসা আলাইহি সালামের ঘটনা একটু আগে থেকে শুরু হয়েছে । ওখানে গিয়ে আল্লাহ বলছেন যে মুসা শোনো আমি ছাড়া কোন ইলাহ কোন উপাস্য পৃথিবীর বুকে নাই, ছিল না এখনো নাই আসবেও না । যত ইলাহ মানুষ বানিয়েছে ওগুলা হচ্ছে নকল ইলাহ । ওগুলা মিথ্যা ইলাহ । মাবুদে হক সত্তিকারের ইলাহ একমাত্র আমি এরপরে বলছেন তুমি একমাত্র আমার এবাদত করো এই কথা বলার পর এবার বললেন কি তুমি সালাত কায়েম করো । এরপরে বলে দিলেন কি জন্য সালাত কায়েম করবা আমাকে স্মরণ করার জন্য, আমি আল্লাহর মাহাত্ম্য বুঝার জন্য , আমি আল্লাহর বড়ত্ব জানার জন্য , আমি আল্লাহকে তোমার মনের মধ্যে গেঁথে রাখবা সবসময় এই কাজটা হাসিল করার জন্য তুমি সালাতে দাঁড়ায় । কিন্তু আমাদের অবস্থা জানেন আমাদের অবস্থা হইলো আগে অনেক কিছু মনে নাই হিসেবেও গোলমাল লাগছে, সংসারেও ভেজাল লাগছ , এই এক লোকের সাথে কথা দিয়েছিলাম ফোন দিতাম তাও ভুলে গেছি আল্লাহু আকবার দাড়াইছি এবার সব মনে পড়তেছে সব । আবার সুরা ও ঠিকি পড়তেছে । সব চলতেছে, রুকু-সিজদা সব চলতেছে, মানে সালাত টা হয়ে গেছে আমাদের একটা মেশিনের কাজের মত । অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রুকু সেজদা দিতে দিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে সিজদাও দিচ্ছে, রুকু ও দিচ্ছে সূরা ও পড়তেছে । অটোমেটিক এই কাজগুলো চলতেছে কিন্তু ব্রেন এখানে নেই । ব্রেন অন্য কিছু চিন্তা করতেছে এবং এটাযে হয় এটা বাস্তব । কোন ওলী বুজুর্গ কেউ আছে পৃথিবীতে যে বলবে সালাতের মধ্যে আমার মন অন্যমনস্ক হয় না এটা বিশ্বাস করা যাবেনা । এখান থেকে একজন মানুষও বাদ নাই আমি সুন্দর করে খুতবা দিলে কি হবে আমারও মন চলে যায় অন্যদিকে এখানে একটা হাদিস আছে একটা শয়তান আছে একটা নির্দিষ্ট শয়তানি আছে এই সালাতের সময় মুমিনকে ডিস্টার্ব করার জন্য তার কাজই ওইটা, যখনি আজান হয় তখন বায়ু ছাড়তে ছাড়তে দৌড়ায় একটা কাঁচা শব্দ আছে ওইটা আর বললাম না ।

বায়ু ছাড়তে ছাড়তে সে দৌড়ায় আল্লাহর নবী বলছেন যে একটা শয়তান আছে যখন আল্লাহু আকবারের ধনী উচ্চারিত হয় এটা সহ্য করতে পারে না তখন যতদূর গেলে আযানের শব্দ শোনা যাবে না সে তত দূর চলে যায় । এবার চিন্তা করে যে আযান মানে শেষ হয়ে গেছে , হ শেষ তখন আবার চলে আসে । যে আযান দিলো বা মুসল্লী যারা তাদেরকে ডিস্টার্ব করে নামাজে যাবি না এইসেই । আবার যখন বান্দা নামাজে চলে আসলো এবার একামত শুরু হয়ে আবার পালায় । একামতের সময়ও এগুলো সহ্য করতে পারেনা দৌড় দেয়। একামত শেষ আল্লাহু আকবার দাড়াইলো আবার আইসা হাজির । তখন আইসা কি বলে হাদিসের শব্দটা জানেন কেউ? তিনবার শব্দটা হাদীসে উল্লেখ আছে যে “ওইটা মনে কর, ওইটা মনে কর, ওইটা মনে কর” । এরপরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে শয়তানের এই ফাঁদে পড়ে মানুষটা এজন্য একটা ঔষধ আছে আল্লাহ বলছেন বেশি শয়তান ডিস্টার্ব করলে তুমি আউযুবিল্লাহ পাঠ কর এবং বাম দিকে থুথু ফেলে দাও যদিও আমাদের মসজিদ গুলো টাইলস, এ জন্য থুথু ফেলা যাবে না আপনি টিস্যু ব্যবহার করে যদি এই হাদীসের উপর আমল করতে চান বা রুমাল ব্যবহার করে এটা জায়েয আছে কেউ আপনাকে বলবে যে নামাজের মধ্যে ফেলতে নাজায়েজ কাজ করছে সালাত শেষ হয়ে গেল বিষয়গুলো কিন্তু এরকম না । আমরা ওই অনেক কিছু আমলে প্র্যাকটিস করি না । জুতা পড়ে কেউ মসজিদে ঢুকলে তো আপনারা মাইর দিবেন । আরে জুতা নিয়ে মসজিদে ঢুকে , আপনি জুতা নিয়ে সালাত আদায় করতে পারবেন যদি জুতা পাক থাকে । এটা নাজায়েজ না, কিন্তু জুতা ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়া এটা আদব না । কিন্তু জুতা পড়ে প্রয়োজনে পাক জুতা নিয়ে সালাত আদায় করা সম্পূর্ণ জায়েজ আছে । জুতা পরে আপনি জানাযার সালাত আদায় করতে পারবেন এটা জায়েজ আছে। কিন্তু এগুলা সমাজে প্র্যাকটিস নাই দেখে মানুষ মনে করে না জানি কোন বিপদ ঘটাই দিছে । বিষয় এরকম না ।

আমি যেটা বলছিলাম কি বলছিলাম আগের কথাটা কি ছিল এই শয়তান শেষে বলে ওইটা মনে কর ওই টা মনে কর ওই টা মনে কর এরপরও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটা মারাত্মক কথা বলেছেন যে এইভাবে মনে করতে করতে বান্দা অনেক সময় এটাই মনে থাকেনা যে আমার রাকাত তিনটা নাকি চাই দুইটা নাকি তিনটা পড়লাম রাকাত এটাও সে ভুলে যায়, এমনটা অনেক সময় হয়ে যায় । এইজন্য সালাতের উদ্দেশ্য কি আল্লাহর স্মরণ । আর এই বিষয়ে আমি মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলাম আমি যখন ফাজিল এ পড়ি । আল্লাহ বলছেন সালাত আদায় করতে হবে আল্লাহর স্মরণের জন্য কিন্তু সালাতের মধ্যে দাঁড়ায়লে মনটা ধরে রাখা যায় না অন্যদিকে চলে যায় এটার চিকিৎসা টা কি এরপর এই বিষয়ে আমি অনেক বই-পুস্তক খুঁজাখুঁজি শুরু করলাম তখন উর্দু ভাষার প্রচলন ছিল তো উর্দু অনেক কিতাব আরবি অনেক কিতাবাদি বিভিন্ন জায়গা থেকে কালেকশন করলাম । করে তারপরে যা যতোটুকু পেলাম ওগুলারে অনুবাদ করে একটা বই মন দিয়ে নামাজ পড়ার উপায় ছাপাইলাম । যে রোগ টা শুধু আমার না আরো মানুষের ও কাজে লাগবে । তারপরে যেগুলা পেলাম যে ১ নম্বর ঔষধ হচ্ছে সালাতে মনোযোগ ধরে রাখার ৩২ টা পয়েন্ট আছে ৩০ ৩২ টা পয়েন্ট আছে এক নাম্বার যেটা হচ্ছে সেটা হচ্ছে আল্লাহু আকবার থেকে নিয়ে আসলামু ওয়ালাইকুম বলা পর্যন্ত যতগুলো কথা যবানে বলা হচ্ছে । প্রত্যেকটা কথার অর্থের দিকে খেয়াল করতে হবে, যে আমি কি বলছি । আল্লাহু আকবার আল্লাহই সব চেয়ে বড় এই কথাটা মাথায় নিয়ে আসতে হবে । সুবহানাকা আল্লাহুম্মা এটার অর্থ যখন আমি পড়বো আল্লাহ তুমি মহান, তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি , তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই এইগুলা মনে করতে হবে । আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন আমার প্রশংসা করতেছি মুখে পড়তে হবে আর অর্থের দিকে মনোযোগ দিতে হবে এছাড়া তেমন কোন বড় ঔষধ নাই । এটা কোন বিজ্ঞানী আবিষ্কার করতে পারে নাই । যে আপনি ওই ট্যাবলেটটা খাইবেন আর নামাজে লাগলে আপনার মনোযোগ কোন দিকে যাবে না । এই ঔষধ বের ও হবে না । এটা একমাত্র আল্লাহর ভয় আল্লাহর মহব্বত ভালোবাসা আর সালাতের মধ্যে আমি কি পড়তেছি কি বলতেছি এটা বুঝার মাধ্যমে এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবার গেল একটা দুইটা বলবো বলছিলাম না আরও একটা আয়াত বলে আবারো সিয়ামে যেতে হবে সিয়ামের বাকি রয়ে গেছে কিছু কথা ।

আরেকটা আয়াত এটা সূরা আনকাবুত এর ৪৫ নম্বর আয়াত সূরা আনকাবুত । মাকড়সার নামে একটা সূরা আছে ওই সূরার নাম হল আনকাবুত । এটা ৪৫ নাম্বার আয়াত এখানে পাড়ার শুরুতে আল্লাহ বলছে
“কিতাবের যা তোমার উপর নাযিল হয়েছে, এগুলো আবৃত্তি করো, পড়ো , তেলাওয়াত করো” এরপরে বলছেন আর সালাত কায়েম করো । আল্লাহর আয়াত পড়ো আর সালাত কায়েম করো । সূরা ফাতির এর একটা আয়াতে আল্লাহ বলছেন যারা আল্লাহর পথে ব্যয় করে,কোরআন পড়ে আর সালাত কায়েম করে তারা এমন ব্যবসা করে জিন্দেগীতে লস হবে না । এটা আগে বলেছিলাম একদিন । তো এখানে আল্লাহ বলছেন সূরা আনকাবুত এর ৪৫ আয়াতে কি? আল্লাহর ওহী তিলাওয়াত করো, পড়ো আর সালাত কায়েম করো এরপরের কথাটা কি ? কেউ না কেউতো পারার কথা । এটা হচ্ছে সালাতের বড় উদ্দেশ্য , সালাতের দুইটা উদ্দেশ্য মুখস্থ করে বাড়িতে যাবেন । কথা বেশি সামনে না যেয়ে যাইয়া আমি এগুলি আবার রিপিট করব যাতে মনে থাকে । আজকের খুতবায় শুধু এইটা যদি মুখস্থ করতে পারেন জানতে পারেন যে জীবনে অনেক সালাত আদায় করলাম কিন্তু কেন সালাত আদায় করলাম সেটা বুঝলাম না । আজকে শিখলাম তাহলে আজকের এই খুতবা টা কাজে লাগবে । আপনার 100 আয়াত পড়ে লাভ নাই একটা আয়াত পড়েন বোঝেন প্র্যাকটিসে নেন পরে আরেক আয়াতে যান এটা ভালো । তাহলে আজকে সালাত কেন পড়বো সূরা তোহা এর 14 আয়াত কি ইনফর্মেশন আল্লাহর স্মরণে সালাত আদায় করতে হবে । মাথায় ঢুকছে তো ভালো করে? আল্লাহর স্মরণে সালাত আদায় করতে হবে এখানে অন্য হিসাব কিতাব দোকানের হিসাব অমুকের সাথে ওয়াদা দিছিলাম অলকের সাথে ঝগরা করছিলাম দুনিয়ার হিসাব-কিতাব নিয়ে সালাত না । এটা ওই স্মরণ না । আল্লাহর স্মরণের সালাত হবে । এবার আরেকটা আয়াত সালাতের উদ্দেশ্য সূরা আনকাবুত আয়াত কত 45 । এই রেফারেন্স মনে রাখতে হবে নাহলে বাড়িতে গিয়ে তাফসীর খুঁজতে খুঁজতে সময় যাবে পাবেন না । আনকাবুত এর ৪৫ আয়াতে আল্লাহ বলছে আল্লাহর ওহী তিলাওয়াত করো এবং সালাত কায়েম করো । তারপরে বলছেন নিশ্চয়ই সালাত বিরত রাখবে কিসের থেকে অশ্লীল কাজ গর্হিত কাজ অন্যায় ফাসাদ ফিতনা পাপাচারী তা যত ধরনের শয়তানী কাজ কর্ম আছে আল্লাহ বলছেন তুমি সালাত আদায় করো যাবতীয় শয়তানি কাছ থেকে এই সলাত তোমাকে বাঁচিয়ে দিবে সুবাহানাল্লাহ ।

তাহলে যে মানুষটা সালাত পড়ে নামাজ পড়ে আবার সুদ খায়, যে মানুষটা মসজিদ থেকে নামাজ পইড়া বাইর হইয়াই দোকানে গিয়ে ওজনে কম দেয় , যে মানুষটা নামাজ পইড়া বাইরে গিয়েই এক জনের সাথে মিথ্যা কথা বলে তাহলে আয়াত আর এই মানুষের নামাজের মধ্যে পুরা বৈপরীত্য আমরা দেখতে পাচ্ছি । একটু খেয়াল করছেন তাহলে হয়তবা এই মানুষটা মিথ্যা আর না হয় আল্লাহর আয়াত ওই শব্দটার বললাম না নাউজুবিল্লাহ । আল্লাহ আয়াত তো মিথ্যা হতেই পারে না । আল্লাহ বলেই দিয়েছেন যে এমন কোন সত্যবাদী জন্ম নেয়নি যে আল্লাহর চেয়ে বড় সত্য কথা বলতে পারে । আল্লাহর চেয়ে সুন্দর কথা বলার এমন কেউ জন্ম হয়নি যে আল্লাহ থেকে সুন্দর কথা বলতে পারে । তাহলে আল্লাহর কালাম সত্য আল্লাহ যে বললেন তুমি সালাত কায়েম কর সালাত তোমাকে শয়তানি কাছ থেকে বাঁচিয়ে দিবে এই কথাটা সত্য কিন্তু আমি সালাত আদায় করি শয়তানি কাজ ও করি তারমানে ভেজাল আমার মধ্যে আছে । তাফসির মারেফুল কুরআন এর মধ্যে এক্তা বাক্যা পড়েছিলাম যে মানুষকে তার সালাত যে মানুষকে তার নামায অন্যায়, ফাহেশা, শয়তানী কাজ থেকে বাঁচল না ওর নামাজ নামাজী হলোনা ।

চিন্তা করছেন এইজন্য সালাত চরিত্র সুন্দর করে সালাত মানুষকে আল্লাহ মূখী করে সালাত মানুষকে গুনার কাজ থেকে বিরত রাখে এই প্রসঙ্গক্রমে আমরা সিয়ামের কাছে চলে যাবো এইখান থেকে আবার সিয়ামের ঢুকবো যে সালাতের একটা উদ্দেশ্য ছিল গুনাহ থেকে বেঁচে যাওয়া আর সিয়াম এর উদ্দেশ্য কি তাকওয়া অর্জন করা এই তিনটা আয়াত মনে রাখবেন । সালাতের একটা উদ্দেশ্য সূরা তোহা এর 14 আয়াতে আল্লাহর স্মরণ আর সূরা আনকাবুত এর 45 আয়াতে গুনাহ থেকে বেঁচে যাওয়া আর সিয়াম এর উদ্দেশ্য সূরা আল বাকারার 183 নম্বর আয়াতে আল্লাহ শেষে গিয়ে বলেছেন “লায়াল্লাকুম তাত্তাকুন” তোমরা মুত্তাকী হবে । এই “লায়াল্লাকুম তাত্তাকুন” আর তানহা-আনিল ফাহ শাই ওয়াল মুনকার এই দুইটা একসাথে গাঁথা ।

এবার কিভাবে গাঁথা বুঝিয়ে দেই একটু আল্লাহ বললেনঃ তুমি সিয়াম রাখ তাহলে তুমি মুত্তাকী হবে তাকওয়া অর্জন হবে এবার তাকওয়া কাকে বলে । তাকওয়ার সংজ্ঞাটা কি? এটা নিয়ে আমরা হয়তো অনেকে ভাবি না আমরা অনেক সময় মুত্তাকী শব্দ বলিনা মুত্তাকী, ইস অমুক খুব মুত্তাকী ফরহেজগার মানুষ । এই মুত্তাকী এর সংজ্ঞা টা কি? মুত্তাকি মানে সাদা মানুষ, মুত্তাকি মানে কালো মানুষ মুত্তাকি মানে খুব ধনী মানুষ । মুত্তাকি মানে যে দাড়ি টুপি পড়ে ওই মানুষ তাহলে মুত্তাকী টা কে ? আর মুত্তাকী হওয়া এমন জরুরী জিনিস যে মুত্তাকিনা কোরআন তাকে হেদায়েতই দিবেনা । আল্লাহ বলছেন (হুদাল্লিল মুত্তাকিন) মুত্তাকীদের কোরআন হেদায়েত দেয় ।

যে মানুষ মুত্তাকী হয়না ও জান্নাত এর ধারে কাছেও নাই কারণ আল্লাহ বলছেন আমি জান্নাত বানিয়েছে মুত্তাকীদের জন্য সুবহানাল্লাহ । তাইলে যে জান্নাত মুত্তাকীদের জন্য যে কুরআন হেদায়েত দেয় মুত্তাকীদেরকে সেই মুত্তাকী হওয়ার জন্য আল্লাহ বলছেন তোমাকে সিয়াম রাখার নির্দেশ দিলাম তুমি সিয়াম রাখ তাহলে তুমি মুত্তাকী হবে আর সালাত আদায়ের নির্দেশ দিলাম তোমাকে গোনা থেকে বাঁচায় দিবে তাহলে মুত্তাকির সংজ্ঞাটা আজকে জেনে নেন, মুক্তাকী বলা হয় তাকওয়া একটা বৈশিষ্ট্যের নাম তাকওয়া কিসের নাম একটা গুণের নাম একটা বৈশিষ্ট্যের নামে কোনো রূপ নাই দেখেন আরেকটা মজার জিনিস জানেন কি সালাত নামাজ যেটা, যাকাত হজ্জ এই তিনটা এবাদত এর বাহ্যিক অবকাঠামো আছে রুপ আছে । আপনি সালাত আদায় করতে হলে অযু করবেন বাসায় বা মসজিদে হলে আপনি জায়নামাজ নিবেন বা পাক জায়গায় দাঁড়াবেন রুকু দিবেন সেজদা দিবেন আরেকজন দেখতে পাবে এটা । কাছের লোক দেখতে পাবে যে লোকটা নামাজ পড়ছে । আপনি হজ্জ করতে হলে এরাম বাঁধবেন, প্লেনে চড়বেন, কাবা ঘর তাওয়াফ করবেন আরেকজন দেখতে পাবে একটা রূপ আছে । যাকাত দিতে হইলে আপনার টাকাপয়সা বের করবেন আরেকজনকে দিবেন অন্তত আর কেউ না জানলেও যাকে দিবেন সে দেখতে পাবে কিন্তু আপনি আমি সিয়াম রাখলাম কি রাখলাম না এটা কেউ বাহ্যিক দেখে বুঝার কোন উপায় নাই এটা একমাত্র মালিক জানে আর যে সিয়াম রাখল কি না রাখল না সে জানে । এইজন্য সিয়াম দ্বারা এমন একটা জিনিস আল্লাহ মানুষের মধ্যে তৈরি করে দেন যে সিয়ামের যেমন কোনো রূপ নাই দেখা যায় না অথচ তার পাওয়ার আছে একশন আছে ওইভাবেই এই সিয়াম মানুষের মধ্যে এমন একটা জিনিস তৈরি করে দেয় যেটাকে দেখা যায় না এর নাম তাকওয়া । এই তাকওয়া টা একটা গুণের নাম এটার কোন কালার নো কালার সাদা কালো গ্রিন কিচ্ছু নাই । এটার কোন ওজন নাই 1 কেজি 100 500 কিলো 600 কিলো ওজন দিতে পারবেন না । এটার কোন রূপ ই পাবেন না যে তাকওয়া জিনিসটা ভিতরে কি ? আল্লাহর নবী বলেছেন তাকওয়া হৃদয়ের ভিতর থাকে কিন্তু এটা দেখা যায় না ।

এই অদেখায় একটা এবাদত যার রুপ নাই কালার নাই আকৃতি নাই বুঝাই যায়না ওই আদেখা একটা গোপন এবাদত এর মাধ্যমে অদেখা একটা গুন যেটা গোপন ভাবে মানুষের হৃদয়ে থাকে এই জিনিসটাকে আল্লাহ জাগ্রত করে দেন এই সিয়ামের মাধ্যমে । এই জন্য তাকওয়া হচ্ছে একটা গুনের নাম এটা কি গুন ? যে মানুষকে উৎসাহিত করে সৎকর্মের প্রতি আপনাকে উদ্বুদ্ধ করবে এই গুনটা আর অন্যায় কাজ থেকে আপনাকে নিরুৎসাহিত করে দেবে এই গুনটা । তার মানে যে মানুষ মুত্তাকী হয়ে যাবে গুনার কাজ সামনে আসলে সে স্টপ হয়ে যাবে বাবারে বাবা আমি তো তাকোয়া অর্জন করতে চাই এটা কেমনে করতে পারি সুযোগ সামনে লাখ লাখ টাকা আপনি অন্যায় ভাবে কামাই করতে পারেন আপনি একটা সই দিবেন 100000 টাকা পকেটে ঢুকে পড়বে। কেউ বাধা দিবেনা কিন্তু বাধা দিবে এক জিনিস আপনার তাকওয়া বলবে নো এখানে ওর শক্তি বেশি না এটাতো হারাম আমি নিতে পারিনা আপনার অন্যায়ের সুযোগ সামনে আসবে আপনার তাকওয়া বাধা হয়ে দাঁড়াবে না আমার তাকওয়া তো এটা একসেপ্ট করে না । আল্লাহ নবীর সাহাবায়ে কেরাম শুধু এই তাকওয়া দিয়েই তাদের গোটা সমাজ টাকে সোনার সমাজে পরিণত করেছিলেন । তাদের বাড়িতে কোন দারোয়ান পাহারাদার ছিল না । তাদের মাল-সামানা কেউ চুরি করত না । তারা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারতেন । একজন আরেকজনকে গিয়ে কেটে ফেলছে তার সতীত্ব নষ্ট করে ফেলছে নারী তারে ধরে নিয়ে গেছে ধর্ষণ করে ফেলছে । কেটে লাশ করে ফেলে দিয়েছে । ওই ঘুম থেকে উঠে দেখে যে তার সঊয়ারি গুলো আরেকজন নিয়ে গেছে এই সমাজে ওটা ছিল না । আল্লাহর নবী যখন শাসক ছিলেন আর সাহাবায়ে কেরাম যে সমাজে ছিলেন এটা ছিল না । আমাদের সমাজকে ভরে গেছে আমাদের মূল হলে আমাদের ভিতরটাই নষ্ট হয়ে গেছে । সমস্যাটা এই জায়গায় ।

তাকওয়া এর সংজ্ঞা আর একটু বুঝে নেন যে এটা একটা গুনের নাম এই বাক্য গুলো মুখস্থ করে নেবেন । তাকওয়া একটি গুণের নাম যে গুন কোন মানুষের মধ্যে থাকলে তাকে ন্যায় কাজে উদ্বুদ্ধ করে এই জন্য এবাদত এর কাজ বিশেষ করে ফরজ ইবাদত সামনে আসলে সে বসে থাকে না একজন মানুষ মুত্তাকি মোয়াজ্জেম বলছেন “হাইয়া আলাস সালাহ” নামাযের দিকে আসো এখন আর তার কাছে এর চেয়ে বড় আর কোন কাজ নাই । একদম মুত্তাকী কখনো বেনামাজি হয়না একদম মুত্তাকী ফজরের সময় বিছানায় শুয়ে থাকবে এটা অসম্ভব হতেই পারে না । আর কি করে তাকওয়া যে অন্যায় সামনে আসলে তার তাকওয়া তাকে আটকে ফেলে না তুমি মুত্তাকী তুমি এটা করতে পারো না তুমি চুরি করতে পারো না, তুমি মিথ্যা কথা বলতে পারো না, তুমি একজন বেগানা নারীর দিকে তাকাতে পারো না , তোমার ভিতরে তাকওয়া আছে তুমি মুত্তাকী । এই জিনিসটা সিয়াম আমাদের কে তৈরি করে দেয় ভিতরে এই রোজার মাধ্যমে সিয়ামের মাধ্যমে এই জিনিসটা তৈরি হয় আল্লাহ আমাদেরকে এই তাকওয়া অর্জন করে এমন সিয়াম যেন রাখার তৌফিক দান করে আমিন । এই জিনিসটা খুব ভালো করে মাথায় রাখবেন এবার একটা হাদিস শুনাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বলেছেন সহিহ বুখারি হাদিস নাম্বারঃ 6057 উদ্দেশ্য হাসিল নাহলে এবাদত যে এবাদত যে উদ্দেশ্যে এটা যদি হাসিল না হয় তাইলে ওই এবাদত এর ফলাফল কি ০ (শূন্য) এবার দলিল দলিল হচ্ছে সহিহ বুখারীর 6057 নম্বর হাদিস রাসুল (সাঃ) বলছেন যে মানুষ মিথ্যা কথা ছাড়ে না, যে মানুষ মিথ্যা কাজ ছাড়ে না , যে মানুষ শয়তানি কর্ম ছাড়তে পারেনা , আল্লাহর কোন দরকার নাই, কোন প্রয়োজন নাই , সে যে সারাদিন উপাস থাকল খাবার ছেড়ে দিলো, পানীয় ছেড়ে দিলো, অন্যান্য কাজ ছেড়ে দিল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সিয়াম রাখতেছে কিন্তু শয়তানি কাজ ছাড়তে পারে নাই তার সিয়াম রাখার কোন পাঁচ পয়সার মূল্য নাই । বুজছেন এবার? আরেকটা হাদিস দেন এটা তো আরো মারাত্মক নবী (সাঃ) বলছেন অনেক সিয়াম পালনকারী অনেক রোজাদার পাবেন সারাদিন রোজা রেখেছে কিন্তু পেটের ক্ষুধা নিয়ে বাড়িতে ফিরছে আর কিছু পায় নাই । আমলনামায় কিচ্ছু উঠে নাই ০ (শূন্য) আবার সারারাত ইবাদত করেছে কিন্তু ইবাদতের পদ্ধতি ভুল নিহতের মধ্যে ভুল সুন্নাহ বোঝেনা আপনার বেদায়াত দিয়ে ইবাদত ভরে রাখছে । আল্লাহর নবী বলছেন রাত্র জাগরণ ছাড়া তার আমলনামায় আর কিছু নাই নাউজুবিল্লাহ। এগুলা ভাবার বিষয় এগুলা যে খালি শুনলেন আমি এখন যে কথাগুলো বললাম এগুলা দিয়ে তিন মাস ভাবতে পারবেন । একটা আয়াত দিয়ে আপনি এক সপ্তাহ ভাবতে পারবেন । ভাবতে-ভাবতে যখন ব্রেন এর ভিতর যখন খাপটায় বসবে তখন এটার প্রভাব বাস্তবে আসবে । শুনলাম আর আপনারা ভুলে গেলাম এ বিষয়গুলো এরকম না এগুলোই হচ্ছে ইসলামের বেসিক জিনিস যে মানুষের তাকওয়া নাই মানুষের জান্নাতি নাই যে মানুষের তাকওয়া নাই ওই মানুষ কোরআনের হেদায়াতই পায়না । আর ওই তাকওয়া শেখানোর জন্যই রমজানের সিয়াম আল্লাহ দিয়েছেন । আপনি খালি ওই সাহরীর শেষ টাইম কখন রে, এই ওঠো রে তাড়াতাড়ি খাও রে, কি আজকে পাকাইছে ভালো ভালো । রমজান আসছে ভালো ভালো বাজার । গোস্ত আনো মাছ আনো তরিতরকারি । আবার ব্যবসায়ীরা রমজানে তো কিনবেই তেলের দাম আরেকটু বাড়াই দাও । কেউ আছে ব্যবসার তালে । রমজানকে কিভাবে নেয় মানুষ সে ব্যবসার তালে , কেউ আছে খতম দিয়ে কত টাকা ইনকাম করা যায়, কেউ আছে হরফ পড়ে পড়ে কত খতম দেওয়া যায় কত নেকি কামাই করা যায় । কেউ আছে এই রমজান কে উদ্দেশ্য করে এই রাত্রিগুলোতে আপনার অন্যায় পাপাচারে লিপ্ত হয়ে যায় ।

এই বিভিন্ন ধরনের মানুষই রমজানকে বিভিন্ন ভাবে কাটাবে । আর আল্লাহ বলছেন সব বাদ তোমারে রামাযান দিয়েছি তুমি ভিতরে তাকওয়ার শক্তি বাড়াও । তাকওয়ার শক্তি বাড়ানোর জন্য । এবার আমি শেষের দিকে চলে যাচ্ছি অন্য একটা পয়েন্ট নিয়ে কিছু কথা বলবো সিয়ামের ধারাবাহিক বিষয়, সিয়ামের সংজ্ঞা কি? ডেফিনেশন অফ সিয়াম ? আল্লাহ যে বললেন “ইয়া আইয়ুহাল্লাজিনা আমানু কুতিবা আলাইকুমুস সিয়াম” হে ঈমানদারগণ তোমাদের উপরে সিয়াম ফরজ করে দেওয়া হয়েছে । এখন আপনি প্রশ্ন করেন আল্লাহকে যে সিয়াম জিনিসটা কি আমাকে তো বুঝতে হবে । এখন সিয়াম বলতে তো আমরা বুঝি সুবহে সাদিক থেকে নিয়ে সিয়ামের সংজ্ঞা বলছি এটা হলো বাহ্যিক সংজ্ঞা । সুবহে সাদিক থেকে নিয়ে সূর্য অস্ত যাওয়ার আগ পর্যন্ত খানা-পিনা এবং আপনার মনের খায়েশ পূর্ণ করা এই তিনটা জিনিস থেকে বিরত থাকার নাম হচ্ছে সওম । মনে রাখবেন এর আগে যদি নাও জানা থাকে আজকে শিখে নেন সওম মানে বিরত থাকা । সালাত তো আমরা বলি প্রার্থনা । সালাতের মূল অর্থ হচ্ছে মিলাইয়া দেওয়া । সালাত কে এজন্য সালাত বলা হয় যে এটা বান্দাকে আল্লাহ সাথে জুড়ে দেয় মিলাইয়া দেয় সুবহানাল্লাহ। আর সিয়াম মানে বিরত থাকা । সিয়াম মানেই হচ্ছে অন্যায় দিনের বেলায় খাওয়া-দাওয়া পিনা যৌন-সম্ভোগ ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা আর মূল অর্থে পাপ থেকে দূরে সরে যাওয়া এটা হচ্ছে সিয়াম । তাহলে এই সিয়ামের সংজ্ঞা এর সাথে আরও কিছু জিনিস অ্যাড হয়, এটা কি জানেন আমরা সারাদিন না খাইয়া থাকলাম এটা একটা শরই অর্থে সিয়াম কিন্তু আমাদের কিছু অঙ্গ আছে শরীরের এই অঙ্গ গুলো সিয়াম পালন করে আমি শুধু খাইলাম না মুখ টাকে বাচাই রাখলাম খাওয়া থেকে বা পের টাকে এটা একটা সিয়াম কিন্তু আমাদের কিছু অঙ্গের সিয়াম আছে । এই চোখের সিয়াম আছে, কানের সিয়াম আছে, ব্রেইনের ও সিয়াম আছে । জবানেরো সিয়াম আছে, পায়ের ও সিয়াম আছে । একটু ইঙ্গিত দিয়ে শেষ করতেছি । আমাদ জবান দিয়ে আমি কথা বলতে পারি আমি মিথ্যাও বলতে পারি গালিও দিতে পারি একজনকে মানে আপনার প্রতারণাও করতে পারি । যে কোন জিনিস আমি জবান দিয়ে করতে পারি কিন্তু জবানের সিয়াম হচ্ছে আল্লাহ রাসুল (সাঃ) বলেছেন কথা যদি ভাল হয় তাহলে বলো আর যদি ভালো না হয় তাহলে তুমি চুপ থাকো । এবার একটা হাদিস নেন সহিহ বুখারীর 6474 নম্বর হাদিস । নবী (সাঃ) বলছেন এটা এত মারাত্মক একটা বিষয় যে জবানরে সিয়াম রাখাবেন কিভাবে ? জবান দিয়ে অন্যায় কথা বা উপকার হয় না এমন কথা না বললে লাভ টা কি হয়? নবী (সাঃ) বলছেন যে মানুষ তার জামিন হয় আমাকে জামানত দিবে তার দুই চোয়ালের মাঝখানে যেটা আছে তার মানে তার জবান আর দুই পায়ের মাঝখানে যেটা আছে মানে তার লজ্জাস্থান । যে মানুষ তার লজ্জাস্থানকে অন্যায় কাজে ব্যবহার করে নাই যে মানুষটার জবানকে অন্যায় ভাবে ব্যবহার পড়ে নাই আল্লাহর নবী বলেছেন এই মানুষটাকে ডেকে আন আমি তার জন্য জান্নাতের জামিন হয়ে গেছি । সুবহানাল্লাহ। ওই মানুষ জান্নাতে যাইতে আর বাধা নাই কারণ তার জবান ঠিক মত ব্যবহার করেছে জবানের সিয়াম রক্ষা করেছে । আরেকটা হচ্ছে চোখের সিয়াম আমি সিয়াম রাখতেছি আরেকজন বেগনা মহিলার দিকে তাকিয়েই আছি । এটা সিয়ামের পবিত্রতা নষ্ট হয়ে গেছে । ফকির কে যদি জিজ্ঞেস করেন যে আমার সিয়াম ভেঙ্গে গেল কিনা মিথ্যা বললাম সিয়াম ভেঙ্গে গেল কিনা পর্দা বেপর্দা নারী বের হইছে তাকাইলাম সিয়াম ভেঙ্গে গেল কিনা ফকির সাহেব বলবেন না যে সিয়াম ভঙ্গ হয়ে যায় নাই তবে সিয়ামের পবিত্রতা রক্ষা হলো না । সিয়ামের উদ্দেশ্য হাসিল না একদিকে সিয়াম আমাকে তাকওয়া দিতে চাচ্ছে আমি গুনার থেকে বেঁচে থাকার জন্য প্র্যাকটিস করতেছি আবার ওই প্র্যাকটিস এর সময় ওই গুনার মধ্যে লিপ্ত হয়ে গিয়েছি । তাহলে কি হইল পুরা উল্টা হয়ে গেল ।

একটা জিনিস আমি ধুয়ে পরিষ্কার করতেছি আবার ওই জিনিসটাকেই আবার ময়লা করে দিচ্ছি বাস্তবতা এই রকমই,খুব সহজ কথা । আল্লাহ বলছেন সূরা নূরের ৩০ নম্বর আয়াত আর ৩১ নম্বর আয়াতে যে মুমিন পুরুষদেরকে বল চক্ষু অবনমিত করতে । একত্রিশ নম্বর আয়াতে সেম কথা মহিলাদেরকে বলে দাও মুমিন মুমিনাত যারা তাদেরকে তারা যেন চক্ষু অবনমিত করে । এই আয়াত দুইটা থেকে কি পাইলেন আপনি একটা মেয়ে বেপর্দা হয়ে ধরেন বের হয়েই গেছে তার মানে কি আপনি আমি তাকিয়ে থাকলাম আর আমাদের কোন গুনা হলো না নেকি হয়ে যাবে বিষয়টা এমন? পর্দা সমানভাবে দুই জাতির জন্য সেম অর্থে পর্দা নারীর জন্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ সেম এরকম গুরুত্বপূর্ণ হলো পর্দা পুরুষদের জন্য । একজন নারী তার ইজ্জত ঢেকে রাস্তায় বের হবে এটা তার দায়িত্ব । সে এটা লঙ্ঘন করেছে ওড়না পড়ে নাই, বোরখা পড়ে নাই রাস্তায় বের হয়েছে তার সৌন্দর্য মানুষ দেখতেছে এটার জন্য সে গুনাগার হচ্ছে পাপী হচ্ছে । কিন্তু যে মানুষগুলো দেখতেছে তারা কি পাপ মুক্ত অবশ্যই না, এইজন্য আমার পর্দা হচ্ছে সে যদি বেপর্দা বেরই হয়ে যায় আমি ওর দিকে তাকাবো না আমার চোখে আমি হেফাজত করব । তাহলে দেখবেন কি হবে আপনার সামনে দিয়ে হাজারো নারী অতি সুন্দরী সেজে যাবে আপনি টেরো পাবেন না কে গেল । এটার নাম হচ্ছে তাকওয়া ।

এটা হচ্ছে চোখের সিয়াম, কানেরও সিয়াম আছে । সূরা বানী ইসরাইল এর ৩৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন, যে আমার বান্দারা শোন তোমার কান , তোমার চোখ , এমন কি তোমার অন্তরে যে কল্পনা করো , তোমার হৃদয় দিয়ে যেগুলো ভাবনা করো কি চিন্তা করতেছো তুমি এই সবগুলোই আমার কাছে জিজ্ঞেসইতো হবে । সবকিছুকে আল্লাহ কি করবেন জিজ্ঞাসাবাদ করবেন কি করেছি এগুলো দিয়ে । এইজন্য আমি আজকে আর খুব বেশি বলতে চাচ্ছি না অনেক কথা হয়ে গেছে সিয়াম সংক্রান্ত অনেক মাসলা-মাসায়েল আছে এগুলো আপনারা সামনে শুনতে পারবেন । কিন্তু আজকের খুতবা মাধ্যমে আমি যেটা আপনাদের বলতে চাচ্ছি সেটা হচ্ছে যে প্রত্যেকটা জিনিসের , প্রত্যেকটা কাজের , প্রত্যেকটা এবাদতের একটা উদ্দেশ্য থাকে এটা মাথায় রাখবেন । আমাদের প্রত্যেকের জীবনের একটা উদ্দেশ্য আছে কেউ বুঝি কেউ বুঝি না যারা উদ্দেশ্য বুঝে সময় বের করে উদ্দেশ্য হাসিল করে তারা হলো সফল মানুষ । আর যারা উদ্দেশ্য বুঝে না জীবনটাকে গা ভাসায়ইয়া শেষ করে দেয় তারা হলো ব্যর্থ মানুষ । না দুনিয়ায় সফল না আখেরাতে সফল ।

কিছু মানুষ দুনিয়ায় সফল হবে আখেরাতে ব্যর্থ । কিছু মানুষ দুনিয়ায় সফল হবে আখেরাতেও সফল হবে । মানুষ ৪ প্রকার এক নাম্বার কাতারের সবচেয়ে উন্নত ক্যাটাগরির মানুষ আল্লাহ যাকে দীন দিয়েছেন ইলম দিয়েছেন সাথে তারে সম্পদ ও দিয়েছেন এবং এই সম্পদ দিয়ে সে আল্লাহর দ্বীনের কাজে ব্যয় করে, এরা হচ্ছে সর্বোচ্চ ক্যাটাগরির মানুষ । দুই নম্বর ক্যাটাগরির মানুষ হচ্ছে যাকে আল্লাহ দীন দিয়েছেন ইলম দিয়েছেন কিন্তু সম্পদ দেন নাই কিন্তু তামান্না আহারে যদি আমার সম্পদ থাকতো এরকম এরকম দিনের কাজ করতাম , এরকম দাওয়াতের কাজ করতাম , আল্লার নবী বলেছেন ফজিলত এর মধ্যে দুইজন সমান হয়ে যাবে, সুবহানাল্লাহ । আর সবচেয়ে খারাপ মানুষ হইলো সে যার দীন ও নাই ঈমান ও নাই । আবার সম্পদও আছে ধনী কিন্তু এই সম্পদের অন্যায় পথে খরচ করছে, সবচেয়ে খারাপ হলো এই মানুষটা । আর তার নিচের খারাপ মানুষ হইল যার সম্পদ নাই ঈমানও নাই দীনও নাই সম্পদ নাই গরীব, কিন্তু এই গরীব হয়েও তার ভিতরে কি ছিল যে সম্পদ থাকলে এরকম নাচাইতাম, এরকম নারী নাচাইতাম, এরকম নাচ-গান করতাম, এরকম আকাম-কুকাম করতাম , আল্লাহর নবী বলছেন পাপের ক্ষেত্রে দুই জনই সমান হয়ে যাবে নাউজুবিল্লাহ।

এখন আপনি আমি কোন কাতারে যদি আল্লাহ আমাদের অর্থ-সম্পদ দেন সাথেই ঈমানো দেন আলহামদুলিল্লাহ , বেশ ভালো কিন্তু যদি অর্থ-সম্পদ কমও থাকে তাই বলে আমরা ঈমান হারাবো অবশ্যই না । এই জিনিসটা আমাদেরকে বুঝতাম আমার তাকওয়া কে আমি হারাবো না । সর্ব শেষ কথা হচ্ছে আজকে অনেক আয়াত এবং হাদীস গুলো থেকে সারমর্ম যেটা যে এই কথাটা বাসায় গিয়েও আলোচনা করবেন ভাই বন্ধুদের সাথে দেখা হলে আলোচনা করবেন যে ভাই আমরা সিয়াম কেন রাখি ।

রমজান আমাকে কি শিখাইতে আসতেছে, যে এটা তাকওয়া, আমাদের তাকওয়া সৃষ্টি করার জন্য আসতেছে । আর তাকওয়া কি? আমি যখন গুনার থেকে বাঁচতে পারব, আমি যখন আল্লাহর বিধান গুলি পালন করতে শিখব, তখন আমি বুঝবো আমার মধ্যে তাকওয়া আছে । এর আগে এটা বুঝার কোন উপায় নাই । তাকওয়া হয়েছে বলে আপনার বিশ্বাস করা যাবেনা আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুন আমরা যাতে মুত্তাকী হতে পারি, আমরা যাতে আল্লাহর দ্বীনকে উদ্দেশ্য বুঝে দিনের এবাদত গুলো পালন করতে পারি, আল্লাহুম্মা আমিন ।